Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ভাঙছে ব্রিটেনঃ স্বাধীনতার প্রশ্নে একজোট স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড

যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদ এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লক্ষ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের পক্ষ থেকে একটি যৌথ ঘোষণায় সই হতে পারে। এতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের সুযোগের দাবি তুলে ধরা হতে পারে।

বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতি বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তার মতে, যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সম্ভাব্য ভবিষ্যতের জন্য ওয়েস্টমিনস্টারকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

কার্ডিফের বৈঠককে স্বাধীনতার পথে একটি ‘নতুন শুরু’ হিসেবে দেখছেন বলেও জানিয়েছেন সুইনি।

এদিকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে আবারও গণভোট আয়োজনের দাবি জোরালো হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডে নতুন করে স্বাধীনতা গণভোট আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই। তার দাবি, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে বর্তমানে কোনো স্পষ্ট জনসম্মতি নেই।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যুক্তরাজ্য ছেড়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দিলে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।

সিন ফেইন মনে করছে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। দলটি দীর্ঘদিন ধরে আয়ারল্যান্ডের দ্বীপে রাজনৈতিক ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

কার্ডিফের বৈঠকে অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চারটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে তিন পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে অবস্থান করছে। যুক্তরাজ্য বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়।

ওয়েলসের প্লেইড কামরু সরকারও ওয়েলসের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এর মধ্যে কর ও সরকারি ব্যয়ের পাশাপাশি পুলিশ, রেল ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক অফশোর উইন্ড ফার্ম থেকে উৎপাদিত জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট রাজস্বের একটি অংশ ওয়েলসের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি রয়েছে।

কার্ডিফের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে তিনি ‘খুবই আগ্রহী’। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটিকে তিনি ‘দারুণ ব্যাপার’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

তবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুড ফ্রাইডে চুক্তির বিধান এবং সেখানকার জনগণের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নেও যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান ও সম্ভাব্য গণভোটের আইনি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কার্ডিফের বৈঠকে তিন দেশের নেতাদের একসঙ্গে বসা যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং ওয়েলসের অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে একই আলোচনার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মদিনায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পেয়েছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন বা ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। একই খনিজ ভাণ্ডারে উচ্চ ঘনত্বের ভারী বিরল খনিজের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান ১৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
সৌদি সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইয়িদ প্রকল্পে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই খনিজসম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল খনিজ, বিশেষ করে ভারী বিরল খনিজ উপাদানের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ইউরেনিয়াম থাকার সম্ভাবনা শনাক্ত হয়েছে। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী এটিকে বিশ্বের উন্নয়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজসম্পদ প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ১১ কোটি টনকে খাঁটি ইউরেনিয়ামের পরিমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজসমৃদ্ধ আকরিকের মোট পরিমাণ। আকরিকের মধ্যে ইউরেনিয়ামের প্রকৃত ঘনত্ব কত এবং বাণিজ্যিকভাবে এর কতটা উত্তোলন করা সম্ভব—সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিমাণ এখনো প্রকাশ করেনি। ফলে আবিষ্কৃত ১১ কোটি টন আকরিকের পুরোটাই ব্যবহারযোগ্য ইউরেনিয়াম নয়।
আইএইএর তথ্যেও জাবাল সাইয়িদকে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালের আইএইএ-ওইসিডি নিউক্লিয়ার এনার্জি এজেন্সির যৌথ প্রতিবেদনে জাবাল সাইয়িদ এলাকায় ৩৪ মিলিয়ন টন ‘ইনফার্ড’ ইউরেনিয়ামসম্পদ এবং গড়ে প্রতি মিলিয়নে ৪১৫ অংশ ইউরেনিয়াম গ্রেডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল।
নতুন আবিষ্কারের ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন সৌদি আরব তার জ্বালানি ও খনিজ খাতকে আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বহুমুখী করার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় খনিজসম্পদ উন্নয়ন ও পারমাণবিক শক্তিকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে দেশে ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সৌদি আরব তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে বেসামরিক উদ্দেশ্যে এগিয়ে নিতে চায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারের জন্য ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও ইউরেনিয়ামসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে সৌদি আরবে পারমাণবিক চুল্লি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাআদিনও বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামসম্পদ উন্নয়নের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমপি ম্যাটেরিয়ালসের সঙ্গে মাআদিনের অংশীদারত্বের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ইউরেনিয়াম উৎপাদনের সক্ষমতা উন্নয়ন।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আইএইএ সম্মেলনে বলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হবে না। সৌদি আরব একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে চায়, যার উদ্দেশ্য হবে বেসামরিক ব্যবহার।
জাবাল সাইয়িদে পাওয়া এই আকরিক ভবিষ্যতে সৌদি আরবের খনিজ ও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আকরিকের প্রকৃত ইউরেনিয়াম ঘনত্ব, উত্তোলনযোগ্য মজুত, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটা সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব—এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই আবিষ্কার সৌদি আরবের খনিজসম্পদ উন্নয়ন এবং বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশটি একই সঙ্গে বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামসম্পদকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ জ্বালানি ও শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স / দ্য ন্যাশনাল আরব নিউজ
এম.কে
Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিসের কাছে ৭৭ অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১ঃ নিখোঁজ ২৫

