Categories
বাংলাদেশ

কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা ছাড়াই দক্ষিণ কোরিয়ার ই-৭-৪ ভিসার সুযোগঃ বড় সুবিধা পাচ্ছেন বাংলাদেশি কর্মীরা

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য দক্ষ কর্মী ভিসায় যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সাময়িকভাবে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে এখন কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা বা ভাষার সনদ ছাড়াই ই-৭-৪ দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিষয়টি জানিয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা বা ভাষার সনদ ছাড়াই ই-৭-৪ ভিসার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। তবে আবেদনকারীকে ‘কে-পয়েন্ট ই-৭-৪’ পয়েন্ট ব্যবস্থায় মোট ৩০০ পয়েন্টের মধ্যে অন্তত ১৫০ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।

তবে ভাষার যোগ্যতার এই ছাড় স্থায়ী নয়। ই-৭-৪ ভিসা নবায়নের সময় আবেদনকারীকে কোরিয়ান ভাষার সনদ জমা দিতে হবে। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের দক্ষিণ কোরিয়ায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও ভাষাগত যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

ই-৭-৪ ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে গত ১০ বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সাধারণভাবে অন্তত চার বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা প্রয়োজন হলেও কর্মস্থলের অবস্থান অনুযায়ী এ শর্তে ছাড় রয়েছে।

রাজধানী সিউলের বাইরে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে অন্তত তিন বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকলে যোগ্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আর জনসংখ্যা কম এমন নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করলে অন্তত দুই বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।

এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে তার বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে এক বছর কাজ করতে হবে। আবেদনের সময় নিয়োগকর্তার সুপারিশপত্র এবং বছরে কমপক্ষে ২৬ মিলিয়ন ওন বেতনের ভিত্তিতে দুই বছরের চাকরির চুক্তিপত্রও প্রয়োজন হবে।

সাধারণ নিয়মে ই-৭-৪ ভিসার জন্য ‘কে-পয়েন্ট’ ব্যবস্থায় ২০০ পয়েন্ট প্রয়োজন হয়। কিন্তু চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত কোরিয়ান ভাষার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়ায় অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা ১৫০ পয়েন্ট থাকলেও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে ই-৯ ভিসায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকরা সর্বোচ্চ চার বছর ১০ মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ পান। অন্যদিকে, ই-৭-৪ দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ভিসা হওয়ায় এই ভিসায় পরিবর্তন করতে পারলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস ও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

ফলে কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষায় সাময়িক এই ছাড় ই-৯ থেকে ই-৭-৪ ভিসায় পরিবর্তন করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রয়োজনীয় কর্মঅভিজ্ঞতা, বেতন, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়মটি ভিসা পরিবর্তনের পথ কিছুটা সহজ করতে পারে।

তবে শুধু ১৫০ পয়েন্ট অর্জন করলেই ই-৭-৪ ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীর কর্মঅভিজ্ঞতা, বর্তমান চাকরির মেয়াদ, বেতন, নিয়োগকর্তার সুপারিশ এবং অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে।

ভিসা ও আবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ইমিগ্রেশন কনট্যাক্ট সেন্টার ১৩৪৫ অথবা এইচআরডি কোরিয়া সেন্টার ১৫৭৭-০০৭১-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদন করার আগে প্রত্যেক কর্মীর নিজের পয়েন্ট, কর্মঅভিজ্ঞতা, বর্তমান চাকরির মেয়াদ, বেতন এবং নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না যাচাই করা জরুরি।

সূত্রঃ দক্ষিণ কোরিয়ার মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা (এইচআরডি কোরিয়া), দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থানঃ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চীনের সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদার করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে একটি কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

চীনের জিয়াংসি প্রদেশে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে গত ২৮ আগস্ট এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং জিয়াংসি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ঝেং পেংউ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তির আওতায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ তৈরি, কারিগরি শিক্ষা নিয়ে গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বয়, বাংলাদেশে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ, চীনে শিক্ষা সফর এবং কারিগরি শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও অংশীদারত্ব গড়ে তুলে তরুণদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।

শিক্ষা বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, এই সহযোগিতার লক্ষ্য শুধু একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে থেমে থাকা নয়; বরং শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা।

সম্মেলনে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ বৃত্তিমূলক শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ‘চীনা ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন’ সহযোগিতা কেন্দ্র—এই তিনটি প্ল্যাটফর্মও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন চীনের শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও শিল্প উন্নয়নের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বলেছেন, বাংলাদেশ চীনের শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগভিত্তিক মডেল থেকে শিক্ষা নিতে চায়। তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্য সরকারের।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক উৎপাদনশিল্পসহ দ্রুত পরিবর্তনশীল বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। ফলে শুধু সাধারণ শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির পথে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ জ্ঞান হস্তান্তর, আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং উন্নত মানদণ্ড গ্রহণের সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তুলতে এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষা, যৌথ বৃত্তি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষকদের পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে শুধু চুক্তি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেই এর সুফল নিশ্চিত হবে না। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, প্রশিক্ষকদের মান উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারলেই এই উদ্যোগ কার্যকর হবে।

সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতার নতুন এই অধ্যায় দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

‘ইউরোপকে পারমাণবিক যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর ছক’—যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে রাশিয়ার ভয়ংকর সতর্কবার্তা

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্র এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কোর অভিযোগ, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে প্রশ্ন তুলছে, তার আড়ালে ইউরোপে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত আন্দ্রে বেলোউসভ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন।

বেলোউসভের দাবি, রাশিয়ার তৈরি সাধারণ বা তুলনামূলক ছোট আকারের পারমাণবিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি করে না। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার রাশিয়ার এসব অস্ত্রের সক্ষমতা ও মজুত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুশ এই কূটনীতিকের মতে, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত বিষয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

তার অভিযোগ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের যে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও যেসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন বা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, সেসব নিয়ে আলোচনা আড়াল করতেই রাশিয়ার অস্ত্রভাণ্ডারকে সামনে আনা হচ্ছে।

আন্দ্রে বেলোউসভ আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা ও মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

তার অভিযোগ, এর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস বা দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া।

বেলোউসভের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া যদি নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয় কিংবা এ ধরনের অস্ত্র সরিয়ে নেয়, তাহলে ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো বাধা থাকবে না।

রাশিয়ার এই বিশেষ দূত অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর ভূখণ্ডকে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

তার দাবি, ইউরোপে মার্কিন সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ কারণে ওয়াশিংটনের নীতির সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার বক্তব্য, পারমাণবিক অস্ত্র ঘিরে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনার প্রকৃত উদ্দেশ্য গভীরভাবে বিবেচনা করা এবং নিজেদের নিরাপত্তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো পাল্টা বক্তব্য বা ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইউরোপে পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিরোধ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রশ্নটি ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ আরটি\আনাদোলু এজেন্সি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ সিলেট

সিলেটে ভয়াবহ লোডশেডিংঃ ২৪ ঘণ্টায় ৮ ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ

তীব্র গরমের মধ্যে সিলেটজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। রোববার সকাল থেকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। দিনের অর্ধেকেরও কম সময় বিদ্যুৎ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, রোগী ও শিক্ষার্থীরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বাসাবাড়িতে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। মার্কেট, দোকানপাট ও শপিং মলে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।

জিন্দাবাজারের বারুতখানা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বলেন, ‘কারেন্ট নাই। ইলা একটা দেশ চলতে পারে?’ তার মতো নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পড়াশোনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎপাদন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, উৎপাদন কম থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। তবে রোববার রাত থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সিলেটের উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, বিষয়টি তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ফলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।

নগরীর পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও একই ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সমস্যায় পড়েছেন।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে আট ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেটে আন্দোলনেও নেমেছেন গ্রাহকদের একটি অংশ। গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে রোববার বিকেল ৩টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর ‘আর্থিক জুলুমের’ অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে চলমান লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে কোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, একদিকে বিদ্যুতের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সিলেটের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। বিশেষ করে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে নগর ও গ্রামাঞ্চলে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ সিলেটভিউ২৪.কম

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মার্কিন বাহিনীকে ‘পালাতে’ বলল ইরানঃ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু

ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে তেহরান। জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানের পাল্টা হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন হামলার পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের শক্তি ও ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে ‘পালিয়ে যেতে’ সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় ইরানি সামরিক সদস্যদের মধ্যে হতাহত হয়েছে। হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বাহিনীটি হুঁশিয়ার করে, আগ্রাসনকারীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে রকেট নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করা কিছু উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করেই মার্কিন হামলা চালানো হয়েছিল।

ঘটনার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানও। গত ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে অন্য পথে এগোতে পারে।

কিন্তু সেই প্রত্যাশার বিপরীতে রোববার দিবাগত রাতে ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ইরানের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশেষ করে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কী পরিমাণ হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা কি মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশ ও সামরিক স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়বে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন করে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইসরায়েল \এপি/রয়টার্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে নবজাতক কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যুঃ হত্যার সন্দেহে ৭ জন গ্রেপ্তার;

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে একটি বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার সন্দেহে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

রোববার ৩০ আগস্ট ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটের দিকে শেফিল্ডের উইনকোব্যাংক এলাকায় একটি নবজাতক শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে কর্মকর্তারা হোলিওয়েল হাইটসের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও প্যারামেডিকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নবজাতক কন্যাশিশুটিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ঘটনার পরপরই পুলিশ এটিকে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহে তদন্তের আওতায় নেয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের বয়স সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দা প্রধান পরিদর্শক এমা নাইট। তিনি বলেন, নবজাতক শিশুটির মৃত্যুর খবর স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।

এমা নাইট আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্তের এই পর্যায়ে পুলিশ তাদের বয়স-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে।

পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তদন্ত এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে বা ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান বা জল্পনা না করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। তথ্য দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনাটির পেছনের পরিস্থিতি এবং গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক কী—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখছে দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশ।

সূত্রঃ দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশ, স্কাই নিউজ ও আইটিভি নিউজ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

চট্টগ্রাম-বেলফাস্ট ‘সিস্টার সিটি’ হওয়ার পথেঃ নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক এবার জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি শহর ও স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়েও নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ শহর বেলফাস্টের মধ্যে সম্ভাব্য ‘সিস্টার সিটি’ অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম বেলফাস্টের লর্ড মেয়র কাউন্সিলর রোয়িস-মারি ডনেলির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও বেলফাস্টের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বেলফাস্ট ও চট্টগ্রামের মধ্যে সম্ভাব্য ‘সিস্টার সিটি’ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। এমন অংশীদারত্ব কার্যকর হলে দুই শহরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প এবং নাগরিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও বন্দরনগরী। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শহরটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে বেলফাস্ট উত্তর আয়ারল্যান্ডের অন্যতম প্রধান নগরী এবং ব্যবসা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।

দুই শহরের সম্ভাব্য অংশীদারত্ব তাই অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগ সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ও বেলফাস্টের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচনায় সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই শহরের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সৃজনশীল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিভিন্ন আয়োজন এবং যৌথ সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বা নাগরিক পর্যায়ের বিনিময় বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরভিত্তিক অংশীদারত্বের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ নয়, শিক্ষার্থী, তরুণ, সংস্কৃতিকর্মী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

বেলফাস্টে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বেলফাস্টের বৈচিত্র্য, জাতিগত সম্প্রীতি ও শক্তিশালী কমিউনিটি নেটওয়ার্কের প্রতি স্বাগত জানান।

বাংলাদেশি কমিউনিটি যাতে বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত থাকতে পারে এবং প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহযোগিতা পেতে পারে, সে বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারেও দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

বেলফাস্টের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কমিউনিটির যোগাযোগ শক্তিশালী হলে সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক আয়োজন, নাগরিক সেবা এবং বিভিন্ন কমিউনিটি উদ্যোগে সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম-বেলফাস্টের সম্ভাব্য ‘সিস্টার সিটি’ সম্পর্ককে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবায়িত হলে এটি দুই শহরের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও নাগরিক পর্যায়ের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও সুসংগঠিত করার একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই সম্পর্কের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, শহর ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

চট্টগ্রাম ও বেলফাস্টের সম্ভাব্য অংশীদারত্ব সেই বৃহত্তর সম্পর্ককে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা দুই শহরের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এখনো চট্টগ্রাম-বেলফাস্ট ‘সিস্টার সিটি’ সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন নয়। বিষয়টি দুই পক্ষের আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এই অংশীদারত্ব বাস্তব রূপ পেতে পারে।

চট্টগ্রাম ও বেলফাস্টের মধ্যে এই সম্ভাব্য সম্পর্ক বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন—প্রকাশিত সরকারি তথ্য

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন অভিযানে ডেলিভারি রাইডারদের ওপর বড় ধরপাকড়ঃ ১৫১ গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান অভিযানে ডেলিভারি রাইডারদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪৮২ জন খাবার সরবরাহকারী রাইডারকে থামিয়ে তাদের পরিচয় ও যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধতা যাচাই করা হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযানে থামানো প্রতি ১০ জনের বেশি রাইডারের মধ্যে অন্তত একজন অবৈধভাবে কাজ করছিলেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৭ জনকে দ্রুত যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযানকে অবৈধ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে ডেলিভারি অ্যাপের অ্যাকাউন্ট ভাগাভাগির বিষয়টি। অভিযোগ রয়েছে, কাজের বৈধ অনুমতি না থাকা কিছু ব্যক্তি বৈধ রাইডারদের অ্যাকাউন্ট ধার নিয়ে কিংবা অবৈধভাবে ভাগাভাগি করে খাবার সরবরাহের কাজ করছিলেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ও কাজের অনুমতির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করতেন।

ডেলিভারি খাতে অ্যাকাউন্ট ভাগাভাগির এই প্রবণতা ঠেকাতে এখন প্রযুক্তিগত যাচাইব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। ডেলিভারু, উবার ইটস ও জাস্ট ইটের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে বিনিয়োগ করছে। কোনো ব্যক্তি নিজের পরিবর্তে অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও দায়িত্ব বাড়ছে। শুধু রাইডারকে শনাক্ত করাই নয়, প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজ করা ব্যক্তির কাজের বৈধ অনুমতি রয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

নতুন বিধানের আওতায় ১ অক্টোবর থেকে ডেলিভারি ও গিগ অর্থনীতির প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কোনো অনিবন্ধিত বা অবৈধ কর্মী সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে শনাক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতি কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে।

সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ডেলিভারি খাতে কর্মরত রাইডারদের জন্য কাজের অনুমতি, বৈধ পরিচয় এবং নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কাজ করার সুযোগ কমাতে প্ল্যাটফর্মগুলোকেও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হচ্ছে।

এর আগে পৃথক এক অভিযানে মাত্র সাত দিনে ১৭১ জন ডেলিভারি রাইডারকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছিল যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ৬০ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আটক রাখা হয়েছিল। ওই অভিযানে লন্ডনের নিউহ্যাম এলাকায় বাংলাদেশি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজন রাইডার গ্রেপ্তারের কথাও সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক অভিযানগুলো থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, যুক্তরাজ্য সরকার এখন গিগ অর্থনীতির খাতকেও অভিবাসন আইন প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে খাবার সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও কাজের অনুমতি যাচাইয়ের পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ভাগাভাগির মতো অনিয়ম বন্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো কাজের বৈধ অনুমতি ছাড়া কেউ যেন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে আয় করতে না পারেন। একই সঙ্গে ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পরিচয় যাচাইয়ের দুর্বলতার কারণে অবৈধ কর্মীদের কাজের সুযোগ করে না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের ডেলিভারি খাতে অভিযান, পরিচয় যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের নতুন ভ্রমণ নিয়মে বিপাকে দ্বৈত নাগরিকরাঃ ইতালিতে সন্তানকে রেখে একাই ফিরলেন মা

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নথির নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এখন শুধু অন্য দেশের বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার সুযোগ আর আগের মতো নেই। ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণের সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ দিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার প্রমাণ করতে হচ্ছে। 
এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবের মুখে পড়ে একটি পরিবারকে ইতালিতে ১২ দিন আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালীয় নাগরিক মারিকা ভেরোকা তার চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে ইতালি থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় বিমানযাত্রায় বাধার মুখে পড়েন। শিশুটির কাছে শুধু ইতালীয় পাসপোর্ট থাকায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে ভেরোকাকে তার পরিবারকে ইতালিতে রেখে একাই যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে হয়। পরে ছেলেকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি নথিপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারটি আরও ১২ দিন ইতালিতে আটকে থাকে।
নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ভ্রমণের আগে তাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বা যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার যাচাই করা। ব্রিটিশ নাগরিকরা সাধারণভাবে ইলেকট্রনিক
ভ্রমণ অনুমতিপত্রের আওতাভুক্ত নন। ফলে অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করলেও তাদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি থাকতে হবে।
এর আগে অনেক দ্বৈত নাগরিক, বিশেষ করে যাদের দ্বিতীয় দেশের নাগরিকত্ব এমন দেশের যেখানে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন হতো না, তারা শুধু বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করতেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই দীর্ঘদিনের প্রচলিত সুবিধা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করা। তবে ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকলে বিদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে এই সনদ ডিজিটাল পদ্ধতিতেও দেওয়া হচ্ছে এবং এটি যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অধিকার প্রমাণ করে।
তবে এই বিকল্প ব্যবস্থাও ব্যয়বহুল। ব্রিটিশ সংসদের গবেষণা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’-এর ফি ৫৮৯ পাউন্ড। পাশাপাশি আবেদন প্রক্রিয়ায় সময়ও লাগতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিয়মটি সম্পর্কে অনেক দ্বৈত নাগরিকের পর্যাপ্ত সচেতনতা না থাকায়। ব্রিটিশ সরকার বলছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই দ্বৈত নাগরিকদের বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ নিয়ে ভ্রমণের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ব্রিটিশ সংসদের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দ্বৈত নাগরিক ২০২৬ সালের শুরুতে গণমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার আগে এই পরিবর্তন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রী বিমানে ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি যাচাই করতে হয়। কোনো দ্বৈত নাগরিক নিজের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে বিমান সংস্থা তাকে বিমানে উঠতে না-ও দিতে পারে। ফলে বিদেশে থাকা পরিবারগুলো ব্রিটিশ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া হঠাৎ ভ্রমণ সংকটে পড়তে পারে।
এ ধরনের ঘটনায় শুধু মানসিক ভোগান্তিই নয়, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা পুনরায় বুকিং, জরুরি নথি সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার খরচ মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ব্যয় কয়েক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিবহন সংস্থাগুলোকে সীমিত সময়ের জন্য বিকল্প নথি গ্রহণের বিষয়ে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংসদের গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ১৯৮৯ সালের পর ইস্যু করা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্টের সঙ্গে বৈধ বিদেশি পাসপোর্ট থাকলে কিছু পরিবহন সংস্থা নিজস্ব বিবেচনায় যাত্রীকে বিমানে উঠতে দিতে পারে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয় এবং এর ওপর নির্ভর করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা নিরাপদ নয়।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষ্পত্তি প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু ব্যক্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের যুক্তরাজ্যের ভিসা-অবস্থা বৈধভাবে যুক্ত থাকলে বিদেশি পাসপোর্ট বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভ্রমণের সুযোগ থাকতে পারে।
ইতালিতে আটকে পড়া এই পরিবারের ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগের গল্প নয়; এটি বিশ্বজুড়ে বসবাসকারী ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে ফেরার অভ্যাস থাকা নাগরিকদের ভ্রমণের আগে নিজেদের ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিক পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। কোনো শিশু ব্রিটিশ নাগরিক হলে তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্রিটিশ ভ্রমণ নথি বা উপযুক্ত ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ আগে থেকে নিশ্চিত না করলে বিদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় পরিবারকে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব নির্দেশনাতেও দ্বৈত নাগরিকদের সন্তানদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথির জন্য আগাম আবেদন করার কথা বলা হয়েছে।
সূত্রঃ গভ.ইউকে
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পরিবারের ঘরে ভয়াবহ ডাকাতিঃ মা’কে বাঁচাতে ৫ বছরের শিশুর আকুতি

যুক্তরাজ্যের বিরকেনহেডে একটি পরিবারের বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তার মা-বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার অভিযোগে ২৯ বছর বয়সী হানিফ চৌধুরীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি বরো রোডের একটি ফ্ল্যাটে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় শিশুটির মায়ের গলায় ছুরি ধরে রাখা হয়। একই সঙ্গে তার বাবার হাত একটি গরম রেডিয়েটরের ওপর চেপে ধরে সেটি কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

ভয়াবহ ওই পরিস্থিতিতে মাত্র পাঁচ বছরের শিশুটি ডাকাতদের কাছে কাকুতি-মিনতি করে তার মা-বাবাকে আঘাত না করার অনুরোধ করে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, শিশুটি বারবার তার মা-বাবাকে রক্ষা করার জন্য ডাকাতদের কাছে আবেদন করছিল।

প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কের মধ্যে রেখে ফ্ল্যাটটি তছনছ করে ডাকাতরা। পরে তারা প্রায় ৬ হাজার পাউন্ড মূল্যের নগদ অর্থ ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।

আদালতে আরও জানানো হয়, ডাকাতির ঘটনাটি আকস্মিক ছিল না; বরং আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হানিফ চৌধুরী ডাকাতির কয়েক দিন আগে ওই বাড়িতে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী সেজে উপস্থিত হয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ভুয়া পরিচয়ে বাড়ির দরজায় গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন। এর আগে-পরে তাকে ওই এলাকার আশপাশে একাধিকবার দেখা গিয়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেরি ব্যাক্সটার বলেন, ডাকাতির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু ওই এলাকা কয়েকবার পর্যবেক্ষণই করেননি, তিনি নিজেই গ্যাস প্রতিষ্ঠানের কর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে পরিবারের বাড়ির দরজায় গিয়েছিলেন।

পুলিশের তদন্তে চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগীকে এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার লিভারপুলের আদালতে হানিফ চৌধুরীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশও জারি করা হয়েছে।

আদালতে মামলার বিবরণ প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আগে একটি বাড়ি পর্যবেক্ষণ করা এবং পরে সেখানে প্রবেশ করে শিশু ও তার মা-বাবাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অপর দুই ব্যক্তির সন্ধান এখনো চলছে। ফলে মামলার তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি।

আদালতের রায়ে অভিযুক্ত হানিফ চৌধুরীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড হলেও ঘটনায় জড়িত অপর দুই সহযোগী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে