TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ‘নৌকা থামাতে’ সমুদ্রেই নামবে অভিবাসনবিরোধীরাঃ ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা

ফ্রান্স থেকে ছোট নৌযানে করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ঠেকাতে নিজেদের নৌযান সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা করছে অভিবাসনবিরোধী একটি গোষ্ঠী। ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ নামের ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় গিয়ে অভিবাসীদের বহনকারী নৌযান আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস।

গোষ্ঠীটির সদস্যরা একটি ভাড়া করা নৌযান নিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। সেখানে তারা ফ্রান্স থেকে আসা অভিবাসীবাহী ছোট নৌযানের গতিপথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এমনকি নৌযানগুলোকে ফ্রান্সের উপকূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিংবা ফরাসি কোস্টগার্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।

ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ‘দ্য সান অন সানডে’র গোপন অনুসন্ধানে পোর্টসমাউথে গত সপ্তাহে একটি বিক্ষোভে মুখোশধারী কয়েকজন সদস্যের মধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর নৌকা থামাতে ব্যর্থ হলে নিজেরাই সরাসরি একটি নৌযান থামানোকে বিক্ষোভকারীরা বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তবে একই সূত্র সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি প্রাণঘাতী হতে পারে।

তবে ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’-এর নেতা ড্যানিয়েল থমাস, যিনি ‘ড্যানি টমো’ নামে পরিচিত, এই চ্যানেল অভিযানের পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর আগে ফ্রান্সের সৈকতে পরিত্যক্ত অভিবাসীবাহী নৌযান কেটে ফেলার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। তাকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পোর্টসমাউথের ইস্টনি ডকে হ্যাম্পশায়ার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই সময় স্বেচ্ছাসেবী রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের নৌযানে করে তীরে আনা ১২০ জন অভিবাসীর অবতরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

পরে ওই আশ্রয়প্রার্থীদের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্ধারিত স্থাপনায় নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বহনকারী বাসগুলোকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অনুসরণ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

একই সময়ে ডোভারে অভিবাসনবিরোধী একটি মিছিলের কারণে শহরের কিছু অংশে যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যে মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ডোভারের ওই বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিক্ষোভকারীদের মুখোশ পরে রাস্তায় নামার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাম বা ডান—কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভেই মুখোশ পরে থাকা উচিত নয়।

নাইজেল ফারাজ ডোভারের পরিস্থিতিকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেন এবং মুখোশ পরে বিক্ষোভ করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস ও দ্য সান অন সানডে

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বছরে ১০ হাজার কোটি পাউন্ড অর্থপাচারের আশঙ্কাঃ ঠেকানোর পথ খুঁজছে সরকার

ইংল্যান্ডে এসাইলাম আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

যুক্তরাজ্যে স্কুল হলিডেকে সামনে রেখে অস্বাভাবিক যানজটের শঙ্কা