Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে ইভি চার্জার স্থাপনে নিয়ম শিথিলঃ কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই বসানো যাবে চার্জিং পয়েন্ট

ইংল্যান্ডে বৈদ্যুতিক গাড়ির মালিক ও চালকদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এখন বাড়ির ড্রাইভওয়েতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা অনুমোদনের আবেদন করতে হবে না। সরকারের প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নিয়মে ব্যক্তিগত ও সরকারি—উভয় ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে আগের পরিকল্পনা আবেদন প্রক্রিয়া থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের ধাপ কমানোর ফলে চার্জিং অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

সড়কবিষয়ক মন্ত্রী লিলিয়ান গ্রিনউড বলেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। এর ফলে চালক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর করতে আগ্রহী মানুষের জন্য আরও বেশি চার্জিং সুবিধা তৈরি হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।

ইভিএ ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ভিকি এডমন্ডস এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি ও ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই চার্জিং অবকাঠামো স্থাপন সহজ করা বৈদ্যুতিক গাড়িতে মানুষের স্থানান্তর ত্বরান্বিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ড্রাইভওয়ে নেই—এমন বাড়ির বাসিন্দাদের জন্য এখনও সমস্যা রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বিশেষ করে কম খরচে ও সুবিধাজনকভাবে চার্জ দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে ফুটপাতের ওপর দিয়ে চার্জিং সংযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা বাড়ানো এবং ভাড়াটিয়া ও লিজহোল্ডারদের অধিকার সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সড়কনীতি বিভাগের প্রধান জ্যাক কুজেন্সও পরিকল্পনা অনুমোদনের বাধা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এতে বাড়ি ও অন্যান্য স্থানে ইভি চার্জার স্থাপনের গতি বাড়তে পারে।

তবে চার্জার স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডে দ্রুত সংযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা এবং যেখানে নির্দিষ্ট অফ-স্ট্রিট পার্কিং নেই, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন হুইচ?-এর নীতি ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের পরিচালক রোসিও কনচা নতুন নিয়মকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চার্জিং নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান অসপ্রে চার্জিং নেটওয়ার্কও পরিবর্তনটিকে বাস্তব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর বলে স্বাগত জানিয়েছে।

অন্যদিকে, আরএসি-র রড ডেনিস সতর্ক করেছেন যে শুধু চার্জার স্থাপনের অনুমোদন সহজ করলেই বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়বে না। তাঁর মতে, পাবলিক চার্জিংয়ের তুলনামূলক বেশি খরচ এখনও বড় বাধা। বৈদ্যুতিক গাড়িতে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে হলে চার্জিংয়ের ব্যয় কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

ইংল্যান্ডে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং অবকাঠামো ইতোমধ্যে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের শেষে যুক্তরাজ্যে ৭৫ হাজারের বেশি পাবলিক ইভি চার্জিং পয়েন্ট ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি।

নতুন নিয়মের ফলে এখন নিজস্ব ড্রাইভওয়ে থাকা বাড়ির মালিকদের জন্য ইভি চার্জার স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বাধা দূর হলো। সরকারের প্রত্যাশা, কম কাগজপত্র ও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত চার্জিং সুবিধা বাড়বে এবং দেশটির বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তর আরও দ্রুত হবে।

সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংরেজি না জানলে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাব রিফর্ম ইউকেরঃ বাড়ছে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিতর্কিত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বা ইংরেজি কিংবা ওয়েলশ ভাষা যথেষ্ট বুঝতে না পারলে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁর ব্যালট পেপার আলাদা করে রাখতে এবং ভোটটি গণনা না করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

প্রস্তাবটি রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল বিল-এর ওপর আনা সংশোধনীগুলোর অংশ। বর্তমানে বিলটিতে ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার, স্বয়ংক্রিয় ভোটার নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক অনুদানের নিয়মে পরিবর্তনের মতো বিষয় রয়েছে।

রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তা কোনো ভোটারের ভাষা বা ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বোঝার সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হলে তাঁর ব্যালট পেপার আলাদা করে রাখতে পারবেন। ভোটটি গণনা করা হবে না এবং ভোটারকে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দিতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভোটার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আপিল করতে পারবেন।

দলটির দাবি, এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য ভোটকেন্দ্রে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করা বা নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ঠেকানো। প্রস্তাব অনুযায়ী, একসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনে আলাদাভাবে বুথে প্রবেশ করে ভোট দিতে বলা যাবে। নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা অথবা সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

