Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিভাবকদের জন্য বড় স্বস্তিঃ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল ইউনিফর্ম নতুন নিয়ম

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকদের বড় একটি অংশ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া স্কুল ইউনিফর্মের নতুন নিয়ম সম্পর্কে এখনো জানেন না। প্রতি শিক্ষাবর্ষে ভুল পোশাক পরার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বাড়ি পাঠানোর ঘটনা নিয়ে আলোচনা হলেও, নতুন এই নিয়মের লক্ষ্য হলো জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে আর্থিকভাবে চাপে থাকা পরিবারগুলোর ওপর স্কুল ইউনিফর্মের খরচ কমানো।

সেপ্টেম্বর থেকে অধিকাংশ স্কুল একজন শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ তিনটি ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্ম সামগ্রী কেনার বাধ্যবাধকতা দিতে পারবে। নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোর স্কুল-সংক্রান্ত ব্যয় কমানো এবং বিশেষ করে ব্র্যান্ডেড পোশাকের অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ করা।

পরামর্শ বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘মানি ওয়েলনেস’-এর জন্য স্কুলপড়ুয়া সন্তান রয়েছে এমন ১ হাজার অভিভাবকের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ অভিভাবক সম্পূর্ণভাবে জানতেন না যে নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে।

সরকারের ‘শিশু কল্যাণ ও স্কুল আইন’-এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ, পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষা এবং প্রারম্ভিক শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলগুলো আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্ম ও শরীরচর্চার পোশাকের বাধ্যতামূলক সামগ্রীর সংখ্যা তিনটি বা তার কম রাখতে। তবে মাধ্যমিক ও মধ্যবর্তী পর্যায়ের স্কুলে একটি টাই থাকলে সর্বোচ্চ চারটি ব্র্যান্ডেড সামগ্রী বাধ্যতামূলক করা যাবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রায় আরও ৫ লাখ শিশু বিনামূল্যের স্কুল খাবারের জন্য যোগ্য হবে। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২ হাজারের বেশি বিনামূল্যের সকালের নাশতা কেন্দ্র চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে অভিভাবকদের খরচ কমানোর পাশাপাশি শিশুদের স্কুলে যাওয়ার আগে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

নতুন বিধিমালা একাডেমি স্কুল ও একাডেমি ট্রাস্ট, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত স্কুল এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বেসরকারি নয় এমন বিশেষ স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কুল ইউনিফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলের পরিচয় ও সম্প্রদায়ের অনুভূতি তৈরি হওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে ইউনিফর্ম অবশ্যই সাশ্রয়ী হতে হবে এবং এর খরচ কখনোই কোনো স্কুলে ভর্তি বা স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের জন্য বাধা হওয়া উচিত নয়।

প্রতিটি স্কুলের ইউনিফর্ম নীতিমালা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সব অভিভাবকের জন্য তা সহজলভ্য রাখতে হবে। কোন পোশাক বাধ্যতামূলক এবং কোনগুলো ঐচ্ছিক—সেটিও নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

স্কুলগুলোকে সাধারণ পরিস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অভিভাবকরা বিভিন্ন দোকান বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পোশাক কেনার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থী স্কুলের ইউনিফর্ম নীতি মেনে না চললে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধান শিক্ষক নিতে পারবেন এবং তা স্কুলের প্রকাশিত আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তবে নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে নির্ধারিত ইউনিফর্ম কিনতে না পারলে তাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, বিরতির সময় বা অতিরিক্ত শিক্ষামূলক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

অভিভাবকদের সংগঠন ‘প্যারেন্টকাইন্ড’-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক ইয়ং বলেন, লাখ লাখ অভিভাবক স্কুল ইউনিফর্মের মতো অতিরিক্ত ও ব্যয়বহুল খরচ নিয়ে সংগ্রাম করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে সবাই চাপের মধ্যে থাকলেও অভিভাবকদের এমন কিছু স্কুল-সংক্রান্ত ব্যয় রয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, নতুন আইন এসব পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ এর মাধ্যমে ব্যয়বহুল ইউনিফর্ম সামগ্রীর সংখ্যা সীমিত করা হচ্ছে। এর ফলে আর্থিকভাবে চাপে থাকা পরিবারগুলোর পাশাপাশি মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারও উপকৃত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিনামূল্যের সকালের নাশতা কেন্দ্র এবং কম খরচের স্কুল ইউনিফর্ম অভিভাবকদের ওপর থাকা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। বেশি সংখ্যক সকালের নাশতা কেন্দ্র চালু হলে অভিভাবকদের কাজ ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে সন্তানদের সময়মতো স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

শিশু কমিশনার ডেম র‌্যাচেল ডি সুজা বলেন, ‘শিশু কল্যাণ ও স্কুল আইন’ শিশুদের সামাজিক সেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত এবং শিশুকেন্দ্রিক পদ্ধতি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি জানান, শিশুদের জন্য একক পরিচয় নম্বর এবং শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভাই-বোনদের একসঙ্গে রাখার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।

তবে ব্যাপক সংস্কারের পরও নতুন নিয়মগুলো বাস্তবে পরিবারের আর্থিক চাপ কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। জরিপে প্রায় ৬১ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্মের সংখ্যা সীমিত করলে তাদের খরচ কমবে। অন্যদিকে ৩০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, এতে তাদের কোনো আর্থিক সুবিধা হবে না।

নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো স্কুল ইউনিফর্মের খরচ কমিয়ে পরিবারগুলোর ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমানো। তবে নিয়মটি সম্পর্কে প্রায় অর্ধেক অভিভাবক আগে থেকে অবগত না থাকায় সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার পর স্কুল ও পরিবার—উভয়ের মধ্যেই নতুন নিয়ম নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে যুক্তরাজ্যঃ এবার স্যোশাল বেনিফিট কাটার প্রস্তাব কনজার্ভেটিভ পার্টির

যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনক ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। এই অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ কল্যাণভাতা কমিয়ে সংগ্রহ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

কেমি বেডেনকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবাসনভাতা সংস্কারের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড এবং দুই-সন্তান সুবিধার সীমা পুনরায় চালু করে আরও প্রায় ৩০০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় করা যেতে পারে। দ্য সানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেমি বেডেনক এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং অর্থমন্ত্রী জন হিলির ওপর সরাসরি চাপ বাড়িয়েছেন। তার দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ব্রিটেনকে সামরিকভাবে আরও প্রস্তুত হতে হবে।

তিনি বলেছেন, প্রতিটি সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কনজারভেটিভরা সবসময় প্রতিরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এই অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে—কর বাড়ানো হবে, নাকি কল্যাণভাতায় আরও কাটছাঁট করা হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকার জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পথ ও ৩ শতাংশের লক্ষ্য পূরণের সময়সীমা আগামী বসন্তের ব্যয় পর্যালোচনায় আরও পরিষ্কার করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, আগামী বসন্তের ব্যয় পর্যালোচনায় ন্যাটোর ২০৩৫ সালের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য একটি স্পষ্ট পথ তুলে ধরা হবে। একই প্রক্রিয়ায় ৩ শতাংশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হবে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জন ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। রয়টার্সের হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের ৩ শতাংশে পৌঁছাতে অতিরিক্ত প্রায় ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাতেও প্রায় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থঘাটতি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কনজারভেটিভদের প্রস্তাব সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আবাসন সহায়তা এবং সন্তানসংখ্যাভিত্তিক সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভদের যুক্তি হলো, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য। বেডেনক প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের বর্তমান অবস্থানকে অপর্যাপ্ত বলে আক্রমণ করছেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই ব্রিটেনের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়েও কনজারভেটিভ নেতৃত্ব সতর্কবার্তা দিয়েছে। বেডেনক বলেছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম বড় পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে তার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ব্রিটেনের মিত্র দেশগুলোও সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বেডেনক আরও বলেছেন, ব্রিটেন যদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যথাযথভাবে অর্থায়ন করতে চায়, তাহলে শক্তিশালী অর্থনীতি প্রয়োজন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যয়কে অভ্যন্তরীণ কল্যাণমূলক কর্মসূচির তুলনায় বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে এই রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্কও যুক্ত হয়েছে। লেবার এমপি ডায়ান অ্যাবট রাশিয়ার হুমকিকে ‘ন্যাটোর বানানো গল্প’ বলে মন্তব্য করায় ইতোমধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বেডেনক তার এই অবস্থানেরও সমালোচনা করে বলেছেন, ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে কনজারভেটিভদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং দলটি ইউরোপের নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে ন্যাটোকে দেখে।

এর ফলে যুক্তরাজ্যে এখন দুটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—রাশিয়া ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা খাতে কত টাকা ব্যয় করা প্রয়োজন এবং সেই অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণমূলক সুবিধায় কতটা কাটছাঁট করা হবে।

দ্য সানও এই বিতর্ককে সামনে রেখে পাঠকদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য কি কল্যাণভাতা কমানো উচিত? সংবাদমাধ্যমটি এ বিষয়ে একটি জনমত জরিপ আয়োজন করেছে।

ফলে ব্রিটেনে প্রতিরক্ষা ব্যয় এখন শুধু সামরিক নীতির বিষয় নয়; এটি পরিণত হয়েছে পরিবারগুলোর আয়, আবাসন সহায়তা, শিশুদের সুবিধা, করনীতি এবং সরকারের সামগ্রিক ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত অর্থের দাবি, অন্যদিকে সেই অর্থ জোগাতে কল্যাণভাতা কমানোর সম্ভাবনা—এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনগুলোতে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম উত্তপ্ত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ দ্য সান ও রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

পুতিনের হুমকির মধ্যেই রাশিয়াকে ‘ভুয়া আতঙ্ক’ বললেন ডায়ান অ্যাবট—যুক্তরাজ্যে নতুন বিস্ফোরণ

রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের জন্য যে সম্ভাব্য হুমকির কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে ‘ন্যাটোর বানানো গল্প’ বলে মন্তব্য করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রবীণ লেবার এমপি ডায়ান অ্যাবট। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা তার মন্তব্যের পরই সরকারের মন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতারা প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছেন।

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে অ্যাবট দাবি করেন, রাশিয়ার ‘আসন্ন হুমকি’ ন্যাটোর তৈরি একটি গল্প, যার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও বেশি সামরিক ব্যয় করার দাবির কাছে ব্রিটিশ সরকারের আত্মসমর্পণকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা বন্ধ করার আহ্বান জানান। পরে ওই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।

অ্যাবটের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনা টার্লি। টাইমস রেডিওতে তিনি বলেন, অ্যাবট এই বিষয়ে ভুল অবস্থানে রয়েছেন। সরকারের অবস্থান হলো, ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থন দৃঢ় এবং অটুট থাকবে।

টার্লি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ইউক্রেনের জনগণের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তার ভাষায়, লেবার সরকার এবং দল-মত নির্বিশেষে ব্রিটিশ রাজনীতির বড় অংশ ইউক্রেনের পাশে রয়েছে।

অ্যাবটের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ছায়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস কার্টলিজও। এলবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অ্যাবট সম্প্রতি ইউক্রেনে গিয়েছেন কি না, তা তিনি মনে করেন না। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখলে রাশিয়ার আগ্রাসনের ভয়াবহতা বোঝা যায়।

কার্টলিজ বলেন, ইউক্রেনে গেলে যুদ্ধের প্রকৃত ভয়াবহতা এবং একজন স্বৈরশাসকের আগ্রাসনের পরিণতি চোখে দেখা যায়। তিনি ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থনের পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবার পার্টির বৃহত্তর অংশও অ্যাবটের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।

অ্যাবটের মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাশকতা, সাইবার হামলা ও অন্যান্য রুশ-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থাও রুশ নাশকতার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছে।

রাশিয়ার হুমকি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়েও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের যুক্তি দেখিয়ে সরকারের ওপর সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চাপ রয়েছে। অন্যদিকে অ্যাবটের মতো কিছু রাজনীতিক মনে করেন, প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।

এই বিতর্কের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনক বলেন, শান্তি নিশ্চিত করতে হলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে ব্রিটিশ রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য শুধু প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা, ইউরোপীয় নিরাপত্তা এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশল—সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

ডায়ান অ্যাবট এর আগেও ন্যাটো ও ইউক্রেন-সংক্রান্ত অবস্থানের কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন। গত আগস্টেও ইউক্রেন যুদ্ধকে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত হিসেবে ব্যাখ্যা করে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা হয়েছিল।

এদিকে অ্যাবটের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে তার দলীয় হুইপ আবার স্থগিত করা উচিত কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে আনা টার্লি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের প্রধান হুইপের।

টার্লি বলেন, তার নিজের মতামত স্পষ্ট—অ্যাবট ভুল অবস্থানে রয়েছেন এবং তিনি তার বক্তব্যের সঙ্গে মৌলিকভাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তবে দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রধান হুইপই নেবেন।

ডায়ান অ্যাবট ২০২৬ সালের জুলাইয়ে লেবার পার্টিতে পুনরায় ফিরেছেন। এর আগে ২০২৩ সালে বর্ণবাদ নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং পরে সতর্কবার্তাসহ তাকে পুনরায় দলে নেওয়া হয়।

বর্তমান বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—রাশিয়ার হুমকি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়ন কতটা বাস্তব এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি। অ্যাবট এটিকে ন্যাটোর প্রচারণা হিসেবে দেখছেন, কিন্তু সরকারের মন্ত্রী ও বিরোধী দলের প্রতিরক্ষা মুখপাত্র—উভয় পক্ষই তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইউরোপে রাশিয়া-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চাপ যে আরও বাড়তে পারে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ফলে ডায়ান অ্যাবটের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এখন যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তা বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি, অন্যদিকে সেই হুমকির মাত্রা এবং অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন—এই দুই বিপরীত অবস্থানের সংঘাতেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ রাজনীতি।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট/এওএল-এর প্রতিবেদন

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

ইরান যুদ্ধে ব্রিটেনের সমর্থন না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্পঃ ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যকে কঠোর হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সামরিক সহায়তা না দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্রিটেনের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ফকল্যান্ড ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জিবি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশে যথেষ্টভাবে দাঁড়ায়নি। তার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালির ওপর ব্রিটেনসহ ন্যাটোভুক্ত বহু দেশের জ্বালানি নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ব্রিটেন পর্যাপ্ত ভূমিকা নেয়নি।

ট্রাম্প বলেন, তিনি ন্যাটোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং যুক্তরাজ্যের তৎকালীন নেতৃত্বের কাছেও জানতে চেয়েছিলেন, কেন কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। তার দাবি, ব্রিটিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় যুদ্ধজাহাজ নেই। ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোর স্বার্থ জড়িত থাকা সত্ত্বেও ন্যাটো থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিজের উদ্যোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।

ব্রিটেনের সমর্থনের ঘাটতি তাকে হতাশ করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এতে আহত হননি; বরং বিষয়টিকে একটি শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তবে তার বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের সামরিক ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিষয়টি উঠলে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। জিবি নিউজের উপস্থাপক বেভ টার্নার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে দাবি তুললে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পাশে দাঁড়াবে কি না।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ১৯৮২ সালের যুদ্ধের সময় তিনি ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তার মতে, সে সময় ব্রিটেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে দ্বীপপুঞ্জ পুনর্দখল করেছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি সতর্কতামূলক। তিনি বলেন, ফকল্যান্ড ব্রিটেন থেকে অনেক দূরে এবং সেখানে সামরিক শক্তি পাঠানো একটি দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান ব্রিটেনের সেই সক্ষমতা এখনো রয়েছে কি না।

ট্রাম্প বলেন, ব্রিটেন ২০ বা ২৫ বছর আগের মতো একই দেশ নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে ব্রিটেন যেভাবে দ্রুত ও শক্ত হাতে ফকল্যান্ড পুনর্দখল করেছিল, বর্তমানে একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা দেশটির রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটেন অতীতে কোনো ধরনের ‘খেলা’ ছাড়াই দ্রুত ফকল্যান্ড পুনর্দখল করেছিল। কিন্তু এখন প্রয়োজন হলে দেশটি একইভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত কি না এবং সেই সক্ষমতা তাদের রয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

ফকল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য উত্তেজনা কতটা বড় আকার নিতে পারে, জানতে চাইলে বেভ টার্নার বলেন, পরিস্থিতি এখনো পরিষ্কার নয় এবং তিনি আশা করছেন কোনো সংঘাত হবে না। তবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই কী ঘোষণা দেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ফকল্যান্ড ইস্যুর সঙ্গে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের প্রসঙ্গও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। বেভ টার্নার ইঙ্গিত দেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কারণে ব্রিটেনের কৌশলগত অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়।

এ বিষয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ছিল ভয়াবহ। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ ওই অঞ্চল এমন পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাদের হাতে সেটি থাকা উচিত নয়।

ট্রাম্পের ফকল্যান্ড-সংক্রান্ত মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবি নতুন করে সামনে আনছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই ফকল্যান্ড ইস্যুকে জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে বিরোধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন।

এর ফলে ফকল্যান্ডকে ঘিরে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার পুরোনো বিরোধের সঙ্গে এবার যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প একদিকে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধে ব্রিটেনের সীমিত সহযোগিতা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানাচ্ছেন।

ফকল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প সরাসরি বলেননি যে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তবে তার মন্তব্যে এটা স্পষ্ট যে তিনি ফকল্যান্ডের নিরাপত্তা, ব্রিটিশ সামরিক সক্ষমতা এবং মিত্রদের প্রতি যুক্তরাজ্যের সামরিক দায়িত্ব—এই বিষয়গুলোকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য লন্ডনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত সতর্কবার্তা হতে পারে। কারণ ফকল্যান্ড ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবে যুক্তরাজ্যের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

একই সময়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অবস্থানের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে আসায় ওয়াশিংটন-লন্ডন সম্পর্কের ওপরও নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশ ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত মিত্র হলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই সম্পর্কের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি ও পারস্পরিক প্রত্যাশার প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধে ব্রিটেনের সামরিক ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ এবং ফকল্যান্ড রক্ষায় যুক্তরাজ্যের সক্ষমতা নিয়ে তার প্রকাশ্য প্রশ্ন—দুটি বিষয়ই লন্ডনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। আর্জেন্টিনার নতুন তৎপরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কতটা বদলায় এবং ফকল্যান্ড ইস্যুতে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের পাশে দাঁড়ায় কি না, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ, রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ডেনমার্কে হামলার প্রস্তুতির নিচ্ছে রাশিয়াঃ দাবি ড্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থার

ডেনমার্কে সামরিক প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া নাশকতামূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি। ড্যানিশ গোয়েন্দাদের দাবি, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

ড্যানিশ সংবাদমাধ্যম ডিআর ও বার্লিংস্কেকে দেওয়া বক্তব্যে পিইটির কাউন্টারইন্টেলিজেন্স বিভাগের প্রধান এমিল গ্রেসহোম জানান, বিষয়টি শুধু ভবিষ্যৎ কোনো সম্ভাব্য হুমকি নয়; বরং রাশিয়া ইতোমধ্যে এ ধরনের হামলার বাস্তব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শুরু করেছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে ডেনমার্কের এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেগুলো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। এর ফলে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর রাশিয়ার চাপ ও হুমকির নতুন মাত্রা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নয়, সাধারণ ড্যানিশ নাগরিকদেরও ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিইটি। গোয়েন্দাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অর্থের বিনিময়ে ছবি তোলা বা তথ্য সংগ্রহের কাজে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের হাতে এমন প্রমাণও এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ছবি ও তথ্য পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে এই বিষয়টিই বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পিইটি ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্ভাব্য গোয়েন্দা তৎপরতা ও সন্দেহজনক যোগাযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কনফেডারেশন অব ড্যানিশ ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান রাসমুস অ্যান্ডারস্কাউ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা খাত, সামরিক সরঞ্জাম কিংবা ইউক্রেনকে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

ড্যানিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফ্লেমিং স্প্লিডসবোয়েল এই হুমকিকে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের একটি নতুন ও উন্নত মাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক তৎপরতার আশঙ্কা এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে সাবেক ড্যানিশ সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জ্যাকব কার্সবো মনে করেন, সম্ভাব্য রুশ নাশকতার বিষয়ে ডেনমার্কের এই আগাম সতর্কতা মস্কোর কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাবে। অর্থাৎ ডেনমার্ক শুধু সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি শনাক্ত করছে না, বরং এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে পাল্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও দেখাচ্ছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়া বিভিন্ন সময়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের মতো ন্যাটো সদস্য দেশের সামরিক শিল্পকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে এখন পর্যন্ত ডেনমার্কে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো হামলা সংঘটিত হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। একইভাবে গোয়েন্দাদের সতর্কতার অর্থও এই নয় যে কোনো নির্দিষ্ট হামলা অবশ্যম্ভাবী। বরং পিইটির বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা এবং নিরাপত্তা জোরদার করাই বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ড্যানিশ গোয়েন্দাদের এই সতর্কবার্তার ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প, ইউক্রেনকে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের তৎপরতার ওপর নজরদারি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশও রুশ গোয়েন্দা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে সতর্ক হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ সতর্কবার্তা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি উদ্বেগজনক দিক সামনে এনেছে—যুদ্ধক্ষেত্র ইউক্রেনের বাইরে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও নাশকতা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও গোপন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংঘাতের প্রভাব ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

সূত্রঃ এএফপি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

সাত ক্রিকেটার ছাঁটাই, কোচ বরখাস্ত—তারপর কিং চার্লসকেও বয়কট! পাকিস্তান দলে চরম বিশৃঙ্খলা

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভেতরের অস্থিরতা এবার গড়াল রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান পর্যন্ত। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাতে বাদ পড়া খেলোয়াড়দেরও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন খেলোয়াড় সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে অনুষ্ঠানে যাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আচরণের প্রতিবাদেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন।

২ সেপ্টেম্বর ক্ল্যারেন্স হাউসে অনুষ্ঠিত হয় রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান দলের সাক্ষাৎ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের টানা ব্যর্থতার মধ্যেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দলের বর্তমান সংকটের কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিল পিসিবি। সে কারণেই দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।

পাকিস্তান প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। দুই ম্যাচের চার ইনিংসেই পাকিস্তান ২০০ রানের নিচে অলআউট হয়। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পিসিবি মাঝপথেই দলে ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর সাতজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং দলের কোচিং কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়। তৃতীয় টেস্টের জন্য সাতজন নতুন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজনের এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি।

দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হকের মতো পরিচিত নামও ছিল। রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক লর্ডস টেস্টের পরই পাকিস্তানে ফিরে যান। অন্যদিকে বাদ পড়া কয়েকজন খেলোয়াড় তখনো ইংল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আলী উসমান, আমির জামাল, খুররম শাহজাদ ও মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ক্ল্যারেন্স হাউসে উপস্থিত হন। তবে পঞ্চম একজন খেলোয়াড় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার নাম প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে করা আচরণের প্রতিবাদ হিসেবেই ওই খেলোয়াড় রাজকীয় সাক্ষাৎ এড়িয়ে যান।

ঘটনাটি পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক সফরের মাঝপথে একসঙ্গে সাতজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন এবং এরপর বাদ পড়া খেলোয়াড়দের একটি আনুষ্ঠানিক রাজকীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে দলের পরিস্থিতি যে অত্যন্ত অস্বাভাবিক, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যেও পিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি মাঝপথে এত বড় পরিবর্তনকে নির্বাচক কমিটির ‘সবচেয়ে বিস্ময়কর সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেও রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দলের সাক্ষাৎ শেষ পর্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয়। রাজা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইংল্যান্ড সফরের কঠিন সময়ের মধ্যে পাকিস্তান দলকে উৎসাহ দেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম রাজাকে স্বাক্ষর করা একটি ক্রিকেট ব্যাট উপহার দেন। পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মোহসিন নাকভিও রাজাকে একটি উপহার দেন।

রাজপরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ইংল্যান্ড সফররত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলগুলোর জন্য প্রচলিত একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন। ফলে একজন খেলোয়াড়ের এই অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানোকে শুধু ব্যক্তিগত অনুপস্থিতি হিসেবে না দেখে পাকিস্তান দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাঠে ঘুরে দাঁড়ানো। সিরিজ ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। ব্যাপক পরিবর্তনের পর নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে পাকিস্তান এখন অন্তত সিরিজের শেষ ম্যাচে সম্মানজনক ফল অর্জনের চেষ্টা করবে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লন্ডন মেয়রের বিরুদ্ধে করা কর মামলা ও জরিমানা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

গাড়ির বার্ষিক কর পরিশোধ না করার অভিযোগে লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি—ডিভিএলএ। সরকারি নথিতে ভুলভাবে একটি গাড়ির মালিক হিসেবে সাদিক খানের নাম ও জন্মতারিখ যুক্ত হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছিল।

৫৫ বছর বয়সী লেবার পার্টির রাজনীতিক সাদিক খান গত মাসে এই মামলায় অনুপস্থিতিতেই দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ ছিল, ২০০২ সালে প্রথম নিবন্ধিত একটি নীল রঙের নিসান মাইক্রার বার্ষিক রোড ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়নি।

ডিভিএলএ’র তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির কর গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গাড়িটিকে রাস্তায় আনট্যাক্সড অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। সরকারি রেকর্ডে গাড়িটির নিবন্ধিত মালিক হিসেবে সাদিক খানের নাম থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিভিএলএ সাদিক খানের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। কিন্তু সেই চিঠি তার সঠিক ঠিকানায় না গিয়ে পূর্ব লন্ডনে একটি রেস্টুরেন্টের ঠিকানায় পৌঁছে যায়। ফলে মেয়রের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে আদালতে মামলাটি গড়ালে সাদিক খান কোনো জবাব বা প্লি না দেওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।

আদালত তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড আদালতের খরচ এবং ৩৫ পাউন্ড ৮৪ পেন্স বকেয়া গাড়ির কর পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

তবে পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, ওই নিসান মাইক্রা গাড়িটি সাদিক খানের মালিকানাধীন নয়। ফলে মামলাটির ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয় এবং ডিভিএলএ বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মেয়রের নামে পাঠানো চিঠিগুলো পূর্ব লন্ডনে গর্ডন র‍্যামসের একটি রেস্টুরেন্টের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আরও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, কারণ সাদিক খানের সঙ্গে গাড়িটির প্রকৃত মালিকানার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

মেয়রের একজন মুখপাত্র ঘটনাটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এটি একটি অপরাধ এবং অতীতেও সাদিক খান এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন, যেখানে কোনো গাড়ির মালিক হিসেবে মিথ্যাভাবে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

মেয়রের একজন উপদেষ্টা বিবিসি লন্ডনকে জানিয়েছেন, ডিভিএলএ বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করছে। ভুলভাবে দায়ের হওয়া মামলাটি পুনরায় খুলে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিভিএলএও জানিয়েছে, মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি পুনরায় খুলে আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বৃহস্পতিবার হেরেফোর্ড ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে নির্ধারিত শুনানিতে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছে ডিভিএলএ—কীভাবে সাদিক খানের নাম ও জন্মতারিখ এমন একটি গাড়ির সরকারি নিবন্ধনে যুক্ত হলো, যার মালিক তিনি নন।

ঘটনাটি শুধু একটি ভুল সরকারি নথির বিষয় নয়; বরং কারও পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি যানবাহন নিবন্ধনে তথ্য যুক্ত করা হয়েছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের আওতায় আসছে। ডিভিএলএ জানিয়েছে, গাড়িটির নিবন্ধনে সাদিক খানের তথ্য কীভাবে যুক্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হবে।

ফলে বর্তমানে মামলাটির মূল অভিযোগের পরিবর্তে সামনে এসেছে পরিচয় অপব্যবহার ও সরকারি নথিতে ভুল তথ্য প্রবেশের গুরুতর প্রশ্ন। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে মামলা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ডিভিএলএ’র তদন্তই নির্ধারণ করবে কীভাবে লন্ডনের মেয়রের নাম ২৪ বছরের পুরোনো ওই গাড়ির মালিক হিসেবে সরকারি রেকর্ডে উঠে এসেছিল।

সূত্রঃ বিবিসি \ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চালকবিহীন ট্যাক্সির যুগে যুক্তরাজ্যঃ লন্ডনের রাস্তায় প্রথমবার নামল উবার রোবোট্যাক্সি

যুক্তরাজ্যের পরিবহনব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। ব্রিটিশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওয়েভ ও উবার লন্ডনে প্রথমবারের মতো সাধারণ যাত্রীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় বা ‘রোবোট্যাক্সি’ সেবা চালু করেছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষ উবারের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত গাড়িতে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই সেবা সীমিতসংখ্যক গাড়ি দিয়ে শুরু হয়েছে। উবারের অ্যাপ ব্যবহার করে উবারএক্স, উবার ইলেকট্রিক অথবা উবার কমফোর্ট বুক করা যাত্রীদের কেউ কেউ স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। তবে যাত্রীকে জোর করে রোবোট্যাক্সিতে উঠতে হবে না—গাড়ি আসার আগেই তিনি ওয়েভের গাড়ি গ্রহণ করতে অথবা সাধারণ গাড়িতে পরিবর্তন করতে পারবেন। এর জন্য বাড়তি কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না।

এই সেবায় ব্যবহার করা হচ্ছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ফোর্ড মুস্তাং মাক-ই গাড়ি। গাড়িগুলোতে ওয়েভের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ‘এআই ড্রাইভার’ প্রযুক্তি এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণের সেন্সর রয়েছে। উবার জানিয়েছে, গাড়ির ভেতরে যাত্রীদের জন্য একটি ইন্টার‌্যাকটিভ পর্দাও থাকবে, যেখানে যাত্রা শুরু করা এবং গাড়ির নির্ধারিত পথ দেখার সুবিধা থাকবে। পর্দাটি ৬৪টি ভাষায় ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

তবে ‘চালকবিহীন’ প্রযুক্তি চালু হলেও লন্ডনের এই পর্যায়ে গাড়িতে একজন প্রশিক্ষিত ও টিএফএল-লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিরাপত্তা চালক উপস্থিত থাকবেন। তিনি পুরো যাত্রা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে বা ব্রেক প্রয়োগ করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যে পুরোপুরি মানবচালকবিহীন বাণিজ্যিক যাত্রার জন্য এখনও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিকভাবে লন্ডনে ২০টির কম গাড়ি দিয়ে সেবা শুরু হয়েছে; অন্যান্য প্রতিবেদনে প্রথম ধাপে ১৫টি ফোর্ড মুস্তাং মাক-ই গাড়ির কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা, প্রযুক্তির প্রস্তুতি এবং সরকারি বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী সময়ে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

লন্ডনের যাত্রীরা উবার অ্যাপের ‘রাইড প্রেফারেন্সেস’ বা যাত্রা-পছন্দের সেটিংসে গিয়ে ওয়েভের গাড়িতে যাত্রার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। উবার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি লন্ডনবাসী ওয়েভের স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাত্রার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে অ্যাপ থেকে সরাসরি ‘রোবোট্যাক্সি’ চাওয়া যাবে না; সাধারণ উবার বুকিংয়ের সময় যাত্রীকে ওয়েভের গাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে।

উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়েভের গাড়িতে যাত্রা করলে সাধারণ উবারের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ হবে না। অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাড়া ধার্য করা হয়নি। যাত্রীরা স্বাভাবিক উবার ভাড়াই দেবেন।

এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে লন্ডনভিত্তিক ওয়েভের দীর্ঘদিনের গবেষণা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সাল থেকে লন্ডনের জটিল সড়কব্যবস্থায় তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ওয়েভের ‘এভি ২.০’ প্রযুক্তি প্রচলিত উচ্চ-নির্ভুলতার মানচিত্র ও হাতে লেখা অসংখ্য নির্দেশনার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মাধ্যমে বিভিন্ন রাস্তা, যানবাহন ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি।

লন্ডনকে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জন্য একটি বিশেষ কঠিন পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরের সরু ও ব্যস্ত রাস্তা, যানজট, পথচারী, সাইকেল আরোহী, বাস এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি জটিল মোড় ও গোলচত্বর—সবকিছুই স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রযুক্তির জন্য বড় পরীক্ষা। এ কারণে লন্ডনে সফলভাবে প্রযুক্তিটি পরিচালনা করতে পারলে বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরেও এর সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এই উদ্যোগকে লন্ডনের পরিবহনের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, ব্রিটিশ উদ্ভাবন এখন দেশের সড়কে এই প্রযুক্তি নিয়ে আসছে এবং যাত্রীদের সামনে পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

তবে এই পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, ভবিষ্যতে ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত ভাড়ার গাড়ির চালকদের কর্মসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কয়েকটি শহরে ইতোমধ্যে মানবচালক ছাড়া রোবোট্যাক্সি চলাচল করছে। ইউরোপ তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং লন্ডনের এই উদ্যোগও সেই ধীরে এগোনোর নীতির অংশ।

লন্ডনের এই সেবা তাই আপাতত পুরোপুরি চালকবিহীন পরিবহন নয়; বরং মানুষের তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত গণযাত্রার প্রথম বড় বাণিজ্যিক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে নিরাপত্তা চালক ছাড়াই গাড়ি পরিচালনার পথ খুলে যেতে পারে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় পরিবহন প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করল। লন্ডনের রাস্তায় এখন শুরু হলো এমন এক পরীক্ষা, যার ফলাফল ভবিষ্যতে শুধু যুক্তরাজ্য নয়—বিশ্বের বড় শহরগুলোর নগর পরিবহন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সূত্রঃ উবারের অফিসিয়াল নিউজরুম\রয়টার্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যকে নতুন করে হুঁশিয়ারি আর্জেন্টিনার

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্যকে নতুন করে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, তার দেশ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘দাঁতে দাঁত চেপে’ লড়াই করবে—এতে যে-ই অসন্তুষ্ট হোক না কেন।

মিলে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ‘জাতীয় ঘোষণা’ দেবেন। তিনি দ্বীপগুলোকে আর্জেন্টাইন জনগণের কাছে ‘পবিত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এখনো লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিলে লিখেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় একটি ‘পবিত্র বিষয়’ নিয়ে জাতীয় সম্প্রচার করা হবে। তার ভাষায়, এটি আর্জেন্টাইন জনগণের একটি ঐতিহাসিক দাবি, যার ক্ষেত্রে এখনো তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য ফকল্যান্ড বা মালভিনাস ইস্যুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কী হতে পারে। আর্জেন্টিনা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ‘দাঁতে দাঁত চেপে’ লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মিলের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ডাউনিং স্ট্রিট মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার ‘অটল’। ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র বলেন, দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের হাতে রয়েছে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা বারবার ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের ছায়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস কার্টলিজও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফকল্যান্ড ব্রিটিশ এবং ব্রিটিশই থাকবে।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও দ্বীপবাসীর স্বাধীনতা রক্ষায় ব্রিটিশ সেনারা যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না এবং ফকল্যান্ডের জনগণের পাশে যুক্তরাজ্য সবসময় থাকবে বলেও তিনি জানান।

ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ। তবে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জে সামরিক অভিযান চালানোর পর যুক্তরাজ্য যখন তা পুনর্দখলের জন্য যুদ্ধ করে, তখন ওয়াশিংটন ব্রিটেনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ফকল্যান্ড ইস্যুতে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সব ধরনের অবস্থানই পর্যালোচনা করেন এবং ফকল্যান্ড ইস্যুটি এমন অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি, যেগুলো তিনি পর্যালোচনা করছেন।

২০১৩ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দেন। ওই গণভোটে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন; বিপক্ষে পড়েছিল মাত্র তিনটি ভোট।

তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক বাহিনী ফকল্যান্ড দখল করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলো পুনর্দখল করে।

যুদ্ধের চার দশকের বেশি সময় পরও ফকল্যান্ড ইস্যুটি আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং মিলের নতুন ঘোষণায় সেই পুরোনো বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এদিকে চলতি গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের উদযাপনেও ফকল্যান্ড ইস্যু সামনে আসে। খেলোয়াড়রা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।

ফলে ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত, লন্ডনের অটল অবস্থান এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের নতুন কড়া হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবারও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রেক্সিটের পর সুইডেন হতে প্রায় ২,৫০০ ব্রিটিশকে বহিষ্কারের নির্দেশ

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপে ব্রিটিশ নাগরিকদের বসবাসের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সুইডেনে। শৈশব থেকে প্রায় ২৪ বছর সুইডেনে বসবাস করা ৩৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক জন সেলারকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একজন সুইডিশ নারীকে বিয়ে করলেও সুইডেনে তার থাকার অধিকার নিশ্চিত হয়নি। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে সুইডেন ছাড়তে বলা হয়েছে।

 

জন সেলার মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে সুইডেনে চলে যান। তার বাবা-মা ইংল্যান্ডের এসেক্স থেকে সুইডেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ব্রিটেন তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় ইউরোপের মধ্যে অবাধ চলাচলের অধিকার ব্যবহার করে তারা সুইডেনে বসবাসের সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখানেই জনের পড়াশোনা ও জীবনের বড় অংশ কেটেছে।

জনের বয়স যখন ১৬ বছর, তখন তার বাবা মারা যান। পরে তার মা ইংল্যান্ডে ফিরে গেলেও জন সুইডেনেই থেকে যান। তিনি সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং শিক্ষক হওয়ার প্রস্তুতিও নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুইডেন তার কাছে বিদেশ নয়, বরং নিজের বাড়ি।

ব্রেক্সিটের পর সুইডেনে থাকার অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে জন সুইডিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবেদনটি করেন, অর্থাৎ ব্রেক্সিট-পরবর্তী নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বরের আগেই। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এরপর সুইডেনে থাকার জন্য পরিবার-সম্পর্কিত আইনি অধিকারের ভিত্তিতে তিনি আরও দুইবার আবেদন করেন। সেসব আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তার তৎকালীন সম্পর্কের ভিত্তিতে বসবাসের অধিকারও স্বীকৃত হয়নি। আদালতের যুক্তি ছিল, জন ও ক্যারোলিন তখন বিদেশে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসবাস করেননি এবং তাদের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার বিষয়ে উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণও যথেষ্ট ছিল না।

পরবর্তীতে জন ক্যারোলিনকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরও তার সুইডেনে থাকার বিষয়টি সমাধান হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এখন তিনি নতুন প্রমাণ দিয়ে ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করছেন।

জন বলেন, ব্রেক্সিটের কারণে তার মতো মানুষের জীবনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ইংল্যান্ডে গেলে নিজেকে পর্যটক মনে হয়, কারণ সুইডেনই তার বাড়ি। সাত বছর ধরে সুইডেনে থাকার অধিকার ধরে রাখতে আইনি লড়াই চালানোর কারণে তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন এবং কাজও করতে পারছেন না।

জনের স্ত্রী ক্যারোলিনও পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত এবং দীর্ঘ কোভিডের উপসর্গ, বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিতে ভুগছেন। আবার শিক্ষকতার কাজে ফেরার চেষ্টা করলেও স্বামীকে সুইডেনে রাখার আইনি লড়াই তার ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করেছে।

ক্যারোলিনের ভাষ্য, তারা শুধু একসঙ্গে জীবন কাটাতে চান। অবশেষে এমন একজন জীবনসঙ্গী পেয়েছিলেন, যিনি তার পাশে থাকবেন এবং প্রয়োজনের সময় তাকে সাহায্য করবেন। কিন্তু এখন নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হচ্ছে।

জনের ঘটনা অবশ্য একক কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ব্রিটেনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গণভোটের পর থেকে ২,৫০০-এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে সুইডেন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্রেক্সিট-সম্পর্কিত কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা সুইডেনেই সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুইডেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এমন ব্রিটিশ নাগরিকদের দেরিতে করা আবেদন গ্রহণ না করার নীতি অনুসরণ করছে, যারা ব্রেক্সিটের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সুইডেনে থাকার জন্য আবেদন করতে হবে—এ বিষয়টি জানতেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাত্র আরও ১২টি দেশে একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

ব্রেক্সিটের আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের এক সদস্য রাষ্ট্র থেকে অন্য সদস্য রাষ্ট্রে বহিষ্কার করা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকরা সেই বিশেষ অধিকার হারান এবং এখন অপরাধ না করলেও তাদের সুইডেন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

সুইডেনে বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের দেরিতে করা আবেদনের বিষয়ে দেশটির নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।

সুইডিশ সংসদ সদস্য হোকান সভেনেলিংও দেশটিতে বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। গত মাসে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার ৭৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক জয়েস থমাসের বিষয়টিও সামনে আনেন। ২১ বছর ধরে সুইডেনে বসবাসের পর তাকেও আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৭৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক জর্জ মেসনের ঘটনাও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি পূর্ণকালীন ডিমেনশিয়া পরিচর্যার মধ্যে রয়েছেন। তার সন্তানরা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ দিয়ে জানিয়েছিলেন, বাবাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়ার যাত্রা তার জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। কিন্তু সুইডেনের অভিবাসন-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আপিল আদালত গত ২৩ জুলাই তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

‘ব্রিটস ইন সুইডেন’ সংগঠনের কর্মী ডেভিড মিলস্টেড বলেছেন, জন সেলারের ঘটনা সুইডেনে প্রত্যাহার চুক্তি বাস্তবায়নে “পদ্ধতিগত ব্যর্থতার” আরেকটি উদাহরণ। তার মতে, সুইডিশ সরকার সমস্যাগুলোকে এখন আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে—এমন কিছু ইতিবাচক লক্ষণ থাকলেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, কারণ অনেক মানুষ এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জন ও ক্যারোলিন এখন তাদের মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করছেন। তাদের মূল দাবি—শৈশব থেকে যে দেশে জনের জীবন, শিক্ষা ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সেই দেশ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা হলে শুধু একজন ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না; একটি পরিবারও ভেঙে পড়বে।

জনের সামনে এখন সময়সীমা খুবই কম। ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুইডেন ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর হলে ২৪ বছর ধরে বসবাস করা দেশ থেকে তাকে চলে যেতে হবে। আর সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সুইডেনে জন্ম না হলেও যার কাছে দেশটি শৈশব, শিক্ষা, সম্পর্ক ও জীবনের স্মৃতিতে নিজের ঘরের মতো—সেই ব্রিটিশ নাগরিকের দীর্ঘ আইনি লড়াই নতুন এক অনিশ্চয়তায় গিয়ে ঠেকবে।

সূত্রঃ এলবিসি

এম.কে