Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

আইনের শাসনের পক্ষে ব্রিটিশ মুসলিমদের স্পষ্ট বার্তাঃ গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে শিশুদের যৌন শোষণ ও গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট সুফি ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ হাসান হাশিব-উর-রেহমান। তার বক্তব্য, কোনো অপরাধী নিজের সম্প্রদায়ের মানুষ হলেও তাকে আড়াল না করে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

যুক্তরাজ্য সফরে থাকা এই ধর্মীয় নেতা বলেছেন, ব্রিটিশ পাকিস্তানিদের গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো এবং শিশুদের শোষণে জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া উচিত। তার মতে, অন্যায় সম্পর্কে জেনেও নীরব থাকা কার্যত সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো।

তিনি বলেন, নিজেদের সম্প্রদায়ের কেউ অপরাধ, উগ্রবাদ বা গ্রুমিং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরোধিতা করতে হবে। বন্ধু কিংবা আত্মীয় কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাকেও ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

মুহাম্মদ হাসান হাশিব-উর-রেহমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির ঈদগাহ শরিফের খাদেম। এটি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুফি ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। তার ধর্মীয় কেন্দ্রের যুক্তরাজ্যে হাজারো অনুসারী রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রুমিং, যৌন শোষণ, মাদক, অপরাধ কিংবা উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার ভাষ্য, মুসলিমদেরই এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সবার আগে নিন্দা জানানো উচিত।

মুহাম্মদ হাসান হাশিব-উর-রেহমান আরও বলেন, গ্রুমিং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা ইসলাম কিংবা পাকিস্তানি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তা ধর্মীয় শিক্ষা ও সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তির বিরুদ্ধেই যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে কোনো অপরাধীকে রক্ষা করা উচিত নয়। যারা অপরাধে জড়িত, তারা যে পরিচয়েরই হোক, তাদের প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে গ্রুমিং গ্যাং নিয়ে যুক্তরাজ্যে স্বাধীন জনতদন্তের কাজও এগিয়ে চলছে। ব্যারোনেস লংফিল্ডের নেতৃত্বাধীন এই তদন্তের আওতায় প্রথম পর্যায়ে লন্ডন, ব্র্যাডফোর্ড ও ওল্ডহ্যামকে রাখা হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ, স্থানীয় কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গ্রুমিং গ্যাংয়ের ঘটনায় কীভাবে সাড়া দিয়েছিল এবং অপরাধীদের জাতিগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

ধর্মীয় নেতা বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেওয়া তরুণ ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। তার মতে, ধর্মীয় নেতাদের প্রচলিত ধর্মীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি যে দেশে মুসলিমরা বসবাস করেন, সেই দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গ্রুমিং গ্যাং, মাদক ব্যবসা, অপরাধ ও উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত মুসলিমরা বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধ কোনো একটি ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তার বক্তব্যে গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দেওয়া, অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আইনের প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রিফর্মের রাজনীতিতে বিভাজনের সুরঃ সুযোগ নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

লন্ডনকে ঘিরে অপরাধ, অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ব্রিটেনে জনমতের সঙ্গে বাস্তব পরিসংখ্যানের বড় ব্যবধানের তথ্য উঠে এসেছে কিংস কলেজ লন্ডনের নতুন এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের মধ্যে লন্ডনের অপরাধ পরিস্থিতি ও মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা তুলনামূলকভাবে বেশি।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় শরিয়া আইন প্রভাবশালী এবং সেখানে অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারেন না। অন্যদিকে ৩৬ শতাংশ মানুষ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও জনধারণার সঙ্গে বাস্তবতার বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে। গড়ে মানুষ মনে করেন, প্রতি বছর লন্ডনের ৩০ শতাংশ বাসিন্দা অপরাধের শিকার হন। লন্ডনে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গড় অনুমানও ২৫ শতাংশ। কিন্তু গবেষকদের দেওয়া প্রকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে অপরাধের শিকার হওয়ার হার ছিল ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

লন্ডনের মুসলিম জনসংখ্যা নিয়েও মানুষের ধারণা বাস্তব সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। জরিপে গড় অনুমান ছিল ৩৫ শতাংশ, যেখানে প্রকৃত জনসংখ্যার হার প্রায় ১৫ শতাংশ। রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের অনুমান ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ এবং কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থকদের অনুমান প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষকরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে লন্ডন সম্পর্কে মানুষের ধারণার পার্থক্য স্পষ্ট। কিংস কলেজ লন্ডনের পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ববি ডাফি বলেন, লন্ডন এখন অপরাধ, অভিবাসন ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তার মতে, মানুষ শুধু রাজধানী সম্পর্কে ভিন্ন মত পোষণ করছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করছে।

এদিকে লন্ডনকে ঘিরে নেতিবাচক বয়ান ব্রিটিশ রাজনীতির বাইরেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লন্ডনের কিছু এলাকায় পুলিশ যেতে ভয় পায় এবং সেখানে আইনশৃঙ্খলা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি লন্ডন শরিয়া আইনের দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। নতুন জরিপে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ তার এমন ধারণার সঙ্গে একমত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

গবেষণায় রিফর্ম ইউকের সমর্থকদের লন্ডনের অপরাধ ও মুসলিম জনসংখ্যা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অতিরঞ্জিত ধারণা পোষণকারী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লন্ডনকে ‘অবনতির পথে’ দেখানোর রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ান মানুষের ধারণায় প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লন্ডনকে ঘিরে অপরাধ, অভিবাসন ও বিভাজনমূলক বক্তব্যের বিস্তার বেড়েছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষণা বলছে, বাস্তব পরিসংখ্যানের তুলনায় লন্ডন সম্পর্কে মানুষের ধারণায় বড় ধরনের ভুল রয়েছে। এই ভুল ধারণা রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রাজধানীকে ঘিরে ব্রিটিশ সমাজে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বেনিফিট নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ নিয়ম ভাঙলে জরিমানা না করার পথে সরকার

যুক্তরাজ্যে বেনিফিট বা কল্যাণভাতা গ্রহণকারীদের জন্য নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয় ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থায় প্রথমবার নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে সরাসরি আর্থিক জরিমানা না করে, বারবার নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন্সের (ডিডব্লিউপি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিল কুলিং জানিয়েছেন, বিভাগটি প্রথমবারের ভুলের পরিবর্তে বারবার নিয়ম ভঙ্গের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো বেনিফিট গ্রহণকারী একবার জবসেন্টারের বৈঠকে উপস্থিত হতে না পারলে কিংবা প্রথমবারের মতো নির্ধারিত কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তার বেনিফিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দেওয়ার নিয়ম নাও থাকতে পারে।

এর পরিবর্তে যারা বারবার সরকারি কর্মসংস্থান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানাবেন বা নিয়ম মেনে চলবেন না, তাদের ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে এই পরিবর্তন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিতে অনুমোদন দেননি। ফলে বর্তমানে প্রথমবার নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রেও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেনিফিটে নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক কর্তন করা হতে পারে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি জন মিলনে হর্সহামের একটি জবসেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা তুলনামূলক নমনীয় ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

সরকারের বিবেচনায় থাকা সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থার আওতায় একবারের ভুলকে তুলনামূলকভাবে নমনীয়ভাবে দেখার পাশাপাশি, যারা নিয়ম ভঙ্গের পরও বারবার সরকারি কর্মসংস্থান ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাবেন, তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক শাস্তির ব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য ভাঙতে মার্কিন হস্তক্ষেপঃ চার রাষ্ট্রে বিভক্তির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য

যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটিকে ভেঙে চারটি রাষ্ট্রে পরিণত করার পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য র‌্যান্ডি ফাইন। একই সময়ে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফ্লোরিডার কংগ্রেস সদস্য র‌্যান্ডি ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্বাধীনতা এবং আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ‘চার রাষ্ট্রের সমাধান’-এর কথা বলেন। তার মন্তব্য যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা সোমবার কার্ডিফে বৈঠকে বসবেন। স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ আইওরওয়েথ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল একটি যৌথ ঘোষণায় ওয়েস্টমিনস্টারের কাছে তাদের নিজ নিজ দেশের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গণভোটের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাতে পারেন।

২০১৪ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৫৫ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে স্বাধীনতার দাবি এখনো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওয়েস্টমিনস্টারের অনুমতি ছাড়া স্কটল্যান্ডের নতুন স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়।

ওয়েলসেও স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছে প্লেইড কামরি। অন্যদিকে গুড ফ্রাইডে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের গণভোট আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।

এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় তিনি বলেন, পুনরেকত্রীকরণ ঘটলে তিনি খুশি হবেন এবং এটি শেষ পর্যন্ত ঘটবে বলে মন্তব্য করেন। স্কটল্যান্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি পরে আলোচনা করবেন বলে জানান।

র‌্যান্ডি ফাইন এর আগেও ব্রিটিশ সরকারের ইসরায়েলনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন এবং ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ফ্লোরিডায় সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি ব্রিটেনকে ‘ইউনাইটেড ইসলামিক কিংডম’ বলেও মন্তব্য করেন।

তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও যুক্তরাজ্য ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো সেখানে প্রায় ৮৮ হাজার কর্মসংস্থানকে সমর্থন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ভেতরে স্বাধীনতার দাবি এবং বাইরে থেকে আসা রাজনৈতিক সমর্থনের এই সমন্বিত চাপের মধ্যেই দেশটির সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অভিবাসী আতঙ্কে উত্তাল যুক্তরাজ্যঃ স্কুলছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ, পাহারায় নিরাপত্তারক্ষী

ব্রিটেনের এসেক্সে আশ্রয়প্রার্থীদের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের পর তিনটি শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছে রিফর্ম ইউকে-নিয়ন্ত্রিত এসেক্স কাউন্টি কাউন্সিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীদের দলবদ্ধ উপস্থিতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং স্কুলছাত্রীদের উদ্দেশে শিস দেওয়ার ঘটনায় শহরকেন্দ্রে নারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সোমবার থেকে ব্রেইনট্রি, কোলচেস্টার ও চেলমসফোর্ড শহরকেন্দ্রে ছয়জন প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী টহল দেওয়া শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য চালু করা এই কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ভ্যানগার্ড’।

কাউন্সিল জানিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সপ্তাহে সাত দিন দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের প্রধান দায়িত্ব হবে অসামাজিক আচরণ প্রতিরোধ, স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করা এবং ভবিষ্যতে আরও নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন আছে কি না সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা।

এই উদ্যোগের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার পাউন্ড, এর সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর। রিফর্ম ইউকে জানিয়েছে, কমিউনিটি ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ ব্যবহার করা হবে।

এসেক্স কাউন্টি কাউন্সিলের রিফর্ম ইউকে নেতা পিটার হ্যারিস বলেছেন, ‘অপারেশন ভ্যানগার্ড’ এখন বক্তব্য থেকে বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, ব্রেইনট্রি, কোলচেস্টার ও চেলমসফোর্ডে দুইজন করে নিরাপত্তারক্ষী দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।

ঘটনার পেছনে ওয়েদারসফিল্ডের সাবেক রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৮০০ আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন। সরকার তাদের সংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৪৫ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পরও ওই স্থাপনা আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ওয়েদারসফিল্ডে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়মিত মিনিবাসে করে আশপাশের শহরগুলোতে কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবা নেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রেইনট্রি ওই কেন্দ্র থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে।

স্থানীয় বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী মাইক রিডন দাবি করেছেন, সকালে বাসভর্তি করে আশ্রয়প্রার্থীদের শহরে নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের অনেকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করেন। তার অভিযোগ, স্কুল থেকে বাসে নামা মেয়েদের উদ্দেশে তারা শিস দেন।

রিডনের ভাষ্য, পরিস্থিতির কারণে তার স্ত্রী ও তার বন্ধুরা বৃহস্পতিবার একা শহরে যেতে চান না।

তবে স্থানীয় পুলিশ এই পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছে। এসেক্স পুলিশের নতুন প্রধান কনস্টেবল র‌্যাচেল নোলান বিবিসি লুক ইস্টকে বলেছেন, ওয়েদারসফিল্ডের আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের মাত্রা ‘খুবই কম’। তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রের আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

কাউন্সিলের নিজস্ব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোম অফিসের দাবি অনুযায়ী ওয়েদারসফিল্ড বিমানঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের কারণে স্থানীয় অপরাধের মাত্রায় কোনো প্রভাব পড়ার প্রমাণ নেই। তবে একই প্রতিবেদনে স্থানীয়দের মধ্যে ভয় এবং অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা তৈরির ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক’ তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বিরোধী কাউন্সিলররা। লেবার পার্টির কাউন্সিলর লি স্কর্ডিস বলেছেন, সিদ্ধান্তটি পক্ষপাতমূলক মনোভাব থেকে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, কোলচেস্টারে আশ্রয়প্রার্থীদের কারণে অপরাধ বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ কাউন্সিলের নিজস্ব প্রতিবেদন বা পুলিশের কাছে নেই।

তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, নিরাপত্তারক্ষীদের কী ক্ষমতা থাকবে এবং কাউন্সিল তাদের নিয়োগের আগে পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করেছে কি না।

বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নেই। কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে তা স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট কাউন্সিলর ও চেলমসফোর্ড সিটি কাউন্সিলের নেতা স্টিফেন রবিনসনও এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে ভয় ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে পরিস্থিতির সমাধান হবে না।

এদিকে ওয়েদারসফিল্ডকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। রিফর্ম ইউকে নেতা পিটার হ্যারিস এর আগে কেন্দ্রটিকে ‘ছুটির শিবির’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী সেখানে জিম, ফিটনেস স্টুডিও, পূর্ণ আকারের ফুটবল মাঠ, ইনডোর স্পোর্টস হল, টেলিভিশন কক্ষ ও পুল টেবিলসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়েদারসফিল্ডে থাকা ২৫ বছর বয়সী এক আশ্রয়প্রার্থী আদনানি মোহাম্মদকে এ বছরের শুরুতে মদ্যপ অবস্থায় কর্মীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় ১৫০ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে সামাজিক কাজের সাজা দেওয়া হয়েছিল।

তবে ওয়েদারসফিল্ড কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য শহরে কারও দণ্ডিত হওয়ার নির্দিষ্ট রেকর্ড নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন নারীর ওপর হামলার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিজেদের ‘অডিটর’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া কট্টর ডানপন্থী বিক্ষোভকারীরাও আশ্রয়প্রার্থীদের উদ্দেশে গালিগালাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, জননিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো অপরাধ হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। স্থানীয় জনগণ, কেন্দ্রের কর্মী এবং সেখানে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোম অফিস স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

হোম অফিস আরও জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ সরকারের অভিবাসন সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার সব আশ্রয়প্রার্থী হোটেল বন্ধ করে সাবেক সামরিক স্থাপনাসহ বিকল্প আবাসনে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।

এদিকে অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামেও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রায় ৩৫০ বাসিন্দার ওই গ্রামের মানুষ মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি প্রতীকী ‘গণভোটে’ অংশ নেবেন।

তবে এই ভোটের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং ফলাফল বাধ্যতামূলক হবে না।

গ্রামটির কাছে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি স্থাপনাকে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত অনিবন্ধিত পুরুষ অভিবাসীদের আবাসনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনার বিরোধিতা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিডিংটনের ১৩৩ জন নারী গত সপ্তাহে সব নারী সংসদ সদস্যের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি অনলাইন ভিডিও দুই মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিডিংটনে প্রায় ১ হাজার ২৫০ আশ্রয়প্রার্থীকে আবাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি গ্রামের খুব কাছেই হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

৬১ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা পলা সিনিয়র বলেন, তিন বছর আগে তিনি ও তার স্বামী শান্তিপূর্ণ জীবন কাটানোর আশায় ওই গ্রামে অবসরজীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি তাদের বাড়ির বাগান থেকে মাত্র ৬৫০ গজ দূরে হওয়ায় তিনি এখন রাতে ঘুমাতে পারছেন না বলে দাবি করেন।

মঙ্গলবার পিডিংটনের ভোট গ্রহণের পর সন্ধ্যায় ভোট গণনা করা হবে এবং বুধবার সকাল ৭টায় ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এর এক দিন পর প্রকল্পটি নিয়ে সরকারি পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা।

ব্রিটেন সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের ব্যবস্থা বন্ধ করে সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। ওয়েদারসফিল্ড ও ইস্ট সাসেক্সের ক্রোবোরোতে ইতোমধ্যে এমন দুটি কেন্দ্র চালু রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, পিডিংটনের মতো মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত এলাকাগুলোকেও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

৭২ মিলিয়ন পাউন্ডের অনুদানে ব্রিটেনের রাজনীতিতে বিস্ফোরণঃ লেবার–রিফর্ম সংঘাত চরমে

ব্রিটিশ রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের অনুদান নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিফর্ম ইউকে দুই ধনকুবেরের কাছ থেকে রেকর্ড ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড অনুদান পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদানের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার।
অ্যাঞ্জেলা রেনার জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অনুদানের মাধ্যমে কেউ যেন ‘গণতন্ত্রে নিজের জায়গা কিনে নিতে’ না পারে, তা পর্যালোচনা করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। রিফর্ম ইউকের বিপুল অনুদান পাওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই উদ্যোগের ঘোষণা আসে বলে জিবি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জিবি নিউজকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, রিফর্ম ইউকে সামনে আরও বড় অঙ্কের অনুদান পেতে পারে।
তবে লেবার পার্টির ঘনিষ্ঠ অনেক ট্রেড ইউনিয়ন জানিয়েছে, রাজনৈতিক অনুদানে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কারণে তাদের সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
ইউনাইট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, ইউনিয়নের দেওয়া অনুদানকে দুই ক্রিপ্টো কোটিপতির দেওয়া ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের অনুদানের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
রিফর্ম ইউকের উপনেতা রিচার্ড টাইস অবশ্য লেবার সরকারের উদ্যোগকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, লেবার ও তাদের ইউনিয়ন সহযোগীরা জানে যে তারা ন্যায্যভাবে নির্বাচনে জিততে পারবে না। তাই তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তার দাবি, ইউনিয়নগুলোর অবস্থান কার্যকর হলে এমন একটি ‘দুই স্তরের ব্যবস্থা’ তৈরি হবে, যেখানে বড় অনুদান দেওয়ার সুযোগ মূলত ইউনিয়নগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রিফর্ম ইউকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে রাজনৈতিক অনুদান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগও সামনে এসেছে।
তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এসব দ্বীপের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তারা আরও শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত অর্থনীতি, নিজেদের জ্বালানি সম্পদের সম্প্রসারণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক জোরদার করতে চান।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পুরোনো আসন হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ওই উপনির্বাচনে লেবার পার্টির মুখোমুখি হচ্ছে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি। লেবার জয়ী হলে গ্রিন পার্টির দিকে চলে যাওয়া কিছু সমর্থক আবার লেবারের দিকে ফিরছে—এমন রাজনৈতিক বার্তা পাওয়া যাবে বলে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি।
এই উপনির্বাচনের ফলাফল সাধারণ নির্বাচন এগিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের কৌশলগত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অনুদানের বিতর্কে জিবি নিউজের উপস্থাপক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং লেবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘দুই স্তরের ভণ্ডামি’র অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি ২০২৪ সালে লেবার পার্টির পাওয়া একটি অনুদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত একটি হেজ ফান্ড থেকে লেবার অনুদান পেয়েছিল, যার বিপুল বিনিয়োগ অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে রয়েছে।
রিফর্ম ইউকের ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের অনুদানের পর সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদানে সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
লেবার মন্ত্রী জর্জিয়া গোল্ড অবশ্য বলেন, সংশ্লিষ্ট নিয়ম সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। তিনি দাবি করেন, রিফর্ম ইউকের অনুদান দেওয়া দুই ব্যক্তি ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি কর প্রদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে করপোরেশন ট্যাক্স দেওয়া হয়।
জর্জিয়া গোল্ড একই সঙ্গে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ‘বড় অর্থের’ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, রাজনীতিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থের পরিবর্তে ভোটার ও ব্রিটিশ নাগরিকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।
এদিকে অনুদানে সীমা আরোপের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা জেমস কার্টলিজ। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক অনুদানে সীমা আরোপ করা হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের পথ খুলে যেতে পারে।
তার দাবি, এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়নের জন্য শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপতে পারে।
জেমস কার্টলিজ বলেন, তার দল রাজনৈতিক অনুদানে ইচ্ছামতো সীমা আরোপ সমর্থন করে না। তার মতে, রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হওয়া উচিত স্বচ্ছতা।
রিফর্ম ইউকের বিপুল অনুদান, রাজনৈতিক অনুদানে সম্ভাব্য সীমা, ট্রেড ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে থাকা ৯ হাজার ব্রাজিলীয়কে দেশে ফেরাতে ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ প্রদান

ব্রিটেনে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা প্রায় ৯ হাজার ব্রাজিলীয় অভিবাসীকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দিয়েছে হোম অফিস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে ‘অ্যাসিস্টেড রিটার্নস স্কিম’-এর আওতায় মোট ২০ হাজার ৩৬৫ জনকে ব্রিটেন থেকে নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯০১ জনই ব্রাজিলের নাগরিক।
ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ব্যক্তি, ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী এবং ব্রিটেনে থাকার বৈধ অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভ্রমণ ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। গত ছয় মাসের অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচ ৪ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার জন্য একজনকে গড়ে ১ হাজার ৯৬৪ পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ডের সহায়তা সাধারণত পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
ব্রাজিলের পাশাপাশি সরকারি অর্থ সহায়তায় নিজ দেশে ফিরেছেন ৩ হাজার ৬২৯ জন ভারতীয়, ৭৪৬ জন কলম্বিয়ান এবং ৪৬৮ জন হন্ডুরান।
তবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের মধ্যে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাতজন ইরিত্রীয়, ১১ জন সুদানি, ১৪ জন আফগান, তিনজন সোমালি এবং ৭৭ জন ইরানি এই সহায়তা গ্রহণ করে দেশে ফিরেছেন।
দ্য সানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কনজারভেটিভ সরকারের শেষ দুই বছরের তুলনায় লেবার সরকারের সময়ে এই ধরনের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের হার প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ সরকারের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ব্রিটেন ছাড়ার জন্য অর্থ দেওয়া হলেও ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর মূল সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।
ক্রিস ফিলপ আরও দাবি করেন, ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের মাত্র ৭ শতাংশ হারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কনজারভেটিভ পার্টির প্রস্তাবিত নীতিতে অবৈধ অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্রিটেন ছাড়তে উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ সহায়তার একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছেন। প্রস্তাবটি এক সপ্তাহের জন্য কার্যকর এবং এতে সম্মত ব্যক্তিদের দেশে ফেরার বিমান টিকিটও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হোম অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরাকে উৎসাহিত করা হোটেল বা অন্যান্য আশ্রয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন রাখার কিংবা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর তুলনায় করদাতাদের জন্য বেশি সাশ্রয়ী।
হোম অফিস জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ে ব্রিটেনে থাকার কোনো বৈধ অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ছোট নৌকায় আসা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর হারও প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে সরকার।
হোম অফিসের হিসাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ব্রিটেন থেকে ফেরত পাঠাতে প্রায় ৪৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দিলে সেই ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং ব্যক্তিকে দেশে পৌঁছে দিতে সীমান্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তিন সদস্যের একটি অভিবাসী পরিবারকে আশ্রয় আবাসনে রাখার জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার পাউন্ড খরচ হতে পারে। সেই তুলনায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ডের স্বেচ্ছা-প্রত্যাবর্তন সহায়তা অনেক কম ব্যয়ের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ডের অর্থ সহায়তা সাধারণ যৌথ আবাসন ব্যবস্থায় একজন অভিবাসীর প্রায় তিন মাসের খরচের সমান।
হোম অফিস জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য দেওয়া অর্থ ব্রিটেন ছাড়ার পর প্রি-পেইড ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
তবে এই ‘অ্যাসিস্টেড রিটার্নস স্কিম’ এবং কারাগার থেকে বিদেশি অপরাধীদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ‘ফ্যাসিলিটেটেড রিটার্নস স্কিম’ দুটি পৃথক কর্মসূচি।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে
Categories
বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতে বড় সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়া

বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি অবকাঠামো ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বের তিন প্রভাবশালী শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদাকে কেন্দ্র করে এই তিন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নোভাটেক বাংলাদেশে এলএনজি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য গ্র্যাভিটি-বেজড স্ট্রাকচার বা জিবিএস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট গ্রুপ। এর বাইরে মহেশখালীতে আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার আগ্রহের পেছনে দেশের জ্বালানি চাহিদা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানও বড় ভূমিকা রাখছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিসরের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান যুক্ত।

এ অঞ্চলের সমুদ্রপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনার কারণে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বও বাড়ছে। বিশেষ করে মালাক্কা প্রণালীনির্ভর জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প রুট এবং বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা বড় শক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়িয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের বৈঠকেও এলএনজি প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের এলএনজি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। নীতিগত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের দিকে এগোচ্ছে। ফলে সামনে দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো নিয়ে তিন পরাশক্তির আগ্রহ দেশের জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুবিধা পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা। পাশাপাশি কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি না করে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা।

সূত্রঃ এশিয়ানিউজ নেটওয়ার্ক

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে এআইনির্ভর ভুয়া খবরের নেটওয়ার্ক শনাক্তঃ লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাংলা ভাষায় ভুয়া খবর তৈরি ও প্রচারের একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রায় স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে বন্ধ করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির সেপ্টেম্বরের ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে’ এই কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের তদন্ত অনুযায়ী, নেটওয়ার্কটির লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো এবং দলটির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও আক্রমণাত্মক কনটেন্ট ছড়ানো। এসব কনটেন্ট তৈরিতে অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল ক্লড ব্যবহার করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার একজন ব্যক্তি পুরো কার্যক্রমটি পরিচালনা করছিলেন। প্ল্যাটফর্মের সীমাবদ্ধতা ও শনাক্তকরণ এড়াতে তিনি প্রায় ১৬ মাসে মোট ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন।

ওই ব্যক্তি ‘ফেইক নিউজ থ্রি ডট পাই’ নামে একটি নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করেছিলেন। সফটওয়্যারটি ক্লডের এপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট কাঠামোয় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কনটেন্ট তৈরি করতে পারত। প্রতিটি ব্যাচে থাকত ১৫টি বাংলা শিরোনাম, তিনটি বিস্তারিত ভুয়া সংবাদ এবং ছবি তৈরির জন্য ১৫টি প্রম্পট।

অ্যানথ্রপিকের হিসাবে, এই কার্যক্রমে অন্তত দেড় হাজার শিরোনাম, ৩০০টি মিথ্যা ঘটনার বর্ণনা এবং ছবি তৈরির জন্য দেড় হাজার প্রম্পট তৈরি করা হয়েছে। ক্লডে তখনও ছবি তৈরির সুবিধা না থাকায় এসব প্রম্পট অন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তৈরি করা কনটেন্টগুলোকে অডিও ও ভিডিওতে রূপান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। এ জন্য আলাদা স্বয়ংক্রিয় স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা হতো। ইউটিউবের এপিআই ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেক ভিডিও প্রকাশ এবং আগেই প্রকাশের সময় নির্ধারণ করার ব্যবস্থাও ছিল।

অ্যানথ্রপিক বলছে, ভিডিওগুলো ইউটিউবের পাশাপাশি ফেসবুক লাইভ ও টিকটক লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কনটেন্টগুলো বিশেষভাবে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

কার্যক্রমটির পরিচালনাকারী অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে তৈরি কনটেন্টকে নিজেই ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব খবরকে ‘গরম ও আক্রমণাত্মক’ করে তোলার পাশাপাশি এমন সহজ ভাষায় লেখার কথা বলা হয়েছিল, যাতে গ্রামের মানুষও সহজে বুঝতে পারে।

নেটওয়ার্কটির তৈরি কনটেন্টে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক কমিটি—যা বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি নামে পরিচিত—অন্তর্বর্তী সরকার এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের লক্ষ্য করা হয়।

এসব কনটেন্টে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিদেশি এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করা এবং তাদের বিরুদ্ধে তালেবানধাঁচের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করার মতো অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে বলে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে। কিছু কনটেন্টে হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিশেষ হামলা দল তৈরির মতো কাল্পনিক ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছিল।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্র নেতাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করাও এই প্রচারণার অন্যতম কৌশল ছিল। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতি এবং গোপন রাজনৈতিক জোটের মতো অভিযোগও তৈরি করা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের তদন্তে নেটওয়ার্কটির কিছু কনটেন্টে ভারতের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কথাও উঠে এসেছে।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কটি শনাক্ত করার পর এর সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে একই ধরনের কার্যক্রম আবার শুরু করার চেষ্টা করতে পারেন।

এ কারণে একই ধরনের আচরণগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার জন্য নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একই নেটওয়ার্ক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কার্যক্রম পুনরায় চালানোর চেষ্টা করলে তা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।

অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়নে এই কার্যক্রমকে ‘ক্যাটেগরি থ্রি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর অর্থ, একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক চ্যানেল ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক কনটেন্ট ছড়ানোর কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।

তবে তদন্তে উৎপাদিত সব কনটেন্ট কোন কোন নির্দিষ্ট চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছিল, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বাইরে এসব কনটেন্ট ব্যাপকসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছেছিল—এমন প্রমাণও অ্যানথ্রপিক পায়নি।

প্রতিবেদনটি এমন একটি সময়ের চিত্র তুলে ধরেছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ রাজনৈতিক কনটেন্ট অল্প মানব তদারকিতে তৈরি, সম্পাদনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়া এই নেটওয়ার্কে সংবাদ তৈরির পাশাপাশি ছবি, অডিও ও ভিডিও উৎপাদন এবং প্রকাশের প্রক্রিয়াও স্বয়ংক্রিয় করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

সূত্রঃ অ্যানথ্রপিকের সেপ্টেম্বর ২০২৬ ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট’;

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

লোনা পানির ইলিশ সিলেটের মিঠাপানির হাওরেঃ হাকালুকিতে এবার বড় চমক

লোনা পানির ইলিশ এখন সিলেটের মিঠাপানির হাওরে। এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে পরিচিত হাকালুকি হাওরে এবার জেলেদের জালে অন্য বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। হাওরে ইলিশের এমন উপস্থিতিতে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

হাকালুকি হাওরে আগেও বিচ্ছিন্নভাবে ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক বছরের তুলনায় এবার ইলিশের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে হাওরটিতে তুলনামূলক বেশি ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর কয়েক বছর তেমন দেখা না গেলেও চলতি মৌসুমে আবারও জেলেদের জালে ইলিশ উঠছে।

সম্প্রতি কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় হাওর থেকে মাছ নিয়ে বসা কয়েকজন জেলের কাছে দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে ইলিশও দেখা গেছে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও এসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. উমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে কয়েকজন মিলে হাওরে বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। কয়েকবার জাল টানার পর তাদের জালে ইলিশ ধরা পড়ে। তাদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে হাওরের বিভিন্ন জেলের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগ রয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর হাওরে ছোট আকারের দুই থেকে চারটি ইলিশ ধরা পড়লেও এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি পরিমাণে ধরা পড়ছে।

মৎস্য বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের সময় হাকালুকি হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মায় গিয়ে মেশে। এ সময় ইলিশ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে চলাচল করতে গিয়ে হাকালুকি হাওরে প্রবেশ করে। ফলে আগাম বন্যার সময় হাওরটিতে ইলিশের উপস্থিতি দেখা যায়।

তার মতে, নদ-নদী ও হাওরের মধ্যে পানির প্রবাহ ও সংযোগের কারণে মিঠাপানির জলাভূমিতেও ইলিশের বিচরণ সম্ভব হচ্ছে। হাকালুকি হাওরে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইলিশের উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাকালুকি হাওর মূলত মিঠাপানির জলাভূমি হলেও নদীর সঙ্গে এর সংযোগ থাকায় সেখানে ইলিশের প্রবেশ নতুন করে স্থানীয়দের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে হাওরের বিভিন্ন স্থানে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় বাজারেও এখন মিলছে সাগরের এই রুপালি মাছ।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে