Categories
বাংলাদেশ

ঢাকা থেকে বিয়ানীবাজারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা পল্লব গ্রেপ্তার

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম পল্লবকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেম পল্লবকে আটক করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর তাকে বাড্ডা থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

আবুল কাশেম পল্লবের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কমপক্ষে ২০টি।

মামলাগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে বিজয় মিছিলে হামলা এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আবুল কাশেম পল্লব বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

এরপর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিয়ানীবাজারে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আবুল কাশেম পল্লব বর্তমানে বাড্ডা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কোন মামলায় তাকে প্রথমে আদালতে সোপর্দ করা হবে, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

সূত্রঃ সিলেট প্রতিনিধি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের মেয়র পদে লড়তে ছায়া মন্ত্রিসভা ছাড়লেন জেমস ক্লেভারলিঃ সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য স্যার জেমস ক্লেভারলি ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে লন্ডনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রায় দুই বছর আগেই তার এই সিদ্ধান্ত রাজধানীর মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।

ক্লেভারলি বর্তমানে কনজারভেটিভ দলের ছায়া আবাসন, সম্প্রদায় ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় নেতা কেমি ব্যাডেনককে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি পদটি ছেড়ে দিয়েছেন। তার বক্তব্য, লন্ডনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিটি বিষয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার জন্য ছায়া মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

লন্ডনের মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে ক্লেভারলি বলেন, রাজধানীর শুধু একজন প্রশাসক নয়, বরং এমন একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন যিনি শহরের সম্ভাবনা বোঝেন এবং তার ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত। তিনি লন্ডনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তি পুনর্গঠন এবং শহরটিকে বসবাস, কাজ, বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থানে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বর্তমান মেয়র স্যার সাদিক খানকে নিয়েও সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন ক্লেভারলি। তার অভিযোগ, লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের শাসনে লন্ডন হতাশ হয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা হয়নি। তিনি লন্ডনবাসীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি, ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযোগ করেছেন ক্লেভারলি। তার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার লন্ডনকে এমন একটি জায়গা হিসেবে দেখছে যেখান থেকে কর আদায়, নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নেওয়া যায়। লন্ডনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পুরো দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পরিবর্তে রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে ক্লেভারলির প্রার্থিতা এখনো চূড়ান্তভাবে কনজার্ভেটিভ দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন নয়। দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনো বাকি। তারপরও তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং লন্ডনের রাজনীতিতে পূর্বের ভূমিকার কারণে তাকে রক্ষণশীলদের অন্যতম শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেমি ব্যাডেনক ক্লেভারলিকে ছায়া মন্ত্রিসভা হতে হারাতে চাননি বলে দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তবে একই সূত্রের ভাষ্য, লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে ক্লেভারলির মতো অভিজ্ঞ ও পরিচিত একজন রাজনীতিককে প্রার্থী হিসেবে পাওয়া ককনজার্ভেটিভ দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। তার পদত্যাগের ফলে ব্যাডেনককে ছায়া মন্ত্রিসভায় নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে।

ক্লেভারলি কনজার্ভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১৫ সালে ব্রেইনট্রি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি লন্ডন পরিষদে কনজার্ভেটিভ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

২০২৪ সালে কনজার্ভেটিভ দলের নেতৃত্বের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ক্লেভারলি। সেই প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কেমি ব্যাডেনকের কাছে পরাজিত হন। এবার তার লক্ষ্য দলীয় নেতৃত্ব নয়, বরং লন্ডনের মেয়র পদ দখল করে রাজধানীতে কনজারভেটিভ দলের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করা।

২০২৪ সালের সর্বশেষ মেয়র নির্বাচনে সাদিক খান কনজারভেটিভ প্রার্থী সুসান হলকে ২ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। তিনি মোট ভোটের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ পেয়েছিলেন এবং লন্ডনের ১৪টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৯টিতে জয় পান। তবে ২০২৮ সালে সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অন্যদিকে, কনজারভেটিভদের পাশাপাশি রিফর্ম ইউকেও ইতোমধ্যে ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটি জানুয়ারিতেই ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর লায়লা কানিংহামকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে আগামী মেয়র নির্বাচন লেবার ও কনজারভেটিভ দলের দ্বিমুখী লড়াইয়ের বাইরে আরও বিস্তৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে।

ক্লেভারলির ঘোষণার পর রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ কনজারভেটিভদের তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কনজারভেটিভ দল কার্যত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং ক্লেভারলি এসেক্সে নিজের সংসদীয় আসন ধরে রাখার আশা হারিয়েছেন বলেই লন্ডনের মেয়র পদে লড়াইয়ের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ক্লেভারলি এখনো সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে ক্লেভারলির সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু লন্ডনের মেয়র নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীতে লেবার দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভাঙতে পারা কনজারভেটিভ দলের জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী জয় হিসেবে দেখা হবে। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখন থেকেই কনজারভেটিভদের জন্য লন্ডনে নিজেদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের বড় পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি\ আইটিভি\দ্য গার্ডিয়ান\ ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও দ্য টাইমস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কোণঠাসা যুক্তরাজ্যঃ ফকল্যান্ড হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা

 

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ও মিত্রদের দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে ওয়াশিংটন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিষয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে—এমন প্রতিবেদনের পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। লন্ডন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দ্বীপগুলো ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি ছিল, আছে এবং থাকবে।

২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্কাই নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উৎসাহিত করার বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে। এই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা ব্যয়-ভাগাভাগির আলোচনার মধ্যেই ফকল্যান্ড ইস্যুটি নতুন করে সামনে এসেছে।

ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া বক্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যকে ‘বিশেষ নজরে’ রাখা হবে, কারণ দেশটির ‘অনেক সম্ভাবনা’ রয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের প্রতিরক্ষা বোঝা ভাগাভাগি প্রত্যাশা করছে, তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো বিকল্পই আলোচনার বাইরে রাখা হচ্ছে না।

এই বক্তব্যের তাৎপর্য আরও বেড়েছে গত এপ্রিলের একটি ঘটনার কারণে। সে সময় পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইল ফাঁস হয়, যেখানে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। নতুন করে মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার কোনো ধরনের দ্ব্যর্থতার সুযোগ না রেখে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতি ‘দীর্ঘদিনের এবং অটল’। দ্বীপবাসীদের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকবে বলেও তিনি জানান।

লন্ডন একই সঙ্গে ন্যাটোতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এনেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটি ন্যাটোর তৃতীয় বৃহত্তম নগদ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী এবং ইউরোপের একমাত্র ন্যাটো সদস্য, যারা তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জোটের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছে। ব্রিটিশ সরকারের আগের বক্তব্যেও বলা হয়েছে, দ্বীপবাসীরা বারবার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৩ সালের গণভোটের ফলও ব্রিটিশ অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ওই ভোটে ১ হাজার ৫১৭ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জন—অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ—ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে বর্তমান মর্যাদা বজায় রাখার পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র তিনটি। ভোটার উপস্থিতিও ছিল ৯২ শতাংশ।

এই ফলকে যুক্তরাজ্য দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সুস্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করে। ব্রিটিশ সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, দ্বীপবাসীরা নিজেরা চাইলে তবেই সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সম্ভাব্য পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য চলতি মাসের শুরুতেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফকল্যান্ড নিয়ে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। এর জেরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
আমেরিকা যুক্তরাজ্য (UK)

ট্রাম্পের অভিবাসননীতির সমর্থক ব্রিটিশ মাইলো ইয়াননোপোলোসকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ দূর-ডানপন্থী রাজনৈতিক মন্তব্যকারী মাইলো ইয়াননোপোলোসকে আটক করার পর যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির প্রকাশ্য সমর্থক ইয়াননোপোলোসকে বৃহস্পতিবার লুইসিয়ানার লুইস আর্মস্ট্রং নিউ অরলিয়ন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা আটক করেন। পরদিন তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।

ইয়াননোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে নিউ ইয়র্ক সিটির মাধ্যমে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অনুমোদিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে গত ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ জারি করেন। এরপর তাকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয় এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র ইয়াননোপোলোসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি দেশটির আইন লঙ্ঘন করে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করেছেন। অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ জারি হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইয়াননোপোলোসের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোর করার পক্ষে সোচ্চার এবং ট্রাম্পের অভিবাসননীতির অন্যতম প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একসময় আগামী ২০ বছরের জন্য ‘শূন্য অভিবাসন’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

অভিবাসনবিরোধী এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেই নিজের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে সমস্যায় পড়া তার বহিষ্কারের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নীতির সমর্থক একজন বিদেশি নাগরিক নিজেই সেই আইনের আওতায় পড়ে দেশছাড়া হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে।

মাইলো ইয়াননোপোলোস ব্রিটিশ রক্ষণশীল ও দূর-ডানপন্থী রাজনৈতিক পরিসরে বিতর্কিত ও পরিচিত একটি নাম। ২০১০-এর দশকের শুরুতে তিনি ব্রেইটবার্ট নিউজের লেখক হিসেবে পরিচিতি পান। নারীবাদ, ইসলাম, অভিবাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তার উসকানিমূলক বক্তব্য তাকে একই সঙ্গে জনপ্রিয়তা ও তীব্র সমালোচনা এনে দেয়।

তবে ২০১৭ সালে তার পুরোনো একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে শিশুদের যৌন নিপীড়ন নিয়ে তার মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পর তিনি ব্রেইটবার্ট নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান এবং দাবি করেন, নাবালক বয়সে তিনিও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।

তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দূর-ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী লরা লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। ইয়াননোপোলোসের সঙ্গে লুমারের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। ফলে তার আটক ও বহিষ্কারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ইয়াননোপোলোসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু ব্রিটেন বা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২২ সালে তিনি সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনের ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি বিতর্কিত মার্কিন র‍্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের ২০২৪ সালের স্বল্পস্থায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। কানিয়ে ওয়েস্ট পরবর্তীতে ‘ইয়ে’ নাম ব্যবহার শুরু করেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াননোপোলোস ইয়ে-এর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। ইয়ে নিজেও ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যসহ বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সমালোচিত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে কিছু বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ইয়াননোপোলোসের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ঘটনা তাই শুধু একজন ব্রিটিশ রাজনৈতিক মন্তব্যকারীর অভিবাসন আইনে আটকে পড়ার ঘটনা নয়; বরং এটি এমন এক ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন কমানোর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালিয়ে আসছেন। অথচ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকেই দেশ ছাড়তে হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মূল বিষয় ছিল অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়া। ফলে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে এটি মূলত মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায় নেওয়া একটি আইনগত পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের দারুল হাদিস লাতিফিয়া মাদ্রাসার জিসিএসই ও এ-লেভেলে শতভাগ সাফল্য

লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল হাদিস লাতিফিয়া ২০২৬ সালের জিসিএসই ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জিসিএসই পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে ১০০ শতাংশ পাসের সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি গণিত, বিজ্ঞান ও আরবি-সহ একাধিক বিষয়ে ৯ থেকে ৫ গ্রেডে শতভাগ সাফল্য দেখিয়েছে।

 

২০২৬ সালের জিসিএসই পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্রেড ৪ বা ‘সি’ এবং তার ওপরে পাসের জাতীয় হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এর বিপরীতে দারুল হাদিস লাতিফিয়ার শতভাগ পাসের ফল প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক একাডেমিক সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

এবারের ফলাফলে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী নাবিল। সে মোট নয়টি জিসিএসই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাতটিতে গ্রেড ৯, একটিতে গ্রেড ৮ এবং একটিতে গ্রেড ৭ অর্জন করেছে। তার এই অসাধারণ ফলাফলে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে।

এ-লেভেল পরীক্ষাতেও দারুল হাদিস লাতিফিয়ার শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। মাহদি ও সাফওয়ান উভয়েই তিনটি বিষয়ে এ-গ্রেড এবং একটি বিষয়ে এ-স্টারসহ অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে। এছাড়া কাউসার এএবি, জাবির এ-বিবি এবং রাফি এএসি ফলাফল অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার সম্মিলিত ফল হিসেবেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও জ্ঞান, চরিত্র ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করবে।

দারুল হাদিস লাতিফিয়ার পরিচালনা পর্ষদের চেয়ার মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, এই সাফল্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তার মতে, ইসলামী মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের পথেও এগিয়ে নিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের এই অর্জনের পেছনে অবদান রাখা শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

দারুল হাদিস লাতিফিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকল সফল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনে আরও সাফল্য কামনা করে দোয়া করা হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

