Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ‘নৌকা থামাতে’ সমুদ্রেই নামবে অভিবাসনবিরোধীরাঃ ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা

ফ্রান্স থেকে ছোট নৌযানে করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ঠেকাতে নিজেদের নৌযান সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা করছে অভিবাসনবিরোধী একটি গোষ্ঠী। ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ নামের ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় গিয়ে অভিবাসীদের বহনকারী নৌযান আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস।

গোষ্ঠীটির সদস্যরা একটি ভাড়া করা নৌযান নিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। সেখানে তারা ফ্রান্স থেকে আসা অভিবাসীবাহী ছোট নৌযানের গতিপথে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এমনকি নৌযানগুলোকে ফ্রান্সের উপকূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিংবা ফরাসি কোস্টগার্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।

ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ‘দ্য সান অন সানডে’র গোপন অনুসন্ধানে পোর্টসমাউথে গত সপ্তাহে একটি বিক্ষোভে মুখোশধারী কয়েকজন সদস্যের মধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একজন অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর নৌকা থামাতে ব্যর্থ হলে নিজেরাই সরাসরি একটি নৌযান থামানোকে বিক্ষোভকারীরা বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তবে একই সূত্র সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি প্রাণঘাতী হতে পারে।

তবে ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’-এর নেতা ড্যানিয়েল থমাস, যিনি ‘ড্যানি টমো’ নামে পরিচিত, এই চ্যানেল অভিযানের পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এর আগে ফ্রান্সের সৈকতে পরিত্যক্ত অভিবাসীবাহী নৌযান কেটে ফেলার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। তাকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।

ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই নতুন এই পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর পোর্টসমাউথের ইস্টনি ডকে হ্যাম্পশায়ার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই সময় স্বেচ্ছাসেবী রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের নৌযানে করে তীরে আনা ১২০ জন অভিবাসীর অবতরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

পরে ওই আশ্রয়প্রার্থীদের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্ধারিত স্থাপনায় নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বহনকারী বাসগুলোকে কয়েকজন বিক্ষোভকারী অনুসরণ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

একই সময়ে ডোভারে অভিবাসনবিরোধী একটি মিছিলের কারণে শহরের কিছু অংশে যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যে মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ডোভারের ওই বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিক্ষোভকারীদের মুখোশ পরে রাস্তায় নামার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাম বা ডান—কোনো রাজনৈতিক বিক্ষোভেই মুখোশ পরে থাকা উচিত নয়।

নাইজেল ফারাজ ডোভারের পরিস্থিতিকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেন এবং মুখোশ পরে বিক্ষোভ করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস ও দ্য সান অন সানডে

এম.কে

Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

হোয়াইটচ্যাপেলে স্মারক ফলকে সম্মানিত বাংলাদেশি অগ্রদূত আইয়ুব আলী মাস্টার

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের হোয়াইটচ্যাপেলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইতিহাসের অন্যতম অগ্রদূত আইয়ুব আলী মাস্টারের সম্মানে একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রিটে ফলকটি উন্মোচন করা হয়।

১৯০০ সালে সিলেটে জন্ম নেওয়া আইয়ুব আলী মাস্টার ১৯২০-এর দশকে পূর্ব লন্ডনে বসতি স্থাপন করেন। কমার্শিয়াল স্ট্রিটে তিনি শাহ জালাল রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে এশীয় সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব লন্ডনে দক্ষিণ এশীয় নাবিক ও অভিবাসীদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আইয়ুব আলী মাস্টার। তার স্যান্ডিস রো-র ১৩ নম্বর বাড়িটিও লস্কর বা বাঙালি নাবিকদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কঠিন কর্মপরিবেশ ও চুক্তিগত বিধিনিষেধ থেকে পালিয়ে আসা নাবিকদের তিনি আশ্রয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতেন। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সহযোগিতা করতেন।

১৯৪৩ সালে আইয়ুব আলী মাস্টার ও শাহ আবদুল মজিদ কুরেশি ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রিটে ইন্ডিয়ান সিমেনস ওয়েলফেয়ার লীগের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় নাবিক ও অভিবাসীদের কল্যাণে সহায়তা আরও সংগঠিত করা হয়। বর্তমানে যে স্থানে স্মারক ফলকটি স্থাপন করা হয়েছে, সেটি ওই ঐতিহাসিক কার্যালয়ের কাছাকাছি।

আইয়ুব আলী মাস্টারের নাতনি পারুল হুসাইন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্মারক ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক আয়োজন নিয়ে তাদের পরিবার অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইয়ুব আলী মাস্টার ছিলেন ব্রিটেনে আসা প্রথমদিকের বাংলাদেশি অগ্রদূতদের একজন এবং ব্রিটেনে নতুন করে আসা বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বহু মানুষকে তিনি সহায়তা করেছিলেন। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় দক্ষ হওয়ায় তিনি অভিবাসীদের বিভিন্ন প্রয়োজনেও সহযোগিতা করতে পারতেন।

পারুল হুসাইন আরও বলেন, ১৯৪০-এর দশকে ইন্ডিয়ান সিমেনস ওয়েলফেয়ার লীগের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়ের জন্যও তার দাদা নিরলসভাবে কাজ করেছিলেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, আইয়ুব আলী মাস্টার ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। তার নিরলস প্রচেষ্টা বরোতে সম্প্রদায়ভিত্তিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল এবং একজন বিশ্বস্ত নেতা ও অধিকারকর্মী হিসেবে তিনি গভীর সম্মান অর্জন করেছিলেন। তার উত্তরাধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্থান ও ঘটনাকে স্মরণ করার জন্য ২০১৩ সালে তাদের ঐতিহাসিক স্মারক ফলক কর্মসূচি চালু করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় বাসিন্দারা প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে পারেন। আইয়ুব আলী মাস্টার এই উদ্যোগে বৈধ ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় টাওয়ার হ্যামলেটসজুড়ে এখন পর্যন্ত মোট আটটি স্মারক ফলক স্থাপন করা হয়েছে। এসব ফলকের মাধ্যমে তাসাদ্দুক আহমেদ, মার্জ হিউসন, নিকোলাস কালপেপার, আলফ্রেড হিচকক, টমি ফ্লাওয়ার্স, সওয়াবুল্লাহ মুন্সি ও ক্লারা গ্রান্টসহ স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো হয়েছে।

স্মারক ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আইয়ুব আলী মাস্টারের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সদস্যরাও ছিলেন। স্বাধীনতা ট্রাস্টের চেয়ার জুলি বেগম বলেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ব্রিটিশ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই সংগঠনটি কাজ করছে।

জুলি বেগম আরও বলেন, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীনতা ট্রাস্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। সংগঠনটির ২৫তম বার্ষিকীর সময়ে টাওয়ার হ্যামলেটসে আইয়ুব আলী মাস্টারের স্মারক ফলক উন্মোচনে সহযোগিতা করতে পেরে তারা গর্বিত।

তিনি জানান, আইয়ুব আলী মাস্টারের অবদানের স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছে। ব্রিটেনে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই তিনি স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনমতো মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে আসছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাধীনতা ট্রাস্ট সম্প্রতি বিনামূল্যে বাংলা ঐতিহ্যবিষয়ক পদযাত্রা চালু করেছে। এসব পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা আইয়ুব আলী মাস্টারের কর্মকাণ্ড ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইতিহাসের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আইয়ুব আলী মাস্টারের স্মারক ফলকটি ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রিটে ড্রুয়েট হাউসের পাশের দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানটি টাউন হলের কাছাকাছি হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের জন্যও সহজে দেখার সুযোগ রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান সিরিজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘নিয়ম মেনে ব্রিটেনে এসেছেন অভিবাসীরা’, কেয়ার কর্মীদের সেটেলমেন্টের পক্ষে ৮০ এমপি

ব্রিটেনে সামাজিক সেবা খাতের কর্মী সংকটের মধ্যে অভিবাসী পরিচর্যা কর্মীদের ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন বা স্থায়ী বসবাসের বর্তমান পথ বহাল রাখার দাবি জোরালো হয়েছে। লেবার পার্টির এমপি নীল ডানকান-জর্ডান জানিয়েছেন, তার উত্থাপিত পার্লামেন্টারি মোশনে ইতোমধ্যে ৮০ জন এমপি স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে ৪০ জনের বেশি লেবার এমপি রয়েছেন।

ডানকান-জর্ডানের বক্তব্য অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীদের জন্য বর্তমানে যে পথে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটি বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই মোশনে। তিনি সতর্ক করেছেন, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা বাড়ানো হলে সামাজিক সেবা খাতের বিদ্যমান কর্মী সংকট আরও জটিল হতে পারে।

ব্রিটেনে সামাজিক সেবা খাতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ডানকান-জর্ডান। তার দাবি, যারা ইতোমধ্যে এই খাতে কাজ করছেন, তাদের যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়ার পথ কঠিন করে এই কর্মী ঘাটতি কমানো সম্ভব নয়।

বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের জন্য পাঁচ বছরের যোগ্যতার সময়সীমা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘লো স্কিলড’ বা কম দক্ষ হিসেবে চিহ্নিত কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে বলে ডানকান-জর্ডান উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা সামাজিক সেবা খাতের সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে পরিচর্যা খাতে কাজ করা অভিবাসী কর্মীদের অবস্থান আরও অনিশ্চিত হলে কর্মী সংকট কমার পরিবর্তে তা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ডানকান-জর্ডান বলেন, পরিচর্যা খাতের পাশাপাশি পরিবহন ও চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও বিদেশ থেকে আসা কর্মীরা সরকারের নিয়ম মেনে যুক্তরাজ্যে কাজ করতে এসেছেন। তারা ভালো বিশ্বাসে দেশে এসে প্রয়োজনীয় কাজ করেছেন, নিয়ম মেনে চলেছেন এবং নিজেদের পরিবার ও জীবন এখানে গড়ে তুলেছেন।

তার বক্তব্য, পরে এসে অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসের শর্ত পরিবর্তন করা হলে যারা আগের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।

লেবার এমপি আরও বলেন, কম আয় করা কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ করার পরিকল্পনা একটি শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তিনি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা টিইউসির সাধারণ সম্পাদকের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। টিইউসি নেতৃত্ব এই পরিকল্পনাকে ‘মৌলিকভাবে অন্যায্য’ বলে সমালোচনা করেছে বলে তিনি জানান।

পরিচর্যা কর্মীদের ‘কম অবদান রাখা’ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ডানকান-জর্ডান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও পরিচর্যা কর্মীদের নিষ্ঠা ও দক্ষতার বিষয়ে ইতিবাচকভাবে কথা বলেছেন।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ডানকান-জর্ডান জানান, তার বাবাও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন এবং তার পূর্ণকালীন পরিচর্যার প্রয়োজন হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পরিচর্যা কর্মীদের মাধ্যমে তার বাবা সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

ডানকান-জর্ডানের মতে, সামাজিক সেবা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মানুষের প্রিয়জনদের মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তাই এই পেশাকে অবমূল্যায়ন না করে আরও মূল্যায়ন ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অভিবাসী পরিচর্যা কর্মীদের কম বেতনের জন্য তাদের দায়ী না করে বেতন ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, কাজটি কম বেতনের হলেও এটি দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের কাজ। তাই কর্মীদের যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ সীমিত করার পরিবর্তে তাদের কাজের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের নিজস্ব কর্মীশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করেছেন ডানকান-জর্ডান। তার মতে, তরুণদের কাছে পরিচর্যা পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে এটিকে সম্মানজনক ও যথাযথ বেতনের পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তবে তিনি বলেন, অভিবাসী পরিচর্যা কর্মীদের বিষয়টি শুধু অর্থনীতি বা কর্মী সংকটের হিসাব দিয়ে দেখা উচিত নয়। যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন, তারা পরিবার, সম্পর্ক ও স্থানীয় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছেন এবং সমাজের অংশ হয়ে উঠেছেন।

ডানকান-জর্ডান আরও বলেন, এসব মানুষকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে বারবার অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের মধ্যে ফেলা উচিত নয়। তার ভাষায়, তারা শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য আসা কর্মী নন; তারা ব্রিটেনের বিভিন্ন স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে ন্যাশনাল কেয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন ডানকান-জর্ডান। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং সেবা গ্রহণের সময় বিনামূল্যে একটি জাতীয় পরিচর্যা ব্যবস্থা সামাজিক সেবা খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামাজিক সেবা খাত নিয়ে ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। ডানকান-জর্ডান বলেন, নিজের বাবার পূর্ণকালীন পরিচর্যার অভিজ্ঞতার কারণে বার্নহ্যাম বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় সামনে নিয়ে এসেছেন।

তবে তার দাবি, সামাজিক সেবা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হলে পর্যাপ্ত পরিচর্যা কর্মী নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথ কঠিন করার পরিকল্পনা সেই লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ডানকান-জর্ডান বলেন, বর্তমান ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা অর্জিত সেটেলমেন্ট পরিকল্পনার বিরোধিতা শুধু অর্থনীতি ও জনসেবার প্রয়োজনের কারণে নয়; এটি ব্রিটেন কী ধরনের দেশ হতে চায়, সেই প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের তৈরি করা সমস্যা না হলেও বিষয়টি তার নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান পরিকল্পনার ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেষ পর্যন্ত নীল ডানকান-জর্ডান বর্তমান পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার উত্থাপিত পার্লামেন্টারি মোশনে ৮০ এমপির সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি অভিবাসী কর্মীদের বর্তমান স্থায়ী বসবাসের পথ বহাল রাখার দাবির পার্লামেন্টারি সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ নীল ডানকান-জর্ডান এমপির নিবন্ধ ও বক্তব্য

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনাঃ মিছিল হতে গ্রেপ্তার ৩

ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী ও বর্ণবাদবিরোধী পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৭৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন, যাকে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে রাখার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পোর্টসমাউথ শহরের কেন্দ্রস্থলে শনিবারের এই বিক্ষোভে দুই পক্ষের কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, নতুন ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্টের আওতায় বিক্ষোভে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কার্যকর হয়েছে, যাতে কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন থাকে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে নতুন ক্ষমতা কার্যকর হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সব পক্ষের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।

এদিন পোর্টসমাউথ শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রথমে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। পরে স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম সংগঠনের সমর্থকেরা পাল্টা মিছিল করেন। দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত গিল্ডহল স্কয়ারের দিকে যায়। সেখানে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ তাদের আলাদা করে রাখে।

প্রায় ৫০০ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী কমার্শিয়াল রোডের অল সেইন্টস চার্চের বাইরে জড়ো হন। তাদের অনেকে ইউনিয়ন ও সেন্ট জর্জ পতাকা বহন করেন। কিছু বিক্ষোভকারী পোর্টসমাউথ প্যাট্রিয়ট লেখা পোশাক পরেছিলেন। পরে তারা ‘স্টপ দ্য বোটস’ বা ‘নৌকা থামাও’ স্লোগান দিতে দিতে গিল্ডহল স্কয়ারের দিকে মিছিল করেন।

অন্যদিকে, প্রায় ৩০০ মানুষ বর্ণবাদবিরোধী পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন। পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়।

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পোর্টসমাউথের ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে সড়ক চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও অপরাধমূলকভাবে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকেও সহিংস বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। গত রোববার ইস্টনি মেরিনায় হওয়া একই ধরনের বিক্ষোভের সঙ্গে ওই কিশোরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইস্টনি মেরিনায় বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেদিন শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা আটকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ডিঙি নৌকায় আসা ১২০ অভিবাসীকে বহনকারী কোচগুলোকে শহর থেকে বের হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আগের সপ্তাহের বিশৃঙ্খলা সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, সে সময় তাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোস্টগার্ড ও বর্ডার ফোর্সের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে চিকিৎসা নিলেও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর বিক্ষোভে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মুখ ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে নতুন ক্ষমতা ব্যবহারের ঘোষণা দেয় পুলিশ। হ্যাম্পশায়ার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল পল বার্তোলোমিও বলেন, এই ক্ষমতা বিক্ষোভ বন্ধ করার জন্য নয়; অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যেকোনো দলের ক্ষেত্রেই ক্ষমতাটি সমান ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হবে।

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার ডোনা জোন্স বলেন, শনিবারের বিক্ষোভ বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিনি আগের বিক্ষোভে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম পোর্টসমাউথের সাইমন ম্যাগোরিয়ান বলেন, ইস্টনির আগের বিক্ষোভ ছিল একটি ‘ভয়াবহ দৃশ্য’। তিনি পোর্টসমাউথকে একটি বহুসাংস্কৃতিক শহর হিসেবে উল্লেখ করে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন।

অন্যদিকে, অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী পিট ডেভিস বলেন, তিনি ইস্টনির আগের বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ফ্রান্সে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং অভিবাসীদের জন্য সরকারি সুবিধা ও আবাসন বন্ধ করার দাবি জানান।

আগের ঘটনাগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিবাসীদের তীরে পৌঁছাতে সহায়তা করা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন বা আরএনএলআইয়ের স্বেচ্ছাসেবকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পোর্টসমাউথের ঘটনাগুলোর আগে ডোভার বন্দরেও পৃথক একটি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। একই সময়ে স্ট্যাফোর্ডশায়ার পুলিশ ট্যামওয়ার্থে একটি বিক্ষোভে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেখানে ব্রিটেন ফার্স্ট ‘মার্চ ফর রিমিগ্রেশন’ নামে কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ট্যামওয়ার্থের কর্মসূচি কোনো ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় এবং সেখানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, নর্থাম্ব্রিয়া পুলিশও শনিবার নিউক্যাসল শহরের কেন্দ্রে একই ধরনের মুখ ঢাকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছিল।

পোর্টসমাউথে নতুন বিক্ষোভের পর পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। তবে শনিবারের বিক্ষোভে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতের ব্রিকসে অঘটন শুরুঃ দিল্লির পাঁচতারকা হোটেলে পাইলটের মরদেহ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে যখন ব্যাপক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, ঠিক সেই সময় শহরের অভিজাত বসন্ত কুঞ্জ এলাকার একটি পাঁচতারকা হোটেল থেকে এক পাইলটের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহত পাইলটের নাম সানি আসালদেকার। ঘটনাটি ঘটেছে ‘হোটেল দ্য গ্র্যান্ড’-এ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর হোটেলটিতে ওঠেন সানি আসালদেকার। পরদিন তার ভাই হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, সানি তার ফোনকলের জবাব দিচ্ছেন না। বিষয়টি জানার পর হোটেল ম্যানেজার তার কক্ষে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত মাস্টার কি ব্যবহার করে কক্ষের দরজা খোলা হলে সানিকে ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৪ ধারায় অপমৃত্যু তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। এ ধরনের তদন্তে মৃত্যুর পরিস্থিতি, ঘটনাস্থল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হয়। পুলিশ হোটেলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা হোটেলের কক্ষ, প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত্যুর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কথা নিশ্চিত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফলের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারত ২০২৬ সালের জন্য ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে এবং সম্মেলনের মূল আয়োজন হচ্ছে ভারত মণ্ডপমে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কো-অপারেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’—অর্থাৎ স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া।

ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনে সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হিসেবে রয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে ২৫টির বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনসহ ফরেনসিক তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘটনাটির প্রকৃতি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টে ৭ দিনের ধর্মঘটঃ যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে বেতন নিয়ে বিরোধের জেরে ২২০ কর্মী সাত দিনের ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা এসব কর্মী দুই দফায় কর্মবিরতি পালন করবেন। এর ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ওঠানামা ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে বলে জানিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনাইট।

ধর্মঘটের প্রথম দফা চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত কর্মীরা কর্মবিরতি পালন করবেন।

এই কর্মীরা উইলসন জেমসের অধীনে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটি গ্যাটউইক বিমানবন্দরের হয়ে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা প্রদান করে। ইউনাইটের দাবি, কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি যে বেতন প্রস্তাব দিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

ইউনিয়ন জানিয়েছে, ধর্মঘটের কারণে বিশেষ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের বিমানে ওঠা এবং বিমান থেকে নামার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এর প্রভাব স্বল্পপাল্লা ও দীর্ঘপাল্লার উভয় ধরনের ফ্লাইটের ওপর পড়তে পারে এবং ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাটউইকসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ব্যবস্থা সচল হলেও ওইদিন সন্ধ্যা এবং ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল পর্যন্ত অনেক যাত্রী বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। পরে বিমান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

বেতন চুক্তি নিয়ে ইউনাইট জানিয়েছে, উইলসন জেমস দুই বছরের জন্য ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, ০ দশমিক ৬ শতাংশ বোনাস এবং পেনশনে ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ইউনিয়ন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইউনাইটের দাবি, উইলসন জেমসের কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া কেউ কেউ ঘণ্টায় ১৪ দশমিক ৭১ পাউন্ড পান। ইউনিয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে বহু বছর ধরে কম বেতনের সমস্যা রয়েছে এবং কর্মীদের কাজের দায়িত্ব ও পরিশ্রমের তুলনায় প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়।

ইউনাইটের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, উইলসন জেমস একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ প্রতিফলন ঘটায় এমন বেতন চুক্তি দেওয়ার সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাটউইক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এসব কর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা যাত্রীদের বিমানে ওঠা ও বিমান থেকে নামার ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। বিমানবন্দরের ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইউনাইটের দাবি, উইলসন জেমসের কর দেওয়ার আগের মুনাফা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড। এই মুনাফার তথ্য উল্লেখ করে ইউনিয়ন বলেছে, কর্মীদের জন্য আরও ভালো বেতন চুক্তি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।

ইউনাইটের আঞ্চলিক কর্মকর্তা বেন ডেভিস বলেন, কর্মীদের জন্য আরও ভালো বেতন চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউনিয়ন কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে উইলসন জেমস এখন পর্যন্ত কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

বেন ডেভিস আরও বলেন, ধর্মঘটের কারণে গ্যাটউইকের বিভিন্ন সেবায় অনিবার্যভাবে বিঘ্ন ঘটবে। তবে তার দাবি, এর জন্য উইলসন জেমসের পক্ষ থেকে কর্মীদের ন্যায্য বেতন প্রস্তাব দিতে ব্যর্থতাই দায়ী।

ইউনাইট জানিয়েছে, ধর্মঘট এড়ানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে এর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমান প্রস্তাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত একটি বেতন চুক্তি দিতে হবে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য উইলসন জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাই লন্ডন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

একজন অভিবাসীর জন্য পুরো বিমানঃ যুক্তরাজ্যে সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে সমালোচনার ঝড়

ফ্রান্সে মাত্র একজন অভিবাসীকে ফেরত পাঠাতে একটি পুরো যাত্রীবাহী বিমান চার্টার করার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যের অভিবাসন প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে হোম অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি একটি চার্টার ফ্লাইটে মাত্র একজনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয় এবং ওই ফ্লাইটে করদাতার ব্যয় হয়েছে কয়েক দশমিক হাজার পাউন্ড।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠাতে মোট ৭৪টি চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এসব ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৮৩৫ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে বিভিন্ন দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড।

এই হিসাবে প্রতিটি চার্টার ফ্লাইটে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পাউন্ড খরচ হয়েছে। আর প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেক ব্যক্তির হিসাবে গড় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার পাউন্ড। ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ অবশ্য হিসাব করে প্রতি ব্যক্তির জন্য প্রায় ৪ হাজার ৪৮৫ পাউন্ড খরচের কথা উল্লেখ করেছেন।

৭ জানুয়ারির ফ্রান্সগামী ওই ফ্লাইটটি শুরুতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থার আওতায় কয়েকজন অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নির্ধারিত যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কেন তাদের সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এরপর চার্টার করা বিমানটি বাতিল না করে একজন অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই একমাত্র যাত্রীর জটিল শারীরিক চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, নির্ধারিত চুক্তির কারণে বিমানটি যাত্রী ছাড়াই পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে হোম অফিস বিমানটি ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অনিয়মিত চ্যানেল অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ফ্রান্সগামী ওই ফ্লাইটটি প্রথমে নির্ধারিত হয়েছিল।

চার্টার ফ্লাইটের গন্তব্য হিসেবে আলবেনিয়া ছিল সবচেয়ে বড়। এক বছরে আলবেনিয়ায় ৪২টি চার্টার ফ্লাইটে মোট ১ হাজার ৮১০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এসব ফ্লাইটে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৮ লাখ পাউন্ড। সবচেয়ে বড় একটি ফ্লাইটে একসঙ্গে ৭৪ জনকে আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

এরপর রোমানিয়া ছিল বড় গন্তব্যগুলোর একটি। সাতটি চার্টার ফ্লাইটে দেশটিতে ৩২৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সে এক বছরে ১৪টি চার্টার ফ্লাইট পরিচালিত হলেও এসব ফ্লাইটে মোট ২৮২ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতগামী তিনটি ফ্লাইটে ১৩৬ জন এবং নাইজেরিয়া ও ঘানাগামী দুটি ফ্লাইটে ৯৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়।

তথ্যে আরও দেখা যায়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও চার্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। পোল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে মাত্র আটজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা একক যাত্রীর ফ্রান্সগামী ফ্লাইটের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন যাত্রীসংখ্যার ফ্লাইট ছিল।

ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই খরচে আরও বেশি সংখ্যক অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হওয়া উচিত ছিল। তিনি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেগুলোর খরচ চার্টার ফ্লাইটের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।

ফিলপ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন বা বিদেশি অপরাধীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তাদের কয়েকটি এই চার্টার ফ্লাইটের তালিকায় কেন নেই। তিনি জ্যামাইকা, নাইজেরিয়া ও ইরাকের নাম উল্লেখ করেছেন।

তবে প্রকাশিত ১ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ডের হিসাব দিয়ে যুক্তরাজ্যের সব প্রত্যাবাসন ব্যয় বোঝা যায় না। হোম অফিসের এই পরিসংখ্যানের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই। একইভাবে প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যয়ও এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

হোম অফিস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে ৮০ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। দপ্তরটির বক্তব্য, বিদেশি অপরাধী ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

হোম অফিসের এই অবস্থানের পাশাপাশি চার্টার ফ্লাইট ব্যবহারের খরচ, ফ্লাইটপ্রতি যাত্রীসংখ্যা এবং নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পরিবর্তে বিশেষ বিমান ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একক যাত্রী বহনকারী ফ্রান্সগামী ফ্লাইটের তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আমেরিকা বাংলাদেশ

বাংলাদেশি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়ার সুযোগঃ আবেদনের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশের ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি (YES) প্রোগ্রাম। ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য এই কর্মসূচিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস জানিয়েছে, এটি একটি কঠোর মেধাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিস্টার অবস্থান করে একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। একই সময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হোস্ট পরিবারের সঙ্গে বসবাস করবেন এবং দেশটির শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
YES প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়মূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। কর্মসূচির কার্যক্রমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সুশাসন, ব্যবসা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও জানার সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রোগ্রামটিতে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছর হতে হবে এবং নির্বাচন হবে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে।
স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদনের শেষ সময় বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪টা (বাংলাদেশ সময়)। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে।
আবেদনের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অফিসিয়াল লিংকে প্রবেশ করুন:
YES প্রোগ্রাম—আবেদন ও বিস্তারিত তথ্য https://bd.usembassy.gov/the-u-s-embassy-is-accepting-applications-for-the-kennedy-lugar-youth-exchange-and-study-yes-program-spring-semester-2027/?fbclid=IwdGRzaAUSjD1jbGNrBRKMNHBkb2YFZXh0bgNhZW0CMTEAc3J0YwZhcHBfaWQMMzUwNjg1NTMxNzI4AAEeErwgSVUDzwf2R_LSqRWg5XJmlb7KuHufRTZUxpkQqMwgvyNKd9jklqdByCc_aem_khzrbCKInAxzf-YnHr_1gQ&sfnsn=wa
শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগ্যতার শর্ত, নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য ভালোভাবে পড়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট—U.S. Embassy in Bangladesh
এম.কে
Categories
আন্তর্জাতিক ফিচার

রোমানিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মঃ চাকরির তথ্য যাচাই হবে অনলাইনেই

বিদেশি কর্মীদের রোমানিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করতে চালু হয়েছে সরকারি ‘ওয়ার্ক ইন রোমানিয়া’—ওয়ার্কইনরোমানিয়া ডট গভ ডট রো প্ল্যাটফর্ম। রোমানিয়া সরকারের এই প্ল্যাটফর্মে বিদেশি কর্মীরা দেশটিতে কাজের আইনগত শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া, বেতন, কর্মপরিবেশ, আবাসন এবং অধিকার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। একই সঙ্গে অনুমোদিত নিয়োগ এজেন্সি ও নিবন্ধিত নিয়োগদাতার তথ্যও যাচাই করা যাবে।

সরকারি প্ল্যাটফর্ম: WorkinRomania.gov.ro

নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো অনলাইনে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। রোমানিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগদাতারা প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে, নির্দিষ্ট চাকরির অফার আপলোড করতে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য একক আবেদন জমা দিতে এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়োগদাতা ও নিয়োগ এজেন্সির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চাকরির প্রস্তাবটি বাস্তব ও আনুষ্ঠানিক কি না, নিয়োগদাতা নিবন্ধিত কি না এবং নিয়োগ এজেন্সিটি অনুমোদিত কি না, এসব তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে বিদেশি কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট অংশে অনুমোদিত নিয়োগ এজেন্সি যাচাই এবং শোষণ বা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

২০২৬ সাল থেকে রোমানিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রধানত ডি/এএম১ (D/AM1) এবং ডি/এএম২ (D/AM2) ধরনের কর্মভিসা ব্যবস্থার কথা সরকারি প্ল্যাটফর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। ডি/এএম১ মূলত উচ্চ দক্ষতার কর্মী এবং নির্দিষ্ট বিশেষ শ্রেণির কর্মীদের জন্য। এর মধ্যে আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ, ব্যবস্থাপকসহ উচ্চশিক্ষা বা উন্নত পেশাগত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

ডি/এএম১ ভিসার ক্ষেত্রে রোমানিয়ার নিয়োগদাতাকেই ওয়ার্কইনরোমানিয়া ডট গভ ডট রো প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করে নির্দিষ্ট চাকরির অফার জমা দিতে হয়। এরপর বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য একক আবেদনও নিয়োগদাতা অনলাইনে জমা দেন। চাকরির অফারে পদ বা পেশার নাম, দায়িত্ব, বেতন, কর্মঘণ্টা, চুক্তির মেয়াদ, কর্মস্থল এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক শর্ত উল্লেখ থাকতে হয়।

অন্যদিকে ডি/এএম২ (D/AM2) ভিসা স্থায়ী, মৌসুমি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ করা বিদেশি কর্মীদের নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ভিসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পেশাটি রোমানিয়ার শর্টেজ অকুপেশনস লিস্ট, অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে এমন পেশার তালিকায় থাকতে হবে। সাধারণ নিয়মে নিবন্ধিত নিয়োগদাতাকে অনুমোদিত বিদেশি কর্মী নিয়োগ এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে কোনো কোনো নিয়োগদাতা সরাসরি নিয়োগের জন্য অনুমোদিত নিয়োগদাতা হিসেবে আবেদন করতে পারেন।

বিদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো ‘সিঙ্গেল অ্যাপ্লিকেশন’ বা একক আবেদন। এই আবেদনের মাধ্যমে একসঙ্গে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত শর্ত, নিয়োগদাতার তথ্য, কর্মীর তথ্য এবং কর্মভিসা ও পরবর্তী অবস্থান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠানো হয়। তবে এই একক আবেদন বিদেশি কর্মী নিজে জমা দেন না; ডি/এএম১-এর ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা এবং ডি/এএম২-এর ক্ষেত্রে অনুমোদিত নিয়োগ এজেন্সি অথবা যোগ্য অনুমোদিত নিয়োগদাতা আবেদনটি জমা দেন।

চাকরির অফারে শুধু পদ ও বেতন নয়, কর্মঘণ্টা, চুক্তির মেয়াদ, ছুটি, কর্মপরিবেশ, কর ও সামাজিক অবদান, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, আবাসন, পরিবহন এবং দেশে ফেরার ব্যবস্থা থাকলে সেগুলোর তথ্যও উল্লেখ থাকতে পারে। কর্মসংস্থান চুক্তি রোমানিয়ান ভাষার পাশাপাশি কর্মী যে ভাষা বোঝেন, সেই ভাষা অথবা বোঝার মতো কোনো আন্তর্জাতিক ভাষায় उपलब्ध থাকতে হবে।

বিদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। সরকারি প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী, একই ধরনের কাজ করা রোমানিয়ান কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য বেতন, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মান বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। বেতন কর্মীর ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনুমোদিত নিয়োগ এজেন্সি বিদেশি কর্মীর কাছ থেকে রোমানিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগের জন্য কমিশন, ফি, চার্জ, জামানত বা ডিপোজিট নিতে পারবে না।

কোনো নিয়োগদাতা আবাসনের ব্যবস্থা করলে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাড়া কর্মীর নেট বেতন বা নেট পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। নিয়োগের মাধ্যমে আসা কর্মীদের নির্দিষ্ট তথ্য রোমানিয়ায় যাওয়ার অন্তত ১০ দিন আগে তাদের নিজ দেশের ভাষা অথবা তারা বোঝেন এমন ভাষায় জানানোর বিধানও রয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ ও নির্যাতনের ঘটনা গোপনীয়তার সঙ্গে রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

রোমানিয়ার সরকারি প্ল্যাটফর্মে নিয়োগদাতা হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। সাধারণভাবে নিয়োগদাতার রাষ্ট্রীয় বাজেটের কাছে বকেয়া থাকা যাবে না এবং শ্রম সম্পর্ক, শোষণ, জাতীয় নিরাপত্তা বা ইচ্ছাকৃত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধের জন্য দণ্ডিত হওয়া যাবে না। ডি/এএম২-এর ক্ষেত্রে ঘাটতি পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ খাতে অন্তত এক বছরের কার্যক্রমের শর্তও রয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নিয়োগদাতা হিসেবে সরাসরি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে আরও কঠোর শর্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আবেদন করার আগে অন্তত ২৪ মাসের নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রম থাকতে হবে, আগের বছরে গড়ে কমপক্ষে ৫০ জন কর্মী থাকতে হবে এবং বিদেশি কর্মীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণ করতে হবে। অনুমোদিত নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মীর সংখ্যার ভিত্তিতে আর্থিক গ্যারান্টিও দিতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই গ্যারান্টি প্রতি বিদেশি কর্মীর জন্য ১ হাজার ইউরো।

নিয়োগদাতা হিসেবে সরাসরি অনুমোদনের আবেদন করলে রোমানিয়ার এএনওএফএম (ANOFM) সর্বোচ্চ ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ নিয়োগদাতা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মে আবেদন জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার তথ্যও সরকারি ওয়েবসাইটে রয়েছে। আবেদনকারীরা ‘মাই রিকোয়েস্টস’ অংশ থেকে আবেদনের অবস্থা অনুসরণ করতে পারবেন।

বিদেশি কর্মী হিসেবে আবেদন করার আগে তাই সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত এজেন্টের কথায় অর্থ পরিশোধ না করে প্রথমে সরকারি প্ল্যাটফর্মে নিয়োগদাতা ও অনুমোদিত নিয়োগ এজেন্সির তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্ল্যাটফর্মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সেখানে দেওয়া তথ্য মূলত নির্দেশনা ও তথ্যের জন্য; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য আইন, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।

চাকরি ও বিদেশি কর্মী সংক্রান্ত সরকারি তথ্য: বিদেশি কর্মীদের জন্য Work in Romania

নিয়োগদাতা ও চাকরির অফার যাচাই: নিয়োগদাতাদের সরকারি পোর্টাল

ভিসা ও একক আবেদনের তথ্য: ভিসা ও থাকার সরকারি তথ্য

নিয়োগদাতা নিবন্ধনের সরকারি পেজ: Work in Romania-তে নিয়োগদাতা নিবন্ধন

রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ই-ভিসা তথ্য: রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টাল

বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নিয়োগের তথ্য এক জায়গায় আনা, অনলাইন আবেদন ও যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করা এবং নিয়োগদাতা ও কর্মী—উভয় পক্ষের জন্য আইনগত প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা। তবে চাকরির কোনো অফার বৈধ কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ওয়ার্কইনরোমানিয়া ডট গভ ডট রো-তে নিবন্ধিত নিয়োগদাতা, অনুমোদিত এজেন্সি এবং চাকরির শর্ত যাচাই করে নেওয়াই সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ।

সূত্রঃ রোমানিয়া সরকারের Work in Romania প্ল্যাটফর্ম এবং রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের eViza পোর্টাল।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসায় নতুন সুযোগঃ তবে বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক চুক্তি বাধ্যতামূলক

ব্রিটেনে সাময়িকভাবে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের একটি বিশেষ ব্যবস্থা হলো গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি: সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা। বিদেশে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ব্যবসায়িক চুক্তি বা বিনিয়োগের অংশ হিসেবে কর্মীকে ব্রিটেনে পাঠানোর প্রয়োজন হলে এই রুট ব্যবহার করা যায়। ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল চালু হওয়া গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি ব্যবস্থার পাঁচটি রুটের মধ্যে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা একটি।

ফ্রি মুভমেন্টের ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ভিসা তুলনামূলকভাবে খুব কম ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৩৬ হাজার স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাছে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার রুটে স্পনসর লাইসেন্স রয়েছে।

এই রুটে কর্মীর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা ব্রিটেনে আসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের বা সেটেলমেন্টের পথ তৈরি করে না।

এই রুটের অন্যতম সুবিধা হলো স্পনসর প্রতিষ্ঠানকে ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ দিতে হয় না। বর্তমানে সাধারণভাবে এই চার্জের পরিমাণ প্রতি কর্মীর জন্য বছরে ১ হাজার ৩২০ পাউন্ড। এছাড়া এই রুটে সাধারণ বেতনসীমা বা নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ পূরণের শর্ত নেই। তবে কর্মীকে ব্রিটেনের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি আইন অনুযায়ী বেতন দিতে হবে।

বর্তমানে আবেদনকারীর জন্য ইংরেজি ভাষার কোনো বাধ্যতামূলক শর্তও নেই। তবে সরকারের হোয়াইট পেপারে ভবিষ্যতে এই নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হবে এবং ব্রিটেনে যে পদে কাজ করবেন সেটি গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের, অর্থাৎ আরকিউএফ লেভেল ৬ বা তার বেশি দক্ষতার হতে হবে।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসার জন্য আবেদনকারীকে মোট ৪০ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। এর মধ্যে স্পনসরশিপের জন্য ২০ পয়েন্ট এবং উপযুক্ত দক্ষতার স্তরের চাকরির জন্য আরও ২০ পয়েন্ট দেওয়া হয়।

স্পনসর প্রতিষ্ঠানের কাছে এ-রেটেড গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি: সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার স্পনসর লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের একটি বিদেশি ব্যবসার সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের যোগ্য চুক্তি থাকতে হবে।

চুক্তিটির আওতায় পণ্য বা বিনিয়োগের মূল্য বছরে কমপক্ষে ১ কোটি পাউন্ড এবং মোট মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি পাউন্ড হতে হবে। চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছরের কম হলে মোট মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি পাউন্ড হতে হবে। মেয়াদ পাঁচ বছর বা তার বেশি হলে প্রতি বছর চুক্তির মূল্য কমপক্ষে ১ কোটি পাউন্ড হতে হবে। নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছরে মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি পাউন্ড হতে হবে।

স্পনসর লাইসেন্সের আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট চুক্তির প্রমাণ হোম অফিসে জমা দিতে হয়। লাইসেন্স অনুমোদিত হওয়ার পর ওই নির্দিষ্ট চুক্তির অধীনে কাজ করা কর্মীদের জন্যই সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ বা সিওএস দেওয়া যায়।

অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে এই রুটে আনতে হলে নতুন চুক্তির তথ্য হোম অফিসে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। আগের স্পনসর লাইসেন্স থাকলেই নতুন চুক্তির আওতায় সরাসরি সিওএস দেওয়া যায় না। চুক্তি অনুমোদনের আগে সিওএস দেওয়া হলে স্পনসর লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন চুক্তি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পনসরকে স্পনসর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অ্যাকাউন্টে ‘রিকোয়েস্ট চেঞ্জ অব সারকামস্ট্যান্স’ অপশন ব্যবহার করতে হয়। সেখানে চুক্তির অনুমোদন এবং সিওএস বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসার আবেদনে সিওএস সঠিকভাবে তৈরি ও বরাদ্দ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সের আবেদনের জন্য আনডিফাইন্ড সিওএস প্রয়োজন। সিওএসের চাকরির বিবরণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয় যে কর্মীকে সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার রুটে স্পনসর করা হচ্ছে।

সিওএসে উপযুক্ত স্ট্যান্ডার্ড অকুপেশনাল ক্লাসিফিকেশন বা এসওসি কোড নির্বাচন করতে হয়। স্পনসর যদি কর্মীর বেতন সরাসরি না দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বেতনের ঘরে ০.০১ পাউন্ড উল্লেখ করে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট চুক্তির নাম ও মেয়াদও সিওএসে উল্লেখ করতে হয়।

কর্মীর আবেদন বৈধ করতে আবেদন ফি পরিশোধ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ, বায়োমেট্রিকস, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৈধ সিওএস জমা দিতে হয়। সিওএস আবেদনের তারিখের তিন মাসের বেশি আগে ইস্যু করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। যোগ্য আবেদনকারীরা ইউকে ইমিগ্রেশন: আইডি চেক অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

ব্রিটেনের ভেতর থেকেও নির্দিষ্ট শর্তে এই রুটে পরিবর্তন করা যায়। তবে আবেদনকারী সর্বশেষ যদি ভিজিটর, সিজনাল ওয়ার্কার বা শর্ট-টার্ম স্টুডেন্টের মতো স্বল্পমেয়াদি ভিসায় ব্রিটেনে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে এই রুটে পরিবর্তন করা যাবে না।

৮ এপ্রিল ২০২৬ বা তার পরে এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করা হলে আবেদনকারীকে ব্রিটেনের বাইরে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানে মোট কমপক্ষে ছয় মাস কাজ করতে হবে। এর আগে আবেদনের ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম সময় ছিল ১২ মাস।

তবে যারা ব্রিটেনের ভেতর থেকে একই রুটে ভিসা বাড়াচ্ছেন এবং আগের অনুমতিতে একই স্পনসরের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বিদেশি কাজের শর্ত প্রযোজ্য নয়।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কারকে অবশ্যই আরকিউএফ লেভেল ৬ বা গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের চাকরিতে স্পনসর করা হতে হবে। আবেদনকারীর নিজের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক নয়; তবে তিনি যে কাজ করবেন সেটি অবশ্যই ওই দক্ষতার স্তরের হতে হবে।

গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি রুটে যোগ্য চাকরিগুলো অ্যাপেন্ডিক্স স্কিলড অকুপেশনস-এর নির্দিষ্ট তালিকায় রয়েছে। স্পনসরকে উপযুক্ত এসওসি কোড নির্বাচন করতে হয় এবং শুধু কোনো কোড ভিসার জন্য যোগ্য হওয়ার কারণে কম উপযুক্ত কোড বেছে নেওয়া যাবে না।

হোম অফিস চাকরিটির প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, আবেদনকারীর দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এবং স্পনসরের আগের নিয়ম মেনে চলার রেকর্ড যাচাই করতে পারে।

আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতার শর্তও রয়েছে। সাধারণত স্পনসর সিওএসে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্পনসরকে প্রয়োজনে কর্মসংস্থানের প্রথম মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীকে থাকার ব্যবস্থা ও সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হয়, যার পরিমাণ কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ড। স্পনসর এই নিশ্চয়তা না দিলে আবেদনকারীকে ব্যাংক স্টেটমেন্টের মাধ্যমে কমপক্ষে ১ হাজার ২৭০ পাউন্ডের অর্থ দেখাতে হয়।

আবেদনকারীকে আরও প্রমাণ করতে হয় যে তিনি সত্যিকার অর্থেই যে কাজের জন্য স্পনসর করা হচ্ছে, সেই কাজটি করার উদ্দেশ্য রাখেন। হোম অফিস প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাইতে, প্রশ্ন করতে এবং আবেদনটি বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে পারে।

৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে স্পনসর গাইডেন্সে ‘এলিজিবল রোল’ বা যোগ্য পদের একটি পরীক্ষা যুক্ত হয়েছে। এটি আগের ‘জেনুইন ভ্যাকেন্সি টেস্ট’-এর সংশোধিত রূপ। এর মাধ্যমে চাকরিটির যোগ্যতা এবং স্পনসরশিপের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা আরও ঘনিষ্ঠভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসায় ইমিগ্রেশন স্কিলস চার্জ না থাকলেও অন্যান্য নির্দিষ্ট ফি রয়েছে। ছয় মাসের কম সময়ের এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স আবেদনের ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদন ফি ৩৪০ পাউন্ড এবং সিওএস ফি ৫৫ পাউন্ড। অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রসেসিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি হতে পারে। ছয় মাসের কম সময়ের এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ থেকে ছাড়ও রয়েছে।

আবেদন সফল হলে কর্মী তার থাকার নির্ধারিত সময়ের জন্য একটি ই-ভিসা পান। তাকে ই-ভিসার বৈধতার সময়ের মধ্যে ব্রিটেনে প্রবেশ করতে হবে এবং সিওএসে উল্লেখ করা কাজ শুরুর তারিখ অনুযায়ী কাজে যোগ দিতে হবে। কর্মীর প্রথম কর্মদিবসের আগে স্পনসরকে তার রাইট টু ওয়ার্ক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।

সাধারণত সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কারকে এক বছরের জন্য ই-ভিসা দেওয়া হয়। তবে কাজের মেয়াদ এক বছরের কম হলে সিওএসে উল্লেখ করা চাকরির মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৪ দিন যোগ করে অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

এই ভিসা বাড়ানো সম্ভব হলেও একই রুটে মোট অনুমতির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটির বিভিন্ন রুট মিলিয়ে কোনো ব্যক্তি ছয় বছরের মধ্যে মোট পাঁচ বছরের বেশি সময় ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পেতে পারেন না।

ফলে আবেদনকারীর আগের গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি রুটে পাওয়া ভিসার ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। আগের ভিসার মেয়াদ নতুন করে কতদিনের অনুমতি দেওয়া যাবে, সেটিকে প্রভাবিত করতে পারে।

সেকেন্ডমেন্ট ওয়ার্কার ভিসা সাময়িক থাকার অনুমতি দেয় এবং এটি নিজে থেকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ তৈরি করে না। স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে হলে কর্মীকে এমন কোনো অভিবাসন রুটে পরিবর্তন করতে হবে, যেটি সেটেলমেন্টের সুযোগ দেয়।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে