TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট অন্তত তিন সপ্তাহ আগেই জানাবে এনএইচএস

হাসপাতালের চিকিৎসা, অপারেশন বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের ভোগান্তি কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস ইংল্যান্ড। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, চিকিৎসাপ্রত্যাশীরা তাদের নির্ধারিত অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ অন্তত তিন সপ্তাহ আগেই জানতে পারবেন।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী জিম ম্যাকি শুক্রবার এ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালগুলোর বর্তমান যোগাযোগব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রহণযোগ্য এবং এটি দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

নতুন উদ্যোগের আওতায় ইংল্যান্ডের ২০৫টি এনএইচএস ট্রাস্টকে আটটি নতুন ‘রোগীসেবা মানদণ্ড’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের জন্য ‘পাঁচ তারকা মানের’ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোগীরা এনএইচএস অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবেন তাদের পারিবারিক চিকিৎসকের (জিপি) পাঠানো রেফারেল সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গ্রহণ করেছেন কি না। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত হবেন যে তাদের নাম অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যারা অ্যাপ ব্যবহার করেন না, তাদের চিঠি বা টেক্সট বার্তার মাধ্যমে একই ধরনের তথ্য জানানো হবে।

বর্তমানে ইংল্যান্ডে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ প্রায় ৭০ লাখ অপারেশন, পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করছেন। ইতোমধ্যে ৪ কোটির বেশি মানুষ এনএইচএস অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

রোগীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে নতুন এই মানদণ্ড তৈরির সময় এনএইচএস ইংল্যান্ড অনলাইন খুচরা বিক্রেতা অ্যামাজন ও জন লুইসের গ্রাহকসেবা পদ্ধতি পর্যালোচনা করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান যেভাবে গ্রাহকদের অর্ডারের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেয়, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রোগীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জিম ম্যাকি বলেন, “প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে যেখানে এনএইচএসের সেবা নিতে গিয়ে তারা বিভ্রান্তি বা দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হয়েছে। এমনও হয়েছে, অনেক রোগী জানেন না তাদের রেফারেল আদৌ গৃহীত হয়েছে কি না। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে হলে প্রথমেই মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে। চিকিৎসা শুরুর আগেই রোগীদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হতে হবে স্পষ্ট, সহজ ও সময়োপযোগী। তথ্য পাওয়ার জন্য রোগীদের যেন বারবার যোগাযোগ করতে না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

রোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না পেয়ে উদ্বেগে থাকেন। কিংস ফান্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে প্রায় একজন তার অ্যাপয়েন্টমেন্টের নোটিশ নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পেয়েছেন। এছাড়া অনেক রোগী মাসের পর মাস কোনো ধরনের হালনাগাদ তথ্য না পাওয়ায় নিজেদের অবহেলিত বলে মনে করেছেন।

হেলথওয়াচ ইংল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন নীতি ও বহিঃসম্পর্ক পরিচালক উইলিয়াম পেট বলেন, নতুন মানদণ্ড রোগীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তার মতে, চিকিৎসার জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পুরো সময়জুড়ে রোগীদের সঙ্গে সম্মানজনক ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও সমান জরুরি।

তিনি বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজন নিজেই একটি মানসিক চাপের বিষয়। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করে তোলা সময়ের দাবি।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের আশা, নতুন যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর হলে রোগীদের উদ্বেগ কমবে, চিকিৎসা গ্রহণের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে চালু হলো প্রথম ‘সাইকেল স্ট্রিট’, গাড়ির চেয়ে অগ্রাধিকার সাইকেল আরোহীদের

যুক্তরাজ্যে শ্বেতাঙ্গদের থেকে এগিয়ে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীরা

ফ্রান্সের অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে তহবিল সহায়তা করবে যুক্তরাজ্য