Categories
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার চেয়ে বাংলাদেশের জনগণই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণঃ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা রয়েছে।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অডিটোরিয়ামে ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড ব্রিকস: দ্য ওয়ে এহেড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রিংলা। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ভারতের সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিক।

শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রিংলা বলেন, শেখ হাসিনা কী বলছেন, সেটি তার নিজের এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বিষয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বা বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই—ভারত সরকার এ অবস্থান আগেও একাধিকবার জানিয়েছে।

শ্রিংলার বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি মূলত তার নিজের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, ভারত সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ভারতীয় ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থেই দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তার মতে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারত ও বাংলাদেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছে, তা কীভাবে কাটবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, কোনো না কোনো একসময় দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতেই হবে। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রিংলা বলেন, তারেক রহমান একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাজ করাটা স্বাভাবিক বিষয়। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে সেটি একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ যে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শ্রিংলার বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে এসেছে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিনের ও ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

এদিকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন শ্রিংলা। তিনি জানান, ভারত তার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের’ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর আগে জি-৭ সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলেও জানান শ্রিংলা। তবে তার মতে, সম্মেলনে অংশ নিলে বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পেছনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও শ্রিংলার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার আলোকে দেখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

শ্রিংলার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক ও সহযোগিতামূলক পথে এগিয়ে যেতে পারে। এ জন্য দুই দেশের সরকারকে বাস্তবতা মেনে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।

সূত্রঃ ডেইলি সান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করুক ব্রিটেনঃ সাবেক লেবার নেতা করবিন

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক লেবার পার্টি নেতা ও বর্তমান ‘ইওর পার্টি’র সংসদীয় নেতা জেরেমি করবিন। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রিটেনের সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ, অস্ত্র সরবরাহ পুরোপুরি স্থগিত এবং ইসরায়েলকে সহায়তা করে এমন সামরিক অবকাঠামোর ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করবিন বলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্য স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রিটেনের সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তিনি যুদ্ধের অবসান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানান।

করবিনের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত সব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ব্রিটিশ সরকার এটিকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। করবিন অবশ্য বলেছেন, বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করা স্বাগত পদক্ষেপ হলেও এটি যথেষ্ট নয়। তার মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ না করলে ব্রিটেনের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে না।

করবিন স্পষ্ট ভাষায় ব্রিটেনের প্রতি সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং এমন সব সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, যা তার ভাষায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও গাজায় চলমান যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে।

ব্রিটেনের সামরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি। যুক্তরাজ্য এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনে যুক্ত এবং বৈশ্বিক এফ-৩৫ কর্মসূচির মাধ্যমে ইসরায়েলও এসব সরঞ্জামের সুবিধা পেয়ে থাকে। আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এর আগে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির কিছু লাইসেন্স স্থগিত করলেও এফ-৩৫ কর্মসূচির আওতাভুক্ত সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করেনি।

এলবিট সিস্টেমসের মতো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্রিটিশ সামরিক সহযোগিতাও করবিনের সমালোচনার আওতায় এসেছে। তিনি এমন সব প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যেগুলো ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

যুক্তরাজ্য অবশ্য ইসরায়েলের সঙ্গে তার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার অবস্থান নেয়নি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। ইরানের হুমকির মতো বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে।

তবে একই সময়ে লন্ডনের নীতিতে পরিবর্তনও স্পষ্ট হয়েছে। যুক্তরাজ্য গত বছর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে সব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে এটিকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ব্রিটিশ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

করবিনের রাজনৈতিক অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত লেবার পার্টির নেতা এবং ব্রিটিশ বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। ২০২০ সালে লেবার পার্টির সংসদীয় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১০ জুন ২০২৬ থেকে তিনি ‘ইওর পার্টি’র সংসদীয় দলভুক্ত এবং বর্তমানে ওই দলের সংসদীয় নেতা। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সরকারি তথ্যেও তার বর্তমান দল হিসেবে ‘ইওর পার্টি’ উল্লেখ রয়েছে।

ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কারণে করবিন সম্প্রতি ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ১২ জন ব্রিটিশ এমপির একজন হয়েছেন। ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েলবিরোধী কর্মকাণ্ড’ ও ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছে। করবিন অবশ্য ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও শান্তির পক্ষে তার অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।

গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়েও করবিন দীর্ঘদিন ধরে সরব। ২০২৬ সালের মার্চে তার নেতৃত্বে গঠিত ‘গাজা ট্রাইব্যুনাল’ যুক্তরাজ্যের ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলে এবং ব্রিটেনকে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করার সুপারিশ করে। ব্রিটিশ সরকার অবশ্য ওই ট্রাইব্যুনালের অভিযোগগুলো গ্রহণ করেনি।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্রিটেন একদিকে অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বজায় রাখছে। করবিনের দাবি এই নীতির আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রিটেনের সামরিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা। ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকরঃ বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার নতুন পাল্টা শুল্ক ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, পোশাক, কাগজ ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্যে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে।

রয়টার্সের হিসাবে, নতুন করে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য এই পাল্টা ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। তবে কানাডা সরকারের সরকারি নথিতে নতুন কাউন্টার-ট্যারিফের আওতা ২৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আমদানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কানাডা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের প্রভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পণ্যভেদে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

কানাডার এই পদক্ষেপ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতির জবাবে। যুক্তরাষ্ট্র ২২ আগস্ট থেকে কানাডার ২৭.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। এর পর কানাডা ঘোষণা দেয়, মার্কিন পদক্ষেপের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

নতুন কানাডীয় শুল্কের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম খাত, দুগ্ধপণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, পাল্প ও কাগজ, প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিক পণ্যে। কিছু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ক্ষেত্রে আগের ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আসবাবপত্র এবং পোশাকের মতো পণ্যও ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।

২৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, পনিরসহ কিছু দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য এবং ইস্পাত-অ্যালুমিনিয়ামের কিছু তৈরি পণ্য। কানাডার সরকারি তালিকায় পণ্যভেদে শুল্কের হার নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।

কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পাল্টা শুল্কের প্রধান লক্ষ্য কানাডার শ্রমিক, উৎপাদক ও শিল্পকে মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। পাশাপাশি কানাডা সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও কর্মীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।

শুল্কের অভিঘাত সামলাতে কানাডা সরকার নতুন ও বর্ধিত কর্মসূচি মিলিয়ে ৭.৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে আঞ্চলিক শুল্ক প্রতিক্রিয়া উদ্যোগে অতিরিক্ত ১.৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার বরাদ্দ রয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসার তারল্য সংকট মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবসাগুলোর তাৎক্ষণিক নগদ প্রবাহের চাপ মোকাবিলায় কানাডার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ‘পিভট টু গ্রো’ কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ৫০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারের তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন কর্মসূচির আওতাও বাড়ানো হয়েছে।

তবে এই পাল্টা শুল্ক শুধু অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কানাডা এমন কিছু মার্কিন পণ্যকে লক্ষ্য করেছে যেগুলোর উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। উইসকনসিন, ওহাইও ও মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যের শিল্প ও কৃষিপণ্যের ওপর চাপ তৈরির মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাও কানাডার কৌশলের অংশ বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাণিজ্য বিরোধের এই পর্যায়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বছরে প্রায় ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়। ফলে শুল্কের পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শুধু দুই দেশের ব্যবসা নয়, উত্তর আমেরিকার সরবরাহব্যবস্থা ও ভোক্তা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এরই মধ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার দিন যুক্তরাষ্ট্রও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কানাডার কিছু পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু কানাডীয় দুগ্ধপণ্য, অ্যালকোহল ও মোটরসাইকেল রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

ফলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ এখন শুধু শুল্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আমদানি নিষেধাজ্ঞা, সরকারি ক্রয়, শিল্পখাতের ওপর চাপ এবং উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য কাঠামো নিয়েও সংঘাত বাড়ছে। মার্কিন-কানাডা-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে উভয় দেশের ব্যবসার খরচ বাড়তে পারে, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত কিছু পণ্যের দাম ভোক্তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর কৌশলও জোরদার করছে।

এদিকে ওয়াশিংটনের সর্বশেষ পদক্ষেপের পর বাণিজ্য সংঘাত আরও কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি হওয়ায় দুই দেশের এই সংঘাত শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই নয়, উত্তর আমেরিকার শিল্প, কৃষি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন গর্বঃ দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বের পর ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শপথ নেন খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতীয় এক সাংবাদিক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যেখানে ব্রেক্সিটের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাবেন কিনা সেটাও ছিল। জবাবে খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাতীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। এই দায়িত্ব সম্পূর্ণ আলাদা এবং তিনি সভাপতির ভূমিকায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চান।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রশ্ন প্রস্তুত করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন হলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলাদাভাবে কথা বলবেন বলেও জানান।

জাতিসংঘের সংস্কার নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তিনি মহাসচিবের ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের প্রক্রিয়াকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। তার বক্তব্যে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কখনো তিনি এই সংস্থায় প্রতিনিধি হিসেবে, আবার কখনো কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে জাতিসংঘের কার্যক্রমকে তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘকে তিনি যেন ‘৩৬০ ডিগ্রি’ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন সংকট, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আলোচনা হয়। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কূটনীতিকের এই দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য এ দায়িত্বের বিশেষ তাৎপর্য হলো—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। এতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ জাতিসংঘের ইউএন ওয়েব টিভি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন বিশ্বযুদ্ধ হলে ব্রিটেনে সামরিক নিয়োগঃ যুদ্ধে যেতে অস্বীকার করলেই জরিমানা

নতুন কোনো বৈশ্বিক যুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটেনে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা কনস্ক্রিপশন পুনরায় চালু করার প্রয়োজন হতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করলে কারাদণ্ডের পরিবর্তে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন লেখক ও ইতিহাসবিদ ডেভিড সুইফট।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি এমন আলোচনাকে আরও সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৭৪ হাজার পূর্ণকালীন সেনাসদস্য মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা এবং চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন কোনো বড় বৈশ্বিক সংঘাত তৈরি হলে সামরিক বাহিনীর জনবল দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য কনস্ক্রিপশন নিয়ে জনমতেও অনাগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে। ৩ হাজার ৪৪ জনের ওপর পরিচালিত একটি ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছরের কম বয়সীদের ৩৮ শতাংশ নতুন বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকার করবেন।

এমনকি ব্রিটেন সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের মুখে পড়লেও ৩০ শতাংশ মানুষ যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করবেন বলে জরিপে মত দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে কনস্ক্রিপশন চালু হলে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিহাসবিদ ডেভিড সুইফটের মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষকে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে আর্থিক জরিমানার মতো শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ডেভিড সুইফট বলেন, “আমি মনে করি, কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানাই দেওয়া হবে।”

তার বক্তব্যের পেছনে একটি কারণ হিসেবে ব্রিটেনের বর্তমান কারাগার ব্যবস্থার সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ সামরিক নিয়োগের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো বাস্তবসম্মত হবে না বলে তিনি মনে করেন।

সম্ভাব্য কনস্ক্রিপশনে নারী ও পুরুষকে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও জনমতের প্রবল সমর্থন রয়েছে। জরিপে ৭২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু হলে পুরুষদের মতো নারীদেরও একইভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য ডাকা উচিত।

ব্রিটেনের ইতিহাসে যুদ্ধকালীন কনস্ক্রিপশনের নজির রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৮ থেকে ৪১ বছর বয়সী পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হতো। তবে কৃষি, চিকিৎসা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থা ছিল।

ব্রিটেনে বর্তমানে কনস্ক্রিপশন চালু নেই। অতীতে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৬৩ সালে তা বিলুপ্ত হয়।

সাম্প্রতিক আলোচনায় মূলত ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর জনবল, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হলে দেশটি কীভাবে অতিরিক্ত সামরিক জনবল সংগ্রহ করবে—এসব বিষয় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সতর্ক করা হয়েছে। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সামরিক জনবল নিয়ে এই আলোচনা সামনে এসেছে।

সূত্রঃ ইউগভ জরিপ\ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ধানবীজে যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরিঃ বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর সিরিঞ্জ ছাড়াই ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের ধানবীজের ভেতর যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরিতে সফল হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ। দীর্ঘদিন ধরে ধান নিয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। ১৯৮৬ সালে গ্লাসগো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ধান নিয়ে গবেষণা করছেন।

ধানের বীজের ভেতর যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরির এই পদ্ধতি এডিবল ভ্যাকসিন বা খাওয়ার উপযোগী ভ্যাকসিন প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত সিরিঞ্জভিত্তিক ভ্যাকসিনের তুলনায় এ ধরনের ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কম খরচের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রচলিত ভ্যাকসিনের মতো সবসময় হিমাগার ব্যবস্থার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

এই বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি কাজে লাগানো যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন হিমাগার বা কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণায় ধানের ভেতর তৈরি হওয়া যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন ইঁদুরকে খাইয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ইঁদুরের শরীরে এই অ্যান্টিজেন গ্রহণের পর যক্ষা ও কলেরার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

অর্থাৎ প্রাণী পর্যায়ের পরীক্ষায় ধানে উৎপাদিত অ্যান্টিজেন ইঁদুরের রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরিতে সক্ষম হয়েছে বলে গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে। তবে এই গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

এখনও মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে মানুষের জন্য এটি ব্যবহারযোগ্য ভ্যাকসিন হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। মানবদেহে পরীক্ষার পর এর কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় মাত্রা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

গবেষণায় তৈরি এই ধান সাধারণ খাবার হিসেবে নিয়মিত খাওয়ার জন্য নয়। নির্দিষ্ট মাত্রা বা ডোজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিমাণ ধান থেকে ভাত রান্না করে খাওয়ানোর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ খাদ্য হিসেবে এই ধান ইচ্ছেমতো খাওয়ার বিষয়টি গবেষণার উদ্দেশ্য নয়।

এ ধরনের প্রযুক্তিতে উদ্ভিদের বীজকে নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন তৈরির বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ধানের বীজের মধ্যে অ্যান্টিজেন উৎপাদনের ফলে ভ্যাকসিনের উপাদানকে খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ধান সহজলভ্য এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধান উৎপাদিত হওয়ায় এই গবেষণার মূল উপাদান হিসেবে ধানকে ব্যবহার করা হয়েছে। ড. জেবা ইসলাম সিরাজ দীর্ঘ সময় ধরে ধান নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং এই গবেষণায় ধানবীজের মধ্যে যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছেন।

তবে গবেষণাটি এখনো মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই মানুষের জন্য এডিবল ভ্যাকসিন হিসেবে এটি কবে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।

সূত্রঃ বিজ্ঞানপ্রিয় — ড. জেবা ইসলাম সিরাজের ধানবীজে যক্ষা ও কলেরার অ্যান্টিজেন তৈরির গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে বাড়িওয়ালা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু ২০২৭ সালের জুলাইয়েঃ শেষ সময় অক্টোবর

ইংল্যান্ডে বাড়িওয়ালাদের জন্য জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু হবে। প্রথমে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তী ১২ মাসে ইংল্যান্ডের অন্যান্য অঞ্চলে তা সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, লন্ডনে বাড়িওয়ালাদের নিবন্ধনের সময় শুরু হবে ২০২৭ সালের ১৫ জুলাই এবং শেষ হবে ১৪ অক্টোবর।

নতুন এই নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়াটিয়ারা বর্তমান বা সম্ভাব্য বাড়িওয়ালার পরিচয় ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। এর ফলে বাড়িওয়ালা বৈধভাবে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম মেনে চলছেন কি না, সে বিষয়ে ভাড়াটিয়ারা তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সরকার জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা বেসরকারি ভাড়া খাতের ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় নেওয়া বৃহত্তর সংস্কারের অংশ। নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোও নিয়ম না মানা বা অনিয়মকারী বাড়িওয়ালাদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব বাড়ি ইতোমধ্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে অথবা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর সময় যেসব বাড়ি ভাড়াটিয়ার অধীনে যাবে, সেগুলোর বাড়িওয়ালাদের এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তী সময়ে খালি থাকা কোনো বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই বাড়িওয়ালাকে নিবন্ধন করতে হবে।

নতুন আইন কার্যকর হলে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপনে বাড়িওয়ালা বা সম্পত্তির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়ারা বাড়ি নেওয়ার আগে নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে বাড়িওয়ালার তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

ব্রিটিশ সরকারের হাউজিং মন্ত্রী ম্যাথিউ পেনিকুক বলেছেন, জাতীয় বাড়িওয়ালা নিবন্ধন ব্যবস্থা বেসরকারি ভাড়া খাতের সম্পত্তি নিয়ে একটি নতুন জাতীয় ডাটাবেস তৈরির প্রথম ধাপ। তার মতে, এই ব্যবস্থা ভাড়াটিয়াদের আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে, দায়িত্বশীল বাড়িওয়ালাদের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে রেন্টার্স রাইটস অ্যাক্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ইংল্যান্ডে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিরোধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব এইচএমআরসি-র ভ্যালুয়েশন অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে বিরোধগুলো আরও দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমবে।

তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে ভাড়াটিয়াদের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে।

আদালত ও আইনবিষয়ক মন্ত্রী সারাহ স্যাকম্যান বলেছেন, ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা সেবা চালু হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমবে।

ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন শেল্টার নতুন ডাটাবেসের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির নীতি ও প্রচারবিষয়ক পরিচালক মাইরি ম্যাকরে বলেছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এই ডাটাবেস ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অনিয়মকারী বাড়িওয়ালাদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে।

শেল্টার একই সঙ্গে জনসাধারণের জন্য ডাটাবেসটি দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। প্রতিটি সম্পত্তির আগের ভাড়ার তথ্যও প্রকাশ করা উচিত বলে সংগঠনটি জানিয়েছে, যাতে ভাড়াটিয়ারা অন্যায্য ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।

ন্যাশনাল রেসিডেনশিয়াল ল্যান্ডলর্ডস অ্যাসোসিয়েশন বা এনআরএলএ-র প্রধান নির্বাহী বেন বিডল বলেছেন, ডাটাবেসটি শুধু স্থানীয় বাড়িওয়ালাদের তালিকা হিসেবে না থেকে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তার মতে, এর মাধ্যমে ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় কাউন্সিলগুলো বাড়িওয়ালাদের মানদণ্ড যাচাই করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল বাড়িওয়ালারা নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারবেন।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকেই চালু থাকা লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে একই ধরনের তথ্য সংগ্রহের কারণে তথ্যের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন বেন বিডল।

ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব ভ্যালুয়েশন অফিসের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনাকেও স্বাগত জানিয়েছে এনআরএলএ। সংস্থাটির মতে, দ্রুত ও বিশেষায়িত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক হবে এবং ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমাবে।

সরকারের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ১৪ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। ইস্ট অব ইংল্যান্ডে চলবে ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৭, ইস্ট মিডল্যান্ডসে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মে, সাউথ ইস্টে ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুন, ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড হাম্বারে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুলাই, নর্থ ওয়েস্টে ১৫ মে থেকে ১৪ আগস্ট এবং নর্থ ইস্টে ১৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

লন্ডনের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় শুরু হবে ১৫ জুলাই ২০২৭ এবং শেষ হবে ১৪ অক্টোবর। এরপর সাউথ ওয়েস্টে ১৫ আগস্ট থেকে ১৪ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়িওয়ালা নিবন্ধন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ব্যবস্থা ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রঃ মাই-লন্ডন

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

চেকের পুরো টাকা শোধ ও আপস হলে কারাদণ্ড নয়ঃ হাইকোর্ট

নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণ পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা।

বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর রায়টি দেওয়া হয়।

মামলাটি মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য। মামলার নথি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নার মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধের পর বাকি ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক দেন।

২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে আইন অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও টাকা পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালে মামলা করা হয়।

২০১২ সালে মামলাটি বিচারের জন্য সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের দায়রা জজ আদালত তাকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবদুল হান্নান মাস্টার হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল করেন এবং জামিনের আবেদন জানান। পরে ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে এক বছরের জন্য জামিন দেন।

আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি চেকের অবশিষ্ট অর্থ ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে পরিশোধ করেন। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২১ জুলাই আবদুল হান্নান মাস্টার ও ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের মধ্যে একটি আপসনামা স্বাক্ষরিত হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, মামলার তথ্য ও পারিপার্শ্বিকতা, অপরাধের মাত্রা এবং আপিলকারী কর্তৃক চেকের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিষয় বিবেচনায় তার দোষী সাব্যস্তকরণ বহাল রাখা হলো। তবে ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা অর্থদণ্ড কমিয়ে চেকে উল্লেখিত ২৮ হাজার ১২৫ টাকার সমপরিমাণ করা হয়েছে।

আদালত আরও জানান, আপিল দায়েরের আগেই আবদুল হান্নান মাস্টার বিচারিক আদালতে ১৪ হাজার ১০০ টাকা জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি অবশিষ্ট অর্থ সরাসরি ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে পরিশোধ করেন।

হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট আদালতকে জমা থাকা ১৪ হাজার ১০০ টাকা যথাযথ শনাক্তকরণ সাপেক্ষে দ্রুত ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।

ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ বলেন, আদালতের এই রায়ে আইনি সুবিচারের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পাওনা টাকা আদায় করা, কাউকে অহেতুক শাস্তি দেওয়া নয়। আপিলকারী চেকের পুরো অর্থ পরিশোধ এবং আপসনামায় স্বাক্ষর করায় তারা কারাদণ্ড মওকুফের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেন।

তিনি আরও বলেন, আদালত চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বহাল রেখে আপিলকারীর কারাদণ্ড বাতিল করায় তাদের কোনো আপত্তি ছিল না।

সূত্রঃ চ্যানেল-২৪

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে নতুন নেতৃত্ব এলে ইরানকে পরাজিত করা সম্ভবঃ সাবেক মোসাদ কর্মকর্তা

ইসরায়েলের সাবেক মোসাদ ও শিন বেত কর্মকর্তা ডভোরা শরিফিয়ান বাখার বলেছেন, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির সরকার ক্ষমতায় এলে ইরানকে পরাজিত করার সক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার রোশ হা-আইনে ইয়াশার পার্টির সংসদীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের অনুষ্ঠানে দ্য জেরুজালেম পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাখার এসব কথা বলেন। পরবর্তী ইসরায়েলি নির্বাচনে দলটির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

আইজেনকোটের প্রার্থী তালিকায় বাখার ১৪তম অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ইয়াশার পার্টি প্রায় ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে বাখারের নেসেটে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাখার বলেন, মোসাদে তার ২০ বছরের কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ইরান। তার ভাষায়, ইরানকে ঘিরে এখনও অনেক কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, ইরানকে মোকাবিলা করে এবং নিরাপত্তা ফিরিয়ে এনে ইসরায়েল জয়ী হতে পারে।

ইরানের পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন বাখার। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করেন তিনি।

৪৪ বছর বয়সী বাখারের জন্ম ইরানের রাজধানী তেহরানে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের কয়েক বছর পর তার জন্ম হয়। তিনি সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ইরান থেকে ইসরায়েলে চলে আসেন। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, মোসাদের গোপন অভিযানের মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে ইসরায়েলে নিয়ে আসা হয়েছিল।

ইসরায়েলে যাওয়ার পর বাখার একটি রক্ষণশীল ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। পরে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দিয়ে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।

সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব শেষ করার পর তিনি প্রায় ২২ বছর নিরাপত্তা খাতে কাজ করেন। প্রথমে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। পরে দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদে যোগ দেন।

বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় বাখার আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে ইয়াশার পার্টির জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, আইজেনকোটের নেতৃত্বে তার দল নির্বাচনে জয়ের ভালো সুযোগ দেখছে এবং ইসরায়েলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

নির্বাচিত হলে ইরান ও জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও কাজ করতে চান বলে জানান বাখার। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং কিরিয়াত শেমোনা থেকে ইলাত পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে ফারসি ভাষা, গোয়েন্দা কার্যক্রম ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে পড়ান বলে জানান।

বাখার ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স: ইরান ট্র্যাক’ নামে একটি শিক্ষা কর্মসূচিও প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বিশেষ করে গোয়েন্দা ও সাইবার ইউনিটে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করার কাজ করা হয়।

তার মতে, ইসরায়েলের প্রকৃত নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হলো শিক্ষা।

গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি সাম্প্রতিক অধিকাংশ জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে বলে দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে। দলটি বর্তমানে বিরোধী জোটের অংশ, যারা অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণায় যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশঃ ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার।

গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও যুক্তরাজ্য আর অংশ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা এবং অন্যান্য দেশের কিছু নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইসরায়েলি বসতি নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপকে দেশটির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক দূরত্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

ব্রিটিশ পদক্ষেপের সমালোচনা করে গিডিয়ন সার বলেন, এটি ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্যকেও তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকৃত। গিডিয়ন সার বলেন, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে—এমন অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিষয়টি শুধু তুলে ধরলেই হবে না; বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করতে যুক্তরাজ্যকে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার প্রচেষ্টায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তারা চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালানোর কথা জানিয়েছেন।

ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও নয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও পৃথক বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই সমাধানের আওতায় ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সবচেয়ে ভালো প্রস্তাব। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো এসব লক্ষ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনিরা এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান স্বীকার করে না।

এরই মধ্যে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী কিছু বসতি স্থাপনকারীকে অর্থায়ন করছে। এসব বসতি স্থাপনকারী অবৈধ আউটপোস্ট খামার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বসতি সম্প্রসারণ, গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের মধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা এবং যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্য হয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে