Categories
আমেরিকা

ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে যাবেন’: সমর্থকদের সতর্ক করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান মধ্যবর্তী সম্মেলনে সমর্থকদের ভোট দেওয়ার শপথ করানোর পর তিনি বলেন, যারা ভোট দেবেন না, তারা ‘সোজা জাহান্নামে যাবেন’।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্মেলনে ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের একটি শপথ পাঠ করান। এতে নিজে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বা তার আগেই ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলা হয়। শপথে নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্টের’ প্রতি দায়বদ্ধ থাকার কথাও বলা হয়।
ভোট দেওয়ার আহ্বানের পর ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। একই পদ্ধতিতে কাজ করার কথা রসিকতার ছলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোট না দিলে সমর্থকরা ‘সোজা জাহান্নামে যাবেন’।
ভাষণে ট্রাম্প তার সরকারের বিভিন্ন অর্জনের কথাও তুলে ধরেন। গত ১৯ মাসে তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেছেন বলে দাবি করেন। শেয়ারবাজারের উত্থান, ওষুধের দাম কমানো, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে সমৃদ্ধির ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসে আসন হারানোর ঝুঁকিতে থাকে। তবে ট্রাম্প আগামী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন।
ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে এবং অপরাধীদের ছেড়ে দেবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প।
সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উদ্বোধনী ভাষণ দেন। তিনি রিপাবলিকানদের কোনো নীতিগত মতভেদের কারণে কট্টরপন্থী বা আমলাদের হাতে দেশ তুলে না দিয়ে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনটি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে জেডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেছে। তাকে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি
এম.কে
Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎঃ বছরে মিলতে পারে ৯০ কোটি টাকার কার্বন ক্রেডিট

ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের। দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমবে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর স্বীকৃতি হিসেবে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্মতিতে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে এই প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য দিয়ে এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করলে এর পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ল্যান্ডফিলের ওপর চাপ কমানো, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কার্বন বাজার থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বছরে প্রায় ৫২০ কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সিটি করপোরেশনের এই ব্যয় কমবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটিতে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও ব্যাংক অব চায়নাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।

বিদ্যুতের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার হিসাব দিয়ে দেখলে হবে না। তার দাবি, সব হিসাব বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম ১০ টাকার নিচে নামবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কার্বন ক্রেডিট হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি ক্রেডিট অর্জন করা যায়। সাধারণভাবে একটি কার্বন ক্রেডিট এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের প্রতিনিধিত্ব করে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্বন ক্রেডিটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্য পচে তৈরি হওয়া মিথেন গ্যাস। নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় জৈব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে মিথেন সংগ্রহ ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলে অনিয়ন্ত্রিত মিথেন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে উৎপাদিত গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প তৈরি করা যায়।

এ ধরনের প্রকল্প থেকে কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি কত পরিমাণ কার্বন-সমতুল্য নিঃসরণ কমাচ্ছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপ, প্রতিবেদন এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রকল্পের পদ্ধতি, কার্বন ক্রেডিটের মান, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর ক্রেডিটের আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে।

প্রকল্পে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। চীনে উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন বর্জ্য উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও কাগজ আলাদা করে জ্বালানি তৈরি এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এর মাধ্যমে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে। ল্যান্ডফিলে কাঁচা বর্জ্য জমার কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধ ও দূষণ কমানোর সুযোগও তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. আইনুন নিশাত আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্য যুক্ত হলে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে। সরকারের কার্বন ট্রেডিং নিয়ে পরিকল্পনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং কার্বন ক্রেডিটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, বন সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি, কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আমিনবাজারের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

দুর্নীতি মামলায় সাজা, ডব্লিউএইচওতে জালিয়াতির অভিযোগঃ শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের মধ্যে বুধবার তিনি সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের হাতে আসা পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, পুতুলের পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

পুতুলের বিরুদ্ধে ডব্লিউএইচওর অভ্যন্তরীণ তদন্তে চীন সফরের সময় আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে পুতুলের আইনজীবীদের দেওয়া এক চিঠির বরাতে জানা যায়, চীন সফরের একটি বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে প্রায় ৯০১ ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তার আইনজীবীদের দাবি, এটি ছিল একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রেও পুতুল দাবি করেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক আগে থেকেই অবগত ছিলেন।

এর বাইরে বাংলাদেশেও পুতুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে। তার পদত্যাগপত্রে তিনি অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। পুতুলের দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই ওই জমি তিনি বৈধভাবে অর্জন করেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের অধীনে ওই সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন।

পুতুলের ডব্লিউএইচও-জীবনের শুরুটা অবশ্য ছিল রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। ১০টি ভোটের মধ্যে আটটি ভোট পেয়েছিলেন পুতুল, যার মধ্যে ভারতের ভোটও ছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব তার ওপরও পড়ে। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান। এরপর পুতুলের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশে একাধিক দুর্নীতির মামলা হয়।

২০২৫ সালের ১১ জুলাই ডব্লিউএইচও তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠায়। পরে তার দায়িত্ব পালনের জন্য একজনকে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেই মেয়াদও শেষ হয়ে যায়।

বাংলাদেশে পুতুলের বিরুদ্ধে করা একটি প্লট দুর্নীতি মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। একই মামলাকে কেন্দ্র করে তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির আদেশও দেওয়া হয়েছিল।

রয়টার্সের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পুতুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল ডব্লিউএইচও। আগামী ১২ অক্টোবর নতুন আঞ্চলিক পরিচালকের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নতুন পরিচালক নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পদত্যাগপত্রে পুতুল অভিযোগ করেন, ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন অবৈতনিক ছুটিতে থাকায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ কারণে সংস্থার নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা হারিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তার পদত্যাগের ঘটনা শুধু ডব্লিউএইচওর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবে দেখছে না রয়টার্স। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা, তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের যে ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে, পুতুলের পদত্যাগকেও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটের সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটি।

এদিকে ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক পদটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ, ভারতসহ এই অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে পাঁচ বছরের জন্য পরিচালক নির্বাচিত হন। ফলে একজন আঞ্চলিক পরিচালকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি ছুটি এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘটনা সংস্থাটির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
মুক্তমত

প্রশান্ত মহাসাগর সংকুচিত হচ্ছে এবং আটলান্টিক মহাসাগর বিস্তৃত হচ্ছে

নাশীত রহমান || লন্ডন  || ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পৃথিবীর ভূত্বক কখনো স্থির নয়; এটি ক্রমাগত নড়াচড়া করে, ভাঙে, সরে যায় এবং নতুন ভূখণ্ড সৃষ্টি করে। এই দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর আকারও বদলে যায়। আধুনিক ভূবিজ্ঞান বলছে যে প্রশান্ত মহাসাগর ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে, আর বিপরীতে আটলান্টিক মহাসাগর ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই পরিবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি লক্ষ লক্ষ বছরের টেকটনিক প্লেটের গতিবিধির ফল।

প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে রয়েছে “Ring of Fire” নামে পরিচিত একটি বিশাল ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় সাবডাকশন জোনগুলো অবস্থান করছে। সাবডাকশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি টেকটনিক প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকে যায় এবং ধীরে ধীরে ভূত্বকের গভীরে মিলিয়ে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে এই সাবডাকশন এত বেশি যে মহাসাগরটির প্রান্তগুলো ক্রমাগত ভেতরের দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন কমছে। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে ভবিষ্যতের কোনো এক সময় প্রশান্ত মহাসাগর সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যেতে পারে এবং মহাদেশগুলো একত্রিত হয়ে নতুন সুপারকন্টিনেন্ট তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে আটলান্টিক মহাসাগর ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝখানে রয়েছে Mid-Atlantic Ridge, যা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ডাইভারজেন্ট বাউন্ডারি। এখানে দুটি টেকটনিক প্লেট পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং নিচ থেকে নতুন ম্যাগমা উঠে এসে নতুন ভূত্বক তৈরি করছে। এই প্রক্রিয়াকে সি-ফ্লোর স্প্রেডিং বলা হয়। প্লেটগুলো যত দূরে সরে যায়, আটলান্টিক মহাসাগর তত বিস্তৃত হয়। ফলে মহাসাগরটির আয়তন ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ইউরোপ-আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের মধ্যকার দূরত্ব প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যখন প্রশান্ত মহাসাগর সংকুচিত হতে হতে শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন এর দুই পাশের মহাদেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। এই সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীর ভূত্বক ভাঁজ হয়ে উঁচু হয়ে উঠবে এবং নতুন পর্বতমালা সৃষ্টি হবে। ঠিক যেমন ভারতীয় প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টি করেছিল, তেমনি ভবিষ্যতে আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিম অংশ এশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব অংশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে নতুন সুপার-হিমালয় গঠন করতে পারে। এই পর্বতমালা বর্তমান হিমালয়ের চেয়েও বিশাল হতে পারে, কারণ সংঘর্ষের পরিমাণ হবে মহাদেশীয় স্কেলে।

এই দুই বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া পৃথিবীর ভবিষ্যৎ ভূগোলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। প্রশান্ত মহাসাগরের সংকোচন এবং আটলান্টিকের বিস্তার পৃথিবীর মহাদেশগুলোর অবস্থান, জলবায়ু, সমুদ্রপথ, এমনকি জীববৈচিত্র্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। ভূবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে এই পরিবর্তনগুলো পৃথিবীর স্বাভাবিক টেকটনিক চক্রের অংশ এবং এগুলো আমাদের গ্রহের ক্রমাগত বিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে।

 

প্রশান্ত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরের আকার পরিবর্তনের মূল কারণ হলো পৃথিবীর টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়া। পৃথিবীর ভূত্বক একাধিক বিশাল প্লেটে বিভক্ত, এবং এই প্লেটগুলো প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়। এই ধীর কিন্তু অব্যাহত নড়াচড়াই মহাসাগরের জন্ম, বিস্তার এবং বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আটলান্টিক মহাসাগর বড় হচ্ছে কারণ এর মাঝখানে Mid-Atlantic Ridge নামে একটি বিশাল ডাইভারজেন্ট বাউন্ডারি রয়েছে, যেখানে দুটি প্লেট পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। প্লেটগুলো দূরে সরে গেলে নিচ থেকে গলিত শিলা উঠে এসে নতুন মহাসাগরীয় ভূত্বক তৈরি করে। এই নতুন ভূত্বক পুরনো ভূত্বককে দুই পাশে ঠেলে দেয় এবং আটলান্টিক ধীরে ধীরে চওড়া হয়। ফলে ইউরোপ-আফ্রিকা এবং আমেরিকা মহাদেশের দূরত্ব প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে বাড়ছে।

অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগর ঠিক বিপরীত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর চারপাশে রয়েছে Ring of Fire, পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় সাবডাকশন অঞ্চল। সাবডাকশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি টেকটনিক প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকে পৃথিবীর ম্যান্টলে মিলিয়ে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে এই সাবডাকশন এত বেশি যে মহাসাগরটির প্রান্তগুলো ক্রমাগত ভেতরের দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। পুরনো মহাসাগরীয় ভূত্বক ধ্বংস হচ্ছে, কিন্তু নতুন ভূত্বক তৈরি হচ্ছে না। ফলে প্রশান্ত মহাসাগর ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে এবং এর আয়তন কমছে।

ভূবিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে প্রশান্ত মহাসাগর সংকুচিত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও দ্রুত হবে। সাবডাকশন জোনগুলো মহাসাগরের চারপাশে ক্রমাগত প্লেটকে নিচে টেনে নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে প্রশান্ত মহাসাগর সম্পূর্ণ বিলীন হতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বছর সময় লাগতে পারে।

 

এই সময়সীমা পৃথিবীর টেকটনিক প্লেটের গতিবিধির ওপর নির্ভর করে, যা প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে পরিবর্তিত হয়। তাই এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক চক্র। আটলান্টিক মহাসাগর Mid-Atlantic Ridge-এর কারণে প্রতি বছর প্রায় ২–৪ সেন্টিমিটার করে বিস্তৃত হচ্ছে। এই বিস্তার অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক কোটি বছর ধরে আটলান্টিক আরও বড় হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে আটলান্টিক মহাসাগর আগামী ১০০–২০০ মিলিয়ন বছর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে থাকবে, যতক্ষণ না পৃথিবীর টেকটনিক চক্র নতুনভাবে মহাদেশগুলোকে একত্রিত করতে শুরু করে।

 

দীর্ঘমেয়াদি টাইমলাইন

  • ১০ মিলিয়ন বছর: প্রশান্ত মহাসাগরের সাবডাকশন আরও শক্তিশালী হবে। আমেরিকা ও এশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার দূরত্ব কমতে শুরু করবে।
  • ৫০ মিলিয়ন বছর: প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন দৃশ্যমানভাবে কমে যাবে। রিং অব ফায়ার আরও সক্রিয় হবে।
  • ১০০ মিলিয়ন বছর: আমেরিকা মহাদেশ ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরে এশিয়ার দিকে এগোতে থাকবে। প্রশান্ত মহাসাগর অর্ধেকেরও কম হয়ে যাবে।
  • ১৫০ মিলিয়ন বছর: আটলান্টিক মহাসাগর আরও বড় হবে। ইউরোপ-আফ্রিকা ও আমেরিকার দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
  • ২০০ মিলিয়ন বছর: প্রশান্ত মহাসাগর প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। আমেরিকা ও এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
  • ২৫০–৩০০ মিলিয়ন বছর: প্রশান্ত মহাসাগর সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। আমেরিকা ও এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া সংঘর্ষে লিপ্ত হবে এবং হিমালয়ের মতো নতুন পর্বতমালা সৃষ্টি হবে। এই সংঘর্ষের ফলে পৃথিবীতে নতুন সুপারকন্টিনেন্ট “Amasia” গঠিত হতে পারে।

যখন প্রশান্ত মহাসাগরের দুই পাশের মহাদেশ সংঘর্ষে লিপ্ত হবে, তখন ভূত্বক ভাঁজ হয়ে উঁচু হয়ে উঠবে। এই প্রক্রিয়া ধীরগতির হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। হিমালয় গঠনে প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর লেগেছিল। ভবিষ্যতের সুপার-হিমালয় গঠনে একই ধরনের সময় লাগতে পারে।

প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন পর্বতমালা গঠনের সম্ভাব্য সময়সীমা ২৫০–৩০০ মিলিয়ন বছর পর। প্রশান্ত মহাসাগর সংকুচিত হয়ে বিলীন হতে প্রায় ২০০–৩০০ মিলিয়ন বছর লাগবে। আটলান্টিক মহাসাগর একই সময়ে বিস্তৃত হতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ও এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে হিমালয়ের মতো নতুন পর্বতমালা সৃষ্টি করবে এবং পৃথিবীতে নতুন সুপারকন্টিনেন্ট গঠিত হবে।

 

পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর এই নীরব রূপান্তর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে গ্রহটি কখনো স্থির নয়। ভূত্বকের নিচে থাকা বিশাল টেকটনিক প্লেটগুলো অবিরাম নড়াচড়া করছে, কখনো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, কখনো সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে, আবার কখনো এক প্লেট আরেকটির নিচে ডুবে যাচ্ছে। এই ধীর কিন্তু অব্যাহত নড়াচড়াই পৃথিবীর মহাসাগর, পর্বতমালা, মহাদেশ এবং ভূগোলকে ক্রমাগত নতুন করে গড়ে তোলে। আমরা যে পৃথিবীকে আজ যেমন দেখি, ভবিষ্যতে তা আর একই রকম থাকবে না—কারণ ভূত্বকের এই পরিবর্তন কখনো থেমে থাকে না।

এই পরিবর্তন শুধু মহাসাগরের আকারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভবিষ্যতে মহাদেশগুলোর অবস্থানও বদলে দেবে। লক্ষ লক্ষ বছর পর আমেরিকা মহাদেশ ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরে এশিয়া-অস্ট্রেলিয়ার দিকে এগোবে। প্রশান্ত মহাসাগর সংকুচিত হয়ে একসময় সম্পূর্ণ বিলীন হবে এবং দুই মহাদেশের সংঘর্ষে নতুন পর্বতমালা সৃষ্টি হবে—যেমন ভারতীয় প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয় গঠিত হয়েছিল। এই সংঘর্ষ পৃথিবীর ভূগোলকে নতুন করে সাজাবে এবং ভবিষ্যতে একটি নতুন সুপারকন্টিনেন্টের জন্ম দিতে পারে।

টেকটনিক প্লেটের এই নীরব, ধীর, কিন্তু অব্যাহত নড়াচড়া আমাদের গ্রহের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করছে। পৃথিবী একটি জীবন্ত গ্রহ, যার ভূত্বক ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই আজকের মহাসাগর, মহাদেশ বা পর্বতমালা ভবিষ্যতে একই রকম থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ভূবিজ্ঞানের এই চক্র আমাদের শেখায় যে পৃথিবীর ইতিহাস একটি চলমান গল্প, যার প্রতিটি অধ্যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রূপ নেয়।

Categories
আন্তর্জাতিক

আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

আবুধাবির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশ ছাড়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমিরাতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে আমিরাতকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। তবে এসব সতর্কতার পরও কথিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় তা দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় পর্যায়ে নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করে বলেছে, আমিরাতের ‘উসকানিমূলক বা বৈরী কর্মকাণ্ড’ ক্রমেই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার আর কোনো জবাব না দিয়ে থাকা সম্ভব নয়। এরপর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সব ধরনের পথ শেষ হয়ে যাওয়ায় সরকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের পর আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য বাড়ছিল। আলজেরিয়ার গণমাধ্যমে এর আগে আমিরাতের বিরুদ্ধে উত্তর আফ্রিকা ও আশপাশের অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা এবং আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে উষ্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ উল্লেখ করলেও একটি দেশের সঙ্গে টানাপোড়েনের কথা বলেছিলেন, যা আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। আলজেরিয়া পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে। অন্যদিকে আমিরাত পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এই বিরোধ উত্তর আফ্রিকার দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ানোর অন্যতম বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নেও আলজেরিয়া ও আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে। একই সময়ে মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, যা আলজেরিয়ার আঞ্চলিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সাহেল অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও দুই দেশের স্বার্থ ও নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে, অন্যদিকে এসব দেশের কয়েকটির সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২০১৩ সালে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি সামনে আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, ওই পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আলজেরিয়ার ঘোষণার পর আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আমিরাত এ সিদ্ধান্তকে সাময়িক হিসেবে দেখার আশা প্রকাশ করে এবং আলজেরিয়ার জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বের কথা জানায়।
সূত্রঃ রয়টার্স\ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
এম.কে
Categories
বাংলাদেশ

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ নয়ঃ ব্রিকস সম্মেলন এড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমও তার বক্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ কারণে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে।

ভারত এ বছর ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনে ব্রিকস সদস্যদেশগুলোর পাশাপাশি নির্বাচিত অংশীদার ও আঞ্চলিক জোটের প্রতিনিধিদের নিয়ে আউটরিচ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপক্ষীয় কোনো অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত না করে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে আয়োজনের বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন বলেও জানান তিনি।

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। এর আগে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঢাকা শেষ পর্যন্ত সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠানো থেকে বিরত থাকতে পারে। ১০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট হলো।

এদিকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহও তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ‘নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি’ রয়েছে। তবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের নামে মিয়ানমার যেন অযথা সময়ক্ষেপণ না করে। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

সূত্রঃ ইউ এন বি

এম.কে

Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে ঐতিহাসিক ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি—বিবিসিসিআই।
চেম্বারের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিবিসিসিআই বিজনেস রিসেপশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। লন্ডনের আইভি হিল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিবিসিসিআই জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ট্রেড সেন্টার দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ অথবা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে এই উদ্যোগের।
বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চেম্বারের কার্যক্রমকে প্রচলিত নেটওয়ার্কিংয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যবসার জন্য বাস্তব ও কার্যকর সুযোগ তৈরির দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টারের লক্ষ্য হলো যোগাযোগকে বাণিজ্যে এবং আকাঙ্ক্ষাকে সুযোগে রূপান্তর করা। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে, অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে এবং একসঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।”
চেম্বার জানিয়েছে, ট্রেড সেন্টারের কার্যক্রমের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিয়োগের সুযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সন্ধানে থাকা ব্যবসাগুলোকেও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী বলেন, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার একটি আধুনিক ও উচ্চাভিলাষী চেম্বার গড়ে তোলার প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বহুমুখী সুযোগ সৃষ্টি করবে। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিবিসিসিআই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে বিবিসিসিআই দুই দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।
চেম্বারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য শুধু নেটওয়ার্কিং নয়, বাস্তব ও অর্থবহ বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিবিসিসিআই’র বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন, আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, সাইদুর রহমান রেনু, সাবেক প্রেসিডেন্ট বশির আহমেদ বিইএম ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নর্থ ওয়েস্ট রিজিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, লন্ডন রিজিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ডিরেক্টর আতাহির খান, বিবিসিসিআই’র প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাজ নজরুল খসরু, নির্বাচন কমিশনার ড. জাকির খান ও নির্বাচন কমিশনার তারেক চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার ড. মঞ্জুর শওকত, বিবিপিআই’র প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ, বিসিএ’র প্রেসিডেন্ট অলি খান, চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, জনমত ও কারি লাইফ-এর সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি তফজ্জুল মিয়া এবং হ্যারোর সাবেক মেয়র সেলিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আগে দুটি ডিরেক্টর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আমিরুল ইসলাম চৌধুরী ও জাহিরুল ইসলাম সিআইপি নতুন ডিরেক্টর নির্বাচিত হন।
বিবিসিসিআই জানিয়েছে, ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সূত্রঃ ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BBCCI) — প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এম.কে
Categories
আন্তর্জাতিক

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্বঃ ইরানি এমপির ভয়াবহ সতর্কবার্তা

বিশ্ব ‘প্রায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরাশক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে এমন সতর্কবার্তা এসেছে।
ইরানের সংসদ সদস্য কামরান গাজানফারি ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজানফারি দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটোর সমর্থন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ব্রিটেন ও জার্মানির উত্তেজনা ইউরোপের অন্যান্য দেশেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরোধকেও তিনি বিশ্বব্যাপী সংঘাতের আরেকটি সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তেহরানের সংসদ সদস্য গাজানফারি আরও জানিয়েছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শিগগিরই বিবেচনা করতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিরোধিতাও করেছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি সমঝোতা স্মারকের বিরোধিতা করে গাজানফারি বলেছিলেন, এ ধরনের কোনো চুক্তি বৈধ বা বাধ্যতামূলক হবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপ ও জাস্ক এলাকায় হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজের প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা সংবাদদাতা জেনিফার গ্রিফিন জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী খার্গ দ্বীপ ও জাস্কের কাছে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের তেলবাহী জাহাজও ছিল। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে ইরানের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া বা অচল করে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার পারস্য উপসাগরে ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে একটি মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টাও চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পাল্টা দাবি করেছে, ইরানি হামলায় আটটি তেলবাহী জাহাজ এবং দুটি মার্কিন জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কোনো মার্কিন নৌযুদ্ধজাহাজে হামলা হয়নি এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সব হামলার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের হামলার নিন্দা জানিয়ে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ ও আগ্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার কারণে যে পরিণতি সৃষ্টি হবে, তার দায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সহযোগী ও অংশীদারদের ওপর বর্তাবে।
বিশ্বজুড়ে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ব্রিটেনও সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় আগামী বছর প্রায় ৯৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যকে আবারও দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার জন্য বড় ধরনের একটি মহড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী লুইস স্যান্ডার-জোনস জানিয়েছেন, প্রায় ৯৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যকে নিয়ে একটি ‘কৌশলগত রিজার্ভ’ সক্রিয় করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এত বড় পরিসরে সাবেক সামরিক সদস্যদের সক্রিয় করার ঘটনা দেখা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য ড্রোন উৎপাদনকারী ব্রিটিশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে মস্কোর হুমকির মুখে পড়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানরা সতর্ক করে বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন এমন একটি অভিযান পরিচালনা করছেন, যা বৃহত্তর যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, ইউরোপে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বিরোধ—এই বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে ইরানি আইনপ্রণেতার এই সতর্কবার্তা সামনে এসেছে।
সূত্রঃ ডেইলি স্টার\ ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সি\ ইরান ইন্টারন্যাশনাল\ ফক্স নিউজ
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনঃ ৬ বছরে ৩৬ হাজারের বেশি অভিযোগ

লন্ডনে কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া এলাকার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য সংগ্রহ করেছে ‘পাপিজ ডট কো ডট ইউকে’। এতে দেখা গেছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে ইসলিংটনে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ইসলিংটনে কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে মোট ৩ হাজার ৬৩৭টি অভিযোগ করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অভিযোগ পাওয়া গেছে রেডব্রিজে, যেখানে অভিযোগের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০১টি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে একই সময়ে ২ হাজার ৭৩৬টি অভিযোগ জমা পড়ে।

গত বছর অবশ্য বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামেই কুকুরের ঘেউ ঘেউ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ওই এলাকায় মোট ২ হাজার ২৩৯টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর ছিল সাউথওয়ার্ক ও হ্যাকনি।

‘পাপিজ ডট কো ডট ইউকে’র একজন মুখপাত্র বলেন, কুকুরের যোগাযোগের স্বাভাবিক একটি মাধ্যম হলো ঘেউ ঘেউ করা। তবে তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে প্রতিবেশীদের জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ করার মাধ্যমে কুকুর কোনো বিষয় সম্পর্কে তার মালিককে জানানোর চেষ্টা করতে পারে। কুকুর উদ্বিগ্ন, ভীত, বিরক্ত, উত্তেজিত অথবা আশপাশের কোনো কিছুর প্রতিক্রিয়ায় ঘেউ ঘেউ করতে পারে।

কুকুরের অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ নিয়ন্ত্রণে মালিকদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত ব্যায়ামের ব্যবস্থা করার এবং একা থাকার সময় ব্যস্ত রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুকুরকে শান্ত রাখতে কম শব্দে টেলিভিশন চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।

কুকুর মালিক বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ঘেউ ঘেউ করলে অল্প সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুশীলন করিয়ে ধীরে ধীরে সেই সময় বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কুকুর বুঝতে পারবে যে মালিক আবার ফিরে আসবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুধু প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের কারণ হতে পারে না, এটি আইনগত ব্যবস্থারও কারণ হতে পারে। কোনো কাউন্সিল যদি মনে করে শব্দটি বিধিবদ্ধ বিরক্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাহলে কুকুরের মালিককে সমস্যা সমাধানের জন্য বিধিবদ্ধ শব্দ নিয়ন্ত্রণের নোটিশ দেওয়া যেতে পারে।

এ ধরনের নোটিশের শর্ত পালন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। তাই দীর্ঘস্থায়ী ঘেউ ঘেউয়ের সমস্যা শুরুতেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমন একটি ঘটনায় কুকুরকে অবিরাম উচ্চস্বরে ঘেউ ঘেউ করতে দেওয়ার অভিযোগে এক মালিককে মোট ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি তদন্ত করে এনফিল্ড কাউন্সিলের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তার প্রতিবেশীরা ৩৯ বছর বয়সী ইয়াসার মুস্তাফার জার্মান শেফার্ড কুকুরের উচ্চস্বরে ঘেউ ঘেউ করার বিষয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুস্তাফাকে বিধিবদ্ধ শব্দ নিয়ন্ত্রণের নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ওই নোটিশের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে জুলাই মাসে হাইবারি কর্নার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

গত ৬ আগস্ট বিচারক তাকে ২৫০ পাউন্ড জরিমানা, এনফিল্ড কাউন্সিলের খরচ বাবদ ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং ভুক্তভোগী সারচার্জ হিসেবে আরও ১০০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেন। সব মিলিয়ে তার ওপর ১ হাজার ৮৫০ পাউন্ডের আর্থিক দায় পড়ে।

এনফিল্ড কাউন্সিলের লাইসেন্সিং বিভাগের ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর এলিসা মোরিয়ালে বলেন, কুকুরের অবিরাম ঘেউ ঘেউয়ের মতো উচ্চ শব্দ অসামাজিক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ ও শব্দজনিত বিরক্তির ঘটনায় পরিবেশগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নেওয়া পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মানা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

তবে আদালতের রায়ের পরও ইয়াসার মুস্তাফাকে তার কুকুরটি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযোগের হিসাবে ইসলিংটনের পর রেডব্রিজ ও বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম রয়েছে। এরপর সাউথওয়ার্কে ২ হাজার ২৩৬টি, ল্যামবেথে ২ হাজার ৮০টি, গ্রিনউইচে ১ হাজার ৫৯৩টি এবং ব্রমলিতে ১ হাজার ৫৮৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই সময়ে কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসিতে ১ হাজার ৫১৩টি, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যামে ১ হাজার ৪০৬টি, বেক্সলিতে ১ হাজার ২৪৯টি, হ্যারিঞ্জিতে ১ হাজার ১৯৬টি, সাটনে ১ হাজার ১৬টি, ওয়েস্টমিনস্টারে ৮৬০টি, কিংস্টন আপন টেমসে ৮৬০টি এবং ক্রয়ডনে ৮৪৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে দ্য লন্ডন স্ট্যান্ডার্ড। তথ্য সংগ্রহে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলগুলোর অভিযোগের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য লন্ডন স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে জনমত জরিপে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

লন্ডনে এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারেন না এবং শরিয়াহ আইন প্রাধান্য পায়—এমন ধারণা পোষণ করেন যুক্তরাজ্যের ৩৪ শতাংশ মানুষ। দুই হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্চে পরিচালিত ওই জরিপটি করেছে ইউগভ। এটি কিংস কলেজ লন্ডনের ‘লন্ডন হ্যাজ ফলেন?—যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে অপরাধ, জাতি, ধর্ম ও জীবনযাপন নিয়ে ভুল ধারণা’ শীর্ষক গবেষণার অংশ। কিংস কলেজ লন্ডনের সাম্প্রতিক গবেষণাতেও অপরাধ নিয়ে মানুষের ধারণা এবং বাস্তব পরিসংখ্যানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জরিপে ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, রাজধানীতে এমন এলাকা রয়েছে যেখানে অমুসলিমদের প্রবেশের সুযোগ নেই। বিপরীতে ৩৬ শতাংশ এই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বিষয়টি সত্য কি না সে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।

লন্ডনকে ঘিরে এমন ধারণার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক সময়ে মন্তব্য করেছেন। জিবি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় পুলিশ প্রবেশ করতে চায় না এবং সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প বলেন, লন্ডন একসময় খুব নিরাপদ শহর ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন ধরনের মানুষের উপস্থিতির কারণে শহরটি অনেক বদলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সাদিক খান। এর আগে লন্ডনের মেয়র ট্রাম্পের রাজধানী সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, অনলাইনে লন্ডনকে আইনশৃঙ্খলাহীন ও অবনতিশীল শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

সাদিক খান জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে দাবি করেছেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অন্যান্য অংশের তুলনায় লন্ডনে সহিংস অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় লন্ডন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

লন্ডনের মেয়র আরও বলেন, রাজধানী সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি এবং কিছু মানুষের ধারণার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তার মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য এই ব্যবধান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

শরিয়াহ আইন নিয়েও লন্ডনে বিতর্ক রয়েছে। গত মে মাসে জিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানে রাজধানীতে শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন আইনি সেবার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এসব সেবার মধ্যে ইসলামী আইনশাস্ত্রের ভিত্তিতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাজ্যে মোট কতটি শরিয়াহ কাউন্সিল কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে জিবি নিউজের অনুসন্ধানে শুধু লন্ডনেই অন্তত পাঁচটি শরিয়াহ কাউন্সিলের কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর জাতিসংঘে ট্রাম্প লন্ডনে শরিয়াহ আইন চালু হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন। সাদিক খান তখন ওই মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এদিকে, লন্ডনের মেয়র হিসেবে সাদিক খানের কর্মকাণ্ড নিয়েও জনমত জরিপে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। গত মাসে ইউগভের এক জরিপে ৫৬ শতাংশ লন্ডনবাসী বলেছেন, ২০২৮ সালের পরবর্তী মেয়র নির্বাচনে সাদিক খানের পরিবর্তে নতুন কোনো প্রার্থীকে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

অপরাধ মোকাবিলায় মেয়রের ভূমিকা নিয়েও জরিপে নেতিবাচক মত পাওয়া যায়। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, অপরাধ মোকাবিলায় সাদিক খানের কার্যক্রম ভালো হয়নি। বিপরীতে ৩১ শতাংশেরও কম মানুষ তার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

তবে সাদিক খান এখনো ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

সূত্রঃ জিবি নিউজ/ ইউ.গভ

এম.কে