Categories
ফিচার

যে ছত্রাক ঘিরে ছিল ফারাওয়ের অভিশাপের ভয়ঃ সেখানেই ক্যানসার চিকিৎসার নতুন আশা

প্রাচীন মিশরের ফারাও তুতানখামুনের সমাধিকে ঘিরে ‘ফারাওয়ের অভিশাপ’-এর গল্প বহু বছর ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। সমাধি আবিষ্কারের পর অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মৃত্যু সেই রহস্যকে আরও গভীর করেছিল। এবার সেই ইতিহাসের সঙ্গে আলোচিত একটি ছত্রাকের মধ্যেই ক্যানসার চিকিৎসার সম্ভাবনাময় যৌগ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার কেন্দ্রে থাকা ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস (Aspergillus flavus)। এটি সাধারণত মাটি ও কৃষিজ পরিবেশে পাওয়া যায় এবং কিছু পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে এই ছত্রাকের ভেতরেই এমন জটিল রাসায়নিক যৌগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের ২৩ জুন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কেমিক্যাল বায়োলজিতে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন গবেষকরা অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস থেকে চারটি নতুন ছত্রাকজাত যৌগ শনাক্ত করেন। এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে অ্যাসপারজিমাইসিন এ, বি, সি ও ডি—বা অ্যাসপারজিমাইসিনস।

গবেষণায় দেখা যায়, চারটি যৌগের মধ্যে বিশেষ করে অ্যাসপারজিমাইসিন সি ও ডি বিভিন্ন লিউকেমিয়া কোষের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য বিষক্রিয়ামূলক বা কোষ-ধ্বংসকারী কার্যকারিতা দেখিয়েছে। গবেষকেরা মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার কোষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, এসব যৌগের মধ্যে কিছু যৌগ লিউকেমিয়া কোষের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে যৌগটির রাসায়নিক কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা অ্যাসপারজিমাইসিন বি-কে পরিবর্তন করে এর সঙ্গে একটি লিপিড বা চর্বিজাত অণু যুক্ত করেন। তৈরি করা এই নতুন যৌগটির নাম দেওয়া হয় টু-এল-সিক্স (২-L₆)। পরীক্ষাগারে এটি ন্যানোমোলার মাত্রায় ক্যানসারবিরোধী কার্যকারিতা দেখায় এবং অনুমোদিত কিছু অ্যান্টি-লিউকেমিয়া ওষুধের সঙ্গে তুলনীয় শক্তি প্রদর্শন করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টু-এল-সিক্স কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে এসএলসি৪৬এ৩ (SLC46A3) নামের একটি পরিবহনকারী প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে। ক্রিসপার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের জটিল ছত্রাকজাত যৌগকে ক্যানসার চিকিৎসার উপযোগী করে তোলার পথ আরও পরিষ্কার হতে পারে।

এই যৌগগুলোকে বিজ্ঞানীরা রাইবোসোমালি সিনথেসাইজড অ্যান্ড পোস্ট-ট্রান্সলেশনালি মডিফায়েড পেপটাইডস, সংক্ষেপে রিপস (RiPPs) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। সহজ ভাষায়, এগুলো অণুজীবের তৈরি অত্যন্ত জটিল পেপটাইডজাত অণু, যেগুলোর রাসায়নিক কাঠামো সাধারণভাবে তৈরি বা আলাদা করা অত্যন্ত কঠিন। গবেষণাটি দেখিয়েছে, ছত্রাক থেকেও এমন জটিল ও সম্ভাবনাময় যৌগ পাওয়া সম্ভব।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, প্রকৃতি থেকে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ছত্রাক একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকেরা অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস থেকে নতুন শ্রেণির অণু আলাদা করে সেগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সক্ষম একটি যৌগ তৈরি করেছেন।

তবে গবেষণাটি মূলত পরীক্ষাগারে ক্যানসার কোষের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের শরীরে এই যৌগ কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা জানতে আরও বিস্তৃত প্রাক-ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং পরবর্তীতে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

অর্থাৎ, তুতানখামুনের সমাধির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ‘অভিশাপ’ থেকে সরাসরি ক্যানসারের ওষুধ তৈরি হয়ে গেছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং বিজ্ঞানীরা এমন একটি ছত্রাক থেকে নতুন যৌগ আবিষ্কার করেছেন, যার মধ্যে লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখা গেছে। এখন সেই সম্ভাবনাকে নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসায় রূপ দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিই পরবর্তী গবেষণার বড় প্রশ্ন।

