Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ৯০ হাজারের বেশি আশ্রয় আপিল এখনো ঝুলেঃ তবে কমেছে নতুন মামলার চাপ

ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদন নিয়ে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা আপিলের জট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। সর্বশেষ সরকারি ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ব্যাকলগ এখনো বেড়েছে, তবে আগের কয়েকটি ত্রৈমাসিকের তুলনায় বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আশ্রয় আপিলের বকেয়া মামলা আগের ৮৭ হাজার ৪৫০টি থেকে বেড়ে ৯০ হাজার ৩৪১টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এক ত্রৈমাসিকে বকেয়া মামলার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত ধীর।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন করে দাখিল হওয়া আশ্রয় আপিলের সংখ্যা আগের ত্রৈমাসিকের ১৪ হাজার ৭৪৯টি থেকে কমে ১১ হাজার ৫৯৬টিতে দাঁড়িয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পরিসংখ্যানে নতুন আপিলকে ‘রিসিপ্টস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নতুন আপিল কমার একটি কারণ হিসেবে হোম অফিসের পক্ষ থেকে কম সংখ্যক প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালে নতুন আপিলের চাপও আগের তুলনায় কমেছে।

একই সময়ে আশ্রয় আপিলের মোট নিষ্পত্তি বা ‘ডিসপোজালস’ বেড়েছে। আগের ত্রৈমাসিকে ৭ হাজার ৭৮৯টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছিল। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৭০৯টি।

‘ডিসপোজাল’ বলতে শুধু বিচারকের রায়ের মাধ্যমে একটি আপিল শেষ হওয়াকে বোঝায় না। কোনো আপিল অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া, বাতিল হওয়া, কোনো পক্ষের আবেদন প্রত্যাহার করা কিংবা অন্য কোনো কারণে আপিলের প্রক্রিয়া শেষ হলেও সেটি ডিসপোজাল হিসেবে পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

আশ্রয় আপিল প্রত্যাহারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। মোট ডিসপোজালের ৩৭ শতাংশ আপিল শুনানি হওয়ার আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফ্রি মুভমেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব প্রত্যাহারের একটি বড় অংশ হোম অফিসের নিজস্ব সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল হলে হোম অফিসের কর্মকর্তা সিদ্ধান্তটি পুনরায় পরীক্ষা করেন। যদি মনে হয়, ওই সিদ্ধান্ত বিচারকের সামনে যথাযথভাবে সমর্থন করা কঠিন হবে, তাহলে হোম অফিস সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করতে পারে।

এরপর অনেক ক্ষেত্রে হোম অফিস আগের প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আশ্রয় মঞ্জুর করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আগের প্রত্যাখ্যান নতুন ও অধিকতর শক্তিশালী কারণ দেখিয়ে পুনরায় জারি করা হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আশ্রয় আপিলের অবশিষ্ট মামলাগুলোর ৩৯ শতাংশ অনুমোদিত হচ্ছে। ৩৭ শতাংশ আপিল শুনানির আগেই প্রত্যাহার এবং অবশিষ্ট আপিলের ৩৯ শতাংশ অনুমোদনের পরিসংখ্যানকে একত্রে বিশ্লেষণ করে ফ্রি মুভমেন্ট বলেছে, হোম অফিসের প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্তের একটি বড় অংশ পরবর্তী পর্যায়ে টেকসই হচ্ছে না।

আশ্রয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়েও এর আগে সমালোচনা হয়েছে। গত জুনে আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়ে একটি কঠোর পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে ফ্রি মুভমেন্ট জানিয়েছে।

তবে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের কাজের সক্ষমতা বাড়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের মাধ্যমে আশ্রয় আপিলের সিদ্ধান্তের সংখ্যা আগের ত্রৈমাসিকের ৪ হাজার ৮৭টি থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৮২৮টিতে দাঁড়িয়েছে।

ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের এসব সিদ্ধান্তের কিছু ক্ষেত্রে আপার ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যায়। ফলে পরিসংখ্যানে এগুলোকে সবসময় সম্পূর্ণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে অতিরিক্ত সম্পদ, ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে কাজের ওপর বাড়তি মনোযোগ অথবা আশ্রয় আপিল নিষ্পত্তির জন্য চালু হওয়া নতুন আইনগত সময়সীমা—কোনটি প্রধান ভূমিকা রাখছে, তা স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা চলতি বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে হোম অফিসের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের ব্যাকলগও অনেকটাই কমেছে। ফলে ট্রাইব্যুনালে নতুন মামলার চাপ কমার পাশাপাশি আগের জমে থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ছে।

ফ্রি মুভমেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন আপিলের সংখ্যা কমা, প্রাথমিক সিদ্ধান্তের ব্যাকলগ হ্রাস এবং ট্রাইব্যুনালে মূল মামলার সিদ্ধান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আশ্রয় আপিলের ব্যাকলগ স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ত্রৈমাসিকে বহু বছর পর প্রথমবারের মতো আশ্রয় আপিলের ব্যাকলগ কমতে শুরু করতে পারে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল ২০২৬-এর অধীনে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের কাঠামো পরিবর্তন ও বিলুপ্তির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নতুন কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে থ্রি-সি লিভে বড় পরিবর্তনঃ ভিসার মেয়াদ শেষে বৈধ থাকার ‘ফাঁকফোকর’ বন্ধ করছে হোম অফিস

ব্রিটেনে ইমিগ্রেশন আইনের গুরুত্বপূর্ণ সেকশন থ্রি-সি লিভ ব্যবহারে নতুন দুটি বিধিনিষেধ আসছে। হোম অফিসের করা পরিবর্তন অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ফি ওয়েভার আবেদন এবং বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার নিয়মে কড়াকড়ি কার্যকর হবে। সংশোধনগুলো ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত স্টেটমেন্ট অব চেঞ্জেস এইচসি ৫৮৪-এর মাধ্যমে আনা হয়েছে।

সেকশন থ্রি-সি লিভের আওতায় কোনো ব্যক্তি তার বর্তমান ইমিগ্রেশন লিভের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন আবেদন করলে, সেই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার আগের লিভ নির্দিষ্ট শর্তে চালু থাকে। এর ফলে শুধু হোম অফিসের সিদ্ধান্ত দিতে দেরি হওয়ার কারণে আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওভারস্টেয়ার হয়ে যান না।

তবে হোম অফিসের অবস্থান হলো, কিছু আবেদনকারী সেকশন থ্রি-সি ব্যবহার করে এমনভাবে তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত করছেন, যা এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য ছিল না। নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে এ ধরনের সুযোগকে ‘ফাঁকফোকর’ হিসেবে বিবেচনা করে সীমিত করা হচ্ছে।

প্রথম পরিবর্তনটি ফি ওয়েভার নিয়ে। কোনো আবেদনকারী ফি ওয়েভারের আবেদন করার সময় যে ইমিগ্রেশন রুটে পরবর্তী আবেদন করার কথা উল্লেখ করবেন, পরবর্তী আবেদনটি সেই রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

নতুন প্যারাগ্রাফ ৩৪জি(৫) অনুযায়ী, কেউ ফি ওয়েভারের আবেদন করে পরে ভিন্ন কোনো রুটে থাকার অনুমতির জন্য আবেদন করলে, ফি ওয়েভার আবেদনের তারিখকে মূল আবেদনের তারিখ হিসেবে গণ্য করা হবে না। বরং পরবর্তী প্রকৃত আবেদন জমা দেওয়ার তারিখই আবেদন করার তারিখ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে ফি ওয়েভার যে রুটের জন্য চাওয়া হয়েছিল, সেই একই রুটে আবেদন করা হলে নির্দিষ্ট শর্তে ফি ওয়েভার আবেদনের তারিখকে আবেদন তারিখ হিসেবে ধরা যেতে পারে। এজন্য ফি ওয়েভারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদন করতে হবে, অথবা ফি ওয়েভারের সিদ্ধান্ত আসার আগেই নির্ধারিত রুটে অর্থপ্রদানের আবেদন জমা দিতে হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে এমন কোনো আবেদনকারী, যিনি একটি নির্দিষ্ট রুটে ফি ওয়েভার চেয়ে পরে সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটে আবেদন করেন, তিনি মাঝের সময়ের জন্য সেকশন থ্রি-সি লিভের সুরক্ষা হারাতে পারেন। এর প্রভাব তার কন্টিনিউয়াস লফুল রেসিডেন্স, অর্থাৎ ধারাবাহিক বৈধ বসবাসের ওপরও পড়তে পারে।

ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে আয়েশা নামের একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে যুক্তরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং তার প্যারেন্ট রুটের লিভ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে। ১০ বছরের বৈধ বসবাস পূর্ণ হবে ২ জানুয়ারি ২০২৭-এ। তাই তিনি প্রথমে প্যারেন্ট রুটের জন্য ফি ওয়েভার চাইলেও পরে সরাসরি ১০ বছরের বসবাসের ভিত্তিতে ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের আবেদন করলে নতুন নিয়মে ফি ওয়েভারের আগের তারিখটি সেই আইএলআর আবেদনের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে প্রথমে যে রুটের জন্য ফি ওয়েভার চেয়েছেন, সেই রুটে আবেদন করে পরে সেটি ভ্যারিয়েশন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে পছন্দের রুটে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

দ্বিতীয় পরিবর্তনটি বায়োমেট্রিকস নিয়ে। আগে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিকস না দিয়ে আবেদনটি পরিবর্তন করতেন এবং ধারণা করতেন, নতুন আবেদনের সঙ্গে আবার নতুন বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার সময়সীমা শুরু হবে।

নতুন প্যারাগ্রাফ ৩৪বিবি(২এ) এই সুযোগ বন্ধ করছে। কোনো আবেদন পরিবর্তন করা হলেও আগের আবেদনের জন্য নির্ধারিত বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার সময়সীমা বহাল থাকবে। শুধু আবেদন পরিবর্তন করার কারণে নতুন করে বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার সময় পাওয়া যাবে না।

ফ্রি মুভমেন্টের উদাহরণ অনুযায়ী, কেউ যদি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যারেন্ট রুটে আবেদন করেন এবং ১৭ নভেম্বরের মধ্যে বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার নির্দেশ পান, এরপর ১৬ নভেম্বর আবেদনটি পরিবর্তন করে নতুন রুটে এবং ৫ ডিসেম্বর আবার ইন্ডেফিনিট লিভের জন্য পরিবর্তন করেন, তাহলে নতুন নিয়মে পরবর্তী পরিবর্তনগুলো আগের বায়োমেট্রিকসের সময়সীমা পুনরায় শুরু করবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিকস জমা না দিলে প্রথম আবেদনটি অবৈধ হয়ে যেতে পারে। একই কারণে পরবর্তী ভ্যারিয়েশন আবেদনও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং আবেদনকারী সেকশন ৩সি লিভের সুরক্ষা হারিয়ে ওভারস্টেয়ার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর সেকশন থ্রি-সি-এর ওপর নির্ভরশীল আবেদনকারীদের প্রথম আবেদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বায়োমেট্রিকস সম্পন্ন করতে হবে। এরপর আবেদনটি অন্য ইমিগ্রেশন রুটে পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে।

ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেকশন থ্রি-সি লিভ আবেদনকারীদের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে বহাল থাকছে। তবে হোম অফিস যেসব পদ্ধতিকে নিয়মের অপব্যবহার বা ফাঁকফোকর হিসেবে দেখছে, সেগুলো বন্ধ করতে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এই দুটি পরিবর্তন ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। তাই ওই তারিখের পর ফি ওয়েভার, ভ্যারিয়েশন, বায়োমেট্রিকস এবং সেকশন থ্রি-সি লিভের ওপর নির্ভর করে আবেদন করার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কর্মী নিয়োগে ৪৫ হাজার পাউন্ড জরিমানাঃ বাতিল রেস্টুরেন্ট লাইসেন্স

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওয়ালসালে ভিসার অনুমোদিত শর্তের বাইরে একজন কর্মীকে কাজ দেওয়ার ঘটনায় ডেরা রেস্তোরাঁকে ৪৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় রেস্তোরাঁটির আগের লাইসেন্স গত জুলাইয়ে বাতিল করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে।

ওয়ালসালের ক্যালডমোর রোডে অবস্থিত ডেরা রেস্তোরাঁয় ২০২৫ সালে হোম অফিসের পরিদর্শনের সময় একজন অবৈধ কর্মীকে শনাক্ত করা হয়। পাকিস্তানি ওই নাগরিক যুক্তরাজ্যে এমন একটি ভিসায় ছিলেন, যার আওতায় নির্দিষ্ট ধরনের কাজ করার অনুমতি ছিল। কিন্তু ডেরা রেস্তোরাঁয় ক্লিনার হিসেবে তার কাজ করা ভিসার অনুমোদিত কর্মসংস্থানের শর্তের মধ্যে পড়েনি।

ঘটনার পর ওই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রেস্তোরাঁটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ওয়ালসাল কাউন্সিলের লাইসেন্সিং অ্যান্ড সেফটি কমিটির কাছে যায়। জুলাইয়ের বৈঠকে কমিটি ডেরা রেস্তোরাঁর আগের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

শুনানিতে হোম অফিসের প্রতিনিধি অ্যালেক্স রোমানো বলেন, অবৈধভাবে কাজের সুযোগ অবৈধ অভিবাসনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মসংস্থান মানুষকে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে উৎসাহিত করতে পারে এবং অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি করে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশও রেস্তোরাঁটির লাইসেন্স বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেয়। পুলিশের প্রতিনিধি জেনিফার মেলার বলেন, এ ধরনের অপরাধ পুলিশের ওপর প্রভাব ফেলে এবং ওয়ালসাল বরোর অপরাধের পরিসংখ্যানেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে সাবেক লাইসেন্সধারী তালাত জলিলের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া এক প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ যাচাই করতে ব্যর্থ হওয়া ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের পর অসুস্থতার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় তালাত জলিলের সক্ষমতা প্রভাবিত হয়েছিল।

ওই প্রতিনিধি আরও বলেন, ম্যানেজার সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে কর্মীটির বৈধ ভিসা রয়েছে এবং তাকে ওই ধরনের কাজে নিয়োগের অনুমতি ছিল। তিনি এটিকে একটি সত্যিকারের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, কর্মীটিকে জেনেশুনে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যানেজার পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করার কোনো চেষ্টা করেননি।

লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও ডেরা রেস্তোরাঁ নতুন লাইসেন্সের আবেদন করেছে। আবেদনে দুপুর ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রেস্তোরাঁ খোলা রাখার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ‘লেট নাইট রিফ্রেশমেন্ট’ বা রাতের খাবার পরিবেশনের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।

নতুন লাইসেন্সের আবেদনটি ওয়ালসাল কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টারমারের আসনে লেবারের প্রার্থী সোমালিয়ার শিশু শরণার্থী সাগাল আবদি-ওয়ালি

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি লন্ডনের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের উপনির্বাচনে সাগাল আবদি-ওয়ালিকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর শূন্য হওয়া এই আসনে আগামী ৮ অক্টোবর ভোট হবে।

সাগাল আবদি-ওয়ালি সোমালিয়া থেকে শিশু শরণার্থী হিসেবে ১৯৯০-এর দশকে ব্রিটেনে আসেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি স্কুল গভর্নর ও বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আবদি-ওয়ালি ক্যামডেনের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তিনি ক্যামডেনের ক্যামডেন স্কয়ার ওয়ার্ডের লেবার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল স্থানীয় জনগণের আবাসন, গৃহহীনতা ও কমিউনিটি নিরাপত্তার মতো বিষয়।

হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনটি ১৯৮৩ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকেই লেবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে স্টারমার প্রথমবার এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন এবং এরপর ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও আসনটি ধরে রাখেন। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ৪৮.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আসনটিতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন চিত্রও দেখা যায়। গ্রিন পার্টি প্রায় ১০.৪ শতাংশ ভোট পায়। অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থীও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ওই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানা গেছে।

স্টারমার গত ১ সেপ্টেম্বর হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর ফলে আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবারকে আসনটি ধরে রাখার জন্য নতুন প্রার্থী বেছে নিতে হয়।

এই উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টিও শক্তিশালীভাবে মাঠে নামছে। দলটির নেতা জ্যাক পোলানস্কি ইতোমধ্যে প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে লেবার-সমর্থিত আসনটিতে লেবার ও গ্রিন পার্টির মধ্যে বিশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, জলবায়ু নীতি এবং কমিউনিটি নিরাপত্তা উপনির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গাজা ইস্যু এবং লেবারের জাতীয় রাজনৈতিক অবস্থানও ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে।

লেবার পার্টি আবদি-ওয়ালির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত জীবনকাহিনিকে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। দলটি তাকে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছে। আবদি-ওয়ালি নিজেও তার প্রচারে কমিউনিটিকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে গ্রিন পার্টির জ্যাক পোলানস্কি এই আসনে লেবারের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে গ্রিন পার্টির ভোটের পরিমাণ এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় রাজনীতিতে দলটির অগ্রগতি তাদের প্রচারের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

৮ অক্টোবরের ভোটে যে প্রার্থী জয়ী হবেন, তিনি কিয়ার স্টারমারের দীর্ঘদিনের সংসদীয় আসনের নতুন এমপি হিসেবে হাউস অব কমন্সে প্রবেশ করবেন। উপনির্বাচনটি একই সঙ্গে লেবারের জন্য আসন ধরে রাখার লড়াই এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ভোট হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান \ রয়টার্স

এম.কে

Categories
মুক্তমত

আফ্রিকা ধীরে ধীরে বিভক্ত হচ্ছে: পূর্ব আফ্রিকান রিফটের জন্ম, কারণ ও ভবিষ্যৎ

নাশীত রহমান || লন্ডন || ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পূর্ব আফ্রিকার গভীরে বহু হাজার কিলোমিটার জুড়ে যে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন চলছে, তা পৃথিবীর মহাদেশীয় ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বাংশ ধীরে ধীরে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া এতটাই গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি যে ভবিষ্যতে এখানে একটি নতুন সাগর জন্ম নিতে পারে। পূর্ব আফ্রিকার রিফট অঞ্চল বহু বছর ধরে সক্রিয়, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে—এটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মহাদেশ বিভাজনের গতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই পরিবর্তনের মূল কারণ পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা উত্তপ্ত স্তর থেকে ক্রমাগত তাপ ও চাপের উত্থান। গভীরের উত্তপ্ত পদার্থ উপরে উঠতে থাকলে ভূত্বক দুর্বল হয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়। পূর্ব আফ্রিকার ভূত্বক দীর্ঘদিন ধরে এই চাপের মুখে রয়েছে। ফলে ভূমি ধীরে ধীরে প্রসারিত হচ্ছে এবং ফাটল ক্রমশ প্রশস্ত হচ্ছে। এই অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বেশি থাকার কারণও একই—ভূত্বক দুর্বল হলে অভ্যন্তরের উত্তপ্ত পদার্থ সহজে উপরে উঠে আসে এবং আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ঘটে। আগ্নেয়গিরির এই ধারাবাহিক সক্রিয়তা রিফটকে আরও দুর্বল করে এবং বিচ্ছিন্নতার গতি বাড়ায়।

পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের চিহ্ন এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ইথিওপিয়া, কেনিয়া ও তানজানিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভূমি ধীরে ধীরে নিচে নামছে, যেন মহাদেশের শরীরের ভেতরে একটি অদৃশ্য শক্তি ক্রমাগত টান দিচ্ছে। কোথাও কোথাও ভূমি হঠাৎ ভেঙে গিয়ে বিশাল ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের কাছে প্রথমে ভূমিকম্পের মতো মনে হলেও বিজ্ঞানীরা দ্রুতই বুঝতে পারেন—এটি একটি বৃহত্তর মহাদেশীয় রূপান্তরের অংশ। কিছু এলাকায় এই ফাটল এতটাই প্রশস্ত হয়েছে যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে নতুন জলাধার তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ভূগর্ভস্থ পানি উপরে উঠে এসে নতুন হ্রদের জন্ম দিয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো শুধু ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে নয়, স্থানীয় পরিবেশ, কৃষি, বসতি এবং মানুষের জীবনযাত্রায়ও ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে।

ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, এই পরিবর্তন কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং কোটি কোটি বছর ধরে চলমান একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা উত্তপ্ত স্তর থেকে ক্রমাগত তাপ ও চাপ উপরে উঠতে থাকে, যা ভূত্বককে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে প্রসারিত করে। এই প্রসারণের ফলে ভূমি ভাঙে, নিচে নামে এবং নতুন ফাটল তৈরি হয়। পূর্ব আফ্রিকার রিফট অঞ্চল সেই দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক চক্রেরই একটি সক্রিয় অধ্যায়। মানুষের চোখে এই পরিবর্তন ধীরগতির হলেও ভূবিজ্ঞানের সময়সীমায় এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগেও মহাদেশ ভেঙে নতুন সাগর তৈরি হয়েছে। আজকের আটলান্টিক মহাসাগরও একসময় এমনই একটি রিফট থেকে জন্ম নিয়েছিল। তখনও ভূমি ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়েছিল, ফাটল তৈরি হয়েছিল, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বেড়েছিল, এবং শেষ পর্যন্ত সেই ফাটলে পানি ঢুকে নতুন মহাসাগরের জন্ম হয়েছিল। পূর্ব আফ্রিকার বর্তমান পরিবর্তন সেই একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি। আজ যে ফাটলগুলো আমরা দেখছি, ভবিষ্যতে সেগুলো আরও প্রশস্ত হবে, ভূমি আরও নিচে নামবে, এবং একসময় সেখানে সাগরের পানি প্রবেশ করে নতুন উপকূলরেখা তৈরি করবে। এই রূপান্তর পৃথিবীর মহাদেশীয় বিবর্তনের ধারাবাহিকতা—যা আমাদের গ্রহের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎকে নীরবে গড়ে তুলছে।
দীর্ঘমেয়াদে এই পরিবর্তনের প্রভাব হবে ব্যাপক। পূর্ব আফ্রিকার বর্তমান ভূমি ভবিষ্যতে সাগরের তলায় নিমজ্জিত হতে পারে। নতুন উপকূলরেখা তৈরি হবে, ভূগোল বদলে যাবে, এবং আফ্রিকা মহাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। পূর্বাংশটি একটি নতুন ক্ষুদ্র মহাদেশে পরিণত হবে, যা মূল আফ্রিকা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। এই পরিবর্তনের ফলে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ আরও বাড়তে পারে, কারণ ভূত্বক দুর্বল হলে অভ্যন্তরের চাপ সহজে উপরে উঠে আসে।

এই বিচ্ছিন্নতা সম্পূর্ণ হতে কত সময় লাগবে—এ প্রশ্নের উত্তর ভূবিজ্ঞানের সময়সীমায় অত্যন্ত দীর্ঘ। গবেষণা বলছে, রিফটের প্রথম লক্ষণ দেখা যায় প্রায় তিন কোটি বছর আগে। মূল বিচ্ছিন্নতা শুরু হয় দুই থেকে আড়াই কোটি বছর আগে। দক্ষিণাঞ্চলে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে গত কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে। বর্তমান গতিবেগ অনুযায়ী মহাদেশের পূর্বাংশ বছরে কয়েক মিলিমিটার করে সরে যাচ্ছে। এই গতি বজায় থাকলে নতুন সাগর তৈরি হতে আরও দুই থেকে পাঁচ মিলিয়ন বছর লাগতে পারে। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন মহাদেশ গঠিত হতে সময় লাগতে পারে দশ থেকে বিশ মিলিয়ন বছর বা তারও বেশি।
পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক সময়সীমায় এই পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক। মানুষের জীবদ্দশায় এই রূপান্তর দৃশ্যমান হবে না, কারণ মহাদেশের জন্ম, বিস্তার ও বিচ্ছিন্নতা এমন এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া যা হাজার নয়, লক্ষ নয়, বরং কোটি কোটি বছরের ধীরগতির সঞ্চয়ে গড়ে ওঠে। পূর্ব আফ্রিকার রিফটও সেই ধীর, নীরব, কিন্তু অবিচল পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা। আজ যে ফাটলগুলো দেখা যাচ্ছে, যে ভূমি নিচে নামছে, যে আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বাড়ছে—সবই সেই বৃহৎ সময়চক্রের ক্ষুদ্র ইঙ্গিত মাত্র।

এই রূপান্তরের সূচনা হয়েছিল বহু আগেই। ভূতাত্ত্বিকরা মনে করেন, পূর্ব আফ্রিকার ভূত্বকে প্রথম দুর্বলতা দেখা দেয় প্রায় তিন কোটি বছর আগে। সেই সময় পৃথিবীর অভ্যন্তরের উত্তপ্ত স্তর থেকে তাপ ও চাপ উপরে উঠতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে ভূত্বককে প্রসারিত করে। দুই থেকে আড়াই কোটি বছর আগে এই প্রসারণ আরও স্পষ্ট হয় এবং ভূমি ভাঙতে শুরু করে। দক্ষিণাঞ্চলে বড় পরিবর্তন দেখা যায় গত কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে, যখন ভূমি নিচে নামা, ফাটল প্রশস্ত হওয়া এবং নতুন হ্রদের জন্ম আরও দ্রুতগতিতে ঘটতে থাকে। এই ধীরগতির সরে যাওয়ার হার বছরে কয়েক মিলিমিটারের বেশি নয়, কিন্তু ভূবিজ্ঞানের সময়সীমায় এই ক্ষুদ্র সরে যাওয়াই ভবিষ্যতের মহাদেশীয় রূপান্তরের ভিত্তি।
বর্তমান গতিবেগ বজায় থাকলে রিফটের গভীরতম অংশে ভূমি এতটাই নিচে নেমে আসবে যে সেখানে সাগরের পানি প্রবেশ করতে শুরু করবে। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে আরও দুই থেকে পাঁচ মিলিয়ন বছর। পানি প্রবেশের পর ভূমি আরও দুর্বল হবে, ফাটল আরও প্রশস্ত হবে, এবং ধীরে ধীরে একটি নতুন সাগর গঠিত হবে। সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ব আফ্রিকার অংশটি মূল আফ্রিকা থেকে আলাদা হতে সময় লাগতে পারে দশ থেকে বিশ মিলিয়ন বছর বা তারও বেশি। এই সময়সীমা মানুষের কল্পনার বাইরে হলেও পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি স্বাভাবিক অধ্যায়—যেমন একসময় ভূমি ভেঙে আটলান্টিক মহাসাগরের জন্ম হয়েছিল।

Categories
আন্তর্জাতিক আমেরিকা

ব্রিটেন-আর্জেন্টিনা বিরোধের আগুনে অস্ত্রের ব্যবসাঃ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন চাল

যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিয়ার কাছে চারটি ব্ল্যাক হক সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। চুক্তিটির মূল্য ১৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিয়ার মধ্যে বিরোধ অব্যাহত থাকার মধ্যেই এই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ঘোষণা এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রস্তাবিত বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তির আওতায় চারটি ইউএইচ-৬০এল ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, দুটি টি৭০০-জিই-৭০১ডি ইঞ্জিন এবং উন্নত নেভিগেশন ও রাডার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সংগঠিত ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিয়ার সক্ষমতা বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিয়াকে ন্যাটোর সদস্য নয়—এমন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের মতে, এই বিক্রি দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা লক্ষ্য এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

এদিকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবি নতুন করে জোরালো করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। আর্জেন্টিয়ায় দ্বীপগুলোকে ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে অভিহিত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মিলেই দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আর্জেন্টিয়ার সার্বভৌমত্বের দাবির জন্য আরও অনুকূল হয়ে উঠছে।

গত সপ্তাহে এক টেলিভিশন ভাষণে মিলেই বলেন, তার দেশ শেষ পর্যন্ত দ্বীপগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। তার সরকার ফকল্যান্ডের উপকূলের কাছে সি লায়ন তেলক্ষেত্রে অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর্জেন্টিয়ার সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। আর্জেন্টিয়া তিয়েরা দেল ফুয়েগোতে একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি দেশটি পশ্চিমা নির্মিত এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও সংগ্রহ করেছে।

তবে চারটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ফকল্যান্ডকে ঘিরে সামরিক ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে না। প্রতিটি হেলিকপ্টারে প্রায় ১১ জন সেনা বহন করা যায় এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহার করে এর যুদ্ধপরিসর প্রায় ৩২০ থেকে ৩৭০ মাইল।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিয়ার সবচেয়ে কাছের স্থলভাগ থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরে। ফলে হেলিকপ্টারগুলো একমুখী উড্ডয়নে সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও সীমিত পরিসরের কারণে অতিরিক্ত সহায়তা ছাড়া সামরিক অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হবে।

আর্জেন্টিয়ার কাছে এমন কোনো নির্দিষ্ট নৌযান নেই, যার মাধ্যমে হেলিকপ্টারগুলোকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে পরিবহন করা যায়। অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংক ব্যবহার করলে ব্ল্যাক হকের পরিসর প্রায় ৯৫০ মাইল পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হলেও সংঘাতপূর্ণ আকাশসীমায় এসব হেলিকপ্টার ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। ফলে হালকা অস্ত্রে সজ্জিত ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার সেখানে অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

ফকল্যান্ড বিরোধ থাকা সত্ত্বেও আর্জেন্টিয়ার কাছে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের আগে থেকেই এই বিক্রিতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধের কারণে ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিয়ার কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের অভিজ্ঞ সাবেক রয়্যাল নেভি প্রধান অ্যাডমিরাল লর্ড অ্যালান ওয়েস্ট বলেছেন, ওয়াশিংটন হয়তো বুয়েনস আয়ার্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে তিনি বলেছেন, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারগুলো কৌশলগত পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।

১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের সাবেক সেনা সদস্য সাইমন ওয়েস্টনও হেলিকপ্টারগুলোর সামরিক প্রভাবকে সীমিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ব্ল্যাক হকের নকশা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার।

আর্জেন্টিয়া এর আগে একটি এস-৭০এ-৩০ ব্ল্যাক হক পরিচালনা করত। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেমের আমলে হেলিকপ্টারটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে এটি প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহারের পর আর্জেন্টিয়ার বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সূত্রঃ জিবি নিউজ।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে চাপে এনএইচএসের চিকিৎসা জটঃ অপেক্ষমাণ তালিকা ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইংল্যান্ডে নিয়মিত হাসপাতাল চিকিৎসার অপেক্ষমাণ তালিকা জুলাইয়ে বেড়ে ৭৩ লাখ ৩০ হাজার চিকিৎসাতে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬২ লাখ ১০ হাজার। গত বছরের অক্টোবরের পর এটিই অপেক্ষমাণ তালিকার সর্বোচ্চ পর্যায়। জুনে অপেক্ষমাণ চিকিৎসার সংখ্যা ছিল ৭২ লাখ ৭০ হাজার এবং রোগীর সংখ্যা ছিল ৬১ লাখ ৫০ হাজার।

এনএইচএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষে নিয়মিত চিকিৎসা শুরুর জন্য ১ লাখ ১১ হাজার ৩৭৯ জন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন। জুনে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৭১১। একই সময়ে ৫২ সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করা রোগীদের হারও বেড়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ হয়েছে, যা জুনের ১ দশমিক ৪৫ শতাংশের চেয়ে বেশি।

অন্যদিকে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জরুরি বিভাগগুলোতে প্রায় ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি রোগী উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের হিসাবে, এটি গ্রীষ্মকালীন সময়ে জরুরি বিভাগে রোগী উপস্থিতির সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার বেশি। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় রোগী উপস্থিতি বেড়েছে প্রায় ১০ লাখ।

এই সময়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবাতেও রেকর্ড চাহিদা দেখা যায়। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স কলআউটের সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৩ লাখ ২০ হাজারের তুলনায় বেশি। একই সময়ে এনএইচএস ১১১ সেবায় ৩০ লাখের কিছু বেশি কলের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের গ্রীষ্মে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ স্বাস্থ্যসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরমের কারণে বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন বেড়েছে। তীব্র গরম, বায়ুদূষণ, দাবানলের ধোঁয়া এবং দীর্ঘায়িত পরাগ মৌসুম শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে রেকর্ড চাহিদার মধ্যেও জরুরি বিভাগে চার ঘণ্টার মধ্যে রোগী দেখা, ভর্তি অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে এনএইচএস কর্মীরা সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী সামলেছেন। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৬২ হাজার ১৮২ জন রোগীকে চার ঘণ্টার মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

নিয়মিত হাসপাতাল চিকিৎসার ক্ষেত্রে জুলাইয়ে ৬৫ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী রেফারেলের ১৮ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছেন। জুনে এই হার ছিল ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চের জন্য সরকার ও এনএইচএস ইংল্যান্ড যে ৬৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, জুলাইয়ের হার তা ছাড়ালেও ২০২৯ সালের মধ্যে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে ৯২ শতাংশ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা অনেক কম।

সরকারের ২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে নিয়মিত হাসপাতাল চিকিৎসার অপেক্ষমাণ রোগীদের ৯২ শতাংশকে রেফারেলের ১৮ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করার কথা। জুলাইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে অপেক্ষমাণ তালিকা ও দীর্ঘ অপেক্ষার সংখ্যা আরও কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিব ইয়ভেট কুপার জানিয়েছেন, এনএইচএসের ওপর অতিরিক্ত চাহিদা এখন শুধু শীতকালেই সীমাবদ্ধ নেই। চরম তাপমাত্রার কারণে গ্রীষ্মকালেও স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। সরকার হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে ১৫০ কোটি পাউন্ড অর্থায়নের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে নতুন অপারেশন থিয়েটার, শিশুদের ওয়ার্ড এবং মাতৃসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত গরম মোকাবিলায় সক্ষম করার উদ্যোগও রয়েছে।

এনএইচএসের অপেক্ষমাণ তালিকা নিয়ে সর্বশেষ পরিসংখ্যান এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে গ্রীষ্মের অতিরিক্ত চাপ সামলানোর পাশাপাশি আসন্ন শীতকালীন চাপের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টাইমস এবং এনএইচএস ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নেপালের হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটকঃ একজনের ভিসার মেয়াদ পেরোনোর তথ্য

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর থামেল এলাকার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউস থেকে ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। সন্দেহজনক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নেপালের সংবাদমাধ্যম ২৪ ঘণ্টা নেপালের প্রকাশিত তথ্যেও এ গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পুলিশের অভিযানে হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস, হোটেল ডি ভেদা এবং হোটেল আল রহমানসহ থামেল এলাকার কয়েকটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান থেকে ওই বাংলাদেশিদের আটক করা হয়। পরে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ১০ জনকেই কালিকাস্থানে অবস্থিত নেপালের অভিবাসন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

নেপালের অভিবাসন বিভাগের পরিচালক টিকারাম ঢকাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নেপালে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের বৈধ অবস্থান, ভিসার ধরন এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যাচাই-বাছাই চলছে।

পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কাঠমান্ডুর থামেলের মুসলিমা টোল এলাকায় বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনা এবং ভিসার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফাহিমা আক্তার হাসান, মাহমুদ, মাহবুব হাসান, রিপন মাহমুদ, মো. করামত আলী খান, শহীদুর রহমান, মো. খলিলুর রহমান, আরিফুর রহমান, মো. মারুফ মির্ধা এবং মোহাম্মদ হানিফ মিয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত খাতুন-ই-জান্নাত বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

নেপাল কর্তৃপক্ষ এর আগেও বাংলাদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকটি ঘটনা তদন্ত করেছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে তরুণদের নেপালে নিয়ে এসে উন্নত দেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল।

সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনাতেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেপালে অবস্থানের উদ্দেশ্য, ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং কথিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্রঃ ২৪ ঘণ্টা নেপাল (নেপাল), পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগের উদ্ধৃত তথ্য

এম.কে

Categories
আমেরিকা বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে প্রশিক্ষণ ছাড়াই ৫০০ ডলারে ‘জাল সনদ’ দেওয়ার অভিযোগঃ দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মস্থল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ না দিয়েই অর্থের বিনিময়ে শত শত সনদ দেওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ ডলার নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন সনদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন জ্যামাইকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান এবং হাওয়ার্ড বিচের বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষার। গত মঙ্গলবার কুইন্স থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের ব্রুকলিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ড্যানি চুনের আদালতে হাজির করা হলে জামিন দেওয়া হয়। আগামী ৪ নভেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ এবং নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশনের কমিশনার নাদিয়া আই সিহাটা এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লুৎফর রহমান ও মোহাম্মদ তুষার কুইন্সের ১৪৬-০৪ হিলসাইড এভিনিউ এবং ব্রুকলিনের ৫২৯ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে ‘রেডকোড ইনক’ নামে দুটি অফিস পরিচালনা করতেন। এসব অফিস থেকে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।

এরিক গঞ্জালেজের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সনদ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, লুৎফর ও তুষার প্রশিক্ষণ না দিয়েই শ্রমিকদের সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন।

তদন্তকারীরা গত বছরের ২২ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। এ সময় তারা নির্মাণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে রেডকোড ইনকের অফিসে যান। তদন্তকারীদের দাবি, লুৎফর রহমান ও মোহাম্মদ তুষার ৫০০ ডলারের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ ছাড়াই ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ সনদ এবং সাইট সেফটি ট্রেনিং বা এসএসটি সনদ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সনদ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো ক্লাস বা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। লুৎফর ও তুষার তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, আগের তারিখ দেখিয়ে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরে তাদের কাছ থেকে জাল সনদ এবং ওএসএইচএ কার্ড দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ নির্মাণকাজের জায়গায় শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি প্রশিক্ষণের ন্যূনতম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সনদ ইস্যু করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নিউ ইয়র্কে নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিসহ অর্ধশতাধিক নির্মাণ শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত মামলার সময় কিছু শ্রমিকের ওএসএইচএ কার্ড ও এসএসটি সনদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই কিছু শ্রমিক এসব সনদ পেয়ে থাকতে পারেন।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া লুৎফর রহমান ও মোহাম্মদ তুষারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ৪ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশের আমদানির একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে ভারত থেকে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ারনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে আমদানির উৎস যেমন বিস্তৃত হতে পারে, একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই বৈচিত্র্যকরণ ভারতের ঐতিহ্যগত বাজার-প্রভাবের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের বিকল্প হিসেবে অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের হাতে সরবরাহকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প থাকবে।

তবে ভারত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি আমদানি উৎস নয়। দুই দেশের মধ্যে স্থলবন্দর, সীমান্তবাণিজ্য, পরিবহন ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণের উদ্যোগকে কেবল ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে ভারতের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ভারতনির্ভরতার যে ধারণা তুলে ধরা হয়, সেটিও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক উদ্যোগে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক যত বেশি বহুমুখী হবে, কোনো একটি দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কিংবা বাজার পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকিও ততটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লে বাংলাদেশ নতুন সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী এবং রপ্তানি বাজারের সুযোগ পেতে পারে। তবে নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিকস এবং বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোই বাণিজ্য বহুমুখীকরণের শেষ লক্ষ্য নয়। নতুন অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাস্তব সুবিধা তৈরি করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে নতুন বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরির প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেও চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে আসছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সরবরাহব্যবস্থা, রপ্তানি বাজার এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্রঃ শেয়ারনিউজ-২৪

এম.কে