Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্টে প্রথম সংক্রমণ

যুক্তরাজ্যে কভিড-১৯-এর নতুন ভ্যারিয়েন্টে প্রথম সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটির হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) চলতি সপ্তাহে বিএ.২.৮৬ ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হওয়া একজনের সন্ধান পেয়েছে বলে জানায়।

তবে সংক্রমিত ব্যক্তির সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণের তথ্য নেই। অন্য এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বিভাগ জানায়, তারা ভাইরাসটির নতুন পরিবর্তিত রূপ নিয়ে কাজ করছে, যা নতুন করে সংক্রমণ হার বাড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাজ্য ছাড়াও ইসরায়েল, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রেও এর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে নতুন ভ্যারিয়েন্ট কতোটুকু ভয়াবহ হতে পারে কিংবা এর উপসর্গ কি তা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও অধিক বয়সী লোকেদের ব্যাপারে শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ ভয়ংকর রুপ নিতে পারে বলে জানায় ইউকেএইচএসএ।

এম.কে
২৫ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

ইংল্যান্ডে ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শরনার্থী আবেদন, পঞ্চমে বাংলাদেশি

দুই দশকের মধ্যে চলতি বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের জুনের শেষ নাগাদ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার আবেদন পড়েছে। শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন এই মানুষগুলো। এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময় আবেদন পড়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২১৩টি। ২০১০ সাল থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের রেকর্ড রাখা হচ্ছে। এই সংখ্যা সব রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।

এদিকে একজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর আবেদনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আসতে কমপক্ষে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে জুনের শেষ নাগাদ পর্যন্ত এমন অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬১টি আবেদন। গত বছরের তুলনায় এটি ৫৭ শতাংশ বেশি।

যেখানে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক গত বছরের শেষ নাগাদ তথাকথিত আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা নিরসনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাগুলো ব্রিটেনের সীমানায় প্রবেশের আগেই প্রতিরোধ করার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন সুনাক।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সুনাক এই ঘোষণা দেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতি মাসে গড়ে ২ হাজার ৬১টি আবেদনের নিষ্পত্তি করছে। এখনো ৬৭ হাজার ৮৭০টি আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৩১১টি আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে।

লিগ্যাসি ব্যাকলগ বলতে সরকার গত জুনের আগে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদনগুলোকে বোঝাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়া হিসাব বছরে ৭৮ হাজার ৭৬৮টি শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন পড়েছে। আবেদনের বিপরীতে লোকের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৩৯০। গত বছরের তুলনায় এটি ১৯ শতাংশ বেশি, আর দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর মধ্যে ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক রয়েছেন আলবেনিয়ার নাগরিক। এই দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৭৯০টি আবেদন পড়েছে, যাদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৫৭ জনই এসেছেন নৌকায়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছেন আফগানরা। আফগানদের পক্ষ থেকে আবেদন জমা পড়েছে ৯ হাজার ৯৬৪টি। এর আগের ১২ মাসের তুলনায় এটি দ্বিগুণ।

এরপরই আছে যথাক্রমে ইরানি ৭ হাজার ৭৭৬ জন, ভারতীয় ৪ হাজার ৪০৩, বাংলাদেশি ৩ হাজার ৬২২, ইরাকি ৩ হাজার ৪৭২ জন এবং সিরীয় ৩ হাজার ৪২২ জন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি অভিবাসন প্রত্যাশী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এসেছেন। এই সপ্তাহের বুধবারও ৩৪৫ জন চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন বলে তথ্যানুযায়ী জানা যায়।

এম.কে
২৫ আগস্ট ২০২৩

Categories
Property Mortgage with BENECO যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচাঃ হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন 

বিলেতে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার ব্যক্তি তাদের নতুন প্রপার্টি তৈরি, সংস্কার এবং পরিবর্তন করছে। বিলেতে যদি আপনার নিজস্ব জমি, ওপেন স্পেস, নিজস্ব প্রপার্টি থাকে এবং এই জায়গায় আপনি নতুন করে রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি করতে চান। তবে আপনি সরকারী হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি স্কিম লোন নিতে পারেন। ডিসেম্বর ২০২১ সালে হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি স্কিম শুরু হয়েছে এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই স্কিম এর কার্যক্রম চলমান থাকবে।

কি ধরনের প্রপার্টির জন্য হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর অ্যাপলিকেশন করা যাবে 

  • কেবলমাত্র রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি করার জন্য লোন এর অ্যাপলিকেশন করা যাবে
  • জমি ক্রয় করে, নতুন রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি
  • কোন বিল্ডিং এর উপর ওপেন এবং অব্যবহৃত স্পেস ক্রয় করে, নতুন রেসিডেন্সিয়াল ফ্লাট তৈরি
  • কমার্সিইয়াল প্রপার্টি পরিবর্তন করে, রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি
  • custom shell প্রপার্টি অর্থাৎ যে প্রপার্টির কেবলমাত্র বাহিরের দেয়াল এবং ছাদ তৈরি হয়েছে, কিন্তু ভিতরে অবকাঠামোগত কোন পরিবর্তন করা হয়নি। custom shell প্রপার্টি ক্রয় করে, ভিতরের অবকাঠামোগত পরিবর্তন করার জন্য হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর অ্যাপলিকেশন করা যাবে।
  • আপনার বিদ্যমান রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি ভেঙ্গে ফেলে, সেই জায়গায় নতুন রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি
  • কেবলমাত্র একটি রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি করার জন্য হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন নেয়া যাবে। বিদ্যমান রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি সংস্কার করার জন্য এই লোন নেয়া যাবে না
  • আপনার দ্বিতীয় কোন  রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি থাকা যাবে না। আপনাকে অবশ্যই নতুন তৈরিকৃত রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টিতে বসবাস করতে হবে। আপনার দ্বিতীয় কোন রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি থাকলে, অবশ্যই নতুন রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি সম্পন্ন হওয়ার ১২ মাসে মধ্যে বিক্রয় করতে হবে।

হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর বৈশিষ্ট্য  

  • হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর জন্য অ্যাপলিকেশন করার পরে এবং হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর অফার লেটার পাওয়ার পর, অ্যাপলিকেণ্টকে অবশ্যই সেলফ বিল্ড মর্গেজ এর জন্য অ্যাপলিকেশন করতে হবে।
  • মর্গেজ ল্যান্ডর এর নিকট হতে সেলফ বিল্ড মর্গেজ এর অফার লেটার পাওয়ার পর এবং রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরির প্রোজেক্ট শেষ করার পর হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন পাওয়া যাবে।
  • মর্গেজ ল্যান্ডরকে অবশ্যই হেল্প টু বিল্ড স্কিম এর সাথে সংযুক্ত অথবা রেজিস্টার থাকতে হবে।
  • রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি করা সম্পন্ন হলে, মর্গেজ ল্যান্ডর একজন RICS সার্ভেয়র দ্বারা আপনার প্রপার্টি সার্ভে করবে এবং প্রপার্টির ভ্যালু নির্ধারণ করবে।
  • সার্ভেয়র এর রিপোর্ট দ্বারা যখন আপনি প্রপার্টির ভ্যালু জানতে পারবেন। তখন এই রিপোর্ট দ্বারা আপনি হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর জন্য অ্যাপলিকেশন করতে পারবেন।
  • প্রপার্টির জমি এবং প্রপার্টি তৈরির মোট খরচের ৫% থেকে ২০%   হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন পাওয়া যাবে। (লন্ডন এর ক্ষেত্রে ৪০%)
  • প্রপার্টির জমি এবং প্রপার্টি তৈরির মোট খরচের ক্ষেত্রে সর্বোচচ £৬00,000 লোন পাওয়া যাবে।
  • প্রপার্টির জমি যদি পূর্বে ক্রয় করা থাকে, তবে সর্বোচচ £৪00,000 লোন পাওয়া যাবে।
  • প্রপার্টি তৈরির মোট খরচ ক্যালকুলেশন করার সময়, মোট খরচ এর সাথে প্রপার্টি তৈরির সময় যে সকল ভ্যাট দেয়া হয়েছে, তা যোগ করা যাবে না।

হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন কিভাবে কাজ করে 

অনলাইনে সরকারী হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন পোর্টাল এর মাধ্যমে প্রথমে লোন এর জন্য অ্যাপলিকেশন করতে হবে। এর পর পোর্টালে আপনার বেসিক কিছু ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। আপনার ডকুমেন্ট যাচাই করার পর, আপনাকে হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর অফার লেটার দেয়া হবে। এই অফার লেটার এর মেয়াদ তিন বছর। এই তিন বছরের মধ্যে আপনাকে নতুন জমি/স্পেস ক্রয় করতে হবে এবং সেলফ বিল্ড মর্গেজ এর মাধ্যমে রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রেসিডেন্সিয়াল প্রপার্টি তৈরি করা সম্পন্ন হলে, মর্গেজ ল্যান্ডর একজন RICS সার্ভেয়র দ্বারা আপনার প্রপার্টি সার্ভে করবে এবং প্রপার্টির ভ্যালু নির্ধারণ করবে। সার্ভেয়র এর রিপোর্ট দ্বারা যখন আপনি প্রপার্টির ভ্যালু জানতে পারবেন। এখন এই রিপোর্ট এবং হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর অফার লেটার সহ আপনাকে লোন এর অর্থ ছাড়া প্রক্রিয়া শুরু করার আপ্লিকেশন করতে হবে। এরপর আপনার ডকুমেন্ট যাচাই করার পর, সরকার আপনার প্রপার্টির জমি এবং প্রপার্টি তৈরির মোট খরচের ৫% থেকে ২০%   হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন আপনার ল্যান্ডরকে পরিশোধ করবে। এই লোন এর মাধ্যমে  ল্যান্ডর আপনার সেলফ বিল্ড মর্গেজ এর মাসিক মর্গেজ পেমেন্ট কমিয়ে দিবে অথবা মর্গেজ ব্যালেন্স কমিয়ে দিবে।

 হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর ইন্টারেস্ট রেট  

  • প্রথম ৫ বছর এই লোন এর কোন ইন্টারেস্ট রেট নেই। কেবলমাত্র বাৎসরিক ১২ পাউন্ড ম্যানেজমেন্ট ফি দিতে হবে ।
  • ষষ্ঠতম বছর থেকে  ইন্টারেস্ট রেট ১.৭৫%। বাৎসরিক ১২ পাউন্ড ম্যানেজমেন্ট ফি দিতে হবে।
  • সপ্তম এবং অষ্টম বছরে । বাৎসরিক ১২ পাউন্ড ম্যানেজমেন্ট ফি সহ ইন্টারেস্ট রেট হল যথাক্রমে ১.৮৩% এবং ১.৯১%।

সেলফ বিল্ড মর্গেজ এবং হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর জন্য কি কি ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হয়   

হেল্প টু বিল্ড ইকুইটি লোন এর অফার লেটার পাওয়ার পর, সেলফ বিল্ড মর্গেজ নিয়ে প্রপার্টি তৈরির সিদ্ধান্ত নেবার পর একজন অভিজ্ঞ আর্কিটেক্ট অথবা প্রোজেক্ট ম্যানেজার এর সাথে পরামর্শ করে আপনার স্বপ্নের প্রপার্টির জন্য উত্তম পরিকল্পনা করুন। এরপর  সেলফ বিল্ড মর্গেজ এর জন্য একজন অভিজ্ঞ মর্গেজ এডভাইজর এর সাথে যোগাযোগ করুন। প্রতিটি মর্গেজ অ্যাপলিকেশন এর জন্য বেসিক কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। সেলফ বিল্ড মর্গেজ এর জন্য বেসিক ডকুমেন্ট এর পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও কিছু ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হয়।

বেসিক ডকুমেন্ট  

# পরিচয়পত্র: # ঠিকানার প্রমাণপত্র:

# পে-স্লিপ, পি-৬০ এবং ট্যাক্স ডকুমেন্ট  # ব্যাংক স্টেটমেন্ট:

# ডিপোজিট স্টেটমেন্ট:  #ক্রেডিট রিপোর্ট # ইলেক্ট্ররাল রোল

সেলফ বিল্ড মর্গেজ ডকুমেন্ট  

# প্রোজেক্ট প্লান এবং প্লানিং পারমিশন আউটলাইন  # আর্কিটেকচারাল ড্রইং

# প্রোজেক্ট এর প্রতিটি ধাপের প্রতিটি কাজ কিভাবে এবং কার দ্বারা সম্পূর্ণ হবে তার বর্ণনা

# প্রোজেক্ট কষ্ট এবং ক্যাশফ্ল (প্রোজেক্ট এর টাকা কিভাবে আসবে এবং কিভাবে খরচ হবে)

# NHBC সার্টিফিকেট   # বিল্ডিং রেগুলেসন এর অনুমতিপত্র

# রিস্ক এসেসমেন্ট প্লান, প্রোজেক্ট সময়সীমা, contingency (বিকল্প) পরিকল্পনা

প্রপার্টি মার্কেট এবং মর্গেজ সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত বা জিজ্ঞাসা থাকলে নিন্মের ই-মেইল অথবা টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।       

Email: info@benecofinance.co.uk

Tel: 02080502478

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

জার্মানিতে সহজ হচ্ছে নাগরিকত্বের পথ

নিয়মিতভাবে থাকা অভিবাসীদের জন্য জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার পথকে আরো সহজ করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার৷ বুধবার এ বিষয়ক একটি আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে জার্মান মন্ত্রিসভা৷

অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে যেসব অভিবাসীরা জার্মান সমাজে একীভূত হতে পারবেন, তাদেরকে দ্রুত সময়ে জার্মান পাসপোর্ট দিতে চায় চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন জার্মান সরকার৷

নাগরিকত্ব আইনের খসড়া সম্পর্কে জার্মান বার্তা সংস্থা জানায়, মন্ত্রিসভা অনুমোদিত এই আইন অনুযায়ী যারা ইহুদি বিরোধী এবং বর্ণবাদের মতো অপরাধ করেছেন তাদের এই সুযোগ দেয়া হবে না৷

খসড়া আইনটিকে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার চাবিকাঠি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার৷

বুধবার জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফেজার বলেন, ‘‘দক্ষ জনশক্তির এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মাঝখানে আছি আমরা৷ তবে দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে আমরা তখনই সেরা হয়ে উঠতে পারব, যদি অদূর ভবিষ্যতে তারা আমাদের সমাজের সম্পূর্ণ অংশ হয়ে উঠেন৷’’

মন্ত্রিসভায় ফেজারের নিয়ে আসা খসড়া আইনটিতে একাধিক নাগরিকত্বকেও অনুমোদন দেয়া হয়েছে৷ আর এই সিদ্ধান্তটি জার্মান নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে৷ জার্মানির বিদ্যমান আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ ছিল না৷

এই বিলটি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ওলাফ শলৎসের নেতৃত্বাধীন মধ্য বামপন্থি জোট সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনার একটি অংশ৷ ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রক্ষণশীল সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল৷ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসে মধ্য বামপন্থি এই সরকার৷

২০২২ সালে বিশ্বের ১৭১টি দেশের এক লাখ ৬৮ হাজার ৫৪৫ জন বিদেশি জার্মানির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন৷ সরকারের হিসেব অনুযায়ী, ২০২২ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিদেশিদের সংখ্যা তার আগের বছরের অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২৮ ভাগ বেশি৷

নাগিরকত্ব পাওয়া বিদেশিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সিরীয়রা৷ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটি থেকে আসা যেসব ব্যক্তি জার্মানির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের গড় বয়স ২৪ দশমিক আট বছর৷ আর তাদের দুই তৃতীয়াংশ পুরুষ৷

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ইউক্রেনীয়রা৷ রাশিয়ার হামলা শুরুর পর হাজার হাজার ইউক্রেনীয় দেশ ছাড়লে তাদের একটি অংশ জার্মানিতে আশ্রয় নেয়৷

২০২২ সালে জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়াদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাক থেকে আসা অভিবাসীরা আর চুতর্থ অবস্থানে তুর্কিরা৷

ইন্টিগ্রেশন ও মাইগ্রেশন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ইয়ান শ্নাইডার জানান, নাগরিকত্ব পাওয়া সিরীয়দের অর্ধেক ছয় বছরেই জার্মানির পাসপোর্ট পেয়েছেন৷ এর কারণ হলো, তারা জার্মান সমাজে একীভূত হতে পারার প্রমাণ দেখাতে পেরেছে৷

এম.কে
২৪ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে বাড়িভাড়া ২০১৬ এর পর সর্বোচ্চ

যুক্তরাজ্যে বাড়ি ভাড়ার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ভাড়াটেদের চাহিদা বাড়ার কারণে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে রেকর্ডে থাকা বাড়ি ভাড়ার চিত্র বলছে, এ যাবৎকালের সর্বোচ্চে উঠেছে বাড়ি ভাড়ার হার।

অনেক এলাকায়ই এখন ভাড়া নেয়ার মতো পর্যাপ্ত বাসা পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা ও সরবরাহের এ ব্যবধানের কারণে দাম বেড়ে গেছে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস বলেছে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ভাড়া বাবদ ভাড়াটেদের খরচ গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিসংখ্যানটি এমন এক সময় এলো যখন গৃহস্থালির বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

একদিকে ভাড়াটিয়াদের উচ্চ চাহিদা, অন্যদিকে বাড়িওয়ালাদের থেকে ভাড়া দেয়ার মতো পর্যাপ্ত ঘরের স্বল্পতা ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান শেষে প্রোপার্টি পোর্টাল রাইটমুভ জানিয়েছে, ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে এখন প্রতিটি ভাড়াযোগ্য বাসা দেখতে ২০টি করে অনুরোধ আসছে। মহামারীপূর্ব ২০১৯ সালের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।

লন্ডনে ভাড়া বেড়েছে রেকর্ড ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। একমাত্র এ অঞ্চলেই এর আগে বাড়ি ভাড়া কমেছিল। ২০০৬ সালে লন্ডনের আবাসন ভাড়ার তুলনামূলক রেকর্ড রাখতে শুরু হওয়ার পর থেকে এবারই সর্বোচ্চ বৃদ্ধির খবর এলো।

একই হারে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের পাশাপাশি ইয়র্কশায়ার ও হাম্বারে ভাড়া বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের ভাড়াটেদের জন্য আরো বড় দুঃসংবাদ। সেখানে গড়ে এক বছরে ভাড়া বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্কটল্যান্ডে বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

এস্টেট এজেন্সি নাইট ফ্রাঙ্কের যুক্তরাজ্যের আবাসিক গবেষণার প্রধান টম বিল বলেন, ‘ভাড়াটেদের ওপর চাপ শিগগিরই কমবে না। ভাড়া উপযোগী আবাসন স্পেসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে। উচ্চ মর্টগেজ হারের কারণে এ ভারসাম্যহীনতা আরো প্রকট হচ্ছে।’

ওএনএস বলেছে, যুক্তরাজ্যে বাড়ির গড় বার্ষিক মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ হার মে মাসের সংশোধিত ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার থেকে কম। মর্টগেজ হার বৃদ্ধির ফলে বাজার শীতল হয়ে আছে।

এম.কে
২৪ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

ওয়াগনার বস ইয়েভেনি প্রিগোজিনের বিমান বিধ্বস্ত

রাশিয়ার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, ওয়াগনার বস ইয়েভেনি প্রিগোজিন একটি জেটের যাত্রী তালিকায় ছিলেন। সেই জেট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বিমানের সকল যাত্রী মারা গিয়েছেন।

ওয়াগনার-সংযুক্ত টেলিগ্রাম চ্যানেল গ্রে জোন জানায়, মস্কোর উত্তরে টিভার অঞ্চলে এয়ার ডিফেন্স দ্বারা জেট বিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়। রাজধানী থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া জেটটিতে সাতজন যাত্রী এবং তিনজন ক্রু ছিলেন।

প্রিগোজিন চলিত বছরের জুন মাসে রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যর্থ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

গ্রে জোন নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার আগে প্রচণ্ড জোরে দুটি শব্দ শুনতে পায় এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পায়। টাস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিমান হতে ইতিমধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জেট বিমানটি মাত্র আধা ঘন্টা উড্ডয়নরত অবস্থায় ছিল যা পরে বিধ্বস্ত হয়।

উল্লেখ্য যে, ৬২ বছর বয়সী এই ভাড়াটে যোদ্ধা ২৩-২৪ জুন রাশিয়া বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইয়েভেনি প্রিগোজিন ইউক্রেন থেকে তার সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নিয়ে দক্ষিণ রাশিয়ান শহর রোস্তভ দখল করে নেন। পরবর্তীতে তিনি মস্কোর উদ্দেশ্যে পদযাত্রারও হুমকি দিয়েছিলেন।

ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে রাশিয়ান সামরিক কমান্ডারদের সাথে কয়েক মাস উত্তেজনার পরে প্রিগোজিন এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে বিশ্ব গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়। পরবর্তীতে ওয়াগনার সেনাদের বেলারুশে যেতে বা রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদানের অনুমতি দিয়ে চুক্তি সাক্ষরিত হয় রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সাথে। প্রিগোজিন নিজেই বেলারুশে স্থানান্তরিত হতে রাজি হয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

 

এম.কে
২৪ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

রুমানিয়ার সীমান্তে বাংলাদেশিসহ ১১৬ জন গ্রেফতার

রোমানিয়ার নাদলাক এবং নাদলাক ২ বর্ডার পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত বেশ কয়েকটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট একশ ১৬ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোমানিয়া সীমান্ত পুলিশ এই তথ্য জানায়।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত সময়ে এসব অভিযান পরিচালনা করে আরাদ কাউন্টির সীমান্ত পুলিশ। এই অভিবাসীরা অনিয়মিত উপায়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের লক্ষ্যে ট্রাক এবং লরির ভেতর লুকিয়ে ছিলেন।

মোট তিনটি ট্রাক এবং একটি লরির ভেতর থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়৷ দুই তুর্কি এবং একজন রোমানীয় নাগরিক গাড়িগুলো পরিচালনা করছিলেন৷। তুরস্ক ও রোমানিয়ায় নিবন্ধিত গাড়িগুলো নিয়ে তারা রোমানিয়া সীমান্ত অতিক্রম করার আগে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে আটক হন।

রোমানিয়ায় নিবন্ধিত গাড়িটির চালক জার্মানির একটি বাণিজ্যিক কোম্পানির জন্য মার্বেল, প্লাস্টিক এবং ধাতব পদার্থ পরিবহনের উদ্দেশ্যে রোমানিয়া-ডেনমার্ক রুটে ভ্রমণ করছিলেন। গাড়িগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ চেকের পর লরি থেকে ৯৪ জন বিদেশি নাগরিক এবং বাকিদের ট্রাক থেকে বের করে আনেন সীমান্ত পুলিশের দল।

বিশদ তদন্তের জন্য আটক হওয়া এই অভিবাসীদেরকে আরাদ অঞ্চলের অভিবাসন সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটক হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও সিরিয়া, পাকিস্তান, মিশর, ভারত, ঘানা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং ইরাকের নাগরিকেরা আছেন।

তারা সবাই বেআইনিভাবে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। প্রাথমিকভাবে সীমান্ত পুলিশ অভিবাসীদের পরিবহনকারী চালকদের বিরুদ্ধে অভিবাসী পাচারের অভিযোগে বিচারিক তদন্ত শুরু করেছে।

অপরদিকে, আইন ভঙ্গ করে রোমানিয়া সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সীমান্ত পুলিশ।

এই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত অভিবাসীদের সাধারণত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং পরবর্তীতে ইইউ ও রোমানিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়।

এর আগে ২০ আগস্ট রোববার দেয়া আরেক বিবৃতিতে, শুক্র ও শনিবারের মধ্যে নাদলাক ২ বর্ডার পয়েন্ট থেকে ৫০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটকের তথ্য দিয়েছিল সীমান্ত পুলিশ।

এসব অভিবাসীদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও সিরিয়া থেকে আসা অভিবাসীরা ছিলেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। তুরস্ক এবং চেক প্রজাতন্ত্রের দুই নাগরিক অভিবাসীদের পরিবহন করা গাড়িগুলো চালাচ্ছিলেন।

এম.কে
২৩ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন মিশেল ওবামা

জো বাইডেন ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাট থেকে যদি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী না হন, তবে সাবেক ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা তার জায়গা নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় বিশ্ব গণমাধ্যম।

অনেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না জো বাইডেন। সেক্ষেত্রে মিসেস ওবামা জাতির সবচেয়ে প্রশংসিত ব্যক্তিদের একজন, বিজয়ী হওয়ার একটি চমৎকার সুযোগও রয়েছে তার।

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিবেদনে লেখক টিম স্ট্যানলি মত দিয়েছেন, প্রার্থী হিসেবে বাইডেন এখন অজনপ্রিয়। দেখতে দেখতেই তিনি অনেক বুড়ো হয়ে গেছেন। একই অবস্থা রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ দুজনের বয়সই ভোটারদের বিবেচ্য বিষয় হবে।

বলা যায়, ‘বাইডেন বনাম ট্রাম্প’— দুই বুড়োর আবারও একটি নির্বাচনি লড়াই দেখতে চান না অসংখ্য আমেরিকান। এ ক্ষেত্রে তরুণ একজন প্রার্থী ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন।

প্রতিবেদনটিতে একটি জরিপও যুক্ত করে দেওয়া হয়। হ্যাঁ অথবা না উত্তরের ওই জরিপটিতে প্রশ্ন ছিল— ২০২৪ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মিশেল কি যোগ্য প্রার্থী?

উত্তরে ‘হ্যাঁ’ অপশন বেছে নিয়েছেন ৬৬ শতাংশ পাঠক।

আরেকটি বিষয় হলো— অনেকেই আবার মনে করেন, মিশেল ওবামা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এটি আসলে বারাক ওবামার তৃতীয় মেয়াদ হবে। তিনি মার্কিনিদের মধ্যে এখনো বেশ জনপ্রিয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন ওবামার তৃতীয় মেয়াদ এখনো চলমান রয়েছে। আড়ালে থেকে তিনিই আসলে বাইডেন প্রশাসনের বিদেশনীতির নেতৃত্ব দেন।

আর এ কারণে বারাক ওবামা দ্বারা প্রভাবিত ডেমোক্র্যাটরা তার নীতির সম্প্রসারণ এবং বাস্তবায়ন দেখতে মিশেলের ওপরও আস্থা রাখতে পারেন। ফার্স্টলেডি হিসেবে হোয়াইট হাউসে তার আট বছরের অভিজ্ঞতা এ ধরনের আস্থাকে আরও জোরালো করে।

মিশেল ওবামা অবশ্য প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার ইচ্ছা নেই বলে একাধিক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন। তবে পরিস্থিতি যে কোনো সময় ঘুরেও যেতে পারে।

এম.কে
২৩ আগস্ট ২০২৩

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

হজ-ওমরাহ সহজ করতে ঢাকায় নুসুক প্ল্যাটফর্ম চালু করছে সৌদি

বাংলাদেশি হজ-ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নুসুক প্ল্যাটফর্ম চালু করতে চলেছে সৌদি আরব। আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকায় এটি চালু করা হবে।

এর ফলে হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা আরও সহজে সৌদি আরবে যেতে পারবেন। তাছাড়া সাধারণ পর্যটকরাও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশ্ব গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়াহের নেতৃত্বে সৌদির একটি প্রতিনিধি দল আগামী ২৪ ও ২৫ আগস্ট ঢাকা সফর করবেন। সেই সময়ে সৌদির এই মন্ত্রী বাংলাদেশে নুসুক প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করবেন।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নুসুক প্রেসিডেন্ট আলহাসান আলদাববাগ বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। এমনকি এ অঞ্চলের শীর্ষ পাঁচটি বাজারের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। তাই ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিক ও সাধারণ পর্যটকদের জন্য সৌদি ভ্রমণ আরও সহজ করতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো নুসুক রোডশো করা হবে।

খবরে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষ মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে নুসুক প্ল্যাটফর্ম চালু করেছিল।

নুসুক মূলত হজ, ওমরাহ ও সাধারণ পর্যটকদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজভাবে সম্পন্ন করার একটা প্ল্যাটফর্ম। এতে প্লেনের টিকিট, হোটেল ভাড়া ইত্যাদি সব আগে থেকে ঠিক করা যায়। কয়েক বছর আগে এটি চালু করে সৌদি আরব।

এম.কে
২৩ আগস্ট ২০২৩

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

কক্সবাজার কারাগারে বিদেশি বন্দিকে পিটিয়ে হত্যা

কক্সবাজার জেলা কারাগারে মোহাম্মদ জাফর নামে এক রোহিঙ্গা বন্দিকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময় সংগঠিত হল যখন এ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সোচ্চার। এ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ কারাবিভাগের বিভিন্ন দূর্ণীতির খবর এখন ওপেন সিক্রেট। কারা মহাপরিদর্শকের উপর বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন হতে। সংশোধনাগার হিসেবে শ্লোগান দেওয়া কারা বিভাগ পরিনত হয়েছে শাস্তির স্থান হিসেবে যেখানে নানা ধরনের অত্যাচার বন্দিদের উপর ঘটছে প্রতিনিয়ত।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, দুই রোহিঙ্গার মধ্যে গভীর রাতে মারামারিকে কেন্দ্র করে পরদিন এক হাজার টাকার জন্য বিচারের নামে সুবেদার শাহাদাত হাত-পা বেঁধে দুই বন্দিকে নির্মমভাবে পেটান। এ সময় লাঠির আঘাত অণ্ডকোষে লেগে ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই রোহিঙ্গা বন্দি।

ঘটনাটি ঘটে ৪ আগস্ট বিকালে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেল সুপার চেস্ট পেইনে আক্রান্তের কথা বললেও জেলারের আদেশ বইয়ে লেখা তথ্য মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ফাঁস করে দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন।

এ ঘটনায় রফিক ছালাম নামে অপর বন্দি কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পায়ে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে তিনি হাঁটতে পারছেন না। ঘটনার পর বিভাগীয় মামলা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জেল সুপারের আবেদনসহ এ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং জামিনে আসা কয়েকজন বন্দির সঙ্গে কথা বলে নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, কারাভ্যন্তরে এমন অমানবিক ও বর্বর ঘটনা আড়াল করতে সুকৌশলে জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বুকে ব্যথা এবং হঠাৎ অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে হত্যার ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেন। ঘটনার সাত দিন পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ১০ আগস্ট কারাভ্যন্তরে গিয়ে বন্দিদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু হত্যার ঘটনা আড়াল করতে আহত রফিক ছালামকে জেলা প্রশাসকের সামনে আনা হয়নি।

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, ‘কোনো বন্দিকে শারীরিক আঘাত করার নিয়ম থাকার প্রশ্নই আসে না। কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে ওই বন্দির বুকে ব্যথার কথা জনিয়েছেন। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সেভাবেই পোস্ট মর্টেম করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আশা করি, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে তার মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

ঘটনার বিষয়ে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। আলোচ্য বন্দিকে যদি লাঠি দিয়ে পেটানো হয়, তাহলে এটা বিভাগীয় মামলা নয়, ফৌজদারি মামলা হতে হবে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে চেস্ট পেইন বলার কোনো সুযোগ নেই।

ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেল সুপার শাহ আলম খানের স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়, ‘কারাবন্দি মোহাম্মদ জাফর ৪ আগস্ট ৪টা ৪৬ মিনিটে এইচ/ও চেস্ট পেইন রোগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারা হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে ভর্তিপূর্বক তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু অতীব দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে বন্দিকে মৃত ঘোষণা করেন।’

কারাগারের জেলারের নিয়ন্ত্রিত আদেশ বইয়ে এ ঘটনায় তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়। তারা হলেন কারারক্ষী আল মামুন, আহম্মদ উল্লাহ ও আব্দুল জলিল। ঘটনার দিন রাতে এই তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে জেলার শওকত হোসেন মিয়া আদেশ বইয়ে পৃথক অভিযোগনামায় উল্লেখ করেন, ‘তাদের গোয়েন্দা কারারক্ষী/প্রধান কারারক্ষী হিসাবে দায়িত্ব নির্ধারিত ছিল।

৩ আগস্ট রাত ৪টা ৩০ মিনিটে কর্ণফুলী ২নং ওয়ার্ডে হাজতি নং ১২০৬/২১ মোহাম্মদ জাফর এবং হাজতি নং ৭৪০/২৩ রফিক ছালাম কম্বল গায়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুজন মারামারি করে। বিষয়টি কর্তব্যরত রক্ষী নং ২২১৮৩ মো. শাহাদাত হোসেন বিচারের জন্য উপস্থাপন না করে বন্দিদের হিস্ট্রি টিকিট নিজের কাছে রেখে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় কারাভ্যন্তরে ডিউটিতে গিয়ে কারারক্ষী শাহাদাত হোসেন ও ইনচার্জ কারারক্ষী আব্দুল জলিল হাজতি জাফর ও রফিক ছালামকে কর্ণফুলী ও বাকখালী ভবনের নিচতলার মধ্যবর্তী করিডরে মারধর করে।’

আদেশে বলা হয়, ‘কারা অভ্যন্তরে অভিযুক্ত কারারক্ষীরা গোয়েন্দা নজরদারির দায়িত্বে ছিল। দুজন বন্দি মারামারি করার ঘটনাটি যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা তদের দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি অবহিত করলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না। তাই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদেরকে অভিযুক্ত করা হলো।’

অন্যদিকে মারামারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কারারক্ষীসহ তিনজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেনকে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে, সেলিম উদ্দিনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং আব্দুল জলিলকে নোয়াখালী জেলা করাগারে পাঠানো হয়।

আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে একাধিক বন্দি বলেছেন, কারারক্ষী শাহাদাত হোসেনের লাঠির আঘাতেই রোহিঙ্গা হাজতি জাফর ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তার হাত-পা বেঁধে পায়ের নিচে ধারাবাহিক আঘাতের সময় একটি লাঠির বাড়ি তার অণ্ডকোষে লাগে। এরপর চিৎকার করতে করতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর আর তার জ্ঞান ফেরেনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন কারারক্ষী বলেন, ঘটনার সময় জেল সুপার শাহ আলম খান ফুটবল খেলতে গিয়েছিলেন। জেলখানায় ফিরে আসার পর জাফরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, তার মৃত্যুর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার বিচার চেয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারের সব বন্দি খাদ্য গ্রহণ না করে অনশন শুরু করেন। রাত ৯টার দিকে জেল সুপার শাহ আলম খান এবং জেলার শওকত হোসেন কারারক্ষীদের নিয়ে বন্দিদের সামনে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চান।

পরের দিন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক আলতাব হোসেন কক্সবাজার জেলা কারাগার পরিদর্শনে যান। এরপরই তিন কারারক্ষীকে নিজ দপ্তরে ক্লোজ করা হয়। কিন্তু হত্যা মামলা না হয়ে এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

এ বিষয়ে উপমহাপরিদর্শক আলতাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গত রাতে বারবার তার সরকারি মোবাইল ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবারই লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তারপরও এই বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমাজবিজ্ঞানী কারাগারের বিষয় নিয়ে বলেন, দায়িত্ব অবহেলা কিংবা কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে কারাগারের মতো প্রতিষ্ঠানের ছোট পদে থাকা কারারক্ষীদের শাস্তি বা বদলির বিধানকে আইন হিসাবে চালু করায় প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে তুষ্ট করে বড় পদ আকঁড়ে ধরার যে রীতি চালু হয়েছে তাতে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একজন বিদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা অবশ্যই গর্হিত অপরাধ।

এম.কে
২৩ আগস্ট ২০২৩