Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ

আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের ‘গ্র্যান্ড মিলাদুন্নবী মাহফিল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জন্ম, অনুপম চরিত্র, মানবতার প্রতি ভালোবাসা এবং উম্মতের প্রতি তাঁর অসীম মমত্ববোধ স্মরণে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্য গ্র্যান্ড মিলাদুন্নবী মাহফিল ২০২৬’। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ মাহফিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত অনুসরণ, সুন্নাহর বাস্তবায়ন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নবীপ্রেম জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়ামে আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের উদ্যোগে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, শিক্ষক, কমিউনিটি নেতা, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সংগঠনের সদস্য এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।

মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সভাপতি ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউকের সভাপতি হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী। উপস্থাপনায় ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী এবং প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি মাওলানা খায়রুল হুদা খান। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা কয়েছ উজ জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর মহান চরিত্র এবং সীরাত অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একজন মুমিনের অন্তরের গভীরতম অনুভূতি এবং ঈমানের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রকাশ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাঁর কথা, কাজ, আচার-আচরণ, পারিবারিক জীবন, সামাজিক আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার, দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি মমতা এবং ন্যায়বিচার—সবকিছুই মানুষের জন্য অনুসরণীয়।

আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, ধৈর্য, দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার সর্বোত্তম আদর্শ। যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের প্রতিও তিনি ক্ষমা ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতিম, মিসকিন, দুর্বল, প্রতিবেশী এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ মানবতার ইতিহাসে অনন্য।

তিনি আরও বলেন, মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনকে স্মরণ করা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করা, তাঁর সীরাত আলোচনা করা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। শুধু মাহফিলে অংশগ্রহণ বা প্রশংসা করাই যথেষ্ট নয়; প্রকৃত রাসুলপ্রেম হলো তাঁর আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা।

বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উল্লেখ করে তিনি উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক ভালোবাসা ও নৈতিক উন্নতির জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে মহানবীর জীবন ও চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের অন্তরে রাসুলপ্রেম জাগিয়ে তোলা অভিভাবক, আলেম ও সমাজের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মাহফিলে বক্তব্য দেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সাবেক সভাপতি হযরত আল্লামা আবদুল জলিল। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন মানবতার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তাঁর সীরাত শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; বরং কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জীবন পরিচালনার পথনির্দেশ। তিনি মুসলমানদের নবীজির মহান চরিত্র নিজেদের জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।

লতিফিয়া উলামা সোসাইটির সভাপতি মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা শেহাব উদ্দিন বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন যত বেশি অধ্যয়ন করা হবে, তাঁর প্রতি ভালোবাসা তত গভীর হবে। মিলাদুন্নবী মাহফিলের অন্যতম তাৎপর্য হলো সীরাত ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নবীজির আদর্শে জীবন গঠনের প্রেরণা সৃষ্টি করা।

লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউকের সেক্রেটারি মুফতি আশরাফুর রহমান নবীজির ইরহাসাত তুলে ধরে বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা ও অনুসরণ করা। তিনি তরুণ প্রজন্মকে মহানবীর জীবনচরিত অধ্যয়নের প্রতি উৎসাহিত করেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম. এ. কাদির আল হাসান, দারুল হাদীস লতিফিয়াহর ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. আবদুল কাহহার, বায়তুল আমান মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালিক, লন্ডন ডিভিশনের সহসভাপতি মাওলানা আবদুল জলিলসহ আরও অনেকে।

মাহফিলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু আলেম, ইমাম-খতিব ও কমিউনিটি নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির সভাপতি মুফতি মাওলানা ইলিয়াস হুসাইন, আল ইসলাহর সহসভাপতি মাওলানা সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী, উপদেষ্টা ইমদাদ হুসাইন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, ওয়েলশ ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ, সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সদস্য কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, মাওলানা আবদুল আউয়াল হেলাল, মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুছ, বদরুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ হাজী আবদুস সালাম, সদরুল ইসলাম, মাওলানা মো. মুসলেহ উদ্দিন, দেওয়ান মনজুর আহমদ চৌধুরী, হাজী আবুল কাসেম, হাজী সিরাজ খান ও মিজান খানসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে হৃদয়গ্রাহী কিরাত পরিবেশন করেন কারী হুসাইন আহমদ। এরপর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে নাশিদ পরিবেশন করেন মাওলানা সুলতান আহমদ, মামুন রশিদ, আহমদ নিয়াজ ও কবির হুসাইন। তাঁদের সুমধুর পরিবেশনায় মাহফিলজুড়ে সৃষ্টি হয় গভীর আধ্যাত্মিক আবহ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দারুল হাদীস লতিফিয়াহর প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাওলানা আনহার আহমদ পবিত্র মিলাদ শরিফ পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা সম্মিলিতভাবে দরুদ ও সালাম পাঠ করেন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

মাহফিলের শেষ পর্যায়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মুসলমানদের জন্যও বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের স্মরণকে অর্থবহ করতে হলে তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে অন্তরে ধারণ করার পাশাপাশি তাঁর সীরাত অধ্যয়ন এবং সুন্নাহ ও মহান চরিত্রকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে মাহফিলে উপস্থিত প্রধান অতিথি, আলেম-উলামা, ইমাম-খতিব, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, অতিথি এবং সর্বস্তরের মুসল্লিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম সমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসা, সীরাতচর্চা, সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইসলামী মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

চারপাশে ধ্বংসস্তূপ, তবু অটুট বাড়ি—নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ‘অলৌকিক’ বেঁচে থাকার গল্প

হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেছে ঘরবাড়ি-সড়ক-সেতু; প্রবল স্রোতের মধ্যেও টিকে গেল ফিরোজা রঙের বাড়িটি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চারপাশের ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলেও আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত রয়েছে একটি ফিরোজা রঙের বাড়ি। নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজার এলাকায় অবস্থিত বাড়িটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ‘মিরাকল হাউস’ বা ‘অলৌকিক বাড়ি’ এবং ‘গ্রিন হাউস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রবল স্রোত, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও বাড়িটির মূল কাঠামো টিকে যাওয়ায় এটি এখন ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাড়িটির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে উপত্যকার দিকে নেমে আসে। এর ফলে সৃষ্টি হয় আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যা। বরফ, বিশাল পাথর, গাছপালা এবং বিপুল পরিমাণ কাদা নিয়ে প্রবল স্রোত ত্রিশুলি নদী ধরে নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই নদীর আশপাশের জনপদে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়।

বন্যার স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং দুর্গম অনেক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশুলি নদীর প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার নিম্নধারায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৯টি সেতু ও প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১০ শতাংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বন্যার ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ত্রিশুলি বাজারের ওই বাড়িটির ভিডিওতে। সেখানে দেখা যায়, বাড়িটির নিচের তলা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি ও কাদার স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তোড়ে দরজা-জানালা পর্যন্ত ভেঙে যাচ্ছে। চারপাশের স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলেও রিইনফোর্সড কংক্রিটে নির্মিত বাড়িটির মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে।

বাড়িটিতে বসবাস করেন ৪৫ বছর বয়সী প্রকাশ পাণ্ডে প্যাকুরেল, তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধ মা-বাবা। বন্যা আঘাত হানার সময় প্রকাশ ও তার স্ত্রী বাড়ির কাছের একটি দোকানে ছিলেন। তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে মাত্র ১৫ মিনিট আগে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। অন্যদিকে ১১ বছর বয়সী মেয়ে তখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

হঠাৎ চারদিক থেকে কাদা ও পানির ভয়াবহ স্রোত ধেয়ে আসায় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার মতো সময় ছিল না পরিবারের সদস্যদের হাতে। বাধ্য হয়ে প্রকাশ ও তার স্ত্রী দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা তারা বাড়ির ভেতরে আটকা ছিলেন।

প্রকাশের স্ত্রী জানান, চারদিক থেকে বরফ, কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষ বাড়িটিতে আঘাত করছিল। একপর্যায়ে বাড়িটি কাঁপতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মনে হচ্ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, তারা এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ সেই পরিস্থিতি থেকে তারা প্রাণে বেঁচে যান। পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি এখনো অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বাড়ির এক সদস্য লাল পতাকা উড়িয়ে আকাশে থাকা হেলিকপ্টারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও চীনে প্রাণহানি দ্রুত বাড়ছে। সোমবার ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায়, এটি সাধারণ কোনো বন্যা ছিল না। বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে প্রবাহিত স্রোত মুহূর্তের মধ্যে জনপদের ওপর আছড়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা কেশব প্রসাদ বারাল বলেন, স্রোতটি শুধু পানি ছিল না; বিশাল কাদার স্রোত তাদের দিকে ধেয়ে এসেছিল। স্ত্রীকে হাত ধরে বাঁচানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাকে সেই কাদার স্রোত থেকে রক্ষা করতে পারেননি বলে জানান তিনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহ স্রোত নেমে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্তত চারটি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যায়।

একদিকে যখন ত্রিশুলি নদীর তাণ্ডবে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখন সেই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও অক্ষত থাকা ফিরোজা রঙের বাড়িটি মানুষের নজর কেড়েছে। ভয়াবহ দুর্যোগের পরও বাড়িটির কাঠামো টিকে যাওয়ায় স্থানীয়দের কাছে এটি এখন শুধু একটি ভবন নয়—বরং মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এক বিস্ময়কর গল্পের প্রতীক।

সূত্রঃ এপি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের পানি দিচ্ছে না ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের কারাগারে পানি, গোসল, পরিষ্কার পোশাক ও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের অভিযোগের জবাব দিতে এবং তার সরকারের কঠোর কারা-নীতির পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বেন-গভিরকে ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে এক নারী বন্দি কারাগারের কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, টানা তিন দিন তারা গোসল করতে পারেননি। তাদের কাছে পরিষ্কার পোশাক নেই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হচ্ছে না।

বন্দিদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, নারী হিসেবে তাদের প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধাও পর্যাপ্তভাবে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের সেলে পর্যাপ্ত পানি এবং স্বাভাবিক গোসলের ব্যবস্থার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পরিবর্তে বেন-গভির তার সরকারের কঠোর কারা-নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দিদের আগের মতো ভালো পরিস্থিতি আর নেই এবং এই পরিবর্তনের জন্য তিনি নিজেই সরাসরি দায়ী।

বেন-গভির আরও বলেন, কারাগারে ভালো পরিস্থিতির দিন শেষ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর জন্য তিনি সরাসরি দায়ী এবং এই অবস্থায় তিনি সন্তুষ্ট।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের অভিযোগকে ‘হাহাকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, বন্দিদের জন্য কারাগারের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এ নীতি বাস্তবায়ন করতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও জানান।

বেন-গভিরের বক্তব্য ও ভিডিও প্রকাশের পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বন্দিবিষয়ক কমিশন বেন-গভিরের আচরণকে ‘বর্বরতা, ঘৃণা ও বর্ণবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের অভিযোগ, বন্দিদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞার প্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনায়।

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স ক্লাবও ভিডিওটি প্রকাশের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নারী বন্দিদের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা তাদের মানবিক মর্যাদার ওপর আক্রমণের শামিল।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও বেন-গভিরের সঙ্গে এক ফিলিস্তিনি নারী বন্দির কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই নারী বন্দি খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ করলে বেন-গভির তাকে বলেন, খাবার ভালো হওয়ার কথা নয় এবং এটি কোনো হোটেল নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে উগ্র ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত বেন-গভির ২০২২ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের জন্য কঠোর কারা-নীতি গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং বেন-গভিরের বক্তব্যকে ঘিরে কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে আচরণ, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ আরব নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মক্কায় প্রদর্শিত তৃতীয় হিজরির বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক এলাকার কোরআন জাদুঘরে প্রদর্শন করা হচ্ছে তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর একটি বিরল কোরআনের পাণ্ডুলিপি। প্রাচীন এই পাণ্ডুলিপিকে কোরআনের লিখিত সংরক্ষণ ও পাণ্ডুলিপি তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৩০ আগস্ট) পাণ্ডুলিপিটি প্রদর্শনের বিষয়টি জানা যায়।

প্রদর্শিত পাণ্ডুলিপিতে পবিত্র কোরআনের সূরা মারইয়ামের একটি অংশ রয়েছে। এটি প্রাণীর চামড়ার ওপর লাল কালি দিয়ে লেখা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—লেখাগুলোতে কোনো হরকত বা নুকতা ব্যবহার করা হয়নি।

