Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে হরমুজে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা দক্ষিণ কোরিয়ারঃ সিউলে প্রতিবাদ

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সেখানে সৈন্য বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাজধানী সিউলে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির শান্তি ও নাগরিক আন্দোলনের কর্মীরা।

সিউলে মার্কিন দূতাবাসের সামনে এবং বিভিন্ন সড়কে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা একটি ‘অবৈধ যুদ্ধ’-এর অংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত এতে অংশ না নেওয়া।

বিক্ষোভকারীরা বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সেখানে সামরিক সহায়তা পাঠানো হলে দক্ষিণ কোরিয়াও সরাসরি সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে ইরানও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অন্য কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক কার্যক্রমকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করবে।

ইরান আরও সতর্ক করেছে, কোনো দেশ এই ধরনের সামরিক সম্পৃক্ততায় জড়ালে তাকে এর জন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি দেওয়া এই সতর্কবার্তাকে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া এখনো হরমুজ প্রণালিতে সৈন্য বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশটির সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ এবং ইরানের সতর্কবার্তার মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সম্পৃক্ততা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক উপস্থিতি বা সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা নিয়ে সিউলে বিক্ষোভ এবং তেহরানের কঠোর সতর্কবার্তা পরিস্থিতিটিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার ভয়ংকর হুমকিঃ আমেরিকাকে পারমাণবিক হামলায় ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার ভয়ংকর হুমকি দিয়েছেন রুশ টেলিভিশন ও রেডিও উপস্থাপক ভ্লাদিমির সলোভিয়ভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত সলোভিয়ভ মার্কিন সিনেটর জন কেনেডির রুশ প্রেসিডেন্টকে নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই হুমকি দেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস।

সম্প্রতি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন কেনেডি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং তাকে ‘মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার’ মতো চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে এবং আলোচনা সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কেনেডির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজের রেডিও অনুষ্ঠান ‘ফুল কনট্যাক্ট’-এ সলোভিয়ভ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনার কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমেরিকানদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে কী অর্জন করার আছে। এরপর তিনি বলেন, এর পরিণতি হতে পারে এমন একটি পারমাণবিক হামলা, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সলোভিয়ভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনের পক্ষ নেয়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং রুশ নেতাকে হত্যাকে লক্ষ্য হিসেবে নেয়, তাহলে সেটি যুদ্ধ শুরুর জন্য একটি সুস্পষ্ট ভিত্তি তৈরি করবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই পারমাণবিক হামলা চালানোর ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর পরিণতিতে সভ্যতার কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এর কয়েক দিন আগেও নরওয়ের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন সলোভিয়ভ। নরওয়ের কর্তৃপক্ষ একটি রুশ জাহাজ জব্দ করার পর তিনি মস্কোকে নরওয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের অনুরোধে রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নরওয়ের কর্তৃপক্ষ আর্কটিক অঞ্চলের স্ভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে ওই রুশ জাহাজটি জব্দ করে।

ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

এর পর সলোভিয়ভ সংঘাত আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ এমনিতেই চলছে। নরওয়ের আকারের কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে একটি বোমা ব্যবহারের কথাও বলেন।

রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সলোভিয়ভের সর্বশেষ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার সরাসরি হুমকির বিষয়টি সামনে এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হলে যাত্রীরা পাবেন যেসব সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে ব্রিটেনজুড়ে প্রায় ২ হাজার ফ্লাইটের উড্ডয়ন ব্যাহত হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হলে যাত্রীদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে টিকিটের অর্থ ফেরত, বিকল্প ফ্লাইট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও থাকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।

ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এয়ারলাইনস এবং ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা অন্যান্য এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে যাত্রীদের দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে। ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের কারণ যাই হোক, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়।

ফ্লাইট বাতিল হলে ব্রিটেনের আইনের আওতাভুক্ত এয়ারলাইনসকে যাত্রীকে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যাত্রী চাইলে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন অথবা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিকল্প ফ্লাইটে যাত্রার ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

টিকিটের যে অংশ ব্যবহার করা হয়নি, তার অর্থও ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যেমন, যাওয়া-আসার টিকিটের যাওয়ার ফ্লাইট বাতিল হলে পুরো ফিরতি টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যাত্রী ভ্রমণ চালিয়ে যেতে চাইলে এয়ারলাইনসকে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য কোনো এয়ারলাইনস যদি একই গন্তব্যে উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারে অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা পাওয়া যায়, তাহলে সেই বিকল্প পরিবহনেও যাত্রীর বুকিং করার অধিকার রয়েছে।

তবে ব্রিটেনে আসার ফ্লাইটটি যদি ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো এয়ারলাইনস পরিচালনা করে, সেক্ষেত্রে বুকিংয়ের শর্ত ও নিয়ম পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

ফ্লাইট বাতিলের কারণে কোনো যাত্রী বিমানবন্দর বা বিদেশে আটকে পড়লে এবং ফ্লাইটটি ব্রিটেনের আইনের আওতাভুক্ত হলে এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। এর মধ্যে যুক্তিসংগত পরিমাণ খাবার ও পানীয়, যোগাযোগের ব্যবস্থা, প্রয়োজনে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দর ও থাকার জায়গার মধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।

এয়ারলাইনস প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে না পারলে যাত্রী নিজে খাবার, থাকার জায়গা বা পরিবহনের ব্যবস্থা করে পরে সেই খরচ ফেরত দাবি করতে পারবেন। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যাত্রীদের সব রসিদ সংরক্ষণ করার এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

স্বল্পপাল্লার ফ্লাইট দুই ঘণ্টার বেশি, মধ্যপাল্লার ফ্লাইট তিন ঘণ্টার বেশি এবং দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট চার ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হলেও বাতিল ফ্লাইটের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে যাত্রীর। আর ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হলে এবং যাত্রী আর ভ্রমণ করতে না চাইলে পুরো টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়া যাবে।

প্যাকেজ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো যাত্রী যদি এবিটিএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্রমণ বুক করেন এবং ফ্লাইট বাতিল হয়, তাহলে উপযুক্ত বিকল্প ফ্লাইট অথবা পুরো অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তবে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমস্যা, খারাপ আবহাওয়া, বিমানবন্দর কর্মীদের ধর্মঘট, সংঘাত বা অন্যান্য ‘অসাধারণ পরিস্থিতির’ কারণে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণত অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হয় না।

অন্যদিকে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের জন্য এয়ারলাইনস দায়ী হলে ব্রিটেনের আইনের অধীনে যাত্রী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এই নিয়ম ব্রিটেনের কোনো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা যেকোনো এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একইভাবে ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ব্রিটেনে পৌঁছানো এবং ব্রিটেনের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য।

ফ্লাইট ছাড়ার দুই সপ্তাহের কম সময় আগে বাতিল করা হলে এবং এয়ারলাইনসের দেওয়া বিকল্প ফ্লাইটের সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে যাত্রী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ভর করে যাত্রার দূরত্বের ওপর।

১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে, যেমন গ্লাসগো থেকে আমস্টারডাম, যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ২২০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে। ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের ফ্লাইটে, যেমন ইস্ট মিডল্যান্ডস থেকে মারাকেশ, সর্বোচ্চ ৩৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে। আর ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে, যেমন লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক, সর্বোচ্চ ৫২০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে।

ফ্লাইট বিলম্বের কারণে কাজে ফিরতে দেরি হলে এয়ারলাইনস সাধারণত যাত্রীর হারানো আয়ের অর্থ ফেরত দেয় না। ভ্রমণ বিমার ক্ষেত্রেও সাধারণত হারানো বেতনের অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

ফ্লাইট বিলম্বের কারণে কাজে ফিরতে দেরি হবে বলে মনে হলে কর্মীকে তার নিয়োগকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে। অনুপস্থিতির সময় কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়োগকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এর মধ্যে বার্ষিক ছুটি ব্যবহার অথবা বেতন ছাড়া ছুটি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীকে অনুপস্থিত থাকার সময়ের বেতন দেওয়ার জন্য নিয়োগকর্তার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, যদি না চাকরির চুক্তিতে এ বিষয়ে কোনো শর্ত উল্লেখ থাকে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
ফিচার

আগামী এক দশকেই এআই নিশ্চিহ্ন করতে পারে পুরো মানবজাতিঃ গবেষকের ভয়াবহ সতর্কবার্তা

আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে পুরো মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অ্যানথ্রপিকের শীর্ষ গবেষক ইভান হুবিঙ্গার। তার মতে, এ ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুবিঙ্গার বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান এআই মডেলগুলোর কারণে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে প্রযুক্তিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন এআই নিজেই নিজেকে উন্নত করার সক্ষমতা অর্জন করবে। আর সেই পর্যায়েই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভবিষ্যতে ঠিক কীভাবে এআইয়ের কারণে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি হুবিঙ্গার। তবে তার মন্তব্য এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জোরালো হয়ে ওঠা সতর্কবার্তাগুলোর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন।

এআই আদৌ ঝুঁকিপূর্ণ কি না—এ নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি এখন আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা কতটা হতে পারে। এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেও উদ্বেগ বাড়ছে।

অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি পোস্টের জবাবে হুবিঙ্গার তার এই মন্তব্য করেন। কক্সন সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক ছেড়েছেন। এর আগে তিনি ওপেনএআইয়েও কাজ করেছেন।

কক্সন তার পোস্টে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তার আশঙ্কা, খুব শিগগিরই এআই সিস্টেমগুলো এমন অতিমানবীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যার মাধ্যমে তারা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি বিভিন্ন ক্ষেত্রকে আমূল পরিবর্তন করতে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করতে সক্ষম হবে।

জাতিসংঘকে এআই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হল হুবিঙ্গার ও কক্সনের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিবিসি রেডিও ফোরের ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তাদের মন্তব্যের কিছু অংশ জনসংযোগ ও বিপণন কৌশলের অংশও হতে পারে।

ওয়েন্ডি হলের মতে, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—দুটি প্রতিষ্ঠানই বহুল প্রত্যাশিত শেয়ারবাজারে প্রবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে এআইয়ের সম্ভাব্য সক্ষমতা ও ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যের পেছনে ব্যবসায়িক ও জনসংযোগের বিষয়ও থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক তাদের সর্বশেষ এআই মডেলটি যুক্তরাজ্যের এআই সেফটি ইনস্টিটিউটের কাছে দেয়নি। এআই সেফটি ইনস্টিটিউট বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এআই ঝুঁকি মূল্যায়নকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত।

অ্যানথ্রপিকের কর্মীরা হুবিঙ্গার ও কক্সনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য এবং এআই সেফটি ইনস্টিটিউটকে সর্বশেষ মডেল না দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, নিজস্ব সক্ষমতা উন্নত করার সম্ভাবনা এবং এর সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণহীন ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের গবেষকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ইভান হুবিঙ্গারের সতর্কবার্তা সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ বিবিসি \ ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে ‘ব্যর্থ ব্যক্তি ও হাস্যকর’ বলল ইসরায়েল

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডেভিড মেনসার। তিনি মিলিব্যান্ডকে ‘ব্যর্থ ব্যক্তি’ এবং ‘একটি হাস্যকর চরিত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ডেভিড মেনসার বলেন, ইসরায়েলে এড মিলিব্যান্ডকে কেউ দেখতে চায় না। তার দাবি, ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক নীতির চেয়ে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
মেনসার মিলিব্যান্ডের রাজনৈতিক অতীত এবং তার নেট জিরো নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মিলিব্যান্ডের নেট জিরো নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছিল হাস্যকর। তার অভিযোগ, মিলিব্যান্ডের নেতৃত্বে ব্রিটেন এমন একটি পথে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক প্রভাব কমে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ব্রিটেনের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে ফ্রান্সের তুলনা করে বলেন, ব্রিটেন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দেশটি বিরক্তিকর হলেও শেষ পর্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।
এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপ। ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট পণ্য ও কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখাই এই পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটেনকে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। মানুষের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের মতো পরিস্থিতিতে ব্রিটেন দুর্বল পক্ষের পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।
তবে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। প্রধান রাব্বি স্যার এফ্রাইম মিরভিস সতর্ক করে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল অভিযোগ করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যত ইসরায়েলকে বয়কটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সংগঠনটি দাবি করেছে, সরকার রাজনৈতিকভাবে চরম অবস্থান নেওয়া কিছু গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে।
বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউজও রোশ হাশানার ঠিক আগে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এর সম্ভাব্য নিরাপত্তাগত প্রভাবের কথা জানিয়েছে।
তবে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে এড মিলিব্যান্ড বলেন, যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আরও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নেওয়াও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিরোধী বিদ্বেষমূলক ১ হাজার ৯২৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২১ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার পর ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ওপর ইসরায়েলে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইসরায়েলের প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছেন। এসব সংগঠনের মধ্যে অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানসের নাম রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বলছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই তাদের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পাল্টা কূটনৈতিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ায় বিরোধটি এখন দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে
Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামে আনজুমানে আল ইসলাহর বর্ণাঢ্য র‌্যালি

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যামে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মুবারক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ওল্ডহ্যাম মদীনা মসজিদ থেকে বের হওয়া এ র‌্যালিতে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশন এবং দারুল হাদিস লাতিফিয়া নর্থওয়েস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সাদা ও সবুজ রঙের পতাকা এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এ সময় ‘তালা’আল বাদরু আলাইনা’, ‘ইয়া নবী সালাম আলাইকা’ ও ‘শামসুদ্দোহা আস্সালাম’সহ বিভিন্ন নাশীদের সুরে র‌্যালিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কণ্ঠ মেলান।

র‌্যালিটি ওল্ডহ্যামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও শান্তির বাণী তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়।

র‌্যালির আগে ওল্ডহ্যাম মদীনা মসজিদে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দারুল হাদীস লাতিফিয়া নর্থওয়েস্টের প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী ফুলতলীর সভাপতিত্বে এবং আল ইসলাহ গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খায়রুল হুদা খানের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ও দারুল হাদীস লাতিফিয়া লন্ডনের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা ফখরুল হাসান রুতবাহ, লাতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী এবং ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার কাউন্সিলর আবদুল জব্বার।

মাওলানা কুতুব উদ্দীন ও মাওলানা আবূ সালেহ মামুনের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে বক্তব্য দেন দারুল হাদীস লাতিফিয়া নর্থওয়েস্টের মুহাদ্দিস মাওলানা বদরুজ্জামান রিয়াদ, শাহজালাল জামে মসজিদ কিথলীর ইমাম ও খতিব হাফিয মাওলানা হেলাল উদ্দীন, গ্রেটার লন্ডন ডিভিশন আল ইসলাহর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা লুকমান আবদাল, মাওলানা আবদুল কুদ্দুছ এবং হাফিয সায়েম হোসাইনসহ অনেকে।

র‌্যালিতে নাশীদ পরিবেশন করেন কারী আবদুল মুহিত, শেখ ইমদাদ, শেখ আফযাল হোসাইন সাদী, হাফিয ইয়াহইয়াউর রহমান, হাফিয আবদুল হামিদ শাহান এবং শামসুদ্দোহা নাশীদ গ্রুপের সদস্যসহ বিভিন্ন প্রজন্মের মুনশিদরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সুলতান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, মাওলানা আবদুল হক, মুফতি আবদুল ওয়াদুদ, মাওলানা আবদুল হান্নান, মাওলানা বেলালুর রহমান, হাফিয সাব্বির আহমদ, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা এম এ বাছিত আশরাফ, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা আলী আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও সংগঠনের দায়িত্বশীলরা।

এ ছাড়া কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আলহাজ আরজু মিয়া, আবদুল মুছাব্বির এমবিই, আলহাজ আনসার উদ্দীন, আলহাজ মালিক সওদাগর, মুবাশ্বির আলী, হাজী সমুজ মিয়া, হাজী আবদুল বাছিত, হাজী আমতর আলী, সৈয়দ আবদাল মিয়া, কারী আবদুল আহাদ, হাজী সানা মিয়া, রুহুল আমীন চৌধুরী মামুন, হাবিবুর রহমান কাইয়ুম, মাওলানা আবুল কালাম, হাফিয আসকির মিয়া ও হাফিয সুহেল আহমদসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এ র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ওল্ডহ্যামে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশন ও দারুল হাদিস লাতিফিয়া নর্থওয়েস্টের আয়োজনে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
ফিচার

বিশ্বের সর্বোচ্চ আইকিউধারীর দাবি: ‘ঈশ্বর আছেন’, বিজ্ঞান-গণিতেই খুঁজে পেয়েছেন সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষক ইয়ংহুন কিম মহাবিশ্বের উৎপত্তি, এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন এবং জীবনের জটিলতাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এত বিশাল ও নিয়মতান্ত্রিক মহাবিশ্ব এবং জীবনের অস্তিত্বের পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব রয়েছে।

কিমের যুক্তির একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হলো মহাবিশ্ব কেন অস্তিত্বশীল—এই প্রশ্ন। মহাবিশ্ব যদি একসময় অস্তিত্বহীন থাকে, তাহলে কীভাবে তার অস্তিত্ব শুরু হলো এবং সেই অস্তিত্বের মূল কারণ কী—এ প্রশ্ন থেকে তিনি সৃষ্টিকর্তার ধারণার দিকে যুক্তি এগিয়ে নেন।

তার বক্তব্যে কারণ-কার্য সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। দৃশ্যমান জগতের ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো না কোনো কারণ থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় মহাবিশ্বের অস্তিত্বেরও একটি চূড়ান্ত কারণ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি যুক্তি দেন। তার মতে, মহাবিশ্ব নিজেই নিজের চূড়ান্ত কারণ হতে পারে না; এর পেছনে মহাবিশ্বের বাইরে কোনো মৌলিক কারণ বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকতে হবে।

মহাবিশ্বের নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোকেও কিম তার যুক্তির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম, গাণিতিক সম্পর্ক এবং মহাজাগতিক কাঠামোর মধ্যে যে নির্দিষ্টতা দেখা যায়, তা কীভাবে সৃষ্টি হলো—এ প্রশ্নকে তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক যুক্তি হিসেবে দেখেন।

জীবনের উৎপত্তি ও জটিলতাও তার আলোচনার আরেকটি বিষয়। জীবন্ত প্রাণীর গঠন, তথ্য সংরক্ষণ ও জৈবিক প্রক্রিয়ার পারস্পরিক সমন্বয় কীভাবে তৈরি হলো—এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে তিনি সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে যুক্তির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

গণিত নিয়েও কিমের আলোচনায় মহাবিশ্বের সঙ্গে গাণিতিক নিয়মের সম্পর্ক উঠে এসেছে। তার বক্তব্যের ধারায়, প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনা গাণিতিক নিয়মে বর্ণনা করা সম্ভব হওয়া মহাবিশ্বের অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলা সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করে এবং সেই শৃঙ্খলার উৎস নিয়েও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

কিম ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে যুক্তি দিতে গিয়ে মানুষের চেতনা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। মানুষের চিন্তা, যুক্তি, আত্মসচেতনতা ও জটিল মস্তিষ্ক কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে—এসব প্রশ্নকে তিনি সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কিত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

তার বক্তব্যে “কেন কিছু আছে, কিছুই নেই কেন”— এই মৌলিক দার্শনিক প্রশ্নটিও গুরুত্ব পেয়েছে। মহাবিশ্ব, পদার্থ, শক্তি, জীবন ও চেতনার অস্তিত্বের পেছনে একটি চূড়ান্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার ধারণাকে যুক্ত করেন।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে কিমের অবস্থান শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রকাশ্য বক্তব্যে বিজ্ঞান, গণিত, যুক্তিবিদ্যা, মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং মানুষের চেতনার মতো বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয় থেকে তিনি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।

কিম প্রকাশ্য বক্তব্যে ঈশ্বর এবং যিশু খ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছেন। তার বিশ্বাসের সঙ্গে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে তার দার্শনিক অবস্থানের সম্পর্ক রয়েছে।

ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে তার উপস্থাপিত যুক্তির মূল প্রশ্নগুলো হলো—মহাবিশ্বের অস্তিত্বের প্রথম কারণ কী, মহাবিশ্বের নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর উৎস কোথায়, জীবনের জটিলতার পেছনে কী রয়েছে এবং মানুষের চেতনা কীভাবে সৃষ্টি হলো। এসব প্রশ্নের উত্তরে কিম সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে একটি মৌলিক ব্যাখ্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তার এই অবস্থান মূলত মহাবিশ্বের প্রথম কারণ, নিয়মতান্ত্রিকতা, জীবনের জটিলতা এবং চেতনার অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এসব বিষয়কে একত্র করে কিম ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে তার যুক্তি প্রকাশ করেছেন।

সূত্রঃ GIGA Society, YoungHoon Kim-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, NeuroStory এবং কিমের প্রকাশ্য বক্তব্য

এম.কে

Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনের কাউন্সিল সম্পন্ন

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনের জেনারেল মিটিং ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলে বিভিন্ন শাখার ডেলিগেশনদের সম্মতিতে ২০২৬-২০২৯ সেশনের জন্য ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত রবিবার স্থানীয় একটি হলে আয়োজিত এ কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহর সভাপতি হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।

কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী।

এ ছাড়া অবজারভার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেন্ট্রাল দায়িত্বশীল হযরত মাওলানা ফখরুল হাসান রুতবাহ, হযরত মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী এবং মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুছ।

কাউন্সিলে ২০২৬-২০২৯ সেশনের জন্য হাফিয মাওলানা হেলাল উদ্দিনকে সভাপতি এবং মাওলানা খায়রুল হুদা খানকে জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়।

নবনির্বাচিত কমিটিতে তিনজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। তারা হলেন—মাওলানা মো. আবদুল কালাম, মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন ও মাওলানা নজরুল ইসলাম।

গিলমান বাকি বিল্লাহকে জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং মুবাশ্বির আলীকে ট্রেজারার নির্বাচিত করা হয়েছে। অর্গানাইজিং সেক্রেটারির দায়িত্ব পেয়েছেন হাফিয শামসুজ্জামান সুহেল।

প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি হয়েছেন মাওলানা বেলালুর রহমান। এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেক্রেটারির দায়িত্ব পেয়েছেন হাবিবুর রহমান হুমায়েদ। ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা মিজানুর রহমান।

ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি হয়েছেন মাওলানা আবদুল কুদ্দুছ এবং মেম্বারশিপ সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছেন হাফিয দেলওয়ার হাসান সুমন।

কমিটির এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে রয়েছেন কারী খলিল আহমদ রওনক, কারী আবদুল আহাদ, হাফিয সায়েম হোসাইন ও হাফিয রায়হান আহমদ।

কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০২৬-২০২৯ সেশনের জন্য গঠিত নতুন কমিটি গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

২৫ অক্টোবর থেকে যুক্তরাজ্যে বদলে যাচ্ছে ঘড়ির সময়ঃ এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে ঘড়ির কাঁটা

আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রোববার যুক্তরাজ্যে শেষ হচ্ছে ব্রিটিশ সামার টাইম বা বিএসটি। ওইদিন ভোরে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে আবার গ্রিনিচ মিন টাইম বা জিএমটি চালু হবে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ভোর ২টা বাজলে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে ১টা করা হবে। ফলে ওই রাত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ হবে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর মার্চের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে ব্রিটিশ সামার টাইম চালু করা হয়। এরপর অক্টোবরের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে শীতকালীন সময় বা গ্রিনিচ মিন টাইম কার্যকর করা হয়।

চলতি বছর ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্যে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে ব্রিটিশ সামার টাইম চালু করা হয়েছিল। প্রায় সাত মাস পর আগামী ২৫ অক্টোবর সেই সময় শেষ হয়ে আবার জিএমটি কার্যকর হবে।

ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাওয়ার ফলে সকালে দিনের আলো তুলনামূলকভাবে আগে দেখা যাবে। তবে সন্ধ্যা দ্রুত নেমে আসবে। এর ফলে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারীদের দৈনন্দিন সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

আধুনিক অধিকাংশ ইলেকট্রনিক ডিভাইস—যেমন স্মার্টফোন ও কম্পিউটারে—সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হয়ে যাবে। তবে দেয়ালঘড়ি, গাড়ির ঘড়ি এবং অন্যান্য ম্যানুয়াল ঘড়িতে সময় নিজ হাতে এক ঘণ্টা পিছিয়ে নিতে হতে পারে।

যুক্তরাজ্যে দিনের আলোকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘড়ির সময় পরিবর্তনের এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। মার্চে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বিএসটি চালু করা হয় এবং অক্টোবরে তা এক ঘণ্টা পিছিয়ে জিএমটি ফিরিয়ে আনা হয়।

আগামী ২৫ অক্টোবর সময় পরিবর্তনের পর যুক্তরাজ্যে শীতকালীন সময় কার্যকর হবে। ফলে দেশটির স্থানীয় সময় আগের তুলনায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাবে।

সূত্রঃ গভ.ইউকে

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি এলিজা

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা আজাদ রহমান। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র হওয়ার মর্যাদা অর্জন করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এলিজা আজাদ বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদ রহমানের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।

দুই দশকের বেশি সময় আগে শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় যান এলিজা আজাদ। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মধ্যেই এবার কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।

এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। নারীরা যেন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসতে পারেন, সেটিই তার অন্যতম প্রত্যাশা।

রাজনৈতিক জীবনের এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথাও জানান এলিজা আজাদ। পাশাপাশি বাংলাদেশি ও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তার জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তার অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরার পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে এর আগেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাসুদ খলিলও ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র ছিলেন। বর্তমানে আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এলিজা আজাদের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে বাংলাদেশি নারীর নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।

সূত্রঃ ক্যামডেন কাউন্সিলের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্ট

এম.কে