Categories
বাংলাদেশ সিলেট

সিলেট বিএনপিতে দুই বলয়ের টানাপোড়েনঃ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে অস্বস্তি

সিলেট বিএনপিতে দীর্ঘদিনের গ্রুপিংয়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর অনুসারীদের মধ্যে দূরত্ব। দলীয় কর্মসূচি, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে একাধিক বলয়। এতে পুরোনো কোন্দল নতুন রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন দলের ত্যাগী ও জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সম্প্রতি সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনের একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিষয়টি আবারও প্রকাশ্যে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজ বাড়িতে মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করলেও অনুষ্ঠানে সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার উপস্থিতি ছিল না। এ ঘটনায় দলের ভেতরে নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

দলের একাংশের অভিযোগ, সিলেট-১ আসনের রাজনীতিকে ঘিরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অনুসারীরা যেমন একটি বলয় তৈরি করছেন, তেমনি সাবেক মেয়র ও বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ঘিরেও আলাদা প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, আরিফুল হক চৌধুরী নিজেই গ্রুপিংকে তাজা করে চলেছেন বলে দলের অনেকের ধারণা। তিনি সিলেট শহরের সংসদ সদস্য নন, কিন্তু বিভিন্ন নেতাকর্মীর মাধ্যমে শহরের রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন আলোচনা দলের ভেতরে রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওই নেতা আরও বলেন, সিলেটের রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিও সমস্যা বাড়াচ্ছে। তার ভাষ্য, কিছু ভূমিখেকো ও বিতর্কিত ব্যক্তি আরিফুল হক চৌধুরীর ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে, নানা অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ কিছু ব্যক্তি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বলয়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন বলে দলের ভেতরে আলোচনা আছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তিগত অনুসারী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল রাজনীতি চলতে থাকলে সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য আরও দুর্বল হতে পারে।

সিলেট বিএনপিতে গ্রুপিংয়ের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ঘিরে দুটি শক্তিশালী ধারা সক্রিয় ছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ সিলেট বিএনপির জন্য দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাথর কোয়ারি, বালুমহাল ও পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা। নাসিম হোসাইনের পদ স্থগিত, পরে তা প্রত্যাহার এবং পরবর্তী কমিটিতে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে রাখার বিষয়টি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ায়।

এরই মধ্যে ২০২৫ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরিফুল হক চৌধুরী ও কয়েস লোদীর মধ্যে প্রকাশ্য বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও সামনে আসে। ফলে মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও দৃশ্যমান হয়।

শুধু মহানগর নয়, জেলার রাজনীতিতেও রয়েছে একাধিক শক্তিকেন্দ্র। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন নেতাকে ঘিরে আলাদা অনুসারী বলয় তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনি রাজনীতিকে সামনে রেখে এসব বলয়ের পারস্পরিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যফেরত কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতার তৎপরতা। নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের কয়েকজনকে তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে দলীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তবে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা বা কোনো বিশেষ দায়িত্বের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পর্যায়ে ওই সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও সাধারণ মানুষের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ, অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের নতুন করে প্রভাবশালী মহলের আশপাশে দেখা গেলে তৃণমূলের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সব মিলিয়ে সিলেট বিএনপি এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে মন্ত্রীদের অনুসারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নেতৃত্বের টানাপোড়েন; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ এবং নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতার উপস্থিতি।

দলের ত্যাগী নেতাদের আশঙ্কা, এসব বিরোধ দ্রুত নিরসন না হলে সিলেট বিএনপিতে পুরোনো গ্রুপিং সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে সাংগঠনিক ঐক্য দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে দেশি সমকামী সঙ্গীকে হত্যাঃ ব্রিটিশ বাংলাদেশি ইমরানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্ট ২৪ বছর বয়সী সঙ্গী ইসমাইল ইউনুসকে হত্যার দায়ে ৩৫ বছর বয়সী ইমরান উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মুক্তির জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে তাকে ন্যূনতম ২১ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

 

মামলার বিচার চলাকালে আদালতে উঠে আসে, ইসমাইল ইউনুস অটিজম, উদ্বেগ এবং অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, পারিবারিক নির্যাতন এবং গুরুতর মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

ঘটনাটি ঘটে ১৭ আগস্ট ২০২৫ হকলি, বার্মিংহামের রিচমন্ড রোডের একটি ফ্ল্যাটে। ইসমাইল ইউনুসের মরদেহ ২০ আগস্ট ২০২৫ উদ্ধার করা হয়—অর্থাৎ হত্যার পর প্রায় তিন দিন ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল তার মরদেহ। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত ভিডিও ফুটেজে ইমরান উদ্দিনের আচরণ সম্পর্কে আদালতে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি গোপনে ইসমাইলের কথাবার্তা ও যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতেন।

ইসমাইল ইউনুস ইমরান উদ্দিনের সাথে তার সম্পর্ক শেষ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে বিচারে জানানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই সময় ইমরান উদ্দিন তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালান।

হত্যাকাণ্ডের পরও ইমরান উদ্দিনের আচরণ আদালতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করে মিল্টন কেইনসে পালিয়ে যান। এরপর তাকে চুল কাটাতে, ভ্রু ঠিক করাতে এবং খাবার কিনতে দেখা যায়। এ সময় ইসমাইল ইউনুসের মরদেহ ওই ফ্ল্যাটে পড়ে ছিল এবং প্রায় তিন দিন পর সেটি আবিষ্কৃত হয়।

বিচারক রিচার্ড বন্ড ইমরান উদ্দিনের আচরণকে মানসিক নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পারার মানসিকতা থেকেই তার আচরণ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুর্বল বা অতিরিক্ত সহায়তা-নির্ভর প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে থাকা নির্যাতন শনাক্ত করার প্রশ্নে। অনেক সময় শারীরিক আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও একজন সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কিংবা সম্পর্ক ছাড়তে বাধা দেওয়ার মতো আচরণ গুরুতর সতর্কসংকেত হতে পারে।

সামাজিক সেবা সংস্থা ও কমিউনিটি সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য তাই এ ধরনের ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অটিজম, উদ্বেগ বা অন্যান্য দুর্বলতার সঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা ও কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে কার্যকর তথ্য আদান-প্রদান নির্যাতন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমরান উদ্দিনের এই মামলায় আদালতের রায় আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আড়ালে থাকা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণকে কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। কোনো দুর্বল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ, ভয় দেখানো বা নির্যাতনের মধ্যে থাকেন, তাহলে সেটিকে সম্ভাব্য সুরক্ষা ঝুঁকি হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রিফর্ম সরকার ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনে করছাড়ঃ ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করবেন জেনরিক

রিফর্ম ইউকের ট্রেজারি-বিষয়ক মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক নিজের রাজনৈতিক পদই ঝুঁকির মধ্যে রেখে বড় ধরনের করছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রিফর্ম ইউকে সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে আয়করের করমুক্ত ব্যক্তিগত আয়সীমা ১৫ হাজার পাউন্ডে উন্নীত করতে ব্যর্থ হলে চ্যান্সেলরের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বার্মিংহামে রিফর্ম ইউকের বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিনে দেওয়া বক্তব্যে জেনরিক জানান, ক্ষমতায় এলে দলের প্রথম বাজেটেই ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার পাউন্ড করা হবে। এই সীমা ২০২১ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সাল পর্যন্ত একই পর্যায়ে থাকার কথা।

রিফর্ম ইউকের হিসাব অনুযায়ী, এই করছাড়ের ফলে সাধারণ হারে আয়কর দেওয়া একজন করদাতার বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে। প্রায় ২৯ লাখ মানুষ পুরোপুরি আয়করের আওতার বাইরে চলে আসতে পারেন এবং একটি সাধারণ কর্মজীবী দম্পতির ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

দলটির হিসাবে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম বছরে প্রায় ১৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে। পাঁচ বছর পর এই ব্যয় বেড়ে প্রায় ২১ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়াতে পারে।

জেনরিক এই পরিকল্পনাকে প্রায় ৪ কোটি মানুষের জন্য কর কমানোর উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার দাবি, এটি হবে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি।

তবে শুধু বক্তব্য দেওয়াতেই থেমে থাকেননি জেনরিক। সম্মেলনে বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নাইজেল ফারাজকে উদ্দেশ করে লেখা একটি আনুষ্ঠানিক ‘পদত্যাগপত্র’-এর ছবি প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিশ্রুত করছাড় বাস্তবায়ন করতে না পারলে তার চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্বে থাকা উচিত হবে না।

চিঠিতে জেনরিক বলেন, ব্রিটিশ জনগণ এমন চ্যান্সেলর ও সরকারের ওপর বিরক্ত, যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়। ব্যবসায় কেউ ব্যর্থ হলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়—রিফর্ম ইউকে সেই জবাবদিহির সংস্কৃতি ওয়েস্টমিনস্টারেও প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে জানান তিনি।

সম্মেলনের বক্তব্যে জেনরিক আরও কঠোর ভাষায় বলেন, তিনি যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুত করছাড় বাস্তবায়ন করতে না পারেন, তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল—কোনো অজুহাত নয়, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন না।

জেনরিকের এই ঘোষণার পেছনে রিফর্ম ইউকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও রয়েছে। দলটি ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ২০ হাজার পাউন্ডে উন্নীত করতে চায়। তবে জেনরিক জানিয়েছেন, অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব হলে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো হবে।

রিফর্ম ইউকের কর পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দলটি রাজনৈতিক অনুদান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। চ্যানেল ফোর নিউজের একটি অনুসন্ধানে রিফর্মের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে বিদেশি উৎসের অর্থের পরিচয় গোপন করার বিষয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি পুলিশের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনায় রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দলের বিরুদ্ধে কোনো আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কিছু মন্তব্যকে ‘পাবের আড্ডার মতো অসতর্ক কথা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দলের দুই জ্যেষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকস ও জেমস অরকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলাকালে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেনরিকের কর ঘোষণাকে লেবার পার্টি অবশ্য ভিন্নভাবে দেখছে। দলটির অভিযোগ, রিফর্ম ইউকে নিজেদের অনুদান-সংক্রান্ত বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই করছাড়ের ঘোষণা সামনে এনেছে। একই সঙ্গে লেবার সতর্ক করেছে, কর কমানোর অর্থ জোগাতে যে সরকারি ব্যয় কমানোর কথা বলা হচ্ছে, তার প্রভাব স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় পড়তে পারে।

রিফর্ম ইউকে অবশ্য বলছে, তাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কর্মজীবী মানুষের হাতে আরও বেশি অর্থ রাখা হবে। দলটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে কল্যাণ ভাতা, বৈদেশিক সহায়তা ও সরকারি ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জেনরিকের এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। নিজের পদত্যাগের অঙ্গীকার লিখিতভাবে প্রকাশ করে তিনি রিফর্ম ইউকেকে এমন একটি দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, যারা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে শুধু নির্বাচনী বক্তব্য হিসেবে নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার হিসেবে দেখে।

এখন বড় প্রশ্ন হলো—রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যে ১৫ হাজার পাউন্ড করমুক্ত আয়সীমা বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। কারণ জেনরিক ইতোমধ্যেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে ফেলেছেন। ব্যর্থ হলে তার নিজের ঘোষণাই অনুযায়ী, চ্যান্সেলরের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে তাকে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

২০৩০ সালের মধ্যে ভাড়া বাড়িতে নতুন নিয়মঃ বাড়িওয়ালাদের মানতে হবে ইপিসি ব্যান্ড-সি

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বেসরকারি ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিকদের জন্য জ্বালানি দক্ষতা সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০৩০ সালের মধ্যে অধিকাংশ বেসরকারি ভাড়া দেওয়া বাড়িকে এনার্জি পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট বা ইপিসি-তে ব্যান্ড সি অথবা সমমানের পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বৈধ অব্যাহতি বা ছাড় থাকতে পারে।

সরকারের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো বাড়ির জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো, ভাড়াটিয়াদের জ্বালানি বিল কমাতে সহায়তা করা এবং পুরোনো ও কম-দক্ষ বাড়িগুলোকে আধুনিকায়ন করা।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এখনো কয়েক বছর দূরে থাকলেও বাড়িওয়ালাদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব সম্পত্তির বর্তমান ইপিসি মান ব্যান্ড সি-এর নিচে, সেসব বাড়িতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করতে সময় লাগতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বাড়ি যদি নির্ধারিত জ্বালানি দক্ষতার মান পূরণ না করে, তাহলে বাড়িওয়ালাকে সম্পত্তিতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হতে পারে। এর মধ্যে বাড়ির দেয়াল, ছাদ, জানালা, তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং গরম রাখার প্রযুক্তির উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘ফ্যাব্রিক ফার্স্ট’ পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রথমে বাড়ির কাঠামোগত জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সম্পত্তি প্রয়োজনীয় কাঠামোগত মানে পৌঁছানোর পর অথবা বৈধ অব্যাহতি পাওয়ার পর বাড়িওয়ালা পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।

পরবর্তী ধাপে বাড়িওয়ালাদের জন্য বিভিন্ন বিকল্প থাকতে পারে। এর মধ্যে হিট পাম্প স্থাপন করে বাড়ির গরম রাখার ব্যবস্থা উন্নত করা অথবা সোলার প্যানেল ও স্মার্ট মিটার স্থাপনের মাধ্যমে বাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।

তবে শুধু পুরোনো ধরনের গ্যাস বয়লার ব্যবহার করলেই নির্ধারিত ব্যান্ড সি মান অর্জন করা সম্ভব হবে না—এমন ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে।

ইপিসি ব্যান্ড সি তুলনামূলকভাবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী বাড়ির নির্দেশক। সাধারণভাবে এ ধরনের বাড়িতে তাপ ধরে রাখার সক্ষমতা, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং গরম করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বেশি থাকে।

সরকার জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বেসরকারি ভাড়া দেওয়া বাড়ির জ্বালানি দক্ষতার মান দীর্ঘমেয়াদে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে যত বেশি সম্ভব বাড়িকে ব্যান্ড সি বা সমমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারের নীতিমালার কিছু অংশ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের পরামর্শ প্রক্রিয়ার পর বিভিন্ন নীতিগত বিকল্প নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন নিয়মের ফলে বাড়িওয়ালাদের ওপর সংস্কার ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে পুরোনো বাড়িগুলোকে ইপিসি ব্যান্ড সি-তে উন্নীত করতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হলে বাড়িওয়ালাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হতে পারে। সম্পত্তির ধরন ও প্রয়োজনীয় কাজের ওপর এই ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।

অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের জন্য এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য সুবিধাও রয়েছে। বাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়লে শীতকালে ঘর গরম রাখতে তুলনামূলক কম জ্বালানি প্রয়োজন হতে পারে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বিল কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বাড়িওয়ালাদের অতিরিক্ত সংস্কার ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে নতুন জ্বালানি দক্ষতার নিয়ম বাস্তবায়নের সঙ্গে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা—উভয় পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাড়িওয়ালাদের জন্য মূল বার্তা হলো—২০৩০ সালের সময়সীমার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখন থেকেই সম্পত্তির ইপিসি মান যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা করা। বিশেষ করে যেসব বাড়ির ইপিসি ব্যান্ড সি-এর নিচে, সেগুলোর মালিকদের সম্ভাব্য ব্যয়, সংস্কারের সময় এবং ভবিষ্যৎ সরকারি নির্দেশনা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারের চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর কোন সম্পত্তির ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের উন্নয়ন বাধ্যতামূলক হবে, কত টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে অব্যাহতি দেওয়া হবে—এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।

ফলে ২০৩০ সালের সময়সীমা এখনো কয়েক বছর দূরে থাকলেও ব্রিটেনের বেসরকারি ভাড়া-বাড়ির বাজারে জ্বালানি দক্ষতার মান বাড়ানোর চাপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি শুধু নতুন নিয়ম মানার বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যতে সম্পত্তির মূল্য, ভাড়া এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে সিফাতের অভিযোগের সত্যতা মেলেনিঃ প্রধানমন্ত্রীকে গালাগালির অভিযোগ

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিফাত আব্দুল্লাহর করা অভিযোগ সঠিক ছিল না বলে জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদন। অভিযোগের পর বিষয়টি যাচাই করতে তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। তদন্তে ওই বাড়িতে একটি নয়, মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

 

সম্প্রতি সিফাত আব্দুল্লাহ নামের এক তরুণ ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং আগের মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। বিলের পরিমাণকে অস্বাভাবিক দাবি করে তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর নজরে আসে। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত যে বাড়িতে বসবাস করেন সেখানে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। অর্থাৎ বাড়িটির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য একটি মাত্র মিটার নয়, তিনটি পৃথক সংযোগ রয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে তিনটি মিটারে সব মিলিয়ে মোট বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা। ফলে তিনটি মিটারের সম্মিলিত বিলকে একটি মিটারের বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি আরও যাচাই করতে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে যান। সেখানে বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পণ্য ও সরঞ্জামের তালিকা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পণ্যের তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে তিনটি মিটার এবং চার মাসের সম্মিলিত বিলের হিসাব সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সিফাতের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগের ভিডিও প্রকাশের সময় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে।

এই অভিযোগের পর পুলিশ সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করে। পরে তাকে একটি পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে।

তবে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয় দুটি পৃথক। বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে তিনটি মিটারের তথ্য ও চার মাসের সম্মিলিত বিলের হিসাব সামনে এসেছে। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিফাতের করা বিলসংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত মিটার সংখ্যা ও মোট বিলের হিসাবের মিল পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অভিযোগটি সঠিক ছিল না বলেই তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদন;

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

৭ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরোপ ভ্রমণে ব্রিটিশদের নতুন নিয়মঃ বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কা

ইউরোপে ছুটি কাটাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম—ইইএস—পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এর ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের শেনজেন এলাকায় প্রবেশের সময় নতুন সীমান্ত যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্রিটিশ নাগরিকদের সীমান্তে আঙুলের ছাপ নিবন্ধন এবং ছবি তোলার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এই ব্যবস্থা শেনজেন এলাকার ২৯টি দেশে প্রযোজ্য হবে, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে চালুর পর বিভিন্ন ইউরোপীয় বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার লাইন তৈরি হওয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এমনকি কিছু যাত্রী দীর্ঘ সীমান্ত যাচাইয়ের কারণে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটও মিস করেছেন।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে’ এই ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তে অপেক্ষার লাইন অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই নমনীয়তা ব্যবহার করতে পারছে।

কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেই সাময়িক অব্যাহতির সুযোগ আর থাকবে না। অর্থাৎ বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলেও দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম বন্ধ করতে পারবে না। ফলে ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্পেন, ফ্রান্স ও গ্রিসের মতো ব্রিটিশদের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলো এরই মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী এই নমনীয়তার সুযোগ ব্যবহার করেছে।

জুলাই মাসে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের কাছে চিঠি দিয়ে দীর্ঘ যানজট বা অপেক্ষার ক্ষেত্রে এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম থেকে সাময়িক অব্যাহতির সুযোগ অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছিল।

দেশগুলো নতুন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলেও বড়দিনের আগে হঠাৎ করে কোনো প্রস্তুতির সুযোগ ছাড়া কঠোরভাবে নিয়ম কার্যকর করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

এরই মধ্যে চলতি গ্রীষ্মে নতুন সীমান্ত ব্যবস্থার কারণে ইউরোপ ভ্রমণকারী অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কিছু পর্যটক জানিয়েছেন, তাদের বিমানবন্দরে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে কয়েকজন যাত্রী তাদের ফ্লাইটও হারিয়েছেন।

এখন নতুন ব্যবস্থার প্রয়োগ আরও কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের সামনে ইউরোপে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেমের আওতায় শেনজেন এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের সীমান্ত পারাপার আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যদি দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমে বিমানবন্দরে বড় ধরনের ভিড় তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য তাই মূল সতর্কতা হলো—৭ সেপ্টেম্বরের পর স্পেন, ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালিসহ শেনজেনভুক্ত ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণের সময় সীমান্ত যাচাইয়ে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ভ্রমণ পরিকল্পনার সময় এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লিটন আহমেদের ১৮ বছরের কারাদণ্ড

ওয়েলসের কার্ডিফের বিউটাউন এলাকার ৪৭ বছর বয়সী লিটন আহমেদকে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দায়ে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কার্ডিফ ক্রাউন কোর্টে বিচার শেষে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২৬ আগস্ট মেরথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে তার সাজা ঘোষণা করা হয়।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিটন আহমেদ একটি মেয়েকে স্পর্শের মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের ছয়টি অভিযোগ এবং একইভাবে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার একটি অভিযোগের মুখোমুখি হন। তিনি আদালতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে বিচার শেষে জুরি তাকে অভিযোগগুলোতে দোষী সাব্যস্ত করে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত তাকে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা ঘোষণার পাশাপাশি তার ওপর আরও কয়েকটি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, লিটন আহমেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশও জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি রয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা কনস্টেবল স্টিভেন টেলর ভুক্তভোগীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ সামনে নিয়ে আসা এবং পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার কারণেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অত্যন্ত মানসিকভাবে কঠিন ও বেদনাদায়ক সময় ছিল। আদালতের রায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীরা যেন মনে করেন যে তাদের কথা শোনা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা হবে—এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

লিটন আহমেদের এই মামলাটি ওয়েলসে শিশুদের নিরাপত্তা ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের বিষয়টিও সামনে এনেছে। আদালতের রায়ের পাশাপাশি যৌন অপরাধীদের নিবন্ধন এবং যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশের মতো ব্যবস্থা তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও বিধিনিষেধ নিশ্চিত করবে।

দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ আরও জানিয়েছে, কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে প্রস্তুত না থাকলে তাকে নীরবে কষ্ট সহ্য করতে হবে না। ভুক্তভোগীদের জন্য সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সহায়তা ও পরামর্শ সেবা রয়েছে।

সূত্রঃ দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশের মূল প্রতিবেদন\ দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘সুপার এল নিনো’ আতঙ্কে ব্রিটেনঃ ঘরে কয়েক দিনের খাবার-পানি মজুত রাখার আহ্বান

যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য ভয়াবহ আবহাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় নাগরিকদের ঘরে কয়েক দিনের খাদ্য ও পানি মজুত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বা পানির সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি সেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত নিজেদের সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি নিতে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো অন্তত গত এক হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানল, বন্যা, খরা ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো—আগামী শীত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপ্রবণ ও ঝড়ো হতে পারে।

অ্যাঞ্জেলা ঈগল বলেছেন, যুক্তরাজ্য সম্ভবত এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে বড় এল নিনোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশটিতে আরও শুষ্ক গ্রীষ্ম, বেশি বৃষ্টিপাতপূর্ণ শীত এবং শক্তিশালী ঝড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে ঘরে কিছু খাদ্য মজুত রাখাকে তিনি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জরুরি সেবা পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগলে ঘরে থাকা সামান্য খাদ্যও মানুষকে সেই সময় পার করতে সহায়তা করবে। তার মতে, নাগরিকদের নিজেদের আরও ‘সহনশীল’ ও প্রস্তুত করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণ তাপ বায়ুমণ্ডলে চলে আসে। এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এল নিনোর কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ইতোমধ্যে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ২০১৫ সালে উপগ্রহভিত্তিক তথ্যের যুগে সর্বোচ্চ অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি এখনও চূড়ায় পৌঁছায়নি।

বিভিন্ন আবহাওয়া মডেলের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর নাগাদ এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। জলবায়ু বিশ্লেষক জেকে হাউসফাদারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রবাল, গাছের বলয় ও ঐতিহাসিক নথির তথ্য বলছে—গত এক হাজার বছরে কোনো এল নিনো এত শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো ‘চোখের সামনে আরও বড় আকার ধারণ করছে’। তার মতে, পৃথিবী এমন এক অচেনা জলবায়ু পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলোও সতর্ক করেছেন, শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। ইতোমধ্যে খরা ও বন্যার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে এসব প্রভাব বাড়তে পারে।

জলবায়ু সংকটের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের পর এখন নতুন করে চরম আবহাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপের সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপপ্রবাহের সঙ্গে অন্তত ৩৫ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

এল নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় দাবানলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামনে অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের ঝুঁকি এবং দক্ষিণ আমেরিকায় আরও তীব্র বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিও সতর্ক করেছে যে এল নিনোর কারণে আগামী বছর প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। অর্থাৎ এর প্রভাব শুধু আবহাওয়া বা পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; খাদ্য সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরকার জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভা দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি প্রচারাভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবারগুলোকে টিনজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুত রাখা এবং জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে।

পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল নতুন জলাধার নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

হ্যাম্পশায়ারের হ্যাভান্ট থিকেট এলাকায় নির্মাণাধীন জলাধারটি ১৯৯২ সালের পর যুক্তরাজ্যের প্রথম নতুন জলাধার হতে যাচ্ছে। ঈগলের দাবি, ভবিষ্যতের চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার একই সঙ্গে কৃষি ব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল করার পরিকল্পনা করছে। পরিবেশমন্ত্রী মনে করছেন, ভবিষ্যতের অনিশ্চিত আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় এখনই পরিবর্তন আনা না হলে ব্রিটেনকে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে বড় পরিবর্তনঃ ৩ মাসের মধ্যে আবেদন না করলে বন্ধ হতে পারে বেনিফিট

যুক্তরাজ্যে পুরোনো বেনিফিট ব্যবস্থা থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কর্মসংস্থান ও পেনশন বিভাগ বা ডিডব্লিউপির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও ৪২০ জন বেনিফিট-গ্রহীতাকে কর্মসংস্থান ও সহায়তা ভাতা বা ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তর করা বাকি রয়েছে।

ডিডব্লিউপির সেবা ও প্রতারণা বিষয়ক মহাপরিচালক নিল কোলিং ২০২৬ সালের আগস্টের শেষের পরিস্থিতি নিয়ে কর্ম ও পেনশনবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্যদের তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, এক বছর আগেও ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৪২০ জনে দাঁড়িয়েছে।

যাদের পুরোনো বেনিফিট থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের সময় হয়েছে, তাদের ডিডব্লিউপি একটি ‘মাইগ্রেশন নোটিশ’ চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে সাধারণত তিন মাসের সময়সীমা দেওয়া থাকে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের জন্য আবেদন করতে হয়।

নিল কোলিং জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ৪২০ জনের মধ্যে প্রায় ১৬০ জন বর্তমানে মাইগ্রেশন নোটিশের সময়সীমার মধ্যে রয়েছেন। অর্থাৎ, এই ১৬০ জনকে নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে তাদের আগের বেনিফিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তবে অবশিষ্ট বেনিফিট-গ্রহীতাদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিডব্লিউপির হিসাবে প্রায় ২৬০ জন এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন সম্পন্ন করতে একজন ‘অ্যাপয়েন্টি’র সহায়তা প্রয়োজন।

অনেকের হয়ে আবেদন করার মতো বন্ধু বা পরিবারের সদস্য না থাকায় ডিডব্লিউপি স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসব কাউন্সিলকে ‘কর্পোরেট অ্যাপয়েন্টি’ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় বেনিফিট-গ্রহীতাদের ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

যেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য এখনও অ্যাপয়েন্টি নির্ধারণ করা হয়নি, তাদের কাছে মাইগ্রেশন নোটিশ পাঠানো হচ্ছে না। ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে না।

নিল কোলিং বলেন, শেষ পর্যায়ের মামলাগুলো তুলনামূলকভাবে জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে অন্যের সহায়তা প্রয়োজন, তাদের ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনেক বেনিফিট-গ্রহীতাকে বাড়তি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। নিল কোলিং জানিয়েছেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ডিডব্লিউপির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন পূরণে সরাসরি সহায়তা করেছেন।

কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস সংসদীয় কমিটির সামনে বলেন, ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে মানুষকে স্থানান্তর করা একটি বড় কর্মযজ্ঞ। অনেক বেনিফিট-গ্রহীতার জন্য এই পরিবর্তন কঠিন হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে ডিডব্লিউপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু মানুষ নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করায় তাদের আগের বেনিফিট বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

নিল কোলিং জানান, কোনো বেনিফিট-গ্রহীতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের যোগ্যতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। কেউ নতুন করে সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করতে পারেন, কারও সঞ্চয়ের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে যেতে পারে অথবা কেউ যুক্তরাজ্য ছেড়ে চলে গেলেও ডিডব্লিউপিকে তা জানাতে পারেননি।

এ ধরনের পরিবর্তনের তথ্য ডিডব্লিউপিকে না জানানো হলে বেনিফিট-গ্রহীতার বেনিফিটের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বেনিফিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ডিডব্লিউপির সর্বশেষ হিসাব বলছে, ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। এক বছর আগে যেখানে প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ইএসএ থেকে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটে স্থানান্তরের অপেক্ষায় ছিলেন, সেখানে বর্তমানে বাকি রয়েছেন মাত্র ৪২০ জন।

তবে মাইগ্রেশন নোটিশ পাওয়া বেনিফিট-গ্রহীতাদের জন্য তিন মাসের সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিভার্সেল ক্রেডিটের আবেদন সম্পন্ন না করলে আগের বেনিফিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ডিডব্লিউপির চিঠি পাওয়া ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চীনা হ্যাকিংয়ের ‘ভয়াবহ’ ঝুঁকিতে ব্রিটিশ কৃষিঃ ট্রাক্টর-ড্রোন দিয়েই নজরদারিতে খাদ্যনিরাপত্তা

ব্রিটেনের কৃষি খাত চীনা প্রযুক্তির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার কারণে গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে একটি নতুন প্রতিবেদন। জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টর, কৃষি ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা ও গবাদিপশু পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তিতে চীনে তৈরি সংযোগ-চিপ ব্যবহারের ফলে ব্রিটেনের খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা সম্ভাব্য নজরদারি, তথ্য চুরি এমনকি দূর থেকে যন্ত্র অচল করার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

লেবার দলীয় সংসদ সদস্য গ্রেম ডাউনি নেতৃত্বাধীন নিরাপদ প্রযুক্তি জোট এই ঝুঁকি তুলে ধরে বলেছে, কৃষি খাতে ব্যবহৃত সংযুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্র বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ব্রিটিশ কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত চীনা তৈরি মোবাইল-সংযুক্ত ইন্টারনেট মডিউলগুলো যন্ত্র, সেন্সর ও সফটওয়্যারকে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এই সংযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহ, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া কিংবা কৃষিযন্ত্রের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষ করে জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টর, কৃষি ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, নির্ভুল সার প্রয়োগের যন্ত্র এবং শস্য সংরক্ষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—এসব প্রযুক্তি শুধু কৃষিকাজ সহজ করছে না, একই সঙ্গে ব্রিটেনের খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্যও ধারণ করছে। সম্ভাব্যভাবে ফসলের উৎপাদন, ভবিষ্যৎ উৎপাদনের পূর্বাভাস, গবাদিপশুর সংখ্যা এবং কৃষি কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য এসব সংযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে জানা সম্ভব হতে পারে।

নিরাপদ প্রযুক্তি জোটের আশঙ্কা, কোনো বৈরী রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এই তথ্য ব্যবহার করে ব্রিটেনের খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারে। কোনো সংকট, সংঘাত কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপের সময় এসব তথ্য কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।

আরও গুরুতর আশঙ্কা হলো, সংযুক্ত কৃষি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত মডিউলগুলো দূরবর্তী সফটওয়্যার হালনাগাদ গ্রহণ করতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার অপব্যবহার হলে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করানো, গোপনে তথ্য সংগ্রহ কিংবা কোনো যন্ত্র বা পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গ্রেম ডাউনি বলেন, চীনে তৈরি প্রযুক্তির হুমকি শুধু বৈদ্যুতিক যানবাহন কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দাবি, ব্রিটেনের কৃষিক্ষেত্রও একই ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতার মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ব্রিটিশ অর্থনীতির অন্যতম সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তিনির্ভর খাত হলেও দেশের কৃষিতে চীনা হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে কতগুলো সংযুক্ত ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের কাছেই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্রেম ডাউনি সতর্ক করেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সরবরাহে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে ব্রিটেন কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

চীনা প্রযুক্তি নিয়ে ব্রিটেনের নিরাপত্তা উদ্বেগ অবশ্য কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে রয়্যাল নেভির সরঞ্জামে ব্যবহৃত চীনা উপাদান থেকে চীনের একটি ইন্টারনেট ঠিকানায় যোগাযোগের ঘটনা এবং চীনা তৈরি বৈদ্যুতিক বাস দূর থেকে অচল করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

নিরাপদ প্রযুক্তি জোটের মতে, চীন ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারির মতো কৌশলগত খাতে ব্যাপক বাজার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। কৃষি প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনটির সুপারিশ হলো, ব্রিটিশ সরকারকে সংযুক্ত কৃষি প্রযুক্তিকে ‘উদীয়মান জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি প্রযুক্তি ও যোগাযোগ উপাদানের ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন ব্রিটেনে খাদ্যনিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি নথিতেও খাদ্যনিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে