Categories
বাংলাদেশ

ভারতকে টপকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারঃ দিল্লির জন্য নতুন চাপ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারের অবস্থান থেকে ভারতকে পেছনে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। ফলে ভারতকে প্রায় ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীন এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য দ্রুত বাড়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।

এ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানিও প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, সয়াবিন বীজ এবং তুলা।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ কোনো গম আমদানি করেনি। তবে সর্বশেষ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের গম আমদানি হয়েছে।

সয়াবিন বীজের আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় সর্বশেষ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের সয়াবিন বীজ আমদানি বেড়ে প্রায় ৬২০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে তুলা আমদানি ২৩০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি খাতের এলএনজি আমদানিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি খাতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্তেও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও বিভিন্ন কৌশলগত খাতের বাণিজ্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য এবং প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিমাণও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক ব্যবস্থার কারণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি স্থগিত করেছে। অন্যদিকে কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ ভারত তুলে নিয়েছে।

ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ কমেছে। এরই মধ্যে সর্বশেষ বাণিজ্য পরিসংখ্যানে ভারতকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারের অবস্থানে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ ফার্স্টপোস্ট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী—এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এদিন বিকেলে এনসিপি কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার ওপর নজরদারির বিষয়ে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানের পরদিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া, তা বাতিল এবং বদলি-সংক্রান্ত নথিও রয়েছে বলে গণমাধ্যমের মারফতে জানা যায়।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসিফ মাহমুদ দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন এবং তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকেও ঘিরে অতীতে একাধিক বিতর্ক ও মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল।

২০২৬ সালের মার্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। অভিযোগে মানহানি, অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানো ও অবমাননার কথা বলা হয় এবং আদালত তাকে হাজির হতে সমন জারি করে।

পাটওয়ারীর বক্তব্যের ভাষা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা হয়েছে। গত মাসে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের ভাষা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, রাজনীতিতে অশালীন ভাষার কোনো স্থান নেই।

এ ছাড়া আসিফ নজরুলের পরিবারের ছাগল চুরির অভিযোগ নিয়েও পাটওয়ারীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চের মামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। এর আগে তিনি নিজের বক্তব্যের বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং একটি বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারও করেছিলেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে দলটি রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের প্রার্থী নির্ধারণ করল। এখন তাদের প্রার্থিতা, অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মামলা এবং অভিযোগগুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য ভাঙার পথে নতুন জোটঃ গণভোটের দাবিতে একজোট স্কটল্যান্ড,ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ড

যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণভোটের দাবি জোরালো করতে একজোট হচ্ছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে তিন দেশের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসে একটি সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে।

কার্ডিফ বে’র সেন্ট ডেভিডস হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টাররা অংশ নেবেন। বৈঠকে যুক্তরাজ্য থেকে পৃথক হওয়ার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের দাবি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের বিরোধীদলীয় নেতা ও সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও অংশ নেবেন। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার দাবিকে সামনে রেখে তিন দেশের নেতাদের এই সমন্বিত উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ সদস্যদের বলেছেন, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট জনমত তৈরি হলে তিনি আরেকটি গণভোটের অনুমোদন দিতে পারেন।

বার্নহ্যামের এই বক্তব্যের পরই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতাদের মধ্যে সমন্বিত তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। জন সুইনি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের বাস্তবতা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকেও শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে হচ্ছে। তার দাবি, বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের ‘সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে ইতিহাসে পরিচিত হতে পারেন।

ওয়েলসেও স্বাধীনতার দাবি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ওয়েলস পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে স্বাধীনতাপন্থি প্লাইড কামরি। দলটির নেতা রুন আপ ইওরথ বর্তমানে ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্কটল্যান্ডে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও স্বাধীনতাপন্থি এসএনপি তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। গ্রিন পার্টি ও রিফর্ম পার্টি কিছু আসন বাড়ালেও স্কটিশ পার্লামেন্টে এসএনপি ছয়টি আসন হারিয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডেও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালের স্টরমন্ট নির্বাচনে সিন ফেইন জয়ী হওয়ার পর দলটির মিশেল ও’নিল ফার্স্ট মিনিস্টার হওয়ার অবস্থানে আসেন। তবে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির বয়কটের কারণে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব গ্রহণ বিলম্বিত হয়।

আগামী বছরের নির্বাচনে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনাও রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় রয়েছে। একই সময়ে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রশ্নটি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাবলিন সফরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্ত হলে সেটিকে ‘চমৎকার’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে খারাপের কী আছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যেই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

সোমবারের কার্ডিফ সম্মেলনে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের পাশাপাশি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডের অংশগ্রহণও আলোচনাকে আরও বিস্তৃত করবে। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো, স্বাধীনতার গণভোটের দাবি এবং তিন অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে যৌথ অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা হবে।

তিন দেশের নেতাদের প্রস্তাবিত যৌথ ঘোষণাপত্র ও সমঝোতা স্মারক যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা এবং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে স্বাধীনতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে গণভোট এবং পরবর্তী সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ \ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

আসিফ নজরুলের ছাগল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল’: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের যে দুটি ছাগলের মধ্যে একটি খাওয়া হয়েছিল, তার মতে দুটিই খাওয়া উচিত ছিল।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর আগে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন তিনি।

পাটওয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছিল, অথচ তার মতে দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল। একটি বাদ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধিক্কারও জানান তিনি। একইসঙ্গে আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো, সেখানে পুলিশের নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে নিজের মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি ওই ঘটনাকে তার জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে তিনি একা থাকার কারণে সাড়ে ৯ বছরের ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। পরে ছাগলটির সঙ্গে তার মেয়ের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাগলটি প্রতিদিন মেয়ের স্কুল থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকত। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলাধুলা করত। এমনকি মেয়েটি নিজের ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটির গলা জড়িয়ে ধরে থাকা ছবি ব্যবহার করত।

আসিফ নজরুল বলেন, ছাগলটি চুরি হওয়ার পর তার মেয়ে প্রচণ্ড মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে বমি করে এবং টানা দেড় দিন কোনো খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ছাগল চুরির ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে প্রচার করা হলেও মূলত মজা করার জন্যই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান আসিফ নজরুল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক শত্রুতা বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছিল।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা চান ট্রাম্পঃ স্কটল্যান্ড নিয়ে বললেন ‘অন্য একদিন’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিষয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছেন। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ‘অন্য একদিন’ কথা বলবেন।

এর আগে শনিবার ট্রাম্প প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়েছিলেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে চান। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

আয়ারল্যান্ড সফরের দ্বিতীয় দিনে ট্রাম্পকে তার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। কাউন্টি ক্লেয়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের আগের মন্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তিনি তার মন্তব্যকে সমর্থন করেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি সবসময় আয়ারল্যান্ডের মানুষকে ভালোবেসেছেন। তার মতে, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডকে একত্রিত করা একটি স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে। তিনি বলেন, অনেক মানুষ তার এই মতের সঙ্গে একমত এবং তিনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটিকে তিনি একটি সাধারণ মন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে কোনো অবস্থান জানাননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি এখন কিছু বলবেন না এবং নিজের মতামত ‘অন্য একদিনের জন্য’ রেখে দেবেন।

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মার্টিন বলেন, ট্রাম্প মনে করেন আয়ারল্যান্ডের ঐক্যই দ্বীপটির ভবিষ্যৎ বিন্যাস ও পরিচালনার যৌক্তিক পথ।

রোববার কাউন্টি ক্লেয়ারে ট্রাম্পের ডুনবেগ রিসোর্টে তার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন মিখাইল মার্টিন। তিনি জানান, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না। তবে বৈঠকে ওই এলাকায় বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ডের ঐক্যের পক্ষে মন্তব্যে তিনি বিশেষভাবে বিস্মিত নন বলেও জানান মার্টিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং তিনি মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের ঐক্যই দ্বীপটির জন্য যৌক্তিক ব্যবস্থা।

এদিকে ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানী ডাবলিনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের প্রতিবাদ করেন। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি বিশাল বেলুনও বহন করেন।

বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, এতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কয়েক দশ হাজারে পৌঁছেছিল। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, মিছিলের পুরো অংশকে শুরুর স্থান থেকে বের হতে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকটিও বিক্ষোভে অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল সিন ফেইন ও গ্রিনস পার্টি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জিওফ প্রায়র ট্রাম্পকে ভাঁড়ের পোশাকে দেখানো একটি প্ল্যাকার্ড বহন করেন। তিনি প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে বলেন, ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

প্রায়র জানান, তিনি কেরি থেকে পাঁচ ঘণ্টা ভ্রমণ করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং আরও মানুষ এতে অংশ নিলে ভালো হতো বলেও মন্তব্য করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের সময় তার আয়ারল্যান্ডের ঐক্য নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য এবং একই সময়ে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে অবস্থান জানাতে অনীহা আন্তর্জাতিক ও ব্রিটিশ রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন করে বিষয়টি সামনে এনেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

রুশ ড্রোন হামলা হতে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

ইউক্রেনের কিয়েভ থেকে পোল্যান্ডের দিকে ফেরার পথে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ট্রেনের কয়েক মিনিট পরের একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় জনসন ও ইউরোপের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি একই রেলপথে চলাচল করছিলেন। জনসনের ট্রেন হামলার শিকার না হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জনসন কিয়েভে ২০২৬ সালের ইয়াল্টা ইউরোপিয়ান স্ট্র্যাটেজির বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ট্রেনে করে ফিরছিলেন। তার সঙ্গে একই ট্রেনে ছিলেন সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল বিল্ট এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা গুন্টার সাউটার।

কার্ল বিল্ট জানান, জনসনদের ট্রেনটি যে ট্রেনের কয়েক মিনিট পেছনে ছিল, সেটিই পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার শিকার হয়। হামলার সময় ট্রেনটি খালি করে দেওয়া হয় এবং এতে কেউ আহত হননি।

বিল্ট বলেন, তাদের ট্রেনেও সতর্কতামূলকভাবে যাত্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ট্রেনটি দোরোহুস্কের দিকে যেতে সক্ষম হয়। তিনি ট্রেনটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করলেও রাশিয়ার হামলা আরও তীব্র হচ্ছে বলে সতর্ক করেন।

হামলার পর বরিস জনসন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পোলিশ সীমান্তের কাছে একটি স্থির অবস্থায় থাকা ইউক্রেনীয় লোকোমোটিভে হামলা চালানোর পেছনে পুতিনের কী ধরনের ‘বিকৃত যুক্তি’ ছিল, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

জনসন বলেন, ইউক্রেনীয়রা প্রতিদিন এ ধরনের ‘এলোমেলো ও অর্থহীন হামলার’ মুখোমুখি হচ্ছেন। তার দাবি, বেসামরিক রেলপথও রুশ হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাশিয়ার হামলায় এখন পর্যন্ত ইউক্রেনীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়ার ১ হাজার ৭০০ কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনি তাদের পাশাপাশি প্রতিদিন রেলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও সাহসী বলে উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জনসন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে আর কত সময় লাগবে এবং রুশ প্রেসিডেন্টের অর্থ জব্দ করে তা ইউক্রেনকে দেওয়া হচ্ছে না কেন।

জনসন বলেন, বেলজিয়ামের একটি ব্যাংক হিসাবে ১৪০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি এবং লন্ডনে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড রয়েছে। ইউক্রেনকে সহায়তার ক্ষেত্রে ব্রিটেন নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হবে বলে তিনি মনে করেন এবং গত কয়েক দিন দেশটিতে অবস্থানের পর বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তবে ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সরঞ্জাম দেওয়া হলে যুদ্ধ আরও দ্রুত শেষ করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রুশ ড্রোন হামলার পর কিয়েভ-ওয়ারশ রেলপথে চলাচল ব্যাহত হয়। যে ট্রেনটিতে হামলা চালানো হয়, তাতে ২০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। হামলার স্থানটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় এক মাইল দূরে ছিল।

ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আহত হননি। ঘটনাস্থলের ছবিতে রেললাইনের কাছে বড় আগুনের গোলা এবং আকাশ আলোকিত করে ওঠা আগুনের শিখা দেখা যায়।

রাশিয়ার হামলার বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেনে হামলা চালিয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে রেল ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, রুশ হামলা যেন ইউরোপের অন্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, তা ঠেকাতেই ইউক্রেনের মানুষ প্রতিদিন লড়াই করছেন, জীবন দিচ্ছেন এবং আগ্রাসনকে আরও বিস্তৃত হতে দিচ্ছেন না।

এদিকে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘাত আরও তীব্র করার অভিযোগ করেন। পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি জানান, একটি ড্রোন দোরোহুস্ক-ইয়াগোদিন সীমান্ত পারাপারের কাছে আঘাত হানে এবং অন্যটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আঘাত করে।

কিয়েরভিনস্কি বলেন, ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ থাকায় প্রতিবেশী পোল্যান্ডে যাওয়ার ট্রেনগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ। এসব ট্রেনে প্রায়ই শরণার্থী, নারী ও শিশুরা যাতায়াত করেন।

ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি। তবে ইন্টারসিটি জানিয়েছে, ট্রেন চলাচল ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্বিত হয়। সীমান্ত যাচাই শেষ হওয়ার পর ট্রেনটি ওয়ারশের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।

রুশ হামলার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিয়েভ ও মস্কো সফর করলেও ওই প্রচেষ্টায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য ভাঙার লক্ষ্যে বৈঠকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী নেতারা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে তিন দেশের সরকারপ্রধানরা একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করবেন বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
কার্ডিফের এই বৈঠকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে যৌথ অবস্থান তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে।
বৈঠকটি এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হলে আরেকটি গণভোটের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে তা ‘দারুণ বিষয়’ হবে এবং এমন পরিবর্তন কীভাবে খারাপ হতে পারে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড—তিন দেশেই এখন স্বাধীনতাপন্থী ফার্স্ট মিনিস্টার রয়েছেন।
সোয়িনি আরও বলেন, ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যেখানে ইতিহাসে তিনি যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হতে পারেন।
মে মাসের নির্বাচনে ওয়েলসে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্লেইড কামরু সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে। দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ মে মাসে ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নেন।
স্কটল্যান্ডে ছয়টি হলিরুড আসন হারালেও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এখনও প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। একই নির্বাচনে রিফর্ম পার্টি ও গ্রিন পার্টিও অগ্রগতি করেছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইন ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়। তবে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির বয়কটের কারণে মিশেল ও’নিল ২০২৪ সালে ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে আবার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে এবং সিন ফেইন ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কার্ডিফের বৈঠকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের পাশাপাশি সিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট ও আয়ারল্যান্ডের ডেইলে বিরোধীদলীয় নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও অংশ নেবেন।
কার্ডিফ বে-র পাশে সেন্ট ডেভিডস হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর তিন ফার্স্ট মিনিস্টার একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকেও স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিন দলই তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পক্ষে অবস্থান নেবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন সদস্য হওয়ার এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার অবস্থান তুলে ধরবে।
অর্থনৈতিক বিষয়ে তিন দলের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ তুলে ধরা হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণের স্বার্থ যথাযথভাবে পূরণ করছে না।
ওয়েলসের প্লেইড কামরু সরকারকে কর ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি তুলবে। দলটি ক্রাউন এস্টেট থেকে পাওয়া রাজস্বের অংশ ওয়েলসকে দেওয়ারও দাবি করছে। এর মধ্যে সমুদ্রতল থেকে পাওয়া আয়ও রয়েছে, যেখানে সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয়।
প্লেইড কামরু আরও বেশি অর্থ বরাদ্দের লক্ষ্যে বার্নেট ফর্মুলা পরিবর্তনের পাশাপাশি পুলিশিং ও রেল খাতে অর্থায়নের মতো আরও কিছু ক্ষমতা ওয়েলস সরকারের হাতে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছে।
প্লেইড কামরুর একটি সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি, অর্থনীতি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তিন দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। অভিন্ন স্বার্থে অংশীদার ও সমান মর্যাদার ভিত্তিতে কাজ করার ওপরও দলটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিন ফেইনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। দলটি গুড ফ্রাইডে চুক্তিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গণতান্ত্রিক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরেছে।
সিন ফেইনের একটি সূত্রের ভাষ্য, আইরিশ ঐক্য কোনো দূরের আকাঙ্ক্ষা নয় এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
তবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোট নিয়ে তার সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন। বৃহস্পতিবার জন সোয়নিকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডে আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ নেই।
বার্নহাম বলেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার গণভোটের পক্ষে বর্তমানে কোনো ঐকমত্য নেই। একইভাবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বর্তমানে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে যেতে চান—এমন স্পষ্ট ভিত্তিও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে লেবার পার্টির অবস্থান ছিল পরিষ্কার—দলটি স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা বা আরেকটি গণভোটকে সমর্থন করে না।
বার্নহামের মতে, স্বাধীনতা ও গণভোটের প্রশ্ন সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো অগ্রাধিকার থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
এদিকে, সোয়িনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে দাবি করেছে, বার্নহাম যুক্তরাজ্যের ইউনিয়ন কাঠামো নিয়ে সরকারের অবস্থানের মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারেননি।
কার্ডিফের বৈঠককে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্বাধীনতার দাবি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের সম্ভাব্য আইরিশ ঐক্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে
Categories
বাংলাদেশ

বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জঃ হাইকোর্টে রিট

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে রিটটি দায়ের করেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, ওই প্রজ্ঞাপন বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিটে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা অবিলম্বে স্থগিত করার পাশাপাশি এটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে এবং এর কোনো বৈধ আইনি ভিত্তি নেই—এমন ঘোষণা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়েছে।

রিট আবেদনকারীদের মধ্যে আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, জায়েদ বিন আমজাদ, মোহাম্মদ শানেওয়াজ, সাব্বির রহমান ও মাহমুদুল হাসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম শাহীদি, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান রয়েছেন।

রিটে ২০২৫ সালের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের ২ মার্চ একই ধরনের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এর দুই দিন পর, ৬ মার্চ, হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেন এবং প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৯ মার্চ সরকার ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের যুক্তি, আদালতের আগের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, নতুন প্রজ্ঞাপনটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। এসব কারণ দেখিয়ে প্রজ্ঞাপনটির বৈধতা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

রিটটি বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এখনো শুনানির জন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার বাংলা

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইথিওপিয়া-ইসরায়েল সম্পর্ক ঘিরে নতুন সমীকরণঃ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে আফ্রিকা

ইথিওপিয়া ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগের পাশাপাশি বড় অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্পে এগোচ্ছে ইথিওপিয়া। ইসরায়েলের সঙ্গে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ইথিওপিয়া সফর করেন। সফরে তিনি ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট তাইয়ে আতসকে সেলাসি ও প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণ নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়।

২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ ইথিওপিয়া-ইসরায়েল যৌথ রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠক। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়।

ইথিওপিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর একটি হয়ে উঠেছে গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ বাঁধ। দেশটির দাবি, বাঁধটি বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সরবরাহের ৫২ শতাংশের বেশি জোগান দিচ্ছে। পাশাপাশি জিবুতি, কেনিয়া ও সুদানে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ সুদান ও তানজানিয়ার সঙ্গেও বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হয়েছে।

ব্লু নাইল নদীতে আরও তিনটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইথিওপিয়া। একই সঙ্গে ওমো নদীর ওপর কোয়েশা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই প্রকল্প ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বড় জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্মিলিত মূল্যমানের নতুন মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে ইথিওপিয়া। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বড় বিমানবন্দর, প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সার কারখানা।

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস একটি নতুন বৃহৎ বিমানবন্দর নির্মাণ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির প্রাথমিক বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ৬ কোটি। এটি আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

সোমালি অঞ্চলে বাণিজ্যিক প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনও শুরু করেছে ইথিওপিয়া। একটি প্রকল্পে বছরে ১১ কোটি ১০ লাখ লিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বছরে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন সার কারখানার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ২০২৬ সালের ১ জুন ইথিওপিয়ায় সপ্তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির জাতীয় নির্বাচন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঞ্চল ও নগর প্রশাসনে ভোটার উপস্থিতি ৯৪ থেকে ৯৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। প্রসপারিটি পার্টি অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় জয় পেয়ে সংসদে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

দেশটিতে জাতীয় সংলাপ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইথিওপিয়ান ন্যাশনাল ডায়ালগ কমিশনের আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ অংশ নেন। আটটি মৌলিক জাতীয় ইস্যু নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।

পরিবেশ রক্ষায় ২০১৯ সালে শুরু করা গ্রিন লিগ্যাসি উদ্যোগও সম্প্রসারিত করছে ইথিওপিয়া। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটির পার্লামেন্ট গ্রিন লিগ্যাসি উদ্যোগ এবং ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমি পুনর্বাসন বিশেষ তহবিল প্রতিষ্ঠার আইন অনুমোদন করে। এর আওতায় ভূমি পুনরুদ্ধারে কেন্দ্রীয় বাজেটের শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধির দাবি করেছে ইথিওপিয়া। নিবন্ধে বলা হয়েছে, দেশটির জিডিপি ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। কফি রপ্তানি থেকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং স্বর্ণ রপ্তানি থেকে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। তৈলবীজ, উদ্যানজাত পণ্য, গবাদিপশু ও বস্ত্রও রপ্তানিতে অবদান রেখেছে।

জুনের নির্বাচনের পর নতুন সরকার নিয়ে নতুন বছরে প্রবেশ করছে ইথিওপিয়া। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, জাতীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হর্ন অব আফ্রিকা ও লোহিত সাগর অঞ্চলের কূটনীতিতেও দেশটির ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পোস্ট

এম.কে

Categories
ফিচার

এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য চেষ্টা ঠেকিয়েছে অ্যানথ্রপিক

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করতে পারে—এমন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর কয়েকটি প্রচেষ্টা তারা শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক হুমকি-বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের ধারাবাহিক সতর্কবার্তার মধ্যেই নতুন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল অ্যানথ্রপিক।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স উন্নত এআইয়ের বিকাশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এআই নিয়ে অস্তিত্বগত ঝুঁকির আশঙ্কা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এআইয়ের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র জয়ী না হলে দেশটি ‘খুব খারাপ অবস্থায়’ পড়বে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।

অ্যানথ্রপিক বৃহস্পতিবার তাদের সর্বশেষ হুমকি-বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিয়মিত এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যাতে তাদের প্রযুক্তির অপব্যবহারের চেষ্টা কীভাবে শনাক্ত ও প্রতিহত করা হচ্ছে তা তুলে ধরা যায়।

গুগলও মঙ্গলবার জানিয়েছিল, একজন ব্যক্তি তাদের এআই টুল ‘জেমিনি’ ব্যবহার করে অস্ত্রায়িত জৈব উপাদান তৈরির জন্য সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে কারিগরি নির্দেশনা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়াভিত্তিক সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি এবং ইরানের একটি প্রচারমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তাদের এআই মডেল ‘ক্লদ’-এর ব্যবহার শনাক্ত হয়েছে।

গত আট মাসে শনাক্ত হওয়া উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর মধ্যে ভুয়া ডেটিং অ্যাপ, হোটেলের ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের শনাক্ত করার জন্য নজরদারি ব্যবস্থা তৈরির মতো কর্মকাণ্ড ছিল।

চীনের কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠান ‘ক্লদ’-এর সক্ষমতা অনুকরণের চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেছে অ্যানথ্রপিক।

প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্দেহভাজন গোষ্ঠী, অপরাধী, স্পাইওয়্যার বিক্রেতা, রাষ্ট্রীয় প্রচার প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিদের দ্বারা অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাদের ‘ক্লদ হাইকু’, ‘সনেট’ ও ‘অপাস’ মডেলের অপব্যবহারের বেশ কয়েকটি ঘটনা তারা প্রতিহত করেছে।

তবে ‘ক্লদ ফেবল’ বা শক্তিশালী ‘মিথস’ শ্রেণির মডেলগুলোর অপব্যবহারের ঘটনা পাওয়া যায়নি। একটি ক্ষেত্রে বড় ও ব্যয়বহুল মডেল ব্যবহার করে ছোট এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য স্থানান্তরের ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল।

সাইবার হামলা, প্রভাব বিস্তার, নজরদারি, প্রতারণা ও অস্ত্র তৈরির মতো কর্মকাণ্ডে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করতে পারে—এমনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টাও অ্যানথ্রপিক শনাক্ত করেছে।

প্রতিবেদনে জৈব অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য অপব্যবহারের পাঁচটি ঘটনা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, জৈব প্রযুক্তির অপব্যবহার ‘ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলগুলোর সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি’। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের সক্ষমতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একই সঙ্গে অ্যানথ্রপিক উল্লেখ করেছে, জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন একই তথ্য টিকা তৈরি বা রোগের চিকিৎসা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা সম্ভব।

অ্যানথ্রপিকের হুমকি-বিষয়ক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জ্যাকব ক্লেইন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তব পরিস্থিতিতে কেউ সরাসরি ‘আমি একটি জৈব অস্ত্র তৈরি করে সবাইকে হত্যা করতে চাই’—এভাবে উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছয়টি ঘটনায় ‘ক্লদ’ ব্যবহার করে আগ্নেয়াস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, সশস্ত্র ড্রোন, বোমা ও অন্যান্য সামরিক অস্ত্র তৈরির সফটওয়্যার এবং এসব অস্ত্রের লক্ষ্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

সাইবার অপরাধী এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকাররা অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা নেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘শাইনিহান্টার্স’ নামে একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী এবং চীনের কয়েকটি গবেষণাগারের নামও প্রতিবেদনে এসেছে।

রাশিয়াভিত্তিক ‘মিডনাইট ব্লিজার্ড’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী এআই ব্যবহার করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাদের ক্ষতিকর সফটওয়্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছে কি না তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুঝতে পারত। শনাক্ত হলে সেটি কোড পরিবর্তন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ, শনাক্ত ও বন্ধ করতে প্রতিবেদনের তথ্য তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গেও তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করেছে।

অ্যানথ্রপিকের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন প্রতিষ্ঠানটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা গবেষক সতর্ক করেছেন যে এআই এত দ্রুত এগোচ্ছে যে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জ্যাকুব পাচোকি এআই খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছামূলকভাবে উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান।

পাচোকি বলেন, মেশিনের বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বাড়তে থাকলে এর পরিণতির জন্য কেউ প্রস্তুত আছে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। ওপেনএআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান। তবে তার মতে, এ ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এই সতর্কবার্তার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে নিরাপদভাবে এআই উন্নয়নের জন্য একটি নতুন বহুজাতিক চুক্তি এবং সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা বার্নি স্যান্ডার্স কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স নিষিদ্ধ এবং উন্নত এআইয়ের বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য আইন প্রস্তাব করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে স্যান্ডার্স বলেন, বিজ্ঞানীরা যখন সতর্ক করছেন যে এআই মানবজাতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে, তখন উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা না করা উচিত নয়।

সূত্রঃ বিবিসি নিউজ

এম.কে