Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের লুটনে মাদকচক্রের ভয়াবহতাঃ ৪ বছর আগে প্রাণঘাতী হামলার শিকার কিশোর

যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত অপরাধী চক্রের সহিংসতা ও আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মাদকচক্রের হুমকি ও সহিংসতার কারণে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি এক্সপ্রেস।

২০২২ সালের জুনে স্থানীয় একটি রেলওয়ে সেতুর নিচে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা এই পরিস্থিতির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রথমে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাটিকে গাড়ির ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলে ধারণা করেছিলেন। পরে চিকিৎসকরা দেখতে পান, কিশোরটির মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি বেসবল ব্যাট নিয়ে ওই কিশোরকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তাকে একটি রেলওয়ে সেতুর নিচে আটকে ফেলে মারধর করা হয়। হামলায় তার মস্তিষ্কে স্থায়ী ও জীবন পরিবর্তনকারী ক্ষতি হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। বড় শহরগুলো থেকে লুটন এলাকায় মাদক সরবরাহকারী সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ ধরনের সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে।

তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক গোয়েন্দা সার্জেন্ট টম হ্যাম বিবিসিকে বলেন, মাদক ব্যবসা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, “কেউ আপনার সঙ্গে কথা বলবে না, কেউ আপনাকে কিছু বলবে না।” তিনি এটিকে মাদক ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় তৈরি হওয়া ‘নীরবতার দেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

টম হ্যাম আরও জানান, লুটন থেকে বাইরে যাওয়ার এবং লুটনে প্রবেশের মাদক সরবরাহের বিভিন্ন লাইন রয়েছে। তার হিসাবে, বেডফোর্ডশায়ারে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি সক্রিয় মাদক সরবরাহের লাইন রয়েছে।

চ্যানেল ফোরের ‘টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স ইন পুলিশ কাস্টডি’ অনুষ্ঠানে কথা বলা এক স্থানীয় মাদক ব্যবহারকারীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে লুটনে “অনেক যুদ্ধ” চলছে। তার দাবি, বড় মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অন্যরা সরবরাহের লাইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এ থেকেই সংঘাত আরও বাড়ে।

‘দ্য অ্যামবুশ’ নামের দুই পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের ওপর হামলার ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সড়কের ক্যামেরার ফুটেজে তাকে একটি গাড়িতে ওঠার পর দ্রুত নেমে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে দেখা যায়। এরপর চারজন অস্ত্রধারী তাকে ধাওয়া করে।

পরে একটি পিৎজা সরবরাহকারী গাড়ির ড্যাশক্যামের ফুটেজ থেকে হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে গাড়িটির চালক মোহাম্মদ হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামিদকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে ওই কিশোরকে বেসবল ব্যাট দিয়ে মারধর করা চার হামলাকারী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের পক্ষ থেকে টম হ্যাম জনগণের কাছে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মামলাটি এখনও বন্ধ হয়নি। ঘটনার বিষয়ে যাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা অথবা ক্রাইমস্টপার্সের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে তথ্য জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেলেও হামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো পাওয়া যেতে পারে। তদন্তকারীদের আশা, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ বা কেউদের পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পলাতক হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

‘টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স ইন পুলিশ কাস্টডি: দ্য অ্যামবুশ’-এর দুই পর্বের বিশেষ অনুষ্ঠান চ্যানেল ফোরে সম্প্রচার করা হয়েছে। প্রথম পর্ব ৩০ আগস্ট এবং দ্বিতীয় পর্ব ৬ সেপ্টেম্বর সম্প্রচার করা হয়।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস, বিবিসি ও চ্যানেল ফোর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিকত্বে বড় বাধাঃ ২ শ্রেণির মানুষ করতে পারবেন না আবেদন

যুক্তরাজ্য সরকারের নাগরিকত্বের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দুই শ্রেণির মানুষ সাধারণীকরণ বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আবেদন করার আগেই তারা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

প্রথম শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা ‘গুড ক্যারেক্টার’ বা সু-চরিত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেন না। নাগরিকত্বের আবেদন বিবেচনার সময় যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর আচরণ, সততা এবং আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে।

গুরুতর অপরাধের ইতিহাস, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন অথবা সরকারি কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা বা বিভ্রান্ত করার মতো কর্মকাণ্ড আবেদনকারীর চরিত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত হতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির চার বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হয়ে থাকলে তিনি সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে অযোগ্য থাকবেন। তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ ১২ মাস থেকে চার বছরের কম হলে দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে অন্তত ১৫ বছর অপেক্ষা করার নিয়ম রয়েছে।

অন্যদিকে, ১২ মাসের কম সময়ের কারাদণ্ড হলে আবেদনকারীকে দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে সাত বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। এরপর অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করা সাপেক্ষে নাগরিকত্বের আবেদন করা যেতে পারে।

দ্বিতীয় শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যারা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আইনে নির্ধারিত বসবাসের শর্ত পূরণ করেননি। সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর আবেদন করার আগের পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত রয়েছে।

এই পাঁচ বছরের সময়ে আবেদনকারী যুক্তরাজ্যের বাইরে সর্বোচ্চ ৪৫০ দিন থাকতে পারবেন। একই সঙ্গে আবেদন করার আগের শেষ ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকার সময় ৯০ দিনের বেশি হওয়া যাবে না।

ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করেছেন অথবা ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে সিভিল পার্টনারশিপে রয়েছেন—এমন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বসবাসের সময়সীমা কিছুটা কম। তাদের সাধারণত আবেদন করার আগের তিন বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হয় এবং ওই সময়ে যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকা যাবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন।

নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আবেদনকারীর ওপর কোনো অভিবাসনকালীন সময়সীমা বা নিষেধাজ্ঞা থাকা যাবে না। পাশাপাশি, তাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে বসবাস বা কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ও দেখাতে হয়।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। আবেদনকারী নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করেছেন কি না, তা যাচাই করার পর নাগরিকত্বের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যারা গুড ক্যারেক্টারের শর্ত অথবা নির্ধারিত বসবাসের শর্ত পূরণ করেন না, তাদের যোগ্যতা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যোগ্যতা পূরণ হওয়ার আগে আবেদন করলে তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকে না।

এদিকে ব্রিটিশ প্রোটেক্টেড পারসন মর্যাদা নিয়েও যুক্তরাজ্যের হোম অফিস নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে এই মর্যাদা হারাতে হয় এবং নতুন করে এই মর্যাদা অর্জনের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত প্রযোজ্য—সেসব বিষয়ও হোম অফিসের নির্দেশনায় তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্রঃ ইয়েন ডটকম ডট জিএইচ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

হরমুজের পর বাব আল-মানদাবও ঝুঁকিতেঃ বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে নতুন চাপের আশঙ্কা

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির শত শত কর্মকর্তা বর্তমানে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন। সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ করার লক্ষ্যে পরিচালিত কার্যক্রম সমন্বয়ে এসব কর্মকর্তা ভূমিকা রাখছেন।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার মধ্যেই এই মোতায়েনের খবর সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার কয়েক দিনের সংঘর্ষের পর হুথিরা কৌশলগত বন্দর মোকা দখল করেছে। বন্দরটি বাব আল-মানদাব প্রণালী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে। রয়টার্সের উদ্ধৃত সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হয়েছে।

বাব আল-মানদাব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল এবং সুয়েজ খালের দিকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘতর পথে চলাচল করতে হতে পারে।

জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ হুথিদের অগ্রযাত্রাকে সংঘাতের ‘নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনে আইআরজিসির শত শত সদস্য থাকার বিষয়ে মার্কিন মূল্যায়ন ইরানের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদনে ইয়েমেনি সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হুথিদের উপকূলীয় অভিযান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তবে ইরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুথিরাও দাবি করে আসছে, তাদের সামরিক সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে বিপুলসংখ্যক আইআরজিসি কর্মকর্তা ইয়েমেনে সরাসরি অবস্থান করলে আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের সরাসরি সামরিক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে।

হরমুজ ও বাব আল-মানদাব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ একই সময়ে বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ, আর বাব আল-মানদাব ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌসংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে তেলের বাজারেও দেখা গেছে। হুথিদের মোকা দখল এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠে যায় বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে।

জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়লে পরিবহন কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘতর পথে যেতে হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকির বিমা খরচও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রযাত্রা শুধু স্থানীয় সংঘাতের বিষয় না থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ গালফ নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

সাদিক খান সরে দাঁড়ালে লন্ডন মেয়র পদে লড়াইয়ে নামতে পারেন ডেভিড ল্যামি

সাবেক ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ও টটেনহ্যামের এমপি ডেভিড ল্যামি লন্ডনের মেয়র পদে দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনে সাদিক খানের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার লক্ষ্যে ল্যামি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ল্যামি চলতি বছরের জুলাই থেকে সরকারের বাইরে রয়েছেন। ওই সময় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ল্যামি সরকারে আর কোনো পদে নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ল্যামি একটি তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অতিথিদের কাছ থেকে ৮০ থেকে ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হয়। ল্যামি উপস্থিতদের জানান, এই অর্থ তার সংসদীয় আসন ধরে রাখার জন্য আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যয় করা হবে।

তবে লেবার পার্টির একাধিক সূত্রের দাবি, ওই নৈশভোজকে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে ল্যামির সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়ে সমর্থন যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডনের মেয়র পদে দ্বিতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও ল্যামি এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো অস্বীকৃতি জানাননি।

২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচন ৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান মেয়র সাদিক খান ইতোমধ্যে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে না দাঁড়ালে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেতে ল্যামিকে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় লন্ডনের একাধিক লেবার এমপির নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ডন বাটলার ও রোসেনা অ্যালিন-খানও রয়েছেন। ডন বাটলার এর আগে জানিয়েছেন, খান নির্বাচনে না দাঁড়ালে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য নিজের নাম বিবেচনায় আনবেন।

ল্যামির জন্য লন্ডনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালের মেয়র নির্বাচনের আগে তাকে লেবার পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাদিক খানই দলটির প্রার্থী হন এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয় মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন।
২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় ল্যামি, ডন বাটলার ও রোসেনা অ্যালিন-খানের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। ফলে সাদিক খান সরে দাঁড়ালে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেভিড ল্যামির পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতিঃ বাংলাদেশি নারীর কারাদণ্ড

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৬৪ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় জাকিয়া খান নামে ৫৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারীকে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের বিচারক নাতাশা সি. মারলে তার বিরুদ্ধে এ সাজা ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি জাকিয়া খানকে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, সোনার গয়না এবং তার মালিকানাধীন দুটি স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টার এবং হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এই জালিয়াতি পরিচালনা করা হয়। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় জাকিয়া খান ‘হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।

এ ছাড়া ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ ও ‘তানউই সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জালিয়াতির অর্থ লেনদেন ও গোপন করা হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন প্রলোভন ও ঘুষের মাধ্যমে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হতো। এরপর বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েই মেডিকেইড কর্তৃপক্ষের কাছে বিপুল পরিমাণ ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, জাকিয়া খান ও তার সহযোগীরা প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে মেডিকেইড কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল।

মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি, যা নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নিম্নআয়ের মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ে সহায়তা দেয়। এই কর্মসূচির অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগেই জাকিয়া খান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

২০২৫ সালের আগস্টে জাকিয়া খান স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ স্বীকার করে দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তী সময়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার সাজা ঘোষণা করা হয়।

রায়ের বিষয়ে নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ডসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত ও মামলার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

জাকিয়া খানের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিতে উল্লেখিত এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় তার আর্থিক দায়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্রঃ ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস ও এইচএইচএস-ওআইজি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় আর্থিকভাবে চাপে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি ভিসা দেওয়ার সংখ্যা গত তিন বছরে ৪১ শতাংশ কমেছে। নতুন এই পরিসংখ্যান দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে ইউনিভার্সিটিজ ইউকে।

হোম অফিসের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০টি স্পনসরড স্টাডি ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১১ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে স্টাডি ভিসা দেওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যার তুলনায় এবার তা ৪১ শতাংশ কমেছে।

২০২৪ সালের শুরুতে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ চালু করে। এর আওতায় অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার সুযোগ সীমিত করা হয়। হোম অফিস জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্টাডি ভিসা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী ভিভিয়েন স্টার্ন বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া টিউশন ফি দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই অর্থ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমেও অর্থায়ন করে।

তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার অর্থায়নের একটি অংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ফি দিয়ে পূরণের প্রত্যাশা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

ভিভিয়েন স্টার্ন আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকলে ব্রিটিশ শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং দেশটির অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে বর্তমান লেবার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি-এর ওপর একটি লেভি আরোপের পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ২২০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বাদ দিয়ে এরপর ভর্তি হওয়া প্রত্যেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ৯২৫ পাউন্ড করে দিতে হবে। সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ কিছু দেশীয় শিক্ষার্থীর জন্য মেইনটেন্যান্স গ্রান্ট দিতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী এই লেভি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মেইনটেন্যান্স গ্রান্ট পুনরায় চালুর সরকারি লক্ষ্যকে তারা সমর্থন করেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ওপর লেভি আরোপের পরিকল্পনা অস্থিতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও দুর্বল করতে পারে।

তিনি সরকারের প্রতি এই নীতির অর্থায়নের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি স্টাডি ভিসা পেয়েছেন চীনা নাগরিকরা। তাদের জন্য ৮৬ হাজার ৩০০টির বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে আগের ১২ মাসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯০০টি ভিসা দেওয়ার তুলনায় এবার চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা ১৬ শতাংশ কমেছে।

চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক স্টাডি ভিসা পেয়েছেন ভারতীয় নাগরিকরা। প্রায় ৮২ হাজার ৫০০টি ভিসা দেওয়া হয়েছে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১৯ শতাংশ কম।

পাকিস্তানি নাগরিকদের স্টাডি ভিসা পাওয়ার সংখ্যায় আরও বড় পতন হয়েছে। হোম অফিসের হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের স্টাডি ভিসা ৪৭ শতাংশ কমেছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৬২ শতাংশ মাস্টার্স কোর্সে পড়াশোনার জন্য আসেন। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে মাস্টার্স পড়াশোনার জন্য দেওয়া স্টাডি ভিসার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজারের কিছু কম, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা কমে যাওয়ার এই প্রবণতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন, গবেষণা কার্যক্রম এবং দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগের ওপর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি-নির্ভরতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইউনিভার্সিটিজ ইউকের পক্ষ থেকে বর্তমান অর্থায়ন পদ্ধতির স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ইমিগ্রেশন সিস্টেম স্ট্যাটিস্টিকস।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইয়ুথ মোবিলিটি ভিসায় ৩ বছর থাকার সুযোগঃ ৩ দেশের নাগরিকদের বিশেষ সুবিধা

যুক্তরাজ্য সরকার ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিমের ভিসা নিয়ে নতুন করে থাকার মেয়াদ সংক্রান্ত নিয়ম স্পষ্ট করেছে। সাধারণভাবে এই ভিসায় সফল আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ মাস যুক্তরাজ্যে থাকা ও কাজের সুযোগ পান। তবে নির্দিষ্ট তিন দেশের নাগরিকদের জন্য প্রাথমিক দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ১২ মাস ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বর্তমান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এই অতিরিক্ত এক বছরের সুবিধা নিতে পারেন। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার সর্বোচ্চ সময় ২৪ মাস থেকে বেড়ে ৩৬ মাস হতে পারে।

ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিমের আওতায় ভিসা পাওয়ার পর ভিসাধারীরা ভিসার মেয়াদ বৈধ থাকা অবস্থায় যুক্তরাজ্য থেকে বাইরে যেতে এবং আবার যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারেন। ভিসার অনুমোদিত সময়ের মধ্যে তারা যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।

সরকারি নির্দেশনায় বয়স সংক্রান্ত নিয়মও উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভিসা পাওয়ার পর ৩১ বছর বয়সে পৌঁছে গেলেও ভিসা পাওয়ার সময় প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।

তবে অতিরিক্ত ১২ মাসের মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধাটি বর্তমানে সব অংশগ্রহণকারী দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত।

ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তরুণ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে অস্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ এবং ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া। কোন দেশের নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং কতদিন থাকতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের চুক্তি ও নির্ধারিত অভিবাসন নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

বর্তমান নিয়মে অতিরিক্ত এক বছরের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ তিনটি দেশের নাগরিকদের জন্য থাকলেও ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিমে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও তাদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী এই ভিসার সুযোগ নিতে পারেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত থাকার একই মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বর্তমানে প্রযোজ্য নয়।

সূত্র: যুক্তরাজ্য সরকারের ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিমের সরকারি নির্দেশনা এবং লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদন।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ৭০ পাউন্ডের চিঠি পেলে ভয় নয়ঃ ব্রিটেনবাসী অধিকাংশই নারী পাবেন এই অর্থ

যুক্তরাজ্যের স্বল্প আয়ের প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার মানুষকে ৭০ পাউন্ড করে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ বা এইচএমআরসি। এ বিষয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো চিঠিটি কোনো প্রতারণা নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি নিউজ।
এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের পেনশন কর-সুবিধা সংক্রান্ত একটি ব্যবস্থাগত ত্রুটি সংশোধনের জন্য। নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা কিছু কর্মী তাদের পেনশনে প্রাপ্য কর-সুবিধা পুরোপুরি পাননি। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী, অর্থাৎ প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার নারী এই অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণত যারা বছরে প্রায় ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের কাছাকাছি আয় করেছেন, তাদের একটি অংশ এই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে প্রত্যেক স্বল্প আয়ের ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ পাবেন—এমন নয়; যোগ্যতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয় ও পেনশন-সংক্রান্ত পরিস্থিতির ওপর।
যোগ্য ব্যক্তিদের এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদাভাবে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। এইচএমআরসি যোগ্য ব্যক্তিদের ডাকযোগে চিঠি অথবা তাদের অনলাইন পার্সোনাল ট্যাক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানাবে।
এই অর্থ নিয়ে প্রতারণার আশঙ্কায় সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। এইচএমআরসি এই অর্থের বিষয়ে ব্যক্তিদের এসএমএস, ই-মেইল বা ফোনকল করে যোগাযোগ করবে না। ফলে কেউ ফোন বা বার্তার মাধ্যমে ৭০ পাউন্ডের অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সেটি এইচএমআরসির যোগাযোগ হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এইচএমআরসি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হলে তা নিরাপদ সরকারি অনলাইন পার্সোনাল ট্যাক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। কোনো ব্যক্তিকে টাকা পাঠাতে, অর্থ পরিশোধ করতে বা কোনো ধরনের ফি দিতে বলা হবে না।
এ ছাড়া এইচএমআরসি কখনো ব্যক্তির পিন, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য গোপন নিরাপত্তা তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করবে না। ফলে এ ধরনের তথ্য চাওয়া হলে সেটি সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ নয়।
বিবিসি জানিয়েছে, যাদের এই অর্থ পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে আবেদন বা দাবি জানানোর প্রয়োজন নেই। এইচএমআরসি নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
৭০ পাউন্ডের এই অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগটি স্বল্প আয়ের মানুষের পেনশন কর-সুবিধা সংক্রান্ত আগের ব্যবস্থাগত ত্রুটি সংশোধনের অংশ। এ কারণে আগামী সময়ে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এইচএমআরসির চিঠি পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ৭০ পাউন্ডের চিঠি পাওয়া ব্যক্তিদের চিঠিতে দেওয়া তথ্য যাচাই করে সরকারি অনলাইন পার্সোনাল ট্যাক্স অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফোন, এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে অর্থ দাবি কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাংকিং তথ্য চাওয়া হলে তা এইচএমআরসির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনকে ‘আইনশৃঙ্খলাহীন শহর’ হিসেবে দেখানোর অপতথ্যের বিরুদ্ধে সরব সাদিক খান

লন্ডনকে একটি বিপজ্জনক, আইনশৃঙ্খলাহীন ও অবনতিশীল শহর হিসেবে তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি এ ধরনের সমন্বিত অনলাইন প্রচারণাকে ‘অন্ধকার অপতথ্যের ঝড়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সাদিক খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লন্ডনকে ‘আইনহীন নৈরাজ্যপূর্ণ শহর’ হিসেবে তুলে ধরার একটি মিথ্যা ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তব পরিসংখ্যান ও অনলাইনে প্রচারিত দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।
গ্রেটার লন্ডন অথরিটির এক গবেষণায় লন্ডনের অপরাধ, জাতিগত সংহতি, পুলিশিং এবং বিক্ষোভসংক্রান্ত বিভিন্ন মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর অনলাইন দাবির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণায় লন্ডনকে বিপজ্জনক ও অবনতিশীল শহর হিসেবে উপস্থাপন করা দাবির পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অভিবাসনসংক্রান্ত মিথ্যা দাবির পরিমাণ ৩৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় কৃত্রিমভাবে পরিচালিত অনলাইন কার্যক্রম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কনটেন্টের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব প্রচারণার সঙ্গে ডানপন্থী গোষ্ঠী এবং বিদেশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের সাম্প্রতিক গবেষণায় লন্ডনের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে জনমত ও বাস্তব তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লন্ডনে মোট অপরাধ বেড়েছে বলে ৬২ শতাংশ মানুষ ধারণা করলেও বাস্তবে ওই সময়ে মোট অপরাধ সামান্য কমেছে, প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
একই গবেষণায় ৪০ শতাংশ মানুষ মনে করেছেন ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লন্ডনে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। অথচ মেয়র সাদিক খান যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তাতে ২০২৫ সালে লন্ডনের মাথাপিছু হত্যাকাণ্ডের হার রেকর্ড পর্যায়ে নেমে আসে। ২০২৫ সালে লন্ডনে ৯৭টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১০৯টির তুলনায় কম এবং ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন সংখ্যা।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, লন্ডনের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের ধারণা বাস্তব পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি নেতিবাচক। পাঁচ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে লন্ডনের বাসিন্দাদের অপরাধের শিকার হওয়ার হারও প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি বলে অনুমান করা হয়েছিল।
লন্ডনের হত্যাকাণ্ডের হার নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর তুলনায় এবং ব্রাসেলস, বার্লিন, প্যারিস ও মিলানের মতো ইউরোপীয় শহরের তুলনায়ও কম বলে সাদিক খান উল্লেখ করেছেন। গত বছর লন্ডনের মাথাপিছু হত্যাকাণ্ডের হার রেকর্ড পর্যায়ে কমে যাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের কিছু শ্রেণিতে সাম্প্রতিক সময়ে হ্রাসও দেখা গেছে। তবে সব ধরনের অপরাধ একই হারে কমেনি।
বিশেষ করে মোবাইল ফোন ছিনতাই, দোকান থেকে চুরি এবং অন্যান্য সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এসব অপরাধের কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সমালোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণায় লন্ডনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়েও মানুষের ধারণা ও বাস্তব তথ্যের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের একটি অংশ লন্ডনে মুসলিম জনসংখ্যা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বাস্তব সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি বলে অনুমান করেছেন। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ লন্ডনে শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘নো-গো জোন’ রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
সাদিক খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের বিষয়ে রাজনৈতিক দল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এবং সাধারণ মানুষের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন গবেষকও বলেছেন, অপরাধ ও অভিবাসন নিয়ে মানুষের ধারণা অনেক ক্ষেত্রে আবেগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।
তবে লন্ডনে অপরাধের কোনো সমস্যা নেই—এমন দাবি গবেষণাগুলোও করেনি। নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ, বিশেষ করে দোকান থেকে চুরি, মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং অন্যান্য দৃশ্যমান অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে অপরাধের বাস্তব ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরঞ্জিত বা মিথ্যা দাবিকে পৃথকভাবে দেখার বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
এদিকে ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট সিটিজ’ র‌্যাঙ্কিংয়ে লন্ডন টানা ১১তম বছরের মতো বিশ্বের সেরা শহরের মর্যাদা পেয়েছে। সাদিক খান এই তথ্যকে লন্ডনের আন্তর্জাতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সাদিক খানের বক্তব্যের সময়েই লন্ডনের ব্রোমলিতে একটি সহিংস ঘটনার ঘটনা সামনে আসে। ১০ সেপ্টেম্বর একটি সংঘর্ষে মেশেটি ও জোম্বি নাইফ ব্যবহারের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনো বৃহত্তর হুমকি নেই। ঘটনাটি লন্ডনে দৃশ্যমান অপরাধ ও জননিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
লন্ডন নিয়ে জনমত, অপরাধের প্রকৃত পরিসংখ্যান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সাদিক খান এই ব্যবধানকে ‘অন্ধকার অপতথ্যের ঝড়’ হিসেবে বর্ণনা করলেও গবেষণা ও পুলিশের তথ্য একই সঙ্গে দেখাচ্ছে—কিছু অপরাধ কমেছে, আবার নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ নিয়ে বাস্তব উদ্বেগও রয়েছে।
সূত্রঃ জিএলএ এবং কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণা
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চীনের ওপর প্রযুক্তি নির্ভরতা নিয়ে ব্রিটেনকে সতর্ক করলেন সাবেক এমআই-সিক্স প্রধান

চীন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় ‘গণবিঘ্নের অস্ত্র’ ব্যবহার করে ব্রিটেনের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করে দিতে এবং দেশকে কার্যত স্থবির করে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক এমআই৬ প্রধান স্যার রিচার্ড ডিয়ারলাভ। চীনা প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ওপর ব্রিটেনের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য ও হাউস অব লর্ডসের সদস্যদের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সতর্কবার্তা দেন সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান। কোয়ালিশন অন সিকিউর টেকনোলজি ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্যার রিচার্ড বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক সংকটের সময় চীন ব্রিটেনের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে হস্তক্ষেপ করে দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে পারে। একই সঙ্গে চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা গণপরিবহন ব্যবস্থাকেও অচল করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ব্রিটেন পানি, পয়োনিষ্কাশন, গ্যাস, রেল, ভূগর্ভস্থ পরিবহন, ট্রাফিক বাতি এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জামের ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব সরঞ্জাম নষ্ট হলে দ্রুত প্রতিস্থাপনের নিজস্ব সক্ষমতাও দেশটির আগের তুলনায় কমে গেছে।
সাবেক এমআই৬ প্রধান বলেন, শান্তিকালীন সময়ে এ ধরনের নির্ভরশীলতা চীনকে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো সংকট তৈরি হলে এই নির্ভরশীলতাই ‘গণবিঘ্নের অস্ত্রে’ পরিণত হতে পারে, যা ব্রিটেনকে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে।
তার ভাষ্য, শিল্প সক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ব্রিটেন শুধু একটি শিল্পখাত হারায়নি, বরং নিজস্বভাবে বিদ্যুৎব্যবস্থা পুনর্গঠনের সক্ষমতাও হারিয়েছে।
স্যার রিচার্ড জানান, বড় আকারের ট্রান্সফরমার সরবরাহ করতে বর্তমানে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জেনারেটর সরবরাহেও তিন বছর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বিদ্যুৎ গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম তৈরিতে প্রয়োজনীয় গ্রেইন-ওরিয়েন্টেড শিল্প ইস্পাতের ক্ষেত্রেও চীনের ওপর নির্ভরতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ইস্পাতের কোনো বিকল্প নেই এবং এর উৎপাদন সক্ষমতায় চীন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।
ইউরোপে এই বিশেষ ইস্পাতের মাত্র দুটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান টিকে আছে বলেও জানান স্যার রিচার্ড। চীনের কম দামের কারণে ইউরোপের এসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমানো ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার চাপের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ব্রিটেন ও তার মিত্রদের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নকশা ও সংযোজনের সক্ষমতা এখনো রয়েছে বলে জানান তিনি। তার মতে, সমস্যা হচ্ছে এসব সরঞ্জাম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের সরবরাহ চীনের হাতে কেন্দ্রীভূত।
ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চীনকে সবচেয়ে গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে উল্লেখ করে স্যার রিচার্ড বলেন, একই দেশের ওপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নির্ভরতা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। স্যার রিচার্ড বলেন, দলটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে এবং তাদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে হয় না; বরং তাদের মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক টিকে থাকা।
তিনি দাবি করেন, চীন শুধু নিজস্ব আঞ্চলিক প্রভাববলয়ে নয়, বিশ্বজুড়েও বিভিন্ন দেশের মধ্যে নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে। বিরল মাটির খনিজের উৎপাদনে চীনের আধিপত্যকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রসঙ্গ তুলে স্যার রিচার্ড বলেন, পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠান বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের যোগাযোগ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিয়েছে।
লন্ডন পরিবহন ব্যবস্থায় চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক বাস কেনার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এসব বাস চীনা সরকারের ভর্তুকির সুবিধা নিয়ে তৈরি এবং এগুলোর সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো নির্মাতা সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে—এমন পরিস্থিতি হয়তো হাস্যরসের বিষয় হতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিড দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০৪৯ সালের মধ্যে চীনকে বৈশ্বিক আধিপত্যের অবস্থানে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন বলেও দাবি করেন সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান।
স্যার রিচার্ড বলেন, চীনের হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত, কারণ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি ‘আমাদের চোখের সামনেই’ তৈরি করা হচ্ছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে