Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

সুইডেনের নীতি ক্রমশ যুক্তরাজ্যবিরোধী: ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটিশ নাগরিক ও ব্যবসার জন্য কঠিন সময়ের পূর্বাভাস

সুইডিশ সরকার ব্রেক্সিটের পর ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য আবাসিক অনুমতি নেওয়ার নিয়ম কঠিন ভাবে প্রয়োগ করছে। সুইডেনে বসবসের জন্য আবাসিক অনুমতি নিবন্ধন আবেদন করতে দেরি হওয়ায় কারনে ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সুইডিশ সরকার আরো কঠোর ভাবে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য আবাসিক অনুমতি নেওয়ার নিয়ম প্রয়োগ করবে বলে ঘোষনা করেছে। সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী জোহান সুইডিশ ফোরসেল সংসদে জানান যে সুইডেন ব্রেক্সিট প্রত্যাহার চুক্তির সব শর্ত পূরণ করেছে এবং ইউরোপীয় কমিশনও এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৭৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক জয়েস থমাস, যিনি সুইডেনে ২১ বছর ধরে বসবাস করছেন। তাকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে তার প্রয়াত স্বামী ব্রেক্সিটের পর করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে তাদের কিছুই করতে হবে না।
আরেকটি আলোচিত ঘটনায় জন সেলার্স নামে এক ব্রিটিশ নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যদিও তিনি ১০ বছর বয়স থেকে সুইডেনে বসবাস করছেন।
বামপন্থী দল ভেনস্টার পার্টির এমপি হাকান স্বেনেলিং বলেছেন, সুইডিশ সরকার মনে করছে সব ঠিক আছে, অথচ ব্রিটিশ নাগরিকদের এখনই দেশ থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তার মতে, সরকারের নিষ্ক্রিয়তাও এক ধরনের পদক্ষেপ এবং সুইডেনের নতুন সরকার ও নতুন অভিবাসনমন্ত্রী প্রয়োজন।

ফোরসেল তার লিখিত উত্তরে সামান্য আশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সুইডেনের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার সঠিকভাবে প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াটি সহজ করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা সরকার বিবেচনা করছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেন মোট ২,৪৯০ জন ব্রিটিশ নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যা ইইউ’র ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রে মোট বহিষ্কৃত ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ব্রিটস ইন সুইডেন সংগঠনের ডেভিড মিলস্টেড বলেছেন, সরকারের অবস্থান অপ্রত্যাশিত নয়। তার মতে, এখন প্রশ্ন হলো সুইডেনের নীতি ইইউ আইন এবং ব্রেক্সিট প্রত্যাহার চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে যদি এমন নীতি চালু হতো, তাহলে স্বাধীন মনিটরিং অথরিটি (IMA) তা চ্যালেঞ্জ করত।
মিলস্টেডের মতে, সুইডেনের নীতি হয় ইউরোপীয় আদালতে পরীক্ষা করা উচিত, নয়তো সরকারকে অন্য কোনো উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, এবং এতে অন্যায় বহিষ্কার সিদ্ধান্তগুলো সংশোধন করাও অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

ব্রেক্সিটের পর সুইডেন ধীরে ধীরে এমন একটি নীতি ও প্রশাসনিক অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ক্রমশ কঠোর হয়ে উঠছে। অন্যান্য ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের তুলনায় সুইডেনের আইন প্রয়োগ ও অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন অনেক বেশি কঠোর, দ্রুত এবং অনমনীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে—বিশেষ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে।
সুইডেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ দেরিতে আবেদন করা ব্রিটিশ নাগরিকদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা শুধু প্রশাসনিক কঠোরতা নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। ব্রেক্সিটের পর সুইডেন যুক্তরাজ্যকে আর আগের মতো অগ্রাধিকারমূলক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে না—এটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে তাদের সিদ্ধান্ত, আইন প্রয়োগ এবং বিচারিক ব্যাখ্যায়।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য সুইডেনে বসবাস, কাজ করা, ব্যবসা পরিচালনা করা বা পরিবারভিত্তিক আবাসিক অধিকার বজায় রাখা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। সুইডিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তগুলো এখন অনেক বেশি কঠোর, এবং প্রশাসনিক নমনীয়তা বা মানবিক বিবেচনার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুইডেনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত, জটিল প্রক্রিয়া এবং কঠোর আইনগত ব্যাখ্যার মুখোমুখি হতে হবে। ব্রেক্সিট পরবর্তী ইউরোপে সুইডেনের অবস্থান এখন স্পষ্ট—তারা যুক্তরাজ্যের প্রতি আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর নীতি প্রয়োগ করছে, এবং ভবিষ্যতে এই কঠোরতা আরও বাড়তে পারে।

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

গাড়িই নিজের নয়ঃ তবু কর না দেওয়ার মামলায় দোষী লন্ডনের মেয়র সাদিক খান

নিজের মালিকানাধীন নয় বলে দাবি করা ২৪ বছরের পুরোনো একটি নিশান মাইক্রার গাড়ি কর না দেওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তবে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। কারণ, মেয়রের কার্যালয় বলছে, গাড়িটি সাদিক খান কিংবা লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষের—কোনোটিরই নয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্রও মেয়রের কাছে না গিয়ে ভুল ঠিকানায় একটি গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়েছিল।

ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকেল লাইসেন্সিং এজেন্সি—ডিভিএলএর করা ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ ছিল, সাদিক খান একটি অনিবন্ধিত বা করবিহীন গাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। নীল রঙের নিশান মাইক্রাটি ২০০২ সালে প্রথম নিবন্ধিত হয় এবং এর বার্ষিক গাড়ি কর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। ২৪ জানুয়ারি গাড়িটি কর পরিশোধ না করা অবস্থায় শনাক্ত হওয়ার পর ডিভিএলএ ব্যবস্থা নেয়।

ডিভিএলের নথিতে গাড়িটির সঙ্গে সাদিক খানের নাম ও জন্মতারিখ যুক্ত ছিল। সংস্থাটি গাড়িটির মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিঠি পাঠালেও কোনো জবাব না পাওয়ার পর মামলা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, সেই চিঠি মেয়রের প্রকৃত দপ্তরে পৌঁছায়নি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, চিঠি পাঠানো হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের ৯ এন্ডেভার স্কয়ারে। অথচ লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় রয়েছে কাছাকাছি ৫ এন্ডেভার স্কয়ারে। ৯ এন্ডেভার স্কয়ারের ভবনের ওপরের তলায় রয়েছে বিখ্যাত ব্রিটিশ রাঁধুনি গর্ডন রামসের ‘ব্রেড স্ট্রিট কিচেন, বার অ্যান্ড রুফটপ’ রেস্তোরাঁ। ফলে মেয়রের বিরুদ্ধে পাঠানো সরকারি চিঠি কার্যত একটি রেস্তোরাঁয় চলে যায়।

এরপর ১৮ আগস্ট হিয়ারফোর্ডশায়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একক বিচারক পদ্ধতির অধীনে ব্যক্তিগত শুনানিতে সাদিক খানকে তার অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কোনো পক্ষ থেকে দোষ স্বীকার বা অস্বীকারের আবেদন দাখিল না হওয়ায় বিচারক একতরফাভাবে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড আদালত খরচ এবং গাড়িটির বকেয়া ৩৫ পাউন্ড ৮৪ পেন্স কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আদালতের বিল দাঁড়ায় ৩৪০ পাউন্ড ৮৪ পেন্স।

মেয়রের কার্যালয় অবশ্য এই অভিযোগ মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, গাড়িটি সাদিক খানের নয় এবং তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মেয়রের একজন মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নামে মিথ্যাভাবে গাড়ি নিবন্ধনের ঘটনা আগেও ঘটেছে।

ঘটনার সঙ্গে সাদিক খানের বিতর্কিত ইউলেজ নীতির যোগসূত্র নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনের আল্ট্রা লো এমিশন জোন পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। সে সময় কিছু গাড়িচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়রের নামে গাড়ি নিবন্ধনের হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে গাড়িগুলোর জন্য প্রযোজ্য দৈনিক ১২ পাউন্ড ৫০ পেন্স ইউলেজ চার্জের দায় তাঁর ওপর পড়ে। সিটি হলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউলেজ সম্প্রসারণের সময় মেয়রের নামে মিথ্যা গাড়ি নিবন্ধনের ঘটনা বেড়েছিল।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ডিভিএলএ মামলাটি পর্যালোচনা ও তদন্ত শুরু করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভুলভাবে গাড়িটি সাদিক খানের নামে নিবন্ধনের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে এবং মামলাটি পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউর নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ২০১৫ সালে তুলনামূলক কম গুরুতর মামলাগুলো দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তির জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে ম্যাজিস্ট্রেট প্রকাশ্য আদালতে শুনানি না করেও এককভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে মামলার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

এই বিচারব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও সমালোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৫৯ হাজার ট্রেনভাড়া না দেওয়ার মামলার দণ্ড বাতিল করতে হয়েছিল, কারণ সেগুলো বেআইনিভাবে দেওয়া হয়েছিল। শিশুদের ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল। ফলে বর্তমানে ব্যবস্থাটি সরকারের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রোগীদের জন্য সতর্কবার্তাঃ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের বড় সংকট

যুক্তরাজ্যজুড়ে বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ভেনলাফ্যাক্সিন ৭৫ মিলিগ্রাম ইমিডিয়েট-রিলিজ ট্যাবলেটের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে এই নির্দিষ্ট ওষুধটির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এর সরবরাহ স্বাভাবিক নাও হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ (ডিএইচএসসি) ২৬ আগস্ট একটি ‘টিয়ার-২—মাঝারি প্রভাব’ ওষুধ সরবরাহ সতর্কতা জারি করেছে। সরকারি সরবরাহ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভেনলাফ্যাক্সিন ৭৫ মিলিগ্রাম ইমিডিয়েট-রিলিজ ট্যাবলেট নভেম্বর পর্যন্ত স্টকের বাইরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সংকটটি ভেনলাফ্যাক্সিনের সব ধরনের ওষুধকে প্রভাবিত করছে না। ৩৭.৫ মিলিগ্রাম ও ৭৫ মিলিগ্রাম মডিফায়েড-রিলিজ ক্যাপসুল, ১৫০ মিলিগ্রাম মডিফায়েড-রিলিজ ক্যাপসুল এবং ৭৫ মিলিগ্রাম মডিফায়েড-রিলিজ ট্যাবলেটসহ কিছু বিকল্প ফর্ম বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে।

সরবরাহ সংকটের কারণে চিকিৎসকদের নতুন রোগীদের ভেনলাফ্যাক্সিন ৭৫ মিলিগ্রাম ইমিডিয়েট-রিলিজ ট্যাবলেট দিয়ে চিকিৎসা শুরু না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব রোগীর বর্তমান মজুত নভেম্বর পর্যন্ত চলবে না, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোগীদের নিজে থেকে হঠাৎ ভেনলাফ্যাক্সিন বন্ধ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভেনলাফ্যাক্সিন হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ এবং পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ইমিডিয়েট-রিলিজ ট্যাবলেটের পরিবর্তে মডিফায়েড-রিলিজ ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলে পরিবর্তন করা যেতে পারে। সরকারি নির্দেশনায় উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ৭৫ মিলিগ্রাম ইমিডিয়েট-রিলিজ ট্যাবলেট দিনে দুইবার গ্রহণকারী রোগীকে ১৫০ মিলিগ্রাম মডিফায়েড-রিলিজ ক্যাপসুল দিনে একবার দেওয়ার মতো সমপরিমাণ দৈনিক ডোজ বিবেচনা করা যেতে পারে; তবে ব্যক্তিভেদে ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

ভেনলাফ্যাক্সিন একটি এসএনআরআই শ্রেণির অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট। এটি প্রধানত বিষণ্নতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। মডিফায়েড-রিলিজ ফর্মগুলো উদ্বেগজনিত সমস্যা, সামাজিক উদ্বেগ এবং প্যানিক ডিসঅর্ডারের চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হতে পারে।

ভেনলাফ্যাক্সিন শরীরে সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। ফলে বিষণ্নতা ও সংশ্লিষ্ট মানসিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিছু সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে ভেনলাফ্যাক্সিন ৭৫ মিলিগ্রাম ইমিডিয়েট-রিলিজ ট্যাবলেট নিয়ে সমস্যা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত। সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করে সমস্যা সমাধান, ওষুধের সরবরাহ দ্রুত করা এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সংকট মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্তরাজ্যের এনএইচএস ফার্মেসিগুলোকে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

Categories
আমেরিকা বাংলাদেশ

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের রায়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এখন নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে এবং আবেদন-সংক্রান্ত পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছিল। এই তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ওই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল—যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন এবং সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক নির্ভরশীলতা বা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণের ঝুঁকি কমানো যায়।

তবে স্থগিতাদেশ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আবেদনকারীদের পুরোপুরি আবেদনপ্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তারা ভিসার আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন। এখন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ফলে নিয়মিত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া আবার চালু হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায়। ২১ আগস্ট ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার নীতিকে বাতিল করে রায় দেন।

বিচারক জ্যানেট ভার্গাস রায়ে বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, তা “স্পষ্টতই বেআইনি” এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, বিদ্যমান আইনের অধীনে অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমিত। আদালতের মতে, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে তার আইনগত এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারাই নিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত কয়েক মাস ধরে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীরা এখন নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের আবেদন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অভিবাসন আইন, যোগ্যতার শর্ত, নথিপত্র যাচাই এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, কিউবা, মিসর, ইথিওপিয়া, ঘানা, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাম ছিল।

ফলে আদালতের রায়ের পর ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন করে স্বাভাবিকতা ফিরেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

স্কিল্ড ওয়ার্কার ভিসার দ্রুত বাতিল—হোম অফিসের কঠোর প্রয়োগ নীতির ইঙ্গিত

বহু বছর ধরে স্কিল্ড ওয়ার্কারদের স্পনসরশিপ আগেভাগে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও হোম অফিস সাধারণত ভিসা বাতিল বা ‘কার্টেইলমেন্ট’ করতে দীর্ঘ সময় নিত। স্পনসররা স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (SMS) এর মাধ্যমে চাকরি শেষ হওয়ার রিপোর্ট পাঠালে হোম অফিস সাধারণত সেটির ওপর নির্ভর করত, অথবা HMRC এর ডেটা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে আসত।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার রিপোর্ট কার্যকর করতে হোম অফিসের বাতিলকরণ টিমের কয়েক মাস লেগে যেত। ততদিনে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেত, অথবা কর্মী নতুন ভিসা পেয়ে যেত—ফলে বাতিলকরণ কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ত।
এখন আমরা লক্ষ্য করছি যে হোম অফিস স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার রিপোর্ট পাওয়ার পর অনেক দ্রুত ভিসা বাতিল করছে। গত এক বছরে এই গতি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এক ক্ষেত্রে রিপোর্টের মাত্র তিন সপ্তাহ পরই বাতিলকরণ কার্যকর হয়েছে। আরেক ক্ষেত্রে হোম অফিস স্কিল্ড ওয়ার্কারের ভিসা এমনভাবে বাতিল করেছে যাতে তা রিপোর্টের তারিখ থেকে ৬০ দিন পর শেষ হয়—বাতিলের সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে নয়।
এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে হোম অফিস স্কিল্ড ওয়ার্কারদের ওপর প্রয়োগমূলক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে, এবং সম্ভবত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাতিলকরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করছে।

 

বাতিলকরণ নোটিসের সময়গত বিবেচনা
যখন কোনো স্কিল্ড ওয়ার্কার চাকরি ছাড়ে বা তাকে বরখাস্ত করা হয়, স্পনসরকে অবশ্যই SMS এর মাধ্যমে হোম অফিসকে স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার রিপোর্ট দিতে হয়। এই রিপোর্ট নিজে থেকেই ভিসা বাতিল করে না। রিপোর্ট পাওয়ার পর হোম অফিসকে বাতিলকরণ নির্দেশিকা অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হয়।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, যখন কোনো পয়েন্ট ভিত্তিক সিস্টেমের কর্মী স্পনসরকৃত চাকরি ছেড়ে দেয়, তখন হোম অফিস সাধারণত ভিসা বাতিল করে যাতে তা বাতিলের সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৬০ দিন পর শেষ হয়। যদি ভিসার মেয়াদ তার আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকে, তাহলে হোম অফিস কোনো পদক্ষেপ নেয় না।
তবে কেসওয়ার্কার প্রয়োজন মনে করলে তাৎক্ষণিক বাতিল বা নির্দেশিকা অনুযায়ী অন্য কোনো তারিখে বাতিল করতে পারেন। লক্ষণীয় যে কিছু বাতিলকরণ নোটিসে ৬০ দিনের হিসাব চাকরি শেষ হওয়ার তারিখ থেকে করা হচ্ছে—যদিও রিপোর্ট পরে দেওয়া হয়েছে। এটি হোম অফিসের প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে ৬০ দিন গণনা করা হয় বাতিলের সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে।

এর কারণ কী?

কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত বাতিলকরণের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। হোম অফিস হয়তো স্পনসর নোটিফিকেশনগুলোর ম্যানুয়াল প্রসেসিং উন্নত করেছে। কেসওয়ার্ক টিমের আকার ও অগ্রাধিকার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়—সম্ভবত বাতিলকরণ টিমে বাড়তি জনবল রয়েছে। অভিবাসন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি একটি কারণ হতে পারে। যদিও স্পনসর নোটিফিকেশন পাওয়ার পর বাতিলকরণ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হয়েছে—এমন কোনো প্রকাশিত প্রমাণ নেই।
• হোম অফিস হয়তো স্পনসর নোটিফিকেশনগুলোর ম্যানুয়াল প্রসেসিং উন্নত করেছে।
• কেসওয়ার্ক টিমের আকার ও অগ্রাধিকার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়—সম্ভবত বাতিলকরণ টিমে বাড়তি জনবল রয়েছে।
• অভিবাসন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি একটি কারণ হতে পারে। যদিও স্পনসর নোটিফিকেশন পাওয়ার পর বাতিলকরণ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হয়েছে—এমন কোনো প্রকাশিত প্রমাণ নেই।

স্পনসর ও কর্মীদের জন্য করণীয়
স্পনসরদের এখন বুঝতে হবে যে SMS‑এ দেওয়া তথ্য তাৎক্ষণিক বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে। হোম অফিস এখন দ্রুত কাজ করছে এবং কমপ্লায়েন্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই চাকরি শেষ হওয়ার তারিখসহ সব তথ্য একেবারে সঠিক দিতে হবে। স্পনসররা চাইলে রিপোর্ট দেওয়ার সময় শেষ কর্মদিবসের পর দশম কর্মদিবস পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারেন—এতে কর্মীর অবস্থান নিয়মিত করার জন্য কিছু অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়। SMS এ দেওয়া তথ্য এখন তাৎক্ষণিক বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।
• হোম অফিস এখন দ্রুত কাজ করছে এবং কমপ্লায়েন্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
• তাই চাকরি শেষ হওয়ার তারিখসহ সব তথ্য একেবারে সঠিক দিতে হবে।
• স্পনসররা চাইলে রিপোর্ট দেওয়ার সময় শেষ কর্মদিবসের পর দশম কর্মদিবস পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারেন—এতে কর্মীর অবস্থান নিয়মিত করার জন্য কিছু অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।

কর্মীদের জন্য
কর্মীদের উচিত স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলে অবিলম্বে অভিবাসন অবস্থান বিবেচনা শুরু করা। UKVI অ্যাকাউন্ট ও যোগাযোগের তথ্য অবশ্যই আপডেট রাখতে হবে। এক সাম্প্রতিক ঘটনায় ভুল যোগাযোগ তথ্যের কারণে বাতিলকরণ নোটিস কর্মীর আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাই যোগাযোগের তথ্য সঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
• স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলে অবিলম্বে অভিবাসন অবস্থান বিবেচনা শুরু করা উচিত।
• UKVI অ্যাকাউন্ট ও যোগাযোগের তথ্য অবশ্যই আপডেট রাখতে হবে।
• এক সাম্প্রতিক ঘটনায় ভুল যোগাযোগ তথ্যের কারণে বাতিলকরণ নোটিস কর্মীর আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যদের জন্য
স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার পর কর্মীর ভিসা বাতিল হলে সাধারণত ডিপেন্ডেন্টদের ভিসাও বাতিল হয়। কর্মী যদি নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে চান, তবে পদত্যাগের সময় ও নতুন আবেদন জমা দেওয়ার সময় সতর্কভাবে পরিকল্পনা করা জরুরি। কর্মী যদি নতুন নিয়োগকর্তার জন্য ইন টাইম চেঞ্জ অফ এমপ্লয়মেন্ট আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদত্যাগ করেন, দ্রুত বাতিলকরণ মানে ডিপেন্ডেন্টদের ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়—ফলে তাদের আলাদা এক্সটেনশন আবেদন করতে হবে, যা অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি করবে।
• স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার পর কর্মীর ভিসা বাতিল হলে সাধারণত ডিপেন্ডেন্টদের ভিসাও বাতিল হয়।
• কর্মী যদি নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে চান, তবে পদত্যাগের সময় ও নতুন আবেদন জমা দেওয়ার সময় সতর্কভাবে পরিকল্পনা করা জরুরি।
• কর্মী যদি নতুন নিয়োগকর্তার জন্য ইন টাইম চেঞ্জ অফ এমপ্লয়মেন্ট আবেদন জমা দেওয়ার আগে পদত্যাগ করেন, দ্রুত বাতিলকরণ মানে ডিপেন্ডেন্টদের ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়—ফলে তাদের আলাদা এক্সটেনশন আবেদন করতে হবে, যা অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি করবে।

 

সারসংক্ষেপ
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন ধরে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত যে কোনো স্কিল্ড ওয়ার্কারের স্পনসরশিপ শেষ হওয়া মাত্রই হোম অফিস দ্রুত ভিসা বাতিলের দিকে এগোতে পারে। অতীতে যেখানে বাতিলকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে কয়েক মাস লেগে যেত, এখন সেই সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাতিলকরণ নোটিস জারি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এর ফলে কর্মী ও তার পরিবারের অভিবাসন অবস্থান হঠাৎ করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় স্পনসরদের দায়িত্ব আরও বাড়ছে। তারা SMS এ যে তথ্য প্রদান করেন, তা এখন তাৎক্ষণিকভাবে অভিবাসন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চাকরি শেষ হওয়ার তারিখ, রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় এবং অন্যান্য বিবরণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রদান করা প্রয়োজন। ভুল তথ্য বা তাড়াহুড়ো করে রিপোর্ট জমা দিলে কর্মীর ভিসা দ্রুত বাতিল হয়ে যেতে পারে, যা তার নতুন চাকরিতে যোগদান বা চেঞ্জ অফ এমপ্লয়মেন্ট আবেদন জমা দেওয়ার সময়কে সংকুচিত করে দেয়।
একইভাবে কর্মীদেরও পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তাদের উচিত অবিলম্বে নিজের অভিবাসন অবস্থান পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। UKVI অ্যাকাউন্টের যোগাযোগের তথ্য আপডেট না থাকলে বাতিলকরণ নোটিস ভুল ঠিকানায় পাঠানো হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। কর্মী যদি নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যেতে চান, তবে পদত্যাগের সময় এবং নতুন আবেদন জমা দেওয়ার সময় অত্যন্ত কৌশলগতভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।
পরিবারের সদস্যদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার পর কর্মীর ভিসা বাতিল হলে সাধারণত তার ডিপেন্ডেন্টদের ভিসাও বাতিল হয়। অতীতে বাতিলকরণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় ডিপেন্ডেন্টদের জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন দ্রুত বাতিলকরণের ফলে তাদের ভিসা হঠাৎ করে ঝুঁকির মুখে পড়ে। এতে তাদের আলাদা এক্সটেনশন আবেদন করতে হতে পারে, যা অপ্রয়োজনীয় খরচ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান প্রয়োগ নীতির কঠোরতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা বিবেচনায় স্পনসর ও কর্মী উভয়েরই উচিত সময় ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই বাতিলকরণ কার্যকর হতে পারে—এই ধারণাকে ভিত্তি করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ

Categories
আন্তর্জাতিক

‘রাশিয়ার আকাশ পুরোপুরি বিপজ্জনক’—বিমান সংস্থাগুলোকে জেলেনস্কির ভয়ংকর সতর্কতা

রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ক্রমেই বাড়তে থাকায় দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, রুশ আকাশসীমা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, যেখানে বেসামরিক বিমান চলাচলও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আকাশসীমা “সম্পূর্ণ বিপজ্জনক” হয়ে উঠছে। রাশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থা, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

তবে ইউক্রেন বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্য করছে না—এমন দাবি করে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন কোনো বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে চায় না এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি তাদের উদ্দেশ্য নয়। তার সতর্কতা মূলত রাশিয়ার আকাশে ব্যাপকহারে ড্রোনের উপস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট বিমান চলাচলজনিত ঝুঁকি নিয়ে।

বিশেষ করে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরের বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করেছেন তিনি। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে এরই মধ্যে রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে বারবার বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখতে হয়েছে। মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরও একাধিকবার একই সময়ে কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘কোভিয়র’ বা ‘কার্পেট’ পরিকল্পনার কারণেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কোনো এলাকায় ড্রোন শনাক্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে কোনো বিমানবন্দর সরাসরি আক্রান্ত না হলেও ড্রোন হামলার কারণে ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা আকাশপথ পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিমান চলাচলের ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অসপ্রে ফ্লাইট সলিউশনসও সতর্ক করেছে যে, ইউক্রেনের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রাশিয়ার আরও গভীরে হামলা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে এ ধরনের হামলার মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়ন করেছে।

এ অবস্থায় ভুল হিসাব, ভুলভাবে লক্ষ্য শনাক্ত করা কিংবা ড্রোন প্রতিহত করার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য এ ধরনের ঝুঁকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

জেলেনস্কির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জেলেনস্কির বক্তব্যকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পুতিন বলেন, ইউক্রেন আলোচনায় ফিরতে চাইছে, কিন্তু তার ভাষায়, “সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না।”

একই সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন পুতিন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ হামলার তীব্রতা বেড়েছে। মঙ্গলবারের ভারী হামলায় ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার ওডেসা, সুমি ও কিয়েভেও হামলা হয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে “ব্যাপক” হামলার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও যুদ্ধকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে নিয়ে যাওয়ার কৌশল জোরদার করেছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি স্থাপনা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির দুটি বড় অনলাইন খুচরা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজোনের ডিপোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

চীন, তুরস্ক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের বিমান সংস্থা এখনো রুশ আকাশসীমা ব্যবহার করছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই আকাশপথ ব্যবহার করলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়। তবে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ বড় বিমান সংস্থা রুশ আকাশসীমা এড়িয়ে চলছে।

বিমান চলাচলে যুদ্ধজনিত ঝুঁকির ভয়াবহতার উদাহরণও রয়েছে সাম্প্রতিক ইতিহাসে। ২০১৪ সালে পূর্ব ইউক্রেনের আকাশে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এমএইচ১৭ ভূপাতিত হয়ে বিমানে থাকা ২৯৮ জন নিহত হন। গত বছর জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক সংস্থা ওই ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করে। তবে ক্রেমলিন বরাবরই দায় অস্বীকার করে আসছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়ার আকাশসীমায় একটি বাণিজ্যিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন পুতিন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করতে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার সময় ওই “মর্মান্তিক ঘটনা” ঘটে। ওই ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষেরই আকাশপথে হামলা ও প্রতিরোধমূলক তৎপরতা বাড়ায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা যদি রাশিয়ার আরও গভীরে বিস্তৃত হয়, তাহলে সরাসরি বিমানবন্দর লক্ষ্য না করেও দেশটির আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বিমান সংস্থাগুলোর জন্য রুশ আকাশসীমা ব্যবহার এখন শুধু সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয় নয়; বরং যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনায় এটি একটি বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে পরিণত হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণঃ ফ্রান্সেও আগুন—ইউরোপজুড়ে রুশ নাশকতার আতঙ্ক

যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে অগ্নিকাণ্ড, নাশকতা ও সন্দেহজনক তৎপরতার ঘটনা সামনে আসায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লিভারপুলের ওল্ড সোয়ান এলাকায় বুধবার সকালে রক কোর্ট সার্জারির কার পার্কে থাকা একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সকাল প্রায় ৮টা ২০ মিনিটে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মার্সিসাইড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

দমকলকর্মীরা সেখানে পৌঁছে দেখতে পান, বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি আগুনে জ্বলছে এবং আগুন একটি গাড়িতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে দুটি হোস-রিল জেট দিয়ে কাজ করেন দমকলকর্মীরা।

ঘটনার পর সেন্ট অসওয়াল্ডস স্ট্রিটের এজ লেন থেকে প্রেসকট রোড পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে প্রায় ৩০ মিটার নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। কাছের একটি ওয়াক-ইন চিকিৎসাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সেটিও খালি করে দেওয়া হয়। পুলিশ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী স্কটিশ পাওয়ারের একজন প্রতিনিধিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করেন। উপকেন্দ্রটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার পর আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এটি কি নিছক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত নাশকতা রয়েছে?

ইউরোপের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প ও জ্বালানি খাতকে ঘিরে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। জার্মানি গতকাল লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন-সম্পর্কিত একটি ব্যর্থ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। মস্কো অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এরই মধ্যে ন্যাটো ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্ক করেছেন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেছেন, ইউরোপের অবকাঠামো ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যও এর বাইরে নয়। দেশটির ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, রুশ-সমর্থিত হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে আসছে।

গত আগস্টে রাশিয়া যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। মস্কো বলেছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সহায়তা অব্যাহত থাকলে ব্রিটিশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ফ্রান্সেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সম্প্রতি সতর্ক করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে আরও সরাসরি এবং সহিংস হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ফলে লিভারপুলের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণ এবং ফ্রান্সে আগুনের খবর একই সময়ে সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সমন্বিত যোগসূত্র বা রুশ সংশ্লিষ্টতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

ইউরোপ যখন রাশিয়া-সম্পৃক্ত সম্ভাব্য নাশকতা ও হাইব্রিড হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তখন লিভারপুলের মতো একটি বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বিস্ফোরণ নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

বিক্রির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় পাউন্ডল্যান্ডঃ অক্টোবরেই বদলাতে পারে মালিকানা

যুক্তরাজ্যের অন্যতম পরিচিত ডিসকাউন্ট খুচরা বিক্রেতা পাউন্ডল্যান্ড বিক্রির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক গর্ডন ব্রাদার্স আগামী বড়দিনের ব্যস্ত কেনাকাটার মৌসুম শুরুর আগেই নতুন মালিকের কাছে প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করতে চাইছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জিবি নিউজ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পাউন্ডল্যান্ড বিক্রির বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আলভারেজ অ্যান্ড মার্সাল গর্ডন ব্রাদার্সকে অক্টোবরের শেষ হওয়ার আগেই বিক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি আগামী মাসেই সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রাথমিক দরপত্র বা প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানা গেছে।

পাউন্ডল্যান্ডের সম্ভাব্য বিক্রির খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যের উচ্চ-সড়কের খুচরা ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে রয়েছে। মহামারির পর ভোক্তাদের আচরণে পরিবর্তন, পরিচালন ব্যয় এবং দোকান পরিচালনার বাড়তি চাপের কারণে দেশজুড়ে বহু খুচরা প্রতিষ্ঠান তাদের শাখা কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে।

পাউন্ডল্যান্ডও এর বাইরে থাকতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পুনর্গঠনের পর দেশজুড়ে ২০০টিরও বেশি দোকান বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে পাউন্ডল্যান্ডের প্রায় ৬৫১টি শাখা চালু রয়েছে, যেখানে পুনর্গঠনের আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০। ২০২৫ সালের জুনের পর থেকেই উচ্চ-সড়কে ১০০টির বেশি পাউন্ডল্যান্ড শাখা বন্ধ হয়েছে।

এর মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাউন্ডল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যারি উইলিয়ামস জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানটি সংকটের দ্বারপ্রান্ত থেকে ঘুরে এখন ‘সঠিক পথে’ এগোচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বৈচিত্র্য এবং সহজ মূল্যব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

পাউন্ডল্যান্ড তাদের পুরোনো ক্রেতা আনুগত্য কর্মসূচি ‘পাউন্ডল্যান্ড পার্কস’ও পুনরায় চালু করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধ করে দেওয়া ওই কর্মসূচি আবার ফিরিয়ে এনে নিয়মিত ক্রেতাদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে পাউন্ডল্যান্ডের দোকান ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার কর্মী রয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি হলে নতুন মালিকানা ব্যবসার কৌশল, দোকানের সংখ্যা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

পাউন্ডল্যান্ডের মালিক গর্ডন ব্রাদার্স গত বছরের জুনে প্রতিষ্ঠানটি পোলিশ কোম্পানি পেপকোর কাছ থেকে অধিগ্রহণ করে। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কাঠামো নিয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এখন নতুন মালিকের হাতে পাউন্ডল্যান্ড গেলে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে, নাকি আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে সম্ভাব্য বিক্রির আলোচনা নিয়ে পাউন্ডল্যান্ডের পক্ষ থেকে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় মনোযোগ ধরে রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘পুরোনো ধাঁচের মৌলিক খুচরা ব্যবসার’ মাধ্যমে যে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে, সেখান থেকে তারা বিচ্যুত হবে না।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের উচ্চ-সড়কের খুচরা বাজারে পাউন্ডল্যান্ডের সম্ভাব্য বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ বিক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হলে কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় বড় পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে প্রায় ১২ হাজার কর্মী এবং শত শত দোকানের ভবিষ্যৎও নতুন মালিকানার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পেলেন বাংলাদেশি শিল্পী রুহুল আমিন তারেক

শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের শিল্পী রুহুল আমিন তারেক পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। তার এই অর্জন বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কাঠখোদাই শিল্পকর্মের জন্য পরিচিত রুহুল আমিন তারেক বাংলাদেশে শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে টানা দুই বছর ২১তম ও ২২তম জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার শিল্পকর্ম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রদর্শিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য ছাড়াও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে তার শিল্পকর্ম। ফলে বাংলাদেশের কাঠখোদাই শিল্পকে আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা মূলত শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বীকৃত নেতা অথবা সম্ভাবনাময় নেতাদের জন্য নির্ধারিত একটি বিশেষ ভিসা ব্যবস্থা। শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগের আবেদনকারীদের পেশাগত কাজ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের মতো বিষয় বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হয়।

রুহুল আমিন তারেকের এই অর্জন উদযাপন করতে কালনী আর্ট স্টুডিও ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একটি পুনর্মিলনী ও শিল্প আড্ডার আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে তার শিল্পচর্চা, কাঠখোদাই শিল্পে অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং ভবিষ্যৎ শিল্প-পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শিল্পীর গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় নয়, বাংলাদেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে কাঠখোদাইয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পমাধ্যমে দীর্ঘদিনের কাজ ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর অভিজ্ঞতা যে একজন শিল্পীর বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, রুহুল আমিন তারেকের অর্জন তারই একটি উদাহরণ।

যুক্তরাজ্যে এই ভিসা পাওয়ার মাধ্যমে রুহুল আমিন তারেক এখন তার শিল্পচর্চাকে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তার ভবিষ্যৎ শিল্প-পরিকল্পনা ও যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড তাই বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ টিবিএস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিলে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে ইসরায়েল

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কারণে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর সরাসরি বলেছেন, “ব্রিটেন যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, ইসরায়েলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।”

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘বড় ভুল’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল বিষয়ে ব্রিটিশ নীতিতে একটি ‘সমন্বিত পুনর্বিন্যাস’ আনা হবে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ই১ বসতি প্রকল্প। ইসরায়েল সেখানে নতুন বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার এই পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের আশঙ্কা, ই১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ হলে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে বলেন, ই১ বসতি নিয়ে ইসরায়েলের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনের আগে ওই বসতি নিয়ে সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়া হলে তা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ‘বিপন্ন বা শেষ’ করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বার্নহ্যাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি এবং এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, ই১ বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ পার্লামেন্টে আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

এরই মধ্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিম তীরে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন, নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ কিংবা বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার উপায় খুঁজছে সরকার। তার ভাষায়, ই১ প্রকল্প পশ্চিম তীরের ‘হৃদয়ের মধ্য দিয়ে’ যাওয়ায় এটি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করছে।

মিলিব্যান্ড স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস হতে দেবে না। এ কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘বিস্তৃত পদক্ষেপ’ ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

শুধু বসতি নিয়ে বাণিজ্য নয়, ইসরায়েল বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক নীতিই পুনর্বিবেচনার আওতায় আসছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়সহ ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আইনি প্রশ্নও নতুন নীতির অংশ হবে বলে জানিয়েছেন মিলিব্যান্ড।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্টিফেন ডটি আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

ডটি বলেন, ব্রিটিশ সরকার বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ই১ প্রকল্পের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

এ অবস্থায় লন্ডনের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তেল আবিবের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন চাপের মুখে ফেলেছে। একদিকে যুক্তরাজ্য বলছে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে; অন্যদিকে ইসরায়েল আগেই জানিয়ে দিয়েছে, ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার জবাব দেওয়া হবে।

ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্ক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড়ের সামনে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ সরকার কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ঘোষণা করে এবং ইসরায়েল তার কী প্রতিক্রিয়া জানায়—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে