Categories
আন্তর্জাতিক

সাইপ্রাসে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনাঃ ২৭০ আরোহী নিয়ে তুরস্কের পথে নৌযান ডুবি

সাইপ্রাসের উত্তর উপকূলে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী ফেরি কিরেনিয়া বন্দর ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই সাগরে উল্টে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় নৌযানটিতে প্রায় ২৭০ জন আরোহী ছিলেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান।

রোববার দুপুরে কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের তাসুজু বন্দরের উদ্দেশে ফেরিটি যাত্রা শুরু করে। বন্দর ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কিরেনিয়ার উপকূল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে নৌযানটি বিপদের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে এটি সাগরে উল্টে যায় এবং ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুর্কি সাইপ্রিয়ট উপকূলরক্ষী বাহিনীর নৌযান ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিরেনিয়া থেকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এবং আরও কয়েকটি নৌযান পাঠানো হয়। আশপাশে থাকা বেসরকারি নৌযানও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

কিরেনিয়ার মেয়র মুরাত শেনকুল ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি জানান, নৌযানটিতে প্রায় ২৭০ জন মানুষ ছিলেন।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরিতে থাকা ২৫৮ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫৯ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রায় ৯৯ জন যাত্রীর অবস্থান তখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে মোট আরোহীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

দুর্ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তর সাইপ্রাসের গণপূর্ত ও পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অন্য নৌযানে স্থানান্তর করে কিরেনিয়া বন্দরে নিয়ে আসা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কিরেনিয়া বন্দরে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। পাশাপাশি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বন্দরে একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেন। আহত ও অসুস্থ যাত্রীদের সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা ভিডিওচিত্রে সাগরের পানিতে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভাসতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা পানিতে থাকা যাত্রীদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি ডুবে যাওয়া নৌযানের আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।

দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের পরিস্থিতিও ছিল প্রতিকূল। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে সাগর ছিল প্রচণ্ড উত্তাল। এর আগের দিন ওই এলাকায় একটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হেনেছিল। ঝড়ের প্রভাবে সাগরে বড় বড় ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল, যা নৌযানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তবে উত্তাল সমুদ্রই দুর্ঘটনার মূল কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। উদ্ধারকারী দল সাগরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার ও নৌযানের পাশাপাশি স্থানীয় বেসামরিক নৌযানও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে।

কিরেনিয়া উত্তর সাইপ্রাসের একটি ঐতিহাসিক বন্দরনগরী। সেখান থেকে তুরস্কের দক্ষিণ উপকূলের তাসুজু বন্দরের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটিও ওই নৌপথে চলাচল করছিল।

দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি সমন্বয় শুরু করেছে। উপকূলরক্ষী বাহিনী, উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক নৌযানগুলো যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ যাত্রীদের নিয়ে। ১৫৯ জনকে শনাক্ত বা উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও প্রায় ৯৯ জনের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের ‘ভাতা রাজধানী’ লিভারপুলঃ কাজ নেই, আয় কম—সরকারি সহায়তার ওপর বাড়ছে নির্ভরতা

যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় শহর লিভারপুলের একটি নির্বাচনী এলাকা এখন দেশের ‘ভাতা রাজধানী’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। কর্মক্ষম বয়সী মানুষের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের বাইরে, বহু পরিবার সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এবং স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে লিভারপুল ওয়ালটনে অর্থনৈতিক সংকটের একটি গভীর চিত্র ফুটে উঠেছে।

লিভারপুল ওয়ালটন নির্বাচনী এলাকার মধ্যে রয়েছে নরিস গ্রিন, ক্রোক্সটেথ, ক্লাবমুর ও ফাজাকারলি। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মধ্যে এই এলাকাতেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা বা পিআইপি গ্রহণকারীর হার সবচেয়ে বেশি। প্রায় ১৫ হাজার কর্মক্ষম বয়সী বাসিন্দা পিআইপি পান, যা এলাকার কর্মক্ষম বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ শতাংশ।

শুধু পিআইপি নয়, ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের ওপরও ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। এলাকার প্রায় ৩৯ শতাংশ পরিবার এই সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে। অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬ শতাংশ বেকারত্ব-সম্পর্কিত সরকারি ভাতা পান।

