Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সাফারি পার্ক হতে লেমুর চুরিঃ ভারতে পাচার, ঠাঁই হলো আম্বানির ‘বনতারা’য়!

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরের মধ্যে দুটির সন্ধান মিলেছে ভারতে। প্রাণী দুটি বর্তমানে ভারতের গুজরাটের জামনগরে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘বনতারা’য় রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির তদন্ত এবং মামলার আসামিদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গভীর রাতে সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি করা হয়। তদন্তে নিরাপত্তাকর্মী নিপেন মাহমুদের সহযোগিতায় জুয়েল নামের এক বন্য প্রাণী চোরাকারবারি লেমুরগুলো চুরি করেন বলে তথ্য উঠে এসেছে।

চুরির পর লেমুরগুলো প্রথমে বাংলাদেশের একটি বাড়িতে রাখা হয়। পরে প্রাণীগুলোর ছবি ও ভিডিও ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতার বাবলু ও মুম্বাইয়ের শিপলু নামের দুই ব্যক্তি বাংলাদেশে এসে দেলোয়ার ও তপনের মাধ্যমে লেনদেনের সমন্বয় করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রাপ্তবয়স্ক লেমুর ও একটি শাবক ১৭ লাখ টাকায় এবং আরেকটি শাবক ৩ লাখ টাকায় বিক্রির চুক্তি হয়। পরে দুটি লেমুরকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়।

সীমান্ত পেরিয়ে লেমুর দুটি একাধিক ব্যক্তির হাত ঘুরে গুজরাটের জামনগরে পৌঁছায়। এরপর সেগুলো ‘বনতারা’ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে সিআইডির তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনতারায় থাকা লেমুর দুটির ছবি প্রকাশের পর বাংলাদেশের তদন্তকারীদের নজরে আসে বিষয়টি। ছবিতে থাকা প্রাণীগুলোর সঙ্গে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুরের মিল খুঁজে পান তারা। এরপর প্রাণী দুটির পরিচয় ও উৎস নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে লেমুর দুটি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শনাক্তকরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। চুরি হওয়া প্রাণীগুলোর কোনো মাইক্রোচিপ, স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর কিংবা সংরক্ষিত ডিএনএ প্রোফাইল ছিল না। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা একটি শাবকের ডিএনএ পরীক্ষা করে ভারতে থাকা লেমুর দুটির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণীগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

‘বনতারা’ রিলায়েন্স গোষ্ঠীর মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা একটি বন্য প্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প। এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন অনন্ত আম্বানি।

রিংটেইল লেমুর মাদাগাস্কারের স্থানীয় প্রাণী। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় প্রজাতিটিকে ‘গুরুতরভাবে বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সাইটিসের পরিশিষ্ট-১-এর অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ শর্ত ছাড়া এ ধরনের প্রাণীর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষিদ্ধ।

সিআইডি জানিয়েছে, লেমুর চুরির ঘটনায় করা মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে চুরি, পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা এবং ভারতে লেমুর দুটির পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ডেইলি রেকর্ড বিডি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচলে ভয়াবহ বিপর্যয়ঃ বাতিল ১,৭৫০ ফ্লাইট

যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটির পর দেশটির বিমান যোগাযোগে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবারের সমস্যার প্রভাব বুধবারও অব্যাহত থাকায় শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং অনেককে বিমানবন্দরেই রাত কাটাতে হয়েছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাবে, মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৭৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে কয়েক লাখ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবারও নতুন করে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে।
সমস্যার কেন্দ্র ছিল যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সেবা প্রদানকারী ন্যাটসের ফ্লাইট প্রসেসিং ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া একটি কারিগরি ত্রুটি। ন্যাটস পরে জানায়, সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিমান ও ক্রু নির্ধারিত অবস্থানের বাইরে চলে যাওয়ায় বিমান চলাচলের স্বাভাবিক সূচিতে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বুধবার জানিয়েছে, মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের পর বিমান ও ক্রু বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়ায় আরও ১৯০টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার এয়ারলাইনটি ২৬০টি ফ্লাইট বাতিল করেছিল। নতুন সূচি তৈরি করতে সারা রাত কাজ করেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে তারা।
রায়ানএয়ার জানিয়েছে, মঙ্গলবার তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বের শিকার হয়েছেন। বিপর্যয়ের কারণে ইউরোপের ব্যস্ত বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে এবং যাত্রীদের একটি বড় অংশ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।
বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্রও সামনে এসেছে। তুরস্কের দালামান বিমানবন্দর থেকে ম্যানচেস্টারগামী একটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর ব্ল্যাকপুলের একটি পরিবারকে বিমানবন্দরের মেঝেতে রাত কাটাতে হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা খুব সামান্য ঘুমাতে পেরেছেন এবং তাদের কাছে কম্বল বা বালিশও ছিল না। আশপাশে আরও অনেক পরিবার একই পরিস্থিতিতে আটকে ছিল।
লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক যাত্রী জানান, বাতিল হওয়া বিভিন্ন ফ্লাইটের লাগেজ একটি মাত্র ব্যাগেজ সংগ্রহের বেল্টে পাঠানো হয়েছিল। ফলে প্রায় এক হাজার মানুষ একই জায়গায় নিজেদের লাগেজ সংগ্রহের জন্য জড়ো হন। ওই যাত্রী ব্যাগেজ সংগ্রহের এলাকাটির পরিস্থিতিকে ‘নৈরাজ্যপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন।
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরেও ব্যাপক ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী এয়ারনাভ রাডারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হিথ্রোতে ৩৬২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। বুধবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল পুনরুদ্ধার হচ্ছে, তবে বিমান ও ক্রু পুনর্বিন্যাসের কারণে আরও কিছু বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গ্যাটউইক বিমানবন্দর জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে, কিন্তু কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর জানিয়েছে, সেখানে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। ব্রিস্টল, বার্মিংহাম, স্ট্যানস্টেড ও কার্ডিফ বিমানবন্দরেও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত রয়েছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল কারিগরি সমস্যা সমাধান হলেও এর প্রভাব দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ বিমান, পাইলট ও ক্রুরা এখন বিভিন্ন বিমানবন্দরে ছড়িয়ে পড়েছেন। কোনো বিমান বা ক্রু নির্ধারিত স্থানে না থাকায় পরবর্তী একাধিক ফ্লাইটের সূচিতেও এর প্রভাব পড়ে। এ কারণে কোনো কোনো এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ সাইমন ক্যাল্ডারের হিসাবে, মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এমন জায়গায় রাত কাটিয়েছেন যেখানে তাদের থাকার কথা ছিল না। তার মতে, মূল সমস্যা সমাধান হলেও বিমান, ক্রু ও যাত্রীদের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে অনেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন।
ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফ যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ঘটনার দায় ও দায়িত্ব স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ন্যাটস সমস্যাটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সাইবার হামলাকে কারণ হিসেবে বাতিল করা হয়েছে।
রলফের দাবি, ন্যাটসের ব্যবস্থাগুলো কার্যকর এবং প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, গত ২৫ বছরে ন্যাটস প্রযুক্তিতে ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে। তবে এমন ঘটনা যাত্রীদের জন্য হতাশাজনক ও কষ্টদায়ক হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফকে বৈঠকে তলব করেছেন। বিমান চলাচলে এত বড় বিপর্যয় কেন ঘটল, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা চাইবেন।
এদিকে ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বের শিকার যাত্রীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইনকে যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হয় অথবা অর্থ ফেরতের সুযোগ দিতে হয়। দীর্ঘ বিলম্বের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও অপেক্ষার সময় অনুযায়ী খাবার বা হোটেলে থাকার সুবিধাও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো এয়ারলাইনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ সাধারণত থাকে না।
বিমান চলাচলের মূল কারিগরি ত্রুটি সমাধান হলেও মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের ফলে তৈরি হওয়া বিশাল ব্যাকলগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বুধবারও যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে
Categories
আমেরিকা যুক্তরাজ্য (UK)

ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা দিলে পালটা নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের

ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনকে বয়কটের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‍্যান্ডি ফাইন। এক মন্তব্যের জবাবে তিনি যুক্তরাজ্যকে ‘ইউনাইটেড ইসলামিক কিংডম’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের বিষয়টি যুক্তরাজ্য মেনে নেবে না।

পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় ১ হাজার ২০০টি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নেয়।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি এটিকে ‘কমপ্রিহেনসিভ রিসেট’ বা ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান র‍্যান্ডি ফাইন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের কারণে ফ্লোরিডা ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তার দাবি, ফ্লোরিডার একটি অঙ্গরাজ্য আইন অনুযায়ী ইসরায়েলকে বয়কট করা কোনো ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করতে বাধার মুখে পড়তে পারে।

ফাইন বলেন, কোনো ব্রিটিশ কোম্পানি ইসরায়েল বয়কটে অংশ নিলে এবং ফ্লোরিডায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সরকারি অনুমোদন, কর সংগ্রহ বা অন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজন হলে সেই কোম্পানিও বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ফ্লোরিডা ব্রিটেনের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তার ভাষায়, লেবার সরকারের এই নীতি “মুসলিম সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন” এবং এর কারণে ব্রিটেনের কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে।

ফাইন আরও বলেন, ২০১৯ সালে ইসরায়েলের কিছু অংশ বয়কটের Airbnb-এর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, তখন আইনটির প্রভাবের কারণে Airbnb তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাইন বলেন, “যে কোনো কোম্পানি—অথবা যে কোনো দেশ—ইসরায়েলকে বয়কট করলে ফ্লোরিডাও তাকে বয়কট করবে।”

অন্য একটি মন্তব্যের জবাবে তিনি যুক্তরাজ্যকে “United Islamic Kingdom” নামে উল্লেখ করেন।

ফ্লোরিডা যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ফ্লোরিডায় প্রায় ৮৮ হাজার কর্মসংস্থানকে সমর্থন করে। যুক্তরাজ্যও ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে।

ফ্লোরিডার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ল্যান্স ফোরম্যান বলেন, তার স্মোকড স্যামন ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডায় পণ্য বিক্রি করে আসছে। অ্যান্টি-বিডিএস আইন প্রয়োগ করা হলে তার ব্যবসা ফ্লোরিডায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ফোরম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন করেন, “আমি কি মিলিব্যান্ডকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির জন্য দায়ী করে মামলা করতে পারি?”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার একই লক্ষ্য ভাগ করে নেয়। তবে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পথ অনুসরণ করবে না।

মিয়ামিতে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, “অবশ্যই আমরা যুক্তরাজ্য যা করেছে, তা করব না।” ব্রিটেনের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষণাটি দেখেছে, তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।

ব্রিটেনের পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি রুবিও।

এদিকে ইসরায়েলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানান, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি জেরেমি করবিন ও জারা সুলতানাসহ ১২ জন ব্রিটিশ এমপির ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে সা’আর বলেন, “২ হাজার বছর পর আমরা আমাদের ভূমিতে ফিরে এসেছি—ইসলামপন্থী, ইহুদিবিদ্বেষী, জিহাদি, ওয়োক ও চরম বামপন্থীদের চাপের কাছে তা হারানোর জন্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা শুধু আমাদের ক্ষতি করতে পারবেন না, বরং নিজেদেরও ক্ষতি করবেন।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে প্রতি বছর প্রায় ১১ লাখ মানুষ ফ্লোরিডা ভ্রমণ করেন। ফলে ফ্লোরিডা ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ তৈরি হলে ব্যবসা ও পর্যটন সম্পর্কও এর আওতায় আসতে পারে।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করা।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য–ইসরায়েল সম্পর্কে চরম অবনতিঃ আর্জেন্টিনার পক্ষে ফকল্যান্ড দাবি, ব্রিটেনকে স্যাংশন দেয়ার আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্রিটেনের কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ব্রিটিশ সরকার পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং বসতি সম্প্রসারণে অর্থায়ন, নির্মাণ, অবকাঠামো, আবাসন ও বিজ্ঞাপনসংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ব্রিটেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

