Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় এক মঞ্চে চীন-রাশিয়া-ভারত

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শুরু হয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন। সোমবার (৩১ আগস্ট) শুরু হওয়া এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনকে ঘিরে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতিতে বহুমেরুকেন্দ্রিকতার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এসসিও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির বছরে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০১ সালে নিরাপত্তা সহযোগিতার সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই জোট সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।

চীন ও রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসসিওকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কাঠামোর বাইরে বৃহত্তর বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার ধারণা এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সম্মেলনের পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। একই দিনে পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের দিন পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এসসিওকে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সংগঠনটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় একই মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও প্রত্যেক দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত অবস্থানকে অগ্রাধিকার দেয়।

ভারতের জন্য এবারের সম্মেলন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ থাকলেও নয়াদিল্লি এসসিওকে বহুপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া এসসিওর পরিধি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। চীনের দৃষ্টিতে সংগঠনটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বহুমেরুকেন্দ্রিকতার ধারণা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

এবারের সম্মেলনে ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশ সংলাপ অংশীদার হিসেবে এসসিওর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ফলে এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর উপস্থিতিতে বিশকেকের এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে চীন, রাশিয়া ও ইরানের চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে একই মঞ্চে এসব দেশের নেতাদের উপস্থিতি বিশ্বরাজনীতির শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এসসিওর সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থের ভিন্নতা এবং বিদ্যমান বিরোধের কারণে সংগঠনটি ভবিষ্যতে কতটা সমন্বিত ভূরাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্রঃ এপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের এখতিয়ার ভারতের নেইঃ আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত

১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার আইনি এখতিয়ার ভারতের নেই বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, চুক্তিটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন হতে এ তথ্য জানা গিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিন্ধু পানি চুক্তির অধীনে ভারতকে তার নিয়ন্ত্রণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে চুক্তির বাধ্যবাধকতা এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।

চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু রাটলে হাইড্রো-ইলেকট্রিক প্রকল্প (আরএইচইপি)। আদালত সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রকল্পটির বাঁধের দেয়াল ও বিদ্যুৎ গ্রহণ কাঠামোর নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপর কংক্রিট নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা বা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও আরও ৯০ দিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালের জুলাই নাগাদ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে রাটলে প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ভারতকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত রায় পর্যালোচনা করে সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় দুই দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইসলামাবাদ আরও জানিয়েছে, চুক্তির ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা এবং যৌথ কার্যক্রম কীভাবে শুরু করা যায়, তা নির্ধারণে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করা হবে।

১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি ব্যবহারের বিষয়ে দুই দেশের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিরোধের প্রধান আইনি কাঠামো হিসেবে কার্যকর রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পানি নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই সিদ্ধান্ত সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের পানি-সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

সূত্রঃ পিসিএ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফেরানোর বিরোধিতায় ১৩ সংগঠনের পিটিশন

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বা জাতীয় সেবা পুনরায় চালুর বিরোধিতায় দেশব্যাপী পিটিশন কর্মসূচি শুরু করেছে ১৩টি ব্রিটিশ শান্তি ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনগুলোর জোট সরকারের কাছে স্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেছে, তরুণদের জন্য কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ পুনরায় চালু করা হবে না।

ফোর্সেসওয়াচ, পিস প্লেজ ইউনিয়ন এবং কোয়েকার্স ইন ব্রিটেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে এই প্রচারাভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা তরুণদের নাগরিক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সুস্থতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আন্দোলনকারীরা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাকে ‘নৈতিকভাবে আপত্তিকর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, তরুণদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সামরিক দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের সম্ভাব্য দায়িত্ব তরুণদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও নৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক উত্তেজনাই এই প্রচারাভিযানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেনকে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং এর প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর পাল্টা জবাবের হুমকি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সেনাসদস্যের সংখ্যা এবং ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে জনবল নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

তবে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে ব্রিটিশ জনমত একেবারেই একমুখী নয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউগভের এক জরিপ অনুযায়ী, ৪০ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশদের ৩৮ শতাংশ জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলেও তারা সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন। এমনকি যুক্তরাজ্য সরাসরি আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলেও ৩০ শতাংশ তরুণ সামরিক সেবায় যেতে অস্বীকৃতি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে বিদ্যমান অনীহা ও বিভক্ত মনোভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের সময়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব এবং সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে।

শান্তি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে কূটনীতি, সংলাপ ও সংঘাত নিরসনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যত বাড়বে, ততই যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি যুদ্ধ প্রতিরোধের কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

পিটিশনটির মাধ্যমে সংগঠনগুলো সরকারকে আগাম অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মূল দাবি, বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের কোনো নিরাপত্তা সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনঃপ্রবর্তনের পথ যেন সরকার বন্ধ রাখে।

এদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা নীতিকে আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে পারে। ফলে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি এবং বাধ্যতামূলক সেনাসেবার বিরোধিতাকারী শান্তি সংগঠনগুলোর অবস্থানের মধ্যকার বিতর্কও সামনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ নেটওয়ার্ক ফর পিস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে জেল সংকট মোকাবিলায় আগাম মুক্তিঃ গুরুতর অপরাধীরা থাকছেন কারাগারেই

কারাগারে অতিরিক্ত চাপ কমাতে নির্ধারিত সময়ের আগে কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। তবে আগাম মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের অবাধে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ও নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, “মুক্তি মানেই স্বাধীনতা নয়।” আগাম মুক্তি পাওয়া অপরাধীদের জন্য বিভিন্ন বাধ্যতামূলক শর্ত থাকবে, যাতে তারা সমাজে ফিরে গেলেও তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা যায়।

ডমোস্টিক ভায়োলেন্সের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিপিএস ট্র্যাকিং ট্যাগ ব্যবহারের বিধান আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত জানতে পারবে।

এ ছাড়া অপরাধীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেস্ট্রিকশন জোন চালু করা হবে। অপরাধের ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তির ওপর পাব, কনসার্ট ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা এবং বাধ্যতামূলক কর্মসংস্থান বা কাজের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কারাগারের বাইরে থাকলেও অপরাধীরা যেন নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে থাকে এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

বর্তমানে ব্রিটেনের পুরুষদের কারাগারগুলো প্রায় ৯৮ শতাংশ ধারণক্ষমতায় রয়েছে। ফলে নতুন বন্দিদের জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কম ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত আগাম মুক্তির ব্যবস্থা কারাগারের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছে সরকার।

অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কারাগারে জায়গার অভাবে আদালত দোষী সাব্যস্ত গৃহস্থালি নির্যাতনকারীদের কারাদণ্ড দেওয়ার পরও তাদের জেলে পাঠাতে সমস্যায় পড়তে পারে।

তবে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডোমেস্টিক অ্যাবিউজ কমিশনার ডেম নিকোল জ্যাকবস। তিনি মনে করেন, শুধু সরকারি বিধিনিষেধ যথেষ্ট নয়; নির্যাতন থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন, গুরুতর অপরাধীদের আগাম মুক্তির সুযোগ দেওয়া হবে না। খুনি, ধর্ষক, শিশু যৌন অপরাধী এবং শিশুদের গ্রুমিংয়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবেন।

এর ফলে ২০১৯ সালে পুলিশ কনস্টেবল অ্যান্ড্রু হার্পার হত্যার ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি আগামী বছর আগাম মুক্তি পাবেন না।

কারাগারের ওপর চাপ কমাতে সরকার বিদেশি নাগরিক অপরাধীদের নিয়েও নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাজা ঘোষণার পর যত দ্রুত সম্ভব যোগ্য বিদেশি অপরাধীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।

বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারগুলোতে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের প্রত্যাবাসন করা গেলে কারাগারের জায়গা ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।

ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থায় আরও পরিবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সে সেন্টেন্সিং অ্যাক্টে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কারাগারের সীমিত সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, গুরুতর অপরাধীদের কারাগারে রাখা এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকির অপরাধীদের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত ও নজরদারির মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা।

ফলে আগাম মুক্তির এই নীতিতে একদিকে যেমন কারাগারের অতিরিক্ত চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে জিপিএস নজরদারি, চলাচলে বিধিনিষেধ ও কঠোর শর্তের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যবস্থাও জোরদার করছে ব্রিটিশ সরকার।

সূত্রঃ মিরর.পলিটিক্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

পুতিনের পরমাণু হামলার নিশানায় নরউইচঃ রুশ টিভির মানচিত্র ঘিরে ব্রিটেনে তীব্র আতঙ্ক

যুক্তরাজ্যের একটি শান্ত শহর নরউইচকে সম্ভাব্য রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় দেখানো হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। দেশটির সামরিক কৌশলবিদ মিখাইল খোদারিওনক ব্রিটেনের বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে না দেওয়ার কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের মানচিত্র দেখানো হয়। সেখানে লন্ডন ও বার্মিংহামের মতো বড় শহরের পাশাপাশি পূর্ব ইংল্যান্ডের নরউইচকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সামরিক কৌশলবিদ মিখাইল খোদারিওনককে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটেনে হামলার সম্ভাবনা নাকচ করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনকি তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বে থাকলে হামলা চালানোর পক্ষেই থাকতেন বলেও মন্তব্য করেন।

নরউইচ ইংল্যান্ডের নরফোকের একটি ঐতিহাসিক শহর। লন্ডন বা বার্মিংহামের মতো সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে বহুল আলোচিত শহরের সঙ্গে এর নাম সম্ভাব্য হামলার মানচিত্রে থাকায় বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

ডেইলি স্টার তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টিকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতেও তুলে ধরেছে। শহরটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, ফুটবল, পাব, গির্জা এবং স্থানীয় নানা ঐতিহাসিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে—নরউইচ ধ্বংস হলে ব্রিটেন হারাবে তার একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়।

নরউইচের সঙ্গে সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি হলো জনপ্রিয় কমেডি চরিত্র অ্যালান পার্ট্রিজ। স্টিভ কুগানের এই চরিত্রটি শহরটির সঙ্গে এতটাই সম্পৃক্ত যে ব্রিটিশ জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নরউইচের পরিচয়ের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

বিখ্যাত রাঁধুনি ডেলিয়া স্মিথও শহরটির পরিচিত মুখ। নরউইচ সিটি ফুটবল ক্লাবের ক্যারো রোড স্টেডিয়ামে তার উচ্ছ্বসিত সমর্থনের দৃশ্য ব্রিটিশ ফুটবল সংস্কৃতির আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি।

নরউইচের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত রয়েছে কোলম্যান’স মাস্টার্ড। ১৮১৪ সালে জেরেমিয়া কোলম্যানের প্রতিষ্ঠিত এই ব্র্যান্ড নরফোকের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

শহরটির আরও একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর পাব ও গির্জা। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে নরউইচের একসময়কার ৩৬৫টি পাব এবং ৫২টি গির্জার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নরউইচকে ঘিরে এই আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

২৭ আগস্ট রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন ব্রিটিশ সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে গেলে ইউক্রেনের ভেতরে ও দেশের বাইরে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম রুশ হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

রাশিয়ার এই হুমকির পেছনে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে সহায়তার বিষয়টি রয়েছে। মস্কো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অবস্থান জানিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের জলসীমায় রুশ নৌযানগুলোর গতিবিধিও ব্রিটিশ নৌবাহিনী নজরদারিতে রেখেছে। এসব ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে হুমকি, পাল্টা হুমকি এবং সামরিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা হলো, কোনো সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ বা ভুল হিসাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তিনি মনে করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর কোনো ভূখণ্ডে হামলা করবেন না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসন নিয়ে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

ফলে নরউইচের নামসহ রুশ টেলিভিশনে প্রচারিত মানচিত্রকে আপাতত সম্ভাব্য হামলার প্রচারণামূলক বা হুমকিমূলক উপস্থাপন হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত হামলার পরিকল্পনা হিসেবে নয়। তবে রাশিয়া–যুক্তরাজ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন সম্প্রচার যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তা স্পষ্ট।

সূত্রঃ ডেইলি স্টার.ইউকে

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সরকারি অর্থে ইসলামি স্কুলঃ সাত বছরের মেয়েদের হিজাব নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ

সাত বছর বয়সী মেয়েদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা একটি ইসলামি প্রাইভেট স্কুল সরকারি অর্থায়নে আসার খবরে লন্ডনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়েস্ট হেনডনের বারনেট হিল একাডেমি এতদিন স্বতন্ত্র ও ফি-নির্ভর ইসলামি স্কুল হিসেবে পরিচালিত হয়ে এলেও নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে এটি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রাথমিক ও নার্সারি স্কুলে রূপান্তরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