লিভারপুল ওয়ালটনের নরিস গ্রিন এলাকায় গিয়ে প্রতিবেদকের চোখে পড়ে বন্ধ ও তক্তা দিয়ে আটকানো দোকান এবং শাটার নামানো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ক্রেতা কমে যাওয়া এবং স্থানীয় অর্থনীতির দুর্বলতার প্রভাব শহরের এই অংশে স্পষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় চাকরির সুযোগ সীমিত। যেসব কাজ পাওয়া যায়, তার অনেকগুলোর বেতনও তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কর্মক্ষম মানুষের একটি অংশ কাজের সন্ধানে ব্যর্থ হয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

৪৭ বছর বয়সী স্থানীয় ব্যবসায়ী লিন্ডসে টেলর তার চার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার আশঙ্কা, বাড়ির দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে তার মেয়েদের নিজেদের বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি জানান, তার মেয়েরা পরিশ্রমী হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই পরিশ্রমের যথাযথ প্রতিফলন মিলছে না। তার মতে, তারা হয়তো ভবিষ্যতেও তার সঙ্গেই বসবাস করতে বাধ্য হবে।

টেলরের বক্তব্যে শুধু একটি পরিবারের সংকট নয়, বরং কম মজুরি ও দ্রুত বাড়তে থাকা আবাসন ব্যয়ের কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে তৈরি হওয়া বৃহত্তর সমস্যাটিও উঠে এসেছে।

জ্বালানি দক্ষতা অবকাঠামো গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, লিভারপুল ওয়ালটন এলাকায় একটি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৩৩ হাজার পাউন্ড। একই সময়ে জাতীয় গড় আয় প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড।

অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় এলাকার পরিবারের আয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড কম। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কম আয়, আবাসন ব্যয় এবং সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ একসঙ্গে তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

৮৪ বছর বয়সী গওয়েন টালি সারাজীবন লিভারপুল ওয়ালটনে বসবাস করেছেন। তার ভাষ্য, তিনি এমন বহু মানুষকে চেনেন যারা কাজ করতে চান, কিন্তু চাকরি পাচ্ছেন না।

তার মতে, এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকাই অন্যতম বড় সমস্যা।

এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকারি ভাতা গ্রহণকারী সবাই যে কাজ করতে অনিচ্ছুক—এমন ধারণাকে স্থানীয় অভিজ্ঞতা পুরোপুরি সমর্থন করে না। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ কেউ কাজের প্রতি অনাগ্রহী হলেও অনেকেই বাস্তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকার কারণে বেকার রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের গবেষণা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বঞ্চিত ১৫টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে লিভারপুল ওয়ালটন রয়েছে।

এই বঞ্চনা পরিমাপের ক্ষেত্রে শুধু আয় নয়; কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যগত বঞ্চনা, অপরাধ, আবাসন ও বিভিন্ন সেবায় প্রবেশের সুযোগ এবং বসবাসের পরিবেশের মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়।

ফলে লিভারপুল ওয়ালটনের সংকটকে কেবল ‘বেশি ভাতা গ্রহণের এলাকা’ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। এর পেছনে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, কম আয়, আবাসন ব্যয় এবং স্থানীয় ব্যবসার দুর্বলতার মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। কর্মক্ষম মানুষের অর্থনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা বাড়লে স্থানীয় শ্রমবাজার দুর্বল হয়। একই সময়ে ব্যবসা কমে গেলে বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে নতুন চাকরির সুযোগও সংকুচিত হয়।

ফলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার কারণে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা বাড়ে, আবার ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এভাবে সরকারি সহায়তা গ্রহণ, বেকারত্ব, কম আয় এবং ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্যার সমাধানের জন্য রাতারাতি বড় কোনো কারখানা কিংবা গাড়ি নির্মাণকেন্দ্র স্থাপন করতেই হবে—এমন দাবি তারা করছেন না।

তাদের মূল চাওয়া হলো, স্থানীয় মানুষকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে টিকে থাকার জন্য আরও সহায়তা করা।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহও বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সেবা ও ব্যবসাগুলোও উপকৃত হতে পারে।

লিভারপুল ওয়ালটনকে ‘যুক্তরাজ্যের ভাতা রাজধানী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও স্থানীয় মানুষের বক্তব্যে আরেকটি বাস্তবতা সামনে এসেছে। সরকারি সহায়তা নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি কাজ করতে চান না—এমন ধারণা যেমন পুরোপুরি সঠিক নয়, তেমনি কর্মসংস্থানের অভাবও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এলাকায় এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা কাজ করতে আগ্রহী এবং পরিশ্রমী, কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই।

তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সমস্যার সমাধান শুধু ভাতা কমানো বা সরকারি সহায়তা সীমিত করার মধ্যে নয়; বরং মানুষের জন্য টেকসই ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে শক্তিশালী করার মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ রয়েছে।

লিভারপুল ওয়ালটনের বর্তমান পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—মানুষকে শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাখার বদলে কীভাবে তাদের জন্য এমন অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা যায়, যেখানে তারা স্থায়ী চাকরি, ভালো আয় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বছরে ১০ হাজার কোটি পাউন্ড অর্থপাচারের আশঙ্কাঃ ঠেকানোর পথ খুঁজছে সরকার

যুক্তরাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থায় অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম কতটা কার্যকর—তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ করতে ব্যাংকার, আইনজীবী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাস্তব ঘটনার উদাহরণ চেয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০২৭ সালে অর্থপাচারবিরোধী বৈশ্বিক সংস্থা আর্থিক কর্মকাণ্ডবিষয়ক টাস্কফোর্সের পরবর্তী মূল্যায়নের আগে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সরকারের আহ্বানে ২০২২ সাল থেকে এমন ঘটনাগুলোর তথ্য চাওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যাংক, আইনজীবী বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য উচ্চঝুঁকির গ্রাহককে প্রত্যাখ্যান করেছে, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করেছে অথবা তাদের পদক্ষেপের পর সরকারি তদন্ত কিংবা অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের সময় আর্থিক অপরাধের সতর্কসংকেত শনাক্ত হওয়ার পর কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক নীতিতে পরিবর্তন এনেছে কি না, সেই উদাহরণও চাওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাজ্যের অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থা, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কাজ করছে, তার স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য প্রমাণ আন্তর্জাতিক মূল্যায়নকারীদের সামনে তুলে ধরা। সরকার আগামী অক্টোবরের মধ্যে এসব তথ্য সংকলন করে আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্সের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী গ্রীষ্মে মূল্যায়নকারী দল যুক্তরাজ্যে এসে সরেজমিন পর্যালোচনা করবে।

তবে এই মূল্যায়নের আগে যুক্তরাজ্যকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। কারণ দেশটির আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। জাতীয় অপরাধ সংস্থার হিসাবে, যুক্তরাজ্যের ভেতরে বা এর মাধ্যমে প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার কোটি পাউন্ড অর্থপাচার হতে পারে। এই অর্থের সঙ্গে প্রতারণা, মানবপাচার, অবৈধ মাদক ব্যবসা এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, যুক্তরাজ্যের আইনি খাতও অর্থপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতীয় অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি মূল্যায়নে ২০১৭ সাল থেকে প্রতিটি মূল্যায়নেই দেশটির আইনি খাতকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে আইনজীবী, হিসাবরক্ষক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পেশাদার সেবাদাতাদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিসও সতর্ক করেছে যে ২০২৭ সালের মূল্যায়ন যত ঘনিয়ে আসছে, যুক্তরাজ্যের অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থার ওপর চাপ তত বাড়ছে। সংস্থাটির প্রশ্ন—বিপুল অর্থ ব্যয় করে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখার পরও যদি প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার কোটি পাউন্ড অর্থপাচার হয়, তাহলে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা তথ্য ও আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা ঝুঁকি কমাতে পারছে।

নতুন প্রযুক্তিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতারণা বাড়ছে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার করে অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ২০২৭ সালের মূল্যায়নকে সামনে রেখে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণগুলোতেও প্রতারণা, ভার্চুয়াল সম্পদ এবং নতুন আর্থিক প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ডাকঘরকেন্দ্রিক আর্থিক সেবাকেও অর্থপাচারের সম্ভাব্য চ্যানেল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এক তদন্তে দেখা গেছে, কিছু অপরাধী ডাকঘরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা দিয়ে তা বৈধ আর্থিক লেনদেনের মতো দেখানোর চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ালেই অর্থপাচারের ঝুঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের অবস্থান কিছুটা জটিল। ২০১৮ সালের মূল্যায়নে দেশটির অর্থপাচারবিরোধী কাঠামোকে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উচ্চমানের কার্যকারিতা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য নিজেকে অবৈধ অর্থের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে তুলে ধরেছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক অপরাধের ধরন দ্রুত বদলেছে। ডিজিটাল প্রতারণা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, জটিল করপোরেট কাঠামো এবং সীমান্তপারের লেনদেনের কারণে অপরাধীরা অর্থের উৎস ও গন্তব্য গোপন করার নতুন পথ পাচ্ছে। ফলে আগের আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে নতুন ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারছে, সেটিই ২০২৭ সালের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করছে, অর্থনৈতিক অপরাধ মোকাবিলায় সরকার কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন কৌশল, আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে অপরাধীদের অপব্যবহার থেকে রক্ষার চেষ্টা চলছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পখাতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের প্রস্তুতিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী পরিবারকে এ-লেভেল পরীক্ষার ২ দিন আগে স্কটল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

ছেলের গুরুত্বপূর্ণ এ-লেভেল পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে লন্ডনের আবাসন থেকে স্কটল্যান্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে এক আশ্রয়প্রার্থী পরিবার। পরিবারের দাবি, আকস্মিক এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং ছেলের শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

পরিবারটি গত প্রায় চার বছর ধরে লন্ডনের বিভিন্ন হোটেলে স্থানান্তরিত হয়ে বসবাস করছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়ার পর এবার হোম অফিস তাদের লন্ডন ছেড়ে স্কটল্যান্ডে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের জন্য পরিবারটিকে মাত্র দুই সপ্তাহের নোটিশ দেওয়া হয়।

পরিবারটির পক্ষে কাজ করা লিউইশামের শরণার্থী সহায়তা সংগঠন ‘অ্যাকশন ফর রিফিউজিস ইন লিউইশাম’ জানিয়েছে, পরিবারের বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ না করা পর্যন্ত তাদের লন্ডনেই থাকার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আগে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অবস্থানের পরিবর্তে হঠাৎ করে স্কটল্যান্ডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয় স্থানান্তরের নির্ধারিত সময় নিয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছেলেটির প্রথম এ-লেভেল পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে পরিবারটিকে স্কটল্যান্ডে পাঠানোর কথা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন শহরে স্থানান্তর, আবাসন পরিবর্তন এবং পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিবারটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিকবার আপিল করলেও সেগুলো ব্যর্থ হয়। এরপর তাদের আইনজীবীরা আদালতের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আদায় করেন। এর ফলে আপাতত পরিবারটিকে লন্ডন থেকে স্কটল্যান্ডে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আটকে যায়।

এরপর পরিবারটি সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করে। তাদের আইনজীবীদের মূল দাবি, পরিবারটিকে এমন সময়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন সন্তানের শিক্ষাজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় চলছে। ফলে সিদ্ধান্তটি তাদের মানবাধিকার সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর লন্ডনের ভেতরে বিকল্প কয়েকটি হোটেলে পরিবারটিকে থাকার প্রস্তাব দেয়। তবে শরণার্থী অধিকারকর্মীদের দাবি, প্রস্তাবিত আবাসনগুলো পরিবারের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, শুধু লন্ডনের মধ্যে অন্য কোনো হোটেলে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিলেই পরিবারের স্থিতিশীলতা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত হয় না।

এদিকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেল বন্ধের কার্যক্রম জোরদার করেছে লেবার সরকার। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক অভিবাসী আবাসন হোটেল বন্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৭০টিরও কম এমন হোটেল চালু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শরণার্থী সহায়তা সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ক্লোই হোয়াইট সরকারের এই দ্রুতগতির হোটেল বন্ধের নীতির সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ব্যবস্থাপনার ফলে এমন অনেক মানুষকে তাদের পরিচিত এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা, সামাজিক যোগাযোগ ও অন্যান্য সহযোগিতা পেয়ে আসছিলেন।

হোয়াইটের ভাষায়, মানুষকে এমন এলাকা থেকে সরিয়ে নতুন স্থানে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার অবকাঠামো সীমিত। এতে বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে।

এখন পরিবারটিকে তাদের উচ্চ আদালতের চ্যালেঞ্জ এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আদালতে সরকারের আবাসন ও স্থানান্তর নীতির পাশাপাশি ওই পরিবারের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, সন্তানের শিক্ষা এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনা যুক্তরাজ্য সরকারের অভিবাসী হোটেল বন্ধের নীতি এবং আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মানবিক ও শিক্ষাগত বিষয়গুলো কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে পরিবারটির লন্ডনে থাকার সুযোগ এবং তাদের ছেলের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ভবিষ্যৎ।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাজ্যঃ যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করলেই ব্রিটিশদের হতে পারে প্রকাশ্য অপমান

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু করা হতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক চাপ ও জনসমক্ষে অপমানের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণমাত্রার বৈশ্বিক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে ঐতিহাসিক নজির অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা প্রতিবেদনে নেই।

প্রতিবেদনটির পটভূমিতে রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের দৃঢ় সমর্থনের কারণে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

যদি ভবিষ্যতে যুদ্ধের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ প্রয়োজন হয়, তাহলে সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যানকারীদের বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ব্যক্তিদের ‘বিবেকগত আপত্তিকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে হতো। তাদের আপত্তি গ্রহণযোগ্য হলে নির্দিষ্ট ধরনের সামরিক অব্যাহতি দেওয়া হতো এবং যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত অ-যুদ্ধমূলক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হতো। যুক্তরাজ্যের সংসদের ঐতিহাসিক তথ্যেও এই ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে।

তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পরিস্থিতি ছিল আরও কঠোর সামাজিক চাপপূর্ণ। সামরিক বাহিনীতে যোগ না দেওয়া পুরুষদের প্রকাশ্যে ‘কাপুরুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য ‘সাদা পালক অভিযান’ পরিচালিত হয়েছিল। রাস্তাঘাট, গণপরিবহন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে সামরিক পোশাক না পরা পুরুষদের হাতে সাদা পালক তুলে দিয়ে তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো।

সাদা পালককে তখন কাপুরুষতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রচারণাটির উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক লজ্জা ও জনমতের চাপ সৃষ্টি করে পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করা। ইতিহাসবিদদের মতে, এই প্রচারণার কারণে এমন ব্যক্তিরাও সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছিলেন, যারা শারীরিক অসুস্থতা, আঘাত, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা অন্য বৈধ কারণে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে পারেননি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই সামাজিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও ঐতিহাসিক নথিতে আলোচনা রয়েছে। এমনকি যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বা আহত সৈনিকদেরও কখনও ভুল করে সাদা পালক দেওয়া হয়েছিল। ফলে কেবল সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যানকারীরাই নয়, যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা সৈনিকরাও এই প্রচারণার শিকার হয়েছিলেন।

আধুনিক সময়ে অবশ্য বিবেকগত কারণে সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যানের অধিকার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সক্রিয় বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বিবেকগত কারণে সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য কোনো না কোনো আইনি ব্যবস্থা রয়েছে।

ফিনল্যান্ডে পুরুষদের সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও বিবেকগত আপত্তি থাকা ব্যক্তিদের জন্য অ-সামরিক সেবার সুযোগ রয়েছে। গ্রিসেও একই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে বিবেকগত আপত্তিকারীদের জন্য সামরিক ও বেসামরিক সেবার আলাদা মেয়াদ নির্ধারিত থাকে।

ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু হলেও, সামরিক কার্যক্রমে অংশ নিতে নৈতিক বা বিবেকগত আপত্তি থাকা ব্যক্তিদের বিষয়টি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মাধ্যমে সমাধান করার পরিবর্তে আইনি ও বিকল্প সেবার কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ‘সাদা পালক অভিযান’-এর ইতিহাস সামনে এনে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, যুদ্ধের মতো জাতীয় সংকটের সময়ে সামরিক বাহিনীতে যোগ না দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক বিরূপতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির মূল শিক্ষা হলো, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা এবং ব্যক্তির বিবেকগত অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সামরিক সেবায় অংশগ্রহণের জন্য অতিরিক্ত সামাজিক চাপ কখনও কখনও বৈধভাবে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদেরও অন্যায়ভাবে অপমানের মুখে ফেলতে পারে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যে সামরিক প্রস্তুতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা থাকলেও যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ পুনরায় চালুর কোনো নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত এখনো নেই।

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাজ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৬ সালে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৯৩৯ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ১৯৬৩ সালে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভালোবাসার বিয়ের আড়ালে পাচারঃ ৫ বছরে চীনে ৪,২২৬ বাংলাদেশি নারী

বিয়ের মাধ্যমে চীনে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি নারী ভয়াবহ নির্যাতন ও পাচারের শিকার হচ্ছেন—এমন উদ্বেগের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন পরিসংখ্যান। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পারিবারিক ভিসায় অন্তত ৪ হাজার ২২৬ বাংলাদেশি নারী চীনে গেছেন। এর মধ্যে কয়েক বছরে এই সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তায় এবং মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ২০২০ সালে পারিবারিক ভিসায় ৬৯ বাংলাদেশি নারী চীনে যান। ২০২১ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭ জনে। ২০২২ সালে যান ৩৫ জন।

এরপর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ২০২৩ সালে একই ধরনের ভিসায় চীনে যাওয়া বাংলাদেশি নারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৬ জনে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৭৮। আর ২০২৫ সালে এক লাফে ১ হাজার ৭২১ জন নারী চীনে যান।

সম্প্রতি ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের চীনে পাচারের একাধিক ঘটনা সামনে আসার পর এসব পরিসংখ্যান নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়েকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র ভুক্তভোগীদের চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে পরে বিভিন্নভাবে বিদেশে পাচার করছে।

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত একটি মানসম্মত কার্যপদ্ধতি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত নিয়মে বিদেশি নাগরিককে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করতে হবে। বিয়ের ক্ষেত্রে আগমনের সময় দেওয়া ভিসা গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সঙ্গে বিয়ের আগে বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবিবাহিত সনদ সংগ্রহ করতে হবে এবং তা বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।

বিয়েটিও অনুমোদিত কাজি বা নিবন্ধন কর্মকর্তার মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। পার্বত্য তিন জেলার ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলা পরিষদের নিয়ম মেনে বিয়ে নিবন্ধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিবন্ধনের পর বিবাহ সনদ প্রথমে নোটারি পাবলিক এবং পরে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একজন মুসলিম নারী শুধু মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করতে পারবেন। অন্যদিকে মুসলিম পুরুষ মুসলিম, খ্রিস্টান বা ইহুদি নারীকে বিয়ে করতে পারবেন। পাশাপাশি ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইন মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিয়ের মাধ্যমে নারী পাচারের ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নারীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাচারকারী চক্রের নজরে এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নারীসহ অন্যান্য প্রান্তিক নারীরাও রয়েছেন।

রাঙ্গামাটির এক চাকমা নারী ২০২৪ সালে এ ধরনের একটি ঘটনায় মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, তার ২১ বছর বয়সী বোনকে ঢাকায় নিয়ে জোর করে এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। খাগড়াছড়ির ২১ বছর বয়সী এক মারমা নারীও পৃথক অভিযোগে তাকে এক চীনা নাগরিককে বিয়ে করতে বাধ্য করার কথা জানান।

চলতি আগস্টে বাগেরহাটের ১৯ বছর বয়সী এক নারীও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ভয় দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করে এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে চীনে পাচার করা হলে সেখানে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হন তিনি। পরে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সহায়তায় গত ৪ আগস্ট তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

বাংলাদেশে অবৈধ বিয়ের মধ্যস্থতাকারী বা ঘটকালি চক্র নিয়ে চীনা দূতাবাসও উদ্বেগ জানিয়েছে। গত ১৪ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস চীনা নাগরিকদের সতর্ক করে জানায়, অবৈধভাবে ‘কনে কেনার’ আয়োজন মানবপাচার, চাঁদাবাজি, হুমকি, শারীরিক ক্ষতি ও আর্থিক ক্ষতির মতো অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, পারিবারিক ভিসার আবেদন কয়েক ধাপে যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বিবাহ সনদের সত্যতা যাচাই, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার এবং লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়ার মতো প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মাধ্যমে বিয়েটি প্রকৃত কি না এবং সংশ্লিষ্ট নারী স্বেচ্ছায় চীনে যাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু নোমান বলেন, অপরাধী চক্র ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যবস্থাটির অপব্যবহার করছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের নারী পাচার আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছর পাস হওয়া মানবপাচার আইনে আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পাচারের বিষয়টি পৃথক অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি জানান, আগে পাচার সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ যুক্ত থাকলে সেগুলো ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে থাকত। নতুন ব্যবস্থায় এসব অপরাধকে সংশ্লিষ্ট মামলার আনুষঙ্গিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনালে বিচার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিয়ের নামে নারী পাচার বন্ধ করতে কেবল ভিসা যাচাই নয়, বিয়ের আগে-পরে তথ্য যাচাই, বিদেশি নাগরিকের পরিচয় ও বৈবাহিক অবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে সতর্কতা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আন্তঃদেশীয়ভাবে সমন্বিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মুসলিমবিরোধী পোস্টের অভিযোগে কেরালায় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অপমানজনক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যসংবলিত পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে ভারতের কেরালা পুলিশের এক গ্রেড সাব-ইন্সপেক্টরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার নাম কে বিজয়েশ। তিনি ইডুক্কি জেলার থোদুপুঝা থানায় কর্মরত ছিলেন।

ইডুক্কি জেলার পুলিশ সুপার এ নাসিমের নির্দেশে পরিচালিত প্রাথমিক তদন্তের পর গত ২৮ আগস্ট বিজয়েশের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য থোদুপুঝার উপ-পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজয়েশ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে হিজাব পরা এক তরুণীকে ওণাম উৎসবের ঐতিহ্যবাহী ফুল দিয়ে তৈরি নকশা ‘পূকলম’ লাথি মেরে নষ্ট করতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হয়, ঘটনাটি কেরালার এরনাকুলাম জেলায় ঘটেছে। বিজয়েশ ভিডিওটি শেয়ার করে লেখেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল কোনো কুকুর পূকলমটি নষ্ট করেছে। পরে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে নাকি ঘটনার ‘আসল সত্য’ বেরিয়ে আসে।

তবে অভিযোগ ওঠে, ভিডিওটির সঙ্গে এমন একটি বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। পোস্টটির সঙ্গে মুসলিমদের উদ্দেশে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি নজরে আসার পর মুসলিম যুব লীগের থোদুপুঝা বিধানসভা কমিটি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে বলা হয়, একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন পোস্ট সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ইডুক্কি জেলার পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তের জন্য থোদুপুঝার উপ-পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়ে বিজয়েশের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও বিজয়েশ অন্যায়ভাবে ওই পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। তার এমন আচরণ গুরুতর অসদাচরণ এবং এতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বিজয়েশের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে। মুন্নারের উপ-পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বহাল থাকবে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ দ্য নিউজ মিনিট\টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘ যুদ্ধেও টিকে আছে তেহরানঃ ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে, দাবি পেন্টাগনের বিশ্লেষকের

চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ালে সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানি অধ্যাপক মোহাম্মদ মারান্দি। আল মায়াদিনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট স্ট্যান্ডঅফ: ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ তিনি বলেন, তেহরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার মাত্রা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন হলেও ইরান এখনো প্রতিরোধ ধরে রেখেছে।

সাবেক পেন্টাগন নিরাপত্তা নীতি বিশ্লেষক মাইকেল মালোফের সঙ্গে আলোচনায় মারান্দি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে এই সংঘাতে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান যুদ্ধ প্রায় ছয় মাস ধরে চলছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে মূলত একটি ‘অবরোধ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলেও মন্তব্য করেন।

তার অভিযোগ, সরাসরি বোমা হামলা চালিয়ে শুধু সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পরিবর্তে অবরোধের মাধ্যমে একটি দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কিশোর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়লেও দেশটি প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

মারান্দির মতে, ইরানের ওপর আরোপিত বর্তমান নিষেধাজ্ঞার তীব্রতা মানব ইতিহাসে তুলনাহীন। এরপরও ইরানিরা নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং আগ্রাসীদের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। এর আগে ৪০ দিনের যুদ্ধ, অবরোধ যুদ্ধ এবং ১৩ দিনের সংঘাতেও ইরান টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সতর্ক করেন মারান্দি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার চেষ্টা করে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো এতে সহযোগিতা করে, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত।

ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যেও যোগসূত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা থেকে রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশই পরস্পরের কাছ থেকে সুবিধা পেয়েছে।

আলোচনায় সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিশ্লেষক মাইকেল মালোফও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি চলমান সংঘাতকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেওয়া মার্কিন নীতির অন্যতম বিপর্যয়কর পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

মালোফের দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, বর্তমান যুদ্ধ মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম সামরিক সক্ষমতার একটি দেশ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ করে অচলাবস্থা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মালোফ আরও বলেন, ইরান, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকার কৌশল শিখেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, এসব ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে ভবিষ্যতে নিজেদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ আল মায়াদিন

