Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

ব্রিটিশ অভিবাসন আইনে দফায় দফায় পরিবর্তন, লক্ষ্য বিদেশি শিক্ষার্থী

চলতি বছরের ৯ মার্চ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দফায় দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছে ব্রিটিশ অভিবাসন আইনে। গত পাঁচ মাসে বড় ধরনের তিন দফা পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ, হোম অফিস। এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

এতোদিন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে স্নাতকোত্তর কোর্সে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা সঙ্গে করে তাদের স্পাউস এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের নিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু চলতি বছরের ৯ মার্চ হোম অফিস ইমিগ্রেশন আইনে যে পরিবর্তন আনে সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্নাতকোত্তর কোর্সে আসা শিক্ষার্থীরা তাদের স্পাউস ও সন্তানদের আর নিয়ে আসতে পারবেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সে আশা শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে এসে তাদের কোর্স শেষ না করেই ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা পরিবর্তন করতে পারতেন। কিন্তু ১৭ জুলাই বেলা তিনটা থেকে কোনো শিক্ষার্থী তাদের কোর্স সম্পূর্ণভাবে শেষ না করা পর্যন্ত আর ভিসা পরিবর্তন করতে পারবেন না বলে হঠাৎ আইন জারি করে হোম অফিস।

ওয়ার্ক পারমিটে ভিসা পরিবর্তন করতে হলে তাদের অবশ্যই কোর্স শেষ করে যেতে হবে। ১৯ জুলাই এই আইনেরই আরেকটি সংযোজন এনেছে হোম অফিস। এই সংযোজনে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে তাদের স্পাউস সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন, সেসব স্পাউস চাইলে তাদের ভিসা ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করতে পারবেন।

কিন্তু যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় মূল আবেদনকারী শিক্ষার্থী তার কোর্স শেষ না করা পর্যন্ত তার স্পাউসের ডিপেনডেন্ট হতে পারবেন না।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির অভিবাসন নীতি অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের নেট অভিবাসীর সংখ্যা বছরে এক লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার অংশ হিসেবে অভিবাসন আইনে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

হায়ার এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস এজেন্সির এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১–২২ সালে যুক্তরাজ্যে মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৬২ হাজার ৬২০ জন; যা ২০২০–২১ সালে ছিল ২৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৫ জন। এক বছরে সংখ্যাটি ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বেড়েছে।

হায়ার এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস এজেন্সির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১–২২ সালে যুক্তরাজ্যে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭০ জন নতুন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিতে এসেছেন; যা ২০২০–২১ সালে ছিল ৬ লাখ ৫ হাজার ১৩০ জন। যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ হাজার ৭০০ জন।

যুক্তরাজ্যের একজন ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রতিবছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে ৪২ বিলিয়ন পাউন্ডের যোগান দেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ করে কোনো পূর্বাভাস ছাড়া আইনে পরিবর্তন আনলে শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়ে যান। যখনই যুক্তরাজ্য সরকার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে, তখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পথ সহজ করে দেয়। কিন্তু সংকট থেকে উত্তরণের পর তারা এ ব্যবস্থাকে কঠিন করে দেয়। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের এ ধরনের আচরণের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এম.কে
০৫ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যঃপ্রতিবেদন

ভবিষ্যৎ ব্রিটেন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বড় কিছু বিপর্যয়ের। বিপর্যয়ের তালিকার মধ্যে রয়েছে নতুন কোনো মহামারী, রাশিয়ান জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিঘ্ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে আবির্ভূত নতুন সমস্যা।
ব্রিটেনকে ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ মোকাবেলায় প্রস্তুতে সহায়তা করতে ডিজাইন করা হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা। ‘জাতীয় ঝুঁকি রেজিস্টার’ শিরোনামের একটি নতুন সরকারী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার হামলাও বিপর্যস্ত করতে পারে ব্রিটেনকে।
প্রতিটি ঝুঁকি চিহ্নিত করতে প্রভাবক নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা। এই ঝুঁকি দ্বারা আর্থিক ক্ষতি কি হতে পারে সেটা নিয়েও মূল্যায়ন করছেন বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, নতুন মহামারী আসতে পারে সারা বিশ্বজুড়ে যা হতে পারে খুবই ‘বিপর্যয়কর’। কমপক্ষে সাড়ে ৮ লাখ লোক মারা যেতে পারে বলেও ধারনা করা হয় ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন শ্বাসকষ্টজনিত রোগ মহামারীর আকার ধারন করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যা ‘যুক্তরাজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে করোনাভাইরাস সংকটের মতো। যুক্তরাজ্যের অর্ধেক জনসংখ্যা এতে আক্রান্ত হবার মতো পরিস্থিতি হতে পারে বলে জানা যায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নয় মাসব্যাপী নতুন মহামারী চলতে পারে যাতে প্রায় ১.৩৪ মিলিয়ন লোকের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাব্য হুমকিকেও ২০২৩ সালের জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উপপ্রধানমন্ত্রী অলিভার ডাউডেন ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে বলেন, ‘ প্রতিবেদনটিতে বিস্তৃত ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে যাতে সরকার এবং আমাদের অংশীদাররা দৃঢ় পরিকল্পনা করতে পারে। যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে। বিশ্বে এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে এই প্রতিবেদন হ’ল শক্তি সুরক্ষা।
উল্লেখ যে, সর্বশেষতম নিবন্ধটি আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমে অগ্রগতি এবং তাদের দক্ষতার ‘দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র ঝুঁকির বিস্তৃতির কারণে বেশ কয়েকটি প্রভাব পড়তে পারে’। তাছাড়া অপরিকল্পিত ড্রোনের ব্যবহার পরিবেশকে করে তুলতে পারে দুষিত যা হতে ঘটতে পারে পরিবেশ বিপর্যয়।
এম.কে
০৫ আগস্ট ২০২৩
Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আবারও গ্রেফতার

তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পরই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ আগস্ট) ইসলামাবাদের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত ইমরানকে এ দণ্ড দেন। এরপরই তাকে তার লাহোরের বাসভবন জামান পার্ক থেকে পাঞ্জাব পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করেছে।
এম.কে
০৫ আগস্ট ২০২৩
Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

সুদহার বাড়ানোর পূর্বাভাস ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের

মূল্যস্ফীতিতে নাকাল বিশ্ব। এর নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকৃত সুদহার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে টানা ১৪তম বারের মতো কোয়ার্টার শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হলো। ব্যাংকটি ইঙ্গিত দিয়েছে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় তারা কিছু সময়ের জন্য উচ্চ সুদহার ধরে রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবার ও ব্যবসাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও মূল্যস্ফীতির কারণে কঠোর চাপে থাকা পরিবার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি জুন থেকে তার অর্ধ-পয়েন্ট বৃদ্ধির পুনরাবৃত্তি করবে। তবে গত মাসের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে ছিল এবং প্রত্যাশার চেয়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, চলতি বছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসবে। তার সঙ্গে খাদ্যদ্রব্যের দাম মাঝারি মাত্রায় চলে আসবে বলে ধারণা।
ব্যাংকটির গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, ‘কমতে থাকা মূল্যস্ফীতি নিশ্চয় ভালো খবর। বিশেষ করে সমাজের নিম্নস্তরের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির ভয়াবহ প্রভাব বিবেচনা করলে আসলে এটি সুসংবাদ। এ মূল্যস্ফীতি যাতে ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে আসে তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে আবারো সুদহার বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভবত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আবারো সুদহার বাড়ানো হতে পারে। তার পরে একটি বিরতি আসতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। উচ্চ সুদহারের প্রভাবে আবাসন খাতের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী থাকবে। এদিকে অনেক পরিবারকে শিগগিরই উচ্চ ব্যয়ে তাদের মর্টগেজ পুনরায় অর্থায়ন করতে হবে, যা তাদের আর্থিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করবে।
গভর্নর বেইলি ব্যাংকটিকে প্রমাণভিত্তিক নিজেদের কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি পরামর্শ দেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে এমন বলার সময় এখনো আসেনি। মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার জন্য ঋণের ব্যয়কে পর্যাপ্ত পরিমাণে সীমাবদ্ধ যেন থাকে তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি সুনির্দিষ্ট কিছু জটিলতাও মোকাবেলা করছে। কিছু অর্থনীতিবিদ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া অর্থাৎ ব্রেক্সিটকে বাণিজ্য ও ব্যবসার জন্য ব্যয় বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। অন্যরা সুদহার দ্রুত না বাড়ানোর জন্য ব্যাংকের ওপর বেশি দোষারোপ করছেন।
ব্যাংকের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলো বুঝতে পেরেছে। বিশেষ করে যারা খাদ্য ও জ্বালানি শক্তির জন্য উচ্চ ব্যয়, বন্ধকের হার এবং আকাশছোঁয়া বাসা ভাড়ার বৃদ্ধি দেখেছে। এটি পূর্বাভাস করা হয় প্রায় ২৫০ কোটি বন্ধক চুক্তি আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে। তখন প্রায় ১০ লাখ পরিবার ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের বন্ধক পরিশোধের ক্ষেত্রে ৫০০ পাউন্ড মাসিক বৃদ্ধির সম্মুখীন হবেন।
এম.কে
০৫ আগস্ট ২০২৩
Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

বাংলাদেশের আম রপ্তানির বড় গ্রাহক যুক্তরাজ্য

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ টন আম রফতানি হয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি। ৪ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর সবচেয়ে বেশি আম রফতানি হয়েছে যুক্তরাজ্যে ১ হাজার ২৫৬ টন। এছাড়াও ইতালিতে ২৯৬ টন, সৌদি আরবে ২৬০ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩৭ টন, কাতারে ১১১ টন, সিঙ্গাপুরে ৫৫ টন, সুইজারল্যান্ডে ১৪ টন, জার্মানিতে ৭০ টন, ফ্রান্সে ৮৫ টন, সুইডেনে ৬৫ টন, কুয়েতে ২১৮ টন ও কানাডায় ৪০ টনসহ বিশ্বের ৩৪টি দেশে আম রফতানি হয়েছে। গত বছর ২৮টি দেশে আম রফতানি হয়েছিল।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বিশ্ববাজারে দেশের আমের বিপুল চাহিদা থাকলেও উত্তম কৃষিচর্চাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে আম উৎপাদন ও প্যাকেজিং না হওয়ায় রফতানির পরিমাণ কম।
রফতানি বাড়াতে কৃষি মন্ত্রণালয় রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উত্তম কৃষিচর্চা মেনে আম উৎপাদনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের প্রথম বছরেই গত বছরের তুলনায় ১ হাজার টন আম বেশি রফতানি হয়েছে।
এম.কে
০৫ আগস্ট ২০২৩
Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

ব্রিটেনে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সোমবার হতে যেসব পরিবর্তন আসছে

ব্রিটে‌নে কেয়ার, ওয়ার্ক পার‌মিট ও স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় গত দুই বছ‌রে কো‌টি কো‌টি টাকা খরচ ক‌রে আসা হাজার হাজার মানুষ এখন বেকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী আনতে খোলা বহু ভুয়া কোম্পানি এরই ম‌ধ্যে বন্ধ হ‌য়ে গেছে। এখন ভিসা বা‌তি‌লের আতঙ্কেই র‌য়ে‌ছেন এই বেকাররা। এমন বাস্তবতায় আগামী সোমবার থে‌কে এসব ভিসার ক্ষে‌ত্রে ‘জেনুইন‌নেস টেস্ট’-এর নতুন নী‌তিমালা কার্যকর কর‌বে ব্রিটিশ হোম অফিস।
নতুন নী‌তিমালায় আবেদনকারীকে প্রমাণ কর‌তে হ‌বে— তার কর্মস্থ‌লে প্রকৃতপ‌ক্ষে কা‌জের নিশ্চয়তা র‌য়েছে কিনা; নি‌য়োগদাতার সঙ্গে তার যোগা‌যোগ সরাস‌রি ছিল কিনা; আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হ‌য়ে‌ছে কিনা; আবেদনকারীর সং‌শ্লিষ্ট ভিসায় কাজ করার প্রশিক্ষণ, যোগ‌্যতা ও অভিজ্ঞতা আছে কিনা; ব‌্যাংক হিসা‌বের সত‌্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়াটি টাকার বি‌নিম‌য়ে করা হ‌য়েছে কিনা।
প্রয়োজ‌নে ফো‌নে বা ভি‌ডিও ক‌লে আবেদনকারী ও নি‌য়োগদাতা‌র সাক্ষাৎকার নে‌বে হোম অফিস। নতুন নিয়‌মে আবেদনকারীর হোম অফিসে আবেদনের ‘কাভার লেটা‌রে’ এ সংক্রান্ত সকল তথ‌্য সু‌নি‌র্দিষ্টভা‌বে উল্লেখ থাক‌া বাধ‌্যতামূলক করা হ‌য়েছে। ইতিম‌ধ্যে যা‌দের ‘কস’ ইস‌্যু করা হ‌য়ে‌ছে, তা‌দের আবেদনগু‌লোও তদন্ত কর‌বে হোম অফিস।
ব্রিটে‌নে ভুয়া কোম্পানিগু‌লো মানুষ আনার পর কাজ না দেওয়া, টাকার বি‌নিম‌য়ে কাজ দেখা‌নোর অসংখ‌্য অভি‌যো‌গের পরিপ্রেক্ষি‌তে মূলত এ প‌রিবর্তন আন‌ছে হোম অফিস। আবেদনে কোনো মিথ‌্যা তথ‌্য থাক‌লে আবেদনকারী‌কে ব্রিটেনের ভিসা প্রা‌প্তির জন‌্য ১০ বছ‌রের জন‌্য নি‌ষিদ্ধ করা হ‌তে পা‌রে।
এম.কে
০৪ আগস্ট ২০২৩
Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যের আউটসোর্সিং বিভিন্ন পরিষেবার উপর নাখোশ করদাতারা

যুক্তরাজ্য সরকার আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থী ও তরুণ অপরাধীদের বিভিন্ন নিয়মকানুন জানানোর স্কিম চালু করেছিল। সময়ের সাথে সাথে সেইসব আউটসোর্সিং স্কিমের মান কমছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানা যায়।
হোয়াইটহল কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যেক ব্যক্তির পারফরম্যান্স যাচাইয়ের জন্য রেজিস্টার খাতায় কেপিআই পারফরম্যান্স উল্লেখ রাখা হয়। যেখানে ভালো,মধ্যম কিংবা খারাপের গ্রাফ করে রাখা হয়।
সমালোচকদের মতে গ্রাফের হিসেবে “অপর্যাপ্ত” বা “উন্নতির প্রয়োজন” বলে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের সংখ্যা ৭৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। যা সরকারের দেয়া লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়। গ্রাফ অনুযায়ী দেখা যায়, ২০২২ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীদের অবনতি হয়েছে।
বিচার বিভাগ সম্পর্কিত মন্ত্রণালয় ইউকে কারাগারের খাবার ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খাদ্যের মান নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
করদাতাদের জোটের চিফ এক্সিকিউটিভ জন ও’কনেল বলেন,  পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, “ মূল চুক্তি থেকে সরকারের মন্ত্রীরা চোখ ফিরিয়ে রেখেছে বিধায় আউটসোর্সিং কার্যক্রমের এই
দূরাবস্থা। সরকার করদাতাদের অর্থ কিভাবে খরচ করছে সেটা নিয়ে সরকারের আরো বেশি মনোনিবেশ করা উচিত।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কাজে সহায়তার জন্য ডিজাইন করা একটি স্কিম নিয়েও অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়। এই স্কিমকেও মানসিক স্বাস্থ্যে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হয়।
লেবার দলের উপনেতা অ্যাঞ্জেলা রায়নার সরকারের বিভিন্ন স্কিমের উপর প্রচন্ড অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন টোরি সরকার ব্রিটেনকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, সরকার করদাতাদের অর্থ সাশ্রয়ে সর্বদা তৎপর থাকে।
তিনি আরও বলেন, ” সরকার দ্রুত সমস্যাগুলি মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে যাতে জনগণ তাদের প্রাপ্য মানের পাবলিক পরিষেবাগুলি পায়। “
অভিবাসী সহায়তা বিভাগে কাজ করা একজন মুখপাত্র জানান, সকল মানুষ পরিষেবা পেতে উদগ্রীব থাকে,মানুষের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু কর্মীদের সংখ্যা কম থাকায় সবাইকে সঠিক সময়ে সার্ভিস দেয়া অনেকক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবুও আমরা আমাদের ক্লায়েন্টদের তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতেও যা করার দরকার সবকিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এম.কে
০৪ আগস্ট ২০২৩
Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হল যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের ব্যক্তিগত বাসভবন কালো কাপড়ে ঢেকে দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। সুনাকের এই বাসভবনটি ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত।

খবরে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতিকে পাশ কাটিয়ে উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি দেওয়ায় পরিবেশকর্মীরা প্রতিবাদস্বরূপ এটি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরের বলা হয়, গ্রিনপিস ইউকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছে বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির বিভিন্ন ছবি। একটি ছবিতে দেখা গেছে, ইয়র্কশায়ারে কালো কাপড়ে ঢাকা সুনাকের বাসভবনের ছাদের রেলিংয়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন গ্রিনপিস ইউকের চারজন কর্মী, আর নিচের লনে দুজন কর্মী হাতে একটি কালো কাপড়ের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।

সেই ব্যানারে লেখা— ‘ঋষি সুনাক, কোনটি গুরুত্বপূর্ণ— তেলের মুনাফা নাকি আমাদের ভবিষ্যৎ?’

সকাল ৯টার দিকে গ্রিনপিস ইউকের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয় এই ছবি। তার পরও অন্তত ২ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেছেন প্রতিবাদকারীরা। পরে ইয়র্কশায়ার পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়।

এম.কে
০৪ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কারণেই কি ঘর পুড়ল প্রধানমন্ত্রীর

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং স্ত্রী সোফির বিচ্ছেদের খবর এখন ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন জনপ্রিয় এ দম্পতি।

বিচ্ছেদের পরপরই ট্রুডোকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। নানান ধরনের জল্পনা-কল্পনায় নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।

অনেকের ধারণা, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানিয়া জোলির সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই পুড়ল প্রধানমন্ত্রীর ঘর। তবে মেলানিয়া জোলি ও ট্রুডোকে নিয়ে এর আগেও অনেকবার মুখরোচক গল্প রটলেও এবার সেই গুঞ্জন যেন আরও জোরালো হয়ে উঠল।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রুডো দম্পতি বিচ্ছেদের ঘোষণা দেয়। সব অভিযোগের ঊর্ধ্বে মেলানিয়া জোলির সঙ্গে ট্রুডোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেই সবাই দায়ী করছে সম্পর্ক ভাঙার পেছনে।

২০২০ সালে মেলানিয়া জোলির সঙ্গে পরিচয় হয় জাস্টিন ট্রুডোর। ঠিক এক বছর পর, ২০২১ সালেই কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে আসেন মেলানিয়া জলি। এরপর দুজনকে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে দেখা গেছে।

কারো কারো দাবি, ট্রুডোকে গভীর রাতে জোলির অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। তবে কথিত এসব ব্যাপারগুলো নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কেননা বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে ট্রুডো দম্পতি কোনো মন্তব্য করেননি।

এম.কে
০৪ আগস্ট ২০২৩

 

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

আবারও ইউরোপের দূর্বল দেশ হবার পথে জার্মানি

জার্মানির অর্থনীতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি বদলের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। গত কয়েক বছরে একাধিক সঙ্কটে ইউরোপের কেন্দ্রের দেশটির ব্যবসার ধরনের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে।

চলতি শতকের শুরুর দিকে ব্যবসা-বিষয়ক ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ জার্মানির অর্থনীতি সম্পর্কে একটি রায় দিয়েছে। পত্রিকাটির মতে, জার্মানি হচ্ছে ইউরোপের ‘সিক ম্যান’।

ইংরেজি এই বাগধারার অর্থ হচ্ছে কোনো এক শক্তিশালী গোষ্ঠীর সবচেয়ে দুর্বল সদস্য। প্রভাবশালী পত্রিকাটির এমন মূল্যায়নের পর নড়ে-চড়ে বসে জার্মান সরকার, নেয়া হয় বিভিন্ন উদ্যোগ।

মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা-বিষয়ক ইন্সটিটিউটের প্রেসিডেন্ট ক্লিমেন্স ফ্যুস্ট এই বিষয়ে বলেন, ‘জার্মানির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে।’

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংস্থাটি প্রতিমাসে নয় হাজারের মতো নির্বাহীর ওপর সমীক্ষা পরিচালনা করে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিন মাস ধরে পরিস্থিতি নিম্নমুখী এবং চলতি কোয়ার্টারে জিডিপি আরো নিচের দিকে নামবে।

জার্মানিকে মূলত পিছিয়ে রেখেছে অবকাঠামোগত সমস্যা। দেশটির অর্থনীতির ধরন হচ্ছে, সস্তায় জ্বালানি, কাঁচামাল এবং পুরোপুরি প্রস্তুত নয় এমন পণ্য আমদানি করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমানের এবং দামি পণ্য হিসেবে রফতানি করা। কিন্তু ব্যবসার এমন ধরন আর কাজ করছে না। গত কয়েক বছরের একাধিক সঙ্কট জার্মানির দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলেছে। জ্বালানি বেশি দরকার এমন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে। আর খরচ বেড়ে যাওয়ায় যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন প্রক্রিয়া অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে তার আর ফিরে আসছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জার্মানির অর্থনীতিকে আবারো শক্তিশালী করতে হলে জ্বালানি সাশ্রয়ী উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। এরজন্য অতীতের প্রযুক্তি বাঁচাতে বিনিয়োগ না করে নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে যা সাশ্রয়ী এবং কার্যকর।

এম.কে
০৪ আগস্ট ২০২৩