Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টারমারের আসনে লড়াইঃ গ্রিন পার্টির মূল নেতা পোলানস্কিকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হামজা চৌধুরীর চ্যালেঞ্জ

লেবার পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ছেড়ে দেওয়া হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে উপনির্বাচন ঘিরে গ্রিন পার্টির ভেতরেই শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি আসনটিতে দলীয় প্রার্থী হতে চাইলেও তাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ক্যামডেন কাউন্সিলের গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর হামজা চৌধুরী।

আগামী ৮ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্টারমারের এমপি পদ থেকে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের পর আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার পরই পোলানস্কি গ্রিন পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সক্রিয় প্রচারণা শুরু করেন।

তবে স্থানীয় গ্রিন পার্টির রাজনীতিতে পোলানস্কির প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্যামডেন কাউন্সিলে থাকা গ্রিন পার্টির ১০ কাউন্সিলরের মধ্যে আরও ছয়জন তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। অর্থাৎ মোট সাতজন কাউন্সিলর পোলানস্কির পরিবর্তে চৌধুরীকে প্রার্থী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন ক্যামডেন কাউন্সিলে গ্রিন পার্টির গ্রুপ নেতা লর্না রাসেল।

হামজা চৌধুরীর মূল যুক্তি হলো, হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনের এমপি হিসেবে এমন একজনকে প্রয়োজন, যিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত থাকবেন এবং এলাকার সমস্যাগুলো সরাসরি জানবেন। পূর্ব লন্ডনে বসবাসকারী পোলানস্কি নির্বাচিত হলে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

হামজা চৌধুরী বলেছেন, তিনি ক্যামডেনের বাসিন্দা হিসেবে এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলো প্রতিদিন দেখেন। আবাসিক ভবনের নষ্ট লিফট, সময়মতো আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়া, অপরিচ্ছন্ন রাস্তা এবং আবাসনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকার মতো বিষয়গুলো তার কাছে সরাসরি পরিচিত। তার দাবি, নির্বাচনের সময় এসে প্রচারপত্র বিলি করে ভোটের পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কোনো এমপির প্রয়োজন নেই এলাকার মানুষের।

হামজা চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা এমন একজন এমপি চান, যিনি সারা বছর এলাকায় উপস্থিত থাকবেন, মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানো যাবে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত থাকবেন। এই যুক্তিতেই তিনি গ্রিন পার্টির সদস্যদের কাছে নিজের প্রার্থিতার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পোলানস্কি তার বিরুদ্ধে ওঠা এই সমালোচনার জবাবে বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে যাবেন না। তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে নিজের বাসা থেকে সাইকেলে করে নির্বাচনী এলাকায় আসা-যাওয়া করবেন এবং নিয়মিত মানুষের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।

পোলানস্কির দাবি, হ্যাকনি থেকে নির্বাচনী এলাকায় খুব দ্রুত সাইকেলে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি নিয়মিত এলাকায় থাকবেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এমপি হিসেবে তাদের সমস্যা নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

গ্রিন পার্টির জন্য এই উপনির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কিয়ার স্টারমার এই আসনে ১১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে লেবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন দখল করা গ্রিন পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হবে।

তবে গ্রিন পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে উপনির্বাচনে চমক দেখিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের গর্টন অ্যান্ড ডেন্টনে তারা ১৩ হাজারের বেশি ভোটের লেবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিয়ে জয় পায়। এবার সেই কৌশল হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসেও প্রয়োগ করতে চাইছে দলটি।

পোলানস্কি ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছেন। গ্রিন পার্টির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দলের লক্ষ্য হলো স্থানীয় মানুষের মধ্যে লেবারবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে আসনটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করা। তবে পোলানস্কির নিজের দলেই স্থানীয় প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ সেই প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে গ্রিন পার্টির স্থানীয় সদস্যরাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবেন কে দলটির প্রার্থী হবেন। চলতি সপ্তাহেই প্রার্থী বাছাইয়ের ভোট হওয়ার কথা। এর আগে স্থানীয় সদস্যদের বড় একটি অংশ পোলানস্কির প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন দেখিয়েছিল বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। ফলে কাউন্সিলরদের একটি বড় অংশ চৌধুরীর পাশে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নিশ্চিত নয়।

