Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে বড় দুর্যোগের অশনিসংকেতঃ ঘরে ৩ দিনের খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ সরকারের

ব্রিটেনে সম্ভাব্য বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। তীব্র আবহাওয়া, বন্যা, তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে অপরাধী বা হ্যাকারদের হামলা, বিদেশি শক্তির আক্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিপর্যয়—বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোকে কয়েক দিনের জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরে মজুত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সরকারের নতুন জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় মানুষকে জরুরি সতর্কবার্তার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক জ্ঞান অর্জন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার বিকল্প পথ নির্ধারণ এবং সংকটের সময় পরিবারের সদস্যদের করণীয় আগে থেকেই ঠিক করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ফিলিপ ব্রডবেন্ট জানিয়েছেন, অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার এমন একটি প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করা হবে। এর মধ্যে চরম আবহাওয়া, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মতো পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সরকারের যুক্তি হলো, মানুষ যদি জরুরি পরিস্থিতির প্রথম কয়েক দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন নিজেরাই সামলাতে পারে, তাহলে জরুরি পরিষেবাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এজন্য ঘরে অল্প পরিমাণ টিনজাত খাবার ও বোতলজাত পানি রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রতিটি পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর কাগজে লিখে রাখা, পরিবারের সদস্যদের জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা, নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধের তালিকা তৈরি করা, স্থানীয় ও জাতীয় বেতার কেন্দ্রের তরঙ্গসংখ্যা লিখে রাখা এবং বিমার কাগজপত্র সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাড়ির গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মূল সংযোগ কীভাবে বন্ধ করতে হয়, তা পরিবারের সদস্যদের জানা উচিত। জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারের সবাই কোথায় মিলিত হবে এবং কীভাবে যোগাযোগ করবে, সেটিও আগে থেকেই ঠিক করে রাখার পরামর্শ রয়েছে।

বাড়িতে অন্তত কয়েক দিনের জন্য জরুরি সামগ্রী এমন জায়গায় রাখতে বলা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ না থাকলেও সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। দ্রুত বাড়ি ছাড়তে হলে ব্যবহারের জন্য আলাদা একটি জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখাও উপকারী হতে পারে। তবে আগুনের মতো তাৎক্ষণিক বিপদের ক্ষেত্রে কোনো সামগ্রী নেওয়ার চেষ্টা না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জরুরি তালিকার প্রথমেই রয়েছে ব্যাটারি বা হাত ঘুরিয়ে চালানো টর্চ। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে চলাচলের জন্য এটি প্রয়োজনীয়। মোমবাতির পরিবর্তে টর্চ ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ফোন সচল রাখতে একটি বহনযোগ্য বিদ্যুৎ সঞ্চয়যন্ত্র বা পাওয়ার ব্যাংক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে মোবাইল ফোনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটারি বা হাত ঘুরিয়ে চালানো বেতারযন্ত্রও জরুরি তালিকায় রয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি সতর্কবার্তা ও পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। গাড়ির বেতারযন্ত্রও ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে, যদিও ভয়াবহ আবহাওয়ার সময় নিরাপত্তার কারণে গাড়ির পরিবর্তে ঘরের ভেতরে অবস্থান করাই ভালো হতে পারে।

অতিরিক্ত ব্যাটারিও ঘরে রাখতে বলা হয়েছে। এগুলো টর্চ, বেতারযন্ত্র এবং কিছু চিকিৎসা সরঞ্জামে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্সও জরুরি। এতে জলরোধী প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ, থার্মোমিটার, জীবাণুনাশক, চোখ পরিষ্কারের দ্রব্য, জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং, হাতের দস্তানা, চিকিৎসা টেপ ও চিমটির মতো সামগ্রী রাখা যেতে পারে।

পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য হাত জীবাণুমুক্ত করার তরল ও ভেজা টিস্যু কাজে আসতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বোতলজাত পানি মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বেঁচে থাকার জন্য একজন মানুষের প্রতিদিন প্রায় আড়াই থেকে তিন লিটার পানীয় পানির প্রয়োজন হতে পারে। রান্না ও মৌলিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে দৈনিক মাথাপিছু প্রায় ১০ লিটার পর্যন্ত পানির প্রয়োজন হতে পারে। শিশুদের খাবার তৈরি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পোষা প্রাণীর জন্য অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য এমন খাবার রাখতে বলা হয়েছে, যেগুলো দ্রুত নষ্ট হয় না এবং রান্নার প্রয়োজন নেই। টিনজাত মাছ, মাংস, বিনস, ফল ও সবজি, প্রস্তুত খাবার, বিস্কুট, ক্র্যাকার, বাদামের মাখন, সিরিয়াল, সিরিয়াল বার, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য দুধ এবং শুকনো ফল রাখা যেতে পারে। টিনজাত খাবার রাখলে সেটি খোলার জন্য টিন খোলার যন্ত্রও সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।

শিশু থাকা পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ডায়াপার, শিশুখাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কয়েক দিনের জন্য মজুত রাখা উচিত। পানি ফুটিয়ে বা বোতল জীবাণুমুক্ত করার সুযোগ না থাকলে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য শিশুখাদ্য বেশি উপযোগী হতে পারে।

পোষা প্রাণীর কথাও ভুলে গেলে চলবে না। জরুরি পরিস্থিতিতে দোকানপাট বন্ধ থাকলে বা বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে কয়েক দিনের জন্য তাদের খাবারও আগে থেকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

গাড়িতেও কিছু জরুরি সামগ্রী রাখা যেতে পারে। এর মধ্যে টর্চ, গাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার যন্ত্র, গরম কাপড়, কম্বল, সহজে চোখে পড়ার মতো উজ্জ্বল পোশাক, গাড়ির ব্যাটারি চালুর তার, খাবার ও পানীয় এবং তুষার সরানোর বেলচা থাকতে পারে। গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স রাখাও উপকারী।

সাবেক ব্রিটিশ সেনাসদস্য ও ব্যক্তিগত তদন্তকারী ক্রিস থমাস জানিয়েছেন, এই প্রস্তুতির অর্থ আতঙ্কিত হয়ে বিপুল পরিমাণ খাবার কেনা নয়। শত শত পাউন্ড খরচ করে বিশেষ ধরনের দুর্যোগকালীন খাবার কেনারও প্রয়োজন নেই। বরং পরিবারে নিয়মিত খাওয়া হয় এমন খাবার কয়েক দিনের জন্য মজুত করাই বেশি বাস্তবসম্মত।

তার মতে, বিদ্যুৎ বা গ্যাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রান্নার প্রয়োজন হয় না এমন খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিন দিনের জন্য একজন মানুষের সকালের নাশতায় সিরিয়াল ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য দুধ বা সিরিয়াল বার, দুপুরে ক্র্যাকার ও টিনজাত মাছ বা বিনস এবং রাতে টিনজাত স্যুপ বা প্রস্তুত খাবার রাখা যেতে পারে। সঙ্গে শুকনো ফল, বিস্কুট বা সিরিয়াল বার রাখা যেতে পারে।

বিশেষ স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ফার্মাসিস্ট আব্বাস কানানি। তার মতে, কয়েক দিনের খাবার মজুত করলেই হবে না; খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।

উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অতিরিক্ত লবণযুক্ত টিনজাত স্যুপ, প্রক্রিয়াজাত মাংস, তাৎক্ষণিক নুডলস ও প্রস্তুত খাবার এড়িয়ে চলা বা কম লবণযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের খাবারে চিনি ও শর্করার পরিমাণের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। ওটস, পূর্ণশস্য, বিনস, ডাল, বাদাম ও বীজের মতো খাবার রাখা যেতে পারে। টিনজাত ফল কিনলে চিনির সিরাপের পরিবর্তে প্রাকৃতিক রসে সংরক্ষিত ফল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের জন্য টিনজাত বিনস, ছোলা, ডাল, মাছ ও মাংসের মতো খাবার রাখা যেতে পারে। জরুরি খাদ্যভাণ্ডারে ওটস, কম লবণযুক্ত টিনজাত সবজি, ডাল, টিনজাত মাছ, প্রাকৃতিক রসে সংরক্ষিত ফল, লবণবিহীন বাদাম ও বীজ, পূর্ণশস্যের খাবার, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য দুধ এবং টিনজাত টমেটো রাখা যেতে পারে।

নিয়মিত ওষুধ ব্যবহারকারীদের কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহারের নির্দেশনার কাগজের কপিও সংরক্ষণ করা উচিত। ব্যাটারিনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলে অতিরিক্ত ব্যাটারি চার্জ করে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্য ০৩৪৫৭ ৬৪৩৬৪৩ নম্বর দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এমন প্রস্তুতি নির্দেশনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ব্রিটেনে কি বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? তবে এই প্রস্তুতির পরামর্শকে কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধ, হামলা বা দুর্যোগ আসন্ন হওয়ার সরকারি ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিভিন্ন সম্ভাব্য ঝুঁকি সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখাই এর উদ্দেশ্য।

তবে বিদেশি শক্তির হামলা, সাইবার আক্রমণ, চরম আবহাওয়া, বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিপর্যয়ের মতো একাধিক ঝুঁকিকে একই প্রস্তুতি পরিকল্পনার আওতায় আনার বিষয়টি ব্রিটেনে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সরকারের বার্তা হলো—আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা নয়, বরং পরিকল্পিত প্রস্তুতি। সংকটের প্রথম কয়েক দিন পরিবারগুলো যদি নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন নিজেরাই সামলাতে পারে, তাহলে জরুরি পরিষেবাগুলো সবচেয়ে বেশি বিপদে থাকা মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ফিরছেন কি না, তথ্য নেই ভারতের কাছেঃ রণধীর জয়সওয়াল

নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারতের কাছে এই মুহূর্তে কোনো নতুন তথ্য নেই। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।

ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ফলে সম্মেলনে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে এর আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে। তবে সম্মেলন শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে ভারতের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না দেওয়ায় বিষয়টি এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট এক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরই তাকে ওই আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এবং তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না। তিনি জানতে চান, প্রধানমন্ত্রী যোগ না দিলে তার পরিবর্তে অন্য কেউ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই।

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে একজন সাংবাদিক তার বিষয়ে ভারতের সরকারের কাছে কোনো নতুন তথ্য আছে কি না জানতে চান।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলার মতো কিছু নেই।

আরেক সাংবাদিক শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো ‘ব্যাক চ্যানেল’ আলোচনা চলছে না বলে দাবি করেছেন। দেশে ফিরলে তিনি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চান বলেও জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছেন কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়েও তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

ফলে শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ কিংবা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা—কোনোটির ক্ষেত্রেই নতুন বা নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নয়াদিল্লিতে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাই এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য নিউ ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইইউর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক চাপের অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তবে ইইউর সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইইউ জানায়, ইরান যাতে তার ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করে এবং আন্তরিকভাবে শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়, সে প্রচেষ্টাকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে এই লক্ষ্য অর্জনে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্যোগকেও সমর্থন করার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় জোট।

ইইউর ওই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক অভিযানে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিয়েছে—এমন কোনো সরাসরি ঘোষণা বিবৃতিতে দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইইউকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব ইরানের প্রতি একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’ পাঠাচ্ছে।

তবে বেসেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে ইইউর প্রকাশিত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন যেখানে ইইউর অংশগ্রহণের কথা বলছে, সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের উদ্যোগকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

ইইউ একই সঙ্গে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ফলে জোটটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছে কি না, নাকি কেবল ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নীতিকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করছে—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইরানকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো এবং দেশটির কথিত অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য অর্থনৈতিক চাপকে সমর্থনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে ওয়াশিংটনের অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে, তা স্পষ্ট। তবে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইইউ এখনো সতর্ক অবস্থান ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রশাসনের দাবি এবং ইইউর আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা দুই পক্ষের সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়লে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শেষ পর্যন্ত সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থান স্পষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে যুক্ত ৮৪ বছরের ধর্মযাজকের বাড়িতে ব্রিটিশ পুলিশের অভিযান

ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৮৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ধর্মযাজক সু পারফিটের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। শুক্রবার তার বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (ডিওজে)।

ডিওজের দাবি, সু পারফিট অতীতে ব্রিটিশ সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত সরাসরি আন্দোলনকারী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি বুধবার পরিবেশবাদী আন্দোলন ‘জাস্ট স্টপ অয়েল’-এর সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভেও অংশ নেন তিনি।

ওই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে। সেখানে উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ পুনরায় চালু না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সু পারফিটের বাড়িতে পুলিশের অভিযানের খবর প্রকাশ করে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্রিটিশ পুলিশের অভিযান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কয়েকজন কর্মীর বাড়িতে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। আরও কয়েকজন প্রচারক ও সমর্থক তাদের বাড়িতে পুলিশের অভিযানের আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশের বিপুল সময় ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে।

সু পারফিটের ক্ষেত্রে পুলিশের অভিযানের সুনির্দিষ্ট কারণ বা অভিযানে কী জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তাও ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ—এই দুই বিষয়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে বিবেচনা করছে, তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

৮৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ধর্মযাজকের বাড়িতে পুলিশের অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন ঘিরে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মালদ্বীপে ১০ মে’র পর থাকবে না কোনো ভারতীয় সেনা, সাদা পোশাকেও নাঃ মুইজ্জু

মালদ্বীপে আগামী ১০ মে’র পর কোনো ভারতীয় সামরিক সদস্য থাকবে না বলে দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। একই সঙ্গে ভারতীয় সেনারা ইউনিফর্ম খুলে বেসামরিক পোশাকে মালদ্বীপে অবস্থান করবেন—এমন গুঞ্জনও সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি।

মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এডিশন টিভির বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এক বক্তব্যে মুইজ্জু বলেন, ভারতীয় সামরিক সদস্যরা দেশ ছাড়ছেন না কিংবা পোশাক পরিবর্তন করে আবার ফিরে আসছেন—এ ধরনের গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।

মুইজ্জু বলেন, ১০ মে’র পর মালদ্বীপে কোনো ভারতীয় সেনা থাকবে না। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তো নয়ই, বেসামরিক পোশাকেও নয়। কোনো ধরনের পোশাকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যরা দেশটিতে অবস্থান করবেন না বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান তিনি।

মুইজ্জুর এই বক্তব্য এমন এক দিনে এসেছে, যেদিন মালদ্বীপ চীনের সঙ্গে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে। ফলে ভারতীয় সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে মালে সরকারের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে মালদ্বীপে তিনটি বিমান পরিচালনা প্ল্যাটফর্মে মোট ৮৮ জন ভারতীয় সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দুটি হেলিকপ্টার এবং একটি ডর্নিয়ার উড়োজাহাজের মাধ্যমে তারা কয়েক বছর ধরে দেশটির জনগণকে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিবহনসেবা দিয়ে আসছেন।

গত ২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ১০ মে’র মধ্যে তিনটি বিমান প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে তাদের জায়গায় বেসামরিক কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর প্রথম ধাপ ১০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে একটি ভারতীয় বেসামরিক দল মালদ্বীপে পৌঁছে তিনটি বিমান প্ল্যাটফর্মের একটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই বেসামরিক কর্মীদের পরিচয় নিয়ে মালদ্বীপের রাজনীতিতে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

মুইজ্জু সরকারের বিরোধীদের অভিযোগ, ভারত থেকে মালদ্বীপে পাঠানো বেসামরিক কর্মীদের অনেকে আসলে সামরিক কর্মকর্তা। তাদের দাবি, এসব ব্যক্তি শুধু ইউনিফর্ম খুলে বেসামরিক পোশাক পরেছেন। সরকার তাদের প্রকৃত পরিচয় ও সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।

চিকিৎসাজনিত জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য মালদ্বীপ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিকল্প বিমানসেবা পরিচালনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় সহায়তার পরিবর্তে অন্য দেশের সহযোগিতায় জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনার সরকারের উদ্যোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের দাবিতে সরব মুইজ্জু। তার নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অবস্থান ছিল ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি। ক্ষমতায় আসার পরপরই তিনি ভারতীয় সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

পার্লামেন্টে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণেও মুইজ্জু ভারতীয় সামরিক সদস্য প্রত্যাহারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার দাবি, মালদ্বীপের প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাকে তার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের ‘বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমা’ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও তার সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুইজ্জু।

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছে অবস্থিত মালদ্বীপ ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপ থেকে দেশটির দূরত্ব প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল এবং ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ নটিক্যাল মাইল।

ভারতের কাছে মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিবেশী। ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং ‘সাগর’—সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিয়ন—উদ্যোগেও দেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এ কারণে মুইজ্জু সরকারের ভারতবিরোধী অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা শুধু ভারত-মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণও।

১০ মে’র মধ্যে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহার এবং তাদের জায়গায় বেসামরিক কর্মী মোতায়েনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মালদ্বীপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে মালে সরকারের সামরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে কতটা বাড়ে, সেদিকেও নজর থাকবে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে ৮৬ টন সোনা সরাল নেদারল্যান্ডসঃ ট্রাম্পকে ঘিরে ইউরোপের উদ্বেগ বাড়ছে

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ সোনা সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (DNB) জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে প্রায় ৮৬ টন সোনা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর বড় একটি অংশ লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নয়, বরং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো এবং সোনার রিজার্ভকে আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।

নেদারল্যান্ডসের কাছে বর্তমানে প্রায় ৬১২.৪ টন সোনা রয়েছে। এর আনুমানিক মূল্য ৮৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সাম্প্রতিক স্থানান্তরের আগে দেশটির মোট সোনার ৩১.৩ শতাংশ নিউইয়র্কে, ১৯.৭ শতাংশ কানাডার অটোয়ায়, ৩০.৮ শতাংশ নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে এবং ১৮.১ শতাংশ লন্ডনে সংরক্ষিত ছিল। নতুন ব্যবস্থার পর লন্ডনে থাকা সোনার অংশ বেড়ে ৩২.১ শতাংশ হয়েছে। বিপরীতে নিউইয়র্ক ও অটোয়ায় থাকা অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ শতাংশ করে। নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টে থাকা অংশ অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে পুরো ৮৬ টন সোনা শারীরিকভাবে উত্তর আমেরিকা থেকে লন্ডনে নেওয়া হয়নি। DNB জানিয়েছে, প্রায় ৫৯ টন সোনা নিউইয়র্কে বিক্রি করে লন্ডনে সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। আরও প্রায় ২৭ টন সোনা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে স্থানান্তর করা হয় এবং একই পরিমাণ সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এর ফলে উত্তর আমেরিকায় থাকা সোনার বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি এবং লন্ডনের আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত লেনদেনের উপযোগী সোনা পাওয়া গেছে।

DNB-এর প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেছেন, এই পুনর্বিন্যাসের ফলে নেদারল্যান্ডসের সোনার রিজার্ভের ‘ট্রেডেবিলিটি’ বা লেনদেনযোগ্যতা বাড়বে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটি আশা করে কখনোই এই রিজার্ভকে বড় সংকটের সময় ব্যবহার করতে হবে না। তবে সম্ভাব্য সংকটের জন্য আগে থেকেই স্থিতিস্থাপকতা ও প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন।

লন্ডনে সোনা সরিয়ে নেওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দ্রুত লেনদেনের সক্ষমতা। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত সোনার বারগুলো আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় প্রয়োজনের সময় এগুলো তুলনামূলক দ্রুত বাজারে ব্যবহার করা যায়। DNB-এর মতে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ায় রাখা সোনা একই পরিস্থিতিতে ‘যত দ্রুত ও সরাসরি’ ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক নানা ইস্যুতে চাপের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি ওয়াশিংটনের অবস্থান এবং ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যেও তীব্র বাণিজ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে, যা কানাডায় রাখা নেদারল্যান্ডসের সোনার বিষয়টিকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত সহযোগিতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফ্রান্স ইসরায়েলি অস্ত্রবাহী বিমানকে তার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ইতালি মার্কিন বোমারু বিমানকে সিসিলিতে অবতরণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেনও ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে জানান, ব্রিটেন সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেবে না।

এর মধ্যেই ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা এবং বিদেশে জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

তবে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখা সোনা জব্দ হওয়ার আশঙ্কা বা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। ব্যাংকের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—সোনার রিজার্ভ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রাখা হলে কোনো একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনি পরিস্থিতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো যায়। পাশাপাশি সংকটের সময় সোনা দ্রুত ব্যবহার করার সক্ষমতাও বাড়ে।

বিদেশে জাতীয় রিজার্ভ রাখার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে আলোচনার একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন চালানোর পর পশ্চিমা দেশগুলোর রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দের ঘটনা। ওই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ বিদেশি ভূখণ্ডে রাখা হলে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটের সময় তা অন্য দেশের সিদ্ধান্ত বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে কি না।

এই পরিস্থিতিতে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, জাতীয় সোনার রিজার্ভ কোথায় রাখা হবে—এটি এখন কেবল আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও জড়িয়ে গেছে। বিদেশে রাখা সোনার ওপর সরাসরি শারীরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নেদারল্যান্ডস অবশ্য এই প্রবণতায় একা নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে রাখা ১২৯ টন সোনা স্থানান্তর করে। ফ্রান্সও এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক কারণ থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সোনার ব্যবস্থাপনা থেকে আরও ভালো রিটার্ন পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে।

জার্মানিও অতীতে বিদেশে রাখা বিপুল পরিমাণ সোনা দেশে ফিরিয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশটি নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৩০০ টন এবং প্যারিস থেকে প্রায় ৩৭৪ টন সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে নেয়। তবে জার্মানির এখনও প্রায় ৩,৩৫০ টন সোনার রিজার্ভের মধ্যে প্রায় ১,২৩৬ টন বা ৩৬.৬ শতাংশ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে সংরক্ষিত রয়েছে।

জার্মানির কিছু রাজনীতিবিদ ট্রাম্পের অনির্দেশ্য রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এত বিপুল পরিমাণ সোনা রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বুন্দেসব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ইয়োয়াখিম নাগেল জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে সংরক্ষিত জার্মান সোনা নিরাপদ রয়েছে এবং এসব রিজার্ভের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষাও রয়েছে।

এর বাইরেও কয়েকটি দেশ নিজেদের সোনার রিজার্ভ কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে। ২০১৮ সালে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রে রাখা তার সোনার রিজার্ভ প্রত্যাহার করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ইতালির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিপুল পরিমাণ সোনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতেরও বিদেশের বিভিন্ন ভল্টে সোনা সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপের সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। লন্ডনও যুক্তরাষ্ট্রের মতোই বিশ্বের অন্যতম প্রধান সোনা বাণিজ্যকেন্দ্র এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে সোনা রাখা আন্তর্জাতিক বাজারব্যবস্থারই অংশ। নেদারল্যান্ডসের ক্ষেত্রে মূল পরিবর্তন হলো, উত্তর আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে লন্ডনে রিজার্ভের অংশ বাড়ানো।

তারপরও ফ্রান্সের ১২৯ টন এবং নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা পুনর্বিন্যাস ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তিত চিন্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কোনো ইউরোপীয় দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান \ এএফপি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শিলিগুড়ি করিডোরের চিকেনস-নেকে ভারতের কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদার

ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় বাগডোগরা থেকে পানিট্যাঙ্কি, খড়িবাড়ি হয়ে গলগলিয়া পর্যন্ত ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি অনুমোদন করা হয়েছে।

ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি ৩ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের অনুমোদনের কথা জানান। প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি রেলওয়ে উড়ালসেতু, পাঁচটি হাতি চলাচলের ভূগর্ভস্থ পথ এবং সড়কের দুই পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে।

শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর স্থল যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে করিডোরটি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের কাছাকাছি হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি।

নতুন চার লেনের সড়কটি বাগডোগরা বিমানবন্দর, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কি এলাকার যানজট কমাতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে ভারত। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চা, কৃষি ও অন্যান্য পণ্য দ্রুত পরিবহনের সুযোগ বাড়বে।

প্রকল্পটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বন্যপ্রাণী চলাচলের নিরাপত্তা। পাঁচটি হাতি চলাচলের ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণের ফলে মহাসড়ক পারাপারের সময় হাতি ও মানুষের সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অবকাঠামো উন্নয়ন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ সহজ করবে।

এদিকে শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে ভারত আরও কয়েকটি বড় অবকাঠামো পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ রেলপথ ও উন্নত রেল যোগাযোগব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন এই কৌশলগত অঞ্চলে ভারতের যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।

সূত্রঃ আজতক বাংলা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশঃ ব্যাংকের প্রতি ১০০ টাকার প্রায় ৩৩ টাকাই এখন খেলাপি

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাত্র তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল। ফলে কিছুটা কমার পরও চলতি বছরের জুনে তা আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য তুলনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশের পর খেলাপি ঋণের হারে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। চাদের হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ৩০ শতাংশ, আলজেরিয়ার ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ঘানার ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ।

একসময় খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বে শীর্ষে ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। রাশিয়ার হামলার পর দেশটির খেলাপি ঋণ প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমে ১২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা প্রায় ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশে পরিস্থিতির অবনতির পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব, ঋণ পুনঃতফসিল ও বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ঋণকে নিয়মিত দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান যাচাই এবং বিভিন্ন নিরীক্ষায় আগে আড়ালে থাকা অনিয়মিত ও বেনামি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিশেষ করে একীভূত হওয়া কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের বড় অংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকেও মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি খেলাপি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণের নিয়ম কঠোর করেছে, দুর্বল ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা করছে এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার করেছে। এর ফলে আগে নিয়মিত হিসেবে দেখানো অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঋণ পুনঃতফসিল বা হিসাব থেকে ঋণ অবলোপন করে খেলাপি ঋণের হার কমানো যাবে না। প্রকৃত সমাধানের জন্য ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করে অর্থ আদায়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ব্যাংকের ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ এবং নতুন করে অনিয়মিত ঋণ সৃষ্টি ঠেকানো জরুরি।

অন্যদিকে ব্যবসায় মন্দা, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল ঋণ আদায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে খেলাপি ঋণের এই সংকট শুধু ব্যাংক খাতেই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক\ আইএমএফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে এনএইচএসের সাড়ে ৫ লাখ পাউন্ড লুটে বিলাসী জীবন, তবুও জেল এড়ালেন প্রতারক ব্যবস্থাপক!

দক্ষিণ লন্ডনের একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ২৬০ পাউন্ডের বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা এক চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপককে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়নি। তবে আদালতে বিচারক সতর্ক করে বলেছেন, কারাগারে যাওয়ার মাত্র চুলচেরা ব্যবধান থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী হেলেনা পাইভা দক্ষিণ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক এলাকার অ্যালবিয়ন স্ট্রিট চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে মোট পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ২৬০ পাউন্ড ২৯ পেনি আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেছেন।

আদালতে শুনানিতে উঠে আসে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক মাস পর থেকেই পাইভা প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজের কাছে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। হিসাবের নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পরিবর্তন করে তিনি নিজের হিসাবে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী হান্না উইলিয়ামস আদালতকে জানান, পাইভা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত খরচের নাম সামান্য পরিবর্তন করে লেনদেনগুলোকে বৈধ খরচ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করতেন। এমনকি একটি হিসাবের ক্ষেত্রে কর কর্তৃপক্ষের নামের বানান পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বর ও অর্থ স্থানান্তরের পরিচিতি অপরিবর্তিত থাকায় পরে বিষয়টি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

চুরি করা অর্থ দিয়ে পাইভা নিজের জীবনযাপনকে ব্যাপকভাবে বিলাসবহুল করে তোলেন। তিনি একটি টেসলা গাড়ি, দামি পোশাক, বিলাসবহুল হাতব্যাগ, গয়না এবং বিভিন্ন পণ্য কেনেন। শুধু অ্যামাজন থেকেই তিনি প্রায় ১০ হাজার পাউন্ডের পণ্য কেনাকাটা করেন। এসবের মধ্যে ছিল ভ্যাপ ও গাড়ির বিভিন্ন সামগ্রী।

কেন্টের বক্সলিতে তার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে হার্মেস, ক্রিশ্চিয়ান ডিওর ও সেলফরিজের মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পণ্য, গয়না ও দামি হাতব্যাগের বাক্স উদ্ধার করে। এমনকি পুলিশ তল্লাশি চালানোর সময়ও একটি নতুন হাতব্যাগ তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

আদালতে পাইভার সাবেক সহকর্মীরা তার কর্মকাণ্ডে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যাকে তারা বিশ্বাস করেছিলেন, সেই ব্যক্তিই পরিকল্পিতভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। চিকিৎসক লুইসা ডোভে তাকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী ও চোর’ বলে আখ্যা দেন।

ডোভে আদালতে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো বিশাল অচেনা সংস্থা নয়; সেখানে মাত্র আটজন মানুষ কাজ করেন এবং তাদের পরিবারগুলোর জীবিকা ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। পাইভার চুরির কারণে চিকিৎসাকেন্দ্রটি অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতেও পড়েছিল বলে তিনি জানান।

আদালতে আরও জানানো হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ চিকিৎসকদের অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল। ফলে অর্থ চুরির কারণে শুধু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, চিকিৎসাসেবার ওপরও এর প্রভাব পড়েছিল।

তবে বিচারক ক্রিস্টোফার হেহির তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাইভার দুই সন্তান—১২ ও চার বছর বয়সী—এবং তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও সাজা নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

বিচারক তার কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাইভা একজন সক্ষম ও বুদ্ধিমান নারী ছিলেন এবং অতীতে জীবনে যথেষ্ট সাফল্যও অর্জন করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অপরাধের পেছনে মূল কারণ ছিল লোভ।

পাইভাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবে সেই সাজা তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ২০ দিনের পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এবং ১৬০ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে সামাজিক সেবা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে সাজা ঘোষণার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পাইভা। তখন বিচারক তাকে সতর্ক করে বলেন, তিনি কারাগারের সেলে যাওয়ার ‘একেবারে চুলের ব্যবধানের’ মধ্যে চলে এসেছিলেন।

বিচারক একই সঙ্গে ব্রিটেনের কারাগারগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলো বর্তমানে বন্দিতে প্রায় উপচে পড়ছে।

এদিকে আত্মসাৎ করা বিপুল অর্থের খুব সামান্য অংশই এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মোট পাঁচ লাখ ১৭ হাজার পাউন্ডের বেশি চুরি হলেও প্রায় সাত হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়া গেছে।

চুরি করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে আগামী বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালতে আরও জানানো হয়, পাইভার আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তিনি পদমর্যাদা ও দায়িত্বের সুযোগ ব্যবহার করে যে অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন, তা দিয়ে নিজের জন্য বিলাসবহুল জীবন গড়ে তুললেও তার কর্মকাণ্ডে একটি ছোট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও চিকিৎসকদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বিশ্বাসভঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যকে নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত আক্রমণঃ সাদিক খানকে ঘিরে ছড়ালেন শরিয়া আদালতের ভিত্তিহীন দাবি

যুক্তরাজ্যকে নিয়ে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার পাশাপাশি ব্রিটিশ রাজধানীতে কথিত ‘নো-গো এলাকা’, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং ‘শরিয়া আদালত’ নিয়ে একাধিক দাবি করেছেন তিনি। তবে তার এসব বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই এবং কয়েকটি দাবি সরাসরি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জিবি নিউজের উপস্থাপক বেভ টার্নারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় পুলিশ পর্যন্ত প্রবেশ করতে চায় না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নেই এবং পুলিশ নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ায় সেখানে যেতে ভয় পায়।

ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব এলাকায় নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা চলে এবং সেখানে ‘শরিয়া আদালত’ও রয়েছে। এরপর তিনি সাদিক খানকে লন্ডনের “ভয়াবহ” মেয়র হিসেবে আক্রমণ করেন এবং শহরের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তাকে দায়ী করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু লন্ডনে রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে কোনো ‘শরিয়া আদালত’ কার্যকর নেই। যুক্তরাজ্যে কিছু শরিয়া কাউন্সিল রয়েছে, যারা মূলত ধর্মীয় ও পারিবারিক বিষয়ে পরামর্শ দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামূলক সালিশে ভূমিকা রাখে। তবে এগুলোর ব্রিটিশ আইনের অধীনে কোনো আদালতসুলভ আইনগত ক্ষমতা বা এখতিয়ার নেই। যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থানও হলো—শরিয়া আইন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আইনের অংশ নয়।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর আগে লন্ডনে অপরাধ ছিল না এবং শহরটি তখন অত্যন্ত নিরাপদ ছিল। তার অভিযোগ, বর্তমানে “একটি ভিন্ন সংস্কৃতি” লন্ডনে প্রবেশ করেছে এবং এ কারণেই শহরটি আগের তুলনায় আমূল বদলে গেছে।

সাদিক খান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি লন্ডন ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত ব্যক্তি নন। এমনকি নতুন করে আসা অভিবাসীদের ভোটের কারণেই সাদিক খান নির্বাচনে টিকে আছেন—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

তবে সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক বেভ টার্নারই উল্লেখ করেন যে গত পাঁচ বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কমেছে এবং সাদিক খান ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ায় তিনবার পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরও লন্ডনের কিছু এলাকায় ‘একক সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে—এমন দাবি করা হয়, যার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যকে তার দীর্ঘদিনের সাদিক খানবিরোধী অবস্থানের ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। সে সময় মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের সমালোচনা করেছিলেন সাদিক খান। এরপর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে লন্ডনের মেয়রকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে আসছেন।

২০১৭ সালে লন্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসী হামলার পরও ট্রাম্প সাদিক খানের বক্তব্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় সাদিক খান হামলার পর লন্ডনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প সেই বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মেয়রকে আক্রমণ করেন।

২০১৯ সালে দুই নেতার মধ্যে ফের প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ হয়। সে সময় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদিক খানকে আক্রমণ করে তাকে লন্ডনের অপরাধ পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এরপরও ট্রাম্পের লন্ডনবিষয়ক বক্তব্যে একই ধরনের অভিযোগ বারবার ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি লন্ডনকে ‘শরিয়া আইনের দিকে’ এগিয়ে যাওয়ার দাবি করেছিলেন। সেই বক্তব্যেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ব্রিটিশ রাজনীতিক ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

যুক্তরাজ্যকে নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটির অভিবাসন, অপরাধ, জ্বালানি মূল্য ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। মাত্র একদিন আগেও ট্রাম্প ব্রিটেনকে “বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে” বলে মন্তব্য করে দেশটির অভিবাসন ও জ্বালানি নীতির সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ব্রিটেনের রাজধানী ও তার নির্বাচিত মেয়র সম্পর্কে প্রমাণহীন ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার কারণে তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লন্ডন নিয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শুধু সাদিক খানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিরোধই নয়, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ ও নগর নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানও আবার সামনে এসেছে।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে