Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

বায়ুদূষণে কমছে মানবদেহে এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা

বায়ুদূষণের কারণে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি দীর্ঘদিনের এক গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের শতাধিক দেশে প্রায় দুই দশক ধরে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। চীন ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশ, প্রতিটি দেশেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ছে। সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুদূষণের বিপরীতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মাত্রাও বাড়ছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এবিষয়ক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘আমাদের গবেষণা থেকে আমরা শক্ত প্রমাণ পেয়েছি যে, বায়ুদূষণের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ার বিষয়টি সংযুক্ত। বায়ুদূষণ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে কীভাবে প্রভাবিত করে—এ বিষয়ে আমাদের এই গবেষণাই পৃথিবীতে প্রথম।’

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিশ্বস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান বড় হুমকিগুলোর একটি। এটি যেকোনো দেশের যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এরই মধ্যে প্রতিবছর আনুমানিক বছরে ১৩ লাখ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে মারা যাচ্ছে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের প্রধান কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অপ এবং অত্যধিক ব্যবহার। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে সমস্যাটি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যের জন্য যেসব দূষণ সবচেয়ে বেশি দায়ী, তার মধ্যে বায়ুদূষণ সবার ওপরে। দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বায়ুতে বসবাস করলে হৃদ্‌রোগ, হাঁপানি, ফুসফুসে ক্যানসার বাড়ায় এবং প্রত্যাশিত আয়ু কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি বায়ুদূষণ কফ, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ইত্যাদির মতো সমস্যা সৃষ্টি করে।

বায়ুদূষণ কমানো গেলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল অর্জিত হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স থেকে উদ্ভূত মৃত্যু এবং চিকিৎসা ব্যয় অনেকটাই কমানো যেতে পারে।

গবেষক দলের প্রধান এবং চীনের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হং চেন বলেছেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ও বায়ুদূষণ উভয়ই নিজেদের বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা বায়ুদূষণ ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে আসলে কী সম্পর্ক, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাইনি। তবে আমাদের গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দ্বিগুণ কমিয়ে আনা যাবে।’

এম.কে
২০ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদঃ পরিবেশবান্ধব ইসলামী স্থাপত্যের আদর্শ নমুনা

ইসলামে সবুজ রঙের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এটি পরিবেশ এবং টেকসই জীবনেরও প্রতীক। এ দুটি বিষয় একাকার হয়েছে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে নির্মিত ইউরোপের প্রথম ইকো-মসজিদে। ২০০৮ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল এবং ২৪ এপ্রিল ২০১৯ সালে তা শেষ হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থাপত্যশৈলীতে মসজিদটির স্থপতিদের কর্মকুশলতা ও দক্ষতার ছাপ স্পষ্ট। এই বৈপ্লবিক স্থাপত্য নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের লেকচারার টিম উইন্টার। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবদুল হাকিম মুরাদ নাম গ্রহণ করেছিলেন। এই নামেই এখন তিনি যুক্তরাজ্যসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে পরিচিত। শায়খ মুরাদ যুক্তরাজ্য, মিসর ও সৌদি আরবে ইসলাম বিষয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেন। মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০০ ব্যক্তির একজন তিনি।

কেমব্রিজে ৮ হাজারের বেশি মুসলমান বসবাস করলেও কোনো স্থায়ী মসজিদ ছিল না। এই অভাব পূরণে শায়খ মুরাদ ২০০৮ সালে কেমব্রিজ মসজিদ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন এবং বড় পরিসরে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন। শায়খ মুরাদের লক্ষ্য ছিল একটি পরিবেশবান্ধব আধুনিক ইসলামি স্থাপত্য গড়ে তোলা। এর জন্য এক একর জমি কেনা হয় এবং আন্তর্জাতিক মানের নকশা পেতে একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। এতে প্রখ্যাত ব্রিটিশ স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান মার্কস বারফিল্ডের নকশাটি নির্বাচিত হয়।