আরেকটি বিষয়ও গ্রিন পার্টির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলটির সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ পর। ফলে নির্বাচনী প্রচারের শেষ সপ্তাহান্তে দলের অনেক কর্মী ব্রাইটনে সম্মেলনে ব্যস্ত থাকতে পারেন। এতে মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ৮ অক্টোবরের হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস উপনির্বাচন এখন শুধু লেবার ও গ্রিন পার্টির মধ্যে সম্ভাব্য লড়াই নয়; গ্রিন পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যেই তা নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। স্টারমারের দীর্ঘদিনের আসনে লেবারকে চ্যালেঞ্জ করার আগে পোলানস্কিকে এখন নিজের দলের ভেতরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই সামলাতে হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের উদ্যোগঃ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি কি তার নামে

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ আগেই দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এখন সেই নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করা হবে, কোন সংস্থা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ কীভাবে শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণের কাজ চলছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আইন বা বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও আছে। তবে বাস্তবে কোন প্রক্রিয়ায় তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সাধারণ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তা ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ বা পশ্চাৎপ্রযোজ্য প্রভাব হিসেবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ আগে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এতে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার নিজের নামে ঠিক কী কী সম্পদ রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী এর কোনগুলো বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, সেখান থেকে তার ঘোষিত সম্পদের একটি হিসাব পাওয়া যায়। হলফনামায় নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন তিনি।

তখন নিজের হাতে নগদ অর্থ হিসেবে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা দেখিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর বাইরে ছিল ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর।

হলফনামায় তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে একটি উপহার হিসেবে পাওয়া এবং সেটির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। অন্য দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য হিসেবে তিনি দেখিয়েছিলেন প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। নিজের আসবাবের মূল্য দেখানো হয়েছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নিজের নামে থাকা কৃষিজমির পরিমাণ শেখ হাসিনা দেখিয়েছিলেন ১৫ দশমিক ৩ বিঘা। এসব জমির ক্রয়মূল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। জমিগুলো টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।

গাজীপুর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ওই জমি লিখে দিয়েছিলেন।

উত্তরাধিকারসূত্রে ওই জমির মালিক হন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা জমির কিছু অংশ তাদের সন্তানদের নামে লিখে দেন। এর ফলে সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকও জমিটির মালিক হন। নথিপত্র অনুযায়ী, ওই জমির মোট পরিমাণ ২৯৭ শতক বা ৯ বিঘা।

ঢাকার পূর্বাচলেও শেখ হাসিনার নামে একটি প্লট রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, ওই প্লটের মূল্য প্রায় ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার নামে এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরিবারের ছয়জনের নামে মোট ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা চলছে।

হলফনামায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমির তথ্যও দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

তবে শেখ হাসিনার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে পুরোনো হলফনামা ঘিরেও প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদক ২০২৫ সালের ২২ মে এক ব্রিফিংয়ে জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শেখ হাসিনা তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ একর বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন। তখন এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

দুদকের দাবি, যাচাই করে তারা ওই সময় শেখ হাসিনার নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদ থাকার তথ্য পায়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের আলোচনায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা শেখ হাসিনার নামে নয়; এর মালিকানা রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার বাসভবন হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডির সুধা সদনের মালিকানা তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদের নামে রয়েছে বলে ভূমি কার্যালয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িকে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই—প্রাপ্ত ভূমি-সংক্রান্ত তথ্য অন্তত সেটিই বলছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ে বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলো। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারকে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের আরও কয়েকটি রায়েও বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আশুলিয়ায় হত্যা ও ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে।

সূত্রঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল\ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

এম.কে

Categories
আমেরিকা

নিউ মেক্সিকোর নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করতে চান ট্রাম্প, তীব্র বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার মেক্সিকো উপসাগর বা কোনো হ্রদ নয়, সরাসরি একটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।

রোববার ট্রাম্প একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে নিউ মেক্সিকোর মানচিত্রে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি কেটে দিয়ে তার জায়গায় ‘আমেরিকা’ বসানো হয়েছে। এর সঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, অনেক মানুষ নাকি নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার ভাষায়, নতুন নামটি অঙ্গরাজ্যটির মানুষের জন্য ‘আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর’ হবে।

তবে ট্রাম্পের এই পোস্টের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এটি সত্যিকারের প্রশাসনিক উদ্যোগ, নাকি রাজনৈতিক রসিকতা কিংবা প্রতীকী বার্তা—তা পরিষ্কার নয়। হোয়াইট হাউসও ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তন করতে পারেন না। অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের ভূমিকা প্রয়োজন হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি সরাসরি নাম পরিবর্তনের আইনি সিদ্ধান্ত নয়।

নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশামও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে বিতর্কের কোনো প্রশ্নই নেই এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগের ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ। তিনি ট্রাম্পকে এমন বিষয় সামনে এনে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর অভিযোগও করেছেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ এই উদ্যোগটি তার সাম্প্রতিক নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশও জারি করেন, যার মাধ্যমে মার্কিন ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অবস্থিত লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। মার্কিন সরকারের জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমে নাম পরিবর্তনের পর গুগল ম্যাপসও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ‘লেক আমেরিকা’ নামটি দেখাতে শুরু করে। কানাডায় অবশ্য ‘লেক অন্টারিও’ নামটি বহাল রয়েছে।

ট্রাম্প এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলেছেন এবং গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভৌগোলিক স্থান ও আন্তর্জাতিক অঞ্চল নিয়ে তার বিভিন্ন মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিউ মেক্সিকোকে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাব সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যটির দীর্ঘ ঐতিহাসিক পরিচয়, স্প্যানিশ ও মেক্সিকান ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটির সম্পর্ক থাকায় প্রস্তাবটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিউ মেক্সিকোর আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের কোনো কার্যকর আইনি সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আপাতত এটি ট্রাম্পের একটি প্রকাশ্য প্রস্তাব বা প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ মেট্রো\স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই ভয়াবহ ঘটনাঃ তিন মাসের শিশুর মৃত্যুতে চারজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা-উদ্বেগের মধ্যেই তিন মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্টাফোর্ডশায়ারের গ্রেট ওয়্যারলিতে পরিবারের সঙ্গে ক্যাম্পিং করার সময় শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার সন্দেহে দুই নারী ও দুই পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়নি।

শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে স্ট্রবেরি লেনের কাছে একটি এলাকায় শিশুটি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ অবস্থায় রয়েছে—এমন খবর পেয়ে জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও সেখানে পৌঁছায়। কিন্তু চিকিৎসাকর্মীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় ৪২ ও ১৮ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৩০ ও ২০ বছর বয়সী দুই নারীকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চারজনকেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় এবং পরে তদন্ত চলাকালে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলটি একটি বনাঞ্চলের মধ্যে মাছ ধরার হ্রদের কাছে। সেখানে পুলিশ এলাকা ঘিরে রেখে ফরেনসিক ও তদন্ত কার্যক্রম চালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতেও পুলিশ সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করেন।

তবে পুলিশ এখনো শিশুটির মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করেনি। স্টাফোর্ডশায়ার পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মৃত্যুর পরিস্থিতিকে আপাতত ‘ব্যাখ্যাতীত’ বা ‘অজানা কারণের মৃত্যু’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

শিশু সুরক্ষা দলের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর জশ লি জানিয়েছেন, চারজনকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তকারীরা এখনো আরও প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো সম্ভাবনাই আগেভাগে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

পুলিশ একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অনুমানভিত্তিক তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তের এই পর্যায়ে যাচাই না করা কোনো দাবি প্রচার করলে তা তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে এটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা এবং পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে স্টাফোর্ডশায়ারের এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং চার সন্দেহভাজনের সঙ্গে ঘটনার কী ধরনের সম্পর্ক রয়েছে—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশও জনগণকে অনুমান না করে তদন্তের আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে সাদিক খানকে সরাতে টোরি-রিফর্মের লড়াইঃ জনমত জরিপে এগিয়ে লেবার

২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও বর্তমান মেয়র সাদিক খান এখনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাকে সরাতে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে পৃথকভাবে মাঠে নামলেও ডানপন্থী ভোট দুই দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ায় সাদিক খানের অবস্থান আরও সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।

তিনবারের মেয়র সাদিক খান এখনো চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন করবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড় শুরু হয়ে যাওয়ায় লন্ডনের মেয়র নির্বাচন ইতোমধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হচ্ছে।

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের মাইল এন্ড ইনস্টিটিউটের জন্য সাভান্তা ইউকের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে লেবারের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ৩৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। বিপরীতে কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে উভয়েই পেয়েছে ১৮ শতাংশ করে। গ্রিন পার্টি পেয়েছে ১৭ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ৯ শতাংশ সমর্থন।

এই জরিপে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে লেবারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে। যেখানে লেবারের সম্ভাব্য প্রার্থী ৩৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, সেখানে কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকে কেউই এককভাবে ২০ শতাংশের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।

সাদিক খানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কনজারভেটিভদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি এবং ওয়েস্টমিনস্টার কাউন্সিলর ফেস্টাস আকিনবুসোয়ে। ক্লেভারলি ইতোমধ্যে কনজারভেটিভ মেয়র প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ঘোষণা করেছেন এবং দাবি করেছেন, বামঘেঁষা শহর লন্ডনেও তিনি সাদিক খানকে পরাজিত করতে পারবেন।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী লায়লা কানিংহামও সাদিক খানকে সরানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কনজারভেটিভদের সঙ্গে সমঝোতা করে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। ফলে সাদিক খানবিরোধী ভোট একক প্রার্থীর পেছনে যাওয়ার বদলে একাধিক দলের মধ্যে ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কানিংহাম দাবি করেছেন, রিফর্ম ইউকে লন্ডনের এমন কিছু এলাকায়ও সাফল্য পেয়েছে যেখানে কনজারভেটিভদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। তিনি বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম এলাকায় স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকের নয়টি আসনে জয় পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

লেবার শিবিরেও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ডন বাটলারের নাম সামনে এসেছে। লেবারের এই এমপি জানিয়েছেন, সাদিক খান চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অর্থাৎ সাদিক খান নির্বাচন না করলে লেবারের ভেতরেই নেতৃত্বের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

তবে গ্রিন পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের তুলনামূলক কম জনসমর্থন এবং কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকের মধ্যে ডানপন্থী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করছে।

এদিকে সাদিক খান এখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও লন্ডনের মেয়র পদে তাকে হারানোর জন্য ডানপন্থী দলগুলোর তৎপরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু বর্তমান জনমত জরিপের চিত্র বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা মাঠে নামলেও সাদিক খান এখনো লড়াইয়ের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।

২০২৮ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়া, নির্বাচনী জোট, ভোটের কৌশল এবং লন্ডনবাসীর অগ্রাধিকার—সবকিছুই ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে আপাতত জনমত জরিপে লেবারের এগিয়ে থাকা এবং বিরোধী ডানপন্থী ভোটের বিভাজন সাদিক খানকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান দিচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজের পদত্যাগের বিস্ফোরক ইঙ্গিত—সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে দ্রুত উত্থান ঘটানো রিফর্ম ইউকে এখন একই সঙ্গে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা এবং দলীয় অর্থায়ন নিয়ে একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। দলের নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে দলটি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে প্রশ্ন।

সম্প্রতি চ্যানেল ফোর নিউজের একটি গোপন ক্যামেরা তদন্তে রিফর্ম ইউকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যান জুকস ও জেমস অরকে বিদেশি অর্থায়ন সংক্রান্ত নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনের পর দুজনই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

তদন্তে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রিফর্ম ইউকের জন্য প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের তিনটি জনমত জরিপের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ নির্বাচনী আইনে বিদেশি উৎস থেকে রাজনৈতিক দলকে অর্থ দেওয়া নিষিদ্ধ। বিষয়টি এখন রিফর্ম ইউকের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নজরেও রয়েছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে সম্ভাব্য ৫ লাখ পাউন্ডের একটি বিদেশি অনুদান নিয়ে। গোপন ক্যামেরার ফুটেজে দলীয় কর্মকর্তাদের কথোপকথন ঘিরে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কথিত ধনকুবেরের অর্থ যুক্তরাজ্যভিত্তিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নেওয়ার পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে রিফর্ম ইউকে কোনো বেআইনি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফারাজ এটিকে ‘এনট্র্যাপমেন্ট’ বা পরিকল্পিত ফাঁদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যেই ফারাজ নিজেও ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি উপহারের বিষয় নিয়ে পার্লামেন্টারি তদন্তের মুখে রয়েছেন। অভিযোগটি হলো, অর্থটি এমপিদের স্বার্থ-নিবন্ধনে ঘোষণা করা প্রয়োজন ছিল কি না। ফারাজ অবশ্য কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।

রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র অভিবাসন ইস্যু। ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর দাবি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে দলটি জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সমালোচকদের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ও ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে দলটি ভোটব্যাংক শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফারাজ ফ্রান্সের ন্যাশনাল র‍্যালির সঙ্গে অভিবাসনবিরোধী একটি অঙ্গীকারেও যুক্ত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।

তবে অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান এবং ক্ষমতায় যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি দলটির ভেতরের আর্থিক বিতর্ক এখন রিফর্ম ইউকের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠছে। বিদেশি অর্থের অভিযোগ, অর্থের উৎস গোপন করার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা এবং দলীয় কর্মকর্তাদের পদত্যাগ—সব মিলিয়ে দলটির স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফারাজের নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রিফর্ম ইউকের কর্মী-সমর্থকদের বড় একটি অংশ যদি মনে করে জিয়া ইউসুফ তার চেয়ে ভালোভাবে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তাহলে তিনি সেই মতামতকে গুরুত্ব দেবেন। যদিও একইসঙ্গে ফারাজ বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই।

জিয়া ইউসুফকে ফারাজ একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান যোগাযোগকারী হিসেবে প্রশংসা করেছেন। ফলে রিফর্ম ইউকের ভেতরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। তবে জিয়া ইউসুফকে দলটির নিশ্চিত উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

অন্যদিকে, জিয়া ইউসুফ নিজেও সম্প্রতি অভিবাসন ও পরিচয় নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি সোমালি বংশোদ্ভূত লেবার কাউন্সিল নেতা সাগাল আবদি-ওয়ালির ব্রিটিশ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ ওঠে। একজন মন্ত্রী ওই মন্তব্যকে সরাসরি বর্ণবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে রিফর্ম ইউকের সামনে এখন দ্বিমুখী লড়াই—একদিকে অভিবাসনবিরোধী কঠোর রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে দলটির অর্থায়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে ওঠা বিতর্ক সামাল দেওয়া। গোপন ক্যামেরার তদন্তের পর দুই শীর্ষ কর্মকর্তার সরে দাঁড়ানো এবং ফারাজের নিজের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠায় দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

রিফর্ম ইউকে কোনো আইন ভঙ্গের কথা অস্বীকার করছে এবং ফারাজ দাবি করছেন, দল কোনো অবৈধ অর্থ নেয়নি। তবে অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনো চলমান। ফলে দলটি সত্যিই ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে উঠে আসবে, নাকি একের পর এক বিতর্ক তার রাজনৈতিক উত্থানকে বাধাগ্রস্ত করবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ নম্বর প্লেটের বিরুদ্ধে বড় অভিযানঃ নামছে নতুন প্রযুক্তি

যুক্তরাজ্যজুড়ে অবৈধ নম্বর প্লেট ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করছে সরকার। জরিমানা এড়ানো চালকদের পাশাপাশি অবৈধ পণ্য পরিবহন ও সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করতে নতুন সড়ক পুলিশিং ব্যবস্থায় সরকারি অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন ন্যাশনাল রোডস পুলিশিং কো-অর্ডিনেশন সেন্টার—এনআরপিসিসি। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো হবে এই কেন্দ্রের মাধ্যমে।

সরকার জানিয়েছে, অভিযানে নতুন প্রযুক্তিও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে বিশেষ ধরনের গগলস রয়েছে, যা এমন নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম হবে যেগুলো ক্যামেরার কাছে অপাঠ্য বা অদৃশ্য করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশের নজরে থাকা অবৈধ নম্বর প্লেটের অন্যতম ধরন হলো ‘ক্লোনড প্লেট’। এতে একটি গাড়িতে অন্য বৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের নকল ব্যবহার করা হয়। ফলে গাড়িটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক ধরনের হলো ‘ঘোস্ট প্লেট’। স্বচ্ছ বিশেষ ফিল্ম বা অন্য কৌশল ব্যবহার করে এসব নম্বর প্লেটকে ক্যামেরার কাছে শনাক্ত করা কঠিন করে তোলা হয়। কোনো গাড়িতে নম্বর প্লেট না থাকাও অবৈধ ব্যবহারের আওতায় পড়ে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ নম্বর প্লেট শুধু দ্রুতগতির জরিমানা, পার্কিং ফি বা ক্লিন এয়ার জোনের জরিমানা এড়াতে ব্যবহৃত হয় না; এগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন এবং মাদক পাচারের মতো অপরাধে এ ধরনের নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়।

নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে সক্ষম গাড়ি চুরি যাওয়ার পর কিংবা গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে সেগুলো শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন প্রযুক্তি ও সমন্বিত পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের গাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের রোডস মিনিস্টার জাস্টিন ম্যাডার্স বলেছেন, অবৈধ নম্বর প্লেটের বিরুদ্ধে পুলিশি সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নম্বর প্লেট পার্কিং ফি এড়িয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মাদক পাচারের মতো অপরাধেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

সরকারের নতুন রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজি-রও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক দশকেরও বেশি সময় পর নেওয়া এই কৌশলের লক্ষ্য সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং হাজারো মানুষের জীবন রক্ষা করা। এর আওতায় অবৈধ নম্বর প্লেট ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তি, নম্বর প্লেটের মানদণ্ড পর্যালোচনা এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের বিষয়েও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

এনআরপিসিসির উপ-জাতীয় সমন্বয়কারী চিফ সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক ক্লোথিয়ার বলেন, সড়ক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি সড়ক ও সড়কের বাইরের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করাই নতুন কেন্দ্রটির অন্যতম লক্ষ্য।

অন্যদিকে পুলিশের ক্রাইম মিনিস্টার সারাহ জোন্স বলেন, অবৈধ নম্বর প্লেট কোনো ‘ভুক্তভোগীহীন অপরাধ’ নয়। অপরাধীরা এগুলো ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে, অবৈধ পণ্য পরিবহন করতে এবং নিজেদের শনাক্ত হওয়া ঠেকাতে।

নতুন উদ্যোগের আওতায় ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি—ডিভিএসএ এবং ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি—ডিভিএলএ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। অবৈধ নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ, সড়কে অভিযান এবং অবৈধভাবে নম্বর প্লেট সরবরাহকারী ব্যবসার বিরুদ্ধে তদন্তেও সহযোগিতা করা হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভুলভাবে প্রদর্শিত নম্বর প্লেট ব্যবহার করলে চালককে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। নতুন প্রযুক্তি ও সমন্বিত পুলিশি ব্যবস্থার ফলে এ ধরনের আইনভঙ্গ শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য শুধু অবৈধ নম্বর প্লেটের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় নয়; বরং নম্বর প্লেটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করা, অবৈধ পণ্য পরিবহন ঠেকানো এবং যুক্তরাজ্যের সড়ককে আরও নিরাপদ করা।

সূত্রঃ ইউকে.গভ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ইতালিতে বছরে ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার কর্মী বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে গিয়ে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিবারসহ এই সংখ্যা প্রায় ১২ হাজারে পৌঁছায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ অভিবাসনের সুযোগ এবং অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, দালালের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মশালায় সাধারণ মানুষকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রার বিপদ এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে জানানো হবে।

বৈঠকে ইতালির পক্ষ থেকে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেন, অবৈধ পথে যারা ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের নানা ধরনের আইনি জটিলতা ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে কর্মীদের বৈধ অভিবাসনের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দালালের চটকদার প্রলোভনে বিপুল অর্থ খরচ করে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে যাওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত নিয়ম ও বৈধ কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুধু কর্মসংস্থান নয়, বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও ইতালির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ কাজ করতে আগ্রহী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতালিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠানো হলে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের ইতালিতে প্রশিক্ষণ সফরে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও দালালের মাধ্যমে অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা এখনও উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্রাণহানি ও প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণ করতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ও ইতালির পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তার মূল লক্ষ্য—দালালের ওপর নির্ভর না করে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা থেকে বাংলাদেশি কর্মপ্রত্যাশীদের দূরে রাখা।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে পুলিশকাণ্ডে মুসলিম দুই ভাইয়ের ভয়ংকর পরিণতি

দুই বছর আগে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে পুলিশের বিরুদ্ধে বর্বরতা ও বর্ণবাদের অভিযোগ তুলে আলোচনায় এসেছিল আমাজ পরিবার। মোহাম্মদ ফাহির আমাজ, তার ভাই মোহাম্মদ আবিদ এবং তাদের মা ম্যানচেস্টারের মিডল্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন। সেদিন তাদের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, বিমানবন্দরে পরিবারটি ভয়াবহ ও উসকানিবিহীন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা নিজেরা কোনো বক্তব্য দেননি। তবে তাদের আইনজীবী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের—জিএমপির—ভেতর থেকে তাদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অপপ্রচার’ চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরিবারের কয়েকজন সদস্য তখন পুলিশে কর্মরতও ছিলেন।

কিন্তু দুই বছর পর সেই পরিবারের ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে। মোহাম্মদ ফাহির আমাজ এখন ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘুষি মারার ঘটনায় কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে তার ভাই সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ আবিদ এক নারী সহকর্মীকে বর্ণবাদী মন্তব্য করার ঘটনায় চাকরি হারিয়েছেন।

ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাহির আমাজের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর আদালতে বিচার হয় এবং তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি আলোচিত হয়ে ওঠেন।

ফাহিরের ভাই মোহাম্মদ আবিদ তখন নিজেও জিএমপির একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং আদালতে তার ভাইয়ের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবিদের নিজের আচরণ নিয়েই পুলিশের অভ্যন্তরে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

এক নারী সহকর্মীর প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য করার ঘটনায় আবিদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি জিএমপির চাকরি হারান। ফলে যে পরিবারটি একসময় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিল, সেই পরিবারের দুই ভাই পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় শিরোনামে উঠে আসেন।

তবে দুই বছর আগে মিডল্যান্ড হোটেলের সেই সংবাদ সম্মেলনে আমাজ পরিবার নিজেদের পুলিশি নির্যাতনের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই সময় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছিল এবং পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

কিন্তু পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ঘটনাপ্রবাহে পরিবারের দুই সদস্যের অবস্থান নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। একজন এখন কারাগারে, আর অন্যজন পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত।

ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজের অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক জন শিয়ারহাউট তার প্রতিবেদনে দুই বছর আগের সেই সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোর মধ্যে এই নাটকীয় পরিবর্তন তুলে ধরেছেন।

দুই বছর আগে পুলিশের বিরুদ্ধে বর্বরতার অভিযোগ তুলে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা সেই পরিবারের দুই ভাইয়ের পরবর্তী পরিণতি এখন নতুন করে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের ঘটনাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে—একজনের ঠিকানা কারাগার, আর অন্যজন হারিয়েছেন পুলিশের চাকরি।

সূত্রঃ ম্যানচেস্টার-ইভিনিং নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আমদানিকৃত ডিমে ভয়ংকর সালমোনেলা আতঙ্কঃ আক্রান্ত ৫২৮, প্রাণ গেল ২ জনের

ব্রিটেনে আমদানিকৃত ডিমের সঙ্গে সম্পর্কিত সালমোনেলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি বা ইউকেএইচএসএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সালমোনেলা এন্টারিটিডিসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫২৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং তিনটি পৃথক ক্লাস্টারে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৩০৫ জন t5.9411 ক্লাস্টারের সঙ্গে যুক্ত এবং এই ক্লাস্টারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৮২ জন t0.24068 ক্লাস্টারের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তৃতীয় ক্লাস্টার t5.9765-এ আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন এবং সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তদন্তে এখন পর্যন্ত এসব সংক্রমণের সঙ্গে বিদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আমদানি করা ডিমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান এবং সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট উৎস চূড়ান্তভাবে শনাক্ত হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত ডিম আক্রান্ত—এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

আক্রান্তদের একটি বড় অংশ বাইরে খাবার খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। ছোট ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও টেকঅ্যাওয়ে ব্যবসা থেকে খাবার গ্রহণের পর এসব সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে আমদানিকৃত ডিম কীভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার ও রান্না করা হচ্ছে, তা নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

সালমোনেলা সংক্রমণে সাধারণত ডায়রিয়া, পেটের খিঁচুনি বা ব্যথা, বমি এবং জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসুস্থতা তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

গুরুতর ক্ষেত্রে সালমোনেলা সংক্রমণ সেপসিসের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। তবে একই সঙ্গে ইউকেএইচএসএ বলেছে, সাধারণ জনগণের জন্য সামগ্রিক ঝুঁকি বর্তমানে কম।

ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি বা এফএসএর পরামর্শ অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হলে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি কম থাকে। শিশু, ছোট বাচ্চা, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের কাঁচা বা অল্প রান্না করা ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের কাঁচা বা অল্প রান্না করা ডিমযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাজা মেয়োনেজ, মুস ও হোল্যান্ডেইস সসের মতো খাবার। বাইরে খাওয়ার সময় ব্যবহৃত ডিম ব্রিটিশ লায়ন মার্ক বহন করে কি না বা ‘Laid in Britain’ স্কিমের আওতায় রয়েছে কি না জানা না গেলে ডিম সম্পূর্ণভাবে রান্না করা হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়াকে নিরাপদ পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সাধারণ মানুষকে রান্না ও খাবার তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ডিম ও কাঁচা মাংস বা পোলট্রি ধরার পর ভালোভাবে হাত ধোয়া, প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী খাবার সংরক্ষণ করা এবং যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না করা সালমোনেলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্রুত বেড়েছে। আগস্টের শেষ দিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৭৪; ১ সেপ্টেম্বরের হিসাবে তা বেড়ে ৫২৮ হয়েছে—অর্থাৎ নতুন করে আরও ৫৪টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন কোনো সাধারণ উৎস বা খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত আমদানিকৃত ডিমের সঙ্গে যোগসূত্রই তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক হয়ে রয়েছে।

ব্রিটেনে বসবাসকারী মানুষের জন্য তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও টেকঅ্যাওয়ে থেকে ডিমযুক্ত খাবার খাওয়ার সময় কাঁচা বা অল্প রান্না করা ডিমের খাবার এড়িয়ে চলা এবং ডিম সম্পূর্ণভাবে রান্না করা হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া। একই সঙ্গে সালমোনেলার সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাদুর্ভাবের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমদানিকৃত ডিমের বিষয়ে সতর্কতা অব্যাহত থাকবে। ৫২৮ জন আক্রান্ত ও দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করলেও, সরকারি সংস্থাগুলোর বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী সাধারণ জনগণের জন্য সামগ্রিক ঝুঁকি কম। তাই আতঙ্ক নয়—সঠিক খাদ্য নিরাপত্তা ও রান্নার নিয়ম মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ চ্যানেল-ফোর নিউজ

এম.কে