Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের যৌথ নজরদারিও ঠেকাতে পারছে না পাচারকারীদেরঃ ভয়ংকর নতুন কৌশল

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ তৎপরতা সত্ত্বেও ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা থামছে না। বরং ফরাসি উপকূলে নজরদারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রগুলো তাদের কৌশল ও নৌযাত্রার রুট পরিবর্তন করছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্যালেই ও ডানকার্ক এলাকায় চাপ বাড়ায় এখন আরও পশ্চিমের উপকূল থেকে নৌকা ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

সাবেক বর্ডার ফোর্স প্রধান টনি স্মিথ সতর্ক করেছেন, ফ্রান্সের প্রায় ৩০০ মাইল দীর্ঘ উপকূলজুড়ে পাচারকারীদের প্রতিটি সম্ভাব্য উৎক্ষেপণস্থল বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন। তার মতে, ক্যালেই ও ডানকার্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে পাচারকারীরা অন্য জায়গা খুঁজে নেবে—এমন পরিস্থিতি এখন বাস্তবেই দেখা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় প্রায় ১৪০ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি বড় ডিঙি নৌকা ফ্রান্সের নরম্যান্ডি এলাকার দিক থেকে যাত্রা করে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথ উপকূলে পৌঁছায়। নৌকাটি প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে নজরদারিতে ছিল। শেষ পর্যন্ত দুটি লাইফবোটের সহায়তায় অভিবাসীদের উপকূলে আনা হয়।

ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ এটি প্রচলিত ক্যালেই-ডোভার রুটের বাইরে মানবপাচারকারীদের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থাৎ, ফ্রান্সের একটি নির্দিষ্ট উপকূলীয় এলাকায় অভিযান জোরদার করলেই পাচারকারীদের থামানো যাচ্ছে না; তারা নতুন উৎক্ষেপণস্থল বেছে নিয়ে আবারও চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শুধু রুট পরিবর্তন নয়, পাচারকারীরা বড় আকারের ‘মেগা-ডিঙি’ ব্যবহার করছে বলেও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব নৌকায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তোলা হচ্ছে। এর আগে ২৩০ জনকে বহনকারী একটি নৌকাও চ্যানেলে শনাক্ত হয়েছিল। আবার ১৭৩ জনকে বহনকারী একটি নৌকা বুলোন উপকূলের কাছে ডুবে যায়।

এ ধরনের ঘটনা মানবপাচারকারীদের ব্যবসার ভয়াবহ ঝুঁকিও সামনে আনছে। ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে যেকোনো সময় নৌকা ডুবে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে। কিছু অভিবাসীকে ভাসমান ডিঙ্গিতে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সমুদ্রে থাকতে হচ্ছে বলেও তথ্য উঠে এসেছে।

ফ্রান্স পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে। ল্য তুকে, বের্ক, ল্য ত্রেপোর ও দিয়েপসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ৪৫ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৫০ জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে বিশাল উপকূলরেখা এবং পাচারকারীদের পরিবর্তিত কৌশলের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য উৎক্ষেপণস্থল পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একটি জায়গায় অভিযান বাড়লে অন্য জায়গা দিয়ে নৌকা পাঠানোর সুযোগ পাচারকারীরা কাজে লাগাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পোর্টসমাউথে অভিবাসী নৌকা পৌঁছানোর পর স্থানীয় পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় অবস্থান নিয়ে অভিবাসীদের বহনকারী বাসকে প্রসেসিং সেন্টারে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

ব্রিটিশ রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়ছে। কনজারভেটিভ এমপি অ্যালান ম্যাক দাবি করেছেন, ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের নির্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত এবং রুয়ান্ডা-ধাঁচের পরিকল্পনা পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। রিফর্ম ইউকের নেতারাও কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

শ্যাডো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপও চলতি বছরে প্রায় ২০ হাজার ‘অবৈধ অভিবাসী’ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে এসেছে বলে দাবি করেছেন। তিনি ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন বা ইএইচআরসি থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন। তবে এসব রাজনৈতিক বক্তব্য সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদদের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বলছে, ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া পদক্ষেপ ইতোমধ্যে কার্যকর ফল দিচ্ছে। সরকারের দাবি, চলতি বছরে ছোট নৌকায় চ্যানেল পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে এবং যৌথ অভিযানে বিপুলসংখ্যক পারাপারের চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে।

তবু নতুন রুটের আবির্ভাব পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কারণ একটি দেশের সীমান্ত বা একটি নির্দিষ্ট উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিবর্তে এখন ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে পাচারকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সাবেক বর্ডার ফোর্স প্রধান টনি স্মিথের ভাষায়, মানবপাচার এখন আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে এবং এই ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক। ফলে পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপের মুখে থেমে যাওয়ার পরিবর্তে নতুন রুট, নতুন নৌকা ও নতুন কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

ক্যালেই ও ডানকার্কে কড়াকড়ির পর নরম্যান্ডি ও আরও পশ্চিমের উপকূল ব্যবহার শুরু হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, মানবপাচারকারীরা পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত নিজেদের কৌশল বদলাতে সক্ষম। আর এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ছোট নৌকার সংকট শুধু ডোভার বা কেন্টের সমস্যা না থেকে পুরো দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অভিবাসীদের জন্য স্বস্তির খবরঃ ব্রিটেনে আইএলআর অনুমোদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার আবেদন দ্রুত বাড়ছে। জুনের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে ৭৩ হাজার ৭৭৫টি আইএলআর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। জিবি নিউজের প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রতিটি কর্মদিবসে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি সফল আবেদনের সমান।

একই সময়ে অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্ব নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। গত নভেম্বরে তিনি অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআর পাওয়ার বর্তমান পাঁচ বছরের যোগ্যতার সময়সীমা দ্বিগুণ করে ১০ বছর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন।

কিন্তু প্রায় এক বছর পরও গত সপ্তাহে প্রকাশিত হোম অফিসের সর্বশেষ ইমিগ্রেশন রুলস আপডেটে ওই সংস্কারের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এর পরই বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, সরকার পরিকল্পিত কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে।

শ্যাডো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিল্প শাবানা মাহমুদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ডেইলি মেইলকে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আইএলআর সংস্কারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি।

ফিল্পের অভিযোগ, শাবানা মাহমুদ তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, লেবার পার্টির বামপন্থী ব্যাকবেঞ্চারদের চাপের কারণে সরকার কঠোর অভিবাসন সংস্কার কার্যকর করতে ভয় পাচ্ছে।

এদিকে আইএলআর অনুমোদনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে ৭৩ হাজার ৭৭৫টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।

শুধু ১২ মাসের হিসাব ধরলে জুন পর্যন্ত ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৮টি আইএলআর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ২৪ শতাংশ বেশি।

শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে বেড়ে ১০ বছর হতে পারে। অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত পাঁচ বছরের পথের তুলনায় অপেক্ষার সময় দ্বিগুণ হবে।

আর যারা অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবটি আরও কঠোর। তাদের স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার আগে ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল।

এ ছাড়া অপরাধে জড়িত ব্যক্তি, বেনিফিট গ্রহণকারী অথবা তুলনামূলকভাবে কম কর প্রদানকারীদের জন্যও স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ করার প্রস্তাব ছিল।

প্রস্তাবিত সংস্কার প্রায় ২০ লাখ অভিবাসীর ওপর প্রযোজ্য করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারের এই পরিকল্পনা লেবার পার্টির ভেতরেই তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ জন লেবার এমপি একটি খোলা চিঠিতে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তাদের জন্য পরে নিয়ম পরিবর্তন করা অন্যায্য হবে।

জুনে এই বিরোধিতা আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়। অ্যাঞ্জেলা রেনার, যিনি পরবর্তী সময়ে হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটিজ সেক্রেটারি হন, প্রস্তাবগুলোকে ‘আন-ব্রিটিশ’ ও ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেন।

জুনে প্রকাশিত লেবার সরকারের ইমিগ্রেশন বিলেও আইএলআর সংস্কারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এসব পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে সেকেন্ডারি লেজিসলেশনের মাধ্যমে আনা হতে পারে।

কিন্তু সর্বশেষ ইমিগ্রেশন রুলস আপডেটেও সংস্কারগুলোর কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, হোম অফিসের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার থেকে ৬ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।

এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে মহামারির পর যুক্তরাজ্যে আসা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর যোগ্যতার সময়সীমায় পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। হোম অফিসের পরামর্শপত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় পড়তে পারেন এমন প্রায় ২০ লাখ অভিবাসীর অধিকাংশ ২০২২ সালের পর যুক্তরাজ্যে এসেছেন। বর্তমান পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল থাকলে তাদের অনেকে ২০২৭ সাল থেকে আইএলআরের যোগ্য হতে শুরু করবেন।

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন ১৪ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল এবং একই বছর নিট মাইগ্রেশন রেকর্ড ৯ লাখ ৪৪ হাজারে দাঁড়ায়।

তবে সরকার এখনো প্রস্তাবিত সংস্কার বাতিল করেছে—এমন ঘোষণা দেয়নি। হোম অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআরের স্বাভাবিক যোগ্যতার সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করার সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষার সময় কম রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মুখপাত্র আরও জানান, সংস্কারের কিছু বিষয় নিয়ে পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং সরকার যথাসময়ে এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে।

ফলে বর্তমানে মূল প্রশ্ন হলো—শাবানা মাহমুদের ঘোষিত পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরের আইএলআর সংস্কার শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, নাকি রাজনৈতিক চাপের মুখে পরিকল্পনাটি আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে থাকবে। এরই মধ্যে আইএলআর অনুমোদনের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ‘কোনো ছাড় নয়’: দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

পারস্য উপসাগরে সেনা পাঠানো কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নিলে দক্ষিণ কোরিয়াকে বড় মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কোরিয়ান ভাষায় দেওয়া এক বার্তায় দক্ষিণ কোরিয়াকে এ সতর্কবার্তা দেন।

বাঘাই বলেন, পারস্য উপসাগর বা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখবে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের ৬৪ বছরের সম্পর্ক রয়েছে এবং তেহরান ঐতিহাসিকভাবে এই বন্ধুত্বকে সম্মান করে এসেছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের কারণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন বাঘাই। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া যদি পারস্য উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠায়, তাহলে সিউলকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সরাসরি সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বাঘাই আরও বলেন, কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে অন্য একটি দেশের ওপর ‘অন্যায় হামলায়’ জড়িয়ে পড়তে পারে না। তাই ওয়াশিংটন যাই বলুক না কেন, দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত এই যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়া।

ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উপস্থিতি বা সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তেহরানের বার্তায় মূলত দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।

সূত্রঃ মেহের নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘একই গল্পে’ ভরে গেছে ব্রিটেনের আশ্রয় আবেদনঃ হোম অফিসের সাবেক কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন হোম অফিসের সাবেক এক কর্মকর্তা। বহু বছর ধরে হাজার হাজার আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিপুলসংখ্যক আবেদনে একই ধরনের গল্প ও দাবি বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াটি একপর্যায়ে ‘বড় ধরনের জালিয়াতিতে’ পরিণত হয়েছিল।

সাবেক ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, পাকিস্তানের অনেক নাগরিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য একই ধরনের সম্পর্কভিত্তিক দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, নিজ দেশে ফিরে গেলে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তারা বিপদের মুখে পড়বেন। ওই ব্যক্তিই আবেদনকারীদের দাবির সমর্থনে চিঠি সরবরাহ করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

ইরাকি কুর্দি আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়েও একই ধরনের একটি প্রবণতার কথা তুলে ধরেছেন ওই সাবেক কর্মকর্তা। তার দাবি, ‘শত শত’ ইরাকি কুর্দি যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন করেছিলেন এবং তাদের অনেকেই দাবি করেছিলেন যে তারা কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন।

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়েও গুরুতর দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আবেদনকারী নিজেদের রাজনৈতিক বিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই নিজেদের রাজনৈতিক দল সম্পর্কে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কোনো আবেদন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ওপর অনেক বেশি ব্যাখ্যা দেওয়ার চাপ থাকত।

তার দাবি, একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে কখনো কখনো কর্মকর্তাদের কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হতো। কারণ আবেদনকারী তার বক্তব্যে যেসব দাবি, কারণ বা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের প্রত্যেকটি বিষয়ের জবাব দেওয়ার প্রত্যাশা করা হতো।

ফলে তার মতে, একটি আবেদন গ্রহণ এবং প্রত্যাখ্যানের মধ্যে প্রশাসনিক কাজের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতো। এই কাঠামো আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের কার্যকারিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে সাবেক কর্মকর্তার এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা দাবি। কোনো নির্দিষ্ট আশ্রয়প্রার্থী বা নির্দিষ্ট দেশের সব আবেদনকারী একই ধরনের মিথ্যা দাবি করেছেন—এমন সিদ্ধান্ত এসব বক্তব্য থেকে টানা যায় না। আশ্রয় আবেদন ব্যক্তিভেদে আলাদাভাবে যাচাই করার কথা এবং কোনো আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রমাণ ও সাক্ষ্যের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

তারপরও সাবেক হোম অফিস কর্মকর্তার এই দাবি যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে—বিশেষ করে আবেদনকারীদের বক্তব্য যাচাই, জাল বা সাজানো প্রমাণ শনাক্তকরণ এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ওপর প্রশাসনিক চাপের বিষয়টি নিয়ে।

আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ও জনপর্যায়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক আবেদন, দীর্ঘ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগের কারণে হোম অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক কর্মকর্তার অভিজ্ঞতাভিত্তিক অভিযোগগুলোও নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস \ ডেইলি মেইল

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

আমার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেনঃ শেখ হাসিনা

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তার ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দেশে ফেরার পরিকল্পনা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তার অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবারও আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তিনি বলেন, ডিসেম্বরকে তিনি বেছে নিয়েছেন কারণ এটি বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। দেশে ফেরার প্রস্তুতিও তিনি নিচ্ছেন বলে জানান।

তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে অন্য কারও জীবন যেন ঝুঁকিতে না পড়ে, সেটিও তিনি চান না।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রত্যেকের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদের মুখে ফেলতে চান না। তবে পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি দেশের মানুষের কাছে ফিরতে চান বলেও স্পষ্ট করেন।

দেশে ফেরার জন্য সরকারের অনুমতি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তার নিজের দেশ। তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশটি স্বাধীন করেছেন এবং তিনি ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছেন। স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে ফেরার অনুমতি না পেলে কীভাবে ফিরবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অনুকূল মনে করছেন না বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতি দেখলে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। দেশে মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি দেশের মানুষের কাছে ফিরে যেতে চান। তার ভাষায়, মানুষ কষ্টে আছে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো তার দায়িত্ব। এমনকি এজন্য নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লেও তিনি মানুষের কাছে যেতে চান বলে জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন থেকে ভারতে যাওয়ার ঘটনাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, তিনি দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। বরং পরিস্থিতির কারণে তাকে চলে আসতে হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তাকে টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হেলিকপ্টারে করে সীমান্ত পার হওয়ার পর তাকে জানানো হয় যে তারা ভারতে যাচ্ছেন। এমনকি উড়োজাহাজে ওঠার পর তিনি জানতে পারেন যে তাকে ভারত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গও তোলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, বাংলাদেশে এমন শক্তির উত্থান ঘটলে তার প্রভাব শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভারতকেও এর খেসারত দিতে হতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে শেখ হাসিনা দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সামরিক জোটের পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত সরকার কী বিবেচনায় বাংলাদেশের নির্বাচনকে সমর্থন করেছে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভূমিকা রেখেছে—তা ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থান থেকে রাজনীতি করার সমালোচনাও করেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তার নিজের দিল্লি থেকে বক্তব্য দেওয়ার সমালোচনা করা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারেরও সমালোচনা করেন। রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য তিনি বর্তমান ব্যবস্থাকে দায়ী করেন এবং এটিকে ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর মাসেই তিনি বাংলাদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান।

তিনি দাবি করেন, দলের তৃণমূলের মানুষ নির্যাতনের শিকার হলেও এখনও তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দেশের মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যে একদিকে যেমন ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় উঠে এসেছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তার অনুপস্থিতিতে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সূত্রঃ দ্য ওয়াল

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েনের নেপথ্যে দিল্লির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই দিল্লির অভ্যন্তরীণ ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সম্পর্কের বরফ গলানোর কিছু উদ্যোগ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে থাকা একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে—এমন ইঙ্গিত উঠে এসেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে।

দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে ভারতের নিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

তবে সফরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ এই উদ্যোগে অসন্তুষ্ট ছিল এবং পরবর্তী সময়ে সফর আয়োজনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্তে পেশাদার পররাষ্ট্রসেবা ক্যাডারের বাইরে গিয়ে দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়োগ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে হাইকমিশনারের সক্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। কূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের আরেকটি দিক হিসেবে শেখ হাসিনার দিল্লিতে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত ওই ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কারণ, এর আগে দিল্লি প্রেস ক্লাবে শেখ হাসিনার একটি নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দুই ঘটনায় ভারতের নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এরপর ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করলে ভারত সরকার সেটি বাতিল করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি সেমিনার ঠেকাতে পুলিশ দিয়ে ক্লাব এলাকা ঘিরে ফেলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিকে শেখ হাসিনাকে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একটি সেমিনার বাতিল—এই দুই ঘটনায় ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের প্রভাব আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় কূটনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সফর বা সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গের পাশাপাশি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বেশ কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে।

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমালোচনার মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের বিরোধিতা এবং প্রশাসনের ভেতরের মতপার্থক্যের বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিসভা সচিব টি ভি সোমনাথন এবং স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিকেও এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

দিল্লির অভিজাত ‘জিমখানা ক্লাব’ ঘিরে সরকারের পদক্ষেপও ভারতের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব খালি করার নোটিশকে কেন্দ্র করে বিজেপির আমলা ও সংসদ সদস্যদের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ভারতের ক্ষমতাকেন্দ্রিক অভিজাত সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘লুটিয়েন্স দিল্লি’ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের সঙ্গে বিষয়টি নতুন করে যুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও উত্তরসূরি প্রশ্নও উঠে এসেছে। ট্রাস্টিদের পার্সি ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষার পুরোনো রীতিনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে নোয়েল টাটার পারিবারিক পটভূমি এবং বিয়ের আগে পার্সি ধর্মীয় রীতি ‘নভজোত’ পালনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সব মিলিয়ে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনকে শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধ হিসেবে না দেখে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সমীকরণের আলোতেও দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করেছে—এমন দাবিকে এখনো অভিযোগ ও কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে; এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আমেরিকা

নারীরা বিরোধিতা করলেই আক্রমণাত্মক ট্রাম্পঃ সুইফট-গ্রিনদের ঘটনায় উঠছে প্রশ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন নারীর প্রকাশ্য বিরোধ এবং তাদের সমালোচনার পর তার তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্য ডেইলি বিস্টের পডকাস্টের সাম্প্রতিক এক পর্বে পডকাস্টার জেনিফার ওয়েলচ, লেখক নেল স্কোভেল এবং দ্য ডেইলি বিস্টের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা জোয়ানা কোলস বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

আলোচনায় বক্তারা দাবি করেন, যেসব নারী ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যান করেন, প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেন কিংবা তার রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করেন, তাদের প্রতি ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। তাদের মতে, এর পেছনে ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ এবং জনসম্মুখে নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে তার সংবেদনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেনিফার ওয়েলচের মতে, ট্রাম্পের নারী সমালোচকদের মধ্যে পারস্পরিক মিল খুব বেশি না থাকলেও একটি বিষয় তাদের একত্র করে। তার দাবি, এসব নারী ট্রাম্পকে এমন একটি আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেন, যেখানে তিনি নিজের সম্পর্কে যে ধারণা পোষণ করেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য প্রকাশ পায়।

ওয়েলচ এই পরিস্থিতিকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নার্সিসিস্টিক ইনজুরি’ বা আত্মমুগ্ধ ব্যক্তিত্বের আত্মমর্যাদায় আঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের আঘাতের পর একজন ব্যক্তি প্রতিশোধমূলক বা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারেন। তবে এটি আলোচকদের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা; ট্রাম্পের কোনো আনুষ্ঠানিক মনস্তাত্ত্বিক রোগ নির্ণয় হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ক্ষেত্রে আলোচনায় অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফটের নাম। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সুইফট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্য ডেইলি বিস্টের আলোচনায় এটিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সুইফটের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো নারীদের সবাই যে একই রাজনৈতিক অবস্থানের, তা নয়। মার্জরি টেইলর গ্রিন এর একটি বড় উদাহরণ। একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত গ্রিন পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তার অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং তার সঙ্গে মতপার্থক্যে জড়িয়ে পড়েন।

রোজি ও’ডনেলের সঙ্গেও ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে ‘দ্য ভিউ’ অনুষ্ঠানে ও’ডনেলের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন।

পডকাস্ট আলোচনায় লেখক নেল স্কোভেল ট্রাম্পের নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজের আকর্ষণীয়তা সম্পর্কে তার ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অতীত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, নারীরা তাকে কীভাবে দেখেন—এ বিষয়ে ট্রাম্পের নিজের ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

জেনিফার ওয়েলচ এ প্রসঙ্গে আরও কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প নিজের প্রতিচ্ছবি সম্পর্কে এমন একটি উচ্চ ধারণা পোষণ করেন যে তিনি মনে করেন অন্য নারীদেরও স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথা।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে নারীদের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক শুধু তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিনোদন জগতের নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের ভেতর থেকেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নারী কর্মকর্তা বিদায় নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নারী কর্মকর্তা তাদের পদ ছেড়েছেন। এর মধ্যে সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম, সাবেক শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডিরেমার এবং সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড রয়েছেন।

তবে এসব কর্মকর্তার প্রত্যেকের বিদায়ের কারণ এক নয়। উদাহরণ হিসেবে ক্যারোলিন লেভিট নিজেই জানিয়েছিলেন, সন্তানদের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর প্রয়োজন থেকেই তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে পাম বন্ডি, ক্রিস্টি নোয়েম ও লরি শ্যাভেজ-ডিরেমারের বিদায়ের পেছনে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা বিতর্কের মতো ভিন্ন ভিন্ন কারণ ছিল। তুলসি গ্যাবার্ডও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের কথা জানিয়েছিলেন।

ফলে প্রশাসন থেকে একাধিক নারী কর্মকর্তার বিদায়কে সরাসরি ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষ বা নারীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংঘাতের প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। বরং দ্য ডেইলি বিস্টের পডকাস্টে আলোচকরা এসব ঘটনা এবং ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধগুলোকে তার ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতার রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন।

দ্য ডেইলি বিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনে সামগ্রিকভাবেই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের আগস্ট ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শীর্ষ পর্যায়ের ‘এ টিম’-এর ৫৪ শতাংশ সদস্যের মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে।

সব মিলিয়ে, টেইলর সুইফট, মার্জরি টেইলর গ্রিন কিংবা রোজি ও’ডনেলের মতো ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের নারীদের সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘাতকে কেন্দ্র করে একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে—ক্ষমতাধর একজন পুরুষ যখন কোনো নারীকে নিজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখেন, তখন তার প্রতিক্রিয়ার পেছনে ব্যক্তিগত অহম, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং জনসম্মুখের ভাবমূর্তি কতটা কাজ করে?

দ্য ডেইলি বিস্টের আলোচকদের ব্যাখ্যায়, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি বিস্ট, ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন প্রতিবেদন

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে চারদিক থেকে ঘিরে হামলার আশঙ্কাঃ ইরানের সঙ্গে ৪ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ের দাবি

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ কোনো বড় হামলা হলে এবার ইরান একা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একই সময়ে সক্রিয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন দাবি উঠেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াগুলোকে সমন্বিত করে ইসরায়েলের ওপর বহু-মুখী হামলার সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো হামলা শুরু হলে একাধিক ফ্রন্টকে একই সময়ে সক্রিয় করা। অর্থাৎ লেবানন, গাজা, ইয়েমেন ও ইরাকের দিক থেকে চাপ তৈরির পাশাপাশি ইরান নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে ইসরায়েলকে একই সময়ে একাধিক যুদ্ধক্ষেত্র সামলাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সম্ভাব্য আঞ্চলিক সমন্বয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান। ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে তেহরানকে হিজবুল্লাহ, হামাস, হুথি এবং ইরাকের বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান বিভিন্ন দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

সম্ভাব্য পরিকল্পনায় লেবাননের হিজবুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর ফ্রন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলি মূল্যায়নে হিজবুল্লাহ ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান সামরিক শক্তি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

গাজা থেকে হামাসও সম্ভাব্য দক্ষিণ ফ্রন্টের অংশ হতে পারে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। আগস্টে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহ নিজেদের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই সমন্বয়কে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আঞ্চলিক ‘অক্ষ’ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

ইয়েমেনের হুথিরাও সম্ভাব্য পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লোহিত সাগর ও ইয়েমেনের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা সামুদ্রিক হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও হুথিদের ইরানের দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও এই সম্ভাব্য সমন্বিত কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াগুলোর সঙ্গে হুথিদের সমন্বয়ের নজির পাওয়া গেছে। জুলাইয়ে ইরাকের ভেতর থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রেও হুথি ও ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কথা আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত হয়েছিল।

এই নতুন কৌশলের সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার তুলনাও করা হচ্ছে। সেদিন হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আকস্মিক বড় হামলা চালালেও ইরানপন্থী অন্যান্য গোষ্ঠী একই সময়ে পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধে প্রবেশ করেনি। নতুন ইসরায়েলি মূল্যায়নের দাবি হলো, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তেহরান আগে থেকেই বিভিন্ন সহযোগী গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একাধিক কৌশলগত বৈঠক করেছে এবং যৌথ প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে ইসরায়েলি মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই। বরং বর্তমানে যে তথ্যগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং সেসব মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন। তাই সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার বিষয়টিকে নিশ্চিত সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে নয়, বরং ইসরায়েলের একটি গুরুতর নিরাপত্তা-আশঙ্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইরানও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তেহরানের এই অবস্থান ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সংঘাতের বিস্তারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্রঃ জেরুজালেম পোস্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ‘অতিরিক্ত ওষুধ প্রেসক্রাইবের মহামারি’, প্রতিদিন জরুরি বিভাগে ছুটছেন ১,০০০ প্রবীণ

যুক্তরাজ্যে অতিরিক্ত ওষুধ প্রেসক্রাইব ও সেবন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রায় ৮০ লাখ মানুষ প্রতিদিন পাঁচ বা তার বেশি প্রেসক্রিপশন ওষুধ গ্রহণ করছেন। চিকিৎসকদের মতে, একাধিক ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের এই প্রবণতা বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ বয়স্ক মানুষ ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২২ লাখ মানুষ প্রতিদিন ১০টি বা তার বেশি ওষুধ সেবন করছেন। একই সময়ে একাধিক ওষুধ ব্যবহারের এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পলিফার্মাসি’ বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের ওষুধ প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা পরিবর্তিত হওয়ায় একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের কারণে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা এনএইচএসের ওপর বছরে আনুমানিক ২২১ কোটি পাউন্ডের আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ওষুধ-সম্পর্কিত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ যথাযথ পর্যালোচনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাসপাতালে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব ছিল।

পরিস্থিতির একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে ইস্ট ইয়র্কশায়ারের ৯৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মুদ্রণকর্মী পিটার ইউস্টেসের ঘটনা। প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় ২০০১ সালে তার পুরো প্রোস্টেট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হলেও এরপরও দীর্ঘদিন তিনি প্রোস্টেট বড় হওয়ার উপসর্গের জন্য ট্যামসুলোসিন সেবন করে আসছিলেন।

গত জুলাইয়ে জেরিয়াট্রিশিয়ান বা প্রবীণ রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড্যানিয়েল হারম্যান তার ওষুধের তালিকা পর্যালোচনা করে চারটি অপ্রয়োজনীয় ওষুধ শনাক্ত করেন। এর মধ্যে ছিল স্ট্যাটিন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ রামিপ্রিল। চিকিৎসকের আশঙ্কা ছিল, রামিপ্রিল তার বারবার পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

ইউস্টেসের মেয়ে হিদার ক্রসবি জানান, তিনি তার বাবার প্রোস্টেটের ওষুধ নিয়ে জিপি সার্জারিতে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তাকে জানানো হয়েছিল, ওষুধটি এখনও প্রয়োজনীয়। তার অভিযোগ, বছরের পর বছর একই প্রেসক্রিপশন অনুমোদন করা হলেও ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা সেগুলো আদৌ প্রয়োজনীয় কি না, তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটির একটি বড় কারণ এনএইচএসের চিকিৎসাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। একজন রোগী একই সঙ্গে একাধিক শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা নিলে হাসপাতাল, কেয়ার হোম ও জিপি সার্জারির মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয় না থাকায় সময়ের সঙ্গে প্রেসক্রিপশনে নতুন নতুন ওষুধ যোগ হতে পারে।

আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে কখনো কখনো নতুন কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর সেই কথিত নতুন রোগের জন্য আরেকটি ওষুধ দেওয়া হয়। ফলে রোগীর ওষুধের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে এবং একটি জটিল চক্র তৈরি হয়।

কিছু ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে বিভ্রান্তি, অকারণে পড়ে যাওয়া, হাঁটাচলায় সমস্যা কিংবা ডিমেনশিয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

ইংল্যান্ডে প্রবীণ রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১,৬০০ জন জেরিয়াট্রিশিয়ান রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে জটিল ওষুধ ব্যবস্থাপনার বড় দায়িত্ব জিপি চিকিৎসকদের ওপর পড়ছে।

চিকিৎসা শিক্ষাতেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মেডিকেল শিক্ষার্থীরা পাঁচ বছরের ডিগ্রি চলাকালে বার্ধক্যজনিত চিকিৎসা বিষয়ে তুলনামূলকভাবে অল্প সময় প্রশিক্ষণ পান। ফলে প্রবীণ রোগীদের একাধিক ওষুধের প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নে আরও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এদিকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রাইব কমানোর লক্ষ্যে এনএইচএসের একটি ৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাতিল হওয়ায়ও প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা প্রবীণ রোগীদের নিয়মিত ওষুধ পর্যালোচনা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ জেরিয়াট্রিক্স সোসাইটির সভাপতি জাগদীপ ধেসিসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন যথেষ্ট দ্রুত হচ্ছে না।

ধেসি চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ব্রিটেনের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে চিকিৎসা ও সামাজিক সেবা ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

তবে এনএইচএস কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনএইচএসের একজন মুখপাত্র জানান, অনুপযুক্ত ওষুধ প্রেসক্রাইব কমানোর বিষয়ে ১,৪০০-এর বেশি জিপি ও ফার্মাসিস্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এনএইচএস আরও জানিয়েছে, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য নিয়মিত ওষুধ পর্যালোচনা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ওষুধই কেবল চালু রাখা হয়।

আগামী জানুয়ারিতে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে একটি নতুন জাতীয় পরিকল্পনা প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে প্রেসক্রিপশন ওষুধ ব্যবস্থাপনার মানদণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা রয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

৭২ ঘণ্টায় ৯০ শতাংশের বেশি প্রত্যাবাসনঃ সেউতা সংকটে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সেউতা সীমান্তে জুলাইয়ের নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সরকারের কাছে থাকা সংকট-সংক্রান্ত নথি জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ৩ সেপ্টেম্বর স্পেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সেউতা সংকট মোকাবিলায় সরকারের ‘লুকানোর কিছু নেই’ এবং জনগণের পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ করা হবে।

জুলাইয়ের ৩০ ও ৩১ তারিখে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্পেনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সংকটের সময় প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছিল। ঘটনাটি স্পেনজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং সরকারের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা তীব্র হয়।

পার্লামেন্টে সানচেজ জানান, সংকটের প্রথম পর্যায়ে সরকারের দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল—সীমান্ত শক্তিশালী করা এবং স্পেনে থাকার আইনগত অধিকার না থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানো। তার দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মরক্কোয় ফিরে যায় এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজারে পৌঁছায়, যা সীমান্ত অতিক্রমকারীদের ৯০ শতাংশের বেশি। তিনি এটিকে ইউরোপের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।

সানচেজ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী স্প্যানিশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রকাশ্যে সমর্থন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে বদলে যাওয়ার পর কর্মকর্তাদের সামনে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের জীবন রক্ষার মধ্যে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন এবং তার মতে সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।

সেউতায় গণ-অনুপ্রবেশের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্পেনের অভিবাসন আইন ও আদালতের একটি রায়কে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এসব বার্তা সীমান্ত পার হওয়ার বিষয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে অপরাধী চক্র ও মুনাফালোভী ব্যক্তিরা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত পারাপারে সহায়তাকারী সরঞ্জাম ও সেবা বিক্রির চেষ্টা করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে সেউতা সংকটের আগে সরকারের কাছে কোনো গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ছিল কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সানচেজ পার্লামেন্টে বলেন, সংকটের ব্যাপ্তি বা সম্ভাব্য মাত্রা আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন বা বার্তায় জানানো হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী, স্পেনের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের পাঠানো আগের প্রতিবেদনগুলোতে পরিস্থিতির নিয়মিত বর্ণনা বা সতর্কতার কথা ছিল, কিন্তু এমন ব্যাপক অনুপ্রবেশের পূর্বাভাস ছিল না।

মরক্কোর ভূমিকা নিয়েও স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠেছে। সানচেজ বলেছেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় মরক্কো সরকার পরিকল্পিতভাবে জড়িত ছিল—এমন ‘শক্ত প্রমাণ’ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংকটের প্রায় ১০ ঘণ্টার একটি পর্যায়ে মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তী সময়ে মরক্কোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দ্রুত প্রত্যাবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি জানান।

অভিবাসীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন সানচেজ। তিনি বলেন, স্পেন একটি গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনভিত্তিক দেশ; আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে মানুষকে সীমান্তের ওপারে জোর করে ছুড়ে দেওয়া যায় না। তার এই বক্তব্য মূলত বিরোধীদের কঠোর সীমান্তনীতি ও দ্রুত বহিষ্কারের দাবির জবাব হিসেবে এসেছে।

এদিকে সংকটের পর সেউতায় মানবিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অতিরিক্ত অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। স্পেনের সরকার জানিয়েছে, অভিবাসীদের গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪০০টির বেশি স্থান তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থানীয় পরিষেবা শক্তিশালী করতে সরকারের পক্ষ থেকে সেউতার জন্য ৩০ কোটি ৯০ লাখ ইউরোর সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।

সেউতা সংকট এখন স্পেনের অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। বিরোধীরা সরকারের প্রস্তুতি ও সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়ে জবাবদিহি দাবি করছে। অন্যদিকে সানচেজ প্রশাসন বলছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং মানবিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই সংকট মোকাবিলা করা হয়েছে।

সূত্রঃ স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দপ্তর

এম.কে