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের দক্ষিণে গাভদোস দ্বীপের কাছে ৭৭ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিসের কোস্টগার্ড সমুদ্র থেকে ৫১ জনকে উদ্ধার করেছে। কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র জানান, ওই এলাকায় থাকা দুটি নৌযান থেকে ৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, নৌকাটি ডুবে যাওয়ার সময় এতে মোট ৭৭ জন ছিলেন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ ২৫ জনের সন্ধানে বড় ধরনের অভিযান শুরু করা হয়েছে।

গ্রিসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইআরটি নিউজ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে চারটি জাহাজ ও নৌযান, ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি উড়োজাহাজ এবং গ্রিসের কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছে। তবে ওই এলাকায় শক্তিশালী বাতাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া ৫১ জনকে ক্রিটে নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তাদের জন্য নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে ইআরটি জানিয়েছে।

ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপ লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দ্বীপ উত্তর আফ্রিকা থেকে গ্রিসে প্রবেশের ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে।

গ্রিসের সংবাদ সংস্থা এএনএ-এর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের আগমন প্রায় ৩১ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ গ্রিসে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তী ১২ মাসে এই সংখ্যা কমে প্রায় ৪২ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ে গ্রিসের রক্ষণশীল সরকার উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের জন্য তিন মাসের জন্য আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত করে। গ্রিস সরকার জানিয়েছিল, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ক্রিটে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন বেড়ে যাওয়ার পর এবং অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে লিবিয়ার বেনগাজিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ জুলাইয়ে বাতিল হওয়ার পর গ্রিসের পার্লামেন্ট এই ব্যবস্থা অনুমোদন করে।

অন্যদিকে ক্রিটে একটি স্থায়ী ট্রানজিট কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে গ্রিসের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্বীপটির আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ রয়েছে।

গ্রিসে নতুন একটি আইনের খসড়াও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া ব্যক্তিদের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বহিষ্কারের আগে ৩০ দিনের নিয়ম মেনে চলার সময় তাদের পায়ে ইলেকট্রনিক নজরদারি ডিভাইস বা অ্যাঙ্কল মনিটর ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে অভিবাসীদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে গ্রিস আলোচনা করছে।

গ্রিসে সমুদ্রপথে পৌঁছানো অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সাধারণত তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। পরে তাদের অস্থায়ী হেফাজতে রাখার পর গ্রিসের মূল ভূখণ্ডের বন্ধ আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

নতুন নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ২৫ জনের সন্ধানে গ্রিসের কোস্টগার্ড, ফ্রন্টেক্স ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

কঠিন শীতের আশঙ্কা ব্রিটেনেঃ বন্যা-বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও রুশ নাশকতার পূর্বাভাস

যুক্তরাজ্যে আসন্ন শীতের মাসগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও মিডিয়াম ক্রেইগ হ্যামিলটন-পার্কার। তার অনুসারীদের অনেকে তাকে ‘নিউ নস্ত্রাদামুস’ নামে অভিহিত করেন। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ঘটনা নয়।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামিলটন-পার্কার তার ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক আলোচনায় ব্রিটেনে সম্ভাব্য কঠিন শীত এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেন। সেখানে তিনি বলেন, আবহাওয়া বর্তমানে ‘চরম অবস্থার মধ্যে’ রয়েছে এবং শীতকালে এর বিপরীতধর্মী পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

তার দাবি, ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি বছরটিকে রেকর্ড উষ্ণ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এবং তার মতে সেটি ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৭ সালের গ্রীষ্মও অত্যন্ত উষ্ণ হওয়ার পূর্বাভাস দেন। তবে শীতের মাসগুলোতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

হ্যামিলটন-পার্কারের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটেন ও ইউরোপে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা দেখা দিতে পারে এবং এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার মতে, ব্রিটেন এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

তবে ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার বিষয়ে তার কিছু আশঙ্কার সঙ্গে আবহাওয়া সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের মিল রয়েছে। ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিসের সর্বশেষ তিন মাসের পূর্বাভাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল শরৎ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেট অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ ইয়ান লিস্ক বলেছেন, এল নিনোর প্রভাবে শরৎ যত এগোবে, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সময়ে মৌসুমের পরবর্তী পর্যায়ে ঝোড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু আবহাওয়া নয়, ব্রিটেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছেন হ্যামিলটন-পার্কার। ইউক্রেনকে ব্রিটেনের সমর্থনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম বলে মনে করলেও তিনি নাশকতা বা অন্য ধরনের গোপন তৎপরতার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তার দাবি, ব্রিটেনে রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ধরনের ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ ঘটতে পারে। এমনকি কোনো বড় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা অথবা কোনো সুপারমার্কেটে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি পূর্বাভাস দেন। তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং এগুলো তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগও রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ভেরিনিয়া কোদ্রিয়ান এলবিসিকে বলেন, রাশিয়ার গুপ্তচর জাহাজগুলো ব্রিটেন ও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগের কাছাকাছি তৎপরতা চালানোর বিষয়ে খবর পাওয়া গেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্বেগের বিষয় শুধু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে রুশ জাহাজের উপস্থিতি নয়; বরং এসব অবকাঠামো কীভাবে অকার্যকর করা যায়, তা নিয়ে মহড়ার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও হ্যামিলটন-পার্কার একটি বড় ধরনের সংঘাতের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে শিগগিরই আবার বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তিনি মনে করেন, আগের হামলায় সব লক্ষ্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হয়ে থাকতে পারে।

তার মতে, পাহাড়ের নিচে নির্মিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে একাধিক হামলার প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি এসব স্থাপনা অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্রের হামলাও সহ্য করতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্যও তার ব্যক্তিগত পূর্বাভাস ও দাবি; প্রতিবেদনে এগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি।

ব্রিটেনে আগামী মাসগুলোতে আবহাওয়া, অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আশঙ্কা সামনে এলেও কোন পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও সরকারি-বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ওপর।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে রাত কাটালেই দিতে হবে পর্যটন করঃ ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে হার

ইংল্যান্ডে হোটেল, গেস্টহাউস, বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট ও এয়ারবিএনবিসহ বাণিজ্যিক আবাসনে রাত কাটানো পর্যটকদের ওপর স্থানীয় পর্যটন কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে আঞ্চলিক মেয়র ও স্থানীয় নেতাদের। এই কর থেকে সংগৃহীত অর্থ স্থানীয় পরিবহন, অবকাঠামো, সাংস্কৃতিক সম্পদ, নগর পুনর্গঠন এবং টেকসই পর্যটন খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ইংল্যান্ডের কোনো অঞ্চল চাইলে রাতযাপনের আবাসন খরচের ওপর নির্দিষ্ট হারে পর্যটন কর বা ‘ভিজিটর লেভি’ আরোপ করতে পারবে। তবে এটি দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক কোনো কর হবে না। সংশ্লিষ্ট মেয়র ও কৌশলগত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের এলাকার প্রয়োজন বিবেচনা করে এটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় করটি প্রতি রাতের আবাসন খরচের একটি শতাংশ হিসেবে নেওয়া হবে। ফলে নির্দিষ্ট অঙ্কের করের পরিবর্তে কেউ যে পরিমাণ অর্থ আবাসনের জন্য ব্যয় করবেন, তার ভিত্তিতে করের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। সরকারের প্রত্যাশা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে করের হার ৫ শতাংশের কাছাকাছি বা এর নিচে থাকবে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান নতুন ক্ষমতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, লন্ডনে পর্যটন কর চালু করা হলে এর হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। রাজধানীতে এই কর পর্যটন খাত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নতুন করের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের রাতযাপনের ব্যবস্থা আসবে। হোটেলের পাশাপাশি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, গেস্টহাউস এবং এয়ারবিএনবির মতো স্বল্পমেয়াদি হলিডে রেন্টালও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যটন কর থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, শহর ও এলাকার পুনর্গঠন এবং পর্যটনকে আরও টেকসই করার মতো খাতে এই অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

তবে ইংল্যান্ডের সব এলাকায় একইভাবে এই কর চালু হবে না। নতুন ক্ষমতা পাওয়ার পর স্থানীয় মেয়র ও কর্তৃপক্ষকে নিজেদের অঞ্চলে পর্যটন কর প্রয়োজন কি না এবং চালু করলে কী হারে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

লেবার দলের কয়েকজন মেয়র ইতোমধ্যে পর্যটন করের হার ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে কিছু স্থানীয় নেতা নতুন ব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন এবং কেউ কেউ নিজেদের এলাকায় এই কর চালু না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডে নতুন এই ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো পার্লামেন্টের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর স্থানীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় কর চালুর বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারবেন।

যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশে পর্যটকদের ওপর এ ধরনের স্থানীয় লেভি আরোপের ব্যবস্থা রয়েছে। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছ থেকে ভিজিটর লেভি আদায়ের ক্ষমতা পেয়েছে। ইংল্যান্ডে নতুন ক্ষমতা কার্যকর হলে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। পর্যটনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে স্থানীয় পরিবহন, জনসেবা ও অবকাঠামোর ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সংগৃহীত অর্থ সেই খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য।

তবে পর্যটন শিল্পের ওপর নতুন করের প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে করের হার নির্ধারণের সময় পর্যটন খাতের প্রতিযোগিতা, ব্যবসা এবং দর্শনার্থীদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থার ফলে ইংল্যান্ডে রাতযাপনের জন্য হোটেল বা অন্যান্য বাণিজ্যিক আবাসন ব্যবহারকারী পর্যটকদের আবাসন বিলের সঙ্গে স্থানীয় পর্যটন কর যুক্ত হতে পারে। তবে কোনো এলাকায় এই কর চালু না হলে সেখানে রাতযাপনের ক্ষেত্রে এ ধরনের স্থানীয় লেভি দিতে হবে না।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

উত্তম চরিত্র, আমানতদারি, সত্যবাদিতা ও মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। একই সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ এবং যুবসমাজকে দ্বীনের পথে পরিচালনায় সংগঠনের সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দারুল হাদীস লাতিফিয়ার হলে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের সাধারণ সভা ও কাউন্সিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের বিভিন্ন শাখার বিপুলসংখ্যক সদস্য ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সভাপতি হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সভাপতি হযরত মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম. এ. কাদির আল হাসান, কোষাধ্যক্ষ হাজী আবদুস সালাম এবং কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য কাউন্সিলর দেলওয়ার আলী।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিভিশনের সভাপতি হাফিজ মাওলানা কয়েছ উজ জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি মাওলানা এম. এ. কুদ্দুছ।
সাধারণ সভার শুরুতে ডিভিশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সদরুল ইসলাম বিগত মেয়াদের সাংগঠনিক ও দাওয়াতি কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রম এবং আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তারা সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাধারণ সভার আগে গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শাখার ডেলিগেটদের অংশগ্রহণে ২০২৬ থেকে ২০২৯ মেয়াদের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এম. এ. কাদির আল হাসান এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন হাজী আবদুস সালাম। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী, জনাব বদরুল ইসলাম ও মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী।
কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে মাওলানা মো. আবদুল কাহহারকে সভাপতি, মো. সদরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাওলানা মো. মুসলেহ উদ্দিনকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন মাওলানা মো. আবদুল কুদ্দুছ, মো. বজলুর রহমান ও মো. নজরুল ইসলাম গজনভী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কাউন্সিলর মো. সাঈদ আহমদ।
মাওলানা মুজতবা হাসান চৌধুরী নুমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মাওলানা মাসুম আহমদকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মাওলানা আবুল হাসানকে শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক, কাউন্সিলর মাওলানা ফয়সাল আহমদকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সম্পাদক, দেলওয়ার হুসাইনকে সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং কারি সুফিয়ান বিল্লাহকে মেম্বারশিপ সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মো. আমজাদ হুসাইন, মো. আবদুস শহীদ ও মো. দিলওয়ার হুসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, একজন প্রকৃত সদস্যকে সর্বাগ্রে উত্তম চরিত্রের অধিকারী, আমানতদার, সত্যবাদী ও মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। শুধু সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; নিজের আমল-আখলাকের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি সদস্যদের হালাল খাদ্য ও হালাল উপার্জনের প্রতি যত্নশীল হওয়া, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করা এবং মানুষের কাছে ইসলামের সত্য ও সুন্দর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাজে মানুষের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বিবাদ সৃষ্টি হলে একজন দাঈর দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, উত্তেজনা বৃদ্ধি না করে ন্যায়, প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শান্তি ও মীমাংসা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। দাওয়াত হতে হবে ভালোবাসা, হিকমত ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে।
যুবসমাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ জাতি ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ। তাই তরুণদের দ্বীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, তাদের সঠিক ইসলামী শিক্ষা দেওয়া এবং নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন দাঈ ও আদর্শবান মুসলিম হিসেবে সমাজে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সভাপতি হযরত মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এম. এ. কাদির আল হাসান, কোষাধ্যক্ষ হাজী আবদুস সালাম এবং কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য কাউন্সিলর দেলওয়ার আলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকের সভাপতি মাওলানা শেহাব উদ্দীন, আল ইসলাহ ইউকের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী, মো. বদরুল ইসলাম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মো. আবদুল কাহহার এবং সেন্ট্রাল কাউন্সিল সদস্য মাওলানা আবদুল আউয়াল হেলাল।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাওলানা মো. আবদুল জলিল, মাওলানা আবদুল বাছির, মাওলানা আবুল হাসান, হাফিজ আসাদ উদ্দিন, মো. রফিকুল ইসলাম, নূর হুসাইন ও কারি আবদুল মুহিতসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারি আবদুল মুহিত। পরে আহমেদ নিয়াজ নাশিদ পরিবেশন করেন।
বক্তারা আনজুমানে আল ইসলাহর দাওয়াতি ও সামাজিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় গ্রেটার লন্ডন ডিভিশনের বিভিন্ন শাখা থেকে বিপুলসংখ্যক সদস্য ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বক্তারা আগামী মেয়াদে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার লন্ডন ডিভিশন ইসলামের শান্তি, সৌন্দর্য ও আদর্শ প্রচারের পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে গ্রিন পার্টির মতিন আলীর আবাসননীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

ব্রিটেনের গ্রিন পার্টির বেসরকারি বাড়িওয়ালাবিরোধী নীতি নিয়ে দলের কো-ডেপুটি লিডার মতিন আলীকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রিন পার্টি বেসরকারি বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা বিলোপের পক্ষে অবস্থান নিলেও মতিন আলীর একটি কোম্পানির নামে ভাড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তি রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিন পার্টি গত বছর ‘অ্যাবোলিশ ল্যান্ডলর্ডস’ বা ‘বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা বিলোপ’ শিরোনামে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সেখানে বেসরকারি বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা এবং বেসরকারি ভাড়া আবাসন খাত কার্যকরভাবে বিলুপ্ত করে ব্যাপক পরিসরে কাউন্সিল হাউজিং নির্মাণকে ব্রিটেনের আবাসন সংকট মোকাবিলার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মতিন আলী ‘এমএ হোল্ডিংস’ নামে একটি কোম্পানির একমাত্র পরিচালক। কোম্পানিটির আওতায় দুটি আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পত্তি বাই-টু-লেট মর্টগেজের মাধ্যমে কেনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কোম্পানিজ হাউজেসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমএ হোল্ডিংসের ব্যবসার প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি কেনাবেচা, নিজস্ব বা লিজ নেওয়া সম্পত্তি ভাড়া দেওয়া এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিডসের দুটি সম্পত্তির একটি ২০২২ সালের জুনে এবং অন্যটি ২০২৫ সালের মার্চে কেনা হয়। তবে গ্রিন পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্পত্তিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্বল অবস্থায় থাকা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য এবং মতিন আলী এগুলো থেকে ব্যক্তিগতভাবে মুনাফা করছেন—এমন কোনো তথ্য নেই।

মতিন আলী এর আগে জানিয়েছেন, তিনি গ্রিন পার্টির নীতিকে সমর্থন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলো দলটি বেসরকারি বাড়িওয়ালা ব্যবস্থা বিলোপের নীতি গ্রহণের আগেই কেনা হয়েছিল।

এদিকে গ্রিন পার্টির আরেক কো-ডেপুটি লিডার র‌্যাচেল মিলওয়ার্ডের স্বামীও একজন বেসরকারি বাড়িওয়ালা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মিলওয়ার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সম্পত্তির মালিকানা বা আর্থিক সুবিধার সঙ্গে তার নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে গ্রিন পার্টির পাশাপাশি ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক নীতি ও ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি স্কুলের ফিতে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের নীতিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন লেবার রাজনীতিকের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলের ফিতে ভ্যাট আরোপের ফলে কয়েকটি স্কুল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক চাকরি হারানো এবং রাষ্ট্রীয় স্কুল ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

লেবার এমপি লুইস হেইগ ওই নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজে শেফিল্ড হাই স্কুলের মতো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টারের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের এনার্জি সেক্রেটারি মিয়াটা ফানবুলে অবশ্য সন্তানদের স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পছন্দের অধিকার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া লেবার এমপি ডায়ান অ্যাবট ২০০৩ সালে তার ছেলেকে বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবাসন সংকট, বেসরকারি ভাড়া খাত এবং কাউন্সিল হাউজিং নিয়ে গ্রিন পার্টির অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। সাম্প্রতিক বিতর্কে দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা ও দলের ঘোষিত নীতির মধ্যে সামঞ্জস্যের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস\ দ্য টেলিগ্রাফ \ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গাজা হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিজ দেশের নির্মাতাদেরই তথ্যচিত্র

ইসরায়েলের গাজা অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নির্মিত ইসরায়েলি তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর তথ্যচিত্রটি প্রায় ২৫ মিনিটের দাঁড়িয়ে করতালি পায় এবং বিশেষ জুরি পুরস্কারও অর্জন করে। তবে তথ্যচিত্রে উঠে আসা অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ।

ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর পরিচালিত ‘নাজা’ তথ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন সাবেক বা বর্তমান সদস্যের বেনামি সাক্ষাৎকার ব্যবহার করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতারা গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি করেছেন। তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

তথ্যচিত্রটির অন্যতম অভিযোগ হলো, গাজায় সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য শনাক্ত করতে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়িত ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল। চলচ্চিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের দাবি অনুযায়ী, গাজার যোগাযোগব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হতো এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারত।

তথ্যচিত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বাড়িতে বেসামরিক মানুষ থাকার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। সাক্ষাৎকারদাতাদের বর্ণনায় সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াকে এমন একটি ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে দূর থেকে প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হামলা পরিচালিত হয়।

তথ্যচিত্রে সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর একটি হলো—একজন হামাস সদস্যকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি হামলায় সম্ভাব্য ৫০০ জন মানুষের মৃত্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে এক সাক্ষাৎকারদাতা দাবি করেন। তবে এই নির্দিষ্ট অভিযোগকে আইডিএফ সরাসরি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আইডিএফ জানিয়েছে, এমন কোনো হামলার পরিকল্পনা, অনুমোদন বা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

আইডিএফের বক্তব্য, তথ্যচিত্রটি এমন বেনামি ব্যক্তিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছে, যাদের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব নয়। তারা আদৌ আইডিএফে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না, করলে কী পদে ছিলেন এবং যেসব বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলোর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয়ও নিশ্চিত করা যায়নি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

ইসরায়েলি বাহিনী আরও বলেছে, হামলার লক্ষ্য নির্বাচন এবং হামলার অনুমোদনের সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেয় না। এসব সিদ্ধান্ত মানব কর্মকর্তারাই আইডিএফের নির্দেশনা ও সামরিক নিয়ম অনুসারে নিয়ে থাকেন। আইডিএফের দাবি, তারা আন্তর্জাতিক আইন ও সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনে অভিযান পরিচালনা করে এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেয়।

অন্যদিকে তথ্যচিত্রটির নির্মাতাদের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারদাতাদের বর্ণনায় গাজায় সামরিক প্রযুক্তি ও লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এমন একটি ব্যবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন যেখানে বেসামরিক প্রাণহানি সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো বলে তারা দাবি করেন।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনীর পর দর্শকদের দীর্ঘস্থায়ী করতালি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে উৎসবটির অন্যতম আলোচিত প্রদর্শনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যচিত্রটি পরে বিশেষ জুরি পুরস্কারও লাভ করে।

তথ্যচিত্রটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ তুলেছেন এবং তাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মিকি জোহার অভিযোগ করেছেন, দুই নির্মাতা আন্তর্জাতিক প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন। তিনি তাদের কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

তবে নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোহার সংশ্লিষ্ট আইন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়টি পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছেন।

এদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও তথ্যচিত্রটির সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রক্তের অপবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, অভিযোগগুলো ইসরায়েলি নির্মাতাদের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে তিনি গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু যে মর্মান্তিক, সেটিও উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তথ্যচিত্রটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে মূলত এর অভ্যন্তরীণ সূত্র ও ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের কারণে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যচিত্রটি গাজা অভিযানে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

ফলে ‘নাজা’কে ঘিরে একদিকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পদ্ধতি ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে আইডিএফ এসব অভিযোগের সত্যতা ও তথ্যচিত্রটির সূত্র নিয়ে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার ও ব্যাপক দর্শক প্রতিক্রিয়ার পর বিষয়টি এখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ টাইমস অব ইসরায়েল \ এপি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

কলকাতা পুলিশে মুসলিম কর্মীদের দাড়ি রাখায় নিষেধাজ্ঞা জারি বিজেপি সরকারের

কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মী ও হোমগার্ডদের দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাহিনীর সদর দপ্তর লালবাজার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা একটি মেমোতে প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম আজকালের প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে।

লালবাজারের ওই মেমো অনুযায়ী, বিভিন্ন পদমর্যাদার মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী ও হোমগার্ড দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীদের নাম, পদমর্যাদা এবং বর্তমান কর্মস্থলের তালিকাও মেমোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। আবেদনকারীরা কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাকের একরূপতা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কলকাতা পুলিশের প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে দাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আবেদনকারীদের একটি অংশ ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তাদের আবেদন নাকচ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া এবং প্রচলিত বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দাড়ি রাখা নিয়ে কলকাতা পুলিশের এমন বিধিনিষেধের একটি পুরোনো নজিরও রয়েছে। ২০০২ সালে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং আকরামকে দাড়ি কামানো বা ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দেন। আকরাম সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয় এবং ৫ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে Police Regulation of Bengal, 1943-এর Rule 684(A) প্রয়োগ করা হয়েছিল।

Telegraph India-এর প্রতিবেদনে আকরামের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, হজ থেকে ফেরার পর তিনি দাড়ি রাখছিলেন এবং এর আগে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে দায়িত্ব পালন করলেও কেউ তাকে দাড়ি কাটার নির্দেশ দেননি।

২০০২ সালের ওই ঘটনাকে ঘিরে সে সময় সংখ্যালঘু পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখার অধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। একই সময় আটজন মুসলিম পুলিশ সদস্য সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে তাদের দীর্ঘ দাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সূত্রঃ টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া \ আজকাল

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতে গরুর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় যুবকঃ মামলা ও গ্রেফতার

ভারতের গুজরাটের রাজকোট জেলায় দুই বছর বয়সী একটি গরুর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম কানুভাই গোন্ডালিয়া। তিনি রাজকোট জেলার বাসিন্দা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় গবাদিপশু পালনকারী মেরখিভাই চাভদার বাড়ি থেকে তার গরুটি বের হয়ে যায়। পরে গরুটির সন্ধানে বের হন তিনি।

খোঁজ করতে গিয়ে শ্মশানঘাটের কাছে চাভদা অভিযুক্ত গোন্ডালিয়াকে গরুটির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে দেখতে পাওয়ার পর গোন্ডালিয়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা আরেক স্থানীয় বাসিন্দা পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পরে গরুটির মালিক চাভদা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন, ১৯৬০-এর ১১(১)(এ) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়।

অভিযোগের পর পুলিশ কানুভাই গোন্ডালিয়াকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে

এম.কে