Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

১৫ বছর অপেক্ষার অভিবাসন নীতি বদলের দাবিঃ বার্নহ্যামকে সতর্ক করলেন টিইউসি মহাসচিব

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অপেক্ষার সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের মহাসচিব পল নওয়াক। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাব সামাজিক সেবা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে এবং উগ্র ডানপন্থী মনোভাব বাড়াতে পারে।

আগামী সপ্তাহে ব্রাইটনে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নওয়াক সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। অভিবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়সহ কয়েকটি বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ কামনা করেন।

জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বার্নহ্যাম শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, কম বেতন পাওয়া ৩ লাখের বেশি কর্মীকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থাকার আইনগত অধিকার পেতে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এই প্রস্তাবের আওতায় এমন অনেক কেয়ার ওয়ার্কার পড়তে পারেন, যারা কোভিড মহামারির পর যুক্তরাজ্যের কর্মী সংকট পূরণ করতে দেশটিতে এসেছিলেন। তাদের যুক্তরাজ্যে আসার সময় জানানো হয়েছিল, পাঁচ বছর পর তারা অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

পল নওয়াক বলেন, মানুষ যখন একটি নির্দিষ্ট প্রত্যাশা নিয়ে যুক্তরাজ্যে এসেছিল, তখন নিয়ম পরিবর্তন করা ‘মৌলিকভাবেই অন্যায্য’। তিনি সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

সামাজিক সেবা খাতের কর্মী সংকটের দিকটিও তুলে ধরেন টিইউসি মহাসচিব। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সামাজিক সেবা খাতে ১ লাখ ১১ হাজার কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে।

নওয়াক বলেন, যত বেশি সম্ভব ব্রিটিশ নাগরিককে এসব কাজের জন্য প্রশিক্ষিত করা উচিত। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনীতি বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি জনসংখ্যা বয়স্ক হয়ে ওঠার কারণে সামাজিক সেবার মতো খাতে বিদেশ থেকে কর্মী আসার প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।

নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের জন্য ১০ বা ১৫ বছর অপেক্ষার প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন নওয়াক। তার বক্তব্য, এত দীর্ঘ সময় স্থায়ী মর্যাদা ছাড়া বসবাস করলে মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নওয়াক জানান, তার দুই দাদা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। একজন হংকং এবং অন্যজন পোল্যান্ড থেকে এসেছিলেন। তারা দুজনই যুক্তরাজ্যে পরিবার গড়ে তুলেছিলেন।

নওয়াক প্রশ্ন করেন, কেউ যদি ১০ বা ১৫ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার আইনগত অধিকার না পান, তাহলে বাড়ি কেনা, চাকরি, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোসহ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করবেন।

তার মতে, এ ধরনের দীর্ঘ অপেক্ষার ব্যবস্থা অভিবাসীদের ব্রিটিশ সমাজে একীভূত হওয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে।

অন্যদিকে, অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তনের পক্ষে থাকা লেবার রাজনীতিকদের যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে অভিবাসন নিয়ে জনগণের উদ্বেগ কমানো এবং নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের মতো জনপ্রিয়তাবাদী দলের আকর্ষণ কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে নওয়াকের বক্তব্য, স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার আগে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলে এর বিপরীত ফলও হতে পারে এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির প্রতি সমর্থন বাড়তে পারে।

তিনি বিশেষভাবে রিফর্ম ইউকের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাদের স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে যুক্তরাজ্যে জন্ম না নেওয়া কিন্তু দীর্ঘদিন দেশটিতে বসবাস ও কাজ করা ব্যক্তিদের ব্রিটিশ সমাজে তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।

সম্প্রতি রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফের বিরুদ্ধে লেবার পার্টি ‘সরাসরি বর্ণবাদ’-এর অভিযোগ তুলেছিল। হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনের উপনির্বাচনে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য রিফর্ম ইউকের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক শিশু শরণার্থী সাগাল আবদি-ওয়ালিকে ব্রিটিশ নন বলে মন্তব্য করার পর তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে।

নওয়াক স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে টিইউসির অনেক সদস্য রিফর্ম ইউকেকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তিনি দাবি করেন, নাইজেল ফারাজকে মানুষ যত বেশি দেখছে, তার প্রতি আগ্রহ তত কমছে।

ডোভার ও পোর্টসমাউথে অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে গত সপ্তাহে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিক্ষোভের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নওয়াক। তিনি নাইজেল ফারাজ ও তার সহযোগীদের বক্তব্যের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ‘সরাসরি যোগসূত্র’ রয়েছে বলে দাবি করেন এবং বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তাবাদী আবেদন মোকাবিলায় জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন নওয়াক। বিশেষ করে বাড়তে থাকা জ্বালানি বিল মোকাবিলায় কম আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

২৮ অক্টোবরের বাজেট সামনে রেখে নওয়াক কম আয়ের মানুষের জন্য জ্বালানি বিল কমাতে একটি ‘সামাজিক শুল্ক’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত মুনাফা কর আরোপ করে এই অর্থের সংস্থান করা যেতে পারে।

২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে জনগণের অর্থে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করার বিষয়টি উল্লেখ করে নওয়াক বলেন, যারা চলতি বছর ঘর গরম করার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য অংশ দাবি করা অযৌক্তিক নয়।

এদিকে, হোম অফিস জানিয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের স্বাভাবিক সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষার সময় কম রাখার পথও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।

হোম অফিস জানিয়েছে, এসব সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ’: আশ্রয়প্রার্থীদের ৯ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

ব্রিটেনের আশ্রয়ব্যবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা একটি নয় পৃষ্ঠার নির্দেশিকায় ধর্ষণ, নারীদের ওপর নির্যাতন ও যৌন হয়রানি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘যুক্তরাজ্যে আচরণ ও প্রত্যাশা বোঝা’ শিরোনামের ওই নির্দেশিকাটি তৈরি করতে আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার তথ্য নেওয়া হয়েছিল বলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর স্বীকার করেছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের জানানো হয়েছে যে ব্রিটেনে নারী ও পুরুষ আইনের দৃষ্টিতে সমান। স্বামী, বাবা, ভাই কিংবা অন্য কোনো পুরুষের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েও নারীরা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও পুলিশের মতো সেবায় নারী-পুরুষ সমানভাবে বিবেচিত হন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় অপরিচিত নারীদের উদ্দেশে যৌন মন্তব্য করা, শিস দেওয়া কিংবা চুম্বনের মতো শব্দ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করাও আইনবিরুদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টিও নির্দেশিকায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো সঙ্গীর অর্থ, চলাফেরা কিংবা পোশাক নিয়ন্ত্রণ করাও পারিবারিক সহিংসতার আওতায় পড়তে পারে এবং ব্রিটেনে এটি বেআইনি।

আশ্রয়প্রার্থীদের যৌন সম্মতির বয়স সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্রিটেনে যৌন সম্মতির বয়স ১৬ বছর। ১৬ বছরের কম বয়সী কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন গুরুতর অপরাধ এবং ওই ব্যক্তি সম্মতি দিলেও তা আইনসঙ্গত নয়। এমন অপরাধের কারণে কারাদণ্ড হতে পারে, আশ্রয়সংক্রান্ত সহায়তা ও আবাসন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে এবং আশ্রয়ের আবেদনের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

শিশুদের খাবার থেকে বঞ্চিত না করা এবং কোনো মেয়ের যৌনাঙ্গ কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত না করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণ সম্পর্কে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই সম্মতি প্রয়োজন। কেউ বিবাহিত বা কোনো সম্পর্কে থাকলেও প্রতিবার যৌন সম্পর্কের আগে তার সম্মতি থাকতে হবে। সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে গুরুতর অপরাধ বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, কেউ আগে সম্মতি দিলেও পরে যেকোনো সময় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। কেউ ঘুমিয়ে থাকলে, মদ্যপ অবস্থায় থাকলে অথবা সাড়া দেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকলে সে যৌন সম্পর্কে সম্মতি দিতে পারে না।

নির্দেশিকাটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সীমান্ত নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী আনা টারলি সংসদীয় এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এসব উপকরণ তৈরি করা হয়েছে আচরণবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে।

আনা টারলি বলেন, আশ্রয়প্রার্থীরা যখন আশ্রয়ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন, তখন তাদের কাছ থেকে কী ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক তথ্য দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব উপকরণ তৈরি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প। তিনি বলেন, লিফলেট তৈরির সময় সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে, অথচ অভিবাসী নারীদের ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ক্রিস ফিল্প বলেন, এসব লিফলেট শুরু থেকেই অযৌক্তিক ছিল এবং আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, জননিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তার দলের নীতিই কার্যকর সমাধান।

সাবেক অভিবাসনমন্ত্রী কেভিন ফস্টারও সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। ডেইলি এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রী আশ্রয়প্রার্থীদের ‘বাস্তব অভিজ্ঞতা’র কথা উল্লেখ করে এমন একটি লিফলেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যেখানে তাদের ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি না করার কথা বলা হয়েছে—এটি বিস্ময়কর।

তিনি আরও বলেন, এমন নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা আশ্রয়ব্যবস্থায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দেশিকাটির উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়ব্যবস্থার মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের ব্রিটেনের আইন এবং তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক তথ্য দেওয়া। এতে নারী-পুরুষের সমতা, যৌন সম্মতি, পারিবারিক সহিংসতা, শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইনগত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে পিআইপি সংস্কারের প্রস্তাবঃ নগদ অর্থের বদলে সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ বেছে নেওয়ার সুযোগ

ব্রিটেনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা বা পিআইপি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি উপদেষ্টাদের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি বলেছে, কিছু দাবিদারকে পুরো অর্থ নগদে দেওয়ার পরিবর্তে ভাতার একটি অংশের সমমূল্যের বিশেষায়িত সরঞ্জাম, সহায়ক উপকরণ, বিভিন্ন সেবা অথবা দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় পিআইপি আয় বা সম্পদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে না এবং নগদ অর্থই ভাতার মূল ভিত্তি হিসেবে থাকবে। তবে দাবিদারদের প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থের একটি অংশের পরিবর্তে ব্যবহারিক সহায়তা বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে প্রয়োজনের মাত্রা অনুযায়ী পিআইপি’র সাপ্তাহিক অর্থ ৩০ দশমিক ৩০ পাউন্ড থেকে ১৯৪ দশমিক ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত। ভাতাটি প্রতিবন্ধিতার কারণে অতিরিক্ত ব্যয়, যেমন জ্বালানি, যাতায়াত ও খাবারের খরচ মেটাতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির এসব প্রস্তাব সরকারের চলমান স্টিফেন টিমস পর্যালোচনার অংশ। পিআইপি ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে এই পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে।
কমিটি জানিয়েছে, পিআইপি’র ব্যয় কমানোর কোনো প্রস্তাব তারা দেয়নি। বর্তমানে পিআইপি খাতে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়। তবে সংস্কারগুলোকে ২০২৯ সালের মধ্যে পিআইপি’র জন্য নির্ধারিত প্রায় ৪১ বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যয়-পরিকল্পনার মধ্যে রাখতে হবে।
পিআইপি ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের আলোচনায় মূলত ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও বিশেষজ্ঞ কমিটি দাবিদারদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রস্তাবিত সুপারিশের মধ্যে মরণাপন্ন অসুস্থতায় আক্রান্ত নতুন দাবিদারদের দ্রুত পিআইপি পাওয়ার জন্য দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালুর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আজীবন স্থায়ী বা ক্রমশ অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের বারবার ভাতা পুনর্মূল্যায়নের সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
হাসপাতালে টানা ২৮ দিনের বেশি অবস্থান করলে কোনো ব্যক্তির পিআইপি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হওয়ার নিয়মও পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, এই নিয়ম কঠোর এবং দাবিদারদের জন্য অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মানসিক অসুস্থতার মতো ওঠানামা করা স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলোর প্রভাব আরও যথাযথভাবে বিবেচনা করার জন্য পিআইপি মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটি বলেছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অতিরিক্ত ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি পিআইপি তাদের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন, পছন্দের সুযোগ, মর্যাদা ও নিজেদের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করা উচিত।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তির প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্য রেখে পিআইপি সহায়তা দেওয়া হবে। কর্মসংস্থান, পরিচর্যা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডসহ দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে আরও বিস্তৃত ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা কমিটির অধিকাংশ সদস্যের নিজেদের প্রতিবন্ধিতা অথবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বছর লেবার সরকারের প্রতিবন্ধী ভাতা কমানোর পরিকল্পনা ব্যাপক বিরোধিতার মুখে বাতিল হওয়ার পর পিআইপি ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই কমিটি কাজ করছে।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে লেবার সরকারের প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের কল্যাণ ভাতা কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দলের পেছনের সারির এমপিদের বিদ্রোহের পর সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবারের আয় কমে যাওয়ার এবং কয়েক লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এরপর পিআইপি নিয়ে পরিচালিত পর্যালোচনার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান ব্যবস্থা উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যকর নয় এবং অনেক দাবিদার নিজেদের সহায়তা পাওয়ার পরিবর্তে মানবিক মর্যাদা হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অনুভব করেন।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পিআইপি গ্রহণ করেন। এই ভাতা পাওয়ার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং দাবিদারদের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ কমিটি জানিয়েছে, এসব সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত নয়। যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আগামী কয়েক সপ্তাহে কর্মশালা আয়োজন করে প্রস্তাবগুলোর ন্যায্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হবে।
পিআইপি’র নগদ অর্থের একটি অংশের পরিবর্তে সেবা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের মধ্যে আপত্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুড গ্রোথ ফাউন্ডেশন নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপে পিআইপি গ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক নগদ অর্থের একটি অংশের পরিবর্তে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ, বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অথবা থেরাপির মতো সেবা গ্রহণের নীতিকে সমর্থন করেছেন।
এদিকে সাবেক লেবার এমপি অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বে তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে পরিচালিত পৃথক পর্যালোচনাতেও এসব সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতে পারে। মিলবার্ন বলেছেন, তরুণদের জন্য ভাতায় ব্যয় করা কিছু অর্থ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত।
ব্রিটেনের কর্ম ও পেনশন বিভাগ জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, পর্যালোচনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন শরৎকালে মন্ত্রীর কাছে দেওয়া হবে এবং তিনি চূড়ান্ত প্রস্তাবগুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
বিভাগটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষকে স্বাধীনভাবে জীবনযাপনে সহায়তা করা এবং একই সঙ্গে কল্যাণ ভাতা ব্যবস্থাকে ন্যায্য, টেকসই ও ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিকত্বে রেকর্ড ফিঃ প্রশাসনিক খরচের পাঁচ গুণেরও বেশি নিচ্ছে হোম অফিস

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত প্রশাসনিক খরচের পাঁচ গুণেরও বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক খরচ ৩২৪ পাউন্ড হলেও আবেদনকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ড। 
ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৬ শতাংশ ফি বৃদ্ধির পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের স্বাভাবিকীকরণ আবেদনের ফি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ড। এর সঙ্গে সফল আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানের জন্য আরও ১৩০ পাউন্ড দিতে হয়। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে মোট খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩৯ পাউন্ড।
প্রায় সব আবেদনকারীর জন্য নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক। নাগরিকত্বের আবেদন সফল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে এই অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং করতে হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য জি-৭ দেশের তুলনায় ব্রিটেনে নাগরিকত্বের আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ব্রিটেনে ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ডের এই ফি যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬২ পাউন্ডের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি এবং জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
নাগরিকত্বের আবেদনের আগেও অনেক অভিবাসীকে কয়েক হাজার পাউন্ড ভিসা ফি দিতে হয়। এর পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে বছরে ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড করে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন হেলথ চার্জ দিতে হয়। ফলে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের চূড়ান্ত আবেদন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই অনেক দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে যায়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও অভিবাসন অধিকারবিষয়ক নীতিনির্ধারণী প্রধান স্টিভ ভালদেজ-সিমন্ডস বলেন, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার উচ্চ ফি নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার খরচ করদাতাদের পরিবর্তে অভিবাসীদের ওপর স্থানান্তর করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার ভুল ও বিলম্বের খরচও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
রিফিউজি কাউন্সিলের বৈদেশিক বিষয়বিষয়ক পরিচালক ইমরান হুসেইন বলেন, অতীতে নাগরিকত্বকে ব্রিটিশ সমাজে সফলভাবে একীভূত হওয়ার একটি প্রতীক হিসেবে উৎসাহিত করা হতো। কিন্তু ক্রমবর্ধমান আর্থিক বাধা বিশেষ করে শরণার্থীদের জন্য নাগরিকত্বের পথ কঠিন করে তুলতে পারে।
ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ নাগরিকত্ব ফি দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাসকারী অনেক মানুষের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ সীমিত করতে পারে। এর ফলে ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে জীবন গড়ে তোলা কিছু মানুষ পূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের বাইরে থেকে যেতে পারেন।
থিংকট্যাংকটি নাগরিকত্বের ফি প্রশাসনিক খরচের কাছাকাছি পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্বের আরও স্পষ্ট পথ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে লাইফ ইন দ্য ইউকে পরীক্ষার পরিবর্তে নতুন নাগরিকত্ব কোর্স ও পরীক্ষা চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে। এতে কমিউনিটি জীবন, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান এবং অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনের লেখক মার্লি মরিস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মানুষদের ব্রিটিশ সমাজের পূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য একটি স্পষ্ট ও সাশ্রয়ী পথ থাকা প্রয়োজন।
সাবেক লেবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডেভিড ব্লাঙ্কেটও নাগরিকত্ব ও গণতন্ত্রকে স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অনুমোদিত ভিসা বা পুনর্বাসন ব্যবস্থার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ইংরেজি ভাষার কোর্স সম্পন্ন করবেন এবং কমিউনিটির প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেবেন, তাদের জন্য আগাম অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসসংক্রান্ত পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। চলতি বছরের বসন্তে তিনি অনেক অভিবাসীর স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষার সময় বর্তমান পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। তবে লেবার দলের পেছনের সারির এমপিদের বিদ্রোহের হুমকি এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রস্তাব কিছুটা শিথিল করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, হোম অফিস নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ফি থেকে মুনাফা করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রক্রিয়াকরণের খরচের চেয়ে বেশি ফি থেকে পাওয়া অর্থ অভিবাসন ব্যবস্থার অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়।
হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, যারা যুক্তরাজ্যে এসে জাতীয় জীবনে অবদান রাখেন, তাদের স্বাগত জানানো হয়। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার এবং অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণকারীদের ওই ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয়ে অবদান রাখা উচিত, যাতে করদাতাদের ওপর চাপ কমানো যায়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন মামলার জট দ্বিগুণের বেশিঃ শুনানিতে লাগছে ৬৫ সপ্তাহ

 

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার জট নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত আপিলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এক বছরের তুলনায় অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার নিষ্পত্তিতে সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি মামলা বন্ধ করতে গড়ে এখন ৬৫ সপ্তাহ সময় লাগছে। এর ফলে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং বিদেশি অপরাধীদের অপসারণ কার্যক্রমে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আশ্রয়-সংক্রান্ত আপিলের শুনানির জন্য বর্তমানে গড়ে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ১২ মাস আগের তুলনায় এই অপেক্ষার সময় আরও ১৩ সপ্তাহ বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৯০ হাজার ৩৪১টি আশ্রয়-সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ হাজার ৬০১টি।

এদিকে, মানবাধিকার আইনের মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে অপসারণ ঠেকানোর চেষ্টা করা অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। এ ধরনের মামলার সংখ্যা ১৩ হাজার ৪১টি থেকে বেড়ে ৩১ হাজার ৪৫৯টিতে পৌঁছেছে।

বিষয়টি নিয়ে কনজারভেটিভ দলের ছায়া বিচারমন্ত্রী নিক টিমোথি বলেন, আদালতে প্রায় ১০ লাখ মামলা আটকে রয়েছে এবং লেবার সরকারের সময়ে শুধু অভিবাসন মামলার জটই দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

নিক টিমোথি বলেন, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বিদেশি অপরাধীরা প্রায় এক বছর ধরে ট্রাইব্যুনালের শুনানির তারিখের অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সময়ে তাদের অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন মামলার কারণে আদালতগুলো কার্যত অপেক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং অপসারণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

কনজারভেটিভ দলের এই নেতা আরও বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে অভিবাসন ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে ফিরিয়ে দেবে। সরকারের কার্যক্রম আদালতের মাধ্যমে কীভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেটিও আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ডি বার্নহাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সামনে অভিবাসন ও আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার এই ক্রমবর্ধমান জট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শুনানির সময়ও দীর্ঘ হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে অভিবাসন মামলার নিষ্পত্তি এবং ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ও বিদেশি অপরাধীদের অপসারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ওষুধের বড় সংকটঃ ল্যান্সোপ্রাজল এক মাসের বেশি দিতে পারবে না ফার্মেসি

যুক্তরাজ্যে সরবরাহ সংকটের কারণে হার্টবার্ন, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও পাকস্থলীর আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত ওষুধ ল্যান্সোপ্রাজল সীমিত পরিমাণে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের জারি করা সিরিয়াস শর্টেজ প্রোটোকল বা এসএসপি অনুযায়ী, সংকট চলাকালে রোগীদের একবারে এক মাসের বেশি এই ওষুধ দেওয়া যাবে না।

ল্যান্সোপ্রাজলের ১৫ মিলিগ্রাম ও ৩০ মিলিগ্রাম মাত্রার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এসএসপি কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই নির্দেশনা এর আগেও সংশোধন বা বাতিল করা যেতে পারে।

ল্যান্সোপ্রাজল হলো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বা পিপিআই শ্রেণির ওষুধ। এটি পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন কমায় এবং হার্টবার্ন, অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও পাকস্থলীর আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে ল্যান্সোপ্রাজল প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখবার সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা বর্তমানে কতজন মানুষ ওষুধটি ব্যবহার করছেন, তা নির্দেশ করে না।

ন্যাশনাল ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশন বা এনপিএর চেয়ারম্যান অলিভিয়ের পিকার্ড ল্যান্সোপ্রাজল ব্যবহারকারী রোগীদের তাদের জিপি এবং ফার্মেসির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পিকার্ড বলেছেন, সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক মাসের ওষুধে সরবরাহ সীমিত করা অথবা চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত হলে অন্য মাত্রার ওষুধে পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে।

ল্যান্সোপ্রাজলের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে এনপিএ। এর মধ্যে রামিপ্রিল, অ্যাসপিরিন, কো-কোডামল এবং ক্রিয়ন রয়েছে।

রামিপ্রিলের কয়েকটি মাত্রার জন্যও গত সপ্তাহে নতুন সিরিয়াস শর্টেজ প্রোটোকল ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই ওষুধটির সরবরাহ সংকটের কথা জানানো হয়েছে।

এনপিএ জানিয়েছে, সংকটে থাকা ওষুধ সংগ্রহের জন্য ফার্মাসিস্টদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিপিদের প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন করতে হচ্ছে।

পিকার্ড বলেছেন, উপযুক্ত ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টদের বিকল্প ওষুধ দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত, যাতে রোগীদের বিকল্প চিকিৎসার জন্য আবার জিপির কাছে যেতে না হয়।

জুলাই ও আগস্টের সরকারি তালিকা তুলনা করে দেখা গেছে, উভয় মাসের প্রাইস কনসেশন তালিকায় ১১৪টি ওষুধ ছিল। এই তালিকায় হৃদযন্ত্র, রক্তচাপ, মানসিক স্বাস্থ্য, স্নায়ুরোগ, ব্যথা, সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, হরমোন এবং পাকস্থলীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে।

হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপের ওষুধের মধ্যে রয়েছে এনালাপ্রিল, লিসিনোপ্রিল, পেরিন্ডোপ্রিল, রামিপ্রিল, ক্যান্ডেসারটান, অ্যামিওড্যারোন, ডিগক্সিন, ফ্লেকাইনাইড, অ্যাপিক্সাবান, রিভারক্সাবান, ওয়ারফারিন, বিসোপ্রোলল, কারভেডিলল, ল্যাবেটালল, নিফেডিপিন, ভেরাপামিল, অ্যাটোরভাস্টাটিন, ইজেটিমাইব, ফেনোফাইব্রেট, সিমভাস্টাটিন, অ্যাসপিরিন, ডাইপাইরিডামোল ও টিকাগ্রেলর।

মানসিক স্বাস্থ্য ও স্নায়ুরোগের ওষুধের মধ্যে রয়েছে গ্যাবাপেন্টিন, ল্যাকোসামাইড, ল্যামোট্রিজিন, লেভেটিরাসিটাম, ফেনোবারবিটাল, প্রেগাবালিন, ক্লোমিপ্রামিন, ফ্লুওক্সেটিন, মির্টাজাপিন, নরট্রিপটিলিন, সারট্রালিন, ভেনলাফ্যাক্সিন, ক্লোনাজেপাম, মেলাটোনিন ও জোলপিডেম।

ব্যথানাশক ওষুধের তালিকায় রয়েছে ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, ইন্ডোমেথাসিন, মেলোক্সিকাম, নেফোপাম, কোডিন, কো-কোডামল, মরফিন সালফেট ও অক্সিকোডন।

অ্যান্টিবায়োটিক ও সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মধ্যে রয়েছে অ্যামোক্সিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল, কো-ট্রাইমক্সাজল, এরিথ্রোমাইসিন, ফ্লুক্লক্সাসিলিন, লাইমেসাইক্লিন, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, ক্লোট্রিমাজল, ইট্রাকোনাজল ও অ্যাসাইক্লোভির।

ডায়াবেটিস ও হরমোন-সংক্রান্ত ওষুধের মধ্যে রয়েছে ড্যাপাগ্লিফ্লোজিন, গ্লিক্লাজাইড, মেটফরমিন, বাইকালুটামাইড, লেভোথাইরক্সিন সোডিয়াম, প্রোজেস্টেরন ও ট্যামোক্সিফেন। এছাড়া ডেক্সামেথাসোন, হাইড্রোকর্টিসোন ও মোমেটাসোন-এর মতো কর্টিকোস্টেরয়েডও তালিকায় রয়েছে।

পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রের ওষুধের মধ্যে রয়েছে ইসোমেপ্রাজল, গ্লাইকোপাইরোনিয়াম ব্রোমাইড, হায়োসিন বিউটাইলব্রোমাইড, ল্যান্সোপ্রাজল, প্রুক্যালোপ্রাইড, র‍্যাবেপ্রাজল ও অ্যাজাথায়োপ্রিন।

এছাড়া ডক্সাজোসিন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, লেফ্লুনোমাইড, কুইনাইন সালফেট, লোরাটাডিন, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, কোলেক্যালসিফেরল, সায়ানোকোবালামিন, ফলিক অ্যাসিড, অরলিস্ট্যাট, ফেসোটেরোডিন, অক্সিবিউটিনিন, বেটাহিস্টিন, ডমপেরিডোন, প্রোক্লোরপেরাজিন, অ্যাটোমক্সেটিন, ট্রাভোপ্রস্ট, এপ্লেরেনোন ও ইন্ডাপামাইডসহ আরও বিভিন্ন ওষুধ তালিকায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে সরকারের প্রাইস কনসেশন তালিকায় ২৪৩টি ওষুধ ছিল। ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে আরও ১৩টি ওষুধ তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

প্রাইস কনসেশন তালিকায় কোনো ওষুধ যুক্ত হওয়ার কারণ হলো, ফার্মেসিগুলো যখন ড্রাগ ট্যারিফে নির্ধারিত NHS-এর পরিশোধমূল্যের সমান বা কম দামে ওই ওষুধ সংগ্রহ করতে পারে না, তখন সরকার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের অনুমতি দিতে পারে।

বাজারে কোনো ওষুধের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে ফার্মেসিগুলোকে নির্ধারিত NHS মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হতে পারে। এতে ওষুধ সংগ্রহ ও পর্যাপ্ত মজুত রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এনপিএ জানিয়েছে, ফার্মেসিগুলোতে প্রতিদিন ব্যবহৃত ওষুধের সরবরাহ সমস্যা বাড়ছে এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

অলিভিয়ের পিকার্ড যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ইভেট কুপারকে ওষুধের ঘাটতি এবং বৈশ্বিক ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্রঃ দ্য সান, কমিউনিটি ফার্মেসি ইংল্যান্ড, এনএইচএস ও ন্যাশনাল ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশন

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার ১৪৯ ড্রোনের ভয়ংকর হামলাঃ পোল্যান্ডে ছুটল যুদ্ধবিমান—ন্যাটো সীমান্তে সতর্কতা

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলার পর পোল্যান্ডের সামরিক বিমান আকাশে উড়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর চালানো এই হামলায় রাশিয়া ১৪৯টি হামলাকারী ড্রোন মোতায়েন করে। হামলার পর পোল্যান্ডের পডকারপাস্কি ও লুবলিন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়।

পোল্যান্ডের সরকারি নিরাপত্তা কেন্দ্র (আরসিবি) এক সতর্কবার্তায় জানায়, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার বিমান হামলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পোলিশ সামরিক বিমান দেশটির আকাশসীমায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় পডকারপাস্কি ও লুবলিন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরকারি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়। পরে পোলিশ কর্তৃপক্ষের আরেকটি বার্তায় জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট হুমকি শেষ হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ব্যবহৃত ১৪৯টি ড্রোনের মধ্যে শাহেদ-ধরনের ড্রোন, গেরবেরা ও প্যারোডিয়া ডিকয় ছিল। এসব ড্রোন রাশিয়ার মিলেরোভো, কুরস্ক ও প্রিমোরস্কো-আখতারস্ক এলাকা এবং রাশিয়ার দখলে থাকা দোনেৎস্ক ও ক্রিমিয়া থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।

রাশিয়ার হামলার সময় পোল্যান্ডের সামরিক বিমান সক্রিয় করার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

পোলিশ সামরিক কর্তৃপক্ষ এসব পদক্ষেপকে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সময় সম্ভাব্য আকাশপথের ঝুঁকি মোকাবিলায় পোল্যান্ডের সামরিক বিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এর আগেও সক্রিয় করা হয়েছে।

তবে সর্বশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা বা ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো তথ্য পোলিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।

একইভাবে, ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন কোনো ঘোষণা বা তথ্যও পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ঘটনাটি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর পোল্যান্ডের নেওয়া সামরিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরকারি যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ রুশ হামলায় ১৪৯টি ড্রোন ব্যবহারের পর পোল্যান্ডের যুদ্ধবিমান আকাশে ওঠা এবং দেশটির সীমান্তবর্তী দুই অঞ্চলে সতর্কতা জারির বিষয়টি পোলিশ কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক মুক্তমত

রিপাবলিকানরা দুই কক্ষ জিতলে প্রতিটি মার্কিন নাগরিককে ৫,০০০ ডলার দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

নাশীত রহমান || লন্ডন || ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ডালাস, টেক্সাসের আমেরিকান এয়ারলাইন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান পার্টির যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে আসন্ন ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলার করে প্রদান করা হবে।

ট্রাম্পের ঘোষিত প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫,০০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মূলত একটি নির্বাচনী প্রচারণামূলক বক্তব্য। এটি কোনো আইন নয়, কোনো অনুমোদিত বাজেট নয়, এবং এর জন্য কোনো অর্থায়নের উৎসও নির্ধারিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আছে। প্রত্যেককে ৫,০০০ ডলার দিলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাজেট কাঠামোতে কোথাও সংরক্ষিত নেই। বরং দেশটি ইতোমধ্যে বছরে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে চলছে এবং জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ এই ধরনের নগদ বিতরণ করতে হলে নতুন আইন, নতুন কর, বিশাল ঋণ গ্রহণ বা ব্যাপক ব্যয় সংকোচন—কোনো একটি বা একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু ট্রাম্প বা রিপাবলিকান পার্টি এখন পর্যন্ত এসবের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি।

ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স কয়েকবার বলেছেন যে এই অর্থ “ট্যারিফ রাজস্ব” বা “DOGE সেভিংস” থেকে আসতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ রাজস্ব মোটেও এত বড় নয় যে তা দিয়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারের নগদ বিতরণ সম্ভব। DOGE (Department of Government Efficiency) নামে যে সেভিংস প্রোগ্রামের কথা বলা হয়েছিল, সেটি বাস্তবে কার্যকর কোনো সরকারি বিভাগ নয়, কোনো অনুমোদিত সেভিংস প্রোগ্রামও নয়। অর্থাৎ এটি ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য, বাস্তব নীতিগত কাঠামো নয়। ফলে অর্থায়নের উৎস বাস্তবে নেই।
এখন প্রশ্ন আসে—এটি কি গণতন্ত্রবিরোধী? যুক্তরাষ্ট্রে ভোট কেনা আইনত অপরাধ। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী যদি সরাসরি বলে যে “আমাদের জিতলে আপনাকে টাকা দেব”, তাহলে এটি ভোটারদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক ফলাফল প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ট্রাম্প সরাসরি বলেননি “আমাকে ভোট দিন”, তিনি বলেছেন “রিপাবলিকানরা দুই কক্ষ জিতলে” অর্থ দেওয়া হবে। এটি আইনি ভাষায় একটি ধূসর এলাকা তৈরি করে—কারণ এটি ভোটের বিনিময়ে সরাসরি অর্থ নয়, কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করেন, কারণ এটি ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাবিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে নাগরিকদের নগদ অর্থ দিতে পারেন না। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ বিতরণ সম্ভব নয়। অতীতে কোভিড স্টিমুলাস চেকও কংগ্রেসের আইন পাসের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। তাই ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে রিপাবলিকানদের শুধু জয়লাভ করাই যথেষ্ট নয়, তাদেরকে আইন পাস করতে হবে এবং অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ করতে হবে। এখন পর্যন্ত এসবের কোনো বাস্তব নীতিগত কাঠামো নেই।
সুতরাং সারসংক্ষেপ হলো—এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে অর্থায়নহীন, আইনহীন এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ। এটি গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার কোথা থেকে আসবে—এর কোনো বাস্তব উত্তর নেই।
ট্রাম্পের ঘোষিত ৫,০০০ ডলার প্রতিশ্রুতির আইনগত দিক হলো যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে নাগরিকদের নগদ অর্থ দিতে পারেন না। অর্থ বিতরণ করতে হলে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হয় এবং বাজেট বরাদ্দ দিতে হয়। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে সরাসরি নগদ বিতরণ করা যায় না। তাই ট্রাম্পের ঘোষণাটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি কার্যকর করতে হলে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদেরকে আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের Appropriations Clause অনুযায়ী কোনো অর্থ ব্যয় করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য। ফলে এই প্রতিশ্রুতি আইনগতভাবে বর্তমানে শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য লঙ্ঘন হলো যে ভোটারদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নির্বাচন ফলাফলের সঙ্গে শর্তযুক্ত হলে তা ভোট কেনার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা দল ভোটারদের আর্থিক সুবিধা, উপহার বা অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রভাবিত করতে পারে না। ট্রাম্প সরাসরি বলেননি “আমাকে ভোট দিন”, কিন্তু বলেছেন “রিপাবলিকানরা দুই কক্ষ জিতলে” অর্থ দেওয়া হবে। এটি নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা যুক্ত করে, যা নির্বাচন আইনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি ধূসর এলাকা বলে মনে করেন, কারণ এটি সরাসরি ভোট কেনা নয়, কিন্তু ভোটারদের আর্থিক প্রত্যাশা তৈরি করে নির্বাচনী আচরণ প্রভাবিত করতে পারে। নির্বাচন আইনের দৃষ্টিতে এটি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সম্ভাব্যভাবে অবৈধ।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট বা রাজনৈতিক দল এককভাবে নাগরিকদের নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে না। অর্থ বিতরণ করতে হলে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হয় এবং বাজেট বরাদ্দ দিতে হয়। সংবিধানের Appropriations Clause (Article I, Section 9, Clause 7) স্পষ্টভাবে বলে যে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত ৫,০০০ ডলার প্রতিশ্রুতি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয় এবং এটি কার্যকর করতে হলে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদেরকে আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন করতে হবে।

এছাড়া Federal Election Campaign Act (FECA) এবং 18 U.S. Code § 597 অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে শর্তযুক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। আইনটি স্পষ্টভাবে বলে যে “any person who makes or offers to make an expenditure to any person to vote or withhold his vote”—এটি অপরাধ। যদিও ট্রাম্প সরাসরি বলেননি “আমাকে ভোট দিন”, তিনি বলেছেন “রিপাবলিকানরা দুই কক্ষ জিতলে” অর্থ দেওয়া হবে। এটি নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা যুক্ত করে, যা আইনগতভাবে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য লঙ্ঘন – যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন আইন ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে আর্থিক প্রলোভন থেকে রক্ষা করতে কঠোর বিধান রেখেছে। 18 U.S. Code § 597 এবং 52 U.S. Code § 10307(c) অনুযায়ী ভোটারদের অর্থ, উপহার বা আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রভাবিত করা অপরাধ। ট্রাম্পের বক্তব্যে বলা হয়েছে যে রিপাবলিকানরা দুই কক্ষ জিতলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলার দেওয়া হবে। এটি সরাসরি ভোট কেনা নয়, কিন্তু নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে আর্থিক সুবিধা যুক্ত করে ভোটারদের আচরণ প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি ধূসর এলাকা বলে মনে করেন। কারণ এখানে সরাসরি ভোটের বিনিময়ে অর্থ নয়, কিন্তু ভোটারদের আর্থিক প্রত্যাশা তৈরি করে তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন আইনের চেতনা অনুযায়ী এটি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং সম্ভাব্যভাবে অবৈধ।
নির্বাচনী জালিয়াতির উদাহরণ – যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে অর্থ বা উপহার দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, এবং সেগুলোতে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
২০১৮ সালের নর্থ ক্যারোলাইনা ব্যালট জালিয়াতি মামলায় একজন রাজনৈতিক কনসালট্যান্ট ভোটারদের আর্থিক সুবিধা ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে অনুপস্থিত ব্যালট সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট নিয়ে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সেগুলো জমা দিতেন। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন আইনে গুরুতর জালিয়াতি হিসেবে গণ্য হয় এবং তদন্তের পর পুরো নির্বাচনের ফল বাতিল করা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী জালিয়াতির সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি।

২০১৪ সালের কেনটাকি ভোট কেনা মামলায় কয়েকজন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ভোটারদের নগদ অর্থ, সাধারণত ২০ থেকে ৫০ ডলার করে দিয়ে ভোট কিনেছিলেন। তারা ভোটারদের সরাসরি অর্থ প্রদান করে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে উৎসাহিত করতেন। ফেডারেল তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলাটি দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট কেনা একটি ফেডারেল অপরাধ এবং এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।
২০১৭ সালের টেক্সাস ভোট কেনা মামলায় একদল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ভোটারদের নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে ভোট সংগ্রহ করেছিল। তারা দরিদ্র ও প্রবীণ ভোটারদের লক্ষ্য করে অর্থ ও উপহার প্রদান করত এবং তাদেরকে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে নির্দেশ দিত। এই ঘটনার বিরুদ্ধে 18 U.S. Code § 597 অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়, যা ভোট কেনা বা আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য একটি ফেডারেল আইন। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন আইনের কঠোরতা এবং ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত রক্ষার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এই উদাহরণগুলো দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভোট প্রভাবিত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

অর্থনৈতিক বাস্তবতা হলো যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আছে এবং প্রত্যেককে ৫,০০০ ডলার দিলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার । যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাজেট ঘাটতি বছরে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বিতরণ করতে হলে নতুন কর আরোপ, ব্যাপক ঋণ গ্রহণ বা বড় পরিসরে সরকারি ব্যয় কমানো ছাড়া কোনো পথ নেই। ট্রাম্প বা রিপাবলিকান পার্টি এখন পর্যন্ত এসবের কোনো বাস্তব নীতিগত কাঠামো বা অর্থায়নের উৎস ঘোষণা করেনি। ট্যারিফ রাজস্ব বা DOGE সেভিংসের মতো উৎসগুলো বাস্তবে এত বড় নয় যে তা দিয়ে এই পরিমাণ অর্থ বিতরণ সম্ভব। অর্থনৈতিকভাবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অসম্ভব এবং এটি মূলত নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ট্রাম্পের ঘোষিত ৫,০০০ ডলার প্রতিশ্রুতি আইনগতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং এটি নির্বাচনী ফলাফলের সঙ্গে শর্তযুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন আইনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি সরাসরি ভোট কেনা না হলেও ভোটারদের আর্থিক প্রত্যাশা তৈরি করে তাদের আচরণ প্রভাবিত করার সম্ভাবনা তৈরি করে, যা আইনগতভাবে ধূসর এলাকা এবং নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। অতীতের উদাহরণগুলো দেখায় যে অর্থ বা উপহার দিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে পাকিস্তানি মালিকানাধীন স্বর্ণের দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির চেষ্টা

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে পাকিস্তানি মালিকানাধীন একটি স্বর্ণের দোকানে ভরদুপুরে গাড়ি ঢুকিয়ে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে একদল মুখোশধারী হামলাকারী। গত ৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার, ডাকওয়ার্থ এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের চার-চাকা গাড়ি পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে দোকানের সামনের অংশে ধাক্কা দেয়। প্রচণ্ড আঘাতে দোকানের সামনের কাচের দেয়াল ও দরজা ভেঙে যায় এবং গাড়িটি দোকানের ভেতরের দিকে ঢুকে পড়ে।

ঘটনার সময় দোকানের ভেতরে ক্রেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গাড়িটি দোকানে ঢুকে পড়ার পর আতঙ্কিত ক্রেতাদের কয়েকজন দোকানের এক পাশে সরে যেতে দেখা যায়। এর পরপরই মুখোশ পরা কয়েকজন হামলাকারী অস্ত্র হাতে দোকানে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার লুটের চেষ্টা চালায়।

তবে হামলাকারীদের পরিকল্পনা বেশিক্ষণ এগোয়নি। দোকানের ২০ বছর বয়সী সহ-মালিক মুহাম্মদ আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রতিরোধ করেন। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন জিনিস ছোড়া হয় এবং একপর্যায়ে বেসবল ব্যাট হাতে তাদের ধাওয়া করা হয় বলে প্রকাশিত ফুটেজ ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দোকানিরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার পর হামলাকারীরা কোনো স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তারা খালি হাতেই দোকান থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় হামলাকারীদের ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে।

ঘটনার পর ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করার কথা জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে।

হামলার কারণে দোকানের সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দোকানের মালিক ও কর্মীদের প্রতিরোধের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাটিকে ব্র্যাডফোর্ডে দিনের বেলায় সংঘটিত একটি দুঃসাহসিক ‘র‌্যাম রেইড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা; ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

সীমান্তে হাজারো ব্রিটিশ নাগরিককে আটকে দেওয়া হচ্ছেঃ ভ্রমণের আগে জানতে হবে এসব নিয়ম

ভিসা ও ভ্রমণ অনুমোদনের নিয়ম সম্পর্কে বিভ্রান্তির কারণে বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন হাজারো ব্রিটিশ নাগরিক। প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সঙ্গে না থাকা বা নির্ধারিত অনুমোদন না নেওয়ার কারণে সীমান্তে তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইটে উঠতেও দেওয়া হচ্ছে না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কনফিউজড ডটকম-এর নতুন গবেষণায় ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাত্র দুটি গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ২ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে সীমান্তে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে ২৪২ জন ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। গত বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫১ জনে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন—ইএসটিএ প্রয়োজন। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ভিসা-মওকুফ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বিমান পরিবর্তনের জন্য যাওয়া হলেও ইএসটিএ প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, কোনো ব্রিটিশ যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ঘণ্টার জন্য অবস্থান করেন এবং বিমানবন্দর থেকে বের না হয়েও অন্য দেশে যাওয়ার সংযোগকারী ফ্লাইট ধরেন, তবুও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভ্রমণে সমস্যা হতে পারে।

বর্তমানে ইএসটিএ-এর আবেদন ফি ৪০ দশমিক ২৭ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩০ পাউন্ড। গত বছর এই ফি ছিল ২১ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫ দশমিক ৩৮ পাউন্ড।

অস্ট্রেলিয়াতেও ভ্রমণ নথি সংক্রান্ত সমস্যায় ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রবেশে বাধার ঘটনা ঘটেছে। কনফিউজড ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভ্রমণ নথির সমস্যার কারণে ৩০০ জনের বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ছুটির উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ই-ভিসা প্রয়োজন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা যায়। ই-ভিসার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তবে ভ্রমণের আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক।

এদিকে কিছু দেশের ভ্রমণ নিয়ম সম্প্রতি পরিবর্তন হয়েছে। চীন ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কাও ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন—ইটিএ-এর আবেদন ফি বাতিল করেছে। আগে এর জন্য ৫০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ পাউন্ড দিতে হতো। বর্তমানে আবেদনটি বিনামূল্যে হলেও ভ্রমণের আগে ইটিএ-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। আগামী বছর থেকে ইউরোপের নির্দিষ্ট দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য ব্রিটিশ নাগরিকদের ইটিআইএএস প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইটিআইএএস যুক্তরাষ্ট্রের ইএসটিএ-এর মতো একটি ভ্রমণ অনুমোদন ব্যবস্থা। এর খরচ হবে ১৮ পাউন্ড এবং অনুমোদনটি তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় ভিসা ও ভ্রমণ অনুমোদন সম্পর্কে তথ্য দিতে কনফিউজড ডটকম একটি নতুন ভিসা চেকার টুল চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা যাবে।

কনফিউজড ডটকমের ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বিশেষজ্ঞ টম ভন বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রবেশে প্রত্যাখ্যাত হওয়া কোনো ভ্রমণকারীই প্রত্যাশা করেন না। তবে গন্তব্য দেশের প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকলে এটি বাস্তব ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ভিসা ও প্রবেশের নিয়ম জটিল এবং একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সামান্য ভুলের কারণেও কাউকে প্রবেশে প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে এবং এর ফলে তার ছুটির পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

টম ভন আরও বলেন, কোনো দেশে প্রবেশে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনা সাধারণ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের আওতায় নাও পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য সান \ কনফিউজড ডটকম

এম.কে