একসময় যে ছত্রাককে ঘিরে তৈরি হয়েছিল মৃত্যু ও রহস্যের গল্প, আধুনিক বিজ্ঞান এখন সেই একই প্রজাতির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা। আর এই আবিষ্কার আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতির ক্ষতিকর বলে পরিচিত অণুজীবের মধ্যেও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উপাদান লুকিয়ে থাকতে পারে।

সূত্রঃ নেচার কেমিক্যাল বায়োলজিতে প্রকাশিত মূল গবেষণা এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদন

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ সংকটে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেনঃ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর ‘লম্বা-তারের’ ব্যাখ্যায় ডেপুটি স্পিকারের ক্ষোভ

দেশে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা চলাকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য ও সংকট মোকাবিলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে বলেছেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি সামনে এলে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি স্বীকার করে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে সব সময় সেই ধরনের স্বীকারোক্তি বা দায়বদ্ধতার প্রতিফলন দেখা যায় না।

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ৬৮ বিধিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার শেষে ডেপুটি স্পিকার এ মন্তব্য করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া নোটিশের ভিত্তিতে হওয়া ওই আলোচনায় তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে যাওয়া এবং এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আলোচনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এরপর পরিস্থিতি জনগণের সামনে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানাতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি সামনে আনেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জনসমক্ষে প্রশ্ন উঠলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় না। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী যখন বিষয়টি ‘অ্যাকনলেজ’ করে দুঃখ প্রকাশ করেন, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন ব্যাখ্যা শোনা যায়—‘তার লম্বা, এই কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়।’

ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্য কার্যত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মতো জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য কতটা স্পষ্ট, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত—সেই প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের জাতির সামনে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ঘিরেও রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিডিনিউজ২৪-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈমের সঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়ে সারাহ হাসিন মাহমুদের বিয়ে হয়েছে। সেই সূত্রে টুকু শেখ সেলিমের বেয়াই।

উল্লেখ্য যে, শেখ সেলিমের পরিবারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। শেখ সেলিমের বোনের ছেলে আন্দালিভ রহমান পার্থ বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদন বা সরবরাহের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জনসমক্ষে সংকট ব্যাখ্যা করার ধরন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির প্রশ্নও। প্রধানমন্ত্রী যেখানে সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি স্বীকার করছেন বলে ডেপুটি স্পিকার প্রশংসা করেছেন, সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে সেই একই মাত্রার দায় স্বীকার ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকার বিষয়টি সংসদেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সংকট মোকাবিলায় তাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা নয়; জনগণের সামনে সংকটের প্রকৃত কারণ, সরকারের পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিও স্পষ্ট করা। সংসদে ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমকে ঘিরে বিতর্কঃ নতুন নেতৃত্বের সংকটে আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকা আওয়ামী লীগ বর্তমানে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাহী আদেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে এবার নতুন করে সামনে এসেছে—শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে থাকবেন, সেই প্রশ্ন। আর এই আলোচনায় শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম সামনে আসতেই দলটির ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের একাংশের মধ্যেও এ নিয়ে হতাশা ও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সময়টিও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি এর আগে আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তুলে ধরছিলেন।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপন ভাগ্নে এবং শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। শেখ সেলিমের বড় ভাই শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হন।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে শেখ সেলিমের অবস্থান বর্তমানে তৃতীয়। তার আগে থাকা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে বাংলাদেশে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

শেখ সেলিম ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ও পরে দলের যুব সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গোপালগঞ্জ থেকে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সব মিলিয়ে আটবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেখ সেলিমকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দায়ের করা নতুন একটি মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ সেলিমসহ বেশ কয়েকজনকে আসামির তালিকায় রাখা হয়।

২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার সময় শেখ সেলিমের বনানীর বাসায়ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া চলতি বছরের ১ মার্চ জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। চলতি মাসের শুরুতে দুদক জানায়, শেখ সেলিমের নামে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও অতিরিক্ত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তবে শেখ সেলিমকে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা সরাসরি মনোনীত করেছেন—বিষয়টি এমন নয় বলে দাবি করেছেন দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

তার ব্যাখ্যা, শেখ হাসিনা মূলত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা বলেছেন। দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মারা গেছেন কিংবা কারাগারে থাকায় শেখ সেলিম বর্তমানে জ্যেষ্ঠতম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দলীয় সভায় সভাপতিত্ব করছেন।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের নেতা কে হবেন, তা শেষ পর্যন্ত দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ক্ষেত্রেও দলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কাউন্সিলেই নির্ধারিত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শেখ সেলিমের নাম সামনে আসার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে পুরোনো একটি প্রশ্ন আবারও জোরালো হয়েছে—দলটি কি শেখ পরিবারের নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবর রহমান চৌধুরীর মতে, শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের নেতা হলেও বর্তমান সময় ও নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তার নাম পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের রাজনীতিতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের চর্চা দীর্ঘদিনের। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘নতুন সময়ের দরকার নতুন মানুষ ও নতুন আইডিয়া। আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়া।’

সব মিলিয়ে শেখ সেলিমকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নটিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে দলীয় গঠনতন্ত্র ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শেখ সেলিমের নাম উঠে আসছে, অন্যদিকে দলের একটি অংশ নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের দাবি তুলছে।

এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বেদখল হয়ে যাওয়া এবং শীর্ষ নেতাদের অনেকে দেশে অনুপস্থিত বা বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দলটির সামনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত শেখ পরিবারের মধ্যেই থাকবে, নাকি দলটি নতুন প্রজন্ম ও নতুন নেতৃত্বের দিকে যাবে—সেটিই এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বড় সুযোগঃ বাংলাদেশকে সরাসরি এলএনজি দিতে চায় রাশিয়া

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরাসরি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এসব প্রস্তাব উঠে এসেছে।

রুশ প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সরাসরি এলএনজি সরবরাহ করা। বর্তমানে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালি চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানিনির্ভর এলএনজির গুরুত্ব বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সরাসরি এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধানে গ্যাজপ্রমের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাশিয়ার এই রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে কাজ করেছে। ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাই ও নতুন কূপ খননের কাজে রুশ প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

শুধু প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, বাংলাদেশকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া। অর্থাৎ এলএনজি, গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি তেল—তিন ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়েও বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারনির্ভরতা এবং রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধ কীভাবে করা হবে—তা এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। রুশ জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ, ব্যাংকিং চ্যানেল এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় লেনদেনের জটিলতা রয়েছে। অতীতে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রাশিয়ার কিছু জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

আরেকটি বড় বিষয় হলো মূল্য। স্বল্পমেয়াদি এলএনজি বা জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত দামের তুলনায় কতটা প্রতিযোগিতামূলক হবে, সেটিও বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শুধু সরবরাহ নিশ্চিত করাই নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, পরিবহন ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির শর্ত এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিও মূল্যায়ন করতে হবে।

তবে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়ার প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব না হলে আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত ঝুঁকিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। এর আগে রুশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ছাড় বা ওয়েভার পাওয়ার নজির রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের জ্বালানি চুক্তি হলে কূটনৈতিক ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামনে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে। তবে কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে মূল্য, সরবরাহের নিশ্চয়তা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে রাশিয়ার এলএনজি সরবরাহ, গ্যাজপ্রমের গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মূলত দাম, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের ওপর।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে অভিবাসী সংকটের বিস্ফোরণ—রাস্তা অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌযানে অভিবাসন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১২০ জন অভিবাসীকে বহনকারী রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) লাইফবোটকে তীরে ভেড়ানোর অনুরোধ পোর্টসমাউথ হারবার ও সাউদাম্পটন—দুই বন্দর কর্তৃপক্ষই প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ারের ইস্টনিতে তাদের তীরে নামানো হলে সেখানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার। আইল অব ওয়াইটের কাছে ব্রিটিশ জলসীমায় প্রায় ১২০ জনকে বহনকারী একটি নৌযান পৌঁছালে এইচএম কোস্টগার্ডের নির্দেশনায় আরএনএলআই তাদের উদ্ধার করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটি প্রচলিত ছোট নৌকা পারাপারের রুটের তুলনায় অনেক পশ্চিমে এসে পৌঁছেছিল। এরপর উদ্ধার করা ব্যক্তিদের ইস্টনি মেরিনার দিকে নেওয়া হয়।

তবে তাদের তীরে নামানোর আগে পোর্টসমাউথ হারবারে প্রবেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। একইভাবে সাউদাম্পটন বন্দরও তাদের গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। সাউদাম্পটন বন্দর পরিচালনাকারী অ্যাসোসিয়েটেড ব্রিটিশ পোর্টস (এবিপি) জানিয়েছে, সাউদাম্পটন ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের বন্দর ছিল না এবং সেখানে উদ্ধার করা অভিবাসীদের গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত সুবিধাও ছিল না।

পোর্টসমাউথের কিংস হারবার মাস্টারও কোস্টগার্ডের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বলে বিবিসির বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অপারেশনাল কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শেষ পর্যন্ত ইস্টনিতে অভিবাসীদের নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জায়গাটি ছিল একটি সরু উপদ্বীপ, যেখানে যাতায়াতের প্রধানত একটি রাস্তা রয়েছে। ফলে তীরে নামানোর পর তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা কোচগুলোকে বিক্ষোভকারীরা আটকে দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে ২০০-র বেশি বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়। তাদের অনেকেই কালো পোশাক ও মুখোশ পরা ছিল। অভিবাসীদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা থাকা কোচগুলোকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছত্রভঙ্গের নির্দেশ জারি করে।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশ ও সরকারি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উঠে এসেছে। ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার তীব্রতা নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘ভীতিপ্রদর্শনমূলক ও দাঙ্গাবাজসুলভ আচরণ’ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলও ইস্টনিকে অভিবাসীদের নামানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে মনে করেনি। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেখানে তীরে নামানোর সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ল্যাংস্টোন হারবারের হারবার মাস্টার বিলি জনসন বলেছেন, ঘটনাটি একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ছিল এবং ইস্টনিতে উদ্ধারকারী নৌযানগুলোকে তীরে আসতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেননি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বিক্ষোভের কারণে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আরএনএলআই জানিয়েছে, তাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন এবং উদ্ধারকাজে মানুষের পরিচয় বা অভিবাসন-অবস্থা বিবেচনা করা হয় না। সংস্থাটি জানিয়েছে, লাইফবোটগুলোকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তারা আলোচনা করছে। উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়েও তারা হতাশা প্রকাশ করেছে।

ঘটনার সময় পুলিশ, বর্ডার ফোর্স, কোস্টগার্ড, আরএনএলআই, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক জরুরি সেবা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে। হারবার মাস্টার বিলি জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যকর ছিল, তবে বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডে উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

এদিকে পোর্টসমাউথের ঘটনার আগের দিন ডোভারে একই ধরনের অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ হয়। সেখানে শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি বন্দর এলাকার সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি করে। পরপর দুই দিনে গুরুত্বপূর্ণ দুই বন্দর এলাকায় এমন বিক্ষোভ যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যুকে ঘিরে বাড়তে থাকা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিসমন্ত্রী সারাহ জোনস জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়া হবে। বিশেষ করে কেন ইস্টনিকে অভিবাসীদের নামানোর স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে সম্ভাব্য জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় তীরে নামানো অভিবাসীদের পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার এবং অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

৩০ নভেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে বাড়তি অর্থ দেখাতে হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার খরচ বহনের সক্ষমতা প্রমাণে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, ভিসা ফি এবং স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জের বাইরে দেশটিতে অবস্থানকালে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে।

নতুন নির্ধারিত হারে লন্ডনে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড হিসাবে অর্থ দেখাতে হবে। সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড।

অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে পড়াশোনা ও অবস্থান করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড হিসাবে অর্থ দেখাতে হবে। সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড।

নতুন আর্থিক শর্ত ৩০ নভেম্বর ২০২৬ বা তার পর জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, কেউ যদি ৩০ নভেম্বরের আগে আবেদন জমা দেন, তাহলে তার আবেদন পুরোনো আর্থিক সীমার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

এ কারণে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার সময়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২৮ দিনের নিয়ম। আবেদনকারীকে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন ধরে রাখতে হবে।

অর্থাৎ, ভিসা আবেদনের ঠিক আগে ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা করলেই হবে না। নির্ধারিত অর্থ ২৮ দিনের ধারাবাহিক সময় ধরে অ্যাকাউন্টে থাকার প্রমাণও দিতে হবে।

নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতার শর্ত তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ রাজধানী লন্ডনে জীবনযাত্রার ব্যয় যুক্তরাজ্যের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি হওয়ায় সেখানে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পরিকল্পনা করার সময় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নয়, ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচের অর্থও আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আর্থিক শর্ত টিউশন ফি-এর বিকল্প নয়। একইভাবে ভিসা আবেদন ফি বা ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জও এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থীকে তার কোর্সের টিউশন ফি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচের পাশাপাশি নির্ধারিত জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রমাণ দিতে হবে।

যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার এই শর্ত মূলত নিশ্চিত করতে চায় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে নিজেদের দৈনন্দিন খরচ বহন করতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর তাদেরও ভিসা আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ২৮ দিনের সময়সীমা যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর কাছাকাছি সময়ে আবেদন করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে না থাকলে ভিসা আবেদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন Statement of Changes to the Immigration Rules, HC 584-এ স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্তে এই পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও নিজেদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ ইউকে.গভ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মুখ ঢাকায় নতুন বিধিনিষেধঃ অমান্যে ৭০ পাউন্ড জরিমানা

ব্রিটেনের নটিংহ্যাম শহরের সিটি সেন্টারে মুখ ঢাকার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে। অপরাধ, অসামাজিক আচরণ কিংবা ভয় দেখানোর সঙ্গে পরিচয় গোপন করতে মুখের আবরণ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে পুলিশ বা অনুমোদিত কর্মকর্তা যুক্তিসংগতভাবে মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুখের আবরণ খুলে ফেলতে বলা যাবে। নির্দেশ অমান্য করলে ৭০ পাউন্ডের ঘটনাস্থলীয় জরিমানা হতে পারে।

নটিংহ্যামশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থাটি মূলত বালাক্লাভা, মুখোশসহ এ ধরনের আবরণ ব্যবহার করে অপরাধ বা অসামাজিক আচরণে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করা হচ্ছে। পুলিশের হাতে মুখের আবরণ জব্দ করা এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘ইমিডিয়েট জাস্টিস’ কর্মসূচিতেও পাঠানোর ক্ষমতা থাকবে।

তবে এটি সবার জন্য মুখ ঢাকার ওপর blanket ban বা সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা নয়। ধর্মীয়, স্বাস্থ্যগত, চিকিৎসা, কাজ কিংবা অন্যান্য বৈধ কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। কোনো ব্যক্তি বৈধ কারণে মুখ ঢেকেছেন কি না, পরিস্থিতি বিবেচনায় তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নতুন বিধিনিষেধটি নটিংহ্যাম শহরের পাবলিক স্পেসেস প্রোটেকশন অর্ডার (পিএসপিও)-এর অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ বা অসামাজিক আচরণের সঙ্গে মুখের আবরণ ব্যবহারের সম্পর্ক থাকলে কিংবা সেটি অন্যদের ভয় দেখানো, হয়রানি, আতঙ্ক বা মানসিক চাপ সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে হলে কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে শহরের বাসিন্দাদের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নটিংহ্যাম সিটি কাউন্সিলের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ অংশ নেন এবং ৯০ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা প্রস্তাবটির পক্ষে ছিলেন বলে দ্য সান জানিয়েছে।

পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্যেও মুখ ঢাকার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঘটনার বিষয়টি উঠে এসেছে। নটিংহ্যামশায়ার পুলিশের হিসাবে, জুন ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রে মুখের আবরণ বা বালাক্লাভা-সংক্রান্ত ১৮০টির বেশি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ৭৫ শতাংশ ঘটেছে ওল্ড মার্কেট স্কয়ার, ক্লাম্বার স্ট্রিট এবং ভিক্টোরিয়া সেন্টারের আশপাশে।

পুলিশ বলছে, নতুন বিধিনিষেধের লক্ষ্য মূলত শহরের কেন্দ্রে অপরাধ ও অসামাজিক আচরণ ঠেকানো এবং পরিচয় গোপন করে অপরাধ করার সুযোগ কমানো। নটিংহ্যামশায়ার পুলিশের সিটি কমান্ডার সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস পিয়ারসনের মতে, বালাক্লাভা ব্যবহার করে মানুষকে ভয় দেখানো বা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে এবার আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রাথমিকভাবে ৭০ পাউন্ডের ফিক্সড পেনাল্টি নোটিশ দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি আদালতে গেলে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নিয়ম অমান্য অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর বা বারবার নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে ‘ক্রিমিনাল বিহেভিয়ার অর্ডার’ জারি হতে পারে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এমনকি অনির্দিষ্টকাল নটিংহ্যাম শহরের কেন্দ্র থেকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নটিংহ্যাম সিটি কাউন্সিলের নেতা নেগাত খান বলেছেন, বাসিন্দাদের শহরে বসবাস, কাজ ও চলাচলের সময় নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে। তার মতে, এই ব্যবস্থা মানুষের পোশাক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নয়; বরং অপরাধ, অসামাজিক আচরণ কিংবা অন্যকে ভয় দেখানোর কাজে মুখ ঢাকার ব্যবহার ঠেকানোই এর লক্ষ্য।

এদিকে, রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ প্রকাশ্যে মুখ ঢাকার ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনজীবনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে নিজেদের পরিচয় দৃশ্যমান রাখা উচিত। তার মন্তব্যের পর নটিংহ্যামের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্রিটেনে মুখ ঢাকার ব্যবহার, জননিরাপত্তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে কিছু আইনি ও সমতার প্রশ্নও উঠেছে। নটিংহ্যাম সিটি কাউন্সিলের আগের পরামর্শ নথিতে সতর্ক করা হয়েছিল, এই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তরুণ এবং কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর অসম প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রয়োগের ক্ষেত্রে আনুপাতিকতা ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

নটিংহ্যামে এই পদক্ষেপ নেওয়ার সময় শহরের কেন্দ্রজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের অন্যান্য ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ‘অপারেশন রিক্লেইম’-এর আওতায় যুবকদের অসামাজিক আচরণ, অবৈধ ই-বাইক, মাদক বিক্রি, অস্ত্র বহন ও দোকানকেন্দ্রিক অপরাধসহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে। পুলিশের দাবি, এই অভিযান শুরুর পর শহরের কেন্দ্রে অসামাজিক আচরণ ৪২ শতাংশ কমেছে।

ফলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নটিংহ্যামের সিটি সেন্টারে মুখ ঢাকার ব্যবহার নিয়ে পুলিশের ক্ষমতা আরও বাড়ছে। তবে বৈধ কারণে মুখ ঢেকে রাখা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছাড় বহাল থাকবে। মূল লক্ষ্য থাকবে—অপরাধ বা অসামাজিক আচরণের সঙ্গে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকার ব্যবহার বন্ধ করা এবং শহরের জননিরাপত্তা জোরদার করা।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ফিরেই বড় ধাক্কা হ্যারি-মেগানেরঃ রাজকীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই

ব্রিটেনে ফিরে নতুন করে জনসম্মুখে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, হ্যারি ও মেগান আর ব্রিটিশ রাজপরিবারের ‘কর্মরত সদস্য’ নন। ফলে ভবিষ্যতে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না।

বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেসের শীর্ষ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেইনের পক্ষ থেকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। এতে হ্যারি ও মেগানকে ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ এবং ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি ব্যবহার না করার বিষয়টিও আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, তারা ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন।

চিঠিটি প্রিন্স হ্যারির দল, বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজপরিবারের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে প্রাসাদ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে হ্যারি-মেগানের বর্তমান সাংবিধানিক ও রাজকীয় অবস্থান নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা না রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে চিঠিটি প্রকাশের আগে তাদের যথেষ্ট সময় দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়নি—এমন ঘটনায় হ্যারি ও মেগান কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন বলে তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্রিটেনে ফিরে আসা এই দম্পতিকে আগেভাগে বিষয়টি জানানো হয়নি দেখে তারা অবাক হয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজপরিবারের একটি সূত্র দাবি করেছে, সোমবার বিকেলে চিঠিটি প্রকাশের আগে হ্যারি ও মেগানকে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, তাদের অজ্ঞাতসারে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে প্রাসাদ-সংশ্লিষ্ট সূত্র একমত নয়।

২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর হ্যারি-মেগানের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, নতুন চিঠিতে সেটিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘স্যান্ড্রিংহাম অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতায় রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে আংশিক দায়িত্ব পালন এবং একই সঙ্গে সেই দায়িত্ব থেকে বাইরে থাকার মধ্যবর্তী কোনো অবস্থান গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ডিউক ও ডাচেস সার্বভৌমের পক্ষে প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে তারা আর রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য নন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে হ্যারি ও মেগান ব্রিটেনে প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন। গত মাসে সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে সঙ্গে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ব্রিটেনে ফিরে এসেছেন এই দম্পতি। আগামী শরতে দেশটিতে তাদের বেশ কয়েকটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে প্রিন্স হ্যারি তার দীর্ঘদিনের দাতব্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী বছর বার্মিংহামে অনুষ্ঠেয় ইনভিক্টাস গেমসের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডে তিনি রাজপরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় ও উদ্যোগের অংশ হিসেবেই অংশ নেবেন।

অন্যদিকে, মেগানও নিজের দাতব্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে খবর রয়েছে। ফলে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না থাকলেও হ্যারি-মেগানের ব্রিটেনে জনসম্মুখে উপস্থিতি বাড়তে পারে।

নতুন চিঠির মাধ্যমে মূলত একটি বিষয়ই পরিষ্কার করা হয়েছে—হ্যারি ও মেগান ব্রিটেনে সক্রিয় থাকতে পারবেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারবেন এবং নিজেদের উদ্যোগে দাতব্য কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন; কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডকে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

এতে ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর হ্যারি-মেগানের সঙ্গে রাজপরিবারের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেটিই আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।

সূত্রঃ বিবিসি \ এপি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ কারা কেলেঙ্কারিঃ নারী কয়েদির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক

যুক্তরাজ্যে কারাগারের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক নারী কয়েদির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী ড্যানিয়েল হে চেশায়ারের এইচএমপি স্টায়াল নারী কারাগারে কর্মরত অবস্থায় ২৮ বছর বয়সী কয়েদি সোফি স্টোনহিউয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ওই নারী কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে নিয়ে হোটেলে যান হে। ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।

চেস্টার ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে বলা হয়, স্টোনহিউয়ার কারাগারে থাকাকালে হের সঙ্গে রসিকতা করে বলেছিলেন, তিনি যৌনকর্মী এবং মুক্তির পর তাকে ‘মেটস রেটস’ দেবেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বাড়তে থাকে। মুক্তির তারিখ ঘনিয়ে এলে হে তাকে কারাগারের বাইরে কয়েক দিন ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তার মোবাইল নম্বর নেন।

২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল স্টোনহিউয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের যোগাযোগ শুরু হয়। আদালতে বলা হয়, ওই নারীকে তার লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত আবাসনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সে শর্ত না মেনে হের সঙ্গে একটি প্রিমিয়ার ইন হোটেলে যান তিনি। সেখানে তারা মদ্যপান করেন এবং পরবর্তীতে যৌন সম্পর্কে জড়ান।

এরপর ৬ এপ্রিলও তারা একইভাবে একসঙ্গে সময় কাটান। ততক্ষণে দুজনেই জানতেন যে স্টোনহিউয়ার নির্ধারিত আবাসনে না থেকে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করছেন এবং এর ফলে তাকে গ্রেপ্তার করে আবার কারাগারে পাঠানো হতে পারে।

আদালতে আরও জানানো হয়, হে ওই নারীকে মদ কিনে দেন এবং পোশাক কেনার জন্য ১০০ পাউন্ড নগদ অর্থ দেন। পরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে স্টোনহিউয়ার অন্য একটি হোটেলে যাওয়ার কথা বলেন। হে সেই কক্ষের অর্থ দেওয়ার পর সেখান থেকে চলে যান। এরপর তাদের আর দেখা হয়নি বলে আদালতে জানানো হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে চার দিন পর। স্টোনহিউয়ার প্রোবেশন কর্মকর্তার কাছে পুরো বিষয়টি জানান। এরপর হেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে তিনি দাবি করেন, স্টোনহিউয়ারকে তিনি শুধু সামান্য পরিচিত হিসেবে জানতেন এবং ওই সময় বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করছিলেন। পরে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।

হে আরও দাবি করেন, হোটেলে মদ্যপানের পর স্টোনহিউয়ার তাকে আক্রমণ করেছিলেন এবং তাদের সাক্ষাতের ছবি ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আদালতে তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল দায়িত্বশীল সরকারি পদে থাকা অবস্থায় অসদাচরণ করা।

প্রসিকিউটর জন উইন উইলিয়ামস আদালতকে বলেন, স্টোনহিউয়ার ছিলেন একজন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা নারী, যার জীবন ছিল অস্থির এবং যিনি অতীতে বারবার পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। হে তার পুরো ব্যক্তিগত ইতিহাস না জানলেও তিনি জানতেন যে ওই নারী একাধিকবার কারাগারে ছিলেন।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডেতে হে কারাগারের ভেতরে স্টোনহিউয়ারকে দায়িত্ব পালন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথাবার্তা হয়। পরবর্তী সময়ে কারাগার চত্বরেও তাদের একাধিকবার দেখা হয় এবং সেখান থেকেই সম্পর্কটি আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

আদালতে আরও উঠে আসে, স্টোনহিউয়ার ২০১৭ সালে যৌনজীবন নিয়ে বিরোধের পর এক প্রেমিকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।

ড্যানিয়েল হের আইনজীবী ক্যাথরিন এলভিন আদালতে বলেন, এটি ছিল দুর্বল বিচারবোধ ও বেপরোয়া আচরণের ফল। তার দাবি, সম্পর্কটি সম্মতিপূর্ণ ছিল এবং কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। ঘটনার সময় হে ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় ছিলেন বলেও আদালতকে জানানো হয়।

আদালতে আরও জানা যায়, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো ও সম্পত্তির ক্ষতিসহ পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও হে কারাগারে চাকরি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় তার চাকরি চলে যায়। বর্তমানে তিনি এইচজিভি চালক হিসেবে কাজ করছেন বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

ড্যানিয়েল হে সরকারি পদে অসদাচরণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। চেস্টার ক্রাউন কোর্ট তাকে ১২ মাসের কারাদণ্ড দেয়, তবে সেই সাজা ২৪ মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ২০০ ঘণ্টা অবৈতনিক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক স্টিভেন এভারেট হের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হে একজন কয়েদির সঙ্গে প্রলোভনে পড়ে ফ্লার্ট করেছিলেন এবং কারাগারের বাইরে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক তৈরি হয়। বিচারকের ভাষায়, হে ছিলেন একজন কারা কর্মকর্তা এবং স্টোনহিউয়ার ছিলেন একজন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা নারী।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের কারাগারে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পেশাগত সীমারেখা, বন্দিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ক্ষমতার অবস্থান থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণেও দায়িত্বশীল কারা কর্মকর্তার জন্য এমন সম্পর্ক কতটা গুরুতর পেশাগত বিচ্যুতি হতে পারে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলাঃ মাদারীপুরে অভিযুক্ত মনিরুলের বাড়িতে তালা

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে তালা ঝুলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সম্ভাব্য হামলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় মনিরুলের মা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকায় মনিরুলের বাড়িতে গিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দুটি টিনশেড ঘর দেখা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন মনিরুলের এক আত্মীয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মনিরুল দেশে থাকাকালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাকে ধুরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যান মনিরুল। এ জন্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তার মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাইয়ের পরিবার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন।

মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিদেশে গিয়ে মনিরুলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ঘটনার জন্য তিনি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা কেন বাড়ি ছেড়েছেন, সেটিও তিনি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে কেউ যাতে মনিরুলের বাড়ি বা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ধুরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদারও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি মনিরুলের বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিয়েছিলেন; তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইতালির মেস্ত্রে শহরে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে ইতালি যাওয়া বাঁধনকে একটি পার্কে কয়েকজন ব্যক্তি হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

বাঁধনের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করেন এবং জুলাই আন্দোলনে তার অবস্থানের কারণে তাকে হেনস্তা করা হয়। প্রকাশিত ভিডিও ও সংবাদপ্রতিবেদনগুলোতে তাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগও উঠে এসেছে।

ঘটনার পর বাঁধন নিরাপদে আছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাঁধনের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হামলার ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।

এদিকে, মাদারীপুরে অভিযুক্তের বাড়িতে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের লক্ষ্য এখন একদিকে ভেনিসের ঘটনার তদন্ত ও অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া, অন্যদিকে বাংলাদেশে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ভেনিসে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের মধ্যেই মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ইতালির আইনগত প্রক্রিয়া।

সূত্রঃ এইমাত্র

এম.কে