Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

কি-বোর্ডের শব্দ শুনে পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে এআই

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একদল কম্পিউটার বিজ্ঞানী কি-বোর্ড থেকে উৎপন্ন শব্দ শনাক্তের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল তৈরি করেছেন। এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরা ‘ম্যাকবুক প্রো’র ২০২১ সংস্করণ ব্যবহার করেন। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জসুয়া হ্যারিসন, সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এহসান তোরেনি ও লন্ডনের রয়্যাল হলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মারিয়াম মেহরনেজাদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত এক সমীক্ষা হতে জানা যায়, এই এআই নিখুঁত এবং নির্ভুলভাবে ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড চুরি করতে সক্ষম। একজন ব্যক্তি কি-বোর্ডে যে বাটনগুলো ক্লিক করছেন, তা অনুসরণ করে এআইটি তথ্য হাতিয়ে নিতে বেশ কার্যকর। স্মার্টফোনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, টাইপ করা পাসওয়ার্ড ৯৫ শতাংশ নির্ভুলভাবে দিচ্ছে এআই।

জুম ভিডিও কনফারেন্সের সময় ল্যাপটপের মাইক্রোফোন দিয়ে নির্ভুলভাবে টাইপ শুনতে পারদর্শী এআই মডেলটি। গবেষকদের মতে,
কি-বোর্ডের শব্দ শুনে এআই ৯৩ শতাংশ নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে। হ্যাকারদের এ ধরনের আক্রমণকে বলা হয় অকাস্টিক সাইড-চ্যানেল আক্রমণ।

এ ধরনের আক্রমণে হ্যাকাররা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের টাইপিং পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেন, অনেকে এ ধরনের আক্রমণ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পাসওয়ার্ড লেখার সময় লুকিয়ে টাইপ করলেও কি-বোর্ডের শব্দ যাতে অস্পস্টভাবে শোনা যায়, সে বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন।

নির্ভুল পরীক্ষার জন্য গবেষকেরা ল্যাপটপের ৩৬টি কি ২৫ বার করে চাপেন। এআইকে বিভ্রান্ত করার জন্য চাপ ও আঙুলে বৈচিত্র্য রাখা হয়। তবে এআই প্রতিটি চাপের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মতো বিভিন্ন জিনিস বিশ্লেষণ করে সঠিকভাবে অক্ষরগুলো চিহ্নিত করতে সমর্থ হয়। স্মার্টফোন দিয়ে পরীক্ষার সময় একটি ‘আইফোন ১৩ মিনি’ কি-বোর্ড থেকে ১৭ সেন্টিমিটার দূরে রাখা হয়।

এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় জুম। তারা জানায়, গ্রাহকদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি জুম খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। ব্যবহারকারীরা ব্যাকগ্রাউন্ড শব্দ ব্যবহার কিংবা মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার সময় মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখলে তথ্য থাকবে সুরক্ষিত। এ ছাড়া কম্পিউটার বা ল্যাপটপে টাইপ করার সময় মাইক্রোফোন বন্ধ থাকলে এআইয়ের মাধ্যমে তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
এম.কে
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

 

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

পাসপোর্ট বোর্ডিং পাস ছাড়াই প্লেনে উঠে গেল এক বালক

সোমবার রাত সোয়া তিনটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল কুয়েত এয়ারলাইন্স। আনুষ্ঠানিক সব প্রস্তুতি শেষ করে যাত্রীদের উঠিয়েই আকাশে ওড়ার কথা ছিল প্লেনটির। তবে শেষ মুহূর্তে বাঁধে বিপত্তি, প্লেনের গেটে উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে। বিমানের ভেতরে ঢুকছিল না সে।

পরে সংশ্লিষ্ট কেবিন ক্রু ছাড়াও দায়িত্বে থাকা অন্যরা শিশুটিকে নিজের সিটে গিয়ে বসার অনুরোধ করেন। এরপর জুনায়েদ মোল্লা নামের সেই ছোট্ট শিশুটি সিটে গিয়ে বসলেও তার আচরণে কিছু একটা সন্দেহ হয় কেবিন ক্রুর। এরপর শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বসতে বলার পরপরই চোখ কপালে উঠে সেই কেবিন ক্রুর। শিশু জুনায়েদ জানায়, তার বাবা-মা কেউ সেখানে নেই!

৮-১০ বছর বয়সী শিশুটি কার সঙ্গে প্লেনে উঠেছে সেটাও বলতে পারছিল না। এমনকি তার সঙ্গে পাসপোর্ট, টিকিট কিংবা বোর্ডিং পাস কিছুই ছিল না। পরবর্তীতে শিশুটিকে বিমান থেকে নামিয়ে রানওয়েতে থাকা কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা শিশু জুনায়েদকে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে আসেন এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এমন ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।

আকাশপথে বিদেশ যেতে চাইলে পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াও বিমানবন্দর অতিক্রমের জন্য বোডিং পাসের দরকার হয়। শিশু জুনায়েদের ক্ষেত্রে এসবের কিছুই ছিল না। এমনকি তার সঙ্গে কোনো অভিভাবকও ছিল না।

শিশু জুনায়েদ মোল্লাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর জানা যায়, তার বাবার নাম ইমরান মোল্লা। গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়ইহাতি গ্রামে। তবে পুলিশ ও এভিয়েশন সিকিউরিটি কেউই শিশু জুনায়েদ কীভাবে ঢাকায় এলো তা জানতে পারেনি।

এ বিষয়ে কথা হলে বিমানবন্দর থানার ওসি আজিজুল হক মিয়া বলেন, শিশুটির বাবা একজন দিনমজুর। ঘটনার চারদিন আগে থেকে নিখোঁজ ছিল জুনায়েদ। এর দেড় মাস আগেও সে নিখোঁজ হয়েছিল। আমরা শিশুটিকে তার চাচার কাছে বুঝিয়ে দেব। তার চাচা থানায় আসবেন। এ জন্য গোপালগঞ্জ থেকে রওয়ানা হয়েছেন।

এম.কে
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

 

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে “মি-টু” ভাইরাসে আক্রান্ত শল্যবিভাগ

যুক্তরাজ্যে মহিলা সার্জনেরা যৌন নির্যাতন, হয়রানি এবং সহকর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ চেষ্টার রিপোর্ট করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে রিপোর্ট প্রকাশ পায়। একটি নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী এটাকে সার্জারীর মি টু মোমেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

এনএইচএসে কর্মরত প্রায় তিনজন মহিলা সার্জন গত পাঁচ বছরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। ব্রিটিশ জার্নাল অফ সার্জারিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় অংশ নেওয়া সার্জনরা ধর্ষণের এগারোটি দৃষ্টান্তের খবর দেন যা গোটা ব্রিটেন জোর আলোচনার জন্ম দেয়।

সমীক্ষায় এনএইচএসের শ্রেণিবদ্ধ কাঠামো সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। সমীক্ষায় আরো দেখা যায় ৪০ শতাংশেরও বেশি মহিলা সার্জন তাদের দেহ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খারাপ মন্তব্য শুনতে পান সহকর্মীদের নিকট হতে এবং ৩৮ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে যৌনলালসার শিকার হয়েছেন।

তাছাড়া অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ, অশ্লীল মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৯০ শতাংশ মহিলা বলেছেন তারা গত পাঁচ বছরে যৌন দুর্ব্যবহারের সাক্ষী হয়েছেন এবং ৮১ শতাংশ পুরুষ একই উত্তর দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অফ সার্জনস -এর সার্জারি ফোরামে মহিলাদের সভাপতি সার্জন তামজিন কামিং বলেন, প্রতিবেদনের সুপারিশগুলি যথাযথ তদারকি করার জন্য এবং যৌন দুর্ব্যবহারের ঘটনাগুলি স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য একটি জাতীয় বাস্তবায়ন প্যানেল তৈরি জরুরি।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের জাতীয় ক্লিনিকাল নেটওয়ার্কের সভাপতিত্বকারী ডাঃ বিন্টা সুলতান বলেছেন, প্রতিবেদনে “স্পষ্ট প্রমাণ” উপস্থাপন করা হয়েছে যৌন নিপিড়নের। হাসপাতালগুলিকে একটি নিরাপদ স্থান হিসাবে গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, “যৌন দুর্ব্যবহার প্রায়শই ঘটে এবং গভীরভাবে শ্রেণিবদ্ধ কাঠামো বিভিন্ন কারণে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া অনেক সময় যায় না। তাছাড়া লিঙ্গ এবং শক্তি ভারসাম্যহীনতার সংমিশ্রণের কারণে সবাই সোচ্চার হতেও ভয় পায়।

ইংল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অফ সার্জনসের সভাপতি টিম মিচেল বলেছেন, এই জাতীয় বিশ্রী আচরণের স্থান এনএইচএসের কোথাও নেই। এটিকে “ঘৃণ্য” হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমরা কখনও এই জাতীয় আচরণ সহ্য করব না। তিনি প্রতিবেদন সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে হতবাক হয়ে পড়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান।

এম.কে
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে আত্মহত্যা কমাতে প্যারাসিটামল বিক্রি সীমিত করার পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্য সরকার আত্মহত্যায় মৃত্যুর পরিমাণ কমাতে প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধের সহজলভ্যতা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এটি সম্প্রতি উন্মোচিত জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কৌশলের অংশ। সর্বশেষ এই ধরণের কৌশল ১০ বছরেরও বেশি আগে প্রকাশিত হয়েছিল। দেশটির চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে দোকানে প্যারাসিটামল কেনার সংখ্যা হ্রাস করা উচিত। এই হ্রাসের কারণে যুক্তরাজ্যে আত্মহত্যার হার কমাতে সাহায্য করতে পারে কিনা তা পর্যালোচনা করতে বলেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্যারাসিটামল হলো যুক্তরাজ্যে ব্যাথার জন্য ব্যবহৃত সবচেয়ে সাধারণ ওষুধ এবং এটি লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে। গবেষণাটিতে ৮০ জন রোগীর ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে লোকেরা দোকান থেকে সর্বাধিক দুই প্যাকেট প্যারাসিটামল কিনতে পারে। যেখানে ৫০০ মিলিগ্রামের ১৬ টি ট্যাবলেট থাকে। কিন্তু সরকার মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সিকে এই বিষয়ে আরও অধিকতর বিবেচনা করতে বলেছে।

দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) বলেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ৫০০০ জনেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যায়।

এম.কে
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

রোহিঙ্গাদের জন্য ৪২ কোটি টাকা দিবে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের স্থায়ী আন্ডার সেক্রেটারি ফিলিপ বার্টন কক্সবাজার ও ভাসান চরের রোহিঙ্গাদের জন্য আরও তিন লাখ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ৪২ কোটি টাকা মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।

ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার এই নতুন সহায়তা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রদান করবে।

ফিলিপ বার্টন পঞ্চম যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ কৌশলগত সংলাপে অংশ নিতে ঢাকা সফর করছেন। এ সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ইউএনএইচসিআর’র মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সরকারের আরও তিন লাখ পাউন্ড সহায়তা ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত। নতুন এই সহায়তা কক্সবাজার এবং ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন পরিষেবা এবং রান্না করার জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতার পর তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর পর ছয় বছর অতিবাহিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ও এই সংকট দ্বারা আক্রান্ত সকলের পাশে আছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৩৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে।

এম.কে
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

রোবট ইতিমধ্যেই মানবহত্যা করতে শুরু করেছে

এআই প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে পৃথিবীর বদল আসন্ন। তবে এআই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবট বিপ্লব শুরু হয়েছে অনেক আগেই মানবহত্যার সূত্রপাত তখন থেকেই। তারা উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন ১৯৭৯ সালের ২৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড মোটর কোম্পানির কারখানায় একটি রোবটের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গুদাম থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ বয়ে আনার কাজ করতো রোবটটি। কারখানার মানব কর্মীরা মনে করেন, ত্রুটির কারণে রোবটটি যথেষ্ট দ্রুত কাজ করছে না। কাজে গতি আনতে ২৫ বছরের এক কর্মী রবার্ট উইলিয়ামসকে গুদামের তাকের ওপর উঠে যন্ত্রাংশ আনতে বলেন তার সহকর্মীরা। উইলিয়ামস তাকের ওপর উঠতেই তার মাথায় এক টন ওজনের রোবটটির একটি বাহু আঘাত করে। আঘাতে চূর্ণ হয় তার খুলি, মারা যান সঙ্গে সঙ্গে।

১৯৮১ সালে জাপানের কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় প্রায় একইভাবে মারা যান কেনজি উরাদা নামের আরেক কর্মী। তিনি যখন যান্ত্রিক ত্রুটি কবলিত একটি রোবট পরীক্ষা করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সেটি চলতে শুরু করে, আর তার সামনে পড়ে নিহত হন উরাদা।

নিজ বই ‘হোয়েন রোবটস কিল: আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আন্ডার ক্রিমিনাল ল’-তে এমন বর্ণনাই দিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল হ্যালেভি। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ‘সামনে থাকা হুমকি অপসারণে, মানবকর্মীকে পাশের একটি মেশিনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়- এমন সিদ্ধান্ত নেয় রোবটটি।’

তথ্যানুযায়ী ১৯৯২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই কর্মস্থলে রোবটের হাতে মারা পড়েছেন ৪১ জন। তবে এটা নথিভুক্ত সংখ্যা, প্রকৃতপক্ষে তা বেশিই হবে।

২০০৭ সালে রোবটিক একটি বিমান-বিধ্বংসী কামান দক্ষিণ আফ্রিকার ৯ সেনাকে হত্যা করে। সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে কামানের মুখ এলোমেলোভাবে ঘুরতে ঘুরতে গোলাবর্ষণ করে, পুরো ঘটনাটি ঘটে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আরো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশ– যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি হওয়ার এই হুমকিকে কেবল বাড়িয়েই তুলেছে। দেশে দেশে এই হুমকি যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় এরমধ্যেই চলছে ‘চালকহীন’ গাড়ি; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করছেন রোবট কুকুর। আবার কম্পিউটার-চালিত ব্যবস্থাগুলোকে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে – ফলে তারা ভার্চুয়াল জগতের বাইরের বাস্তব জগতকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করার শক্তি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কীভাবে রোবট ব্যবহৃত হবে–তার জন্য থাকা চাই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। আইনের বাঁধা না থাকলে- রোবটের বাণিজ্যিক ব্যবহার মঙ্গলময় হবে না। মনে রাখা দরকার, সব ধরনের সতর্কতার পরেও দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।

উল্লেখ্য যে, এআই ও রোবটিক্স কোম্পানিগুলো চায় না আইনের বাঁধা আসুক। চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক সংস্থা- ওপেনএআই প্রকাশ্যেই এ শিল্পের সুরক্ষা বিধিমালা শিথিল করার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা চ্যাটজিপিটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকি’র শ্রেণিতে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা না করতে ইইউ’তে তদ্বির করে কোম্পানিটি। ওপেনএআই এ প্রচেষ্টা না চালালে– ইইউ আরও কঠোর শর্ত দিত, যার আলোকে নিশ্চিত হতো স্বচ্ছতা ও মানব নজরদারি।

এম.কে
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

বাংলাদেশিদের টার্গেট করে অনলাইনে জুয়া, আটক ১২

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের টার্গেট করে অনলাইনে জুয়া খেলার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।

রোববার ব্রিকফিল্ড জেলা পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার আমিহিজাম আবদুল শুকর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত শুক্রবার দেশটির ক্লাং উপাত্যকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে ছয়জন স্থানীয় পুরুষ এবং ১৯ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ছয়জন বিদেশি পুরুষ নাগরিক রয়েছেন।

এর মধ্যে ছয়জনকে তিনদিন এবং বাকিদের দণ্ডবিধির ৪২০/১২০বি ধারা এবং ১৯৫৩ সালের উন্মুক্ত জুয়ার আইনের ৪(১) ধারা অনুযায়ী তদন্তের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত চার দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটকৃতদের মোবাইল ও কম্পিউটার চেক করে অনলাইন জুয়ার লেনদেনের অসংখ্য তথ্য পাওয়া গেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত ১৯টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি ল্যাপটপ, চারটি কম্পিউটার, একটি আইপ্যাড, তিনটি পাসপোর্ট, দুটি রাউটার মডেম, একটি অ্যাকসেস কার্ড ও একটি বাড়ির চাবি জব্দ করা হয়।

এই জুয়া ও লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

আটককৃতরা সবাই সুপারভাইজার এবং কাস্টমার সার্ভিস অফিসার হিসেবে কাজ করত এবং বিশেষ করে এই সিন্ডিকেট দল মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের টার্গেট করে আসছিলেন বলেও জানান ব্রিকফিল্ড জেলা পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার।

এম.কে
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে শিশুদের বাড়ছে রোগ

সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। একই কারণে দেশটির শিশুদের আইকিউ কমে যাচ্ছে, যার ফলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হবার ঝুঁকি বাড়ছে।

চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে’ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

‘গ্লোবাল হেলথ বার্ডেন অ্যান্ড কস্ট অব লেড এক্সপোজার ইন চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডাল্টস: অ্যা হেলথ ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড ইকোনমিক মডেলিং অ্যানালাইসিস’ নামের এই গবেষণাটি করেছেন বিশ্বব্যাংকের একদল গবেষক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, সীসা দূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। এর ফলে একদিকে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি শিশুদেরও আইকিউ কমে যাচ্ছে।

আর্থিক ক্ষতির হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৬৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির ২০১৯ সালের মোটি জিডিপি’র প্রায় ৬ থেকে ৯ শতাংশের সমান।

সীসা সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে শিশুদের। মাত্রার চেয়ে বেশি সীসা শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. প্রিসিলা ওবিল এ প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রায় সীসার উপস্থিতি তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সীসা দূষণ রোধে এখনই উপযুক্ত সময়। এই সমস্যাকে সমূলে উৎপাটনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।”

এম.কে
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক

১৮ বছর পর স্ট্রোক রোগীকে কথা বলাল এআই

একটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে শারীরিক উন্নতি ঘটছে প্যারালাইজ হয়ে যাওয়া মানুষদের। যে সকল মহিলা স্ট্রোকের কারণে কথা বলা বা যোগাযোগ করার শারীরিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন তাদের কল্যাণে কাজ করছে এই প্রযুক্তি।

স্ট্রোকের কারণে প্যারালাইজড মহিলাদের মস্তিষ্কের সংকেতকে মুখের অভিব্যক্তিতে রূপান্তর করে একটি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

প্যারালাইজড রোগীদের কথোপকথনে প্রায়শই চোখের নড়াচড়া এবং শব্দ গঠনের সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি জড়িয়ে থাকে। তাদের কথার আসল উদ্দেশ্যে ও আবেগ বুঝতে অসুবিধা হত মানুষদের। সেই ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি তাদের সঙ্গে কথোপকথন মসৃণ করতে সাহায্য করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অ্যান নামের একজন মহিলা রোগীর উপর এই পরীক্ষা করা হয়েছে। এই মহিলা ব্রেনস্টেম স্ট্রোকের পর ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কথোপকথন করতেন খুব ধীর গতিতে। বিশেষ মোশন ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ১৪টি শব্দ বলতে পারতেন তিনি।

সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, আলোচ্য এআই ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় অ্যানের কথোপকথন আগের থেকে উন্নত হয়েছে। জানা গিয়েছে, অ্যানের মস্তিষ্কের ত্বকে ২৫৩টি কাগজ-পাতলা ইলেক্ট্রোড বসিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

অ্যান কিছুটা সুস্থ হবার পরে এআই ডিজিটাল প্রযুক্তির একটি দলের সঙ্গে যোগ দেন। উক্ত এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তিনি বর্তমানে কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করা শুরু করেছেন বলেও জানায় বিশ্ব গণমাধ্যম।

এম.কে
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

ব্রিটেনে অভিবাসীদের জন্য আসছে কঠিন সময়

ব্রিটে‌নে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিমালা কার্যকর ক‌রে আগামী বছর অভিযান শুরু হ‌তে পা‌রে এমন আশঙ্কা কর‌ছেন দেশটির রাজ‌নৈ‌তিক ও অভিবাসন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ইতোমধ্যে এমন পদক্ষেপ সরকার নিয়েছে যাতে করে বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের কাজ ও বসবাসের সুযোগ কমে এসেছে, নীতিমালা কঠোর করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে তুষ্ট করতে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও বিরোধী দল লেবার পার্টি অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। এমন প‌রি‌স্থি‌তি‌তে বাংলাদেশসহ বি‌ভিন্ন দেশ থে‌কে আসা ক‌য়েক লাখ অভিবাসীর জীবনে বড় ধর‌নের অনিশ্চয়তা নেমে আসতে পা‌রে।

ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও স্থানীয় বাংলাদেশি অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে কাজের অনুমতি না থাকা অভিবাসীদের কেউ নিয়োগ দিলে ১৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানার আইন কার্যকর হবে। এতে করে অবৈধ অভিবাসীদের কাজের সুযোগ কমে যাবে।

ব্রিটে‌নে ইন‌ডে‌ফি‌নিট লিভ টু রি‌মেই‌ন বা রেসিডেন্সির বৈধতা বর্তমানে পাঁচ বছ‌রে পাওয়া গেলেও ৫ জুনের এক সরকারি ঘোষণায় তা ৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৮ বছ‌রের প্রস্তাব কার্যকর হ‌লে বাড়তি এক্সটেনশন ও সেই এক্সটেনশন পর্যন্ত নিয়োগদাতার লাইসেন্স না থাক‌লে নতুন ক‌রে মেয়াদ বাড়া‌নো নি‌য়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হ‌বে আবেদনকারীদের।

বৈধ কাগজপত্রহীনদের ঘর ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হ‌য়ে‌ছে কড়াকড়ি। অভিযান চল‌ছে নির্দিষ্ট সংখ‌্যার চে‌য়ে বে‌শি সংখ‌্যায় বসবাস ক‌রেন এমন বাসাবাড়িতে। এমনকি ভিসার মেয়াদ থাকার পরও নিজ দে‌শে ছু‌টিতে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থী‌দের বিমানবন্দর থে‌কে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা ঘটছে।

ব্রিটেনের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব‌লেন, ব্রিটেনের আগামী নির্বাচনকে সাম‌নে রেখে প্রধান দলগু‌লো অভিবাসনবি‌রোধী নী‌তি‌কে সাম‌নে রেখে এগো‌চ্ছে। লেবার পার্টি বরাবরই অভিবাসীদের প্রতি সহানুভু‌তিশীল ছিল। কিন্তু এখন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের সমর্থিত দল কনজারভেটিভ পা‌র্টির সঙ্গে লেবার পা‌র্টির অভিবাসন নি‌য়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি তেমন আলাদা না।

তিনি আরও ব‌লেন, লেবার পার্টিতে বর্তমান শীর্ষ নেতার সঙ্গে টেড্র ইউনিয়ন নেতাদের নীতিগত দূরত্ব বাড়ছে। দলের বামধারার এমপিদের প্রতি বৈরী মনোভাব, তাদেরকে গুরুত্বহীন করে রাখা প্রবণতা রয়েছে বর্তমান নেতার।

আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে লেবার পার্টি ক্রমাগত ডানপন্থি অবস্থান নিচ্ছে। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় ইতোপূর্বে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে কৌশলপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন দলটি নেতা।

অন্যদিকে অভিবাসনবি‌রোধী শ্বেতাঙ্গ ভোটার‌দের টান‌তে ও জনমত জ‌রি‌পে পিছিয়ে থাকায় নির্বাচ‌নে বড় পরাজয় এড়াতে অভিবাস‌নে সবচেয়ে বড় কড়াক‌ড়ি আরোপ কর‌তে চায় ক্ষমতাসীন কনজার‌ভে‌টিভ পা‌র্টি। আর তা তারা করতে চায় অভিবাসী পরিবার থেকে উঠে ভারতীয় বং‌শোদ্ভুত ‌ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের হাত দি‌য়েই।

উল্লেখ্য, ব্রিটে‌নে বসবাস ও কাজের বৈধতা ছাড়াই পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ অনেক বছর ধরে রয়েছেন। অতীতে কয়েক দফা তাদের বৈধতা দেওয়ার আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও বরিসন জনসন থেকে শুরু করে ঋষি সুনাক পর্যন্ত কেউ-ই কার্যকর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

স‌ঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশি বৈধ কাগজপত্র বিহীনভা‌বে ব্রিটেনে বসবাস কর‌ছেন। ব্রে‌ক্সিট পরবর্তী প‌রি‌স্থি‌তি‌তে তা‌দের বৈধতা দেওয়া আশ্বাস মিলেছিল। তখন অনেকে ধারণা ক‌রে‌ছি‌লেন, নতুন জনশক্তি না এনে পুর‌নো বৈধতাহীনদের বৈধতা দি‌লে অর্থনীতি লাভবান হ‌বে। তাদেরকে ব্রি‌টিশ অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত ক‌রে কর আদায় কর‌তে পারবে সরকার।

 

এম.কে
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