রিফর্ম ইউকের নীতিবিষয়ক প্রধান ড্যানি ক্রুগার দাবি করেছেন, ব্রিটিশ গণতন্ত্র বিভিন্নভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করতেই এসব পরিবর্তন প্রয়োজন। দলটির যুক্তি, একজন ভোটারের ভোট অবশ্যই তার নিজের সিদ্ধান্তে দেওয়া উচিত এবং পরিবারের সদস্যদের চাপ বা প্রভাবের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

তবে প্রস্তাবের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো ভাষার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই। একজন ভোটার ইংরেজি বা ওয়েলশ ভাষা কতটা বোঝেন—তা একজন ভোটকেন্দ্র কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করলে ভোটাধিকার প্রয়োগে বৈষম্য তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

রিফর্ম ইউকের সংশোধনীগুলোর মধ্যে শুধু ভাষা-সংক্রান্ত প্রস্তাবই নয়, নির্বাচনী প্রচারপত্রে বিদেশি ভাষার ব্যবহার সীমিত করা এবং ব্রিটিশ নাগরিক নন—এমন কমনওয়েলথ নাগরিকদের ভোটাধিকার বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে। সংসদের নথিতে কমনওয়েলথ নাগরিকদের ভোটাধিকার সীমিত করার সংশোধনীটি এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারপত্রের ভাষা নিয়েও রিফর্ম ইউকের একাধিক সংশোধনী রয়েছে। একটি প্রস্তাবে নির্বাচনী উপকরণ ইংরেজি, ওয়েলশ বা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় ভাষায় প্রকাশের বিধান করার কথা বলা হয়েছে।

রিফর্ম ইউকের এসব প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনীগুলোর বেশ কয়েকটির ওপর সংসদ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে এগুলো কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টারি প্রক্রিয়ায় আরও ধাপ পেরোতে হবে।

প্রস্তাবগুলো সামনে আসার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে ভোটাধিকার, অভিবাসন, ভাষা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় সমান অংশগ্রহণের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভাষাগত সক্ষমতাকে ভোটাধিকার প্রয়োগের শর্ত করার উদ্যোগটি ভবিষ্যতে ব্যাপক রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ফের চমকঃ প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর এমপি পদও ছাড়ছেন স্টারমার

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সংসদ সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কাজ করার দিকে মনোযোগ দিতে তিনি লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি পদ ছাড়ছেন।

তার পদত্যাগের ফলে আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী পরীক্ষা।

ক্যামডেন নিউ জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, এখন এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য এটিই “সঠিক সময়”। তিনি জানান, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিষয়—বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—নিয়ে কাজ করতে চান।

স্টারমার বলেন, হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা তার জন্য “বিশাল সম্মানের ” ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আসনটির সাবেক এমপি এবং সাবেক লেবার সরকারের সদস্য ফ্র্যাঙ্ক ডবসনের কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোতে তিনি এখন মনোযোগ দেবেন।

নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধের কাজও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমপি হওয়ার আগেই অন্যদের সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং সংসদ সদস্য পদ ছাড়ার পরও সেই কাজ চালিয়ে যেতে চান।

স্টারমার বলেন, ভবিষ্যতে তার কাজের দুটি প্রধান দিক থাকবে—একদিকে আন্তর্জাতিক বিষয়, অন্যদিকে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ অব্যাহত রাখা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমার চলতি বছরের জুনে লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এর পর দলীয় নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

জুলাইয়ে বার্নহাম ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্থানীয় নির্বাচনে দুর্বল ফলাফলের পর স্টারমার দলীয় সমর্থন হারানোর প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

স্টারমারের এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক তাকে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি স্টারমারের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন।

হলিনরেক বলেন, স্টারমারের অধিকাংশ সিদ্ধান্তের সঙ্গে কনজারভেটিভদের মতপার্থক্য থাকলেও তিনি স্টারমার ও তার পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। তার মতে, স্টারমারের এমপি হিসেবে শেষ সিদ্ধান্তটি আবারও অবস্থান পরিবর্তনের উদাহরণ হয়ে থাকল।

হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে উপনির্বাচনের মাধ্যমে নতুন একজন এমপি নির্বাচিত হবেন। কনজারভেটিভ পার্টি জানিয়েছে, এই নির্বাচনে তারা অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং দেশকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাবে।

স্টারমার প্রায় ১১ বছর ধরে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সংসদ থেকে বিদায় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার নতুন ভূমিকা এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে তার দীর্ঘদিনের কাজ অব্যাহত রাখার বিষয়টি এখন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের অবদান বাড়ছেঃ জোরালো হচ্ছে মাননিয়ন্ত্রণের দাবি

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অসদাচরণ মামলায় বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের অংশ তাদের সামগ্রিক কর্মসংখ্যার তুলনায় বেশি বলে এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রমাণিত অসদাচরণের মামলাগুলোর ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকেরা ছিলেন, যেখানে যুক্তরাজ্যে কর্মরত মোট চিকিৎসকের মধ্যে তাদের অংশ ৪২ শতাংশ।

মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল সার্ভিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এক বছরে মোট ২১২ জন চিকিৎসককে অসদাচরণের জন্য দায়ী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বিদেশে প্রশিক্ষিত। অর্থাৎ প্রমাণিত অসদাচরণের মামলায় বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি।

এই ১১৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনকে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের (জিএমসি) নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৬৯ জনের চিকিৎসা করার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে, ৯ জনের ওপর নির্দিষ্ট কর্মশর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং সাতজনের লাইসেন্স পুনর্বহালের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রতারণা ও পেশাগত অদক্ষতার অভিযোগে। এ ছাড়া অপরাধে দণ্ডিত হওয়া এবং যৌন অসদাচরণের অভিযোগেও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শাস্তির মুখে পড়া বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন ভারতে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক—২৩ জন। এরপর মিশরে প্রশিক্ষিত ১৭ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

তবে এই পরিসংখ্যানকে বিদেশি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক অভিযোগের সরল প্রতিফলন হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। জিএমসি জানিয়েছে, বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তুলনামূলক বেশি হারে অভিযোগ আসার পেছনে বৈষম্যের বিষয়টি রয়েছে। সংস্থাটি চলতি বছরের মধ্যে বিদেশি প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হারে অভিযোগের প্রবণতা দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের বাইরে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ৪১৭টি অভিযোগে জিএমসি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে। এটি ওই বছরের মোট পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ।

জিএমসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বিদেশে জন্ম নেওয়া চিকিৎসকদের অনুপাত এখন ৪২ শতাংশ। তুলনায় জার্মানিতে এই হার ১৫ শতাংশ এবং ফ্রান্সে ১১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে বিদেশি চিকিৎসকদের আগমনও বছরে ২০ হাজারের বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুতর অসদাচরণের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। মিশরে প্রশিক্ষিত ডা. মোহসেন আলী প্রতারণা ও চিকিৎসায় অনিয়মের অভিযোগে নিবন্ধন হারান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্যানসার রোগীদের ভুয়া চিকিৎসার নামে হাজার হাজার পাউন্ড নিয়েছিলেন।

মিশরে প্রশিক্ষিত আরেক চিকিৎসক ডা. বারাআ আলমাসরি গুরুতর ও অবৈধ শারীরিক অঙ্গহানির কর্মকাণ্ডে জড়িত এক ব্যক্তিকে সহায়তার অভিযোগে চিকিৎসক নিবন্ধন হারান। অন্যদিকে সুদানে প্রশিক্ষিত ডা. মাহদি হালিমকে সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কয়েকটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি বর্তমানে এনএইচএসে কর্মরত।

পোল্যান্ডে প্রশিক্ষিত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. টোমাসজ ফ্রিজলেভিচ বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসা করার অধিকার থেকে স্থগিত হয়েছেন। জিএমসির মতে, যুক্তরাজ্যে নিরাপদভাবে চিকিৎসা করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ দক্ষতা তাঁর ছিল না।

এদিকে, যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদেশি চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ব্রিটেনে প্রশিক্ষিত চিকিৎসা স্নাতকদের অনেকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণস্থানের সংকটে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে জরুরি আইন করে এনএইচএস ট্রাস্টগুলোকে ব্রিটিশ মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক স্যার ক্রিস হুইটির সহ-রচনায় চিকিৎসা প্রশিক্ষণব্যবস্থা নিয়ে করা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেশীয়ভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, যুক্তরাজ্যে অভিজ্ঞতা অর্জনকারী আন্তর্জাতিক চিকিৎসক এবং নতুন আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই অনুপাতের বড় পরিবর্তন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংকট তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের এনএইচএস থেকে চিকিৎসকদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। গত বছর ১২ হাজার ২৫৫ জন চিকিৎসক বিদেশে চিকিৎসা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আবেদন করেছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেশি এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ফলে একদিকে বিদেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকদের ওপর এনএইচএসের নির্ভরতা বাড়ছে, অন্যদিকে দেশীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ সুযোগ, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থায় অভিযোগের ভারসাম্য এবং চিকিৎসকদের বিদেশমুখী প্রবণতা—এই তিনটি বিষয় যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে নীতিগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

কিয়ার স্টারমার সংসদ ছাড়ছেন: হোলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাসে উপনির্বাচন নিশ্চিত

যুক্তরাজ্যের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হোলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাস আসনের এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন—এই খবর প্রথম প্রকাশ করেছে তার স্থানীয় সংবাদপত্র ক্যামডেন নিউ জার্নাল। স্টারমার জুলাইয়ের শেষে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় বলেছিলেন যে তিনি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ব্যাকবেঞ্চ এমপি হিসেবে থাকতে চান। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের চিন্তাভাবনার পর তিনি মত পরিবর্তন করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এখনই তার জন্য সংসদ ছাড়ার “সঠিক সময়”। তিনি বলেন, ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার পর তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন এবং এখন তিনি দায়িত্ব “একজন উত্তরসূরির হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত”। তিনি আরও বলেন যে হোলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাসের মতো একটি অসাধারণ আসন প্রতিনিধিত্ব করা তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ছিল এবং ফ্র্যাঙ্ক ডবসনের মতো একজন কিংবদন্তি এমপির পর এই আসন গ্রহণ করা ছিল বিশেষ গৌরবের।

স্টারমার জানিয়েছেন যে তিনি এখন আন্তর্জাতিক বিষয়—বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—নিয়ে কাজ করতে চান। পাশাপাশি তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা ও মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ করে আসছেন, সেটি আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, এই কাজ তিনি এমপি হওয়ার আগেই শুরু করেছিলেন এবং এমপি পদ ছাড়ার পরও এটি তার অগ্রাধিকার থাকবে।

 

স্টারমারের পদত্যাগের ফলে উত্তর লন্ডনের এই আসনে একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি এখানে ১১,৫৭২ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। কিছু সময় আগে আশঙ্কা ছিল যে গ্রিন পার্টি এই আসনটি দখল করতে পারে, কারণ ২০২৪ সালের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ও স্বাধীন বামপন্থী প্রার্থী অ্যান্ড্রু ফেইনস্টাইন মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবার পার্টির জাতীয় সমর্থন বেড়েছে এবং গ্রিনদের সমর্থন কমেছে। তবুও গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি এই আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
স্টারমারের পদত্যাগকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কি সাধারণ নির্বাচনের আগেই সংসদ ছাড়েন? ইতিহাস বলছে, এটি খুব অস্বাভাবিক নয়। ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার দুই মাস পর এমপি পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। টনি ব্লেয়ার তো প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার দিনই সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেন, কারণ তিনি বুঝেছিলেন যে গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বে সংসদে থাকা উভয়ের জন্যই অস্বস্তিকর হবে। বরিস জনসনও আগেভাগে এমপি পদ ছাড়েন, যদিও তার ক্ষেত্রে কারণ ছিল পার্টিগেট নিয়ে তদন্তে সম্ভাব্য শাস্তি। অন্যদিকে থেরেসা মে ও লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী পদ হারানোর পরও সংসদে থেকে যান এবং পরবর্তী নির্বাচনে অংশও নেন।

 

স্টারমার তার বিবৃতিতে বলেন যে তিনি তার আসনে সাশ্রয়ী বাসস্থান, উচ্চমানের শিক্ষা এবং যুব অপরাধ মোকাবিলায় ক্যামডেন ইয়ুথ সেফটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে যে কাজ করেছেন, তা নিয়ে গর্বিত। তিনি আরও দাবি করেন যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দুই বছরে তিনি অর্থনীতি স্থিতিশীল করেছেন, জনসেবা পুনর্গঠন করেছেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় রেকর্ড বিনিয়োগ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের ভাবমূর্তি পুনর্গঠন করেছেন।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে লেবার পার্টি এখন নতুন প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে লেবারের নিরাপদ আসন হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গ্রিন পার্টির উত্থান উপনির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম তার প্রথম বিবৃতি দিতে যাচ্ছেন হাউস অব কমন্সে—যেখানে তিনি তার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরবেন এবং এমপিদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

 

কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হোলিনরেক অভিযোগ করেছেন যে স্টারমার আবারও “একটি ইউ টার্ন” করলেন, কারণ তিনি আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি সংসদে থাকবেন। হোলিনরেক দাবি করেন, তার এই সিদ্ধান্ত করদাতাদের জন্য “ব্যয়বহুল একটি উপনির্বাচন” ডেকে আনবে।
স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে না। হোলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাস আসনটি বহু বছর ধরে লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্টারমার এখানে ১১,০০০ এর বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। আসনটিতে লেবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে গ্রিন পার্টিকে, যারা এই বছরের স্থানীয় নির্বাচনে আসনটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে—লেবারের ৩৯.৫ শতাংশের বিপরীতে গ্রিনদের ভোট ছিল ২৯.৮ শতাংশ। রিফর্ম ইউকে এই ভোটের হিসেবে অনেক পিছিয়ে ছিল। এমনকি দুটি ওয়ার্ডে গ্রিন পার্টি প্রার্থী না দাঁড়ানোয় তাদের সম্ভাব্য ভোট আরও বেশি হতে পারত।
উপনির্বাচনের প্রার্থীদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। তবে গ্রিন পার্টি ইঙ্গিত দিয়েছে যে দলের নেতা জ্যাক পোলানস্কি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বিবেচনা করছেন। দলের এক মুখপাত্র বলেছেন যে পোলানস্কি, যিনি বর্তমানে লন্ডন অ্যাসেম্বলির সদস্য, “সবসময়ই পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে তিনি লন্ডনের একজন এমপি হতে চান।”

 

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কাজের অধিকার হারানো ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর লাইসেন্স বাতিল

যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার না থাকায় গত তিন বছরে প্রায় ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ভিসা-সংক্রান্ত কারণে লাইসেন্স বাতিলের এই সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বেড়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

দ্য টেলিগ্রাফের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি নিরাপত্তা খাতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২২ হাজার লাইসেন্স বাতিল করেছে সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি (এসআইএ)। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই বাতিল হয়েছে রেকর্ড ৭ হাজার ৭৪০টি লাইসেন্স। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৩৪।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আরও ৪ হাজার ২৪৪টি নিরাপত্তা লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

এসআইএর লাইসেন্স প্রয়োজন হয় দোকান, পাব, ক্লাব, গুদাম, অর্থ পরিবহন এবং হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের। যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা খাতে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধভাবে কাজ করার অধিকার থাকা বাধ্যতামূলক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে বাতিল হওয়া লাইসেন্সের প্রায় ৯০ শতাংশই বাতিল হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অধিকার না থাকার কারণে। বাতিল হওয়া লাইসেন্সের সবচেয়ে বড় অংশ পাকিস্তানি ও ভারতীয় নাগরিকদের।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পাকিস্তানি নাগরিকদের ৯ হাজার ৬২৫টি এবং ভারতীয় নাগরিকদের ৭ হাজার ৮৬১টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। নাইজেরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৮৯৮টি লাইসেন্স।

তবে এসআইএর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তির সবাই যে লাইসেন্স পাওয়ার সময় অবৈধভাবে কাজ করছিলেন, তা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অধিকার ছিল। পরবর্তীতে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অভিবাসন-স্থিতি পরিবর্তনের কারণে তারা কাজের অধিকার হারান।

এসআইএর একজন মুখপাত্র জানান, যুক্তরাজ্যে কাজ করার অধিকার থাকা লাইসেন্স ধরে রাখার অন্যতম শর্ত। কোনো ব্যক্তির কাজের অধিকার শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল করে।

একটি এসআইএ লাইসেন্স সাধারণত তিন বছরের জন্য বৈধ। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বা কাজের অধিকার শেষ হয়ে গেলে তা পুনরায় যাচাই করা হয়। ব্যক্তি যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেলে কিংবা নতুন ধরনের ভিসায় চলে গেলেও লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টি অবৈধভাবে কাজ করা নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাজের অধিকার যাচাইয়ের মতো মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে তাদের ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বৈধ কাজের অধিকার ছাড়া কাজ করতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে তাকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান তিনি।

ফিলপের ভাষ্য, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে এসআইএর আরও কার্যকর যাচাইব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার নিরাপত্তা লাইসেন্সধারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা বৈধভাবে কাজের অধিকার হারিয়েছেন, তাদের লাইসেন্স শনাক্ত করে বাতিল করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এসআইএ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও ভিসার অপব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নিরাপত্তা খাতে লাইসেন্স বাতিলের এই পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করায় বিদ্রোহের মুখে শাবানা মাহমুদ

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ লেবার দলের ভেতরেই ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন। সংসদের গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে অধিবেশন শুরুর পর আরও ১০ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মাহমুদের প্রস্তাবের মূল বিষয় হলো, অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সাধারণ সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদেরও নতুন নিয়মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পূর্বপ্রযোজ্যতার বিষয়টিই লেবার এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

লেবার এমপি নিল ডানকান-জর্ডান নতুন নিয়ম শিথিল করার দাবিতে সংসদীয় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ইতোমধ্যে এতে ৬৪ জন এমপি সমর্থন জানিয়েছেন, যার মধ্যে ৩৭ জন লেবার এমপি। আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সমর্থকদের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে প্রকাশ্যে প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এমপির সংখ্যা দলের অভ্যন্তরে উদ্বিগ্ন এমপিদের প্রকৃত সংখ্যা নয় বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় ১০০ জন লেবার এমপি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রীদের কাছে পরিকল্পনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিরোধিতা সামাল দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছরের নতুন নিয়ম নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পর সরকার এই অবস্থান পুনর্বিবেচনার চাপের মুখে পড়েছে।

নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আপত্তিগুলোর একটি হলো, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকা কর্মীদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হতে পারে। লেবার এমপিদের একাংশ মনে করছেন, যারা পুরোনো নিয়মের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে এসে পাঁচ বছর কাজ ও বসবাসের পর স্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশায় জীবন গড়ে তুলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন করা অন্যায্য হবে।

একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও এই অবস্থানের প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা গেছে। জরিপে ৪৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন, তাদের নতুন নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত। বিপরীতে ৩৩ শতাংশ মনে করেন, নতুন নিয়ম তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

একই জরিপে কম দক্ষ স্বাস্থ্য ও সামাজিক কেয়ার কর্মীদের নতুন নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষেও উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাওয়া গেছে।

নিল ডানকান-জর্ডান ও তার সমর্থকেরা দাবি করছেন, সামাজিক কেয়ারসহ সব দক্ষ কর্মী ভিসাধারীর জন্য স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে আগের পাঁচ বছরের পথ বহাল রাখা উচিত। তাদের যুক্তি, এসব কর্মী কর দিচ্ছেন, স্থানীয় সমাজে অবদান রাখছেন এবং সরকারি অর্থ সহায়তা পাওয়ার অধিকার তাদের নেই।

সংসদীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এসব কর্মী পরিষ্কার একটি প্রত্যাশা নিয়ে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন—পাঁচ বছর কাজ ও বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন। সেই প্রত্যাশার ভিত্তিতে অনেকে যুক্তরাজ্যে পরিবার ও পেশাজীবন গড়ে তুলেছেন।

ডানকান-জর্ডান সতর্ক করে বলেছেন, মাঝপথে অভিবাসন আইনের নিয়ম পরিবর্তন করলে অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান পরিকল্পনা বহাল থাকলে অতীতের উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির মতো বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি সেবা, এসব সেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষ এবং দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসা কর্মী—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বিদেশি কেয়ার কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়ার প্রভাব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউনিসন শ্রমিক সংগঠনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পর সামাজিক কেয়ার খাতে তৈরি হওয়া শূন্য পদগুলো ব্রিটিশ কর্মীদের দিয়ে পূরণ করা যাচ্ছে না।

ইউনিসনের সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রেয়া ইগান বলেছেন, মাহমুদ যদি বিদ্রোহী এমপিদের কিছুটা ছাড় না দেন, তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে অনুষ্ঠিতব্য লেবার পার্টির সম্মেলনে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

লেবার এমপিদের ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জন্যও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর সংসদীয় কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ায় তার সরকারের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে এই অভিবাসন সংস্কার।

হোম অফিস জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে সরকার ঘোষণা করেছিল যে অধিকাংশ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতির সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। তবে যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম সময়ের পথ রাখা হবে।

হোম অফিস আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকারের পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পরামর্শের ফলাফল পর্যালোচনা করে যথাসময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর করা হবে, নাকি ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা কর্মী ও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। লেবার দলের অভ্যন্তরীণ চাপ যত বাড়ছে, এই সিদ্ধান্ত ততই বার্নহ্যাম সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ দ্য আই পেপার

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের চাপ ও উগ্র ডানপন্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত গ্লাসগো

দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাগত জানানোর শহর হিসেবে পরিচিত স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো এখন আশ্রয়প্রার্থী, আবাসন সংকট ও অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। শহরটিতে বর্তমানে ৩ হাজার ৯০০-এর বেশি আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন—যা ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি।

স্থানীয় পর্যায়ে আবাসনের তীব্র সংকটের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীদের এই ঘনত্ব যুক্ত হওয়ায় গ্লাসগোর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী কর্মীরা শহরে মিছিল করলে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় এক পণ্য সরবরাহকারী চালক বর্ণবাদী গালাগাল ও হামলার শিকার হন।

উত্তর গ্লাসগোর বিভিন্ন এলাকাতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসন ইস্যুতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে গ্লাসগোতে আশ্রয়প্রার্থীদের ঘনত্বের পেছনে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের পুনর্বাসন নীতি নয়, স্কটল্যান্ডের নিজস্ব গৃহহীনতা আইনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের অন্য অংশে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পর কিছু ব্যক্তি স্কটল্যান্ডের দিকে চলে আসছেন। এর অন্যতম কারণ, স্কটল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিলগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলগুলো একক ও ঝুঁকিমুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এ ধরনের আবাসন সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

ফলে যুক্তরাজ্যের একই অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় থেকেও স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে আবাসন সহায়তার ক্ষেত্রে ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে গ্লাসগোর মতো বড় শহরে, যেখানে আগে থেকেই আবাসনের সংকট রয়েছে।

গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শরণার্থী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে হাজার হাজার গৃহহীনতার আবেদন জমা পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। একই সঙ্গে হোম অফিস আশ্রয় আবেদনগুলোর দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ায় ভবিষ্যতে নতুন করে আবাসনের চাপ তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো। রিফর্ম ইউকের উপনেতা গ্লাসগোকে ‘যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের রাজধানী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্থানীয় অসন্তোষকে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে সামনে আনছেন।

তবে অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে। গ্লাসগোর কাউন্সিলর রোজা সালিহ জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এখন একা চলাফেরা করতেও ভয় পাচ্ছেন। বর্ণবাদী হামলার ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, স্কটল্যান্ডের অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্লাসগোর বর্তমান পরিস্থিতি মূলত দুটি ভিন্ন নীতির সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন ও পুনর্বাসন কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, অন্যদিকে আবাসন, গৃহহীনতা ও স্থানীয় সেবার বড় অংশের দায়িত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর। ফলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের চাপ গিয়ে পড়ছে স্থানীয় সরকারের ওপর।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের আবাসন আইনের পার্থক্য। কোনো ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের এক অংশে আবাসন সহায়তা না পেলেও অন্য অংশে তুলনামূলক বেশি সহায়তার সুযোগ পেলে অভ্যন্তরীণভাবে তাদের স্থানান্তর আরও বাড়তে পারে। এতে নির্দিষ্ট কিছু শহরের ওপর অসম চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্লাসগোর ঘটনাগুলো তাই শুধু একটি শহরের আবাসন সংকটের বিষয় নয়। এটি যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ অভিবাসন কাঠামোয় কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বণ্টন, আশ্রয়প্রার্থীদের পুনর্বাসন, আবাসন সক্ষমতা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা—সবকিছু নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়লে সামাজিক সম্প্রীতি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আবাসন সংকট ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রায় ১ লাখ অভিবাসী আনার অনুমতি পেয়েছিল অনিয়মে জড়িত কেয়ার প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাজ্যের কেয়ার খাতে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের ভিসা ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরবর্তীতে লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত বা অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো অভিবাসী কর্মীদের যুক্তরাজ্যে আনার জন্য অন্তত ৯৯ হাজার ৬৮৬টি স্পনসরশিপ সার্টিফিকেট (সিওএস) ইস্যু করেছিল।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কর্মীদের কম বেতন দেওয়া, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া চাকরির জন্য ভিসা স্পনসর করা এবং অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো প্রথমবারের মতো দেখাচ্ছে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে চালু হওয়া কেয়ার কর্মী ভিসা ব্যবস্থা কতটা ব্যাপকভাবে অপব্যবহারের শিকার হয়েছিল।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্পনসর লাইসেন্স স্থগিতের নোটিশ দেওয়া হয়। একই সময়ে ১ হাজার ৪৯টি কেয়ার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৯৭টি প্রতিষ্ঠান অন্তত একটি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। এর মধ্যে ৩৪৫টি প্রতিষ্ঠান ১০০ বা তার বেশি স্পনসরশিপ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছিল।

তবে প্রকৃত সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৬টির চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ পাঁচ বা তার কম সংখ্যক স্পনসরশিপ সার্টিফিকেট দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সরকারি নথিতে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মোট কত অভিবাসী কর্মী যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ পেয়েছেন, তা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তদন্তে কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। স্কটল্যান্ডের প্রিস্টিন হেলথকেয়ার গ্রুপ স্পনসর প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত হওয়ার সময় মাত্র একজন কর্মী নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। কিন্তু তিন বছরেরও কম সময়ে প্রতিষ্ঠানটি অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে আনার জন্য ১৬৩টি স্পনসরশিপ সার্টিফিকেট ইস্যু করে। হোম অফিসের তদন্তে দেখা যায়, যেসব পদে কর্মীদের স্পনসর করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু বাস্তবে অস্তিত্বই ছিল না। এমনকি কেয়ার কর্মী হিসেবে আসা কয়েকজনকে রান্নাঘর ও অফিসে কাজ করতে পাওয়া যায়।

আরেক প্রতিষ্ঠান জিওকেয়ার সার্ভিসেস-এর বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্পনসরশিপ সার্টিফিকেটে ঘোষিত বেতনের তুলনায় কর্মীদের উল্লেখযোগ্যভাবে কম অর্থ দিচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কর্মীরা কাজে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের কম বেতন দেওয়া হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কেয়ার প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স বাতিল হলে সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পনসর হওয়া অভিবাসী কর্মীদের সাধারণত নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন স্পনসর না পেলে তাদের অবস্থান অনিয়মিত হয়ে পড়তে পারে এবং যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

বিতর্কিত এই কেয়ার ভিসা ব্যবস্থা সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের সময়ে চালু হয়। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা পাওয়া বা প্রবেশের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যে সময়কে সমালোচকেরা ‘বোরিসওয়েভ’ নামে অভিহিত করেন। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী কেয়ার কর্মী ভিসা ব্যবস্থার আওতায় আসার পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিদেশ থেকে নতুন কেয়ার কর্মী নিয়োগের আবেদন বন্ধ করে দেয় লেবার সরকার।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ-এর প্রস্তাবিত অভিবাসন সংস্কারে কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা নিয়েও বিতর্ক চলছে। বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে কিছু বিদেশি কেয়ার কর্মীকে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে—এমন প্রস্তাব নিয়ে লেবার দলের ভেতরেই বিরোধিতা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক কেয়ার খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের এই কঠোর অভিবাসন নীতির কিছু অংশ থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোম অফিসের হিসাব অনুযায়ী, কেয়ার কর্মীদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ দিলে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ব্যয় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

কেয়ার খাতে অনিয়ম ঠেকাতে হোম অফিস ইতোমধ্যে শত শত প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মীদের শোষণ, ভুয়া চাকরিতে ভিসা স্পনসর এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

তবে এই তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে গুরুতর অনিয়মের দায়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে, তাদের এত বিপুলসংখ্যক অভিবাসী কর্মী আনার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল। অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা, স্পনসর প্রতিষ্ঠানের যাচাই এবং যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার তদারকি—তিন ক্ষেত্রেই সরকারি নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানের শাহেদ ড্রোন উৎপাদন

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত—ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ কামিকাজি ড্রোন আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম আলোচিত অস্ত্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে নতুন এক অনুসন্ধানে।

লন্ডনভিত্তিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইডার টেকনোলজিসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইরান সরাসরি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভর না করে চীন, হংকং ও দুবাইভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ড্রোনের ইঞ্জিন, ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য ডুয়াল-ইউজ উপাদান সংগ্রহ করছে।

শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ, কুদস এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ ও হেসা ইন্ডাস্ট্রিজের মতো ইরানি প্রতিষ্ঠানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি থামানো যায়নি। এর অন্যতম কারণ, ড্রোনের প্রতিটি উপাদান সরাসরি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

স্ট্রাইডারের অনুসন্ধানে ইরানি প্রতিষ্ঠান পার্স অ্যারো-এর সঙ্গে হংকংভিত্তিক ফক্সটেক হবিই এবং চীনের হুইশিংহাই টেকনোলজি-এর বাণিজ্যিক সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। হুইশিংহাইয়ের প্রকাশিত একটি ড্রোনের ছবিতেও শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।

এ ছাড়া হুইশিংহাই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ইউনিট-৬৩৬২৯-এর কাছ থেকে প্রশংসাপত্র পেয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে পার্স অ্যারোর দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় কার্যক্রম এবং চীনে পিইআই অ্যারোস্পেস গ্রুপ নামে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া গেছে।

ইরানের কৌশলের মূল শক্তি এখানেই। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি ব্যবহার না করে তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তর কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও উপাদান সংগ্রহ করছে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল বিচ্ছিন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে ডুয়াল-ইউজ প্রযুক্তি এই ব্যবস্থাকে আরও জটিল করেছে। বেসামরিক ড্রোনে ব্যবহারের উপযোগী ইঞ্জিন, ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ একইভাবে সামরিক ড্রোনেও ব্যবহার করা যায়। ফলে এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

স্ট্রাইডার বলছে, বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরানের ড্রোন কর্মসূচি শুধু নিজস্ব কারখানার ওপর নির্ভরশীল নয়; এর পেছনে রয়েছে সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত একটি সরবরাহ নেটওয়ার্ক।

ফলে শাহেদ-১৩৬ শুধু ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরও উদাহরণ। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সামরিক শিল্পকে আটকে রাখতে চাইছে, ইরান সেখানে বিকল্প বাণিজ্যিক পথ তৈরি করে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহের সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

আর এ কারণেই ইরানের ড্রোন উৎপাদন বন্ধ করা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয় নয়—বরং সেই নিষেধাজ্ঞার আড়ালে থাকা পুরো বৈশ্বিক সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

সূত্রঃ স্ট্রাইডার টেকনোলজিসের নিজস্ব প্রতিবেদন\ দ্য টাইমস

এম.কে