Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

এবার সাংবাদিকদের অর্থ আয়ের রাস্তা দেখালেন ইলন মাস্ক

ধনকুবের ইলন মাস্ক এবার সাংবাদিকদের বেশি আয়ের পথ বাতলে দিয়েছেন। তার নিয়ন্ত্রিত সোশ্যাল মাধ্যম থেকে অর্থ আয় করা যাবে বলে জানিয়েছেন এ বিতর্কিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। এজন্য সরাসরি এক্সে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। টেসলার প্রধান নির্বাহী জানান, সাংবাদিকরা সরাসরি এক্সে সংবাদ প্রকাশ করলে বেশি আয় করতে পারবেন। সঙ্গে লেখার স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেন এ খ্যাপাটে উদ্যোক্তা।

মঙ্গলবার ভোরে ইলোন টুইটে লেখেন, লেখার স্বাধীনতা ও বেশি অর্থ উপার্জন করতে চান-আপনি যদি এমন সাংবাদিক হন তবে সরাসরি এ প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রকাশ করুন।

কিছুদিন আগে জনপ্রিয় মাইক্রো ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম টুইটারকে এক্স নামে রিব্র্যান্ডিং করেন মাস্ক। এবারই প্রথম নয় আগেও আর্টিকেল প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, মাসিক সাবস্ক্রিপশন না থাকলে ব্যবহারকারীদের আর্টিকেল প্রতি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সাবস্ক্রিপশন থাকলে তাদের খরচ কমবে।

এম.কে
২৩ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক

এক্স প্রসঙ্গে ইলন মাস্কঃ আমরা ব্যর্থ হতে পারি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের সত্ত্বাধিকারী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ‘ব্যর্থ’ হতে পারে। সম্প্রতি একটি কারিগরি সমস্যার কারণে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের আগে টুইট করা বেশিরভাগ ছবি এই প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে গেছে।

সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। এক্সে পোস্ট করে মাস্ক বলেন, ‘দুঃখজনক সত্যটি হল, এ মুহূর্তে কোনো অসামান্য ‘সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক’ নেই। অনেকের পূর্বাভাসকে সত্যে পরিণত করতে আমরা ব্যর্থ হতে পারি।

টুইটারকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিকবার রদবদল করেছেন মাস্ক। যার মধ্যে রয়েছে, প্ল্যাটফর্মে বৈপ্লবিক নতুন পরিবর্তন নিয়ে আসা, টুইটারের কর্মীবাহিনীর ৭৫ শতাংশকে ছাঁটাই করা এবং সর্বশেষ ঘোষণা মতে, এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্লক সেবা উঠিয়ে নেওয়া।

মাস্ক টুইটারের নিয়ন্ত্রণভার নেওয়ার থেকেই এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকবার লম্বা সময়ের জন্য সেবাটি বন্ধও ছিল। সর্বশেষ এই সমস্যায় ২০১৪ সালের আগে পোস্ট করা ছবি ও লিংক সম্বলিত টুইট বার্তাগুলো প্রভাবিত হচ্ছে।

টুইটারে কোনো লিংক পোস্ট করা হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছোট করে দেওয়া হয়। এই সেবাকে ‘বিল্ট-ইন ওয়েব লিংক শর্টেনার’ বলা হয়। এই সেবার মাধ্যমে পোস্ট করা লিংক ও ছবিসহ পোস্টগুলো নিয়েই মূলত সমস্যা দেখা দিয়েছে।

শুরুতে ২০১৪ সালের অস্কারের সঞ্চালক, কৌতুক অভিনেতা এলেন ডিজেনেরেসের সবচেয়ে বেশিবার রিটুইট হওয়া ছবিটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে এক্স কর্তৃপক্ষ এই ছবিটি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও সে সময়ের বেশিরভাগ টুইট দেখা যাচ্ছে না বা সেগুলোতে থাকা ছবি ও লিংক কাজ করছে না।

ব্রাজিলের ইউটিউবার টম কোয়াতেস এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘এটা ইলন মাস্কের বিধ্বংসী আচরণের সর্বশেষ উদাহরণ। টুইটার এখন ২০১৪ সালের আগে পোস্ট করা সব মিডিয়া মুছে ফেলেছে।

এই কারিগরি ত্রুটি এমন সময় দেখা দিলো যখন মাস্কের এক্স স্বেচ্ছায় প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন থ্রেডস, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পেজগুলোতে যাওয়ার লিংকের গতি কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও, গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো কিছু সংস্থার পেজেও একই কাজ করে এক্স।

এক্স থেকে বের হয়ে ইন্টারনেটের অন্য কোনো সাইটে যাওয়ার লিংকে ক্লিক করার পর প্রায় ৫ সেকেন্ড বিলম্বের একটি ফিচার যোগ করে এক্স। কিছু বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এক্স মিডিয়া সার্ভারের জায়গা বাঁচাতে ব্যবহারকারীদের পুরনো ছবিগুলো দেখতে দিচ্ছে না। এটি হতে পারে খরচ বাঁচানোর উদ্যোগ।

উল্লেখ্য যে, কিছু মানুষ এখন তাদের পুরনো ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছেন। তবে কেন এই কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছিল তা এখনো জানা যায়নি।

এম.কে
২৩ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক

স্বামীকে ভাগে পেতে দুই স্ত্রী’র শান্তি চুক্তি

স্বামীকে ভাগাভাগি করে দুই স্ত্রী চুক্তি করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন করে স্বামীকে কাছে পাবেন দুই স্ত্রী। বাকি একদিন স্বামী নিজের মতো করে সময় কাটাবেন। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিওরে এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সেখানকার এক বাসিন্দা কর্মসূত্রে থাকেন গুরুগ্রামে। ২০১৮ সালে পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় ২৮ বছর বয়সি সীমার। এর পর দম্পতির জীবনে আসে এক পুত্র সন্তান। বেশ সুখেই চলছিল তাদের পরিবার। কিন্তু করোনা মহামারি যেমন বিশ্ববাসীর জীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছে, তেমনই ওলটপালট করে দেয় দম্পতির জীবনেও।

২০২০ সালে করোনাকালে স্ত্রী এবং ছেলেকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসেন ওই ব্যক্তি। লকডাউন চলাকালীন দীর্ঘ সময় তারা একাই ছিলেন। আর তখনই শুরু হয় সমস্যার সূত্রপাত।

স্ত্রীর থেকে আলাদা থাকাকালীনই সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই ইঞ্জিনিয়ারের। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও বাঁধা মানেনি তাদের প্রেম। শেষে আইনি বিচ্ছেদ না করেই সেই সহকর্মীকে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওই ব্যক্তি। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই তাদের একটি কন্যাসন্তান হয়।

দুটি সংসারই বেশ চালিয়ে যাচ্ছিলেন গুরুগ্রামের ওই ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের বিষয় তিনি বেশি দিন চেপে রাখতে পারেননি । স্বামীর পুনরায় বিয়ের কথা শুনেই স্বাভাবিকভাবেই রাগে ফেটে পড়েন প্রথম স্ত্রী। এমনকী ছেলের আর্থিক সহায়তার জন্য সীমা স্বামীর বিরুদ্ধে মামলাও করেন। সমাধান খুঁজতে তারা কাউন্সেলিংয়ের দ্বারস্থ হন। তখনই দুই স্ত্রীর স্বামীকে নিয়ে ‘চুক্তি’-তে আসেন বলে জানিয়েছেন কাউন্সেলর হরিশ দেওয়ান।

চুক্তিতে স্বামীকে দুই স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মধ্যে সপ্তাহ ভাগ করে নিতে হয়। ঠিক হয়, দুজন স্ত্রী তিন দিন করে স্বামীকে কাছে পাবেন। আর রবিবার ওই ব্যক্তি নিজের মতো সময় কাটাতে পারবেন। এমনকী শান্তিতে থাকতে দুই স্ত্রীকেই ইঞ্জিনিয়ার স্বামী গুরুগ্রামে দুটি পৃথক ফ্ল্যাটও দিয়েছেন।

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

ব্রিটিশ মিউজিয়ামে চুরি, কর্মী বরখাস্ত

লন্ডনের বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে এবার প্রদর্শনীর মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়।

এতে বলা হয়েছে, মিউজিয়ামের বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস চুরি ও হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে স্বর্ণ, গহনা ও দামি মূল্যবান পাথর রয়েছে। এ ঘটনায় এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হারানো ও চুরি হওয়া জিনিসপত্রের বেশির ভাগ স্টোররুমে রাখা ছিল।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পরিচালক হার্টউইগ ফিশ্চার বলেন, হারানো মালামাল উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমি আমার সব সহকর্মীর জিনিসপত্র সুরক্ষায় সর্বোচ্চ তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জাদুঘরের নিরাপত্তা আরও জেরাদার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে হারানো, ক্ষতি হওয়া ও চুরি হওয়া জিনিসের নির্দিষ্ট তালিকা করতে কাজ চলছে। এ ছাড়া বরখাস্ত হওয়া কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে চুরির ঘটনায় মহানগর পুলিশ তদন্ত করছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। এ ছাড়া মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হারানো এসব জিনিস খ্রিস্টপূর্ব ১৫ থেকে ১৯ শতকের বিভিন্ন সময়ের নিদর্শন। এগুলো একাডেমিক ও গবেষণার জন্য প্রদর্শন করা হয়েছিল।

সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, এসব জিনিস ২০২৩ সালের আগে একটা উল্লেখযোগ্য সময় ধরে সরানো হয়েছিল।

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যের সিরিয়াল কিলার নার্সকে থাকতে হবে আমৃত্যু কারাগারে

কারাগার থেকে জীবিত বের হতে পারবেন না যুক্তরাজ্যের ‘সিরিয়াল কিলার’ নার্স লুসি। সাত শিশুকে হত্যার দায়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিচারে তার বিরুদ্ধে আরও ছয় শিশুকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টের বিচারক জেমস গস লুসি লেটবির বিরুদ্ধে আজীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। তবে রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় ছিলেন না লুসি। এজলাসে হাজির হতে চাননি তিনি।

রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। তখন নিহত শিশুদের দু-এক জনের বাবা-মা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন।

যুক্তরাজ্যের কাউন্টেস অব চেস্টার হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন লুসি লেটবি। সেখানেই তিনি হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাগুলো ঘটিয়েছেন। লুসি লেটবিকে আধুনিক যুক্তরাজ্যে শিশু হত্যায় সবচেয়ে বড় ‘সিরিয়াল কিলার’ বলা হচ্ছে।

৩৩ বছর বয়সী লুসি ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত মাত্র এক বছরের মধ্যেই সবগুলো অপরাধ সংঘটন করেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের ইনজেকশনে বাতাস ঢুকিয়ে দিতেন এবং জোর করে মাত্রাতিরিক্ত দুধ পান করানো ছাড়াও নবজাতকের শরীরে ইনসুলিন আকারে বিষ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটিয়েছেন।

বিচারে সর্বশেষ রায়ের দিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে অস্বীকার করেন লুসি। প্রায় ৭৬ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর ৮ আগস্ট বিচারক প্যানেল প্রথম অভিযোগের রায় পড়েছিলেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন লুসি। ১১ আগস্ট দোষী সাব্যস্ত করে দ্বিতীয় রায় পড়ার সময়ও মাথা নিচু করে কেঁদেছিলেন তিনি।

এই বিচারের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে ইতিপূর্বে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও লুসি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমগুলোকে প্রতিবেদন প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২২ সালের অক্টোবরে লুসি লেটবির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সে সময় প্রসিকিউশন তাকে ‘বিপথগামী’ হিসেবে আখ্যা দেয় এবং বলে যে নিজের হত্যাচেষ্টাগুলোকে গোপন করার জন্য তিনি সহকর্মীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন।

একের পর এক শিশু হত্যার এই বিষয়টি বিশ্বজুড়ে নাড়া দিয়েছে। অনেকেই শিশুগুলোকে কী কারণে লুসি হত্যা করেছেন তা জানতে উদ্‌গ্রীব ছিলেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, লুসি কেন এসব করেছিলেন সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কিছু কারণ আদালতে তুলে ধরেছেন আইনজীবীরা। এর মধ্যে এক চিকিৎসকের প্রতি তার দুর্বলতা ও গোপন সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন তারা।

শুনানিতে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে কোনো শিশুর অবস্থা গুরুতর হলেই ওই চিকিৎসককে চিকিৎসার জন্য ডাকা হতো। তাই লুসি হয়তো শিশুদের ওপর হামলা করে গুরুতর অসুস্থ বানিয়ে ওই চিকিৎসককে কাছে পেতে চাইতেন।

আদালতের নথিতে উল্লেখ আছে, লুসি এবং সেই চিকিৎসক হাসপাতালের বাইরেও বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলেন। তাদের মধ্যে হওয়া কথোপকথনগুলো ভালোবাসার ইমোজিতে ভরা।
তবে চিকিৎসকের সঙ্গে গোপন সম্পর্কের বিষয়টিকে অস্বীকার করেছেন লুসি লেটবি।

আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মানসিকভাবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিলেন লুসি। শিশুদের ক্ষতি করে তিনি হয়তো নিজেকে সৃষ্টিকর্তার মতো শক্তিমান কোনো কিছু ভাবতেন। যা ঘটছিল তা থেকে আনন্দ পাচ্ছিলেন। শিশুদের আঘাত করে তিনি হয়তো পৈশাচিক কোনো আনন্দ পেতেন। আর আঘাতের পর কী ঘটতে যাচ্ছে—তা অনুমান এবং মিলিয়ে দেখতেন তিনি।

জানা গেছে, লুসি লেটবিকে দুইবার গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালে তৃতীয়বার গ্রেপ্তারের পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র ও হাতে লেখা একটি চিরকুটও পায় পুলিশ। চিরকুটে লেখা ছিল–‘আমি খুব খারাপ, আমি এটা করেছি।’

এ ছাড়াও লুসি লেটবির লেখা কিছু কাগজপত্রও উপস্থাপন করা হয় আদালতে। একটি কাগজে লেখা ছিল, ‘আমি তাদের হত্যা করেছি; কারণ, তাদের পরিচর্যার কাজে আমি অতটা ভালো নই।’

আরেকটি কাগজে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি কখনোই সন্তান নেব না, বিয়েও করব না। পরিবার কেমন, তা আমি কখনোই জানতে পারব না।’

এদিকে বিচারকদের কাছে লুসি দাবি করেন, যেসব শিশুর কম যত্নের প্রয়োজন হতো, তাদের পরিচর্যা করে তিনি কোনো আনন্দ পেতেন না। শিশুরা বেশি অসুস্থ থাকলেও তিনি কাজে মনোযোগ দিতে পারতেন।

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কাবাডি ম্যাচ বদলে গেলো হিংস্রতায়

যুক্তরাজ্যের ডার্বিশায়ারের আলভাস্টনে একটি কাবাডি টুর্নামেন্ট চলছিলো। হঠাৎ খেলা চলাকালীন সময়ে বন্দুক ও তলোয়ার নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেন দুই দলের সমর্থকরা। সংঘর্ষের জেরে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে বলে জানা যায়। উত্তেজিত জনতাকে পালিয়ে যেতেও দেখা গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি দলের সমর্থকদের হাতাহাতির জেরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন তলোয়ার দিয়ে হামলা করার আগে একজনকে গুলি করা হয়েছিল। তারপর একাধিকবার তলোয়ারের কোপ দেয়া হয় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে। খবর পাবার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা ২০টিরও বেশি পুলিশের গাড়ি ঘটনাস্থলে আসতে দেখেছেন।

পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রবিবার দুপুরে আলভাস্টনের এলভাস্টন লেনে একটি বড় আকারের গোলযোগের জন্য পুলিশকে ডাকা হয়েছিল।প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, দুটি দলই সহিংসতার জন্য দায়ী ছিল।

খেলা চলাকালীন উভয় দলের সমর্থকদের সহিংসতায় তিনজন আহত হয়েছন, যাদের মধ্যে একজনের আঘাত গুরুতর বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

উল্লেখ্য যে, ঘটনা পরবর্তী এলাকা জোরে বিপুল পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। খেলার মাঠে এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে পালাতে চেষ্টা করেন উপস্থিত থাকা দর্শকরাও। হুড়মুড় করে মাঠ ছাড়ছেন বহু মানুষ, সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভয়াবহ এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়।

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

স্প্যানিশ রিসোর্টে ব্রিটিশ কিশোরীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৬ ফরাসি পর্যটক

স্পেনের মাজোর্কা দ্বীপের ম্যাগালুফ রিসোর্টে এক ব্রিটিশ কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছয় ফরাসি পর্যটককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ফরাসি পুরুষদের বিরুদ্ধে তাদের ফোনে ১৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ কিশোরীর ওপর হামলার চিত্রগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

একটি স্প্যানিশ পত্রিকা জানায়, স্প্যানিশ হলিডে রিসোর্টে স্থানীয় সময় গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। তিনি একটি পার্টিতে একদল তরুণ ফরাসির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পরে তারা সবাই একটি হোটেলে যান। এরপর ওই কিশোরীকে একটি কক্ষে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে ওই কিশোরী তার ওপর আক্রমণ করা লোকদের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং রাস্তায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা অবিলম্বে পুলিশকে ডাকেন এবং তার বর্ণনার ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।

একজন মেডিক্যাল পরীক্ষক তার বাহুতে আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে চলতি সপ্তাহে আদালতে হাজির করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ম্যাগালুফ হলো স্প্যানিশ মাজোর্কা দ্বীপে ছুটি কাটানোর একটি বড় রিসোর্ট, যা ব্রিটিশ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

সিরিয়া থেকে ইতালি, ফোনে ফোনে মানবপাচার

সিরিয়া থেকে ইতালিতে ফোনে ফোনেই হচ্ছে মানব পাচার। সিরিয়া থেকে লিবিয়া, তারপর মধ্য ভুমধ্যসাগর জুড়ে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক অভিবাসী রুট যাত্রা সম্পর্কে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে সিরিয়ার চোরাকারবারি ও অভিবাসীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।

সিরিয়ার দক্ষিণে দারা প্রদেশের এক চোরাকারবারি গ্রুপের সদস্য বলেন, ‘আমরা ফোনের মাধ্যমে সব চূড়ান্ত করি।

চোরাকারবারিরা জানান, ‘ অভিবাসীদের নিকট আমরা পাসপোর্টের একটি অনুলিপি চাই। তারপর কোথায় টাকা দিতে হবে তার ঠিকানা দিয়ে দেই। কিন্তু আমরা নিজেদের আড়াল করে রাখি।’ সংবাদমাধ্যমকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এ কথা জানান চোরাকারবারিরা।

সংবাদমাধ্যম প্রায় ২০ জন অভিবাসীর গ্রুপ টিকিট খুঁজে পায়। অভিবাসীরা প্রথমে লেবাননে ভ্রমণ করে, তারপর বৈরুত থেকে একটি উপসাগরীয় রাজ্যে, তারপর মিসরে এবং সব শেষে পূর্ব লিবিয়ার বেনগাজিতে পৌঁছায়। সেখান থেকে বেনগাজির ফ্লাইটে ইউরোপের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। বেনগাজিতে আসা সিরিয়ানদের ইউরোপে প্রবেশের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি প্রয়োজন হয়।

সিরিয়ার দক্ষিণে দারা প্রদেশের চোরাকারবারি বলেন, ‘এটি কোনো সমস্যা নয়। কারণ নিরাপত্তা কক্ষে আমাদের একজন লোক আছেন, যিনি খুব সহজেই অনুমোদন পান।’ জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মতে, প্রায় ৯০ হাজার সিরিয়ান ইতালিতে গিয়েছে।

চোরাকারবারিরা বলেন, ‘প্রথম দিকে বছরে আমরা একটি দল পাঠানোর মাধ্যমে কাজটা শুরু করি। এখন আমরা প্রতি মাসে একটি দল লিবিয়ায় পাঠাই।’ তারপর তাদের ইতালিতে পাঠানো হয়। মানুষ তাদের বাড়িঘর বিক্রি করে চলে যায়।

একজন অভিবাসী সংবাদদাতাকে বলেন, ইতালি প্যাকেজ চুক্তির দাম ৬ হাজার ৫০০ ডলার। এর মধ্যে একটি বিমান টিকিট, পূর্ব লিবিয়ায় প্রবেশের নথি, বিমানবন্দর পিকআপ, পরিবহণ, বাসস্থান, ইতালিতে নৌকা ভ্রমণ ও একটি লাইফ জ্যাকেট অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট দিবে সরকার

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক ও তাদের সন্তানদের পাসপোর্ট দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। অর্থাৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

বর্তমানে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এবং কানাডিয়ান নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা চালু রয়েছে।

জানা গেছে, বেলজিয়াম, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, পর্তুগাল, জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি চালু হলে যেসব বাংলাদেশি নারী-পুরুষ বিদেশে বসবাসকালীন সময়ে সন্তানের বাবা বা মা হয়েছেন, ওইসব সন্তান এবং তাদের সন্তানরাও স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাবেন।

পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিক যেখানেই বসবাস করুক, তিনি পাসপোর্ট পাবেন। আর বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর থেকে যিনি বাংলাদেশি নাগরিক, তার পরবর্তী দুই প্রজন্ম যেখানেই জন্মগ্রহণ বা বসবাস করুক তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন।

এই বিবেচনায় কয়েক বছর আগে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বসবাসকারি দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। কারণ এই দেশ দুটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক। ওই পরিপত্রের ভিত্তিতে এই দুটি দেশে বসবাসকারী দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রজন্মসহ বসবাস করে যাচ্ছেন।

 

এম.কে
২২ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

ইউক্রেন যুদ্ধ চলতে পারে কয়েক দশকঃ মেদভেদেভ

সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে। কারণ, এটি মস্কোর জন্য অস্তিত্বের লড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেদভেদেভ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রাশিয়ান সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মেদভেদেভ বর্তমানে রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মনে করেন, ইউক্রেন রাষ্ট্রকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে হবে। এই রাষ্ট্র একটি সন্ত্রাসী সত্তা। এই আবর্জনা যেন আবার ফিরে আসতে না পারে।

এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে মেদভেদেভ লিখেছেন, ‘এটি করতে যদি কয়েক বছর কিংবা কয়েক দশকও লেগে যায়, তবে তা–ই হোক। আমাদের আর উপায় নেই। আমরা যদি তাদের শত্রুতাপূর্ণ রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে না দেই তাহলে পশ্চিমারা এক হয়ে রাশিয়াকে টুকরা টুকরা করে ফেলবে। আর তা আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনবে, যা কারোরই কাম্য নয়।’

‘পশ্চিমা সমর্থন চিরদিন থাকবে না’ ইউক্রেনকে সতর্ক করে মেদভেদেভ বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেভাবে একজোট হয়ে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করছে, তা চিরদিন থাকবে না। নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তারা সরে পড়বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের জন্য এটি এক অচেনা যুদ্ধ। যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের প্রতি পশ্চিমাদের কোনো সহানুভূতিই নেই। সুতরাং তারা কখনো নিজেদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কিছু করবে না।

এম.কে
২১ আগস্ট ২০২৩