Categories
বাংলাদেশ

জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধঃ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড, অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই রায়ে তাদের মধ্যে পাঁচজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হবে। পরে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে চার আসামির ঘোষিত সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ওবায়দুল কাদেরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা অর্থ, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ড, সঞ্চয়পত্র, গাড়ি, সোনা ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের নামে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য হলফনামায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, গাড়ি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। এসব অস্থাবর সম্পদের ঘোষিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষিজমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টসহ স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ, এফডিআর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, যানবাহন, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে। প্রতিবেদনে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ ফজলে শামস পরশ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তার নির্বাচনী হলফনামার ভিত্তিতে সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইত্তেফাক।

এদিকে রায় ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, কে বা কারা ককটেল ছুড়ে পালিয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছিল।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ‘লজ্জাজনক’ রাজনৈতিক কাণ্ডঃ শরণার্থীদের জীবন-মৃত্যু নিয়ে মোবাইল গেম চালু

যুক্তরাজ্যে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা ছোট নৌকা ঠেকানোর রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে এবার মোবাইল ফোনের গেমে রূপ দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। ‘স্মল বোট স্ক্র্যাম্বল’ নামের এই গেমে খেলোয়াড়রা ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা মানুষদের থামানোর ভার্চুয়ালি চেষ্টা করতে পারবেন। গেমটির সর্বোচ্চ স্কোরধারীকে ৫ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ গেমটি প্রকাশের ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘স্মল বোট স্ক্র্যাম্বল’ একটি গুরুতর বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষকে কিছুটা বিনোদনের সুযোগ দেবে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ রাজনীতিবিদদের শুধু কথা বলতে দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, অথচ ছোট নৌকাগুলোতে করে মানুষ যুক্তরাজ্যে আসা অব্যাহত রেখেছে।

গেমটি রিফর্ম ইউকের সেই রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, যেখানে ক্ষমতায় গেলে ইংলিশ চ্যানেলে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করা মানুষদের ঠেকাতে রয়্যাল নেভিকে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। আগস্টে প্রকাশিত দলটির পরিকল্পনায় রয়্যাল নেভিকে ছোট নৌকাগুলো আটকে দেওয়ার কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

এই গেম চালুর পর যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অ্যাসাইলাম ম্যাটার্সের প্রচারণা বিভাগের প্রধান নাথান ফিলিপস অভিযোগ করেছেন, ইংলিশ চ্যানেলে মানুষ মারা যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও মৃত্যুকে একটি খেলায় পরিণত করা এবং খেলোয়াড়দের নগদ অর্থ পুরস্কারের প্রস্তাব দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার মতে, নিরাপত্তার সন্ধানে থাকা মানুষদের নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় অমানবিকতার মাত্রা কতটা বেড়েছে, এই ঘটনা তা তুলে ধরে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র ম্যাক্স উইলকিনসনও রিফর্ম ইউকের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, রিফর্ম নেতাদের ব্যর্থ ব্রেক্সিট নীতির কারণেই ছোট নৌকার সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং এখন দলটি সেই সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে একটি মোবাইল গেম ব্যবহার করছে।

লেবার পার্টির একজন মুখপাত্রও রিফর্ম ইউকের উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছেন। তার দাবি, রিফর্ম যখন ‘খেলা খেলছে’, তখন লেবার সরকার ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার কমাতে কাজ করছে। তিনি আরও দাবি করেন, চলতি গ্রীষ্মে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসার সংখ্যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে গেমটি চালুর সময়ই নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দলটি অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। দলটির অর্থায়ন নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত চলছে এবং রিফর্মের বিরুদ্ধে গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে দলীয় অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগও সামনে এসেছে। রিফর্ম ইউকে অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চ্যানেল ফোরে প্রচারিত গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর রিফর্ম ইউকের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকস ও জেমস অরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বৈঠকের সময় তিনি কথোপকথন শুনছিলেন না।

এর পাশাপাশি রিফর্ম ইউকে সম্প্রতি ৭২ মিলিয়ন পাউন্ডের দুটি বড় রাজনৈতিক অনুদান পাওয়ায়ও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী বেন ডেলো ও ক্রিস্টোফার হারবোর্ন ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ড করে অনুদান দিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এই অর্থায়নকে ঘিরে রাজনৈতিক অনুদানের আইন ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে অবশ্য এসব অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে। দলটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত পরিবর্তন আনা এবং ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বন্ধ করা। দলটি বর্তমানে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করছে।

গেমটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ রাজনৈতিকভাবে আরও আলোচিত হয়ে উঠেছেন। তিনি দলটির অভিবাসন ও সীমান্তনীতি নিয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে সামনে রয়েছেন।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর, দ্য গার্ডিয়ান, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ডানপন্থীদের রুখতে অভিবাসীদের পক্ষে রাজপথে মানুষ

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ শহরে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী ও বর্ণবাদবিরোধী পাল্টা বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি সমাবেশ করেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শহরের গিল্ডহল স্কয়ারে দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হ্যাম্পশায়ার পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে পোর্টসমাউথের ইস্টনি মেরিনায় প্রায় ১৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছানোর পর সেখানে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়। ওই বিক্ষোভে রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এর ধারাবাহিকতায় ১২ সেপ্টেম্বর পোর্টসমাউথে ফের বড় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। স্থানীয় উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ‘সাউথ কোস্ট প্যাট্রিয়টস’ ও ‘পোর্টসমাউথ প্যাট্রিয়টস’-এর সমর্থকেরা যুক্তরাজ্যের জাতীয় পতাকা হাতে সমাবেশে অংশ নেয়। তারা ‘স্টপ দ্য বোটস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন বন্ধের দাবি জানায়।

অন্যদিকে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ সংগঠনের কর্মী ও অন্যান্য পাল্টা বিক্ষোভকারীরাও গিল্ডহল স্কয়ারে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তারা ‘কাউকে বর্ণবাদকে দেশপ্রেম বলা যাবে না’ এবং ‘কেউ এখানে অবৈধ নয়’—এ ধরনের স্লোগান ও বার্তা তুলে ধরেন।

আগের সপ্তাহে পোর্টসমাউথে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় এবার হ্যাম্পশায়ার পুলিশ আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ক্ষমতাও প্রয়োগ করা হয়। অপরাধ ও পুলিশিং আইনের আওতায় বিক্ষোভস্থলে মুখ ঢেকে রাখা বা মুখোশ পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরিচয় গোপন করে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সমাবেশ চলাকালে গিল্ডহল স্কয়ারে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। পরবর্তী সময়ে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় প্রায় ১০০ জন অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী তাদের পিছু নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর শহরের কয়েকটি গলিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও রাস্তা অবরোধের অভিযোগে অন্তত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আগের বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবার সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালায়।

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পোর্টসমাউথের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে উঠে আসছে।

পোর্টসমাউথের এই সমাবেশে একদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং অন্যদিকে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান—দুই ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্যই প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি প্রস্তুতি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

সূত্রঃ বিবিসি \ ইনফো মাইগ্র‍্যান্টস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে এআইয়ের ভয়ংকর ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কতাঃ ‘কিল সুইচ’ বাধ্যতামূলক করার দাবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উন্নত এআই ব্যবস্থা আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যার মাধ্যমে পুরো ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যানথ্রপিকের প্রধানের সতর্কতার পর এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানও সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে আলোচনা করাকে সমর্থন করেছেন। তবে এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাননি তিনি।

ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, সবচেয়ে উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রযুক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকি নিয়েও প্রকাশ্যে আলোচনা করছে—এটি ইতিবাচক বিষয়। সরকারের মতে, এসব ঝুঁকি কোনো একটি দেশের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠান, মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ব্রিটেন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

দারিও অ্যামোডেই বলেন, চলতি গ্রীষ্মের পর থেকে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি “নাটকীয়ভাবে দ্রুত” হয়েছে। বর্তমান গতিতে প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এআই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যার মাধ্যমে একটি এআই-চালিত ব্যবস্থা পুরো ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান তার ‘উই মাস্ট পেস দ্য ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক লেখায় এআই প্রযুক্তির উন্নয়নকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিন দফা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তার এই উদ্যোগকে এআই খাতের আরও কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব সমর্থন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন গ্রোকের প্রধান ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি শুধু ঝুঁকিই তৈরি করছে না, এর মাধ্যমে সরকারি সেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেরও বড় সুযোগ রয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, সরকার এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে চায়।

এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি মূল্যায়নে ব্রিটেনে এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট কাজ করছে। এর লক্ষ্য হলো সবচেয়ে উন্নত এআই ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সেগুলো থেকে তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও প্রমাণভিত্তিক ধারণা তৈরি করা, যাতে নীতিনির্ধারণ অনুমানের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা যায়।

তবে এআই নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক ‘কিল সুইচ’ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এআই মডেল বিপজ্জনকভাবে কাজ করলে তা বন্ধ করার জন্য এমন একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত, যা স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যাবে।

ক্লার্ক জানিয়েছেন, অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং অধিকাংশ এআই গবেষণাগারেরও কোনো না কোনোভাবে মডেল বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে। তবে তার মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজন হতে পারে।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্রিটিশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো এআই মডেলে হস্তক্ষেপ বা সেটি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দিতে পারে—এমন ‘কিল সুইচ’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের যুক্তি ছিল, এআই প্রযুক্তি সীমান্ত অতিক্রম করে পরিচালিত হয় এবং ব্রিটেন এককভাবে পুরো এআই ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে পারে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি তার অবস্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এআইয়ের সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকি নিয়েও ব্রিটেনে সতর্কতা জারি হয়েছে। পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের এমপি ও লর্ডদের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট কমিটি অন হিউম্যান রাইটস (জেসিএইচআর) সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নতুন এআই আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ব্রিটিশ আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এআই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হতে পারে এমন মানবাধিকার ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন যেখানে মূলত ব্যবহারকারীর ওপর গুরুত্ব দেয়, সেখানে প্রযুক্তি নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির বিষয়টি যথেষ্টভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে না।

কমিটি আরও বলেছে, এআই ব্যবস্থা মানুষের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে কোনো এআই ব্যবস্থার নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার অধিকারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জেসিএইচআরের চেয়ারম্যান লেবার এমপি অ্যালেক্স সোবেল বলেন, এআই প্রযুক্তি এত দ্রুত এবং জটিলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে যে এর প্রভাব সঠিকভাবে পূর্বানুমান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, সম্ভাব্য গুরুতর পরিণতি মোকাবিলার জন্য বর্তমানে ব্রিটেনসহ বিশ্বের কোনো দেশই যথেষ্ট প্রস্তুত নয়।

তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির পুরো সরবরাহব্যবস্থা থেকে শুরু করে এর জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ব্যাপক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে নতুন আইন প্রয়োজন।

কমিটি একই সঙ্গে একটি একক এআই নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। এই সংস্থার দায়িত্ব হবে এআই-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ, প্রযুক্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি—দুই বিষয়েই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তবে প্রযুক্তির উন্নয়ন ইচ্ছাকৃতভাবে ধীর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি তার কার্যালয়।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানবাধিকারের ওপর প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্রিটেনে একই সময়ে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং পার্লামেন্টারি কমিটির পৃথক সতর্কবার্তা সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

হিজাব নিষিদ্ধ করতে চায় ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী দলঃ প্রতিবাদে অমুসলিম নারীদের মাথায়ও হিজাব

ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও সংহতি প্রকাশের ঘটনা সামনে এসেছে। দেশটির বিভিন্ন নারী নিজেদের মাথায় স্কার্ফ বা হেডস্কার্ফ পরা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে মুসলিম নারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি (আরএন) ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার যে পরিকল্পনা সামনে এনেছে, তার প্রতিবাদেই এই অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে।

প্রস্তাবটি সামনে আসে ন্যাশনাল র‍্যালির এমপি জ্যঁ-ফিলিপ তঁগির বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি ৩০ আগস্ট বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে ইসলামি হিজাব পরার বিষয়টি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা এবং তা লঙ্ঘন করলে জরিমানা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তঁগি ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে জানান, দলটির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ভেইল’ বা হিজাব পরাকে শাস্তিযোগ্য করার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে।

ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন ল্য পেনও বিষয়টি নিয়ে জাতীয় গণভোটের কথা বলেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ফরাসি জনগণের মত নেওয়া হতে পারে। ল্য পেনের এই অবস্থান নতুন নয়; ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও তিনি জনপরিসরে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে ন্যাশনাল র‍্যালির ভেতরেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা জর্ডান বারদেলা হিজাব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মেরিন ল্য পেনের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন বলে জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং নীতিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এদিকে ফরাসি নারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণায় অনেকেই নিজেদের হেডস্কার্ফ পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। আয়োজকদের বক্তব্য ও প্রকাশিত পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রতি সংহতি জানানো এবং প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করাই এই প্রচারণার উদ্দেশ্য।

ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাব নিয়ে ফ্রান্সে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। লে মোঁদ জানিয়েছে, জনপরিসরে হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাংবিধানিক ভিত্তি এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ফরাসি সংবিধানের সঙ্গে প্রস্তাবটির সামঞ্জস্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সে বর্তমানে জনপরিসরে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখার ওপর আলাদা আইন রয়েছে। ২০১০ সালে পাস হওয়া ওই আইন ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয় এবং জনপরিসরে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করে। আইনটি মূলত নিকাব ও বোরকার মতো পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নতুন প্রস্তাবটি তার চেয়ে বিস্তৃত হতে পারে, কারণ এতে মুখ খোলা থাকা অবস্থায় পরা হিজাব বা হেডস্কার্ফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে।

লে মোঁদ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল র‍্যালি এখনো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি ঠিক কোন ধরনের পোশাক নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। দলটির বক্তব্যে ‘ইসলামিস্ট ভেইল’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে কখন এবং কীভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে, সেটিও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

এর মধ্যেই ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিজাব ইস্যুটি ন্যাশনাল র‍্যালির রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মেরিন ল্য পেন ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ন্যাশনাল র‍্যালির অবস্থান শক্তিশালী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবের সমর্থকেরা এটিকে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে এর বিরোধীরা বলছেন, প্রস্তাবটি বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ আনাদোলু এজেন্সি, মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজ, লে মোঁদ, দ্য টাইমস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের বিমানবন্দরে নীরবে ড্রপ-অফ ফি বৃদ্ধিঃ ১২ মিনিটে এখন দিতে হবে ৯ পাউন্ড

গত বছর ১ কোটি ৭৫ লাখ এবং চলতি গ্রীষ্মে ৫৫ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করা লন্ডনের একটি বড় বিমানবন্দর কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই ড্রপ-অফ ফি ২ পাউন্ড বাড়িয়েছে।

লন্ডনের একটি প্রধান বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা যাত্রীদের এখন ড্রপ-অফের জন্য বাড়তি খরচ করতে হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নীরবে এই ফি ২ পাউন্ড বাড়িয়েছে।

লন্ডন লুটন বিমানবন্দরে ড্রপ-অফ ফি ৭ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১২ মিনিটের জন্য ৯ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর বিমানবন্দরটি ১ কোটি ৭৫ লাখ যাত্রীকে সেবা দিয়েছে এবং চলতি গ্রীষ্মে ৫৫ লাখের বেশি যাত্রী ব্যবহার করেছেন। কবে থেকে নতুন ফি কার্যকর হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। মাই লন্ডনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন ফি নিশ্চিত করেছে।

লুটন বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যাত্রীদের বিমানবন্দরের টার্মিনালের কাছাকাছি নামিয়ে দেওয়ার জন্য ড্রপ-অফ ও পিক-আপ জোনটি সবচেয়ে সুবিধাজনক ব্যবস্থা। এই ড্রপ-অফ জোন টার্মিনাল থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটার দূরত্বে এবং ১২ মিনিটের জন্য এর খরচ ৯ পাউন্ড। যাত্রীদের দ্রুত নামিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

১২ মিনিটের বেশি সময় ড্রপ-অফ জোনে অবস্থান করলে প্রতি অতিরিক্ত মিনিটের জন্য ১ পাউন্ড করে চার্জ দিতে হবে। তবে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা যাবে।

লুটন বিমানবন্দরে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের ব্যবস্থা।

লন্ডন লুটন বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের পার্কিং সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে লং স্টে কার পার্কে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিনামূল্যে গাড়ি রাখা যায়। বিমানবন্দরের চার্জযুক্ত ড্রপ-অফ ও পিক-আপ জোন টার্মিনাল ভবনে দ্রুত ও সুবিধাজনকভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের আশপাশে যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। টেকসই পরিবহন ব্যবহারের হার বাড়ানোর জন্য জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লুটন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বাস, কোচ ও রেলভ্রমণকে যাত্রীদের জন্য আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় করতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে স্থানীয় বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের অর্থায়ন, ২ পাউন্ডের কোচ ভাড়া এবং লুটন বিমানবন্দর এক্সপ্রেস রেলসেবাসহ গণপরিবহনের সংযোগ উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।

লুটন বিমানবন্দরের লং স্টে কার পার্কে যাত্রীদের বিনামূল্যে গাড়ি নামিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেখানে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো চার্জ দিতে হয় না। তিন ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি রাখলে খরচ ৭ পাউন্ড।

লং স্টে কার পার্ক থেকে বিমানবন্দরে যেতে বাসের ব্যবস্থাও রয়েছে। বাস বে বি থেকে প্রতি ২০ মিনিট পরপর বাস ছাড়ে এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজের জনপ্রিয়তায় বড় ধসঃ ৬৯ শতাংশের অপছন্দ

যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ইউগভ (YouGov) পরিচালিত জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৬৯ শতাংশ মানুষ ফারাজ সম্পর্কে নেতিবাচক বা বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। ইউগভের ফারাজ-সংক্রান্ত জনমত ট্র্যাকারে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতিবাচক মতামতের হার।

জরিপে বিপরীতে ২৪ শতাংশ ব্রিটিশ ফারাজ সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত জানিয়েছেন। এর ফলে তার নেট গ্রহণযোগ্যতার হার দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৪৫ (-৪৫)।

রাজনৈতিক জনমত পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ইউগভের তথ্য অনুযায়ী, ফারাজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের এই হার আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। বিষয়টি রিফর্ম ইউকের নেতা হিসেবে তার জনসমর্থন ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার বর্তমান অবস্থার একটি পরিমাপক হিসেবে জরিপে উঠে এসেছে।

ইউগভের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তথ্যগুলোতে রিফর্ম ইউকের অবস্থান নিয়েও ব্রিটিশ জনমতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের আরেকটি ইউগভ জরিপে দেখা যায়, রিফর্ম ইউকের প্রতি জনমতও বিভক্ত। দলটির নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার বিষয়টি বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

এদিকে ইউগভের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যান্য নেতার জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্পর্কে ব্রিটিশদের সামগ্রিক মনোভাব এখনো তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক হলেও তার প্রতি নেতিবাচক মতামত গত এক মাসে বেড়েছে।

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক মতামত উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। তার প্রতি ৪৭ শতাংশ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর হার এক শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইউগভের আগের গবেষণাতেও দলটির প্রতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মনোভাবের পার্থক্য উঠে এসেছে। ইউগভের একটি গবেষণায় ব্রিটেনের জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭৯ শতাংশ নাইজেল ফারাজ সম্পর্কে নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছিলেন এবং মাত্র ১৩ শতাংশ তার প্রতি ইতিবাচক মতামত জানিয়েছিলেন।

একই গবেষণায় রিফর্ম ইউকের প্রতি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক মনোভাবও নেতিবাচক ছিল। ৭৬ শতাংশ দলটির প্রতি নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেন এবং ১৪ শতাংশ ইতিবাচক মতামত জানান। গবেষণাটিতে রিফর্ম ইউকের নীতি ও দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমতের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নতুন জরিপে নাইজেল ফারাজের ক্ষেত্রে ৬৯ শতাংশ নেতিবাচক মতামত এবং ২৪ শতাংশ ইতিবাচক মতামতের ফলে তার নেট গ্রহণযোগ্যতা মাইনাস ৪৫-এ নেমে এসেছে। ইউগভের হিসাবে, ফারাজের প্রতি নেতিবাচক মতামতের এই হার তাদের ট্র্যাকারে নতুন সর্বোচ্চ।

সূত্রঃ ইউ.গভ\পলিটিকো ইউরোপ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের চাপে ব্রিটেনে হাই স্ট্রিট থেকে বিদায় ব্যাংকঃ লন্ডনে বন্ধ হচ্ছে আরও শাখা

লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক শাখা বন্ধের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই হ্যালিফ্যাক্স ও লয়েডসের একাধিক শাখা বন্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে লন্ডনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার শাখাও রয়েছে। ব্যাংক শাখা বন্ধের এই প্রবণতা চলতি বছর ছাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় প্রচলিত ব্যাংক শাখায় সরাসরি সেবা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের বড় ব্যাংকগুলো শহর ও টাউন সেন্টারের বিভিন্ন শাখা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে।

হ্যালিফ্যাক্স ও লয়েডসের শাখা বন্ধের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠনও চলছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ২০০টি হ্যালিফ্যাক্স শাখাকে ২০২৭ সালের মধ্যে লয়েডসের শাখায় রূপান্তর করার কথা রয়েছে।

লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপের কনজিউমার রিলেশনশিপস বিভাগের প্রধান নির্বাহী জাস সিং জানিয়েছেন, হ্যালিফ্যাক্সের শাখা লয়েডসে রূপান্তরিত হলেও গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান অনেক সুবিধা বজায় থাকবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকরা একই ধরনের অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা, শাখায় পরিচিত কর্মীদের সেবা এবং একই সর্ট কোড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

সেপ্টেম্বর মাসে হ্যালিফ্যাক্সের যেসব শাখা বন্ধ হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বেসিংস্টোক, বেরি সেন্ট এডমন্ডস, ক্যান্টারবেরি, ডারহাম, ইলিং ব্রডওয়ে, গিল্ডফোর্ড, হাই উইকম্ব, লন্ডনের ক্যামডেন টাউন, মিল্টন কেইনস, নর্থ ফিঞ্চলি, উইম্বলডন ও ওকিং। এসব শাখা ২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন তারিখে বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।

লন্ডনে হ্যালিফ্যাক্সের যেসব শাখা বন্ধ হচ্ছে, তার মধ্যে ক্যামডেন টাউন, ইলিং ব্রডওয়ে, নর্থ ফিঞ্চলি ও উইম্বলডনের শাখা রয়েছে। ফলে এসব এলাকার গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবার জন্য বিকল্প শাখা, ডিজিটাল ব্যাংকিং অথবা অন্যান্য সেবা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।

একই সময়ে লয়েডসেরও কয়েকটি শাখা বন্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে বার্মিংহামের হ্যান্ডসওয়ার্থ, কার্লাইল, চেমসফোর্ড, সিটি অব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল হাই স্ট্রিট এবং হ্যারোর শাখা রয়েছে। এসব শাখা ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বন্ধ হওয়ার নির্ধারিত সময় রয়েছে।

শাখা বন্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে গ্রাহকদের কমিউনিটি ব্যাংকারদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগও দেওয়া হবে।

তবে ব্যাংক শাখা বন্ধের এই প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরেই শেষ হচ্ছে না। মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরজুড়ে এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত আরও শাখা বন্ধ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকগুলোর এই পরিবর্তনের পেছনে গ্রাহকদের ব্যাংকিং ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার বাড়ায় হাই স্ট্রিটে প্রচলিত ব্যাংক শাখার ওপর নির্ভরতা কমছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর ও এলাকার ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক শাখাগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
আমেরিকা যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তাঃ হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদেরও ছাড় নয়

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালিতে তেল চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সহায়তা করেনি, যুদ্ধ ও চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় করা অর্থ ফেরত নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সহায়তা করেনি, তাদের এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত এবং তা দিতে হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ সচল রাখা ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অন্য দেশগুলোর স্বার্থে এই দায়িত্ব পালন করে আসছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়েও ট্রাম্পের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে যুক্তরাজ্য অনাগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পর যুক্তরাজ্যের অবস্থান ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড সফরের সময়ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে ন্যাটোর অবস্থানের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ডাবলিনে ডিয়ারফিল্ডে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে ন্যাটো আগ্রহী না হওয়ায় তিনি ‘খুবই হতাশ’।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি থেকে কোনো তেল নেয় না এবং তাদের ওই তেলের প্রয়োজনও নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি তেল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের কাছে হরমুজ প্রণালিতে সহায়তার অনুরোধ করা হলেও তারা এতে জড়াতে চায়নি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দেশ প্রণালিটি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করলেও এর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য ন্যাটোর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মতবিরোধকেও সামনে এনেছে। এর আগে তিনি ন্যাটোর মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং জোটটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার হাতেই থাকবে।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান দ্রুত ও মরিয়া হয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ২৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই নৌপথের নিরাপত্তা, ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের উত্থানঃ কাউন্সিল নির্বাচনে ৭ জন বাংলাদেশী

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের পরিধি বাড়ছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের একাধিক কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাতজন জনপ্রতিনিধি। তাদের মধ্যে কয়েকজন একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কয়েকজন ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন।

ক্যাম্পবেলটাউন, ক্যামডেন, কাম্বারল্যান্ড, ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকসটাউন ও ডাব্বোর স্থানীয় সরকারে তাদের এই উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এসব জনপ্রতিনিধির মধ্যে কেউ দলীয় প্রার্থী হিসেবে এবং কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।

ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাসুদ চৌধুরী প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ২০১৬ সালে। এরপর ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯১ সালে লেবার পার্টিতে যোগ দেওয়া মাসুদ চৌধুরী দলটির প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালনকে গর্বের বিষয় উল্লেখ করে মাসুদ চৌধুরী বলেন, এই দায়িত্বের সঙ্গে বড় ধরনের দায়বদ্ধতাও রয়েছে। ক্যাম্পবেলটাউনের সব মানুষের জন্য কাজ করা এবং বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের কথা শোনাকে তিনি নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতি ও জনসেবায় বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন প্রজন্ম আরও এগিয়ে আসুক—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

একই কাউন্সিলে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাসুদ খলিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে ‘কমিউনিটি ভয়েস’-এর ব্যানারে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৩-২৪ মেয়াদে কাউন্সিলরদের ভোটে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। ক্যাম্পবেলটাউনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০২৪ সালের নির্বাচনেও পুনর্নির্বাচিত হন তিনি।

মাসুদ খলিল জানান, কমিউনিটির মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জে তিনি পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে তার কাজ কোনো নির্দিষ্ট কমিউনিটিতে সীমাবদ্ধ নয়। জাতি, ধর্ম, ভাষা বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে কাউন্সিলের সব মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। স্থানীয় সরকারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাজ্য পর্যায়েও মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে চান তিনি। ২০২৭ সালের নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য নির্বাচনে ম্যাককুয়ারি ফিল্ডস আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি অ্যাশ রহমান। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পান অ্যাশ রহমান।

এদিকে ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন শিরিন আক্তার।

ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন এলিজা রহমান। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পান তিনি। নিউ সাউথ ওয়েলসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম নারী হিসেবে এই দায়িত্বে বসেন এলিজা রহমান। পাশাপাশি লেবার পার্টির ক্যামডেন ব্রাঞ্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এলিজা রহমান বলেন, ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়া তার জন্য সম্মানের পাশাপাশি বড় দায়িত্বের বিষয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের নারীদের জনসেবায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলে তিনি মনে করেন। ক্যামডেনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে মানুষের কথা শোনাকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের ওয়েন্টওর্থভিল ওয়ার্ড থেকে ২০১৭ সালে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন সুমন সাহা। ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বও পালন করেন।

সুমন সাহা জানান, কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন তার জন্য গভীর শিক্ষার অভিজ্ঞতা। ওয়েন্টওর্থভিল ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থেকে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় রাস্তার নিরাপত্তা, পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন এবং সবার জন্য সমান ও সহজলভ্য কাউন্সিল সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন তিনি। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসার অভিজ্ঞতার কারণে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তিনি বুঝতে পারেন বলে জানান। তরুণদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও তার অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাব্বো আঞ্চলিক কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিবলী চৌধুরী ২০২১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

শিবলী চৌধুরী জানান, স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। ডাব্বোতে বাংলাদেশি কমিউনিটির সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এই অংশগ্রহণ শুধু নির্বাচনে জয় পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন কাউন্সিলে কাউন্সিলর এবং ডেপুটি মেয়রের মতো দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়েও যুক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে শুধু নিজস্ব কমিউনিটির সমর্থন যথেষ্ট নয়; বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির ভোটারদের সমর্থন অর্জন করেই নির্বাচিত হতে হয়। ফলে সামাজিক সম্পৃক্ততা, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এসব জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন স্থানীয় সরকারে সাতজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের নির্বাচিত হওয়া এবং তাদের কয়েকজনের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের স্থানীয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিস্তারের একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র হিসেবে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ নিউ সাউথ ওয়েলস ইলেক্টোরাল কমিশন

এম.কে