স্কুলটির বর্তমান পোশাকবিধি অনুযায়ী, তৃতীয় বর্ষ বা ইয়ার থ্রি থেকে মেয়েদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক। এতদিন এটি একটি বেসরকারি ইসলামি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মের অংশ ছিল। কিন্তু সরকারি অর্থায়নের আওতায় আসার পর সেই নিয়ম বহাল থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী একটি সংগঠন।

ন্যাশনাল সেক্যুলার সোসাইটি বারনেট কাউন্সিলের কাছে চিঠি দিয়ে স্কুলটির সরকারি অর্থায়নে রূপান্তর অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বিশেষ করে শিশুদের ওপর ধর্মীয় পোশাকের বাধ্যবাধকতা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ইভান্সের বক্তব্য, ধর্মীয় পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নারীদের নিজেদের স্বাধীন পছন্দের বিষয় হওয়া উচিত। ছোট বয়স থেকেই কোনো শিশুর ওপর এটি বাধ্যতামূলক করা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, “সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলগুলোর উচিত শিশুদের একত্রিত করা, ধর্মের ভিত্তিতে এবং এর মাধ্যমে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতেও তাদের বিভক্ত করা নয়।”

তবে এ বিতর্কের বিপরীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে—হিজাব পরতে বললে ক্ষতি কী? একটি ইসলামি স্কুলে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পোশাকবিধি অনুসরণ করা যদি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের নিজস্ব নিয়ম হয়, তাহলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেই নিয়ম রাখার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন কেন উঠবে—এমন যুক্তিও রয়েছে।

সমর্থকদের মতে, হিজাব পরার মাধ্যমে ছোট মেয়েরা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয় প্রকাশের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে শিশুদের ব্যক্তিগত পরিসর ও শালীনতার ধারণা গড়ে তুলতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করেন।

এতদিন বারনেট হিল একাডেমি ছিল একটি প্রাইভেট স্কুল। অর্থাৎ, সেখানে ভর্তি হওয়া পরিবারগুলো স্কুলটির শিক্ষাব্যবস্থা, মূল্যবোধ ও পোশাকবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল এবং ফি দিয়ে তাদের সন্তানদের পড়াত। সেই কারণে স্কুলের নিজস্ব নিয়মকে অনেকেই “প্রাইভেট স্কুল, প্রাইভেট নিয়ম” হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু সমস্যার জায়গাটি তৈরি হয়েছে স্কুলটির সরকারি অর্থায়নের আওতায় আসার পর। তখন রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাকের বাধ্যতামূলক নীতি কতটা গ্রহণযোগ্য—সেই প্রশ্নই এখন মূল বিতর্কের কেন্দ্রে।

বারনেট কাউন্সিল অবশ্য সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কাউন্সিলের দাবি, স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এমন একটি স্কুলের জন্য সুস্পষ্ট ও প্রমাণভিত্তিক চাহিদা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বারনেট এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি অর্থায়নে চার্চ অব ইংল্যান্ড, রোমান ক্যাথলিক ও ইহুদি স্কুল রয়েছে। কিন্তু মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য একই ধরনের ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সরকারি অর্থায়নের স্কুলের সুযোগ সীমিত ছিল। বেসরকারি স্কুলের ফি বহন করতে না পারা পরিবারগুলো এ সুযোগ থেকে কার্যত বাদ পড়ে যাচ্ছিল।

কাউন্সিলের যুক্তি, বারনেট হিল একাডেমিকে সরকারি অর্থায়নের আওতায় আনা হলে স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের একটি চাহিদা পূরণ হবে এবং তারা আর্থিক সামর্থ্য নির্বিশেষে নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষার সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী সংগঠনটির আশঙ্কা, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুলে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পোশাক শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হলে তা রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

স্কুলটির সরকারি অর্থায়নে রূপান্তরের বিষয়টি গত সপ্তাহে বারনেট কাউন্সিলের শিশু বিষয়ক সেবার নির্বাহী পরিচালক জন অ্যান্থনি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বারনেট হিল একাডেমির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
শীর্ষ খবর স্পোর্টস

জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘোষণা লিওনেল মেসির

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় জাতীয় দলের জার্সিতে আর না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

মেসি জানান, দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারজুড়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন তার আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে জাতীয় দলে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মেসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি বিদায়ী বার্তাটি লিখেছিলেন। তবে তার বাবার মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে তিনি আরও দৃঢ় হন।