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন আনাগোনাঃ উদ্বিগ্ন ভারত

পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের হঠাৎ ঘন ঘন যাতায়াত নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের বেশ কয়েকটি সামরিক বিমান ওঠানামা করেছে বলে ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাতে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তিন দিনে পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সি-১৩০ হারকিউলিস ও এ-৪০০এম মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করে। এসব বিমানের মধ্যে ‘টিইউএএফ৫২৬’ সংকেত ব্যবহারকারী একটি বিমানও ছিল বলে উন্মুক্ত ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ তথ্য থেকে জানা গেছে।

তবে এসব বিমানে কী ধরনের সরঞ্জাম বা সামরিক সামগ্রী পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তুরস্ক কিংবা পাকিস্তান কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। ফলে সামরিক বিমানগুলোর এই তৎপরতার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্কের এসব বিমানে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম আনা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে চালকবিহীন বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিমানে সত্যিই অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে আরও আলোচনা চলছে, তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের মাধ্যমে তুরস্কের বায়কার প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রজন্মের আত্মঘাতী চালকবিহীন বিমান কে-২ এবং আসিসগার্ডের চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থা পাকিস্তানে পৌঁছে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের সামরিক বিমানগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতাকে গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রেক্ষাপটেও দেখছে ভারত। ওই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন যাতায়াতকে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মহল। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান কি সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে?

ভারতের দাবি, গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আগেও পাকিস্তান চীন ও তুরস্কের কাছ থেকে বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছিল। ওই সময় পাকিস্তানের কাছে চীনের পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করেছিল ভারত।

এ ছাড়া তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার চালকবিহীন বিমান এবং আসিসগার্ড সংস্থার সোঙ্গার আত্মঘাতী চালকবিহীন বিমান পাকিস্তানকে সরবরাহ করা হয়েছিল বলেও সে সময় দাবি করা হয়। ভারত আরও অভিযোগ করেছিল, সংঘাত চলাকালে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য এবং কৌশলগত সহায়তা দিয়েছিল।

সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি পরিচয়ে আইসক্রিম প্রত্যাখ্যানঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে ফিরিয়ে দিলেন ক্রোয়েশিয়ার বিক্রেতা

ক্রোয়েশিয়ায় ছুটিতে গিয়ে ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের মেয়ে অ্যাবিগেল আইসক্রিম কিনতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বেনেট। তার দাবি, আইসক্রিম বিক্রেতা মেয়েটি ইসরাইল থেকে এসেছে জানতে পেরে তাকে আইসক্রিম দিতে অস্বীকৃতি জানান।

সম্প্রতি বেইত হাপোডিয়াম আয়োজিত ‘হাইদা’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি তুলে ধরেন নাফতালি বেনেট। সেখানে তিনি ক্রোয়েশিয়ার উপকূলে পরিবারের সঙ্গে কাটানো ছুটির সময়ের একটি ঘটনা বর্ণনা করেন।

বেনেটের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মেয়ে অ্যাবিগেল একটি আইসক্রিমের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের অর্ডারের জন্য অপেক্ষা করছিল। একপর্যায়ে বিক্রেতা তার কাছে জানতে চান, সে কোথা থেকে এসেছে।

অ্যাবিগেল ইসরাইল থেকে এসেছে জানালে বিক্রেতা তাকে আইসক্রিম দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন বেনেট। তার দাবি, বিক্রেতা বলেন, ‘ইসরাইলিদের জন্য কোনো আইসক্রিম নেই।’

শুধু আইসক্রিম বিক্রি করতে অস্বীকৃতি নয়, বিক্রেতা প্রস্তুত করা আইসক্রিমটি নিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেন এবং অ্যাবিগেলকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন—বেনেটের অভিযোগ এমনটাই।

ঘটনাটি কবে এবং ক্রোয়েশিয়ার ঠিক কোন এলাকায় ঘটেছে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। একইভাবে সংশ্লিষ্ট আইসক্রিম বিক্রেতার বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বেনেটের বক্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। ইসরাইলের সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ এবং ইসরাইলের নীতির সমালোচনা নিয়ে বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের প্রতিবাদ ও বর্জনের ঘটনাও সামনে এসেছে।

নাফতালি বেনেট ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন।

সূত্রঃ ইয়েনি শাফাক

এম.কে