TV3 BANGLA
আমেরিকা

মার্কিন অর্থনীতি ‘টাইম বোমা’, ২০২৬ হতে পারে ভয়াবহ সংকটের বছর

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ বিশ্লেষক ও কন্ট্রারিয়ান ইনভেস্টর জিম রজার্স সতর্ক করেছেন মার্কিন অর্থনীতি একটি গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ২০২৬ সাল হতে পারে তার জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়ের বছর।
সম্প্রতি দেওয়া একাধিক বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, তিনি তার মালিকানাধীন প্রায় সব মার্কিন শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের “বুল মার্কেট” বা চাঙ্গা শেয়ারবাজার এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

রজার্স বলেন, “সম্ভবত খুব শিগগিরই শেষটা এসে যাবে।” তার ভাষায়, মার্কিন অর্থনৈতিক কাঠামো এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে বিপুল ঋণের চাপ ভবিষ্যতে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৮.৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঋণকে তিনি “টাইম বোমা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ইতিহাসে এত বড় ঋণের বোঝা নিয়ে দীর্ঘসময় টিকে থাকা কোনো দেশের জন্যই সহজ নয়। একসময় ঋণ শোধের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে পুরো অর্থনীতি সংকটে পড়তে পারে।

রজার্সের আশঙ্কা, সামনে যে সংকট আসছে তা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি তিনি এটিকে ১৯৩০-এর দশকের “গ্রেট ডিপ্রেশন” বা মহামন্দার সমপর্যায়ের সংকট হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে তিনি এখন সোনা ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। তার মতে, কাগজভিত্তিক সম্পদ যেমন মুদ্রা বা শেয়ারের মূল্য কমে গেলে সোনা ও রুপাই নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে।
রজার্স বলেন, “প্রত্যেকের আলমারিতে কিছু সোনা এবং বিছানার নিচে কিছু রুপা থাকা উচিত।”

তার বিশ্বাস, বর্তমানে রুপা সোনার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম দামে রয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে এতে বিনিয়োগের সুযোগ বেশি। তিনি জানান, তিনি নিজের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই সোনা ও রুপা ধরে রাখছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই জিম রজার্স বিশ্ব অর্থনীতি, কমোডিটি বাজার ও মুদ্রানীতির বিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তিনি মনে করেন, মার্কিন ডলারের আধিপত্য ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ হবে এশিয়ার, বিশেষ করে চীনের।

তার মতে, ১৯ শতক ছিল ব্রিটেনের, ২০ শতক ছিল আমেরিকার, আর ২১ শতক হবে এশিয়ার শতাব্দী।
১৯৯৯ সালে তিনি সিঙ্গাপুরে বসবাস শুরু করেন যাতে তার সন্তানরা মান্দারিন ভাষা শিখে বড় হতে পারে। তখন থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন, ভবিষ্যৎ বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র হবে চীন।

জিম রজার্স বিনিয়োগ জগতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ১৯৭০-এর দশকে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি যৌথভাবে “কোয়ান্টাম ফান্ড” গঠন করেন, যা কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ৪২০০ শতাংশ মুনাফা অর্জন করে। এরপর তিনি বিশ্ববাজার বিশ্লেষণ ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের জন্য বিশেষ খ্যাতি পান।

বিশ্লেষকদের মতে, কমোডিটি বাজারের উত্থান, জাপানের অর্থনৈতিক সংকট, ১৯৮৯ সালের নিক্কেই সূচকের ধস, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দাসহ একাধিক বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তন আগেভাগেই শনাক্ত করার কারণে রজার্সের বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ মহলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সূত্রঃ ফাইন্যান্স ইয়াহু ডট কম \ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

‘স্বৈরতন্ত্রের অংশ হতে চাই না’: মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়ার হিড়িক

জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় দোষী সাব্যস্ত সেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

কানাডায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ছে