বিদায়ী বার্তায় গত দুই দশক ধরে সমর্থনের জন্য আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মেসি। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য, কোচ, সতীর্থ ও জাতীয় দলের কর্মকর্তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শিরোপায় সমৃদ্ধ। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপ জয় করে। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০০৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদকও জেতেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন মেসি। তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পরই জাতীয় দল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সফল খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ শিরোপাখরা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয়।

বিদায়ী বার্তার শেষ দিকে মেসি আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের আবেগ প্রকাশ করে লেখেন, ‘ধন্যবাদ ঈশ্বর, আমাকে আর্জেন্টাইন করার জন্য। ভামোস আর্জেন্টিনা।’

মেসির বিদায়ের ঘোষণায় আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রায় দুই দশকের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন প্রশ্ন, তার অনুপস্থিতিতে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ও আক্রমণভাগের দায়িত্ব কে নেবেন এবং মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাফল্যের ধারাবাহিকতা আর্জেন্টিনা কতটা ধরে রাখতে পারবে।

সূত্রঃ রয়টার্স \ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

সৌদি–তুরস্ক–পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটের নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’: প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জোটটির স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেবেন পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা।

জোটের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গঠিত কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জোটের আনুষ্ঠানিক নাম নির্ধারণ, রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং প্রথম মহাসচিব নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামোর সূচনা হয়।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

হাকান ফিদান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি সম্মান রেখে জোটটি পরিচালিত হবে।

তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন। নতুন জোট এ অঞ্চলের অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জোটটিকে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিদান জানান, জোটের মৌলিক নীতির সঙ্গে একমত এমন আরও দেশকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা প্রস্তুত। অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তুরস্কের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মিসরসহ অন্যান্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আঙ্কারার আগ্রহ রয়েছে। ফলে তিন দেশের উদ্যোগটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চুক্তি ঘোষণার পর থেকেই জোটটির সম্ভাব্য লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনেকে মনে করছেন, ইরানকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রেও এই জোট ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—তিন দেশই জোটটি ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গঠিত হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তুরস্কের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ফিদান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণের ফলে ন্যাটো কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোট ও চুক্তির অধীনে তুরস্কের দায়িত্ব বাতিল বা পরিবর্তিত হবে না। নতুন জোট বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও সেনাপ্রধান জেনারেল সেলজুক বায়রাক্তারোগলু উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও সেনাপ্রধান জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল রুওয়াইলি অংশ নেন।

বৈঠকের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেন হাকান ফিদান। তিনি নেতানিয়াহু সরকারকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী নীতি অনুসরণের জন্য অভিযুক্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দখলদারিত্বের অবসানের পরিবর্তে বর্তমান ইসরাইলি সরকার যে নীতি অনুসরণ করছে, তা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু ফিলিস্তিন বা মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকের মধ্য দিয়ে জোটটি এখন আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, পাকিস্তানি মহাসচিব নিয়োগ এবং ভবিষ্যতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স \ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

খরচের চাপে ব্রিটেন ছাড়ছেন ব্রিটিশ পরিবারঃ মালয়েশিয়ায় বিলাসবহুল জীবন

যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেয়ে চার সন্তানসহ ছয় সদস্যের একটি পরিবার ব্রিটেন ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। উত্তর ইয়র্কশায়ারের হ্যারোগেটে মাসে ৮০০ পাউন্ডের মর্টগেজে তিন বেডরুমের টেরেস বাড়িতে বসবাস করা পরিবারটি এখন একই পরিমাণ অর্থে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সুইমিং পুল ও জিমসহ বড় আকারের বিলাসবহুল কনডোতে বসবাস করছে।

 

ফিবি উইলসন, তার স্বামী ও চার সন্তান গত জুলাইয়ে হ্যারোগেটের জীবন গুটিয়ে কুয়ালালামপুরে চলে যান। তাদের সন্তানদের বয়স পাঁচ, ছয়, ১৫ ও ১৮ বছর।

৪০ বছর বয়সী ফিবির দাবি, যুক্তরাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পরিবারের জন্য তা সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। বিশেষ করে দুই ছোট সন্তানের শিশু যত্নের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ পাউন্ড খরচ তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল।

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর সেই খরচ ব্যাপকভাবে কমে মাসে প্রায় ৪০০ পাউন্ডে নেমে এসেছে। অর্থাৎ শিশু যত্নেই তাদের মাসিক ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৩০০ পাউন্ড কমেছে।

শুধু চাইল্ড কেয়ার নয়, আবাসন খরচেও তারা বড় ধরনের পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে মাসে ৮০০ পাউন্ড ব্যয়ে তিন বেডরুমের একটি টেরেস বাড়িতে থাকলেও মালয়েশিয়ায় একই ৮০০ পাউন্ডে তারা আরও বড় একটি কনডো পেয়েছেন। আবাসিক কমপ্লেক্সটি গেট-নিরাপত্তাসম্পন্ন এবং সেখানে সুইমিং পুল ও জিমের মতো সুবিধাও রয়েছে।

খাবারের খরচেও এসেছে বড় পরিবর্তন। পরিবারটির সাপ্তাহিক বাজারের ব্যয় যুক্তরাজ্যে প্রায় ২২০ পাউন্ড ছিল। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র প্রায় ৪০ পাউন্ডে। একই সঙ্গে বাইরে একজনের পূর্ণাঙ্গ খাবারের খরচ কখনো কখনো মাত্র ১.৪০ পাউন্ডের মতো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফিবি।

চার সন্তানের জন্য দেশ পরিবর্তনটি অবশ্য সহজ ছিল না। ফিবি জানান, পাঁচ, ছয়, ১৫ ও ১৮ বছর বয়সী সন্তানদের জন্য এটি ছিল জীবনের বড় একটি পরিবর্তন। তবে নতুন পরিবেশে তারা দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে।

ফিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বসবাসের ফলে পরিবারটি শুধু ব্যয় কমানোর সুযোগই পায়নি, বরং তাদের কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্যও অনেক উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে মাস শেষে আগের তুলনায় বেশি অর্থ হাতে থাকছে।

নিজেদের বর্তমান জীবনযাপন সম্পর্কে ফিবি বলেন, “এটা জীবনযাপনের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পদ্ধতি। এটা সত্যিই অসাধারণ। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে এটাই আমাদের বাস্তব জীবন।”

পরিবারটির অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে যুক্তরাজ্যের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিশু যত্নের উচ্চ খরচ নিয়ে চলমান উদ্বেগকে। তাদের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় তুলনামূলক কম আবাসন, খাবার ও শিশু যত্নের ব্যয় পরিবারটির আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আমেরিকা প্রবাসে বাংলাদেশ

মেজর জেনারেল মনজুরের কন্যা কারিশমা মনজুর: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা

কারিশমা মনজুর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচিত নাম। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী সম্প্রতি নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে মার্কিন সিনেট নির্বাচনের জন্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর উত্থান শুধু মার্কিন রাজনীতিতেই নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ডায়াস্পোরার মধ্যেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর পরিবারের অতীত এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর শৈশবের গল্প তাঁকে আরও অনন্য করে তুলেছে।

 

কারিশমা মনজুরের জন্ম বাংলাদেশে। তাঁর বাবা ছিলেন মেজর জেনারেল মুহাম্মদ আবুল মনজুর—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ও নাটকীয় অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত এক সামরিক কর্মকর্তা। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে নিহত হওয়ার ঘটনার পর মনজুরকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং আত্মসমর্পণের পরপরই তাঁকে হত্যা করা হয়। এই মৃত্যু আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রহস্যময় ও বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এই ট্র্যাজেডি কারিশমা মনজুরের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং তাঁদের জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেয়।

পিতার মৃত্যুর পর কারিশমা মনজুরের মা সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক চাপের মধ্যে পরিবারটি বাংলাদেশ ত্যাগ করে নতুন জীবনের সন্ধানে আমেরিকায় পাড়ি জমায়। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের প্রথম জীবন ছিল সংগ্রামময়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন সমাজ—সবকিছুই তাঁদের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জ। কারিশমা মনজুরের মা ছিলেন দৃঢ়চেতা নারী। তিনি সন্তানদের নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাঁর এই সংগ্রামই কারিশমার শৈশবকে গড়ে তোলে।

কারিশমা মনজুর যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছেন। তাঁর শৈশব কেটেছে অভিবাসী পরিবারের বাস্তবতা, সংগ্রাম এবং নতুন সমাজে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মধ্য দিয়ে। তিনি স্কুলে ছিলেন মেধাবী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ খুব ছোটবেলা থেকেই স্পষ্ট ছিল। তাঁর ভাইবোনরাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত। পরিবারটি বাংলাদেশি মূল্যবোধ, শিক্ষা এবং মানবিকতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা কারিশমার রাজনৈতিক দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

 

বড় হয়ে কারিশমা মনজুর বিজ্ঞানী হিসেবে নিজের পথ তৈরি করেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে স্নাতক এবং ২০০৪ সালে মাউন্ট সিনাই স্কুল অব মেডিসিন থেকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি প্রযুক্তি নীতি, মানবাধিকার, শান্তি আন্দোলন এবং গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে কাজ করেন। তাঁর পেশাগত পরিচয় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিশ্বাসযোগ্য ও নীতিনিষ্ঠ কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ডই তাঁকে রাজনীতিতে প্রবেশের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি দেয়। পেশাদার বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি প্রায় ২০ বছর আলঝেইমার্স, মৃগীরোগ এবং বিষণ্নতার মতো রোগের চিকিৎসার ওপর গবেষণা করেছেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি একজন বিজ্ঞান লেখক হিসেবেও কাজ করেন।

রাজনীতিতে তাঁর উত্থান আসে গ্রাসরুটস আন্দোলন থেকে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার, জলবায়ু নীতি, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান, সুপার PAC নিষিদ্ধকরণ এবং গণতন্ত্র সংস্কারের মতো ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেন। প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট মনোনয়ন পেতে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় পরিচিত কংগ্রেসম্যান ক্রিস পাপাসের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক নির্বাচনে কারিশমা মনজুর প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে পাপাসকে পরাজিত করেন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিসিয়াল সিনেট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর সামনে এখন মূল নির্বাচন। সিনেট আসন নিশ্চিত করতে তাঁকে স্বাধীন ভোটার, মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট, তরুণ ভোটার এবং প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। সাধারণ নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক এবং ফলাফল সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী।

কারিশমা মনজুরের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী ডন বোলডুক। নিউ হ্যাম্পশায়ারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় রিপাবলিকান প্রার্থী সাধারণত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে, কারণ রাজ্যটি কখনও ডেমোক্র্যাটিক, কখনও রিপাবলিকান—দুই ধারার ভোটারই এখানে প্রভাবশালী।

 

বর্তমান জরিপ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী কারিশমা মনজুরের অবস্থান প্রতিযোগিতামূলক। সাম্প্রতিক নির্বাচনী জরিপে দেখা যাচ্ছে যে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোটারদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি দ্রুত বাড়ছে এবং প্রগতিশীল ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপে তাঁর নেট ফেভারেবিলিটি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে, যা তাঁকে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বিজয়ের পর জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

নির্বাচনী জরিপে আরও দেখা যায় যে স্বাধীন ভোটারদের একটি অংশ তাঁর নীতি‑অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছে, যদিও অনেক মধ্যপন্থী ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। রিপাবলিকান প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর অবস্থান ঘনিষ্ঠ এবং প্রতিযোগিতামূলক। ভোটারদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থনের পরিধিও বিস্তৃত হচ্ছে, যা তাঁকে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তবে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর। জরিপে তাঁর অবস্থান উন্নতির দিকে থাকলেও কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে, এবং চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে নির্বাচনী উপস্থিতি, স্বাধীন ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর।

নির্বাচনে জয়ী হলে কারিশমা মনজুর হবেন মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে বিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রথম নারী সিনেটর এবং সামগ্রিকভাবে প্রথম বাংলাদেশি‑আমেরিকান সিনেটর। তাঁর এই সম্ভাব্য অর্জন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে এসে বিজ্ঞান, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ট্র্যাজেডি বহন করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁর উত্থান ডায়াস্পোরার মধ্যে গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। তাঁর বিজয় হলে তা হবে বিজ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি, অভিবাসী নারীর ক্ষমতায়নের নতুন অধ্যায় এবং বাংলাদেশি‑আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

 

 

কারিশমা মনজুরের উত্থান বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশি‑আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, ডায়াস্পোরার রাজনৈতিক শক্তি নতুনভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ট্র্যাজেডির উত্তরাধিকার বহন করে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটছে। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিচ্ছেন—এটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।