Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

নৌকা ফেরাও, শরনার্থী আইন আসছে ব্রিটেনে

শুধু রাজার স্বাক্ষরটুকু করা বাকি তারপরেই ব্রিটেনের নতুন শরণার্থী নীতি পরিণত হবে আইনে।

সোমবার গভীর রাতে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে দীর্ঘ বিতর্কের পরে এই শরণার্থী বিল পাশ হয়েছে। এই বিলের কড়া সমালোচনা করে জাতিসংঘ বলেছে, আর্ন্তজাতিক মঞ্চে শরণার্থীদের পুনর্বাসন নিয়ে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ব্রিটেন, নতুন বিলটি তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ব্রিটেনের কনজারভেটিভ সরকার বরাবরই কড়া শরণার্থী নীতির পক্ষে প্রশ্ন করে এসেছে।

ঋষি সুনকের পূর্বসূরি বরিস জনসন প্রথম ‘রোয়ান্ডা প্ল্যান’-এর ঘোষণা করেছিলেন। জুন মাসে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দেয় মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয় আদালত। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ঋষি সুনক ‘নৌকা ফেরত পাঠাও’ নামের বিলটি পার্লামেন্টে পেশ করেন।

বিলে বলা হয়েছে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যে সব শরণার্থী ছোট ছোট নৌকা করে ব্রিটেনের উপকূলে এসে পৌঁছন তাদের ব্রিটেনে শরণার্থীর মর্যাদা দেয়া যাবে না। ব্রিটেনের পছন্দ মতো কোনো ‘তৃতীয়’ দেশ যেমন আফ্রিকার অত্যন্ত দরিদ্র দেশ রোয়ান্ডায় পাঠিয়ে দেয়া হবে। নিজের দেশে আইনে পরিণত হওয়ার পরে ব্রিটেনকে ফের এই আইন ইউরোপীয় আদালতে পেশ করতে হবে।

সুনাক সরকার জানিয়েছে, গত বছরের রায়ের বিরুদ্ধে আগামী মাসেই আদালতে আপিল করবে তারা।

এই বিলটি নিয়ে পার্লামেন্টে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স শেষ পর্ষন্ত কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব করে বিলটি হাউস অব লর্ডসে পাঠায়। সূত্রের খবর, বিশেষ পরিবর্তন না করেই শেষ পর্যন্ত বিলটি পাশ করে দিয়েছে হাউস অব লর্ডস।
উল্লেখ্য, পার্লামেন্টের এই উচ্চকক্ষের প্রতিনিধিরা অর্থাৎ ‘লর্ড’রা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। ২০১৮ থেকে ব্রিটেনে এসে পৌঁছনো শরণার্থীর সংখ্যা দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে। গত বছর ৪৫ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে এসে পৌঁছেছিলেন। এই সংখ্যাটা তার আগের বছরের থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। নতুন বিল পেশ করে সুনাক সরকার দাবি করেছিল, অতিমারি ও ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের অর্থনীতি সচল করতে কড়া হাতে শরণার্থী সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, আগামী ভোটে এই শরণার্থী নীতিই কনজারভেটিভ দলের জেতার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতরের প্রধান ভোল্কার টার্ক এবং শরণার্থী বিষয়ক দফতরের প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডির স্বাক্ষরিত এই যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সাহায্যের প্রত্যাশী যে সব শরণার্থী, ব্রিটেনের এই আইন তাদের উপরে নিদারুণ প্রভাব ফেলবে। এত দিন ধরে একটি আইনি কাঠামোর সাহায্যে শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানো যেত। ব্রিটেনের নতুন আইন সেই কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। এর ফলে শরণার্থীদের আরো বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলা দেয়া হল।’

আজই ডর্সেটের পোর্টল্যান্ড বন্দরে পাঁচ শ’-রও বেশি শরণার্থী নিয়ে একটি নৌকা এসে পৌঁছেছে। এ ধরনের শরণার্থীর ভবিষ্যৎ কী হবে, এখনো স্পষ্ট নয়। ‘রোয়ান্ডা প্ল্যান’ যেহেতু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং অন্য কোনো দেশের সাথেও ব্রিটেনের শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি তাই এখনই শরণার্থীদের ব্রিটেন থেকে বের করে দিতে পারবে না সুনাক সরকার। তবে তাদের সরকারিভাবে ‘শরণার্থী’ পরিচয় দিয়ে সরকারি সুযোগ সুবিধাও দিতে রাজি নয় ব্রিটেন। ফলে বেআইনিভাবে এ দেশে ঢোকা মানুষ, বিশেষত শিশু ও মহিলাদের, আরো বিপজ্জনক পরিস্থিতির সামনে পড়তে হতে পারে। এর ফলে শরণার্থী মহিলা ও শিশুদের পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা এ দেশের মানবাধিকার কর্মীদের।

 

এম.কে
১৯ জুলাই ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কনজার্ভেটিভ সরকারের ভাবনায় নতুন যোগ

নতুন সরকারী নীতির অধীনে, একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান উচ্চতর শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কোর্সগুলি নিয়ে কাজ করবে বলে সরকারের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীরা “হতাশ” হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনের কঠিন পরিশ্রমের পর ফলাফল খুঁজে নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক খবরে প্রকাশ পায়।

শিক্ষা সচিব গিলিয়ান কেগান কর্তৃক ঘোষিত এই পরিকল্পনাগুলি ২০১৭ সালে থেরেসা মে দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অগার রিভিউর অংশ। ‘থেরেসা মে সরকার’ শিক্ষা নিয়ে যে নতুন নীতিতে কাজ করতে চেয়েছিল এটার পরিকল্পিত বাস্তবায়ন করতে চায় বর্তমান সরকার।

এই প্রতিবেদনে টিউশন ফি কর্তন, শিক্ষার জন্য আরও বেশি তহবিল সরবরাহ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় সাফল্যের জন্য পর্যাপ্ত সমর্থন প্রদান সহ অসংখ্য সুপারিশের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পর্যালোচনার একটি অংশে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়,
“যদি শিক্ষার্থীদের ফলাফলের অগ্রগতির কোনও প্রমাণ না থাকে তবে সরকারকে ন্যূনতম একটি ক্যাপ সিস্টেম চালু করা উচিত। যার মাধ্যমে যোগ্যতর শিক্ষার্থীদের বের করা সম্ভব হয়।”

ফলস্বরূপ, ঋষি সুনাক বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য স্টুডেন্ট অফিস হতে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যাতে “নিম্ন-মানের” আগাছা বের করে দেয়া যায়।

তিনি জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থী সঠিক পথ বাতলে দেয়া। জীবনে সফল হতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং বিভিন্ন এপ্রেন্টিশিপ কোর্সের মাধ্যমে হাতেকলমে শিক্ষা নেয়া যায়। যা সফলতা প্রাপ্তিকে আরো সহজ করে তুলবে।

২০১৯ সালের মে মাসে অগার রিভিউতে বলা হয়, শিক্ষাকে অর্থনৈতিক উন্নতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করে। আয়ের জন্য ডিগ্রী অর্জন প্রথা হতে বেরিয়ে আসার ব্যাপারেও রিভিউতে আলোচনা করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর ফিসিক্যাল স্টাডিজ কর্তৃক প্রদত্ত ডেটায় দেখা যায়, অনেকক্ষেত্রে গ্রেজুয়েট সম্পন্ন করা লোকেদের চেয়ে অভিজ্ঞতার মূল্য বেশি দেয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের কথা বলা যায় যেখানে অভিজ্ঞতার মূল্য বেশি। ক্রিয়েটিভ আর্টসে স্নাতক করা ব্যক্তি প্রায় ১৪% এর কম উপার্জন করেন একই ফিল্ডে নন-গ্রেজুয়েট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকেদের চেয়ে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায় মেডিকেল গ্রেজুয়েট যেখানে বছরে প্রায় ৫২,৯০০ পাউন্ড বেতন পান সেখানে ক্রিয়েটিভ আর্টস হতে সম্পন্ন করা গ্রেজুয়েট ২১,২০০ পাউন্ড বছরে উপার্জন করতে সক্ষম।

অগার পর্যালোচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে অনেক ছাত্ররা তাদের গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করার পর তাদের স্টুডেন্ট লোন পরিশোধ করতেও হিমশিম খায়। তাই সকলে ইউনিভার্সিটির কোর্স করতেই হবে এমন ব্যবস্থায় না গিয়ে সময়োপযোগী কোর্স বাছাই করা উত্তম।

এম.কে
১৯ জুলাই ২০২৩

 

Categories
প্রবাসে বাংলাদেশ শীর্ষ খবর

রোমানিয়ায় আশ্রয় আবেদন করেছে ৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন পাঁচ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী। এদের মধ্যে শীর্ষে আছে বাংলাদেশিরা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই হাজার ৯৯ জন বাংলাদেশি দেশটিতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন।

রোমানিয়া জেনারেল ইনস্পেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (আইজিআই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রোমানিয়ায় পাঁচ হাজার ৭৬৫টি বেশি আশ্রয়ের আবেদন নিবন্ধন করা হয়েছে।

আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে শীর্ষে আছে বাংলাদেশিরা। তারা দুই হাজার ৯৯টি সুরক্ষা আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া৷ দেশটির নাগরিকেরা প্রথম ছয় মাসে ৮৮০টি আবেদন করেছেন।

এছাড়া, পাকিস্তানের আশ্রয়প্রার্থীরা ৭৫২টি, নেপাল থেকে আসা অভিবাসীরা ৩৯৯টি, শ্রীলঙ্কার নাগরিকেরা ২৬৪টি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকেরা বাকি এক হাজার ৩৭১টি আবেদন করেছেন।

রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের ৩৪ হাজার ৪৬৭টি রেসিডেন্ট পামিট ইস্যু অথবা নবায়ন করা হয়েছে। এই সংখ্যার বড় অংশ ইউক্রেনীয়রা। যাদের মধ্যে অনেকের আশ্রয় আবেদন গত বছর গ্রহণ করা হয়েছিল।

রোমানিয়ায় বৈধ ভিসা নিয়ে আসা ব্যক্তিরা অথবা অনিয়মিত অভিবাসীরা চাইলে আশ্রয় আবেদন করতে পারেন। তবে দেশটিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এসে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার হার একেবারেই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশ্রয় আবেদনগুলো প্রত্যাখান করা হয়।

২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে আসা মাত্র ১১ জন ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করে শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হয়েছিল।

গত বছর রোমানিয়ায় সর্বাধিক আশ্রয় চেয়েছে ইউক্রেনের নাগরিকেরা। রাশিয়ার হামলার কারণে চার হাজার ৩৯৮ জন ইউক্রেনীয় ২০২২ সালে রোমানিয়ায় সুরক্ষা চেয়েছেন।

২০২২ সালে ইউক্রেনের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আশ্রয় আবেদন করেছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। দেশটির এক হাজার ২৮৪ জন আবেদনকারী রোমানিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন। বলকান দেশ সার্বিয়া এবং শেনজেনভুক্ত দেশ অস্ট্রিয়ার পর রোমানিয়াতেও গত বছর ভারতীয় অভিবাসীদের আধিক্য দেখা গেছে৷

 

এম.কে
১৯ জুলাই ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রপার্টি মার্কেটে ভারতীয়রা এগিয়ে

এশিয়ানরা ইংরেজদের চেয়ে যুক্তরাজ্যে বেশি সংখ্যক প্রপার্টির মালিক বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে যে পরিমান ইংলিশরা প্রপার্টির মালিক তারচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রপার্টি আছে ভারতীয়দের হাতে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এর পরিমান সর্বাধিক।

ভারত হতে যারা যুক্তরাজ্যে লেখাপড়া, ব্যবসার জন্য এসেছেন তারা প্রায় অনেকেই বাড়িঘর কিনে ফেলেছেন বলে জানা যায়। ভারতীয়দের পরে তালিকায় এগিয়ে আছে ইংলিশ ও পাকিস্তানীরা।

ব্যারেট লন্ডনের তথ্যমতে ভারতীয় নাগরিক যারা বিনিয়োগকারী কিংবা ব্যবসায়ী তারা ২,৯০,০০০ পাউন্ড হতে ৪,৫০,০০০ পাউন্ডের দুই বা তিন বেডরুমের প্রপার্টি কিনতে সদা তৎপর থাকেন। কারণ হিসেবে জানা যায় বাজারের স্থিতিশীল অবস্থা ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে ঝুঁকছে ভারতীয়রা।

ব্যারেট লন্ডনের আন্তর্জাতিক বিক্রয় ও বিপণন পরিচালক স্টুয়ার্ট লেসলি বলেন, লন্ডনে সম্পত্তি কেনার জন্য এবং লন্ডনের প্রপার্টির বাজারে বিনিয়োগের জন্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে ।

তথ্যানুযায়ী লন্ডনের অর্ধেক বিনিয়োগ আসে এই ধরনের বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে যারা প্রপার্টি কিনে ভাড়া দিয়ে আয় করে থাকেন। তাছাড়া বাকি প্রায় অর্ধেক বিনিয়োগ আসে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে।

বর্তমান সময়ে ভারতীয় প্রপার্টি বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ৭-৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব পছন্দনীয় কারণ যুক্তরাজ্য ঐতিহ্যগত ভাবে আইনের দেশ। তাছাড়া লন্ডনে বিনিয়োগে ঝুঁকিও কম বলে জানায় ভারতীয় একজন বিনিয়োগকারী। লন্ডন বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশ পয়েন্ট বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

এম.কে
১৯ জুলাই ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

মধ্যপ্রাচ্যের দুই বন্ধু যখন শত্রুর ভুমিকায়

সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ডিসেম্বরে রিয়াদে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অফ-দ্য রেকর্ড ব্রিফিংয়ে জড়ো করেছিলেন। সেখানে তিনি এক অবাক করা বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন দেশটির কয়েক দশকের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘সৌদি আরবের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে’।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের মতে, সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘তারা দেখবে আমি কী করতে পারি’।

৩৭ বছর বয়সী যুবরাজ ও তার এক সময়ের পরামর্শদাতা আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য হচ্ছে। যা মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক শক্তির প্রতিযোগিতার প্রতিফলন। দুটি দেশের রাজ পরিবারের এই দুই সদস্য আরব বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে প্রায় এক দশক সময় নিয়েছেন। এখন তারা মধ্যপ্রাচ্যে কে প্রভাবশালী, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছেন। বর্তমানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, উপসাগরীয় দেশ দুটির বিরোধ ইরানকে মোকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গঠন, ইয়েমেনের ৮ বছর ধরে চলমান সংঘাত এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে কঠিন করে তুলতে পারে।

বাইডেন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, অঞ্চলটির নেতা এবং গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার জন্য দুই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি রয়েছেন। কিছু মাত্রায় তারা এখনও একত্রে কাজ করছেন। কিন্তু এখন তাদের কেউ-ই একই নৌকায় থাকতে স্বস্তিবোধ করছেন না। মোট কথা, তাদের একে অপরের মুখোমুখি থাকা আমাদের জন্য সহযোগিতামূলক নয়।

এক সময় ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই দুই ব্যক্তি। সৌদি যুবরাজ এমবিএস এবং ৬২ বছর বয়সী আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এমবিজেড নামে পরিচিত। তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বলেছেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেননি এবং পর্দার আড়াল থেকে বিরোধ প্রকাশ্য হচ্ছে।

ইয়েমেনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এই বিষয়টি দেশটির সংঘাত অবসানের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের মূল্য বাড়াতে সৌদি আরবের চাপে হতাশ আমিরাত। এটি আবার তেল উৎপাদনকারীদের সংগঠন অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ বা ওপেক-এ নতুন ফাটল ধরাচ্ছে।

দুই দেশ ক্রমেই অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। তেলের ওপর সৌদি আরবের নির্ভরশীলতা কমাতে এমবিএসের পরিকল্পনা অনুসারে, আমিরাতের দুবাই থেকে বিভিন্ন কোম্পানির সদর দফতর রিয়াদে স্থানান্তরের চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব। দীর্ঘ দিন ধরে দুবাই পশ্চিমাদের কাছে অনেক বেশি আধুনিক মনোভাবাপন্ন হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে আসছে। সৌদি যুবরাজ টেক সেন্টার স্থাপন, আরও বেশি পর্যটককে আকৃষ্ট করা এবং লজিস্টিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। অথচ দীর্ঘ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিচিত। মার্চ মাসে তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নতুন একটি এয়ারলাইন কোম্পানি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। যা দুবাইয়ের উচ্চতর র‍্যাংকিংয়ে থাকা এমিরেটসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।

অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের ক্ষেত্রে, ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাব নিউক্যাসল কিনেছে সৌদি আরব। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল তারকাদের পেছনে বিনিয়োগ করছে দেশটি। যেমনটি করে আসছিল ম্যানচেস্টার সিটি–যে ক্লাবের মালিক আবুধাবির রাজ পরিবারের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ইতোমধ্যে দলটি ইংলিশ লিগ ও ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে।

উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এমবিজেড সৌদি আরবের রাজপরিবারের এক সদস্যের ওপর বিরক্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা মনে করে তিনি গুরুতর কিছু ভুল করেছেন।

এম.কে
১৯ জুলাই ২০২৩

Categories
ইউরোপ

ইউরোপে বাড়ির দাম কম, ক্রেতাও কম

ইউরোপে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমছে৷ বিশেষ করে জার্মানি এবং ব্রিটেনে এমন হারে কমেছে যা অনেক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ৷ অথচ কম দামেও বাড়ি কিনছে খুব কম মানুষ৷ ইইউ-র দেয়া পরিসংখ্যানেই রয়েছে এমন তথ্য৷

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপের প্রায় সব দেশে বাড়ির দাম শুধু বেড়েছে৷ ২০১৫ সালের পর থেকে সাত বছর একবারও বৃদ্ধির এই ধারায় ছেদ পড়েনি৷ এমনকি করোনা মহামারির সময়েও বাড়ির ক্রেতা কমেনি, দামও কমেনি৷ কিন্তু ২০২২ সাল থেকে শুরু হয়েছে উল্টো ধারা৷ সে বছর জার্মানিতে বাড়ির দাম কমেছে ৬.৮%, বাড়ির মূল্যের রেকর্ড প্রকাশ শুরুর পর থেকে যা সর্বোচ্চ৷

এই হারে বাড়ির দাম কমার জন্য মূলত তিনটি বিষয়কে দায়ী মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা- মূদ্রাস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি৷

অথচ এই তিন ‘সমস্যা’ একসঙ্গে জনজীবনে নেমে আসার আগ পর্যন্ত ইউরোপে বাড়ির দাম সব সময়ই বেড়েছে৷ ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২২-এর জুন পর্যন্ত তাই বাড়িঘরের দাম সব মিলিয়ে মোট ৪৩% দাম বেড়েছে৷ ইইউ-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা মহামারির সময়, অর্থাৎ ২০২০ এবং ২০২১ সালে আগের পাঁচ বছরের চেয়েও বেশি দ্রুত বেড়েছে বাড়ির দাম৷

কিন্তু ২০২২ সালে হঠাৎ করেই বাড়ির দাম কমতে থাকে৷ গত সপ্তাহে ইইউ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, টানা ৩০ ‘কোয়ার্টার’ দাম বৃদ্ধির পর ২০২২ সালের জুলাই মাসে যে বাড়িমূল্যে ভাটার টান লেগেছিল ডিসেম্বর পর্যন্ত তা একবারের জন্যও থামেনি৷

বাড়ির দাম কমলেও বিক্রি বাড়ছে না৷ কারণ, মূদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা গেছে কমে৷ তাই বাড়ি কেনার সাধ থাকলেও সাধ্য হচ্ছে না৷ যারা কিনতে চাইছেন, ব্যাংকে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় তারাও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন৷ এ অবস্থায় নতুন বাড়ি নির্মাণও কমছে৷

ব্রিটেনেও দ্রুত কমছে বাড়ির দাম৷ সেখানে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বাড়ির দাম ২.৬% কমেছে৷ ২০১১ সালের পর এই প্রথম বাড়ির দাম এত দ্রুত এতটা কমলো৷

এম.কে
১৮ জুলাই ২০২৩

 

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

ব্রেক্সিট ভুল ছিল বলা লোকের সংখ্যা বাড়ছেঃ জরিপ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে ‘ভুল’ হিসাবে দেখা ব্রিটিশদের আনুপাতিক হার এ মাসে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জরিপকারী সংস্থা ইউগভের এক হিসাবে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ জরিপ বলছে, সামান্য কিছু অর্থনৈতিক ‍সুবিধার জন্য ২০১৬ সালের জুনে গণভোটে হওয়া ব্রেক্সিটের প্রতি যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের আস্থা প্রতিনিয়তই কমছে।

ইউগভের এ জরিপে অংশ নেওয়াদের ৫৭ শতাংশই এখন ৭ বছর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে অভিহিত করছেন; বিপরীতে ৩২ শতাংশ বলছেন, ব্রেক্সিট ঠিক ছিল, জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা।

জরিপে মত জানানোর অর্ধেকেরও বেশি, ৫৫ শতাংশ বলেছেন, আজকেই ভোট হলে তারা ফের ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেবেন। ৩১ শতাংশের রায় থাকবে আলাদা থাকার পক্ষে।

সর্বশেষ এ জরিপে প্রাপ্ত ফলের সঙ্গে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে করা জরিপের ফলে বেশ খানিকটা পার্থক্যও ধরা পড়েছে; দুই বছর আগের জরিপে ৪৯ শতাংশ বলেছিলেন তারা পুনরায় ইইউতে যোগ দেওয়ার পক্ষে, ৩৭ শতাংশ ছিলেন বিপক্ষে।

চলতি বছরের মে মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছিলেন, ব্রেক্সিটে যুক্তরাজ্য উপকৃত হচ্ছে।

তার পছন্দের নীতি ফ্রিপোর্টস আর ভ্যাট কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছিলেন, এই পদক্ষেপগুলোর ফলে বিয়ার আর স্যানিটারি পণ্যের দাম কমবে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর ও রীতিনীতিতে ছাড় থাকবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত আইন কানুন সহজ হবে এমন বিশেষ অঞ্চল, যেগুলোকে ফ্রিপোর্টস বলা হচ্ছে তা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে বড় ধরনের গতি দিতে না পারলেও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নে সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে।

দুই হাজারের বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর করা ইউগভের জরিপে ৬৩ শতাংশ বলেছেন, বেক্সিটে এখন পর্যন্ত সফলতার তুলনায় ব্যর্থতার পাল্লাই ভারি। ১২ শতাংশ ব্যর্থতার তুলনায় সফলতা বেশি দেখছেন। আর ১৮ শতাংশের মতে এটি সফল বা ব্যর্থ কোনোটিই নয়।

এম.কে
১৮ জুলাই ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বেন ওয়ালেস। মন্ত্রিসভায় পরবর্তী রদবদলের সময় পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি এমন খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।
আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে দেশটির স্থানীয় সংবাদমধ্যম জানিয়েছেন। তবে সময় শেষ হওয়ার আগেই পদ ছেড়ে দিয়ে উপনির্বাচনের পটও প্রস্তুত করবেন না বলে জানিয়েছেন ওয়ালেস।
চার বছর ধরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেন ওয়ালেস। একাধারে তিন প্রধানমন্ত্রীর আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্য যে সাড়া দিয়েছে, তার মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন বেন ওয়ালেস।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে মন্ত্রিপরিষদের পরবর্তী রদবদল হতে পারে। ওই সময় শীর্ষ পদগুলোকে ঢেলে সাজাতে চান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তবে কবে নাগাদ এ উদ্যোগ নেয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এম.কে
১৮ জুলাই ২০২৩
Categories
আন্তর্জাতিক

দুবাই পুলিশের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে বেন্টলি কার

দুবাই টহল পুলিশের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে বিলাসবহুল বেন্টলি কোম্পানির গাড়ি। ব্রিটিশ গাড়ি নির্মাতা বেন্টলির প্রতিনিধি ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সম্প্রতি এ ঘোষণা দেয়া হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, টহল টিমে বেন্টলি জিটি-ভি৮ মডেলের গাড়ি যুক্ত করা হবে। ৫৪২ হর্স পাওয়ারের বেন্টলি কন্টিনেন্টাল জিটি-ভি এইট একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি। মাত্র ৩ দশমিক ৯ সেকেন্ডের মধ্যে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে গতি তুলতে সক্ষম।
অনুষ্ঠান চলাকালীন জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের ডিরেক্টর মেজর জেনারেল জামাল আল জাল্লাফের কাছে গাড়ির বিস্তারিত বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
জাল্লাফ পর্যটক আকর্ষণ করে এমন স্থানে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিলাসবহুল টহল গাড়ি যুক্ত করে নিরাপত্তা উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে দুবাই পুলিশের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এর আগে টহল টিমে অনরোড অটোমোটিভ কোম্পানির একটি বিদ্যুচ্চালিত এসইউভি হংকি ই-এইচএস নাইন যুক্ত করেছিল।
এম.কে
১৮ জুলাই ২০২৩
Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

অর্থনৈতিক দৈন্যতা নিয়ে বাড়ছে যুক্তরাজ্য জনগণের অসন্তোষ

সিঙ্গেল পেরেন্টসদের জন্য কঠিন সময় এসেছে বলে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় মতামত জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সন্তানের এক মা। তিনি বলেন আমি নিজে হতাশায় ভুগছি, দুইবেলা সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়া প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

চাইল্ড বেনিফিট নিয়ে নিজের উষ্মা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, পাঁচজন সন্তান থাকলে দুইজনের জন্য ভাতা দেয়ার নিয়ম চালু করেছে সরকার ২০১৭ সাল হতে।

সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ২০১৭ সালে জর্জ ওসবার্ন দ্বারা প্রবর্তিত নীতিতে দেখা যায় পিতামাতা এপ্রিল এর পরে জন্মগ্রহণকারী কোনও তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের জন্য সরকার কাছে ভাতা দাবি করতে পারবেন না। যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

নাগরিকদের সাথে সাংবাদিকদের কথোপকথন কালে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী একজন নাগরিক জানান, আমি সর্বদা লেবার দলকে ভোট দিয়েছি। কারণ তারা আমাদের কথা ভেবে লড়াই চালিয়ে যায় সেক্ষেত্রে কনজারভেটিভ সরকার ধনীদের আরো ধনী করার পক্ষে সবসময় কাজ করে যায়। এতে আমরা দরিদ্ররা দিনের পর দিন আরো নিষ্পেষিত হচ্ছি আইনের বেড়াজালে।

তিনি জানান, কনজারভেটিভ সরকার বেনিফিট বন্ধ কর‍তে বিভিন্ন পায়তারা করে যাচ্ছে। এই বন্ধ প্রক্রিয়ায় তাদের যে অর্থ খরচ হচ্ছে সেটাকে আমি বিলাসিতা বলব। তিনি বলেন কনজারভেটিভ সরকার দ্বি-শিশু বেনিফিট ক্যাপ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নির্বাচনকে সামনে রেখে। এই প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও আমি আবার লেবার দলকেই ভোট দেব। কনজারভেটিভ সরকার যাওয়ার সময় হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য যে, কনজারভেটিভ সরকার অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করতে গত এক দশক হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন নিয়মনীতি নিয়ে জনগণ বহুদিন হতেই উষ্মা প্রকাশ করে যাচ্ছেন। করোনা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমালোচনায় সরকার বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, বেতন বৃদ্ধি ও বেনিফিট ক্যাপ আনতে বাজেট কর্তন নিয়ে সবচেয়ে বড় বিপাকে আছে সরকার।

এম.কে
১৮ জুলাই ২০২৩