বেন-গভির ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটেন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ‘দখল’ করে রেখেছে এবং সেখানে তেলসম্পদ আহরণ করছে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। ব্রিটেন বর্তমানে দ্বীপগুলো পরিচালনা করছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এগুলোকে ‘মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে ইসরায়েলি বসতি নিয়ে সরকারের নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। ব্রিটেন জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে। বসতিগুলোর অর্থায়ন, নির্মাণ, অবকাঠামো, জমি-বাড়ি ও বিজ্ঞাপন কার্যক্রমে সহায়তাকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ব্রিটেনসহ ১২টি দেশ ৮ সেপ্টেম্বর যৌথ বিবৃতিতে বসতি থেকে পণ্য বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা বা এ ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনার কথা জানিয়েছে।

এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ব্রিটেনের পদক্ষেপ ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ ও তা টিকিয়ে রাখার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ভূখণ্ডগত সম্ভাবনা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষা করা।

বিশেষ করে পশ্চিম তীরের ‘ই১’ এলাকায় নতুন বসতি প্রকল্প নিয়ে ব্রিটেনের উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ওই এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে।

ব্রিটেনের সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলও পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কয়েকজন ব্রিটিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হবে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এদিকে বেন-গভিরের পাশাপাশি ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে ইসরায়েল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ব্রিটিশ সরকারের নীতিকে ইসরায়েলবিরোধী বলে আক্রমণ করেছেন।

ফকল্যান্ড ইস্যুটি নতুন করে সামনে আসার পেছনে অর্থনৈতিক কারণও রয়েছে। দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে বিপুল তেলসম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘সি লায়ন’ তেলক্ষেত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২০১০ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং ২০২৮ সাল থেকে উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তেলক্ষেত্রটিতে আনুমানিক ১৭০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এই তেল প্রকল্পকে ঘিরেই আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে ইসরায়েলি জ্বালানি কোম্পানি নাভিটাস পেট্রোলিয়াম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। আর্জেন্টিনার সরকার অভিযোগ করেছে, ব্রিটিশ লাইসেন্সের ভিত্তিতে ফকল্যান্ডের আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করে কোম্পানিটি আর্জেন্টিনার আইন লঙ্ঘন করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা নাভিটাস পেট্রোলিয়াম ও এর নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে। নাভিটাস ৬৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে ‘সি লায়ন’ প্রকল্প পরিচালনা করছে, আর যুক্তরাজ্যভিত্তিক রকহপার এনার্জির অংশীদারিত্ব ৩৫ শতাংশ। প্রকল্পটি উৎপাদনে গেলে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

ফকল্যান্ড নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে ইসরায়েল আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তাকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতি সমর্থন জানানো ব্রিটিশ-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুও ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি ব্রিটেনের ফিলিস্তিন নীতির সমালোচনা করে ফকল্যান্ড বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথা বলেছিলেন।

অন্যদিকে ব্রিটেন বলছে, পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে তাদের নতুন পদক্ষেপ বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অবস্থানের অংশ। ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডাসহ একাধিক দেশ মনে করছে, বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা বন্ধ না হলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ফলে একটি আঞ্চলিক ইস্যু থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা এখন একাধিক কূটনৈতিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ছে। একদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে ব্রিটেন ও কয়েকটি মিত্র দেশের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইসরায়েলের পাল্টা কূটনৈতিক ব্যবস্থা এবং ফকল্যান্ড নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতি ইসরায়েলি কট্টরপন্থী মন্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন—সব মিলিয়ে ব্রিটেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুন এক উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

তবু ব্রিটেনের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য হুমকি দুই দেশের মধ্যকার দ্রুত অবনতিশীল সম্পর্কের মাত্রা স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের বসতি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং ইসরায়েলি সরকারের নীতিকে ঘিরে লন্ডনের অবস্থান যত কঠোর হচ্ছে, ততই পাল্টা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বিমান চলাচলে বড় বিপর্যয়ঃ কারিগরি ত্রুটিতে বাতিল ৬২৫ ফ্লাইট

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। মঙ্গলবার বিকেল থেকে বিমান চলাচলে বিঘ্নের জেরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অন্তত ৬২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪।

বিকেল প্রায় ৩টার দিকে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাটসের (NATS) ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহামসহ একাধিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ছাড়তে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

ন্যাটস পরে জানায়, সমস্যার সমাধানে একটি ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং তাদের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। তবে ত্রুটির প্রভাব ইতোমধ্যে পুরো বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরতে সময় লাগবে বলে সতর্ক করা হয়।

ন্যাটস এক বিবৃতিতে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

ফ্লাইটরাডার২৪-এর হিসাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়া-আসার ৬২৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইজিজেটের ২১৮টি এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ১৩০টির বেশি ফ্লাইট রয়েছে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, ন্যাটস তাদের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ত্রুটি সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে সমস্যাটির ব্যাপকতার কারণে যাত্রী ও কর্মীদের ওপর এর বড় ধরনের পরবর্তী প্রভাব পড়বে। মঙ্গলবার বিকেলে সংস্থাটিকে ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল অথবা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।

এদিকে বিমানবন্দরগুলোতে আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। হিথ্রো ও গ্যাটউইকসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্থান বোর্ডের সামনে অপেক্ষা করেন এবং ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জানতে বিমান সংস্থাগুলোর কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমান সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ করেন। কেউ কেউ জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ফ্লাইট কখন ছাড়বে বা বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।

এক যাত্রী জানান, নিরাপত্তা তল্লাশি শেষ করার পর তিনি জানতে পারেন তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আরেক যাত্রী অভিযোগ করেন, গ্যাটউইকে বিমান ছাড়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা রানওয়েতে আটকে ছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, তিনি যাত্রীদের হতাশার বিষয়টি বুঝতে পারছেন এবং সমস্যাটি সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। ন্যাটসের ত্রুটির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে কী শিক্ষা নেওয়া হবে এবং বিমান চলাচলকে সহায়তা করা ব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট কার্যকর কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চয়তা চাইবেন বলেও জানান।

রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এদিন বিমান চলাচল বিপর্যয়ের কারণে বিলম্বের শিকার হয়েছেন। সংস্থাটির দাবি, অনেক যাত্রীকে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং ৫০টির বেশি রায়ানএয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

রায়ানএয়ারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নিল ম্যাকমাহন ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, ২০২৩ সালের বড় ধরনের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের পরও প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়া হয়নি এবং একই ধরনের সমস্যা আবারও যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।

এদিকে মঙ্গলবারের ত্রুটিতে শুধু যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটই নয়, যুক্তরাজ্যে আসার পথে থাকা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও সমস্যায় পড়ে। কিছু বিমান বিদেশের বিমানবন্দরে আটকে যায় বা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লন্ডন থেকে সাংহাইগামী একটি ফ্লাইট হিথ্রো থেকে দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে ছাড়ার পর রোমানিয়ার আকাশসীমা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। পরে সেটি ঘুরে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর কার্ডিফ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিকেল ৫টার দিকে ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে যাওয়া-আসার ৪২৫টি ফ্লাইট ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা প্রায় ৩০০ ছিল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে ছিল হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোতে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালিত হলেও ৩৫২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইকে প্রায় ৮৫০টি দৈনিক ফ্লাইটের মধ্যে ২৮১টি বিলম্বিত হয়। ম্যানচেস্টারে ৬৫০টির মধ্যে ২৪৯টি এবং বার্মিংহামে ৩০০টির মধ্যে ১০১টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

ন্যাটসের প্রকৌশলীরা সমস্যাটি সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করেন। সংস্থাটি জানায়, ব্যবস্থা ঠিক করার পর বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে পুরো ব্যবস্থায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

ন্যাটসের কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এই বিপর্যয়ের প্রভাব যুক্তরাজ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় কয়েক ঘণ্টা ধরে অব্যাহত থাকে। সন্ধ্যার দিকে সংস্থাটি সমস্যার সমাধান করার কথা জানালেও বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়নি।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং অনলাইনে বুকিং পরিবর্তনের সুযোগের কথা জানায়। রায়ানএয়ার ও ইজিজেটও যাত্রীদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে বলে।

এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পর আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

বাড়ছে রাশিয়া-ভীতিঃ ৬৫ বছর বয়স্ক সাবেক সেনাদের ফিরিয়ে আনার পথ খুলছে ব্রিটেন

রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত এবং ইউরোপের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাজ্য। আগামী বছর প্রায় ৯৫ হাজার সাবেক সামরিক সদস্য নিয়ে গঠিত ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’কে কীভাবে দ্রুত সক্রিয় করা যায়, তা পরীক্ষা করতে বড় পরিসরের একটি মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী লুইস স্যান্ডার-জোনস পার্লামেন্টের জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা-সংক্রান্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা এই রিজার্ভ বাহিনীকে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হবে। আগামী বছরের মহড়ায় সাবেক সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তাদের ডেকে আনা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তোলার পুরো প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।

তবে ব্রিটিশ সরকারের এই উদ্যোগকে ৯৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত সেনাকে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত একটি প্রস্তুতিমূলক মহড়া। কোনো বড় ধরনের জাতীয় সংকট, যুদ্ধ বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশটি কত দ্রুত তার সাবেক সামরিক সদস্যদের কাজে ফিরিয়ে আনতে পারবে—মহড়ার মাধ্যমে সেটিই যাচাই করা হবে।

ব্রিটিশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে’ রয়েছেন প্রায় ৯৫ হাজার সাবেক নিয়মিত ও রিজার্ভ সামরিক সদস্য। এ বাহিনী প্রায় ৩২ হাজার সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী রিজার্ভ সদস্যের থেকে আলাদা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিশাল সাবেক সেনা রিজার্ভ খুব কমই ব্যবহার করা হয়েছে। এবার সেই ব্যবস্থাকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সাবেক সামরিক সদস্যদের প্রয়োজনে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার আইনি কাঠামোও সম্প্রসারিত করছে ব্রিটিশ সরকার। আর্মড ফোর্সেস বিল ২০২৬-এ রিজার্ভ বাহিনীর পরিধি বাড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞ সাবেক সেনাদের কাজে লাগানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুনরায় ডাকার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আগে যেখানে ‘জাতীয় বিপদ, বড় ধরনের জরুরি অবস্থা বা যুক্তরাজ্যে হামলা’র মতো পরিস্থিতিতে পুনরায় ডাকার বিধান ছিল, নতুন আইনি ব্যবস্থায় ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বা ‘warlike preparations’-এর ক্ষেত্রেও রিজার্ভ সদস্যদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

এর ফলে কোনো সংঘাত সরাসরি ব্রিটিশ ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের জন্য অভিজ্ঞ সাবেক সেনাদের কাজে লাগানোর আইনি সুযোগ বাড়বে।

ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বিশাল রিজার্ভ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন সতর্ক করেছেন যে, স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ সদস্যদের নিয়মিতভাবে শনাক্ত ও যোগাযোগ করার মতো কার্যকর ব্যবস্থা ব্রিটেনের নেই। ২০২৫ সালের কৌশলগত প্রতিরক্ষা পর্যালোচনার নেতৃত্ব দেওয়া লর্ড রবার্টসন অব পোর্ট এলেন-ও এর আগে বলেছিলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অনেক রিজার্ভ সদস্য বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য রাখে না।

আগামী বছরের মহড়ায় তাই শুধু সেনাদের ডাকার বিষয়টি নয়, বরং কে কোথায় আছেন, কীভাবে তাদের দ্রুত যোগাযোগ করা যাবে, কত দ্রুত দায়িত্বে ফেরানো যাবে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম কীভাবে সরবরাহ করা হবে—এসব বিষয়ও পরীক্ষা করা হবে।

ব্রিটেনের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় ইউরোপের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

সাম্প্রতিক এক ইউরোপীয় নিরাপত্তা আলোচনায় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ‘যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির লড়াই’ হলে ইউরোপ বর্তমানে তা দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা ও জনসমর্থনের দিক থেকে প্রস্তুত নয়। রাশিয়ার সাইবার হামলা, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকেও ইউরোপের জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই ব্রিটেন নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জনবল বাড়ানোর ব্যবস্থাও শক্তিশালী করছে।

ব্রিটিশ সরকারের ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্যয় প্রায় ২.৬ শতাংশে পৌঁছানোর পথে রয়েছে এবং ৩ শতাংশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে অর্থের সংকটের কারণে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী সম্প্রতি কিছু বড় প্রশিক্ষণ মহড়া স্থগিত করেছে। তবে মোতায়েনের প্রস্তুতিতে থাকা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনীর প্রশিক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ড্রোন যুদ্ধ ও আধুনিক যুদ্ধকৌশলভিত্তিক প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

৯৫ হাজার সাবেক সেনাকে ঘিরে মহড়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনাও শুরু হয়েছে বলে খবরে জানা যায়।

সূত্রঃ দ্য টাইমস\দ্যা টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, সরাসরি ২৫ এজেন্সি—সহযোগী হিসেবে কাজ করবে আরও ৩১২

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সরকার সরাসরি ২৫টি এজেন্সি নির্বাচন করেছে, আর আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য কর্মীদের কোনো এজেন্সিকে অগ্রিম টাকা না দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা না করা এবং পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে। এসব এজেন্সি বাছাই করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার প্রস্তুত করা ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা থেকে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছিল, আগের সরকারের সময়ে সুবিধা পাওয়া কিংবা অতীতে কর্মী নিয়োগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত এজেন্সিগুলোকে বাদ দিয়ে যোগ্য এজেন্সিগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে। নতুন ব্যবস্থায় ২৫টি সরাসরি নির্বাচিত এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সি সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নীতিগত সম্মতি। বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধের পর মালয়েশিয়া এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এই ১০ হাজার কর্মীর প্রথম দলকে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম ফ্লাইটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

কর্মী পাঠানোর আগে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে এসে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করতে হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এই পরিদর্শন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। আপাতত মালয়েশিয়া-অনুমোদিত ১৬টি বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় নতুন ব্যবস্থাটি কার্যকর হচ্ছে। ওই সমঝোতার মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে একাধিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে ২২ আগস্ট মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে তখন স্পষ্ট ছিল না, নিয়োগ কি শুধু ওই ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হবে, চাকরির চাহিদাপত্র কীভাবে বণ্টন করা হবে এবং কর্মীরা কবে মালয়েশিয়ায় যাত্রা শুরু করবেন।

এ নিয়ে আগের নিয়োগব্যবস্থার মতো নতুন করে কোনো সীমিত এজেন্সি-নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। নতুন ব্যবস্থায় ৩৩৮টি এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্তকে সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার খবরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে ১০ হাজার কর্মীকে অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি আনতে পারে।

তবে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে টাকা, পাসপোর্ট বা মেডিকেল পরীক্ষার জন্য অর্থ না দেওয়াই নিরাপদ। কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া ও সময়সূচি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের একাংশের মন ভাঙলঃ কলকাতার বৈঠকে শেখ সেলিমকে নিয়ে ক্ষোভ

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত ঘিরে দলটির একটি অংশে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কলকাতায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার বৈঠকে শেখ সেলিমকে নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নেতাদের কেউ কেউ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে কলকাতার নিউ টাউনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিনের বাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের ৮ থেকে ১০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা এতে অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হাসান রিপনসহ কয়েকজন নেতা।

শেখ সেলিমকে দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে শেখ হাসিনার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারের পর। সেখানে শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি অনুপস্থিত থাকলে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বরাতে জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

বৈঠকে একজন কেন্দ্রীয় নেতা শেখ হেলালের সামনে শেখ সেলিমকে নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা তুলে ধরেন। পরে অন্য নেতারাও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে শেখ সেলিমের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা অভিযোগ করেন, সাংগঠনিকভাবে শেখ সেলিম আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং তার কারণে দলের বিভিন্ন স্তরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রবেশ ঘটেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাকে সক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।

ওই নেতা শেখ হেলালকে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। তার বক্তব্য ছিল, শেখ সেলিম যদি দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকেন, তাহলে তাকে কেন সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ প্রশ্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে।

বৈঠকে শেখ সেলিমের পরিবর্তে জাহাঙ্গীর কবির নানককে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে সামনে আনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। একজন নেতা জানান, নানক ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছেন—এই বিষয়টি শেখ হেলালের কাছে তুলে ধরাই ছিল বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য।

শেখ হেলাল বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরবেন এবং বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য।

তবে আওয়ামী লীগের সব অংশ শেখ সেলিমের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট নয়। দলের একটি অংশ শেখ সেলিমের প্রতি আস্থাশীল এবং তার নেতৃত্বের ইঙ্গিতে তারা সন্তুষ্ট বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অংশের নেতাদের মধ্যে শেখ সেলিমের দুই ভাতিজা শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো বোনের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের নাম রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন অবশ্য শেখ সেলিমকে নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা শেখ হাসিনার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তার বক্তব্য, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্যই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা টানা দশমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মতিয়া চৌধুরী। তাদের মৃত্যুর পর শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠতম সদস্য বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। এই পরিস্থিতিতে তার অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কে দেবেন—তা নিয়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় শেখ সেলিম সামনে আসতে পারেন। কিন্তু কলকাতার বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি অংশের প্রকাশ্য অসন্তোষ বলছে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলটির ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রশ্নটি শুধু সাংগঠনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং দলের বিভিন্ন বলয়ের মধ্যে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, আস্থা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম \ ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিস্তিনের পক্ষে ইউরোপ-যুক্তরাজ্যঃ বসতি ইস্যুতে স্পষ্ট হলো পশ্চিমা বিভাজন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের একাধিক দেশ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই উদ্যোগে যোগ দেবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এতে ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের নীতিগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই সেই পদক্ষেপ অনুসরণ করবে না। মিয়ামিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য কী ঘোষণা করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে; তবে ওয়াশিংটন একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে না।

রুবিওর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্য মঙ্গলবার ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

এই উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেন। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞার অবস্থান নিয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও কর্মকাণ্ডের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা। তাদের অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে তারা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের চেয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না, মার্কো রুবিও একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমনিতেই অনেক কিছু ঘটছে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা যুক্তরাষ্ট্র চায় না। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞায় অংশ না নিলেও পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে ওয়াশিংটন।

তবে সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্যকে সামনে এনেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে নিষেধাজ্ঞা থেকে দূরে থাকছে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের একাধিক দেশ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের পথে এগোচ্ছে।

পশ্চিম তীর আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশ এই বসতি সম্প্রসারণকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে ইসরায়েলি বসতি ইস্যুতে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এখনো ইউরোপীয় মিত্রদের চেয়ে আলাদা নীতি অনুসরণ করছে।

ফলে পশ্চিম তীরকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়াচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দিয়ে ইসরায়েলের প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থনমূলক অবস্থান বজায় রাখছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন পশ্চিম তীরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি না করার ওপর জোর দিচ্ছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ \ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে গভীর রাতে আগুনঃ দূর্ঘটনা নাকি নাশকতা তা নিয়ে জল্পনা

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৪২ ঘণ্টা পরও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে প্রকল্পের কম্পিউটারভিত্তিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্তও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি সচল হয়নি। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৪২ ঘণ্টা পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

আগুনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্পের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে প্রকল্পের মূল পারমাণবিক স্থাপনা বা রিঅ্যাক্টর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনাটিকে সরাসরি পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি নিয়েও এরই মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের ১ নম্বর ইউনিটে পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভের জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথাও জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভালভের সমস্যা সমাধানের পর রিঅ্যাক্টরে ফিশন প্রক্রিয়া শুরু, পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যন্ত আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি বছর প্রথম ইউনিট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও কম বলে পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের ধারণা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে মোট প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দেশে যখন গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, তখন রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই অবস্থায় প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, এরপর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং একই সময়ে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে রূপপুর প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে নজরদারি ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব সামনে এসেছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আর কত সময় লাগবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রয়োজন। প্রকল্পটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর একটি হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দ্রুত ও পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ জনস্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ যুগান্তর

এম.কে