স্পনসর ছাড়াই যুক্তরাজ্যে যাওয়ার বড় সুযোগঃ মেধাবী গবেষক-প্রযুক্তিবিদদের জন্য নতুন দুয়ার

যুক্তরাজ্যে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবারের মতো শতাধিক গবেষণানির্ভর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার গবেষণা-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে যোগ্য আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রচলিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের পথও সম্প্রসারিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্প্রসারণের আওতায় শতাধিক বাণিজ্যিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখন বিদেশি প্রতিভাবান গবেষকদের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আনার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবে। নতুন তালিকায় ওষুধ, গাড়ি নির্মাণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরমাণু শক্তি, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং অন্যান্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির গবেষণামুখী খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নতুন যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার, আইবিএম, আর্ম, লিওনার্দো ইউকে-সহ বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তালিকাতেও এসব প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণঃ

বাংলাদেশের যেসব গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, মানবিক বিদ্যা, সামাজিক বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জীবনবিজ্ঞান, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও নকশা খাতে শক্তিশালী পেশাগত বা গবেষণা-ভিত্তিক অর্জন থাকা ব্যক্তিরা এই পথটি বিবেচনা করতে পারেন। গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ব্যবস্থায় বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল, মানবিক বিদ্যা ও সামাজিক বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—এটি সাধারণ চাকরির ভিসা নয়। শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া বা চাকরির প্রস্তাব থাকলেই গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে নিজের ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রতিভাবান অথবা সম্ভাবনাময় হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, অথবা নির্দিষ্ট গবেষণা অর্থায়ন ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সম্পর্ক থাকতে হয়।

গবেষকদের জন্য নতুন পথ কীভাবে কাজ করবেঃ

যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা জানিয়েছে, গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার অনুমোদিত অর্থদাতা ব্যবস্থায় এখন শতাধিক গবেষণানির্ভর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ কোনো যোগ্য গবেষক অনুমোদিত অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকলে তিনি এই ভিসার গবেষণা পথের যোগ্য হতে পারেন।

এই ব্যবস্থায় গবেষণা অনুদানের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড এবং মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর হতে হবে। আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদেও কমপক্ষে এক বছর বাকি থাকতে হবে এবং তাকে ওই অর্থায়ন পাওয়া গবেষণা প্রকল্পে অন্তত অর্ধেক সময় কাজ করতে হবে।

গবেষণা অনুদান অনুমোদিত অর্থদাতার তালিকাভুক্ত হতে হবে। অনুদানটি অনুমোদিত তথ্যভান্ডারে থাকলে সেটির সংযোগ দিতে হয়; না থাকলে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত অর্থদাতার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দিতে হতে পারে। কর্মস্থল বা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক অথবা সমপর্যায়ের কর্মকর্তার চিঠিও প্রয়োজন হতে পারে।

গবেষণা অনুদান না থাকলেও কি সুযোগ আছেঃ

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গবেষণা অনুদান না থাকলেও পথ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার পাশাপাশি রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ একাডেমি এবং রয়্যাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে নেতা বা সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট যোগ্য পদ, প্রতিযোগিতামূলক ফেলোশিপ এবং স্বীকৃত গবেষণা পুরস্কারের ভিত্তিতেও দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আর কেউ যদি যুক্তরাজ্য সরকারের নির্ধারিত যোগ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী হন, তাহলে সাধারণ অনুমোদন ধাপ এড়িয়ে সরাসরি ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে পুরস্কারটি অবশ্যই সরকারি তালিকায় থাকা যোগ্য পুরস্কার হতে হবে এবং আবেদনকারীকে ওই পুরস্কারের নামধারী বিজয়ী হতে হবে।

প্রযুক্তিবিদদের জন্যও সুযোগঃ

গবেষণার বাইরে ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতেও গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার সুযোগ রয়েছে। আর্থিক প্রযুক্তি, খেলাধুলাভিত্তিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে নেতা বা সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও চাকরির ন্যূনতম বেতন বা ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা ভিসা পাওয়ার পূর্বশর্ত নয়।

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নকশা শিল্পের জন্যও গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসায় পৃথক পথ যুক্ত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত বা সম্ভাবনাময় যোগ্য নকশাবিদদের জন্যও এই ভিসার আওতায় যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভিসা পেলে কী কী করা যায়ঃ

গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর কাজের স্বাধীনতা। ভিসাধারী চাকরিজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি স্বনিযুক্ত পেশাজীবী হতে পারেন এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকও হতে পারেন। চাকরি পরিবর্তন বা কাজ বন্ধ করার জন্য সাধারণভাবে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। ভিসা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত নেওয়া যায় এবং যোগ্যতা বজায় থাকলে পরে তা নবায়ন করা যায়।

যোগ্য আবেদনকারী স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে সঙ্গে নিতে পারেন। নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রী কাজ ও পড়াশোনা করতে পারেন, যদিও সরকারি অর্থসহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের সুযোগঃ

বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা। গ্লোবাল ট্যালেন্ট ব্যবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট অনুমোদন বা অসাধারণ প্রতিভার ভিত্তিতে আবেদনকারীরা যুক্তরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে তিন বছর থাকার পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। সম্ভাবনাময় প্রতিভার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময় পাঁচ বছর।

তবে স্থায়ী বসবাসের সময় ইংরেজি ভাষা ও যুক্তরাজ্যের জীবনযাপন সম্পর্কে জ্ঞানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমানে নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে করা আবেদনে ভাষার ন্যূনতম মান বি-১ এবং ২০২৭ সালের ২৬ মার্চ বা তার পরের আবেদনের ক্ষেত্রে বি-২ মান নির্ধারিত রয়েছে, যদি কোনো ছাড় প্রযোজ্য না হয়।

আবেদন করতে কত খরচঃ

বর্তমান সরকারি ফি অনুযায়ী গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার মূল আবেদন ফি ৭৬৬ পাউন্ড। অনুমোদনপত্র প্রয়োজন হলে প্রথম ধাপে ৫৬১ পাউন্ড এবং ভিসার ধাপে আরও ২০৫ পাউন্ড দিতে হয়। যোগ্য পুরস্কারের ভিত্তিতে সরাসরি আবেদন করলে ৭৬৬ পাউন্ড একসঙ্গে দিতে হয়। নির্ভরশীল প্রত্যেক সদস্যের ক্ষেত্রেও ৭৬৬ পাউন্ড ভিসা ফি প্রযোজ্য।

এর পাশাপাশি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারের অতিরিক্ত ফি দিতে হয়, যা বর্তমানে সাধারণত প্রতি বছর ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড। তাই পাঁচ বছরের ভিসা নিলে মূল ভিসা ফি ছাড়াও কয়েক বছরের স্বাস্থ্যসেবা ফি যুক্ত হয়ে মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

আবেদন করার নিয়মঃ

বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে হলে প্রথমে নিজের যোগ্যতা কোন পথের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নির্ধারণ করতে হবে। গবেষক হলে গবেষণা ও একাডেমিক পথ, প্রযুক্তিবিদ হলে ডিজিটাল প্রযুক্তি পথ এবং নকশাবিদ হলে নতুন নকশা শিল্পের পথ বিবেচনা করতে হবে।

অনুমোদন প্রয়োজন হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত সংস্থার কাছে অনুমোদনের আবেদন করতে হয়। গবেষণা অনুদানভিত্তিক পথের ক্ষেত্রে অনুদান, কর্মসংস্থান বা আয়োজক প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দিতে হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে গবেষণার কাজ, প্রকাশনা, পুরস্কার, পেশাগত অবদান, নেতৃত্বের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দলিল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অনুমোদন পাওয়ার পর সাধারণত তিন মাসের মধ্যে ভিসার আবেদন করতে হয়। ভিসার আবেদন অনলাইনে করা যায় এবং পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিদেশ থেকে আবেদন করলে সাধারণত তিন সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা, আর যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করলে সাধারণত আট সপ্তাহ সময় লাগে।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেনঃ

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, জীবনবিজ্ঞান গবেষক, কোয়ান্টাম প্রযুক্তিবিদ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গবেষক এবং আন্তর্জাতিক মানের নকশাবিদদের জন্য এই পথটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ করে যাদের আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা, গবেষণা অনুদান, ফেলোশিপ, পেশাগত পুরস্কার, উদ্ভাবন, গবেষণা প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অথবা নিজ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে, তাদের নিজেদের যোগ্যতা গ্লোবাল ট্যালেন্টের মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার হিসাবে, অনুমোদিত অর্থদাতা পথের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩০টির বেশি দেশের ১২ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রতিভাবান মানুষ যুক্তরাজ্যে গবেষণা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নতুন করে শতাধিক গবেষণানির্ভর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় সেই সুযোগের পরিধি আরও বাড়ল।

সূত্রঃ ইউকে রিসার্চ & ইনোভেসন\ইউকে.গভ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ

ভারতে বাংলাভাষী মুসলিম, রোহিঙ্গা, দলিত ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, পরিচয় যাচাই এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি।

২৫ আগস্ট প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় কমিটি জাতিগত ও পরিচয়ভিত্তিক পুলিশি তল্লাশি এবং পরিচয় যাচাইয়ের কারণে বাংলাভাষী মুসলিম ও অভিবাসীদের অন্যায়ভাবে আটক করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে বৈষম্যের ঝুঁকি রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের এই কমিটি অভিযোগ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ফলে নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত ও সামাজিক গোষ্ঠী অতিরিক্ত নজরদারি ও হয়রানির শিকার হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম ও অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ের নামে আটক করার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে কমিটি।

পর্যালোচনায় বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি।

কমিটি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুধু বাংলাভাষী মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের বিষয় নয়, দলিত, আদিবাসী এবং বিভিন্ন তফসিলি সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি। এসব জনগোষ্ঠী যেন জাতিগত, বর্ণগত বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে ভারত সরকার ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধিদল এসব অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, ভারতের সংবিধান সব নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও বহুত্ববাদ নিশ্চিত করে এবং দেশের আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে।

ফলে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ এবং ভারতের সরকারি অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। একদিকে জাতিসংঘের কমিটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পুলিশি তল্লাশি, পরিচয় যাচাই, আটক, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে; অন্যদিকে ভারত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সংবিধান ও বহুত্ববাদী কাঠামোর ওপর নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্ত ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা না হলে বিষয়টি ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটির এই পর্যবেক্ষণের পর এখন অভিযোগগুলোর তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় ভারত কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

সূত্রঃ সিইআরডি\এএফপি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শরণার্থী নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগঃ বৃহস্পতিবার নারীবিহীন ব্রেইনট্রি শহর

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের ব্রেইনট্রি শহরে শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দিনটিতে কাছের ওয়েদারসফিল্ডের সাবেক বিমানঘাঁটি থেকে শরণার্থীদের মিনিবাসে করে শহরে আনা হলে শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে যায়। অনেক নারী ওই দিন শহরে আসা এড়িয়ে চলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ওয়েদারসফিল্ড বিমানঘাঁটিতে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সম্প্রতি ব্রেইনট্রি জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৪৫ করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি ২০২৭ সালের এপ্রিলের পরও চালু রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছোট নৌকায় করে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন পূর্বাভাসের চেয়ে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত ৪৪৫টি শয্যা সাময়িকভাবে প্রস্তুত রাখা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে ওয়েদারসফিল্ডের মতো ‘অন্যান্য আবাসন’ ব্যবস্থায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬২ জন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৬৫৩।

যুক্তরাজ্যে সরকারি সহায়তা পাওয়া আশ্রয়প্রার্থীর মোট সংখ্যা ৯৩ হাজারের বেশি। তাদের বেশিরভাগই আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী মাইক রিডন অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার শহরের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নারী ওই দিন শহরে আসেন না এবং একা শহরে আসতেও অনেকে স্বস্তি বোধ করেন না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশ্রয়প্রার্থীদের অনেকে শহরের নগদ অর্থ উত্তোলন কেন্দ্র ও দাতব্য দোকানের আশপাশে অবস্থান করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

শহরের এক নারী দোকানকর্মীও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, বৃহস্পতিবার তিনি একা কাজ করতে ভয় পান এবং ওই দিন শহরে নারী, শিশু ও স্থানীয় বাসিন্দার উপস্থিতি অনেক কমে যায়। তার ভাষায়, তখন শহরটিতে বিপুলসংখ্যক পুরুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু তরুণ আশ্রয়প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্কুল থেকে বাসে করে বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রীদের উদ্দেশে শিস দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগেরও কোনো পুলিশি তদন্ত, মামলা বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী আনা টারলি বলেছেন, এসব জায়গা স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত আবাসন হিসেবে পরিচালনা করা হবে। তার দাবি, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার তুলনায় সাবেক সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করা তুলনামূলকভাবে সহজে পরিচালনাযোগ্য এবং কম ব্যয়বহুল।

আনা টারলির ভাষ্য অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য সাবেক সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সাবেক শিল্পাঞ্চল, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত স্থাপনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় আবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপও কমানো যাবে।

তবে ব্রেইনট্রির স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়মিত শহরে নিয়ে আসার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও শহরের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওয়েদারসফিল্ড কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ব্রেইনট্রির মতো আশপাশের শহরগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা, জনসেবা এবং শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

করদাতার টাকায় আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রি কনডমঃ যুক্তরাজ্যে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে করদাতাদের অর্থে সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক বা কনডম সরবরাহ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও জনমত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেইলি এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের হোটেলগুলোতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনামূল্যে কনডম সরবরাহ করা হচ্ছে।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সেবা কেবল আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নয়; যুক্তরাজ্যে এনএইচএসের আওতাভুক্ত স্বাভাবিক যৌনস্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবেই এই সেবা দেওয়া হয়। যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিক, অধিকাংশ ফার্মেসি এবং কিছু জিপি প্র্যাকটিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক পাওয়া যায়। আশ্রয়প্রার্থীরাও এই সাধারণ সেবার আওতাভুক্ত।

তবে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও জীবনযাপনের ব্যয় নিয়ে ব্রিটেনে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র, তখন হোটেলে থাকা ব্যক্তিদের বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সরবরাহের বিষয়টি নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, ব্রিটিশ করদাতারা অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের জন্য গর্ভনিরোধকের ব্যয় বহন করছেন, অথচ অনেক ব্রিটিশ নাগরিক এনএইচএসে প্রয়োজনীয় ডেন্টাল চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে সমস্যায় পড়ছেন।

ফিলপ আরও দাবি করেছেন, বর্তমানে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ করদাতাদের অর্থে সরকারি ব্যবস্থায় বসবাস করছেন এবং লেবার সরকারের অধীনে ছড়িয়ে দেওয়া আবাসনে থাকা মানুষের সংখ্যা ১২ শতাংশ বেড়েছে। তার বক্তব্য, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের দেশ থেকে ফেরত পাঠানোই সমস্যার সমাধান।

তিনি ভবিষ্যৎ কনজারভেটিভ সরকারের অধীনে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তার মতে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিরা দেশটিতে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারবেন না—এমন বার্তা স্পষ্ট করা হলে ছোট নৌকায় করে আসার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

করদাতাদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্সও এই বিষয়টির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী জন ও’কনেল দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যের করদাতারা ইতোমধ্যে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের প্রক্রিয়াকরণ, আবাসন এবং বিভিন্ন সুবিধার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। তার বক্তব্য, যারা আইন ভঙ্গ করে সীমান্ত অতিক্রম করেন, তাদের জন্য করদাতা-অর্থায়িত সুবিধা থাকা উচিত নয়।

এর আগে ডেইলি এক্সপ্রেসের আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ব্রিটিশ সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এমন তথ্যসম্বলিত প্রচারপত্র ব্যবহার করছে যেখানে বলা হচ্ছে—যুক্তরাজ্যে নারী ও পুরুষ সমান এবং নারীদের ধর্ষণ বা মারধর করা বেআইনি। শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কও যে বেআইনি, সে বিষয়েও তাদের জানানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

এই বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী কনজারভেটিভ অ্যাসেম্বলি সদস্য সুসান হল বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সরবরাহের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এনএইচএস যখন ইতোমধ্যে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন করদাতাদের অর্থ এ ধরনের খাতে ব্যয় করা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারেন।

হলের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখার পুরো ব্যবস্থাই করদাতাদের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। তার দাবি, এই ধরনের অতিরিক্ত সুবিধা আশ্রয় ব্যবস্থার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বর্তমান ব্যবস্থার অকার্যকারিতার বিষয়টি সামনে আনছে।

তবে এনএইচএসের অবস্থান ভিন্ন। এনএইচএসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সেবা যুক্তরাজ্যের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার অংশ এবং এতে আশ্রয়প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত। যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিক, অধিকাংশ ফার্মেসি ও কিছু জিপি প্র্যাকটিসের মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হয়। এনএইচএস আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে বলে মুখপাত্র জানিয়েছেন।

ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি ভিন্ন অবস্থান। একদিকে সরকার ও এনএইচএসের যুক্তি—আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অধিকারী এবং গর্ভনিরোধক সাধারণ যৌনস্বাস্থ্যসেবার অংশ। অন্যদিকে বিরোধী দল ও করদাতা অধিকারকর্মীদের প্রশ্ন—দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সরকারি ব্যয়ের ওপর যখন চাপ রয়েছে, তখন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য করদাতাদের অর্থে এসব সুবিধা দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটা।

বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন, হোটেল ব্যয় এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় সরকারি ব্যয় নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে লেবার সরকার। সেই পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সরবরাহের বিষয়টি অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন খারিজে একবারই আপিলঃ শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনায় চাপে সরকার

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে নিজ দল লেবারের এমপিদের তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তার প্রস্তাবিত সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারীদের একাধিকবার আপিল করে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার সুযোগ সীমিত করা।

শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনার মূল যুক্তি হলো—আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর বারবার আপিলের সুযোগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হয়। সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মাধ্যমে আপিল প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও দ্রুত করার পাশাপাশি যাদের সব আইনি আপিল শেষ হয়ে গেছে, তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। দলের বামপন্থী অংশের এমপিদের একাংশের আশঙ্কা, আপিলের সুযোগ সীমিত হলে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ কমে যেতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকজন লেবার এমপি সংস্কারকে কঠোর ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

শুধু আপিল ব্যবস্থাই নয়, শাবানা মাহমুদের সামগ্রিক অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্কার নিয়ে লেবারের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে। প্রস্তাবিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল ২০২৬-এ অভিবাসন আপিল পুনর্গঠন, মানবাধিকার আইনের আওতায় কিছু দাবির সীমাবদ্ধতা, আশ্রয় সহায়তা ও মর্যাদা সংক্রান্ত পরিবর্তন এবং আধুনিক দাসত্ব আইনের কাঠামো সংশোধনের মতো বিষয় রয়েছে।

সংসদে বিলটির দ্বিতীয় পাঠে শাবানা মাহমুদ যুক্তি দিয়েছেন, আগের সরকারের সময়ে আশ্রয় ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল এবং ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আগমন ও আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় করদাতাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, বর্তমান সরকার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার কাজ করছে।

সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও আশ্রয় ব্যবস্থায় কিছুটা চাপ কমার চিত্র দেখাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ কমে প্রায় ৮৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাও এক বছরের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে ১৬ হাজার ২১ জন হয়েছে।

সরকার এই পরিসংখ্যানকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের সুযোগ সংকুচিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হলে ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালান জনসন শাবানা মাহমুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাকে সংস্কার নিয়ে বিরোধিতাকারী লেবার এমপিদের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। জনসনের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে লেবারের অবস্থান সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

অ্যালান জনসন সতর্ক করেছেন, অভিবাসন ইস্যুতে দলের ভেতরের বিরোধিতাকারীদের কথাই যদি সরকার বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে রাজনৈতিকভাবে লেবারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, জনমতকে উপেক্ষা করে অভিবাসন নীতিতে অতিরিক্ত নমনীয় অবস্থান নেওয়া দলটির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে লেবারের বামপন্থী এমপিরা মনে করছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও আশ্রয়প্রার্থীদের মানবিক ও আইনি সুরক্ষা দুর্বল করা উচিত নয়। প্রায় ৮০ জন লেবার এমপি এর আগে অভিবাসন সংস্কারের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং আরও মানবিক পদ্ধতির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ফলে শাবানা মাহমুদের সামনে এখন দ্বিমুখী রাজনৈতিক চাপ। একদিকে সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয় ব্যবস্থার ব্যাকলগ কমানো এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে; অন্যদিকে নিজের দলের এমপিদের একটি অংশ মানবাধিকার ও আশ্রয়প্রার্থীদের আপিলের অধিকার নিয়ে কঠোর অবস্থানের বিরোধিতা করছে।

সূত্রঃ এওএল/দ্য টেলিগ্রাফ\গভ.ইউকে

এম.কে