Categories
বাংলাদেশ

শুধু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগঃ চেক প্রজাতন্ত্রে সরকারি স্কলারশিপে পি‌এইচডি

ইউরোপে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে চেক প্রজাতন্ত্র সরকারের সরকারি স্কলারশিপ কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে যোগ্য দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো মাস্টার্স ও ডক্টরাল বা পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

চেক সরকারের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে দেশটির বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য নির্বাচিত ফলো-আপ মাস্টার্স এবং ডক্টরাল প্রোগ্রামে বাংলাদেশি নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন।

যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো—ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান—এই নির্দিষ্ট স্কলারশিপের যোগ্য দেশের তালিকায় নেই। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষ একটি সুযোগ।

স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত চেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন মাস্টার্স এবং ডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনা করা যাবে। তবে সব ধরনের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রাম এই বৃত্তির আওতায় পড়বে না। আবেদনকারীকে সরকারি তালিকায় থাকা নির্দিষ্ট ইংরেজি-মাধ্যমের প্রোগ্রামগুলোর মধ্য থেকে নিজের পছন্দের কোর্স নির্বাচন করতে হবে।

চেক সরকারের এই স্কলারশিপের অন্যতম বড় সুবিধা হলো মাসিক আর্থিক সহায়তা। মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ১৬ হাজার চেক ক্রাউন এবং ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ হাজার ৯৬০ চেক ক্রাউন পর্যন্ত মাসিক বৃত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আর্থিক সহায়তা মূলত চেক প্রজাতন্ত্রে পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে। আবাসন, খাবার, স্থানীয় যাতায়াতসহ দৈনন্দিন খরচের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে চেক প্রজাতন্ত্রে যাওয়া এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার বিমানভাড়া এই বৃত্তির আওতায় থাকবে না।

২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। আবেদন করার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। অর্থাৎ আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য হাতে সময় রয়েছে এক মাসেরও কম।

আবেদনকারীদের শুধু অনলাইন ফরম পূরণ করলেই হবে না। চেক সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং ইংরেজি ভাষা ও সাধারণ একাডেমিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

মাস্টার্স পর্যায়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। আর ডক্টরাল বা পিএইচডি পর্যায়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি গবেষণা পরিকল্পনা, গবেষণাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, সুপারিশপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে।

এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলেই বৃত্তি নিশ্চিত হবে না। চেক সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফল শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ যোগ্যতা পূরণ করলেও প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কলারশিপ পাবেন না।

আবেদনকারীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—এই বৃত্তির আওতায় কেবল সরকারি তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট প্রোগ্রামেই আবেদন করা যাবে। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের কোর্স আছে কি না, সেটি দেখার পাশাপাশি ওই কোর্সটি সরকারি স্কলারশিপ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

চেক সরকারের এই কর্মসূচি মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে নির্বাচিত দেশের শিক্ষার্থীরা চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি স্কলারশিপে দেশের যোগ্যতার তালিকা অনেক সময় সীমিত থাকে। সেখানে চেক সরকারের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা দেশটির শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপে উচ্চশিক্ষার একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ সময় হওয়ায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, ভাষাগত প্রস্তুতি, গবেষণা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

সূত্রঃ চেক সরকারের সরকারি ‘স্টাডি ইন চেকিয়া’ স্কলারশিপ পোর্টাল ও চেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় বড় ধসঃ ৩ বছরে কমেছে ৬২ শতাংশ

যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা দেওয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের মিলিয়ে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগের ১২ মাসের তুলনায় এ সংখ্যা ১৮ শতাংশ কম এবং ২০২৩ সালের তুলনায় ৬২ শতাংশ কম।

ভিসা কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাত এবং দক্ষ কর্মী ভিসার উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা কর্মী ভিসা ৯০ শতাংশ এবং দক্ষ কর্মী ভিসা ৪৮ শতাংশ কমেছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বৈধ কর্মী অভিবাসন ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের পেছনে সরকারের ব্যয়ও কমেছে, যদিও ব্যয়ের পরিমাণ এখনও বিপুল। ২০২৫/২৬ অর্থবছরে আশ্রয় ব্যবস্থায় হোম অফিসের ব্যয় হয়েছে ৪.৩৬ বিলিয়ন পাউন্ড। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ৪.৭৬ বিলিয়ন পাউন্ড। অর্থাৎ এক বছরে ব্যয় ৮ শতাংশ কমেছে এবং এটি টানা দ্বিতীয় বছর আশ্রয় খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঘটনা।

এই ৪.৩৬ বিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সরাসরি সহায়তা, সংশ্লিষ্ট জনবল এবং অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ব্যয় রয়েছে। তবে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের আটক বা প্রতিহত করার খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। ২০২৩/২৪ অর্থবছরে আশ্রয় খাতে সরকারি ব্যয় রেকর্ড ৫.৩৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছিল।

আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখার সংখ্যাতেও বড় পতন হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের শেষে যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলোতে ১৬ হাজার ২১ জন আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৪১। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। ২০২২ সালে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ১৮-তে পৌঁছেছিল। ফলে সাম্প্রতিক পতনকে সরকার আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরছে।

২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে মোট ৮৫ হাজার ৮৯১ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। আগের বছরের ১ লাখ ৮ হাজার ৫৮৫ জনের তুলনায় এটি ২১ শতাংশ কম। সরকারি হিসাবে, ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়া সময়ের পর এটিই সর্বনিম্ন বার্ষিক সংখ্যা। তবে হোম অফিস বলছে, সংখ্যাটি এখনও ২০২১ সালের আগের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় বেশি।

আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পথেও গুরুত্বপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ ১২ মাসে ৩৩ হাজার ৯৪৯ জন ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় দাবি করেছেন, যা মোট আশ্রয়প্রার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবৈধ প্রবেশের পথগুলো মিলিয়ে মোট আশ্রয়প্রার্থীর ৫২ শতাংশ এই ধরনের পথ ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে ৩৪ হাজার ৯৯৯ জন আশ্রয়প্রার্থী দাবি করার আগে কোনো ভিসা বা অন্য বৈধ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে কাজের ভিসা-ধারীরা একটি বড় অংশ। সরকারি তথ্য বলছে, আগের বৈধ অবস্থান থেকে আশ্রয় দাবির প্রবণতাও অভিবাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের জুনের শেষে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন ৪০ হাজার ১৬৮ জন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ৮১২। অর্থাৎ এক বছরে অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা ৫৬ শতাংশ কমেছে। এটি ২০১৯ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।

এক বছরের বেশি সময় ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীর সংখ্যাও ৬১ শতাংশ কমে ১১ হাজার ১৪-তে নেমেছে। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৯৯৮। তবে একই সময়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া বছরে ৪২ হাজার ৩৯৪ জনকে শরণার্থী সুরক্ষা বা যুক্তরাজ্যে থাকার অন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের ৫৩ হাজার ৪৮০ জনের তুলনায় ২১ শতাংশ কম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পরিসংখ্যানগুলোকে সরকারের অভিবাসন নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার দাবি, আশ্রয় আবেদনের ব্যাকলগ কমেছে, হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে, অবৈধভাবে কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার বেড়েছে এবং প্রত্যাবাসন ও ফেরত পাঠানোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সংখ্যাও কমছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে সরকারের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কনজারভেটিভদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার হোটেল থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে অন্য ধরনের আবাসনে স্থানান্তর করছে মাত্র। ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিল্প দাবি করেছেন, করদাতাদের অর্থে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ আবাসন পাচ্ছেন এবং সরকারের সময়ে ছড়িয়ে দেওয়া আবাসনে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য লন্ডন স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন-প্যারিসের সম্পর্ক জোরদারে ম্যাক্রোঁ-বার্নহ্যাম বৈঠকঃ আলোচনায় ব্রেক্সিট রিসেট

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুন করে সাজানো, বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

বার্নহ্যাম জুলাই ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ম্যাক্রোঁর সফরটি ইউরোপীয় কোনো নেতার সঙ্গে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বার্নহ্যাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যকে আরও ‘সাহসী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে তথাকথিত ‘ব্রেক্সিট রিসেট’। ব্রেক্সিটের পর বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক নতুন সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করতে পারেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্কও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বার্নহ্যাম সরকার আগ্রহী। তবে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং বাণিজ্য ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসনও ম্যাক্রোঁ-বার্নহ্যাম আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন-প্যারিস সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। দুই দেশ এই সমস্যা মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও কার্যকর করার পথ খুঁজতে পারে।

তবে বৈঠকটি শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক কূটনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক বায়ো ট্যাপেস্ট্রি।

প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো বায়ো ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে প্রদর্শনের জন্য ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আনা হয়েছে। ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে লন্ডনে এর প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কথা। একই সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম ফ্রান্সে সাটন হু-র ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ অন্যান্য প্রত্নসম্পদ প্রদর্শনের জন্য ঋণ দিচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের এক ফোনালাপে বার্নহ্যাম ও ম্যাক্রোঁ যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স সম্পর্ক, ইউক্রেন, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ওই সময় বার্নহ্যাম বায়ো ট্যাপেস্ট্রি যুক্তরাজ্যে আনার ক্ষেত্রে ম্যাক্রোঁর ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে মাছ ধরার অধিকার, বাণিজ্য, সীমান্ত পারাপার ও অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে ম্যাক্রোঁর এই সফরকে শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে নয়, বরং লন্ডন ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপীয় নিরাপত্তাও দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বার্নহ্যাম সম্প্রতি ইউরোপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছে।

সব মিলিয়ে ম্যাক্রোঁর লন্ডন সফর ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য-ইউরোপ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। বাণিজ্য ও সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়—বহুমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে লন্ডন ও প্যারিস তাদের পুরোনো সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতে গাছে বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা

ভারতের পাঞ্জাবে এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে গাছে বেঁধে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ আগস্ট মনজিৎ কৌর নামে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে গুরুতর এই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ সচেতন থাকা সত্ত্বেও তার জবানবন্দি রেকর্ড না করার অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ ও ৪ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে মনজিতের পরিচিত দুই ব্যক্তি—শুভি ও পিন্ডা—তাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকায় ডেকে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পর তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে পাঞ্জাবের মোরিন্ডার কাছে একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা মনজিৎকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে মনজিতের আরেক পরিচিত ব্যক্তি সেখানে পৌঁছে একটি কম্বল ব্যবহার করে আগুন নেভান এবং তাকে উদ্ধার করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনজিৎকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে মোহালির ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে (পিজিআইএমইআর) স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ কিছু সময় সচেতন ছিলেন এবং নিজের বক্তব্য বা জবানবন্দি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে পুলিশ তার বক্তব্য রেকর্ড করতে পারেনি। এ কারণে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মনজিতের মৃত্যুর পর পিজিআই পুলিশ পোস্ট থেকে খারার সদর থানায় পুনরায় বার্তা পাঠানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসপাতালে যান। পরে মনজিতের মাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ থানায় নিয়ে গিয়ে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। বুধবার রাতে এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার পিজিআইএমইআরে মনজিতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অবহেলার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। তাদের দাবি, মনজিতকে অপহরণের ঘটনা চণ্ডীগড়ে ঘটেছে। ফলে এ বিষয়ে প্রাথমিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব চণ্ডীগড় পুলিশের। পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, খারার পুলিশ মনজিতের মাকে সহযোগিতা করেছে এবং এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও সহায়তা করেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চণ্ডীগড়ে অপহরণের ঘটনা থেকে শুরু করে মোরিন্ডার কাছে বনাঞ্চলে হামলা পর্যন্ত পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। কীভাবে মনজিতকে অপহরণ করা হয়েছিল, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিতের জবানবন্দি নেওয়ার সুযোগ কেন কাজে লাগানো হয়নি, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। নিহত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার শুরু থেকেই যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ আরও আগেই সংগ্রহ করা সম্ভব হতো।

মনজিতের ওপর এই নৃশংস হামলার কারণ এবং এর পেছনে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই অভিযুক্ত শুভি ও পিন্ডার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ থাকলে তাদের শনাক্ত করা যাবে কি না—তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া টু’ডে

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে কাঁদলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ, বললেন—‘তিনি একজন সৎ মানুষ’

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। দীর্ঘদিনের কারাবাস ও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ইমরানের পাশে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সাবেক এই পাকিস্তানি তারকা।

পাকিস্তানের সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান খান পাকিস্তানেরই একজন মানুষ। তাকে ঘিরে চলমান সমস্যার সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে বসা উচিত। তিনি বলেন, পরিস্থিতিকে অযথা দীর্ঘায়িত না করে এখনই এর সমাধান করা প্রয়োজন।

মিয়াঁদাদ বলেন, খেলোয়াড়ি জীবনে ইমরানের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা বা বড় ধরনের ঝগড়া ছিল না। বরং ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় তারা প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে ছিলেন। পরে পাকিস্তান জাতীয় দলে ইমরানকে অধিনায়কত্বও দিয়েছেন তিনি। তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল এবং একসঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করেছেন বলে জানান মিয়াঁদাদ।

৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, তিনিও কারও সন্তান এবং তাকে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, তা ভেবে তার কষ্ট হয়। সাবেক এই ক্রিকেটারের ভাষায়, তারা একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন, সময় কাটিয়েছেন এবং পাকিস্তানকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছেন।

অবসর-পরবর্তী সময়ে ইমরান খানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা নিয়ে মিয়াঁদাদ অতীতে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তবে এবার তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও পাকিস্তানের জন্য ইমরানের অবদান ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, ইমরান একজন জাতীয় বীর এবং তিনি তাকে খুব ভালোভাবে চেনেন।

মিয়াঁদাদ বলেন, ‘যা ভুল, তা ভুলই।’ তবে একই সঙ্গে তিনি ইমরানকে একজন সৎ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পাকিস্তান সরকারের কাছে বর্তমান সমস্যার সমাধানের আবেদন জানান। তার মতে, ইমরান দেশের প্রতি দেশপ্রেমের দিক থেকে কারও চেয়ে কম নন।

ইমরানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, তার প্রার্থনা হলো—শেষ পর্যন্ত যেন সঠিক বিষয়টিই প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমরানকে নিয়ে কথা বলার সময় তার চোখে পানি এনে দেওয়ার জন্যও তিনি আবেগ প্রকাশ করেন এবং জানান, তিনি হৃদয় থেকেই কথাগুলো বলছেন।

মিয়াঁদাদ আরও বলেন, ইমরানের জন্য তিনি কিছু করতে পারলে অবশ্যই করবেন। ক্রিকেটার হিসেবে তারা সবাই পাকিস্তানের পতাকার জন্য লড়াই করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। তার আহ্বান, ‘এখন এটাকে শেষ করুন।’

ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাগারে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। গত ২৪ আগস্ট ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ওই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে মিয়াঁদাদের এমন প্রকাশ্য ও আবেগঘন অবস্থান পাকিস্তানের ক্রিকেট ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অতীতে ইমরানের সমালোচনা করলেও এবার সাবেক সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়ে মিয়াঁদাদ স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতির অবসান চান।

সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস\ন্যারেটিভস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

সিআইএ প্রধানের মস্কো সফরের পরই রাশিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যকে ‘বিপর্যয়কর পরিণতি’র হুমকি দিয়েছে মস্কো।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার প্লেসেতস্ক কসমোড্রোম থেকে পরীক্ষামূলকভাবে একটি পারমাণবিক সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির কৌশলগত, কারিগরি ও উড্ডয়ন বৈশিষ্ট্য যাচাই করাই ছিল পরীক্ষার উদ্দেশ্য। তবে সিআইএ প্রধানের মস্কো সফরের পরপরই এই পরীক্ষা হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্লেষকদের কাছে এটি রাশিয়ার একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

র‍্যাটক্লিফ মঙ্গলবার মস্কো সফর করে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সের্গেই নারিশকিন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

সফরটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‍্যাটক্লিফ রাশিয়াকে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বিশেষভাবে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, র‍্যাটক্লিফ রাশিয়াকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য সমঝোতায় যাওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প র‍্যাটক্লিফের সফরের গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন। তার দাবি, র‍্যাটক্লিফ রুশ সমকক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং সফরটি অস্বাভাবিক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল না। ট্রাম্প একই সঙ্গে বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর কোনো ভূখণ্ডে হামলা করবেন না।

এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যকে সরাসরি সতর্ক করেছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, লন্ডন যদি ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে হামলার জন্য ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া বন্ধ না করে, তাহলে এর ‘বিপর্যয়কর পরিণতি’ হতে পারে। এর আগে রুশ পক্ষ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের বিষয়ে ‘আগুন নিয়ে খেলা’র অভিযোগে সতর্ক করেছিল।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা অবশ্য রাশিয়ার এই হুমকিকে নতুন কিছু হিসেবে দেখছেন না। তাদের মূল্যায়ন, মস্কো ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা নিয়ে মস্কোর কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

যুদ্ধক্ষেত্রেও দুই পক্ষের হামলা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া এক রাতে ইউক্রেনের দিকে ১৬৪টি ড্রোন ছুড়েছে। সুমি অঞ্চলে রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় ৬১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাল্টা হিসেবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর ৫১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।

ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে বলে কিয়েভ জানিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, স্থাপনাটি সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে। একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে একটি তু-৯৫এমএস কৌশলগত বোমারু বিমানেও আঘাত হেনেছে বলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের হামলার প্রভাব রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও পড়ছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর হিসাবে, আগস্টের শেষ দিকে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর কার্যক্রম বন্ধ বা ব্যাহত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন হলো, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর জনবল সংকটের চাপ বাড়ছে। তাদের হিসাবে, ইউক্রেনে প্রতি মাসে প্রায় ৩৬ হাজার রুশ সেনা নিহত ও আহত হচ্ছে। বিপরীতে মস্কো প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নতুন চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ করতে পারছে। ফলে মাসিক হিসাবে রাশিয়ার সেনা ক্ষয় নতুন নিয়োগের চেয়ে প্রায় ছয় হাজার বেশি।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া চলতি শরতে নতুন করে সেনা সমাবেশ বা মোবিলাইজেশন শুরু করতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এমন পদক্ষেপ রুশ সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করছেন। যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ইতোমধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও জনজীবনে চাপ তৈরি করছে।

ইউক্রেনের দিকেও পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। দেশটির কৃষিমন্ত্রী তারাস ভিসোৎস্কির দাবি, রুশ হামলায় খাদ্য সংরক্ষণের গুদামগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে এবং খুচরা খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার বড় অংশ বিঘ্নিত হয়েছে। তবে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনেও শীতের আগে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা কয়েক হাজার বাসিন্দাকে অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, রুশ হামলায় বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ১ জুলাই থেকে খেরসনে ১৭০টি গ্লাইড বোমা এবং গত দুই মাসে ১,৭০০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

এদিকে ইউরোপের ন্যাটো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত ‘গুরুতর সংকটজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাশিয়ার উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউক্রেনের শীর্ষ প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা কিরিলো বুদানভ অবশ্য জানিয়েছেন, যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে প্রযুক্তিগত আলোচনা খুব শিগগিরই হতে পারে। তার ভাষ্য, আলোচনার পাশাপাশি ‘বড় কিছু’র প্রস্তুতি চলছে। তবে যুদ্ধ এখনই শেষ হবে—এমন প্রত্যাশাকে তিনি ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মূল বিরোধের জায়গাগুলো এখনো অমীমাংসিত। মস্কো পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি করছে। কিয়েভ তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ফলে সম্ভাব্য আলোচনার পথ খোলা থাকলেও দ্রুত কোনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো এখনো কঠিন বলেই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

রাশিয়ার হামলার হুমকি, ফকল্যান্ডস নিয়ে মার্কিন চাপ—উভয় সংকটে যুক্তরাজ্য

রাশিয়ার সরাসরি সামরিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চাপ—দুই দিক থেকেই নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। একদিকে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি দেওয়ার কারণে মস্কো ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে লন্ডনের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে ব্রিটিশ অবস্থানের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা ২৭ আগস্ট সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে গেলে ইউক্রেনের ভেতরে এবং দেশের সীমানার বাইরেও ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। মস্কোর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ওপর হামলার ঘটনায় লন্ডন ক্রমেই সরাসরি সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

মস্কোর সর্বশেষ সতর্কবার্তার পেছনে রয়েছে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ নির্মিত দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর উৎপাদন প্রযুক্তি সরবরাহের সিদ্ধান্ত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার ইউক্রেনকে এই প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার পর রাশিয়া একাধিকবার সতর্ক করেছে যে পশ্চিমা দেশগুলোর এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

রাশিয়ার হুমকির ভাষাও এবার আগের তুলনায় কঠোর। জাখারোভা দাবি করেছেন, ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ইউক্রেনের ভেতরে এবং এর বাইরেও রুশ প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্য হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ব্রিটেনকে তার বর্তমান নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি বদল না হলে এর পরিণতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও যুক্তরাজ্যের ওপর বড় ধরনের চাপের খবর সামনে এসেছে। দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যুক্তরাজ্যের আরও বড় পদক্ষেপ চান। মার্কিন প্রশাসনের পর্যালোচনায় যুক্তরাজ্য ‘বিশেষ নজরদারির’ আওতায় থাকতে পারে বলেও একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।

সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে ফকল্যান্ডসের ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনাকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ফকল্যান্ডসের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয়। দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনারও দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের মূল কারণ ন্যাটোর ভবিষ্যৎ সামরিক কাঠামো। ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় এবং আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ নিরাপত্তাসংক্রান্ত অবকাঠামোয় ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইউরোপীয় মিত্ররা দ্রুত সেই সক্ষমতা অর্জন করুক, যাতে ইউরোপের নিরাপত্তায় ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমে।

কিন্তু লন্ডনের জন্য এখানেই তৈরি হয়েছে বড় দ্বন্দ্ব। যুক্তরাজ্যকে একদিকে রাশিয়ার সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপের কারণে প্রতিরক্ষা বাজেট দ্রুত বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। চ্যান্সেলর জন হিলি অক্টোবরের বাজেটে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ ব্যয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করবেন না বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা ও সামরিক চাপের কারণে ভুল হিসাব থেকে ন্যাটো ও মস্কোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও সম্পদের পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ফলে যুক্তরাজ্যের সামনে এখন এক জটিল কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখলে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে; আবার প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়তে পারে। ফকল্যান্ডস প্রশ্নে মার্কিন অবস্থানকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার খবর সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।

তবে রাশিয়ার হুমকিকে সরাসরি যুক্তরাজ্যে হামলা আসন্ন—এমন অর্থে দেখার সুযোগ নেই। মস্কো মূলত ব্রিটিশ অস্ত্র ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের রাশিয়ায় হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্য করার কথা বলেছে। একই সময়ে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন হলো, রাশিয়া ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যেতে চায় না; বরং হুমকি, নাশকতা ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পশ্চিমা জোটের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়ার প্রকাশ্য সামরিক হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়সংক্রান্ত কঠোর চাপ—দুই ঘটনাই ব্রিটেনের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির ওপর নতুন ধরনের চাপ তৈরি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কাঠামো, ফকল্যান্ডস এবং ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা বাজেট—এই চারটি ইস্যু এখন লন্ডনের জন্য পরস্পর জড়িত এক বড় কৌশলগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ

গ্রিসের আটককেন্দ্রে সংঘর্ষঃ বিচারের মুখে ২৩ বাংলাদেশি ও মিশরীয় আশ্রয়প্রার্থী

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রে পুলিশ ও আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশি ও মিশরীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আটক ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পালানোর চেষ্টা, পালানো, বিদ্রোহ এবং সম্পদের ক্ষতিসাধনের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিসের সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনি।

ইউরোপভিত্তিক অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্র্যান্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গ্রিসের ক্লিদি আটককেন্দ্রে গত শনিবার পুলিশের সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা শেষে আবার আটককেন্দ্রে ফিরেছেন। বাকি দুজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সংঘর্ষের সময় আটককেন্দ্রটিতে প্রায় ৪৫০ জন আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। তাদের আশ্রয়ের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কয়েকজন সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাদের কয়েকজনকে আবার আটক করা হয়েছে। অন্যদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার মুখে পড়া ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক বলে জানিয়েছে গ্রিসের সংবাদপত্র একাথিমেরিনি। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়; গ্রিসের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ক্লিদি আটককেন্দ্রের পরিবেশ ও ধারণক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি আশ্রয়প্রার্থী রাখা হয় এবং সেখানে বসবাসের পরিস্থিতিও যথাযথ মানের নয়। এর আগেও ওই আটককেন্দ্রে অস্থিরতার ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষের পর স্থানীয় পর্যায়ে আটককেন্দ্রটি বন্ধের দাবিও জোরালো হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সোমবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে একটি রেজ্যোলুশন অনুমোদন করেছে।

এদিকে গ্রিসে অভিবাসী আগমনের হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে বলে দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে ইনফোমাইগ্র্যান্টস। গত ১২ মাসে দেশটিতে অভিবাসীদের আগমন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গ্রিসে ৬১ হাজার ১১২ জন অভিবাসী পৌঁছেছিলেন। পরবর্তী ১২ মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৯৯৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগমন কমেছে প্রায় ১৯ হাজার ১১৪ জন।

গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী থানোস প্লেভরিসও জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতির দিকে এগোচ্ছে গ্রিস। মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে একটি ‘রিটার্ন হাব’ বা ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সমপদস্থ মন্ত্রীদের সঙ্গে কাজ করছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, তাদের ওই ধরনের কেন্দ্রে স্থানান্তর করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।

গ্রিসে আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ এবং আটককেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগ দেশটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে সরকার অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর সাফল্যের কথা তুলে ধরছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ, ধারণক্ষমতা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

সূত্রঃ ইনফোমাইগ্র্যান্টস বাংলা\ একাথিমেরিনি/ এএফপি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ভারতের অস্বস্তিঃ শ্রিংলার বক্তব্যে প্রকাশ পেল নয়াদিল্লির চাপ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে নিশানা করে ভারতের রাজ্যসভা সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার করা মন্তব্যকে ঘিরে এ আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক ২৪কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রিংলা ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতা নয়াদিল্লিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পারে।

শ্রিংলা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় অভিযোগ তুলে বলেন, ভারতের সম্মান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি ‘ছিনিমিনি খেলছেন’। তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনাবলি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতির বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

সাক্ষাৎকারে শ্রিংলা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে—এমন প্রসঙ্গও টেনে আনেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন মামলা এবং তরুণ বিপ্লবী ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দুই আসামিকে ভারত রক্ষা করছে—এমন অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

শ্রিংলার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতির পরিবর্তন নিয়ে। তিনি দাবি করেন, অতীতে ভারতের আহ্বানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সহজেই সাড়া দিলেও বর্তমানে আঞ্চলিক কূটনীতিতে পরিস্থিতি বদলেছে এবং আফগানিস্তানকে নিয়েও ভারতকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ পরিবর্তনের জন্যও তিনি তারেক রহমানকে দায়ী করেন।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও শ্রিংলা কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান অংশ না নিলেও ১০ সেপ্টেম্বরের আগে কেবল মধ্যাহ্নভোজের জন্য ভারতে এলেও ভারত তাকে যথেষ্ট আতিথেয়তা দিত। তার এই মন্তব্যকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে ভারতের প্রত্যাশা ও কূটনৈতিক আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, শ্রিংলার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ভূমিকা এখন কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে ভারতের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রশ্নে বিদেশি কোনো পক্ষের প্রত্যাশা বা চাপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

এদিকে শ্রিংলার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দিয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্যকে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানকে ঘিরে শ্রিংলার মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ব্রিকসকে ঘিরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিক টাইমস\ দ্য নিউ ইয়র্ক-২৪

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

জাকিনথসের অন্ধকার দিক ফের সামনেঃ ব্রিটিশ পর্যটককে হোটেলে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগ

গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ জাকিনথসে (জান্তে) এক ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী পর্যটককে হোটেল কক্ষে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৯ ও ২৮ বছর বয়সী দুই রোমানিয়ান পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক পুলিশ। অভিযোগের পাশাপাশি কথিত যৌন নিপীড়নের ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি জাকিনথসের লাগানাস এলাকায় একটি হোটেলে মঙ্গলবার ভোরে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে এবং পরে তাদের জাকিনথসের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে গ্রিক কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইমেরাজান্তে’ জানিয়েছে, ঘটনার একটি ভিডিও রয়েছে এবং সেটি ওই ব্রিটিশ নারীর করা অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ভিডিওটির প্রকৃত বিষয়বস্তু বা এর আইনগত গুরুত্ব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে জাকিনথসে পর্যটকদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে যৌন সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে দ্বীপটিতে পর্যটকদের ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও হাসপাতালকর্মীদের ইউনিয়নের মধ্যে তথ্যের পার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ জানিয়েছিল, তিন মাসে পর্যটকদের সংশ্লিষ্ট তিনটি ধর্ষণের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট হয়েছে।

তবে গ্রিসের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের ইউনিয়ন পিওইডিআইএনের সভাপতি মিচালিস ইয়ানাকোস দাবি করেছেন, তাদের হাসপাতালকর্মীরা মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে আটটি ধর্ষণের ঘটনা মোকাবিলা করেছেন। তার মতে, পর্যটন মৌসুমে মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা নারীদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তিনি পরিস্থিতিকে ‘ঘৃণ্য ও অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইয়ানাকোস আরও দাবি করেছেন, গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে জাকিনথসের হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন এবং তাদের বড় একটি অংশ পর্যটক। তিনি এর আগে এক ইতালীয় পর্যটক ধর্ষণের শিকার হওয়ার দাবিও করেন এবং জানান, ওই নারী এমন আঘাত পেয়েছিলেন যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল।

তবে হাসপাতাল ইউনিয়নের অভিযোগের পর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে জাকিনথস পুলিশ। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ধর্ষণ বা যৌন সহিংসতার অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রসিকিউটর, ফরেনসিক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়া তাদের অগ্রাধিকার।

এদিকে গ্রিসে যৌন সহিংসতার সামগ্রিক প্রবণতাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার ঘটনা ২০১০ সালের ৫১১টি থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১ হাজার ২৫০টিতে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ জাকিনথসের ঘটনায় দুই রোমানিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করাই আইনগতভাবে যথাযথ। ঘটনাটি দ্বীপটির পর্যটন নিরাপত্তা এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও সামনে এনেছে।

সূত্রঃ দ্য সান \ মিরর

এম.কে