ব্রিটেনের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এলাকার বাড়ির দাম গত এক বছরে কমেছে। সম্পত্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জুপলার হাউস প্রাইস ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট বাড়ির প্রায় ৩৫ শতাংশ এমন পোস্টকোড এলাকায় অবস্থিত, যেখানে গত এক বছরে বাড়ির মূল্য কমেছে। এক বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।
বাড়ির দাম কমার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে। এসব অঞ্চলের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়ি এমন পোস্টকোড এলাকায় রয়েছে, যেখানে গত এক বছরে সম্পত্তির মূল্য কমেছে। ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আবাসন বাজারগুলোতে বাড়ির মালিক ও বিক্রেতারা চাপের মুখে পড়েছেন।
জুপলার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মোট ১১৯টি পোস্টকোড এলাকার বাড়ির দামের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ৩৭টি এলাকায় গত এক বছরে মূল্য কমেছে। একই সময়ে আবাসন বাজারে বিক্রির চুক্তিও কমেছে। সাম্প্রতিক চার সপ্তাহে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়ি বিক্রির চুক্তি ৭ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, বিক্রির জন্য বাজারে তোলা বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ৭ শতাংশ।
তবে দেশের সব অঞ্চলে বাড়ির দাম কমেনি। যুক্তরাজ্যে বাড়ির গড় মূল্য বর্তমানে ২ লাখ ৭৩ হাজার ১০০ পাউন্ড, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বেশি। তুলনামূলক সাশ্রয়ী অঞ্চলগুলোতে দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে বাড়ির দাম ৩.২ শতাংশ বা গড়ে ৬ হাজার ৬০০ পাউন্ড বেড়েছে। স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকাতেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধকী ঋণের সুদের হার বেশি থাকায় বাড়ি কেনার খরচ বেড়েছে। এতে ক্রেতারা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্রেতা আকর্ষণ করতে বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতামূলক দামে বাড়ি বিক্রির চাপ বাড়ছে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, জুপলা হাউস প্রাইস ইনডেক্স, প্রপার্টি ইনভেস্টর টুডে ও মানি উইক
এমকে

