TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সরকারি নির্দেশনাঃ জরুরি পরিস্থিতিতে নিতে হবে ১০টি জরুরি পদক্ষেপ

অপ্রত্যাশিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোকে এখন থেকেই ১০টি বিনামূল্যের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আগুন, বন্যা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কিংবা পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের অফিসিয়াল ‘প্রিপেয়ার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে সবসময় নতুন কোনো সামগ্রী কেনার প্রয়োজন নেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগাম আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা, জরুরি যোগাযোগের তথ্য প্রস্তুত রাখা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখার মতো অনেক প্রস্তুতি বিনামূল্যেই নেওয়া সম্ভব।

সরকারের নির্দেশনায় প্রথমেই প্রতি মাসে স্মোক অ্যালার্ম পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। পরিবারের শিশুদেরও এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অ্যালার্মের শব্দ চিনতে পারে এবং বুঝতে পারে কখন এটি বিপদের সংকেত দিচ্ছে।

 

বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কেও আগাম তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো বাড়িতে অতীতে কখনো বন্যা না হলেও ভবিষ্যতে সেই এলাকার বন্যার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা ও আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তার জন্য নিবন্ধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া যায়।

জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কোথায় সবাই একত্রিত হবে, সেটিও আগে থেকে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। বাড়িতে ফিরতে না পারলে বিকল্প মিলনস্থল কী হবে এবং জরুরি অবস্থায় কোন পথে নিরাপদে বের হওয়া যাবে, তা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যার মতো পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল সংযোগ কোথায় এবং কীভাবে বন্ধ করতে হয়, তা পরিবারের সদস্যদের জানা থাকা উচিত বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যা, পানির লিকেজ বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এসব সংযোগ বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য শুধু মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর কাগজে লিখে সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর জানানোর জন্য ব্যবহৃত ১০৫ নম্বরসহ পরিবারের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বরগুলো লিখে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

শিশুদের স্কুল, চাইল্ডকেয়ার এবং তাদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিবারের বর্তমান জরুরি যোগাযোগের তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। পুরোনো বা ভুল ফোন নম্বরের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে এসব তথ্য হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিশুদের জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে কখন এবং কীভাবে ফোন করতে হবে, তা শেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে শিশুদের নিজেদের বাড়ির ঠিকানা এবং বাবা-মা বা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর মনে রাখতে শেখাতে বলা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়মিত অনুশীলনের কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেশীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি রাখার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। রাস্তা বা ভবনের বাসিন্দাদের নিয়ে একটি মেসেজিং গ্রুপ তৈরি করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আশপাশে এমন কেউ আছেন কি না, যাদের জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।

যেসব গ্রাহকের জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, তারা বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায়োরিটি সার্ভিসেস রেজিস্টার-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন গ্রাহকদের শনাক্ত করতে পারে, যাদের বিদ্যুৎ, পানি বা অন্যান্য সেবা বিঘ্নিত হলে বাড়তি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

এ ছাড়া পরিবারগুলোর অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক জ্ঞান অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশাদার জরুরি সেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহত বা অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ‘প্রিপেয়ার’ ক্যাম্পেইনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি খুব অল্প সময়ের সতর্কতায় কিংবা কোনো সতর্কতা ছাড়াই তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন কিংবা তারও বেশি সময় ব্যাহত হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় পরিবারগুলোকে তাই জরুরি পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা, নিরাপদে বের হওয়ার পথ, জরুরি নম্বর, স্থানীয় ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য এবং প্রয়োজনের সময় কারও অতিরিক্ত সহায়তা দরকার হতে পারে কি না—এসব বিষয় আগে থেকেই বিবেচনায় রাখা।

সূত্রঃ ব্রিটিশ সরকারের অফিসিয়াল ‘প্রিপেয়ার’ ক্যাম্পেইন ও সারি লাইভ

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে কৃষি শ্রমিকদের শোষণে জড়িত সরকার: টিবিআইজে

বর্ণবৈষম্য রোধে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজনঃ মুসলিম নেতৃবৃন্দ

যুক্তরাজ্যের একটি টেকওয়েতে ফায়ারওয়ার্কস ছুঁড়েছে দুর্বৃত্তরা