প্রাচীন যুগের কোরআনের পাণ্ডুলিপিগুলোতে এ ধরনের হরকত ও নুকতাবিহীন লিপির ব্যবহার দেখা যায়। সে সময় আরবি লেখার প্রচলিত রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করা হতো।

এই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে কোরআনের লিখনপদ্ধতি কীভাবে সময়ের সঙ্গে বিকশিত হয়েছে, সে সম্পর্কে দর্শনার্থীরা ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে কোরআন কীভাবে লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হতো, সেই ইতিহাসও তুলে ধরা হচ্ছে।

মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো কোরআন জাদুঘর। এখানে কোরআনের ইতিহাস, বিভিন্ন যুগের পাণ্ডুলিপি এবং কোরআন সংরক্ষণের ঐতিহ্য দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়।

জাদুঘরে বিভিন্ন ধরনের বিরল পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক কোরআনের পাশাপাশি রয়েছে দৃশ্যভিত্তিক প্রদর্শনী এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা। এর মাধ্যমে কোরআনের ইতিহাস ও লিখিত ঐতিহ্যকে দর্শনার্থীদের কাছে আরও সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

হেরা সাংস্কৃতিক এলাকাটি হেরা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। ইসলামের ইতিহাসে এই স্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানকার হেরা গুহার সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা জড়িত।

ফলে হেরা সাংস্কৃতিক এলাকার কোরআন জাদুঘর শুধু একটি ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা নয়; এটি দর্শনার্থীদের কাছে কোরআনের ইতিহাস, ওহির ঐতিহ্য এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের জ্ঞানচর্চার সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানগত সংযোগ তৈরির সুযোগও করে দিচ্ছে।

বিশেষ করে মক্কায় আগত হজ ও ওমরাহযাত্রী এবং অন্যান্য দর্শনার্থীদের জন্য প্রাচীন কোরআনের পাণ্ডুলিপি দেখার সুযোগ ইসলামের লিখিত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর এই পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোরআনের প্রাচীন লিখনরীতি, পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ এবং ইসলামের প্রথম দিককার শতাব্দীগুলোর লিখিত সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক চিত্র দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

সূত্রঃ আরব নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’—কর্ণাটকের মন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র বিতর্কঃ পদত্যাগ দাবি বিজেপির

ভারতের কর্ণাটকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বাসবরাজ রায়ারেড্ডির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামকে ‘অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে বিরোধী দল বিজেপি মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়া অথবা পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কাছে মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

কোপ্পাল জেলার কুকনুরে একটি মুসলিম সম্প্রদায়ের গণবিবাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাসবরাজ রায়ারেড্ডি ইসলামকে মহান ও মানবিক ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম বিজ্ঞানভিত্তিক এবং মানুষকে কীভাবে জীবনযাপন করতে হয়, তা শেখায়। এরপর তিনি ইসলামকে অন্য ধর্মগুলোর তুলনায় শ্রেষ্ঠ বলে মন্তব্য করেন।

মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা ইসলাম সম্পর্কে জানেন না, তারা এ ধর্ম নিয়ে ভুল ধারণা ও ভুল মতামত তৈরি করেন। তার ভাষ্য, ইসলাম শ্রেষ্ঠ, কারণ এর ভিত্তি মানবতা। তিনি আরও বলেন, তিনি বিভিন্ন ধর্ম ও ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং এ কারণেই আব্রাহামিক ধর্মগুলোর প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে।

তবে এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কর্ণাটক বিজেপির সভাপতি আর অশোক মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের কাছে মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন। তার অভিযোগ, রায়ারেড্ডির মন্তব্য সনাতন হিন্দু ধর্মকে হেয় করেছে।

আর অশোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হিন্দু ধর্ম ও মন্দির সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার পরও তিনি কেন নীরব রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সরকারের কথিত ‘হিন্দুবিরোধী মানসিকতার’ কোনো শেষ নেই।

বিজেপির দাবি, বাসবরাজ রায়ারেড্ডিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে কর্ণাটকের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানালে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের উচিত তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া।

বিজেপির মুখপাত্র অশোক গৌড়াও মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, মন্ত্রী ও কংগ্রেস সরকার ভোটারদের তুষ্ট করার রাজনীতি করছে। তিনি বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পড়ার পর ধর্ম নিয়ে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান এবং রায়ারেড্ডিকে ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন বলে মন্তব্য করেন।

তবে বিতর্কের মধ্যে বাসবরাজ রায়ারেড্ডি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসলামকে একটি মহান ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করার মধ্যে কোনো ভুল নেই। তার দাবি, তিনি ইসলামের কিছু মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রশংসা করেছেন; অন্য কোনো ধর্মকে হেয় করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে অন্য কোনো ধর্ম নিকৃষ্ট।

রায়ারেড্ডি এর আগে সাবেক কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে ডি কে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় তিনি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।

মন্ত্রীর মন্তব্যের এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন কর্ণাটক সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। এর মাত্র দুই দিন আগে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকের মন্ত্রী বি নাগেন্দ্র পদত্যাগ করেন। একই ঘটনায় তার দ্বিতীয়বারের মতো মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘটনা ঘটে এবং বিজেপি এটিকে নিজেদের রাজনৈতিক চাপের ফল হিসেবে তুলে ধরেছে।

ফলে রায়ারেড্ডির মন্তব্য ঘিরে ধর্মীয় বক্তব্যের বিতর্কের পাশাপাশি কর্ণাটকের রাজনীতিতেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিজেপি তার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মকে অবমাননার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ বা অপসারণ দাবি করছে; অন্যদিকে মন্ত্রী বলছেন, তিনি অন্য কোনো ধর্মকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের পরবর্তী পদক্ষেপ।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

‘আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে’: প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির এমপির বিস্ফোরক অভিযোগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের ঘটনায় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। দ্রুত ওই চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সামনে ‘ঘোর অন্ধকার’ অপেক্ষা করছে।

রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের দাবি, গত শুক্রবার রাত থেকে মহাসড়কের ওই বিস্তৃত অংশে প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজট ছিল। এতে অসংখ্য যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারায় অনেক প্রবাসী তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটও মিস করেন বলে জানান তিনি।

পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধান ও ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভার্চ্যুয়াল সভা করেন বলে জানান বিএনপির এই সংসদ সদস্য।

সেলিম বলেন, ওই বৈঠকে হুইপের পাশে বসে পুরো আলোচনা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ তার হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এত বড় একটি ঘটনা এবং মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগের পরও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ‘বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা’ দেখতে পাননি।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানও ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। সেলিমের পোস্ট অনুযায়ী, হুইপ মনে করেন—সেতু সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরুর আগে সাধারণ মানুষকে আগাম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো প্রয়োজন ছিল।

আগেভাগে সংবাদপত্র, টেলিভিশনের স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংস্কারকাজের তথ্য প্রচার করা হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং ভয়াবহ যানজট এড়ানো সম্ভব হতো বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।

শাহাদাত হোসেন সেলিম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহির অভাবকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি এবং চরম দায়িত্বহীনতার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ আনেন। তার ভাষায়, প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রকে’ দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। সরকারকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি বারবার এসব বিষয় প্রকাশ্যে তুলে ধরছেন। তার মতে, সরকারের উচিত এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

শাহাদাত হোসেন সেলিম এর আগেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। গত আগস্টে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসররা’ অবস্থান করছেন এবং তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছেন।

রাজনীতিতে আসার আগে শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির এই সংসদ সদস্যের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানজটের ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যু, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ এবং প্রবাসীদের ফ্লাইট মিস করার অভিযোগ নতুন করে সড়ক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নকাজের সমন্বয় এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টি সামনে এনেছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নতুন ঋণ ১৮০ মিলিয়নঃ পুরোনো ঋণ শোধে ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার—দায় সামলাচ্ছে নতুন বিএনপি সরকার

আগের সরকারগুলোর সময়ে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের বোঝা এখন পরিশোধ করছে বিএনপির নতুন সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপরীতে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন করে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ এসেছে, তার চেয়ে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে চলে গেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেয়েছে, তার বিপরীতে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নতুন ঋণের অর্থের প্রায় আড়াই গুণ অর্থ পুরোনো দায় মেটাতে ব্যয় হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একদিকে নতুন প্রকল্পের জন্য অর্থছাড় কমছে, অন্যদিকে অতীতে নেওয়া বড় বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ফলে সরকারের ওপর বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের দায় ক্রমেই বাড়ছে।

ইআরডির তথ্য আরও বলছে, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাই মাসে ঋণ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই মাসে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মাসের এই হিসাব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র তুলে ধরছে। নতুন সরকারের সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ের তুলনায় আগের সময়ে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে আগের সরকারগুলোর সময়ে নেওয়া বিভিন্ন বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় এখন নিয়মিত আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে ওই ঋণগুলোর দায় বর্তমান সরকারের সময়ের বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এদিকে নতুন প্রকল্পে অর্থছাড় প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের অর্থ কম আসার বিপরীতে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার নিট প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জুলাইয়ের হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, শুধু এক মাসেই নতুন বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। নতুন ঋণ ও পুরোনো ঋণ পরিশোধের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার।

তবে কোন সরকারের সময়ে নেওয়া কোন ঋণের কত অংশ জুলাই মাসে পরিশোধ করা হয়েছে, ইআরডির প্রকাশিত এই তথ্য থেকে তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই পুরো ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারকে সরাসরি শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তারপরও অর্থনীতিতে এর তাৎপর্য স্পষ্ট—আগের কয়েক বছরের ঋণনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দায় এখন পরিশোধের পর্যায়ে এসেছে। ফলে নতুন সরকারকে একই সঙ্গে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের পরবর্তী মাসগুলোতে নতুন ঋণ ছাড়ের গতি এবং পুরোনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণই নির্ধারণ করবে বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের ওপর চাপ কতটা বাড়ে বা কমে। জুলাইয়ের হিসাব অবশ্য এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশ এখন শুধু নতুন ঋণ নেওয়ার পর্যায়ে নেই; একই সঙ্গে বড় অঙ্কের পুরোনো বৈদেশিক ঋণের দায়ও নিয়মিত শোধ করতে হচ্ছে।

সূত্রঃ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জুলাই ২০২৬-এর হালনাগাদ বৈদেশিক ঋণসংক্রান্ত তথ্য;

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক আমেরিকা

ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’র বিপরীতে কানাডার তীরে বিশাল ঘোষণা—‘লেক অন্টারিও, আছে এবং থাকবে’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের কড়া জবাব দিয়েছে কানাডা। লেকটির কানাডীয় অংশের তীরে বিশাল একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে—‘লেক অন্টারিও। আছে এবং থাকবে।’

বিবিসির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এই সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) তিনি সাইনবোর্ডটির সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

ডগ ফোর্ড বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার বহু আগে থেকেই এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও। এমনকি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার বহু পরেও এর নাম লেক অন্টারিওই থাকবে। কানাডা ও অন্টারিও নিজেদের স্বকীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে মাথা নত করেনি বলেই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষায়, ট্রাম্প কিংবা অন্য যে কেউকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে যে হ্রদটির নাম লেক অন্টারিও ছিল এবং চিরকাল তাই থাকবে।

লেকটির নাম নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে।

কানাডার পণ্যের ওপর ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং এর জবাবে কানাডার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার পর লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। ফলে বাণিজ্যিক বিরোধের পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক ভৌগোলিক নাম নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি কয়েকটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওও প্রকাশ করেছেন তিনি। একটি ভিডিওতে তাকে ‘লেক অন্টারিও’ লেখা একটি সাইনবোর্ড লাথি মেরে ফেলে দিয়ে সেখানে ‘ওয়েলকাম টু লেক আমেরিকা’ লেখা বোর্ড বসাতে দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে ট্রাম্পের মতো চুল এবং হাতে রাইফেল নিয়ে একদল রাজহাঁসকে হ্রদের উপকূল পাহারা দিতে দেখা যায়। এসব ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যেকোনো কিছুকে তার নিজস্ব সঠিক নামেই ডাকা উচিত। তার মতে, এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও এবং এটি লেক অন্টারিওই থাকবে।

উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত গ্রেট লেকসের মধ্যে লেক অন্টারিও সবচেয়ে ছোট। হ্রদটি কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় হ্রদটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিওসহ গ্রেট লেকসের চারটি প্রধান হ্রদের নামই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত শব্দ থেকে এসেছে। ফলে নামগুলোর সঙ্গে শুধু ভৌগোলিক পরিচয় নয়, ইতিহাস ও আদিবাসী সংস্কৃতিরও সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একক দেশ যৌথ জলসীমার নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করতে পারে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মেক্সিকো তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।

লেক অন্টারিও নিয়ে সর্বশেষ এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান তাই শুধু একটি হ্রদের নাম নিয়ে বিতর্ক নয়; এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্যিক বিরোধ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ উদ্যোগের বিপরীতে কানাডার তীরে স্থাপিত বিশাল সাইনবোর্ড যেন সরাসরি জানিয়ে দিল—কানাডার কাছে এর নাম বদলানোর প্রশ্নই নেই।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠান বন্ধ, ‘বিতর্ক’ এড়াতে পুলিশের কড়া সিদ্ধান্ত

নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কয়েকজন বক্তার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি।

‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে এফসিসি। বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ ছিল এর সহযোগী আয়োজক। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা।

তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে লিখিতভাবে ‘কিছু বিতর্ক’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানটির সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির নাম থাকায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবী।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানিসহ আরও কয়েকজনের। চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজেরও অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল।

আলোচনা সভার একটি অংশে প্রশ্নোত্তর পর্বও নির্ধারিত ছিল। ফলে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। তবে এটি দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়।

এর আগে ৫ আগস্ট একই ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে এ ধরনের ‘অবাঞ্ছিত প্ররোচনা’ বন্ধের নিশ্চয়তা চাওয়া এবং শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও জোরালো করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিকবার জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্য ভারত সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

এবার আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল হওয়ায় বিষয়টি কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন কোনো বিতর্কে না জড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই হয়তো দিল্লি পুলিশ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যার বিষয়ে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবের সভাপতি ওয়াইল আওয়াদও অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিলের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, আয়োজনটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা এবং কেন দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

সব মিলিয়ে, একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি বাতিলের ঘটনাটি শুধু একটি অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ নিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রশ্ন। ফলে দিল্লি পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

তবে কি জট খুলতে যাচ্ছে রহস্যঘন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের এক যুগের বেশি সময় পর তদন্তে নতুন করে রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ যোগাযোগের সূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মূল তদন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা করছে না; মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ক্লু সামনে এসেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা অনেক সময় অন্য ঘটনার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেয়ে থাকেন। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও তেমন একটি সূত্র পাওয়া গেছে। মামলাসংশ্লিষ্ট কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় ওই ‘কানেকশন’ শনাক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে এখনই ওই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আরও তদন্তের পর তথ্যটি প্রামাণিক পর্যায়ে পৌঁছালে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তা শেয়ার করা হতে পারে।

এর আগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।

জোহা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হত্যাকাণ্ডের আগেই র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের কাছে তথ্য ছিল। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল—‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’ তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তাকে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। পরদিন সকালে ওই কর্মকর্তা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন।

এই বক্তব্যের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছে না। পিবিআই বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্য একটি তদন্তে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে এই মামলার তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী সাংবাদিক মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা এরই মধ্যে ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রথমদিকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবের কাছে ছিল। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মামলাটির তদন্ত কাঠামোয় পরিবর্তন আসে।

২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে আগের আদেশ সংশোধনের জন্য। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে গঠিত হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স। পরবর্তী দেড় বছরে আদালত থেকে তিন দফা সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ওই অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে তুলে ধরেন।

তবে দীর্ঘ তদন্তের পরও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। এর মধ্যেই এবার সিডিআর বিশ্লেষণ থেকে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ‘কানেকশন’ পাওয়ার দাবি সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা।

তবে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি এখনো তদন্তাধীন একটি সূত্র মাত্র। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য তিনি দেননি। তদন্তে পাওয়া যোগাযোগের সূত্র শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্রঃ এনডিটিভি প্রতিবেদন

এম.কে