ইংল্যান্ডে নিয়মিত হাসপাতাল চিকিৎসার অপেক্ষমাণ তালিকা জুলাইয়ে বেড়ে ৭৩ লাখ ৩০ হাজার চিকিৎসাতে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬২ লাখ ১০ হাজার। গত বছরের অক্টোবরের পর এটিই অপেক্ষমাণ তালিকার সর্বোচ্চ পর্যায়। জুনে অপেক্ষমাণ চিকিৎসার সংখ্যা ছিল ৭২ লাখ ৭০ হাজার এবং রোগীর সংখ্যা ছিল ৬১ লাখ ৫০ হাজার।
এনএইচএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষে নিয়মিত চিকিৎসা শুরুর জন্য ১ লাখ ১১ হাজার ৩৭৯ জন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন। জুনে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৭১১। একই সময়ে ৫২ সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করা রোগীদের হারও বেড়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে, যা জুনের ১ দশমিক ৪৫ শতাংশের চেয়ে বেশি।
অন্যদিকে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জরুরি বিভাগগুলোতে প্রায় ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি রোগী উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের হিসাবে, এটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে জরুরি বিভাগে রোগী উপস্থিতির সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার বেশি। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় রোগী উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ১০ লাখ।
এই সময়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবাতেও রেকর্ড চাহিদা দেখা যায়। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স কলআউটের সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৩ লাখ ২০ হাজারের তুলনায় বেশি। একই সময়ে এনএইচএস ১১১ সেবায় ৩০ লাখের কিছু বেশি কলের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের গ্রীষ্মে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরমের কারণে বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে। তীব্র গরম, বায়ুদূষণ, দাবানলের ধোঁয়া এবং দীর্ঘায়িত পরাগ মৌসুম শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে রেকর্ড চাহিদার মধ্যেও জরুরি বিভাগে চার ঘণ্টার মধ্যে রোগী দেখা, ভর্তি অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে এনএইচএস কর্মীরা সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী সামলেছেন। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ১৮২ জন রোগীকে চার ঘণ্টার মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।
নিয়মিত হাসপাতাল চিকিৎসার ক্ষেত্রে জুলাইয়ে ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী রেফারেলের ১৮ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছেন। জুনে এই হার ছিল ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চের জন্য সরকার ও এনএইচএস ইংল্যান্ড যে ৬৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, জুলাইয়ের হার তা ছাড়ালেও ২০২৯ সালের মধ্যে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে ৯২ শতাংশ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা অনেক কম।
সরকারের ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে নিয়মিত হাসপাতাল চিকিৎসার অপেক্ষমাণ রোগীদের ৯২ শতাংশকে রেফারেলের ১৮ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করার কথা। জুলাইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে অপেক্ষমাণ তালিকা ও দীর্ঘ অপেক্ষার সংখ্যা আরও কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব ইয়ভেট কুপার জানিয়েছেন, এনএইচএসের ওপর অতিরিক্ত চাহিদা এখন শুধু শীতকালেই সীমাবদ্ধ নেই। চরম তাপমাত্রার কারণে গ্রীষ্মকালেও স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। সরকার হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে ১৫০ কোটি পাউন্ড অর্থায়নের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে নতুন অপারেশন থিয়েটার, শিশুদের ওয়ার্ড এবং মাতৃসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত গরম মোকাবিলায় সক্ষম করার উদ্যোগও রয়েছে।
এনএইচএসের অপেক্ষমাণ তালিকা নিয়ে সর্বশেষ পরিসংখ্যান এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে গ্রীষ্মের অতিরিক্ত চাপ সামলানোর পাশাপাশি আসন্ন শীতকালীন চাপের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টাইমস এবং এনএইচএস ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যান
এম.কে

