Categories
ফিচার

এআইয়ের লাগামহীন দৌড়ঃ মানবজাতির অস্তিত্ব নিয়ে ভয়াবহ সতর্কতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রযুক্তি গবেষকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে অতিবুদ্ধিমান এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন এআই নিরাপত্তা গবেষকদের একটি অংশ। অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের প্রধান ইভান হুবিঙ্গার বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তিনি মনে করেন।

বর্তমানে ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো থেকে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে উল্লেখ করলেও হুবিঙ্গারের আশঙ্কা ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা নিয়ে। তার মতে, সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরি হলে সেটিকে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে নিরাপদভাবে সামঞ্জস্য রাখার সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি।

অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনও এআই উন্নয়নের বর্তমান গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি গবেষণাগারগুলোর মধ্যে স্ব-উন্নয়ন সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতাকে মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন। তার পদত্যাগের পর এআইয়ের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের গতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের একটি বড় অংশ হলো এমন এআই ব্যবস্থা তৈরি হওয়া, যা নিজেই আরও সক্ষম হয়ে উঠতে পারে এবং মানুষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই জটিল কাজ পরিচালনা করতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উন্নত এআই ব্যবস্থার ওপর স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।

আমোদেই স্পষ্ট করেছেন, তিনি এআই উন্নয়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথা বলছেন না; বরং আরও নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ গতিতে উন্নয়ন চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে সময় প্রয়োজন।

তার এই আহ্বানের সঙ্গে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও সমর্থন জানিয়েছেন। এআই শিল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিদের একই বিষয়ে সতর্ক হওয়ায় উন্নয়নের গতি বনাম নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এআই এজেন্টের মাধ্যমে সাইবার হামলা ও অননুমোদিত কার্যক্রম পরিচালনার ঘটনা সামনে আসার পর উন্নত এআই ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবে—এমন বিষয়ে প্রযুক্তি খাতে সর্বসম্মত অবস্থান নেই। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এআই মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এ ধরনের ভয়কে অতিরঞ্জিত হিসেবে দেখেছেন।

এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক ব্যবহার নিয়েও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে। রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, চিকিৎসা গবেষণা এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উন্নত এআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রয়েছে। আমোদেই নিজেও এআইয়ের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ রোগের চিকিৎসায় বড় অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু এখন এআই উন্নয়ন বন্ধ করা নয়, বরং কত দ্রুত এবং কোন নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে উন্নত এআই তৈরি করা হবে। উন্নয়নের গতি, স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের হাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতা—এই বিষয়গুলোকে ঘিরেই প্রযুক্তি খাতে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

ইভান হুবিঙ্গারের ১০ শতাংশের বেশি ঝুঁকির হিসাব তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন; এটি কোনো সর্বসম্মত বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। একইভাবে, জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের অন্য ব্যক্তিরা এ ধরনের অস্তিত্বগত ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
মুক্তমত যুক্তরাজ্য (UK)

৮ অক্টোবর থেকে সেকশন ৩সি লিভ ব্যবহারে দুইটি নিয়ম পরিবর্তন

নাশীত রহমান || লন্ডন || ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

অভিবাসন আইন ১৯৭১ এর সেকশন ৩সি নিশ্চিত করে যে, কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন আবেদন করলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে হোম অফিস আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে দেরি করলেও তাকে ‘ওভারস্টেয়ার’ ধরা হবে না। কারণ সিদ্ধান্ত দিতে কত সময় লাগবে তা আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

হোম অফিসের ধারণা, কিছু আবেদনকারী সেকশন ৩সি কে এমনভাবে ব্যবহার করছেন যা তাদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ প্রকাশিত স্টেটমেন্ট অব চেঞ্জেস HC 584 এ ইমিগ্রেশন রুলসের পার্ট ১ এ দুইটি পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেগুলোকে তারা ‘লুপহোল’ বন্ধ করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। প্রথম পরিবর্তনটি ফি ওয়েভার আবেদনকে সেই রুটের সঙ্গে যুক্ত করে, যেটিতে আবেদনকারী পরবর্তীতে আবেদন করবেন। দ্বিতীয়টি বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার সময়সীমা পুনরায় শুরু হওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। দুইটি পরিবর্তনই ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। একই স্টেটমেন্টে আনা অন্যান্য পরিবর্তন আমরা অন্য একটি লেখায় আলোচনা করেছি; এখানে সেকশন ৩সি কে কেন্দ্র করে আনা দুইটি পরিবর্তন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

ফি ওয়েভার: যে রুটের কথা বলেছেন, সেই রুটেই আবেদন করতে হবে

আবেদনকারী ও তাদের পরামর্শদাতারা সবসময়ই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সময় একটি ‘ব্রিজিং’ ব্যবস্থা তৈরি করে আসছেন। কেউ হয়তো চাকরি নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন এবং সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ পেতে সময় লাগছে। অন্য কেউ হয়তো দশ বছরের ধারাবাহিক বৈধ বসবাস পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন যাতে তিনি ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন এর জন্য যোগ্য হন। সাধারণত প্র্যাকটিশনাররা নিয়মের বাইরে একটি আবেদন জমা দিতেন এবং পরে সেটি পরিবর্তন করে সেই রুটে নিয়ে যেতেন যেটিতে আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে যেতে চান। সাম্প্রতিক সময়ে আবেদনকারীরা ক্রমবর্ধমানভাবে ফি ওয়েভার আবেদন ব্যবহার করছেন, কারণ এটি বিনামূল্যে।
পরিস্থিতিগত ফাঁক পূরণ করে বৈধ অবস্থান বজায় রাখা সবসময় অসৎ উদ্দেশ্য বা খারাপ চর্চা নয়। একজন আবেদনকারী সত্যিকার অর্থে যে রুটে যোগ্য, সেই রুটে আবেদন করতে পারেন—এই আশায় যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তিনি সেটি পরিবর্তন করে তার পছন্দের রুটে নিতে পারবেন।

উদাহরণ

আইশা ২ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে যুক্তরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এবং বৈধভাবে বসবাস করছেন। তার প্যারেন্ট রুটে থাকা লিভের মেয়াদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। তিনি যুক্তরাজ্যে দশ বছরের বসবাসের ভিত্তিতে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পেতে চান, কিন্তু তার দশ বছর পূর্ণ হবে ২ জানুয়ারি ২০২৭ এ—অর্থাৎ তার বর্তমান লিভ শেষ হওয়ার পর।
তাই তিনি প্যারেন্ট রুটে তার লিভ নবায়নের জন্য আবেদন করেন। এটি একটি প্রকৃত আবেদন, যার জন্য তিনি যোগ্য। তবে তিনি আশা করেন এটি কেবল একটি ‘ব্রিজিং’ আবেদন হবে এবং যোগ্যতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটিকে ILR আবেদনে পরিবর্তন করবেন। সে কারণে তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ আবেদন করেন এবং বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, এই আশায় যে আবেদনটি তখনও পেন্ডিং থাকবে। সেই সময় তিনি আবেদনটি পরিবর্তন করবেন।
একটি আবেদন পরিবর্তন করার সুবিধা হলো—সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে পরে নতুন করে আবেদন করার পরিবর্তে—হোম অফিস প্রথম আবেদনের ফি ফেরত দেয়। অর্থাৎ, আইশা দুইবার ফি দেওয়ার পরিবর্তে একবারই ফি প্রদান করেন।

তবে শুধুমাত্র একটি ফাঁক পূরণের উদ্দেশ্যে, এবং সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও, একটি আবেদন জমা দেওয়া সাধারণত খারাপ সিদ্ধান্ত। এর মধ্যে ফি ওয়েভার আবেদন ব্যবহার করাও অন্তর্ভুক্ত—যেমনটি সোনিয়া তার লেখায় ব্যাখ্যা করেছেন: ভিন্ন ধরনের আবেদন করার জন্য “সময় কেনা” উদ্দেশ্যে ফি ওয়েভার আবেদন করার ঝুঁকি।
হোম অফিস এবং প্র্যাকটিশনারদের মধ্যে (এমনকি প্র্যাকটিশনারদের মধ্যেও!) একটি বিতর্ক ছিল যে, ফি ওয়েভার ব্যবহার করে ফাঁক পূরণ করা কতটা বৈধ, যখন আবেদনকারী ফি ওয়েভার অনুরোধ করেন কিন্তু পরে যে পেইড আবেদনটি জমা দেন তা সেই রুটের নয়, যার জন্য তিনি ফি ওয়েভার চেয়েছিলেন। কিছু প্র্যাকটিশনার মনে করতেন এটি ঠিক আছে এবং এতে সেকশন ৩সি লিভ বজায় থাকবে। অন্যরা—এবং হোম অফিস—যুক্তি দিতেন যে সেকশন ৩সি লিভ কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন পরবর্তীতে জমা দেওয়া আবেদনটি সেই রুটের হবে যার জন্য ফি ওয়েভার অনুরোধ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ পরিবর্তনগুলো এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। নতুন প্যারাগ্রাফ 34G(5) এ বলা হয়েছে, যদি কোনো আবেদনকারী ফি ওয়েভার অনুরোধ করেন এবং পরে সেই রুট ছাড়া অন্য কোনো রুটে থাকার অনুমতির জন্য আবেদন করেন, তাহলে ‘আবেদনের তারিখ হবে সেই আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ, ফি ওয়েভার অনুরোধের তারিখ নয়।’

প্যারাগ্রাফ 34G(4) কে সেই অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে। এখন আবেদনের তারিখ ফি ওয়েভার অনুরোধের তারিখ হিসেবে গণ্য হবে শুধুমাত্র তখনই যখন পরবর্তী আবেদনটি সেই রুটের জন্য করা হয় যার জন্য ফি ওয়েভার চাওয়া হয়েছিল, এবং আবেদনটি হয় ফি ওয়েভার সিদ্ধান্ত পাওয়ার দশ কর্মদিবসের মধ্যে জমা দেওয়া হয়, অথবা সিদ্ধান্ত পাওয়ার আগেই পেইড আবেদন হিসেবে জমা দেওয়া হয়।
উদাহরণ
আইশা ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ একটি ফি ওয়েভার আবেদন জমা দেন এবং এতে উল্লেখ করেন যে তিনি প্যারেন্ট রুটে লিভের জন্য আবেদন করতে চান। হোম অফিস ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ এ তার ফি ওয়েভার অনুরোধের সিদ্ধান্ত দেয়—যা যুক্তরাজ্যে তার দশ বছরের বৈধ বসবাস পূর্ণ হওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে। আইশা এরপর ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ এ ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) এর জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু এই আবেদনটি সেই রুটের নয় যার জন্য তিনি ফি ওয়েভার চেয়েছিলেন। তাই তার আবেদনের তারিখ গণ্য হবে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬। এর অর্থ হলো, আইশার লিভ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর পর থেকে আর ছিল না, যা তার ধারাবাহিক বৈধ বসবাস ভেঙে দেয়—এবং এর ফলে তার ILR আবেদনটি সম্ভবত প্রত্যাখ্যাত হবে।
সঠিক পদ্ধতি হলো—ফি ওয়েভার সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর প্রথমে প্যারেন্ট রুটে আবেদন জমা দেওয়া, এবং তারপর সেটিকে পরিবর্তন করে ইনডেফিনিট লিভ আবেদনে রূপান্তর করা।

বায়োমেট্রিকস: আবেদন পরিবর্তন করলে আর সময়সীমা পুনরায় শুরু হবে না

দ্বিতীয় পরিবর্তনটি আরেকটি কৌশলকে লক্ষ্য করে। একজন আবেদনকারী মানবাধিকার ভিত্তিক একটি আবেদন করেন, কিন্তু বায়োমেট্রিকস জমা দেন না, এবং পরে আবেদনটি পরিবর্তন করেন (কখনও একাধিকবারও), এই যুক্তিতে যে প্রতিবার আবেদন পরিবর্তন করলে বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার সময়সীমা পুনরায় শুরু হয়। বায়োমেট্রিকস জমা দিতে দেরি করা আবেদনকারীর জন্য সুবিধাজনক, কারণ হোম অফিস বায়োমেট্রিকস জমা না হওয়া পর্যন্ত কোনো আবেদন সিদ্ধান্তে নেয় না। হোম অফিস বলছে, এটিও সেকশন ৩সি এর অধীনে অনুমতি ‘অপব্যবহারমূলকভাবে’ বাড়ানোর একটি পদ্ধতি হয়ে উঠেছে।

নতুন প্যারাগ্রাফ 34BB(2A) এ বলা হয়েছে:

যেখানে পূর্ববর্তী আবেদনটি পরিবর্তনের জন্য একটি নতুন আবেদন করা হয়, সেখানে আবেদনকারীকে পূর্ববর্তী আবেদনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বায়োমেট্রিকস জমা দিতে হবে; অন্যথায় আবেদনটি বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।
অর্থাৎ, আবেদন পরিবর্তন করলে আর বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার নতুন সময়সীমা পাওয়া যাবে না।

উদাহরণ

আইশা ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ প্যারেন্ট রুটে লিভের জন্য আবেদন করেন। তার বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল ১৭ নভেম্বর ২০২৬। বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার পরিবর্তে তিনি ১৬ নভেম্বর ২০২৬ এ আবেদনটি পরিবর্তন করে ফার্দার লিভের জন্য আবেদন করেন, এবং পরে ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ এ আবার পরিবর্তন করে ইনডেফিনিট লিভের জন্য আবেদন করেন। তিনি দ্বিতীয় পরিবর্তনের পর বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উভয় পরিবর্তিত আবেদনই অবৈধ। প্রথম আবেদনটিও অবৈধ, কারণ তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কখনোই বায়োমেট্রিকস জমা দেননি। এর ফলে তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ থেকেই ‘ওভারস্টেয়ার’ হয়ে গেছেন।
বাস্তবে, যারা এভাবে সেকশন ৩সি এর ওপর নির্ভর করেন, তাদেরকে প্রথম আবেদনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বায়োমেট্রিকস জমা দিতে হবে—এবং আশা করতে হবে যে আবেদনটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে না, যাতে তারা পরে আবেদনটি পরিবর্তন করতে পারেন।

উপসংহার

সেকশন ৩সি লিভ এখনো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং আবেদনকারীরা সময় অর্জনের জন্য এটি ব্যবহার করেন—যা অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ বৈধ ও যৌক্তিক। তবে হোম অফিস স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে তারা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ‘লুপহোল’গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেগুলো বন্ধ করছে। প্র্যাকটিশনারদের উচিত এই পরিবর্তনগুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা এবং তাদের ক্লায়েন্টদের যথাযথভাবে পরামর্শ দেওয়া।

তথ্যসূত্র – ফ্রি মুভমেন্ট ওয়েবসাইট

Categories
বাংলাদেশ

পালিয়েও থামেনি নানকের বিলাসিতাঃ দেশে সম্পদের আয়, কলকাতায় কোটি টাকার হুন্ডি

ভারতের কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান্দ বানুকে নিয়ে বসবাস করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করলেও তার জীবনযাপনে কোনো ধরনের আর্থিক সংকটের চিত্র নেই। নিয়মিত দামি শপিংমলে কেনাকাটা, বিলাসবহুল গাড়িতে চলাচল এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশে থাকা নানকের বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে বলে ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দাবি করেছেন। গত প্রায় দুই বছর ধরে এভাবে দেশে থাকা সম্পদের আয় ভারতে পাঠিয়ে নানক কলকাতায় বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

মেয়ে এস আমরিন রাখি ও তার স্বামী নানকের সঙ্গে একই বাসায় থাকেন না। তবে মাঝেমধ্যে তারা কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তপসিয়ার ফ্ল্যাট থেকেই দেশে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মাঝে মধ্যে ভিডিও বার্তা দেওয়ার কথা জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতারও ওই বাসায় যাতায়াত রয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সেখানে ডেকে সভা করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে নানক পরিবারের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর মিলিয়ে ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন নানক। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তাদের সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৬ বছরের ব্যবধানে হলফনামায় ঘোষিত সম্পদ প্রায় ৩০ গুণ বেড়েছে।

তবে হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের বাইরে নানক পরিবারের আরও বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মূল্য শত কোটি টাকার বেশি বলেও দাবি করা হয়েছে।

বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নানক দম্পতির মালিকানাধীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আয়-ব্যয়ের হিসাবও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

বরিশালের প্রবেশদ্বার দোয়ারিকা সেতু এলাকায় থাকা প্রায় আট একর জমির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরিশাল নগরীতে দুইটি বাড়ি ও মাছের খামারসহ ২ একর ২২ শতাংশ ভূ-সম্পত্তির তথ্য থাকলেও এসব সম্পত্তিতে থাকা ছোট-বড় ভবন এবং সেগুলো থেকে পাওয়া ভাড়ার হিসাব উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকার কলাবাগান, কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় নানকের নামে বা বেনামে আরও বিপুল সম্পদ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নানকের বরিশালের বিভিন্ন সম্পত্তিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। বটতলা এলাকার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় হচ্ছে। রুপাতলী, মতাসার, সার্কুলার রোড ও করিম কুটিরসহ বিভিন্ন এলাকায় নানকের জমিতে থাকা বাড়ি থেকেও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

এসব সম্পত্তি থেকে মাসে কোটিরও বেশি টাকা আয় হচ্ছে এবং সেই অর্থের বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নানকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাদের একজন হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং অন্যজন স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নানকের বিভিন্ন সম্পত্তির ভাড়া সংগ্রহ করে ওই দুই ব্যক্তির কাছে দেওয়া হয়। পরে হুন্ডির মাধ্যমে সেই অর্থ পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় রুপিতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

নানকের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা এক ব্যক্তি এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর নেওয়া ওই ব্যক্তি ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়লেও নানকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে দেশে ফেরা আওয়ামী লীগের এক কর্মীর দাবি, বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থ সংগ্রহ করতে নানককে বাইরে যেতে হয় না। নির্ধারিত এজেন্টরা তপসিয়ার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে অর্থ পৌঁছে দিয়ে আসেন।

ওই ব্যক্তির ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর প্রায় দুই বছর ধরে তিনি এ ধরনের অর্থ লেনদেন দেখেছেন। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ওই অর্থ দিয়েই কলকাতায় নানক বিলাসী জীবনযাপন করছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

কলকাতার বিভিন্ন নামিদামি শপিংমলে নানক ও তার স্ত্রীকে নিয়মিত দেখা যায় বলেও দাবি করা হয়েছে। দামি গাড়িতে চলাচলসহ বিভিন্ন বিলাসী সুবিধা তারা ভোগ করছেন এবং এসব ব্যয়ের অর্থ বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য জানতে তার পরিচিত একাধিক ফোন ও মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ যুগান্তর

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ডিনার এড়িয়ে তড়িঘড়ি দিল্লি ছাড়লেন শি জিনপিংঃ ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক দিনের ভারত সফর শেষে রোববার বিকেলে নয়াদিল্লি ত্যাগ করেছেন। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য শেষ করেই তিনি সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। ২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্ত সংঘর্ষের পর দীর্ঘ অচলাবস্থা পেরিয়ে এটি ছিল শি জিনপিংয়ের সাত বছরের মধ্যে প্রথম ভারত সফর।

শনিবার উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তবে সফরের প্রথম দিনে মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি জিনপিং অংশ নেননি।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে শি জিনপিং তাজ প্যালেস হোটেলে ছিলেন। তার নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে হোটেলটির ওপর কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। হোটেল এলাকাকে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং মোতায়েন করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে হোটেলের কক্ষগুলোও আগেই সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এর আগে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। পরে ভারত ‘চেয়ারস স্টেটমেন্ট’ প্রকাশ করে। তবে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মূল সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে সক্ষম হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যৌথ ছবিতে অংশ নেন শি জিনপিং। পরে মূল অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি বলেন, “এই সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ স্বার্থের পক্ষে নয়।”

সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন।

বর্তমানে ১১ সদস্যের জোটে পরিণত হয়েছে ব্রিকস। নয়াদিল্লি সম্মেলনে অপ্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থায় সুইফটের বিকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের আপত্তির কারণে পাকিস্তানের ব্রিকস সদস্যপদের আবেদনও স্থগিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শি জিনপিংয়ের ভারত সফরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়লেও সীমান্ত ইস্যু এখনো সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে রোববার বিকেলে চীনের উদ্দেশে নয়াদিল্লি ছাড়েন শি জিনপিং। আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব চীন গ্রহণ করবে।

সূত্রঃ রয়টার্স\এপি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

শি জিনপিং দিল্লিতে, সীমান্তে এগোচ্ছে চীনা সেনা—স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন অবকাঠামোর চাঞ্চল্যকর তথ্য

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফর করছেন, ঠিক সেই সময় ভারত-চীন সীমান্তের অরুণাচল প্রদেশসংলগ্ন এলাকায় চীনের সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য সামনে এসেছে।

ভ্যান্টর স্যাটেলাইট সংস্থার সরবরাহ করা ছবি বিশ্লেষণ করে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি উপত্যকা সংলগ্ন একাধিক এলাকায় নতুন ভবন, পাকা সড়ক ও হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। ওপেন সোর্স গোয়েন্দা সংস্থা জেনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিব্বতের লুনজে কাউন্টির উত্তরে ঝারি শহরের কাছাকাছি দুটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি নির্মাণকাজ দেখা গেছে।

দুই দেশের দাবিকৃত সীমান্তরেখার অবস্থান বিবেচনায় নিলে এসব স্থাপনার একটি অংশ বিতর্কিত এলাকার মধ্যে পড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঝারি শহরের দক্ষিণে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া একটি নির্মাণকাজ এখনও চলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে ভূমি সমতলকরণ, প্রকৌশল সরঞ্জাম এবং কংক্রিট মিশ্রণ প্ল্যান্ট দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, স্থাপনাটির সামরিক ব্যবহারও হতে পারে।

এ ছাড়া লুনজের দক্ষিণে আগে থাকা দুটি ছোট হেলিপ্যাডের পরিবর্তে একটি বড় হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। আরও দক্ষিণে নতুন আরেকটি হেলিপ্যাড নির্মাণের তথ্যও উঠে এসেছে। আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে অন্তত একটি ভবনের ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গেলেমো গ্রামের এক বাসিন্দা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, চীনা বাহিনী তাদের পূর্বপুরুষদের জমি দখল করে নিচ্ছে। তবে চীনা বাহিনী ঠিক কত দূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভাপতি তাদক পাকবার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় সরেজমিন তদন্ত চালায়। পাকবা দাবি করেন, চীনা অনুপ্রবেশের বর্তমান গতি ‘নজিরবিহীন’। তার অভিযোগ, ভারতীয় বাহিনী পিছু হটছে, বিপরীতে চীনা বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিনিধিদলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাস থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐতিহ্যগত শিকার ও পশুচারণের এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও অভিযোগ করেছে, চীনা সেনাবাহিনী চারণভূমি ও বনাঞ্চলে সড়ক, সেতু এবং সামরিক শিবির নির্মাণ করেছে।

ক্ষমতাসীন বিজেপির জোটসঙ্গী পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের একটি পৃথক প্রতিনিধিদল তাকসিং, গেলেমো ও মাজা এলাকা পরিদর্শন করে। দলের সদস্য ও সাবেক রাজ্য মন্ত্রী কাপা বেংগিয়া দাবি করেন, চীনা সেনারা এগিয়ে এসেছে এবং ভারতীয় টহল দলকে নিজেদের দাবিকৃত এলাকাতেও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এসব অনুপ্রবেশের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও চিয়াকুন দাবি করেছেন, চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, সীমান্তের বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী উদ্বিগ্ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লি এসব কর্মকাণ্ডকে চীনের কথিত ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের পরিবর্তে ধীরে ধীরে ছোট ছোট এলাকায় উপস্থিতি বাড়িয়ে সেগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কৌশল এটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটি শি জিনপিংয়ের প্রথম দিল্লি সফর। ওই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। এবারের সফরে শি জিনপিং প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতে গেছেন।

সীমান্ত নিয়ে নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণ ও অগ্রসর হওয়ার অভিযোগের মধ্যেই দুই দেশ প্রকাশ্যে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কোনো সক্রিয় উত্তেজনা নেই বলে জানাচ্ছে। তবে স্যাটেলাইট চিত্র, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ঘিরে অরুণাচল সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে মৃত্যু সহায়তা বিল ঠেকিয়ে দিল পার্লামেন্টঃ বিপক্ষে মুসলিম এমপিদের বড় অংশ

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর সুযোগ বৈধ করার প্রস্তাবিত বিল হাউস অব কমন্সে মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ভোটে বিলটির পক্ষে ২৭০ জন এবং বিপক্ষে ২৮৬ জন এমপি অবস্থান নেন।

দীর্ঘ বিতর্কের পর অনুষ্ঠিত ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রস্তাবিত আইনটি আর এগোয়নি। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের সহায়তায় জীবন শেষ করার আইনি সুযোগ তৈরি হতো।

ভোটের ফলাফলে ব্রিটেনের মুসলিম এমপিদের বড় অংশ বিলটির বিরোধিতা করেছেন বলে ফাইভপিলারসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন নেওয়া হারাম। একইভাবে ইউথেনেশিয়া এবং চিকিৎসকের সহায়তায় আত্মহত্যাও নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞার ভিত্তি কোরআন ও সুন্নাহতে রয়েছে।

তবে মুসলিম বংশোদ্ভূত সব এমপি প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেননি। ফাইভপিলারসের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির সাদিক আল-হাসান ও টিউলিপ সিদ্দিক বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এদিকে আফজাল খান, অ্যাডাম জোগি ও নুসরাত ঘানিসহ কয়েকজন মুসলিম এমপির ভোটের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

মৃত্যু সহায়তা প্রস্তাবটি নিয়ে হাউস অব কমন্সে ব্যাপক বিতর্ক হয়। বিলটির সমর্থকেরা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের জীবনের শেষ পর্যায়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে বিরোধীরা প্রস্তাবটির নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর সম্ভাব্য চাপ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আপত্তি জানান।

শেষ পর্যন্ত ২৮৬-২৭০ ভোটে বিলটি পরাজিত হওয়ায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সহায়তায় মৃত্যুকে বৈধ করার বর্তমান উদ্যোগ থেমে গেছে। নতুন করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত দেশ দুটিতে এ বিষয়ে বিদ্যমান আইনই কার্যকর থাকবে।

সূত্রঃ ফাইভ-পিলারস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক আমেরিকা

দুই আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান ট্রাম্পঃ গণভোটে এখনই রাজি নয় যুক্তরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যশাসিত উত্তর আয়ারল্যান্ডকে এক দেশ হিসেবে দেখতে চান। তার মতে, শেষ পর্যন্ত দুই আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ ঘটবে। তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, তিনি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চান না, তবে তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান।

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যেভাবে বিষয়টি দেখছেন, শেষ পর্যন্ত দুই আয়ারল্যান্ড এক হয়ে যাবে। তার মতে, এমন একটি ঘটনা ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি স্বীকার করেন।

ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে কিছু বলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কার্যালয় জানায়, আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ নিয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড গঠনের জন্য নতুন গণভোট আয়োজনের মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে যুক্তরাজ্য সরকার মনে করছে।

এর আগে বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে সম্ভাব্য আরেকটি গণভোটের বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, পুনরায় গণভোটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন রয়েছে—এমন কোনো তথ্য তার জানা নেই। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না বলেও তিনি জানান।

বার্নহ্যামের ওই বক্তব্যই এখনো সরকারের অবস্থান হিসেবে বহাল রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন। ফলে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণের পক্ষে মত দিলেও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্য সরকারের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড’ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারত সফর শেষে নিজের মলমূত্র সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন পুতিন

ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত মল-মূত্রসহ শারীরিক বর্জ্য সিলগালা করা বিশেষ ব্রিফকেসে করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য তার বর্জ্য থেকে বিশ্লেষণ করতে না পারে, সে কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির ১১ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ সফরের সময় পুতিনের দেহরক্ষীরা তার ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষভাবে সিলগালা করা ব্রিফকেসে রাখেন এবং পরে তা বিমানে করে রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পুতিনের বিদেশ সফরে এমন ব্যবস্থা নতুন নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ফ্রান্স সফর, ২০১৯ সালে সৌদি আরব সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা সফরের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার নেতৃত্বে আসার পর থেকেই পুতিনের বিদেশ সফরে তার শারীরিক বর্জ্য দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার এই প্রথা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ জন্য বিদেশ সফরে তার সঙ্গে বিশেষভাবে বহনযোগ্য একটি টয়লেটও রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা রাশিয়ার ফেডারেটর প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) তার বিদেশ সফরকে ঘিরে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে ঘিরে বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যদের সমন্বয়ে আরও একটি নিরাপত্তাবলয় কাজ করে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতার ওপরও কঠোর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের বয়স সাধারণত ৩৫ বছরের নিচে এবং উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটারের বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করা হয়।

পুতিনের খাবার নিয়েও রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিষপ্রয়োগের আশঙ্কা এড়াতে তার খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আগে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রান্না শেষ হওয়ার পর খাবার পরিবেশনের আগে নিরাপত্তাকর্মীদের কেউ কেউ তা পরীক্ষা করে দেখেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড ও রাতে অতিরিক্ত মাংস এড়িয়ে চলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি আদা বা গোলাপের চা পান করেন বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

বিদেশ সফরের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের যাতায়াতেও থাকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন গ্রেনেড প্রতিরোধী এবং জরুরি অক্সিজেন ব্যবস্থাসহ সুরক্ষিত আউরাস সেনাট লিমুজিন ব্যবহার করেন। তার নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে বিশেষ বিমান ব্যবস্থাও থাকে।

পুতিনের ব্যবহৃত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো যোগাযোগ ও কমান্ড ব্যবস্থা ওই বিমানে থাকার দাবিও করা হয়েছে।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

‘অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন’—ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অন্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং কোনো দেশের স্বাভাবিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংলাপ ও মুক্ত বাণিজ্যের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে একতরফা পদক্ষেপ ও বাণিজ্যিক বাধার বিরোধিতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কৃত্রিম বাধা তৈরি না করে দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শি জিনপিং। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ক্ষতিকর। সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে।

দিল্লির এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফলে শি জিনপিংয়ের বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সম্মেলনের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ এবং ৪০ শতাংশ অর্থনীতি ব্রিকসের আওতায় রয়েছে। পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করে ছোট-বড় সব দেশের সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শি জিনপিংয়ের বক্তব্য এবং মোদির মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে একটি বহুমুখী ও তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়ে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ এএফপি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ সিলেট

এনসিপিতে যোগ দিয়ে সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন আহমেদ আল কবীর

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ব্যবসায়ী ও সীমান্তিক ফাউন্ডেশনের মালিক আহমেদ আল কবীর আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, আহমেদ আল কবীর নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তও তিনি চূড়ান্ত করেছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আহমেদ আল কবীর বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হন। সম্প্রতি তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ অনুদান দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র ও অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আহমেদ আল কবীরকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হওয়ার জন্য আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আহমেদ আল কবীরের বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরে তিনি এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারে অংশ নেবেন বলে সূত্রের দাবি।

সীমান্তিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত আহমেদ আল কবীরের সম্ভাব্য দলবদল ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা আহমেদ আল কবীর দেশে ফিরে নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরাসরি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন—এমন খবর তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে