Categories
বাংলাদেশ

ফেরার প্রস্তুতি, কিন্তু দিনক্ষণ অনিশ্চিত—শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে নতুন বার্তা

বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে আসাকে তিনি তার সমর্থকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। তবে কবে তিনি দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারতে অবস্থানকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএনের সাংবাদিক সিদ্ধান্ত সিবালকে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজের বর্তমান জীবন, পড়াশোনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের ঘটনাবলি নিয়ে কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার কাছে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। জবাবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করেননি। তিনি জানান, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তা।

অর্থাৎ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেখ হাসিনার বক্তব্যে ডিসেম্বরে নিশ্চিতভাবে দেশে ফেরার কোনো ঘোষণা নেই। বরং তার বক্তব্যে নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিকে সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছাকে কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমর্থকদের প্রতি দায়িত্ব এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই তিনি বাংলাদেশে ফেরার কথা ভাবছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক পরিবেশ তৈরি হওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী ঘটনাবলির পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই তার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কখন তিনি ফিরবেন—এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি সামনে এলেও এবার নিজের বক্তব্যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ঘটনাবলি এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানকালে তার ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে কাটছে, পড়াশোনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন, সেসব বিষয়ও তুলে ধরেছেন।

তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেননি; বরং দেশে ফেরার ইচ্ছা স্পষ্ট করেছেন। তবে সেই প্রত্যাবর্তন কবে হবে, তা এখনো অনির্ধারিত। নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং দেশের মাটিতে থাকা মানুষের নিরাপত্তা—এসব বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনার এই অবস্থান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনি দেশে ফিরলে তার রাজনৈতিক দল, সমর্থকগোষ্ঠী এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে—তা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ ডব্লিউআইওএন, রয়টার্স ও দ্য ট্রিবিউন

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের পানি বন্ধের হুমকি ভারতের জন্যই কি কাল হবেঃ চীনের হাতে ব্রহ্মপুত্রের ‘পানির কার্ড’

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরিতায় এবার পানি হয়ে উঠছে বড় কৌশলগত ইস্যু। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে দুই দেশের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যেই সামনে এসেছে চীনের ভূমিকা। তিব্বত মালভূমি থেকে উৎপন্ন দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর উজানে অবস্থান করছে চীন। ফলে ভারত-পাকিস্তানের পানি বিরোধে বেইজিংয়ের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

চীনের প্রভাবশালী কৌশলগত বিশ্লেষক ভিক্টর গাও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের জুনে পাকিস্তানে এক আলোচনায় তিনি চীনকে ভবিষ্যৎ একটি ত্রিপক্ষীয় পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অংশ করার প্রস্তাবও দেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় চীন নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পক্ষ হিসেবে দেখতে চায়।

দক্ষিণ এশিয়ার নদীগুলোর ভূগোলই এই সমীকরণের অন্যতম কারণ। তিব্বত মালভূমি থেকে ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎপত্তি। এসব নদীর পানি চীনের ভূখণ্ড অতিক্রম করে ভারত ও বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। ফলে উজানের দেশ হিসেবে চীনের হাতে নদীর প্রবাহ, বাঁধ নির্মাণ এবং পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভাটির দেশগুলোর তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি ভৌগোলিক সুবিধা রয়েছে।

অন্যদিকে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার ওপর পাকিস্তানের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পাকিস্তানের বড় অংশের কৃষিজমি সেচের জন্য সিন্ধু নদ ও এর উপনদীগুলোর পানির ওপর নির্ভর করে। তাই ভারত থেকে পাকিস্তানের দিকে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে তার প্রভাব শুধু পরিবেশ বা পানীয় জলের সংকটে সীমাবদ্ধ থাকবে না; কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা আসতে পারে।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দীর্ঘ সামরিক সংঘাত, একাধিক যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও চুক্তিটি কয়েক দশক কার্যকর ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলের পাহেলগাম হামলার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর পানি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। পাকিস্তান বারবার সতর্ক করে আসছে, নদীর পানি আটকে দেওয়া বা প্রবাহ পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ দেশটির জন্য গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতেই ‘পানিকে কৌশলগত অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভৌগোলিকভাবে উজানে অবস্থানরত কোনো দেশ বাঁধ, জলাধার বা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর পানির প্রবাহের সময় ও পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রতিটি অবকাঠামো প্রকল্পকে সরাসরি পানি অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়, তবু আন্তঃসীমান্ত নদীর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও তথ্য আদান-প্রদানের অভাব ভাটির দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

এখানেই ভারত ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। পাকিস্তানের তুলনায় ভারত সিন্ধু নদী ব্যবস্থার অনেকাংশে উজানে অবস্থান করছে। আবার ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি নদীর ক্ষেত্রে ভারতের তুলনায় চীন উজানে। অর্থাৎ পাকিস্তানের ওপর ভারতের যে ভৌগোলিক সুবিধা রয়েছে, চীনের ক্ষেত্রেও ভারতের ওপর রয়েছে অনুরূপ একটি উজানের সুবিধা।

এই বাস্তবতা ভারতকে একই সঙ্গে দুই ধরনের পানি কূটনীতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে বিরোধ, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রসহ আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পানিকে চাপ তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করার যেকোনো নীতি ভবিষ্যতে চীন-ভারত পানি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

তবে ভিক্টর গাওয়ের প্রস্তাবের মধ্যে চীনকে ভারত-পাকিস্তানের পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় যুক্ত করার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নদী কূটনীতি ভবিষ্যতে শুধু দিল্লি ও ইসলামাবাদের দ্বিপক্ষীয় বিষয় না থেকে বেইজিংকেও ঘিরে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনায় পরিণত হতে পারে।

চীন ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও এই সমীকরণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ। ফলে ভারত-পাকিস্তান পানি বিরোধে চীনের অবস্থানকে শুধু পরিবেশগত বা নদী ব্যবস্থাপনার বিষয় হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি বাদ পড়ে যায়।

একই সময়ে ভারতও তিব্বত থেকে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় চীনের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্রের উজানে চীনের বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্রহ্মপুত্রের পানি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করে দেশের নদী ও কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়।

ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় নদী এখন আর কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। নদীর পানি হয়ে উঠছে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি কৌশলগত সম্পদ। উজানের দেশগুলোর সিদ্ধান্ত ভাটির দেশগুলোর ওপর যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে, ভারত-পাকিস্তান ও চীন-ভারত নদী বিরোধ তারই উদাহরণ।

তবে পানি নিয়ে উত্তেজনা বাড়লেও বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃসীমান্ত নদীকে সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করাই দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বেশি কার্যকর। নিয়মিত তথ্য বিনিময়, বন্যার আগাম সতর্কতা, নদীর প্রবাহ নিয়ে স্বচ্ছতা এবং বহুপক্ষীয় পানি ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং কৃষির ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে পানির গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাই ভারত-পাকিস্তানের সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে চলমান বিরোধ শুধু দুই দেশের সম্পর্কের পরীক্ষা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চীন, তিব্বতের নদী এবং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পানি নিরাপত্তা।

সব মিলিয়ে, আগামী দিনের দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে ‘পানি কূটনীতি’ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ এবং ব্রহ্মপুত্র নিয়ে চীন-ভারতের উদ্বেগ একই আঞ্চলিক বাস্তবতার দুই দিক। পানি সহযোগিতার সেতু হবে, নাকি রাজনৈতিক চাপের নতুন হাতিয়ার—এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স \ এপি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

নিউহ্যামে বাঙালিদের মন জয় করতে বাংলায় মেয়র ফরহাদ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন চমক

নাগরিকদের কাছে সরকারি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে বাংলা ভাষাকে বেছে নিয়েছেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের মেয়র ফরহাদ হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলায় দেওয়া তার সাম্প্রতিক বার্তা ইতোমধ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও বাংলা ভাষাভাষী কমিউনিটির মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
নিউহ্যামের মেয়রের এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো—তিনি সিলেট ও বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত হলেও বাংলা তার প্রথম ভাষা নয়। তবে মা-বাবার ভাষা বাংলাকে তিনি নিজের ব্যারোর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি বিনামূল্যে বড় আকারের বর্জ্য সংগ্রহ সেবা নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবে মেয়র ফরহাদ হোসেন বাংলায় নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি জানান, নিউহ্যাম কাউন্সিলের বাসিন্দারা বছরে তিনবার বিনামূল্যে বড় আকারের বর্জ্য সংগ্রহের সেবা বুক করতে পারবেন। পাশাপাশি কাউন্সিলের ওয়েবসাইটের তথ্য এক ক্লিকেই বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করার সুবিধার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেয়রের এই উদ্যোগকে নিউহ্যামের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউহ্যামে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে নাগরিকসেবার তথ্য তাদের কাছে সহজ ও পরিচিত ভাষায় পৌঁছে দেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগকে আরও কার্যকর করতে পারে।
বাংলা ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও নতুন নয়। নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির মতো জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সেই ধারায় লন্ডনের নিউহ্যামে মেয়র ফরহাদ হোসেনের বাংলায় তথ্য প্রচারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলাদা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ফরহাদ হোসেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ বাংলা তার প্রথম ভাষা না হলেও পারিবারিক শিকড়ের ভাষাকে তিনি জনসেবার যোগাযোগে ব্যবহার করছেন। এতে শুধু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাসিন্দারাই নয়, বাংলা ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছেও কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি বংশোদ্ভূত একজন জনপ্রতিনিধি যখন নিজের পরিবারের ভাষা বাংলাকে স্থানীয় প্রশাসনের নাগরিকসেবা প্রচারের কাজে ব্যবহার করেন, তখন তা ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে অভিবাসী কমিউনিটির ভাষা ও পরিচয়ের স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সূত্রঃ নিউহ্যাম কাউন্সিলের সরকারি প্রতিবেদন \ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মুখোশধারীদের দখলে ডোভার বন্দরঃ অবরোধে থমকে গেল ফেরি চলাচল

যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ডোভারে শত শত মুখোশধারী বিক্ষোভকারীর আকস্মিক অবরোধে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ আটকে দেওয়ায় ফেরি যাত্রী, পর্যটক, পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

বিক্ষোভের কারণে ডোভার বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ২০ সড়ক দুই দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা তিনটি পৃথক স্থানে অবস্থান নিয়ে বন্দরে প্রবেশকারী যান চলাচল কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। এর ফলে প্রায় চার মাইল দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে এবং যানবাহনগুলোকে প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিলম্বের মুখে পড়তে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের হিসাবে, সকাল সাড়ে ৬টার পর থেকেই বিক্ষোভকারীদের বড় একটি দল এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ৩০০ জন পুরুষকে দেখা গেছে। তাদের অধিকাংশই কালো পোশাক ও মুখোশ পরা ছিল এবং তারা বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ অবরোধ করে রাখে।

কেন্ট পুলিশ জানিয়েছে, তারা ডোভার বন্দরে চলমান বিক্ষোভ সম্পর্কে অবগত এবং ঘটনাস্থলে কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষও ঘটনাটিকে একটি ‘জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাবির কথা স্পষ্ট না করলেও স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এটিকে ‘ছোট নৌকায় অভিবাসন বন্ধ করো’ ধরনের বিক্ষোভ বলে মনে করছেন। তবে বিক্ষোভটি কারা আয়োজন করেছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে কী দাবিতে করা হয়েছে, তা প্রাথমিক পর্যায়ে নিশ্চিত করা হয়নি। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশের সঙ্গে ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ নামের একটি কট্টর ডানপন্থী সংগঠনের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে।

বিক্ষোভের কারণে ডোভার ওয়াটারফ্রন্টের সাপ্তাহিক পাঁচ কিলোমিটার দৌড়ের কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা থাকায় দৌড়ের পথ নিরাপদ বা ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ছিল না।

ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির কারণে বন্দর ও আশপাশের শহরের সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা কেন্ট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশা করছে।

ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বন্দরে পৌঁছাতে না পারার কারণে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পি অ্যান্ড ও ফেরিজ জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত ফেরিগুলো চালু রয়েছে। কোনো যাত্রী বিক্ষোভজনিত যানজটের কারণে নির্ধারিত ফেরি ধরতে না পারলে পরবর্তী উপলব্ধ ফেরিতে তাকে যাত্রার সুযোগ দেওয়া হবে।

ডিএফডিএসও জানিয়েছে, তারা ডোভারে চলমান যানজট সম্পর্কে অবগত এবং যেসব যাত্রী নির্ধারিত যাত্রা ধরতে সমস্যায় পড়বেন, তাদের পরবর্তী যাত্রায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ফ্রান্সের কালাইস বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত জাহাজে যাত্রী ও যানবাহন তোলা হলেও ডোভার পরিস্থিতির কারণে যাত্রায় বিলম্ব হচ্ছে।

ডোভার ও ডিলের লেবার এমপি মাইক ট্যাপ বিক্ষোভকারীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ডোভারে এসে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো নিয়ে তিনি বিরক্ত। তার দাবি, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার ঘটনা আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

ডোভার দীর্ঘদিন ধরেই ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র। এ কারণে বন্দর এলাকায় অতীতেও অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এবার মুখোশধারীদের সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বন্দর অবরোধের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী চালকেরা। ফ্রান্সগামী ফেরি ধরতে যাওয়া পর্যটক এবং ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পণ্য নিয়ে যাওয়া ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। একজন গাড়িচালক জানিয়েছেন, কালো পোশাক পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী তার গাড়ি ঘিরে ফেলায় তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেয়ে যান।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভ কতক্ষণ চলবে এবং বন্দরের স্বাভাবিক যান চলাচল কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়। তবে ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছে যে নির্ধারিত যাত্রা মিস হলেও পরবর্তী ফেরিতে তাদের নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য-আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ডের তেল নিয়ে সংঘাতঃ ব্রিটিশ কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযান

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ব্রিটেনের কাছ থেকে ‘পুনরুদ্ধার’ করার অঙ্গীকার করার পর দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। এরই মধ্যে তেল প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

শনিবার সকালে মিলেইয়ের কার্যালয় জানায়, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধান কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং তেল প্রকল্পে সেবা দেওয়া ব্যবসাগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং দ্বীপগুলো ‘পুনরুদ্ধার’ করার কোনো বিকল্প নেই।

মিলেই বিশেষভাবে দ্বীপগুলোর আশপাশের সমুদ্রসীমায় তেল অনুসন্ধানকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তেল কোম্পানিগুলো সমুদ্রের নিচে থাকা তেল উত্তোলনের বাস্তব সক্ষমতা অর্জন করবে, যা আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবিকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলবে।

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সি লায়ন তেলক্ষেত্র। এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্যভিত্তিক রকহপার এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিতাস যুক্ত রয়েছে। তেলক্ষেত্রটিতে উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৮ সাল। ফলে উৎপাদন শুরুর আগেই আর্জেন্টিনা আইনি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে হাঁটছে।

তবে রকহপার জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে প্রকল্পটির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছে না।

আর্জেন্টিনার কঠোর অবস্থানের জবাবে যুক্তরাজ্যও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান অটল। দ্বীপগুলো ব্রিটিশ ছিল, ব্রিটিশ আছে এবং ব্রিটিশই থাকবে—কারণ সেখানকার জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ব্রিটিশ হিসেবে থাকার পক্ষে।

তিনি আরও বলেন, ফকল্যান্ডবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সুরক্ষিত এবং যুক্তরাজ্য তা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে ‘সম্পূর্ণ ও অটল’ বলে ঘোষণা করেছেন।

২০১৩ সালের গণভোটে ফকল্যান্ড দ্বীপবাসীদের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। বিপক্ষে ভোট পড়েছিল মাত্র তিনটি। দ্বীপপুঞ্জের আইনসভাও জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক হুমকি ও দাবি তাদের ব্রিটিশ হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।

ফকল্যান্ড নিয়ে দুই দেশের বিরোধের ইতিহাস রক্তাক্ত। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জে সামরিক অভিযান চালালে শুরু হয় ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা সেই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন এবং তিনজন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী নিহত হন।

চার দশকের বেশি সময় পর সরাসরি যুদ্ধ না হলেও দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। এবার সেই পুরোনো বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্রের নিচে থাকা বিপুল তেলসম্পদ।

মিলেই শুধু রাজনৈতিক দাবি পুনর্ব্যক্ত করেই থেমে থাকেননি। আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চল তিয়েরা দেল ফুয়েগোতে নতুন একটি নৌঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারে।

ট্রাম্পের এই অবস্থান ফকল্যান্ড প্রশ্নে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ব্যাপার।

ব্রিটিশ সরকার একই সঙ্গে জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চায়।

অন্যদিকে মিলেইয়ের সরকার ফকল্যান্ডের তেলসম্পদকে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করছে। ফলে সামনে তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা, আইনি পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর, রয়টার্স, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট,

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

পর্বতারোহীদের মূত্রবিসর্জন ও জ্বালানির তাপে গলছে হিমালয়ের বরফ

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের উপস্থিতিও হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রভাব ফেলছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের ব্যবহৃত জ্বালানি পোড়ানো এবং সরাসরি হিমবাহে ফেলে দেওয়া মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যেতে পারে।

নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের খুম্বু হিমবাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক একদল গবেষক এই গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে। খুম্বু হিমবাহের ওপরই এভারেস্ট বেজ ক্যাম্প অবস্থিত।

গবেষণায় ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে ৫০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ সময় এভারেস্টে পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে বেজ ক্যাম্প কার্যত একটি অস্থায়ী জনবসতিতে পরিণত হয়। সেখানে রান্না, তাঁবু গরম রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিভিন্ন কাজে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ওই ৫০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুর জন্য ৮২৪টি এলপিজি ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। এসব জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বেজ ক্যাম্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের শরীর থেকে নির্গত বর্জ্য। উচ্চ উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন। গবেষকদের হিসাবে, বেজ ক্যাম্পে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়। কঠিন বর্জ্যের বড় অংশ সংগ্রহ করে পাহাড়ের নিচে নিয়ে যাওয়া হলেও মূত্রের বড় একটি অংশ সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়।

গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, শুধু মানুষের মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপেই একটি পর্বতারোহণ মৌসুমে আনুমানিক ১৫৪ টন বরফ গলে যেতে পারে। অর্থাৎ এত উচ্চতায় মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডও হিমবাহের ওপর পরিমাপযোগ্য তাপীয় প্রভাব তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি পোড়ানো ও মানুষের মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপের পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল বলে হিসাব করেছেন গবেষকেরা। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের সম্ভাব্য ত্রুটি বিবেচনায় নিয়ে গবেষকেরা পরিমাণটি ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন।

এই বরফ গলে যে পরিমাণ পানি তৈরি হতে পারে, তার পরিমাণও বিশাল। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, তা অলিম্পিক আকারের একটি সুইমিং পুল, প্রায় ৮৩টি পানির ট্যাংকার কিংবা ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব পূর্ণ করার মতো হতে পারে।

স্যাটেলাইটের তথ্যও বেজ ক্যাম্প এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতার ইঙ্গিত দিয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাটের ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, বেজ ক্যাম্পের আশপাশের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বছরে গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার পার্শ্ববর্তী খুম্বু হিমবাহে রেকর্ড করা তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ।

তবে গবেষকেরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, এভারেস্টের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার মূল কারণ মানুষের মূত্র বা বেজ ক্যাম্পের জ্বালানি পোড়ানো নয়। এর প্রধান কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি। মানুষের কর্মকাণ্ডকে তারা একটি অতিরিক্ত স্থানীয় চাপ হিসেবে দেখেছেন।

গবেষণা দলের সদস্য নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সার্ভেয়ার কিম লাল গৌতমের মতে, বেজ ক্যাম্পে মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত তাপীয় প্রভাব গবেষণায় হিসাব করা পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ হেলিকপ্টার চলাচল, পর্বতারোহীদের শরীরের তাপ এবং রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত চমরীগাইয়ের শরীর থেকে উৎপন্ন তাপ এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম হওয়ায় গবেষকেরা বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দ্রুত সংকুচিত হতে থাকা একটি হিমবাহের ওপর এ ধরনের ব্যাপক মানবসমাগম দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

এ কারণে বেজ ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল স্থানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, এতে একদিকে হিমবাহের ওপর স্থানীয় মানবসৃষ্ট চাপ কমবে, অন্যদিকে এভারেস্ট অঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়ক হতে পারে।

সূত্রঃ রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নাল

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনলে কী লাভ-ক্ষতিঃ বাংলাদেশের সামনে নতুন কৌশলগত সমীকরণ

চীনের তৈরি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কৌশলগত ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এর সঙ্গে রয়েছে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও।

জে-১০সিই হলো চীনের তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা আকাশযুদ্ধ, স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ এবং সামুদ্রিক অভিযানে সমানভাবে কার্যকর। আধুনিক রাডার, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা যুক্ত থাকায় এটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে আলোচিত একটি প্ল্যাটফর্ম।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনা যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম খরচ। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনা বিমান অনেক কম দামে পাওয়া যায়। ফলে সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।

এ ছাড়া অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে চীন সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর মতো কঠোর রাজনৈতিক শর্ত আরোপ করে না। এতে ক্রেতা দেশগুলো তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পায়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই চীনের কাছ থেকে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আসছে, ফলে বিদ্যমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই-এর মতো মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান বিমানবাহিনীকে বহুমুখী সক্ষমতা দিতে পারে। একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা, শত্রু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত এবং নৌ-অভিযানে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এ ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য উন্নত অবকাঠামো অপরিহার্য। নিরাপদ হ্যাঙ্গার, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং উন্নত রানওয়ে ছাড়া এই প্ল্যাটফর্মের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। ফলে বিমান কেনার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, বড় পরিসরে চীনা সামরিক সরঞ্জাম কেনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক প্রয়োজন নয়; এটি অর্থনীতি, প্রযুক্তি, কূটনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই সম্ভাব্য যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সামরিক সক্ষমতা, ব্যয়, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লুটনে কোভিড টিকার ভুয়া রেকর্ড বিক্রির ভয়াবহ জালিয়াতিঃ হানিফের ৩ বছরের কারাদণ্ড

লুটনে করোনাভাইরাস মহামারির সময় টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য ভুয়া কোভিড-১৯ টিকাদানের রেকর্ড তৈরি করে অর্থের বিনিময়ে বিক্রির ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা এবং এনএইচএস ইংল্যান্ডের যৌথ তদন্তে এই জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে।

তদন্তে জানা যায়, ২০২১ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত লুটনের কিংসওয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২ হাজারের বেশি ভুয়া টিকাদানের রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল। ওই সময় হানিফ সেখানে টিকাদান কর্মসূচির পরিচর্যা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তকারীরা কিংসওয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ২ হাজার ৬৬৩টি সন্দেহজনক তথ্য শনাক্ত করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৭৫টি রেকর্ড হানিফের বাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিকানার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।

মহামারির সময় টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে সরকারি টিকাদানের ভুয়া রেকর্ড সংগ্রহ করতেন। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব অবৈধ রেকর্ডের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। হানিফ প্রতি দুই ডোজের ভুয়া টিকাদানের রেকর্ডের জন্য ৮০ থেকে ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত নিতেন।

এসব ভুয়া রেকর্ড ব্যবহার করে টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরা মহামারির সময় অন্যদের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন। এর মধ্যে ভ্রমণ এবং বড় ধরনের জমায়েতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধও ছিল।

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, টিকাদানের তথ্য তৈরি ও সংরক্ষণের জন্য এনএইচএসে ব্যবহৃত পিনাকল ব্যবস্থায় হানিফের প্রশাসক পর্যায়ের প্রবেশাধিকার ছিল। এই প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই ভুয়া টিকাদানের রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

হানিফকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করার সময় জাতীয় অপরাধ সংস্থার কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে এনএইচএস পরিচয়পত্র, ৭ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ, এনএইচএসের বিভিন্ন নথি এবং লুটন সেফ ডিপোজিট সেন্টারের একটি আবেদনপত্র উদ্ধার করেন।

এছাড়া হানিফের ভাড়া নেওয়া স্থানীয় একটি নিরাপদ আমানত বাক্স থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই জালিয়াতির সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধীরাও জড়িত ছিল। তাদের ধারণা, অপরাধীরা স্বাস্থ্যসেবার অ-ক্লিনিক্যাল কর্মীদের নিয়োগ করেছিল অথবা তাদের সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করেছিল। এর মাধ্যমে টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের ভুয়া সরকারি টিকাদানের রেকর্ড সরবরাহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

মামলার রায়ে হানিফকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামি নাসিরকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নাসিরকে ছয় মাস কারফিউয়ের অধীনে থাকতে হবে।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রতারণাবিরোধী দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে পরিচালিত এই তদন্তের মাধ্যমে ভুয়া টিকাদানের রেকর্ড তৈরির কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, বরং মহামারির সময় জাতীয় জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমকে দুর্বল করার পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

সূত্রঃ ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের ক্যানারিওয়ার্ফের আন্ডারপাসে ধর্ষণের চেষ্টাঃ ইস্ট লন্ডনের সৈয়দ ইমামের ৬ বছরের জেল

পূর্ব লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সৈয়দ ইমাম নামে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। স্টেশনের কাছে আন্ডারপাসে হামলার সময় ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দ ইমাম বেডিংটনের ক্রয়ডন রোডের বাসিন্দা। ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ ভোরে ক্যানারি ওয়ার্ফ ট্রেন স্টেশনের কাছে একটি আন্ডারপাসে তিনি ওই নারীর ওপর যৌন হামলা চালান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ঘটনার আগে নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দেওয়ার সময় ইমামের আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করেন। কিছুক্ষণ পর তারা দেখতে পান, তিনি এক নারীকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করছেন। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে ছুটে গিয়ে হামলা থামান এবং ইমামকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে আটক করেন।

পরে তারা মেট্রোপলিটন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে গ্রেপ্তার করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন। হামলার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

পুলিশের প্রকাশ করা দেহে পরা ক্যামেরার ভিডিওতে গ্রেপ্তারের সময় ইমামের কথোপকথনও উঠে এসেছে। পুলিশ তাকে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অপরাধ করতে দেখেছেন। জবাবে ইমাম দাবি করেন, তাকে কেউ দেখেনি এবং গ্রেপ্তারের কারণকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তদন্তকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তাকে হেফাজতে পাঠানো হয়।

এই মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ভুক্তভোগী নারীর স্মৃতির সমস্যা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর ওই নারীর কী ঘটেছিল তার কোনো স্মৃতি ছিল না। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং পুলিশের দ্রুত ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সৈয়দ ইমাম ২ জুলাই স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চার দিনব্যাপী বিচার শেষে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করেছে। পুলিশের ভাষ্য, তাদের সাহসী ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কারণেই হামলাটি আরও গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার আগেই থামানো সম্ভব হয় এবং বিপজ্জনক অপরাধীকে দ্রুত আটক করা যায়।

মামলাটির তদন্তে যুক্ত গোয়েন্দা কনস্টেবল ম্যাডেলিন পাওয়েল বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে। ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা সাহস করে হস্তক্ষেপ না করলে ওই অপরাধী এখনো রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারতেন এবং ভুক্তভোগী নারী আরও বেশি ক্ষতির শিকার হতে পারতেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো সন্দেহজনক বা উদ্বেগজনক আচরণ চোখে পড়লে তা জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দেওয়া তথ্যকে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মামলার পুরো প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী নারীকে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা সহায়তা করেন। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম বুঝতে সাহায্য করার পাশাপাশি ঘটনার কারণে সৃষ্ট গভীর মানসিক আঘাত মোকাবিলাতেও তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ও অভিযোগ গঠনের মতো ইতিবাচক ফলাফল দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সাধারণ সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ও অভিযোগ গঠনের সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ সিলেট

সিলেটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে উঠল বিতর্কিত নেতাকর্মীদের প্রশ্রয়ের অভিযোগ

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতকে কেন্দ্র করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত নয়জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসহ বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেটে গিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন হুমায়ুন কবির। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মাজার জিয়ারত শেষে তার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল। এ কারণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মাজারের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মাজার থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় ও ধাক্কাধাক্কিতে স্বাভাবিকভাবে সংবাদ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিস্থিতির কারণে সাংবাদিকরা মাজারের বাইরে চলে আসেন। তখন একদল নেতাকর্মী ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও’ স্লোগান দিয়ে সাংবাদিকদের দিকে এগিয়ে এসে মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় আহত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক অপু বণিক, যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক নাবিল হোসেন, চ্যানেল ওয়ানের প্রতিবেদক এম এ কাইয়ুম, ডিবিসি নিউজের তাওহিদুর রহমান শাহ, স্টার টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ইয়াহ্ইয়া মারুফ, কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ কবির আহমদ, একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন তারেক আহমদ, ডিবিসির ক্যামেরাপারসন সাকিব আহমদ এবং এটিএন নিউজের প্রতিবেদক কামরুল ইসলাম মাহি।

ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সাংবাদিকরা জানান, প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার আগেই নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত চাপ ও ধাক্কাধাক্কির কারণে তারা মাজারের বাইরে চলে আসেন। এরপর কয়েকজন তাদের দিকে চড়াও হন। কারও কারও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর হেনস্তার শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রতিনিধির কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সিলেটের স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে—কারা ওই হামলা বা হেনস্তায় জড়িত ছিলেন এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী। স্থানীয় পর্যায়ে আবদুল কাদির সমসু-পন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বলে আলোচনা থাকলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক বলয় গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে নিজের রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাব বাড়াতে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত নেতাকর্মীকে আশপাশে জায়গা দিচ্ছেন।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে এই ঘটনার বৈপরীত্য। এর আগে সিলেটে এক সাংবাদিক সমাবেশে তিনি সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক আনুগত্যের হাতিয়ার না বানিয়ে তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকদের আপসহীন থাকার কথাও বলেছিলেন।

অন্যদিকে, সাংবাদিকদের অভিযোগ অনুযায়ী তার কর্মসূচিতে যদি গণমাধ্যমকর্মীদেরই নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেই নিরাপত্তার দায় কে নেবে—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

ঘটনার পর সিলেটের সাংবাদিকরা স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পরবর্তী কর্মসূচি এবং স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকেও ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, কারা সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন সাংবাদিকদের প্রধান দাবি—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত সাংবাদিকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সিলেটের শাহজালালের মাজারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা তাই শুধু সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ নয়; এটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ, দলীয় শৃঙ্খলা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে।

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট\আজকের পত্রিকা