যুক্তরাজ্য সরকারের নাগরিকত্বের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দুই শ্রেণির মানুষ সাধারণীকরণ বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই তারা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
প্রথম শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা সু-চরিত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেন না। নাগরিকত্বের আবেদন বিবেচনার সময় যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর আচরণ, সততা এবং আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে।
গুরুতর অপরাধের ইতিহাস, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন অথবা সরকারি কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা বা বিভ্রান্ত করার মতো কর্মকাণ্ড আবেদনকারীর চরিত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত হতে পারে।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির চার বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হয়ে থাকলে তিনি সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে অযোগ্য থাকবেন। তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ১২ মাস থেকে চার বছরের কম হলে দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে অন্তত ১৫ বছর অপেক্ষা করার নিয়ম রয়েছে।
অন্যদিকে, ১২ মাসের কম সময়ের কারাদণ্ড হলে আবেদনকারীকে দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে সাত বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এরপর অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করা সাপেক্ষে নাগরিকত্বের আবেদন করা যেতে পারে।
দ্বিতীয় শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনে নির্ধারিত বসবাসের শর্ত পূরণ করেননি। সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর আবেদন করার আগের পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত রয়েছে।
এই পাঁচ বছরের সময়ে আবেদনকারী যুক্তরাজ্যের বাইরে সর্বোচ্চ ৪৫০ দিন থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে আবেদন করার আগের শেষ ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকার সময় ৯০ দিনের বেশি হওয়া যাবে না।
ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করেছেন অথবা ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে সিভিল পার্টনারশিপে রয়েছেন—এমন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বসবাসের সময়সীমা কিছুটা কম। তাদের সাধারণত আবেদন করার আগের তিন বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হয় এবং ওই সময়ে যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকা যাবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।
নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আবেদনকারীর ওপর কোনো অভিবাসনকালীন সময়সীমা বা নিষেধাজ্ঞা থাকা যাবে না। পাশাপাশি, তাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে বসবাস বা কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ও দেখাতে হয়।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। আবেদনকারী নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করেছেন কি না, তা যাচাই করার পর নাগরিকত্বের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যারা গুড ক্যারেক্টারের শর্ত অথবা নির্ধারিত বসবাসের শর্ত পূরণ করেন না, তাদের যোগ্যতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যোগ্যতা পূরণ হওয়ার আগে আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকে না।
এদিকে ব্রিটিশ প্রোটেক্টেড পারসন মর্যাদা নিয়েও যুক্তরাজ্যের হোম অফিস নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে এই মর্যাদা হারাতে হয় এবং নতুন করে এই মর্যাদা অর্জনের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত প্রযোজ্য—সেসব বিষয়ও হোম অফিসের নির্দেশনায় তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রঃ ইয়েন ডটকম ডট জিএইচ
এম.কে