মসজিদের প্রবেশপথের দুপাশে সবুজ বাগান এবং মাঝখানে তুর্কি মার্বেল পাথর বসানো জ্যামিতিক নকশার উঠোন। উঠোনের মাঝখানে একটি ঝরনা। দুপাশে কাঠের চেয়ার পাতানো। বাইরে থেকেই দেখা যায় বাঁকা কাঠের সমন্বয়ে গঠিত মসজিদের স্তম্ভগুলো। ছাদ থেকে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস আসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রয়েছে পূর্ণাঙ্গ সৌর বিদ্যুতায়িত ব্যবস্থা।

মসজিদে রয়েছে ১ হাজার মুসল্লি ধারণক্ষমতার হলরুম। নারীদের নামাজের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রয়েছে একটি করে রেস্তোরাঁ, ক্লাসরুম, সামাজিক অনুষ্ঠানকক্ষ, প্রদর্শনীকক্ষ, ইমামের কক্ষ এবং চার বেডের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। এ ছাড়া শিশুদের খেলার স্থান এবং কবরের জন্যও আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে।

মজবুত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান লার্চ কাঠ দিয়ে কাঠের স্তম্ভগুলো তৈরি করা হয়েছে। ছাদে রয়েছে হিটিং সিস্টেম এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা। অজুর পানির পুনর্ব্যবহার হবে বাগানে এবং টয়লেট পরিষ্কার করার কাজে। ছাদে রয়েছে সেডাম মোস নামের উদ্ভিদ, যা পোকামাকড় ও পাখিদের বসবাসের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করে। রয়েছে স্বয়ংক্রিয় গরম পানির ব্যবস্থা। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে হিট পাম্পিং সিস্টেম। পুরো কমপ্লেক্সে আটটি বাক্সও রয়েছে, যা ব্রিটেনের বিপন্ন প্রজাতির পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল।

এই মসজিদ নির্মাণে ২৬০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। এতে মুসলিম বিশ্বের বড় বড় ধনকুবেরসহ সাধারণ মুসলমানগণ অংশ নিয়েছেন। কেমব্রিজের সাধারণ লোকজন এই প্রকল্পের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা করলেও কিছু ডানপন্থী সংগঠন বিরোধিতা করেছিল। তবে তাদের বিরোধিতা ধোপে টেকেনি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এটি নির্মাণ করা হয়।

মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ মুরাদ জানান, শিয়া-সুন্নি বিরোধ এই মসজিদে গৌণ। সবাই এক কাতারে নামাজ পড়েন। এখানে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। ইমাম নির্বাচন করা হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই, এটি এমন এক জায়গা হোক, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একত্র হবে। কারণ এই মসজিদ শুধু কেমব্রিজের মুসলমানদের নয়, যেকোনো দেশের, যেকোনো ধর্মের, যেকোনো মানুষের প্রিয় ঠিকানা হবে।’

ই.হক
২০ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

ব্রিটিশ মন্ত্রী ও সাংবাদিকসহ ৫৪ জনের উপর রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকসহ ৫৪ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাশিয়া। তারা আর রাশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দেশের নাগরিকদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী লুসি ফ্রেজার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া বিবিসি, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং দ্য গার্ডিয়ানের কয়েকজন সাংবাদিকের নামও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন থেকে একঘরে করতে তদবির চালানোর কারণে ফ্রেজারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের জন্য দায়ী করে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনাবেল গোলডিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিবিসির যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন প্রধান নির্বাহী ডেবোরাহ টার্নেস, উপস্থাপক ও বিশ্লেষণ সম্পাদক রস অ্যাটকিনস এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ক প্রতিনিধি মারিয়ানা স্প্রিং।

গত মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ইউক্রেন থেকে শিশুদের অবৈধভাবে বিতাড়িত করার অভিযোগে এ পরোয়ানা জারি হয়। তবে মস্কো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা তাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও বাড়াবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে কেন্দ্র করে মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। এসব নিষেধাজ্ঞার একটি ছিল রাশিয়ার কাছ থেকে হীরা, তেল এবং গ্যাস আমদানি না করা। যুক্তরাজ্যও তখন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং অন্য দেশগুলো মিলে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি রুশ ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এম.কে
২০ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে ব্যাংকগুলোকে ফ্রি এক্সেস প্রদান করতে ব্যর্থ হলে জরিমানার হুমকি

যুক্তরাজ্য ট্রেজারি বিভাগ নিশ্চিত করেছে গ্রহীতা এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে নগদ টাকা উত্তোলনে ফ্রি এক্সেস প্রদান করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে। এই তথ্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়।

তথ্যানুযায়ী নতুন নীতিমালায় প্রত্যেক গ্রাহকের বসবাসরত এলাকার এক মাইলের মধ্যে নিখরচায় নগদ প্রত্যাহার এবং আমানত জমাদানের সুবিধা থাকতে হবে। যদি বসবাসরত এলাকা শহর হতে দূরে হয় তাহলে সর্বোচ্চ তিন মাইলের ভিতরে এই সুবিধা প্রদান করতে হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ট্রেজারি বিভাগ জানায় এটিএম বা ব্রাঞ্চ হতে সার্ভিস প্রদানের নিমিত্তে নগদ অর্থের জমা বা উত্তোলন করতে দূরত্বগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও ভবিষ্যতে অর্থের নগদ ব্যবহার হ্রাস,বৃদ্ধির উপর দুরত্বের সীমাগুলি হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি হতে পারে।

নতুন গাইডেন্সের অধীনে, যদি এটিএম বা ব্রাঞ্চের পরিষেবা প্রত্যাহার করা হয় তবে বন্ধের আগে বিকল্প ব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কোভিড মহামারী পরবর্তী অবস্থার কারণে বিভিন্ন হাই স্ট্রিট ব্যাংক তাদের শাখা বিভিন্ন এলাকা হতে গুঁটিয়ে নিচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় কোভিড মহামারীর কারণে ঘর হতে বের না হবার প্রবণতা ত্বরান্বিত হয়েছে তাছাড়া স্মার্টফোনের মাধ্যমে অর্থ পরিচালনার জনপ্রিয়তা ব্যাংকের ব্রাঞ্চ গুঁটিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক জরিপের তথ্যানুযায়ী, গ্রহীতারা ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্পর্কে অস্বস্তি বোধ করেন জালিয়াতির কারণে। অনলাইন ব্যাংকিং পরিষেবার উপর আস্থার অভাব এবং কম্পিউটার দক্ষতার অভাবের কারণেও ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে জনগণের অস্বস্তি রয়েছে।

ডাউনহাম মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী জানান, গ্রাহকরা যখন কার্ডের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করেন তখন এটি ব্যবসায়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করে। যদিও
তিনি মনে করেন পোস্ট-কোভিডে লোকেরা কার্ড ব্যবহার করে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য যে ২০১৫ সাল থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ টিরও বেশি ইউকে ব্যাংকের শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া নগদ লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রবীণ ও ডিসেবল ব্যক্তিরা। যার কারণে শুধু ডিজিটাল লেনদেনের উপর নির্ভরশীল হয়ে নয় লক্ষ লক্ষ মানুষের নগদ অর্থের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

এম.কে
১৯ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক স্পোর্টস

সৌদি আরবের পথে কি তাহলে সালাহ-আলিসনও

সৌদি–আতঙ্ক ভর করেছে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে। ইউরোপ থেকে একের পর এক শীর্ষ তারকাদের কিনে নিয়ে যাচ্ছে সৌদি ক্লাবগুলো। সর্বশেষ ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকে পিএসজি থেকে কিনে তোলপাড় ফেলেছে সৌদি ক্লাব আল হিলাল। নেইমার সৌদি আরবে যাওয়ার পর এখন নিজেদের কোনো খেলোয়াড়কেই নিরাপদ ভাবছে না ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো।

নেইমারের পর এখন আরও দুই ফুটবল তারকার ইউরোপ ছাড়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। সেই দুই তারকা হলেন লিভারপুলের মোহাম্মদ সালাহ ও গোলরক্ষক আলিসন বেকার। তবে দলের অন্যতম সেই দুই তারকাকে এ মুহূর্তে ছাড়ার কোনোর পরিকল্পনা নেই ‘অল রেড’দের। ২০১৭ সালে এসএ রোমা থেকে লিভারপুলে আসেন সালাহ, পরের বছর একই ক্লাব থেকে অ্যানফিল্ডের ক্লাবটিতে যোগ দেন আলিসন।

লিভারপুল থেকে এরই মধ্যে ফাবিনিও, রবার্তো ফিরমিনো ও জর্ডান হেন্ডারসন পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। সালাহর প্রতি সৌদি ক্লাব আল ইত্তিহাদ আগ্রহ দেখিয়েছিল আরও আগে। কিন্তু সালাহর সৌদি আরবের ক্লাবে যাওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দেন তার এজেন্ট রামি আব্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তিনি জানান, ‘সালাহ লিভারপুলের প্রতি দায়বদ্ধ।’

ইউরোপিয়ান একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসর, আল হিলাল, আল আহলি ও আল ইত্তিহাদ সালাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। শুধু সালাহ নয় তারা লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসনকেও নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে খবরে জানা যায়। তবে দলবদলের বাজারে চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো খবরই নিশ্চিত নয় বলে জানান একজন স্পোর্টস বিশেষজ্ঞ।

এম.কে
১৯ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

হ্যাকিংয়ের শিকার ব্রিটেনের নির্বাচনি সংস্থা

ব্রিটেনে নির্বাচনি সংস্থা ইলেক্টোরাল কমপ্লেক্স দু’বছর আগে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ই-মেইল, ভোটার উপাত্তের নাগাল পেয়েছিল হ্যাকাররা। গত সপ্তাহে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইলেক্টোরাল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, ২০২১ সালের এই ঘটনা তারা গত বছর উদঘাটন করতে পেরেছে।

এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি সংস্থাটি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির চার কোটি ভোটারের তথ্য ভাণ্ডারে চালানো এই সাইবার হামলার কোনো সন্ধান এক বছরেও করা যায়নি। এই ঘটনায় জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইলেক্টোরাল কমিশন।

ইলেক্টোরাল কমিশনের প্রধান নির্বাহী শন ম্যাকনেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা জানি, শত্রুরা কিসের নাগাল পেয়েছিল। কিন্তু ঠিক কোনো ধরনের ফাইলে তারা ঢুকতে পেরেছিল বা আদৌ পেরেছিল কি-না তার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।’

সংস্থাটির মতে, এই ঘটনা আবারো দেখিয়ে দিয়েছে যে ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জেতাতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে এমন তথ্য উদঘাটিত হওয়ার পর পাশ্চাত্যের দেশগুলোর কাছে নির্বাচনি ব্যবস্থার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০২০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি কমিটি জানিয়েছিল ২০১৪ স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে গণভোটেও রাশিয়া হস্তক্ষেপ করে। একই অভিযোগ আছে ব্রেক্সিটের গণভোট নিয়েও।

এম.কে
১৯ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

নির্মম নার্স, ইংল্যান্ডে ৭ নবজাতককে হত্যা

ইংল্যান্ডে নবজাতক পরিচর্যার দায়িত্বে নিয়োজিত এক নার্সকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাতটি নবজাতক শিশুকে হত্যা এবং আরো ছয়টি শিশুকে হত্যা চেষ্টার দায়ে তাকে এই দণ্ড দেয়া হয়। তবে অনেকে আশঙ্কা করেছেন, তার হাতে আরো অনেক শিশু মারা গিয়ে থাকতে পারে। আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে এই নারীকে সবচেয়ে জঘন্য শিশু হত্যাকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ওই নার্সের নাম লুসি লেটবি। তার বর্তমান বয়স ৩৩ বছর। নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের কাউটেস অব চেস্টার হাসপাতালে কাজ করার সময় তিনি নির্মম এসব ঘটনা ঘটান।

তিনি ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ওই হাসপাতালে কাজ করার সময় অত্যন্ত দুর্বল শিশুদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দেন। শিশুদের মা-বাবা বা অন্য নার্সরা সরে যাওয়া মাত্র তিনি শিশুদের হত্যা করে ফেলতেন। ২০১৭ সালে তার অপকর্মের প্রমাণ পেয়েছিল পুলিশ। আর ২০১৮ সালে তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার আদালত তার সাজা ঘোষণা করে।
ব্রিটেনের ইতিহাসে মাত্র তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি হলেন তার একজন। তার হাতে মৃত্যুবরণকারী শিশুদের মধ্যে একত্রে জন্ম নেয়া তিন শিশুর দুটিও ছিল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি তাদেরকে হত্যা করেন। স্বল্প ওজনের একটি মেয়ে শিশুকে তিনি অতিরিক্ত বাতাস দিয়ে হত্যা করেছিলেন। আর ১০ সপ্তাহের একটি অপরিণত শিশুকে চতুর্থবার চেষ্টায় হত্যা করেন।

বিচার শুনে মৃত শিশুদের অভিভাবকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, তারা সঠিক বিচার পেয়েছেন। কিন্তু যে যন্ত্রণা, ক্ষোভ আর হতাশায় তারা রয়েছেন, তা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছেন না।

এম.কে
১৯ আগস্ট ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে কোভিড ভ্যাকসিন বিক্রয়ের অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের জনসাধারণের জন্য কোভিড বুস্টার ভ্যাকসিন ক্রয় করা জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর এই প্রস্তাবটি সমর্থন করায় এই বিষয়ে আশার আলো দেখছে সরকার।

সরকার জানায়, ফার্মাসিস্ট এবং বেসরকারী ক্লিনিকগুলিকে ফ্লু ভ্যাকসিন বিক্রয়ের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে। এই বছরে বুস্টার বিক্রি শুরু না হলেও আগামী বছর হতে বিক্রয় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) কর্তৃক এই প্রস্তাবটি সমর্থন করা হয় কারণ বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যা আগামী শীতে কঠিন আকার ধারন করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

খবরে জানা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কোভিড ভেক্সিনেশন কেবলমাত্র যুক্তরাজ্যের এনএইচএসে পাওয়া যাচ্ছিল যা এখন উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

এই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করে কোভিড বুস্টার প্রোগ্রামটি বয়ষ্ক ও বাচ্চাদের জন্য ফ্রি প্রদান করা হবে। যাদের মাঝে ৫০ হতে ৬৫ বছরের উপরের বয়সী লোকদের বয়ষ্ক কোঠায় গণ্য করা হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দুই সরবরাহকারী, মডার্না এবং ফাইজার উভয়ই জানায় এনএইচএসকে টিকা সরবরাহ করা তারা অগ্রাধিকার হিসাবে গণ্য করবে।

ইউকেএইচএসএর এক মুখপাত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ” আমরা প্রস্তুতকারকদের সাথে চুক্তি করেছি এবং এটিও পরিষ্কার করে দিয়েছি যে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন চাইলে কোম্পানি প্রাইভেটভাবে বিক্রি করতে পারবে।”

মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানান, কোভিড ভ্যাকসিন প্রাইভেটভাবে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের বাঁধা না থাকায় জনসাধারণের কাছে বিক্রি জন্য আর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হতে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।

টিকা ও টিকাদান সম্পর্কিত যুক্তরাজ্যের যৌথ কমিটির সদস্য ও ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাডাম ফিন জানান, কোভিড জেবসকে সকলের বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া উচিত। অনেক নিয়োগকর্তা তাদের কর্মীদের জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে চান তাই বানিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে উত্তম।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ইমিউনোলজিস্ট অধ্যাপক ড্যানি আল্টম্যান বলেছেন, “ কোভিড এবং লং কোভিড দুর্বলতা জনসাধারণের কাছে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভ্যাকসিনের দুষ্প্রাপ্যতা জনসাধারণের মাঝে বিভাজনকেও বাড়িয়ে তুলে। তাই বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করলে এই ধরনের অস্থিরতা দূর হওয়া সম্ভব।”

এম.কে
১৯ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

বাংলাদেশিসহ ২০০ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো রুমানিয়া

চলতি বছরের জুলাই মাসে রোমানিয়ার অভিবাসন পুলিশ প্রায় ২০০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছে রোমানিয়া অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

রোমানিয়া জেনারেল ইনস্পেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন এর তথ্য ও জনসংযোগ কার্যালয় বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা মোট ১৯৩ জন ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৮৯ জনকে রোমানিয়া থেকে বিমানযোগে পাঠানো হয়েছে এবং চার ব্যক্তিকে রোমানিয়া সীমান্ত পুলিশের উপস্থিতিতে সরাসরি তাদের নিজ দেশে পৌঁছে দিয়ে বিতাড়ন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

আইজিআই আরও জানিয়েছে, বেআইনিভাবে রোমানিয়া থেকে সেনজেন সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা এবং রোমানিয়া ত্যাগ করতে জারি হওয়া প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এসব অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অভিবাসীদের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন পাকিস্তানি এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক।

ইউরোপের দেশটি ছাড়ার সময় রোমানিয়ায় বিদেশিদের অধিকার সংক্রান্ত সংশোধিত কার্যবিধির জিইও নং ১৯৪/২০০২-এর অধীনে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে রোমানিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

রোমানিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের মুক্ত চলাচলের অঞ্চল সেনজেন জোনে প্রবেশের জন্য চেষ্টা করে আসছে। ২০২২ সালের শেষদিকে ক্রোয়েশিয়ার আবেদন গ্রহণ হলেও বাতিল হয়েছে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার আবেদন।

ইইউর শর্তপূরণে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ভিসা নিয়ে আসা অভিবাসীদের নিয়ে রোমানিয়ার বেশ কড়া নজরদারি রয়েছে।

সেনজেন জোনে প্রবেশে করতে মরিয়া রোমানিয়া৷ তাই সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা বজায় রেখে ইইউর দেশগুলোর সম্মতি পেতে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে এনজি ও অভিবাসন সংস্থাগুলো।

এম.কে
১৮ আগস্ট ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক

আইফেল টাওয়ারে দুই মাতালের ঘুম

দুই মাতাল মার্কিন পর্যটককে প্যারিসের আইকনিক আইফেল টাওয়ারের ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আগের রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে তারা সেখানে ওঠে পড়েন। সোমবার ভোরে আইফেল টাওয়ার খোলার আগে তল্লাশির সময় নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরে আসেন এই দুই ব্যক্তি। পরে একটি বিশেষজ্ঞ ইউনিটসহ অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের তৎপরতায় তাদের নামানো হয়।

আইফেল টাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, নেশা চড়ে যাওয়ায় ঐ দুই পর্যটক টাওয়ারে আটকা পড়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মার্কিন দুই নাগরিক রবিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রবেশের টিকিট কিনেছিলেন। টাওয়ারের দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় অবস্থান করে রাতের আকাশ উপভোগ করেছেন তারা। জায়গাটি সাধারণত জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকে। যদিও পর্যটক দুই জন কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। ঘুম থেকে জাগিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের প্যারিস থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে। এমন কাণ্ডের ফলে সোমবার সকালে টাওয়ারটি জনসাধারণের জন্য খুলে দিতে প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয়।

এর আগে শনিবার বোমা হামলার হুমকি জেরে আইফেল টাওয়ারের তিনটি তলা খালি করা হয়েছিল। টাওয়ারটি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এসইটিই জানায়, সেখানকার একটি রেস্তোরাঁসহ তিনটি তলা ও সামনের চত্বর পুরোপুরি খালি করে ফেলা হয়েছিল। এরপর পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা তল্লাশি চালায়।

‘লা ডেম দে ফের’ নামে পরিচিত আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা ৩৩০ মিটার বা ১০৮৩ ফুট। এটি প্যারিসের সবচেয়ে উঁচু কাঠামো। অনন্য এ স্থাপনা দেখতে গত বছর ৬২ লাখ দর্শনার্থীর ভিড় লেগেছিল। টাওয়ারের নির্মাণকাজ ১৮৮৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল, আর ১৮৮৯ সালে ৩১ মার্চ তা শেষ হয়।

এম.কে
১৮ আগস্ট ২০২৩