Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বোরকা বিতর্কে আদিল রায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘মুসলিম নারীদেরই আলাদাভাবে টার্গেট করা হচ্ছে’

যুক্তরাজ্যে মুসলিম নারীদের মুখাবরণ ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’-এর উপস্থাপক আদিল রায় দাবি করেছেন, কোনো মুসলিম নারী মুখ ঢেকে রাখলে তাকে নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনা করা হয়, অন্য ধর্মের নারীদের ক্ষেত্রে একই আচরণ দেখা যায় না। তার ভাষায়, ‘মুসলিম নারীদেরই আলাদাভাবে টার্গেট করা হয়।’

১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে এ বিতর্কের সূত্রপাত করেন আদিল রায়। ওই পোস্টে মুসলিম নারীদের মুখাবরণ পরার বিষয়টির সঙ্গে খ্রিস্টান ও ইহুদি নারীদের ধর্মীয় কারণে শালীন পোশাক পরার তুলনা করা হয়। আদিল রায় পোস্টটির সঙ্গে শুধু প্রশ্ন রাখেন—‘কেন?’

বিতর্কে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী যুক্তি দেন, কিছু ধর্মীয় সমাজে নারীদের পোশাকের ক্ষেত্রে সামাজিক ও পিতৃতান্ত্রিক চাপ থাকতে পারে। জবাবে আদিল রায় প্রশ্ন তোলেন, কোন নিয়মকে সেই সামাজিক ‘নিয়ম’ বলা হচ্ছে এবং কেন মুসলিম নারীদের পোশাককে আলাদাভাবে বিচার করা হবে।

আদিল রায় আরও দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে এক শতাংশেরও কম মুসলিম নারী মুখাবরণ পরেন। তাই অল্পসংখ্যক নারীর পোশাককে পুরো মুসলিম সমাজের প্রচলিত রীতি হিসেবে দেখার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আলোচনা একপর্যায়ে আফগানিস্তানের নারীদের প্রসঙ্গে পৌঁছায়। সেখানে তালেবান শাসনের অধীনে নারীদের পোশাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। আদিল রায় পাল্টা বলেন, ওই শাসনব্যবস্থায় সবার স্বাধীনতাই সীমিত। এরপর তিনি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি নারীদের একটি গোষ্ঠীর উদাহরণ তুলে ধরেন, যারা কঠোর শালীনতার পোশাক অনুসরণ করেন।

বিতর্কের শেষ দিকে আদিল রায় তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, মূল বিষয়টি হলো—মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে অন্যদের তুলনায় বেশি আলাদাভাবে প্রশ্ন তোলা হয়।

আদিল রায়ের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন আইটিভির চিকিৎসক আমির খানও। তিনি মন্তব্য করেন, নারীদের কী পরতে হবে বা কী পরা যাবে না—এভাবে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ‘মুক্ত’ করার চেষ্টা একই ধরনের আচরণ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আদিল রায়ের বক্তব্যের বিরোধিতাও করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিধান আসলে কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ কতটা স্বাধীন।

অন্যদিকে, একজন ব্যবহারকারী ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মীয় শালীনতার বিধানকে সমর্থন করে বলেন, মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এসব নিয়ম পুরুষদের তৈরি নয়; বরং সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা থেকে এসেছে। একই সঙ্গে ইসলামে পুরুষদের জন্যও শালীনতার বিধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া অনেক অনুসারী আদিল রায়কে সমর্থন করেছেন। তাদের বক্তব্য, প্রকৃত স্বাধীনতা হলো—একজন নারী কোন পোশাক পরবেন, সে সিদ্ধান্ত তার নিজের; তিনি যে ধর্মেরই অনুসারী হোন না কেন।

যুক্তরাজ্যে মুসলিম নারীদের মুখাবরণ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ সালে তৎকালীন লেবার এমপি জ্যাক স্ট্র-ও নির্বাচনী এলাকার সাক্ষাতে মুখাবরণ সরানোর অনুরোধ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ এমপি বরিস জনসন বোরকা পরা নারীদের নিয়ে অবমাননাকর উপমা ব্যবহার করলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় এবার আদিল রায়ের মন্তব্য যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ এবং মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি—এই তিনটি বিষয়কে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবারের ‘কভার-আপ’ ফাঁস! অভিবাসী অপরাধের তথ্য নিয়ে জিবি নিউজের টকশোতে সংঘর্ষ

অভিবাসীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের সরাসরি অনুষ্ঠানে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই অতিথি। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক মিশেল ডিউবেরিকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।

আলোচনার মূল বিষয় ছিল—অভিবাসী ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার কেন অনীহা দেখাচ্ছে এবং এ নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে কি না। আলোচনায় অপরাধের শিকার ১১টি পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহির দাবি তোলার বিষয়টিও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে সাবেক রেডিও উপস্থাপক মাজিদ নাওয়াজ অভিযোগ করেন, লেবার সরকার অভিবাসী অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, ব্রিটিশ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাদের অনেক সময় ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হিসেবে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাওয়াজ বলেন, “ব্রিটিশ জনগণ গ্যাসলাইটিংয়ে ক্লান্ত।” তার অভিযোগ, তথ্য কমিশনারের কাছে অভিবাসী অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশের অনুরোধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে নাওয়াজের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কেভিন ক্রেগ। ১৭ বছর লেবার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্রেগ নাওয়াজের বক্তব্যকে ‘তত্ত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, সরকার তথ্য প্রকাশ না করার যে কারণ জানিয়েছিল, তা ছিল তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ‘অনুপাতহীন’ হয়ে পড়ার আশঙ্কা।

দুই অতিথির মধ্যে তর্ক বাড়তে থাকলে উপস্থাপক ডিউবেরি হস্তক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে তিনি দুজনকে একে অপরের কথা না কাটার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দর্শকরা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে পারেন।

বিতর্কের একপর্যায়ে নাওয়াজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে গ্রুমিং গ্যাং নিয়ে তদন্তের ক্ষেত্রে লেবার এমপিদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিতর্কও আলোচনায় আনেন।

ক্রেগের বক্তব্য ছিল, স্টারমার এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে নাওয়াজ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—এত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট কি না। তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত গ্যাং নিয়ে সরকারের আচরণে মানুষ বিরক্ত।

অন্যদিকে ক্রেগ আলোচনাটিকে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে রাখার আহ্বান জানান। তার দাবি, সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কিংবা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমাতে পারছে না—এ ধরনের বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে কোনো ‘গভীর গোপন পরিকল্পনা’ বা ‘কভার-আপ’-এর অভিযোগ যুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রয়োজন।

ক্রেগ আরও বলেন, সরকার যে কারণে আগে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশকে অনুপাতহীন বলেছিল, পরিস্থিতি এখন বদলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশের বিষয়টি সামনে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ডিউবেরি দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে ক্রেগ অভিযোগ করেন, নাওয়াজকে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলেও তাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ডিউবেরি অবশ্য বলেন, নাওয়াজ যদি একইভাবে কথা বলা শুরু করতেন, তাকেও থামিয়ে দেওয়া হতো।

পুরো বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে ওঠে—অভিবাসী ও অপরাধের সম্পর্ক নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যান কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে এবং সেই তথ্য কীভাবে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

বিতর্কে এক পক্ষ যেখানে তথ্য প্রকাশে বিলম্বকে সরকারের ব্যর্থতা ও সম্ভাব্য গোপনীয়তার বিষয় হিসেবে দেখিয়েছে, অন্য পক্ষ সেখানে এটিকে প্রশাসনিক ও তথ্য সংগ্রহের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে জিবি নিউজের ওই সরাসরি বিতর্ক যুক্তরাজ্যে অভিবাসন, অপরাধ এবং সরকারি তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

বেকহ্যামের বাগানে ফলেছে কদুঃ কিন্তু চেহারা দেখে চক্ষু চড়কগাছ ভিক্টোরিয়ার

মাঠে ফুটবল নিয়ে একসময় বিশ্ব মাতিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডেভিড বেকহ্যাম। তবে এবার তারকা এই ফুটবলার আলোচনায় এসেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ‘খেলা’ নিয়ে—নিজের বাগানে ফলানো অদ্ভুত আকৃতির একটি কদু হাতে নিয়ে!

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বেকহ্যামকে নিজের ফলানো অস্বাভাবিক আকৃতির কদু হাতে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণত গোল বা পরিচিত আকৃতির কদুই দেখা যায়। কিন্তু বেকহ্যামের হাতে থাকা কদুটির আকৃতি এতটাই ভিন্ন যে সেটি দেখে স্ত্রী ভিক্টোরিয়াও অবাক না হয়ে পারেননি।

ভিডিওতে ভিক্টোরিয়াকে বেকহ্যামের দিকে তাকিয়ে মজা করে বলতে শোনা যায়, “ডেভিড, এটা কী?” এরপর বেকহ্যাম জানান, এটি একটি কদু।

কদুটির আকৃতি দেখে ভিক্টোরিয়ার বিস্ময় আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি কখনো এমন আকৃতির কদু দেখিনি!”

স্ত্রীর এমন প্রতিক্রিয়ায় অবশ্য বেকহ্যামও বিষয়টি বেশ উপভোগ করেন। নিজের হাতে ফলানো কদুটিকে তিনি এমনভাবে প্রদর্শন করেন, যেন বাগানের কোনো বিশেষ পুরস্কারজয়ী ফসল হাতে পেয়েছেন!

ফুটবল মাঠে অসংখ্য গোলের সাক্ষী হওয়া বেকহ্যামের জন্য এবার যেন নতুন এক অর্জন—এক অদ্ভুত আকৃতির কদু। আর সেই কদু নিয়েই স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তার মজার কথোপকথন এখন ভক্তদের হাসির খোরাক।

বেকহ্যাম নিয়মিতই নিজের বাগানে ফলানো শাকসবজির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তার বাগান করার এই শখ ভক্তদের কাছেও বেশ পরিচিত। তবে এবারের কদুটি যে একটু ‘ব্যতিক্রমী’, তা বেকহ্যামের স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার প্রতিক্রিয়াতেই পরিষ্কার।

ফুটবল মাঠে তারকা, ফ্যাশন দুনিয়ায় পরিচিত মুখ—আর এখন বাগানের অদ্ভুত কদু নিয়েও আলোচনায় বেকহ্যাম। সব মিলিয়ে, গোলের পর এবার কদুই যেন তার নতুন হাসির কারণ!

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট \স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠিঃ বোয়িং কেনার সৌজন্য ছাড়িয়ে বাংলাদেশ নিয়ে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক বার্তা

বাংলাদেশে বোয়িং বিমান কেনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেখা চিঠি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চিঠিটিকে কেবল বাণিজ্যিক সৌজন্য বা ধন্যবাদপত্র হিসেবে না দেখে বৃহত্তর মার্কিন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক আগ্রহেরও একটি প্রকাশ্য সংকেত হিসেবে চিঠিটিকে দেখা যেতে পারে। তবে চিঠিটি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সমর্থনের ঘোষণা—এমন দাবি করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই।

চিঠির সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা জোরদার হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। এর প্রধান সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ভারতকে দেখা হচ্ছে।

এর পেছনে রয়েছে ভারত-রাশিয়া জ্বালানি বাণিজ্য। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়া থেকে ছাড়মূল্যে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত। সেই তেল পরিশোধন করে ভারতীয় শোধনাগারগুলো থেকে বিভিন্ন দেশে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি হয়েছে। এতে রাশিয়ার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পরোক্ষভাবে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে এবং ভারতের শোধনাগার শিল্পও উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে।

এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কৌশলকে ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক চাপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু রাশিয়াকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা নয়, রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতাদের ওপরও শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োগের মাধ্যমে মস্কোর আয় কমানোর চেষ্টা।

তবে এই পরিস্থিতির অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে শাস্তি দিয়ে বাংলাদেশকে পুরস্কৃত করছে। বরং বিশ্লেষণটি হলো—ওয়াশিংটন একদিকে ভারতের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে।

এখানে সৌদি আরবের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাশিয়ার তেল ভারতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ভারতের শোধনাগারগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী তেল রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি করেছে—এমন একটি বিশ্লেষণ রয়েছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা, বিনিয়োগ এবং খনিজ খাতে আগ্রহ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। বেলুচিস্তানের রেকো ডিক খনি প্রকল্পেও সৌদি বিনিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে।

একই সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা বেড়েছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির পর এই সম্পর্ককে অনেকে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

তবে এই জোটকে শুধু সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিকটি আড়ালে পড়ে যেতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, পাকিস্তানের ভূকৌশলগত অবস্থান এবং তুরস্কের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা—তিনটি বিষয়ই এই নতুন সমীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় আসছে। বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ এশিয়ার বাজার, পোশাকশিল্প, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বাংলাদেশের বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

তাই তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠিকে শুধু একটি বিমান কেনার বাণিজ্যিক লেনদেনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার পরিবর্তে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে একই সময়ে ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ, সৌদি-পাকিস্তান সম্পর্কের গভীরতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন বাণিজ্যিক সমীকরণ—এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হচ্ছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এসব ঘটনাকে সরাসরি একটি সমন্বিত মার্কিন পরিকল্পনা বা বাংলাদেশকে কোনো নির্দিষ্ট ‘নিরাপত্তা ছাতার’ অধীনে নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। প্রকাশ্য তথ্য থেকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের মিল পাওয়া গেলেও প্রতিটি দাবির মধ্যে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য আরও নির্ভরযোগ্য সরকারি দলিল ও নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

তারপরও একটি বিষয় স্পষ্ট—দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনীতি, জ্বালানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা এখন আর আলাদা আলাদা বিষয় হিসেবে কাজ করছে না। রাশিয়ার জ্বালানি, ভারতের বাণিজ্য, সৌদি আরবের বিনিয়োগ, পাকিস্তানের ভূকৌশলগত অবস্থান এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব—সবকিছু মিলিয়ে অঞ্চলটিতে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে।

এই বৃহত্তর পরিবর্তনের মধ্যে ট্রাম্পের তারেক রহমানকে লেখা চিঠি বাংলাদেশের জন্য ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত কি না—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্রঃ আইআইএসএস\বাসস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদির চাপ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রকাশ্যে চাপ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, মানবতা ততই পিছিয়ে যাবে। তাই অব্যাহত যুদ্ধের পরিবর্তে শত্রুতা বন্ধ করে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।

পুতিনকে উদ্দেশ করে মোদি বলেন, ভারত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সব ধরনের শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিন যুদ্ধ চলা মানবতার জন্য এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়া; বিপরীতে শান্তির দিকে প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্ববাসীর জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করে।

বৈঠকে মোদি পুতিনকে ‘আমার বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পুতিনও মোদির বক্তব্যের জবাবে বলেন, শান্তির পথে এগোনোর বিষয়টি নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পরও ক্রেমলিনের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে তারা নিজেদের শর্তের ভিত্তিতে সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। তবে ইউক্রেন এসব শর্তকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না এবং সেগুলোকে কার্যত আত্মসমর্পণের দাবি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বৈঠকে পুতিন মোদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও অবহিত করেন।

এই পরিস্থিতিকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বিশ্লেষণে পুতিনের ওপর বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক চাপের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। পত্রিকাটির বিশ্ববিষয়ক সম্পাদক স্যাম কিলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি শক্তিও এখন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারে। তবে এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ইউক্রেন বা মানবিক কারণের পাশাপাশি নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় শোধনাগারগুলো রাশিয়া থেকে ছাড়মূল্যে কেনা তেল পরিশোধন করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করেছে। ফলে যুদ্ধের মধ্যেও মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান শুধু রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই। মোদির প্রকাশ্য বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে নয়াদিল্লি একদিকে মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে অন্যদিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী বা প্রভাবশালী পক্ষ হিসেবে ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তার বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তাদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং এই সফরের লক্ষ্য শান্তি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া।

এদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ার অর্থনীতিতেও যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত মিলছে। রুশ প্রেসিডেন্টের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক দূত বরিস তিতভ সতর্ক করেছেন, অর্থনীতিকে অতিরিক্ত সামরিক নির্ভরশীল করে ফেললে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একই সময়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক চাপের কারণে ২০২৬ সালে রাশিয়ার তেল উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পর রাশিয়ার ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অংশীদারের কাছ থেকে প্রকাশ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান মস্কোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে মোদির আহ্বানের পরও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। বরং রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মৌলিক ব্যবধান, চলমান হামলা এবং ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের কারণে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো কঠিন। ফলে মোদির প্রকাশ্য বার্তা কতটা বাস্তব কূটনৈতিক অগ্রগতিতে রূপ নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বড় প্রণোদনাঃ উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিলে মিলবে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা

ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোনো গ্রাহক নির্ধারিত সর্বোচ্চ ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ কম খরচে ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে গ্রাহক সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

সরকারের এই বিশেষ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও রয়েছে। যেসব গ্রাহক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য পরবর্তী তিন বছর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ দেওয়া হবে। প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকদের ব্যাংক অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে প্রদান করা হবে।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রণোদনার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতির মান নিয়েও নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে বিদ্যুতের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগে গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্রঃ বিদ্যুৎ বিভাগ\ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও প্রজ্ঞাপন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ক্যানসার দাতব্য সংস্থার ৯২ হাজার পাউন্ড লুট করে বিয়ে-হানিমুন ও বিলাসী জীবন

ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও ক্যানসার গবেষণার জন্য সংগ্রহ করা দাতব্য সংস্থার প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে তামীম চৌধুরী নামে ২৯ বছর বয়সী এক সাবেক অর্থকর্মীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

উত্তর লন্ডনের স্টোক নিউইংটনের বাসিন্দা তামীম চৌধুরী ব্রেস্ট ক্যানসার নাউ নামের দাতব্য সংস্থায় কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সম্পদ সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা এই কর্মীই পরে নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।

তদন্তে জানা যায়, রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতাল থেকে দাতব্য সংস্থাটির জন্য আসা ৯১ হাজার ৯৬৬ পাউন্ডের বেশি অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তামীম। তিনি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল এবং লেটারহেড ব্যবহার করে হাসপাতালকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঠান।

এরপর হাসপাতাল থেকে অর্থটি তার ব্যক্তিগত স্যান্টান্ডার ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। অর্থ হাতে পাওয়ার পর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তিনি ৪৯ হাজার পাউন্ডের বেশি খরচ করে ফেলেন।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করেন। এছাড়া বিলাসী পণ্য কেনা, আত্মীয়দের কাছে অর্থ পাঠানো, নিজের বিয়ের খরচ এবং কাতারে যাওয়ার বিমানের টিকিট কিনতেও ওই অর্থ ব্যবহার করেন।

এমনকি চুরি করা অর্থের প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড দিয়ে একটি বিলাসী আংটি কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

তামীমের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা বার্তাগুলোতেও তার আর্থিক সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। অর্থ আত্মসাতের ঠিক আগে তিনি নিজেকে ব্যাপক ঋণের মধ্যে থাকা এবং ‘দেউলিয়া হওয়ার কাছাকাছি’ অবস্থায় থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

তবে তার বিলাসী খরচ বেশিদিন চলেনি। সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার পর স্যান্টান্ডার ব্যাংক তার হিসাব স্থগিত করে। পরে পুলিশ ওই হিসাবে থাকা প্রায় ৪২ হাজার ৮০০ পাউন্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ২০২৫ সালের জুনে তামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তিনি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ স্বীকার করেন।

সিটি অব লন্ডন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, দাতাদের দেওয়া অর্থ জীবন রক্ষাকারী ক্যানসার গবেষণা ও রোগীদের সহায়তায় ব্যবহারের কথা ছিল। সেই অর্থের দায়িত্বে থাকা তামীম নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করে দাতাদের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

ঘটনার পর ব্রেস্ট ক্যানসার নাউ তাদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অর্থের কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়নি।

উল্লেখ্য তামীম চৌধুরী কোন দেশের নাগরিক বা তার জাতীয়তা কী, সে বিষয়ে পুলিশের প্রকাশিত তথ্যে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। পুলিশের তথ্যে তাকে লন্ডনের স্টোক নিউইংটনের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন\সিটি অব লন্ডন পুলিশ

এম.কে

Categories
আমেরিকা

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ঘিরে পাতায়ায় বাড়ছে ব্যস্ততাঃ যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় বিশ্রামের জন্য আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। জাহাজটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর শহরটিতে নামবেন। তাদের আগমনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন অর্থনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জাহাজটি গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করে। এরই মধ্যে টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটিয়েছে মার্কিন নৌসদস্যরা। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের সময় জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলেও অবস্থান করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নৌসদস্যদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

মার্কিন সেনাদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসাগুলোও আশাবাদী। সাম্প্রতিক মন্দার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা কমে যাওয়ায় কয়েক হাজার মার্কিন নৌসদস্যের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিতে সাময়িক গতি আনতে পারে। পাতায়ার মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, একজন মার্কিন সেনা দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন।

তবে বিপুলসংখ্যক বিদেশি সেনার একসঙ্গে আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে পাতায়ার নাইটলাইফ এলাকা ও সৈকতে যৌন হয়রানি, সহিংসতা এবং যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হলেও পাতায়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে আসছে। মার্কিন সেনাদের আগমনের আগে তাই পুলিশ নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে পরিচালিত কয়েকটি অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যৌনকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, সংঘাত, অবৈধ কর্মকাণ্ড কিংবা জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের পর পাতায়ায় কয়েকদিনের অবস্থান মার্কিন নৌসদস্যদের জন্য বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের উপস্থিতি পর্যটননির্ভর পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ও স্বল্পমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ এপি \ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আমেরিকা

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরির তাণ্ডবঃ দুইজনকে হামলার পর পুলিশের গুলিতে নারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে ভয়াবহ ছুরিকাণ্ডে একজন নারী নিহত এবং একজন পুরুষ আহত হয়েছেন। দুই পথচারীর ওপর পরপর ছুরি হামলার পর পুলিশের দিকে ছুরি হাতে এগিয়ে যাওয়ায় ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোসকে গুলি করে হত্যা করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ—এনওয়াইপিডি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টার দিকে সিসনেরোস টাইমস স্কয়ারের ব্যস্ত এলাকায় একটি লাল ব্যাগ থেকে দুটি বড় ছুরি বের করেন। এরপর তিনি কোনো দৃশ্যমান উসকানি ছাড়াই পথচারীদের দিকে এগিয়ে যান এবং মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুজনকে ছুরিকাঘাত করেন।

প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হয়ে স্ত্রীর সঙ্গে রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন তিনি। ওই ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। এরপর সিসনেরোস আরও এক ব্লক এগিয়ে ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক কর্মকর্তা এরিন পিয়াসেন্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর পিয়াসেন্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হামলার পরও থামেননি সিসনেরোস। হাতে থাকা দুই ছুরি নিয়ে তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে গিয়ে ৪২ ও ৪৩ নম্বর স্ট্রিটের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি হন। সেখানে কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করেন এবং কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে স্টান গান বা টেইজার ব্যবহার করে। তবে সেটি কার্যকর হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর সিসনেরোস ছুরি হাতে কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যার নথি পুলিশের কাছে আগে থেকেই ছিল। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তার বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার কোনো পূর্ব অপরাধের ইতিহাস ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দুটি ছুরিই উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হামলাটি এলোমেলো ও বিনা উসকানিতে সংঘটিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ঘটনাটির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে ৪২ নম্বর স্ট্রিট থেকে ৪৭ নম্বর স্ট্রিট পর্যন্ত সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় আকস্মিক এই হামলায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকায় চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।

সূত্রঃ এনবিসি নিউইয়র্ক

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ট্রাম্পঃ তারেক রহমানকে চিঠিতে বোয়িং নিয়ে দিলেন আশ্বাস

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগির সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব কথা জানান ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না।

বোয়িং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মনোযোগের বিষয়টিও ট্রাম্প গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সবসময় মনে রাখবেন বলেও চিঠিতে জানান।

এর পাশাপাশি তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি শিগগির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন।

ট্রাম্পের এই চিঠিতে দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং বিমান পরিবহন খাতে সম্ভাব্য অংশীদারত্বের বিষয়গুলো নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে