Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় ভিসা ফি বাড়াতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

বিপাকে ব্রিটেন, সরকারি খরচ যোগাতে ভিসা আবেদনকারীদের ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সুনাকের সরকার।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বৃহস্পতিবার বলেছেন, পাবলিক সেক্টরের মজুরি বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য উচ্চ ফি এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ফি প্রদান করতে হবে ভিসা আবেদনকারীদের।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক, পুলিশ, জুনিয়র ডাক্তার এবং অন্যান্য সরকারী সেক্টরের কর্মীদের বেতনের একটি স্বাধীন পর্যালোচনার সুপারিশ গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরে চাপের মধ্যে আছেন। সম্প্রতি কর্মচারিদের বেতন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সুনাক। সম্প্রতি তিনি জোর দিয়েছেন উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে সরকার আর কী কী উপায়ে আয় করতে পারে তা ভেবে দেখতে। ভিসা আবেদনকারীদের ফি বৃদ্ধি তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘যদি সরকারি খাতে কর্মীদের আরও বেশি অর্থ প্রদানকে অগ্রাধিকার দিতে হয় তবে সেই অর্থ অন্য কোথাও থেকে আসতে হবে, কারণ এই খাতে জনগণের করের টাকা খরচ করার জন্য আমরা প্রস্তুত নই’ বলে মন্তব্য করেন ঋষি সুনাক। প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, মুদ্রাস্ফীতির সাথে পাল্লা দিতে হবে দেশবাসীকে। এছাড়া এই মুহুর্তে নতুন করে ঋণ নেওয়া ঠিক সিদ্ধান্ত হবে না বলেও মতামত প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

অর্থের উৎস খুঁজে বের করার জন্য আমরা দুটি কাজ করেছি। প্রথমত, আমরা অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন খাতে চার্জগুলি বাড়াতে চলেছি। এই দেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদন ফি বৃদ্ধি এবং ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ সহ অন্যান্য পরিষেবার জন্য চার্জ বৃদ্ধি হতে যাচ্ছে। বিদেশি নাগরিকদের এনএইচএস অ্যাক্সেস করার জন্য যে শুল্ক পাওয়া যাবে, তা থেকে ঘাটতি মিটবে’ এমনই জানিয়েছেন সুনাক।

প্রসঙ্গত, গত দুই বছর ধরে বেড়েই চলেছে ব্রিটেনের জিনিস পত্রের দাম। দুরন্ত গতির মুদ্রাস্ফীতিতে নাজেহাল হলে ব্রিটিশ সরকার চাইছে নতুন পথে আয়ের সন্ধান করতে। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি বেতন। কোথাও সামান্য বাড়লেও উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। বরং চাকরি গেছে অনেকের। ফলে পকেটে পয়সা নেই দেশের বড় অংশের মানুষেরই। কেউ কেউ না খেয়েই ঘুমাতে যাচ্ছেন দেশের নানান প্রান্তে, এমনই অবস্থা দেশের।

বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ব্রিটেনের এই অবিশ্বাস্য পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিশ্বজোড়া অর্থনীতির বেহাল দশা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৭ জনে ১ জন ব্যক্তি পেট ভরানোর মত খাবার জোগাড় করতে পারেনি গত বছর। চলতি বছরে দেশের অর্থনীতির কিছুটা অগ্রগতি হলেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না খরচ। এই পরিস্থিতিতেই বিদেশি নাগরিকদের ভিসার আবেদন বাবদ ফি ও অন্যান্য পরিষেবা মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটিশ সরকার।

এম.কে
১৬ জুলাই ২০২৩

 

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে ই-সিগারেট বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সরকার

যুক্তরাজ্য স্থানীয় কাউন্সিলগুলি আগামী বছরের মধ্যে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে ডিসপোজেবল বাষ্প বা ই-সিগারেটকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

লোকাল গভমেন্ট এসোসিয়েশন (এলজিএ) বলেছে, যুক্তরাজ্যের বাজারে ই-সিগারেটের ব্যাপক যোগান বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করা উচিত। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশও ভ্যাপ বা ই-সিগারেট বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে বলে খবরে জানা যায়। ২০২৩ সালের শেষের দিকে ফ্রান্স এবং ২০২৬ সালের ভিতরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এলজিএ মুখপাত্র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভ্যাপ। বিশেষ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে না গেলে এটা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়াও সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মতে, এটি শিশু এবং তরুণদের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া দ্রুত বিপণনের জন্য নানা স্বাদ ও রঙ ব্যবহার করা হয় যা মোটেও স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়।

এলজিএর কমিউনিটি ওয়েলবাইং বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভিড ফাদারগিল বলেছেন, ” ই-সিগারেটকে ধূমপানের চেয়ে কম ক্ষতিকারক বলে দেখানো হয়েছে এবং ধূমপান বন্ধের সরঞ্জাম হিসাবে ভ্যাপ বা ই-সিগারেট জায়গা করে নিয়েছে যা খুবই এলার্মিং।”

স্থানীয় সরকার কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র বলেন, করদাতাদের টাকা যাতে অযথা নষ্ট না হয় সেটা দেখা সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু ই-সিগারেট বা ভ্যাপের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় সরকারকে ট্যাক্সের অর্থের ক্ষতিসাধন করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ান টাইম ব্যবহার করা ভ্যাপ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় কাউন্সিলের রাস্তাগুলি ভ্যাপ বর্জ্যে পরিপূর্ণ থাকে। পৃথিবীকে রক্ষা করতে, শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এবং করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় করার জন্য ভ্যাপ বন্ধের পদক্ষেপ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত করা উচিত।

এম.কে
১৫ জুলাই ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

সৌদি রাজপুত্রের যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা

সৌদির রাজপুত্র, মোহাম্মদ বিন সালমানকে গ্রীষ্মের শেষে একটি সরকারী সফরে যুক্তরাজ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাশগি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের অলিখিত অসন্তুষ্টির সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম।

সৌদি আরবের বিভিন্ন মন্ত্রীরা ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য সফর করলেও সৌদি রাজপুত্র যুক্তরাজ্য সফর হতে বিরত ছিলেন। যদিও প্রিন্স মোহাম্মদ গত মাসে প্যারিসে ফরাসী রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রনের সাথে বৈঠক করেন। প্রিন্স জলবায়ু ফিনান্স শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে প্রায় এক সপ্তাহ প্যারিসে অবস্থান করেছিলেন।

সৌদি আরব ইতিমধ্যে কূটনৈতিক আলাপের মাধ্যমে ইয়েমেনে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে নিজেদের মনোভাব উন্মুক্ত করেছে। তাছাড়া ইরানের সাথেও কূটনৈতিক সম্পর্ক সৌদি আরবের শুরু হবার পথে। আমেরিকা সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এক খবরে জানা যায়। যদিও ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন উপসাগরীয় আরব মিত্রদের মতামতকে গুরুত্ব প্রদান করতে আগ্রহী বলে জানা যায়।

ডাউনিং স্ট্রিট প্রিন্স মোহাম্মদ সালমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেছে। ঋষি সুনাকের মুখপাত্র বলেছেন, ” খাশোগি হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান খুবই পরিষ্কার। হত্যাকাণ্ডটি একটি ভয়াবহ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে এবং সৌদি আরবকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে এ জাতীয় নৃশংসতা আর কখনও ঘটবে না “।

সৌদি-যুক্তরাজ্যের শীতল সম্পর্কের কারণে, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ সৌদি আরবের কাছে ইউরোফাইটার জেট বিক্রিতে অনুমোদন প্রদান করেননি।

২০২২ সালে, সৌদি আরবে ১৯৬ জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছিল যা গত ৩০ বছরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রেকর্ড অনুযায়ী সর্বাধিক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন হতে মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করে আসছে বলে জানিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে’র উপদেষ্টা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে’র বিদেশ নীতি উপদেষ্টা পলি ট্রাস্কট বলেন, “ ইউকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে লালগালিচা সম্বর্ধনা দেওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে মোহাম্মদ সালমান বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে পুনর্বাসন করার সুযোগ পেয়ে যাবে যা কখনও ভালো উদাহরণ হতে পারে না।”

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র বলেন, “মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তার সরকারকে অবশ্যই খাশগির হত্যাকাণ্ড, সৌদি কারাগারে নির্যাতন ও ইয়েমেনে বেসামরিক লোকদের উপর বোমা হামলার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। তাছাড়া ঋষি সুনাককে অবশ্যই ভাবতে হবে সৌদি সরকার পিএইচডি শিক্ষার্থী সালমা আল-শেহাবকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে সৌদিতে নারীদের অধিকারকে সমর্থন করার কারণে।

 

এম.কে
১৫ জুলাই ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক শীর্ষ খবর

শেনজেনে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া

শেনজেন জোনে বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়ার সদস্যপদ এই বছরের শেষের দিকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশনার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে জানায়, ইউরোপীয় কমিশন এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রপতি এই বিষয়ের উপর কাজ করছেন ।
বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এই উভয় বলকান দেশকে শেনজেনের অন্তর্ভুক্তিকরণ স্পেনীয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্সির অগ্রাধিকার কার্যবিবরণীর মধ্যে রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার জন্য বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়া ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত কার্যপ্রণালীও সম্পন্ন করেছে।
কমিশনের মতে, একদিকে রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়ার জন্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন জরুরি ঠিক তেমনি এই দুই বলকান দেশকে ইইউর ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ অঞ্চলে যুক্ত করাও প্রয়োজন।
ইউরোপীয় কমিশনার জানান, এই বছরের প্রথম কয়েক মাসে পশ্চিম বালকান রুটে অভিবাসনের চাপ ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংসদ একটি নতুন রেজুলেশন গ্রহণ করেছে এবং ইইউ কাউন্সিলকে এই বছরের শেষের দিকে উভয় দেশকে শেনজেনের অন্তর্ভুক্তির জন্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
খবরে জানা যায়, এই বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়াকে দ্রুততার সাথে শেনজেনের আওতায় আনা নিয়ে আলোচনা করা হতে পারে। তবে বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়ার শেনজেনে প্রবেশ নিয়ে বড় বাঁধা হয়ে আছে অস্ট্রিয়া এবং নেদারল্যান্ডস।
এম.কে
১৫ জুলাই ২০২৩
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে পাচারকারী গ্যাং সদস্যদের ছয় বছরের সাজা

গত ১৩ জুলাই দু’জন ব্রিটিশ নাগরিককে গাড়ির ভ্যানে করে যুক্তরাজ্যে মানবপাচারের জন্য জেল দন্ড প্রদান করেছে যুক্তরাজ্য আদালত। মহিলা ও শিশু সহ সাত ভারতীয় অভিবাসীকে পাচারের দায়ে ছয় বছরেরও বেশি কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে ব্রিটিশ নাগরিকদের।

হোনস্লো থেকে আসা ৪৮ বছর বয়সী পালভিন্দর সিং বেআইনীভাবে অভিবাসন কাজে সহায়তা করার জন্য সাড়ে তিন বছরের সাজা প্রাপ্ত হন। ৮ জুলাই ২০১৮ সালে ডোভারের যুক্তরাজ্য সীমান্তে তাকে হাতেনাতে অবৈধ অভিবাসী সহ গ্রেফতার করা হয়। তার গাড়ির ভ্যানে তিন ভারতীয় নাগরিক ছিল যারা অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করে।

তার সহ-অভিযুক্ত, হারজিৎ সিং ধালিওয়ালকে মিডলসেক্স থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বেআইনীভাবে অভিবাসীদের সহায়তা করার জন্য তিন বছর দুই মাসের শাস্তি পান।

হোম অফিস ফৌজদারি ও আর্থিক তদন্ত (সিএফআই) ইউনিট তদন্তের করে অভিযুক্তদের মোবাইলফোনে প্রমাণসহ কল রেকর্ড পায়।

ক্যানটারবেরি ক্রাউন কোর্ট তাদের সাজা ঘোষণা করে বলে খবরে জানা যায়। যেখানে আসামীরা উভয়েই বেআইনী অভিবাসনকে সহায়তা করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়।

হোম অফিসের ফৌজদারি ও আর্থিক তদন্তের উপ -পরিচালক ক্রিস ফস্টার বলেন, আজকের এই রায় ঘোষণা আমাদের আইনের অপব্যবহারকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা প্রেরণ করে। আমরা যুক্তরাজ্যে মানুষকে পাচারের চেষ্টা করা কাউকে ছাড় দিবো না। তাদের শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত আমরা থামবো না।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার দলের কঠোর পরিশ্রম এবং এই ধরণের অপরাধ মোকাবেলায় তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই। আমরা পাচারকারী গ্যাংয়ের লোকদের ধরতে সদা সচেষ্ট।

 

এম.কে
১৪ জুলাই ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

হামের প্রাদুর্ভাবের ভয়ে আছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা হুঁশিয়ারি করেছে লন্ডনে হামের প্রাদুর্ভাব হবার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। যার ফলে কয়েক হাজার শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএমআর টিকা দেওয়ার হার বাড়াতে হবে তা নাহলে ৪০০০০ হতে ১ লাখ ৬০০০০ পর্যন্ত লোক খুব দ্রুত রোগাক্রান্ত হতে পারেন। ইউকেএইচএসএর নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাজ্যে কয়েক হাজার মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে।

ইউকেএইচএসএর পরামর্শক এপিডেমিলোজিস্ট ডাঃ ভেনেসা সালিবা বলেছেন, “ হাম একটি গুরুতর সংক্রমণ ব্যাধি। যা বিশেষত ছোট বাচ্চাদের জন্য জটিল আকার ধারন করতে পারে। লন্ডনে হামের বড় প্রাদুর্ভাব হবার সত্যিকারের ঝুঁকি রয়েছে। ”

ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক অসুস্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, প্রাদুর্ভাব শুরু হলে যুক্তরাজ্যের আনুমানিক ২০-৪০% শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগতে পারে হামের কারণে। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অনুমান করে হামের কারণে মানসিক অক্ষমতা এবং বধিরতা সহ গুরুতর জটিলতায় ভুগতে পারে।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানায়,
” হাম সংক্রামিত হলে প্রতি এক হাজারের মধ্যে প্রায় দু’জন সংক্রামিত লোক মারা যাবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য হাম খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও হামের কারণে অসুস্থ হতে পারেন।”

লন্ডনের এনএইচএসের প্রধান নার্স জেন ক্লিগ বলেছেন, “ হাম সহজেই সংক্রমণ করতে পারে তবে এটি প্রতিরোধযোগ্য। এ কারণেই আমরা লন্ডনবাসীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে থাকি।”

 

এম.কে
১৪ জুলাই ২০২৩

Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিপাকে মানুষ

যুক্তরাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য একটি। দেশটিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতোই উর্ধ্বমুখী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। চলতি বছরের মার্চ মাস হতে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, দাম বাড়ায় বর্তমানে প্রতি ১০ জন ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ৮ জন তাদের খাদ্য কেনাকাটা পরিমাণ কমিয়ে এনেছেন। ৫৫ শতাংশ মানুষ অনেক পণ্যই কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন।

একটি অফিসিয়াল জরিপ অনুসারে, ২০ জনের মধ্যে একজন খাদ্য কিনতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন প্রায়।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) সমীক্ষায় দেখা গেছে, সিঙ্গেল পেরেন্টসদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ বিশেষ করে এক চতুর্থাংশেরও বেশি লোক নিজেদের এই পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েছে।

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে কিছু গোষ্ঠী হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে।

ওএনএস এর তথ্যমতে প্রায় ৪৩% ভাড়াটে ভাড়া প্রদান করতে হিমশিম খাচ্ছে। ২৮% ঘরের মালিক মর্গেজ প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছেন। আর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ৪৪ শতাংশ তাদের খাদ্য তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ দিয়ে অন্য কিছু কিনছেন।

যুক্তরাজ্যে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি রাজনৈতিক মাথা ব্যথার কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী।

এম.কে
১৪ জুলাই ২০২৩

Categories
আন্তর্জাতিক

পুরাতন কাপড় ও জুতা মেরামতের জন্য ভর্তুকি দিবে ফ্রান্স সরকার

টেক্সটাইল শিল্প থেকে বর্জ্য এবং তাপজনিত দূষণ এড়াতে নতুন স্কিম চালু করেছে ফ্রান্স সরকার। এবার থেকে দেশের নাগরিককে ফেলে দেয়া কাপড় এবং জুতা মেরামতের জন্য ভর্তুকি দেয়া হবে। স্কিমের অধীনে, পরিবেশ বিভাগের সেক্রেটারি বেরঙ্গেরে কুইলার্ড ঘোষণা করেন, মেরামতের কাজের ওপর নির্ভর করে ৭ ডলার থেকে ২৮ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে।
একটি সাধারণ অংশ মেরামতির জন্য ৭ ডলার ভর্তুকি দেয়া যাবে, সেলাইয়ের কাজ একটু জটিল হলে ২৮ ডলার পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়া হবে। জুতা এবং টেক্সটাইল শিল্পে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা ফ্রান্স সরকারের লক্ষ্য যাতে এগুলি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
কুইলার্ড বলেছেন, টেক্সটাইল শিল্প ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের এক চতুর্থাংশের জন্য দায়ী হবে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় দূষণকারী শিল্প।রিফ্যাশন নামের একটি পোশাক সংস্থাকে এই স্কিম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পোশাক শিল্পীরাও, জামাকাপড়ের ব্র্যান্ড এবং মেরামতের দোকানগুলি থেকে রিফ্যাশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারবে এবং ভর্তুকি সংগ্রহ করতে পারবে। সেইসঙ্গে পরিবেশকে দূষণ মুক্ত করতেও তারা অবদান রাখবে।
গ্রাহকদের জন্য, ভর্তুকি সরাসরি তাদের বিল থেকে নেওয়া হবে। রিফ্যাশন তারপর স্কিমটিতে যোগদান করা কোম্পানিগুলিকে ১৫ দিনের মধ্যে সেই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
রিফ্যাশন বলছে ২০২২ সালে ফ্রান্সে ৩.৩ বিলিয়ন টুকরো কাপড়, জুতা এবং গৃহস্থালির জিনিস বাজারে রাখা হয়েছিল।
 উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর ৭ লাখ টন কাপড় ফরাসি লোকেরা ফেলে দেয়। যেগুলি এবার থেকে রিসাইকেল করা হবে। ফ্রিজ এবং ওয়াশিং মেশিনের মতো ইলেক্ট্রনিক পণ্যগুলির ক্ষেত্রেও একই স্কিম চালু করার কথা ভাবছে ফরাসি সরকার।
এম.কে
১৪ জুলাই ২০২৩
Categories
ইউরোপ শীর্ষ খবর

ইউরোপে তাপপ্রবাহে বাড়ছে আতঙ্ক

বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যুক্তরাজ্য এবং সুইজারল্যান্ডের তাপমাত্রা ৩০% বৃদ্ধি পেতে পারে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে মধ্য আফ্রিকায় সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হচ্ছে। উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোতেও অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে বলে জানায় গবেষকরা।
ইউকে মেট অফিস জলবায়ু মডেলিং তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলোর জনগণ এবং অবকাঠামো গরম আবহাওয়ার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী এই দেশগুলিতে চরম হিটওয়েভ দেখা দিতে পারে, যুক্তরাজ্যেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যার প্রভাব ইউরোপে বেশি পড়বে। তাপমাত্রার আপেক্ষিক বৃদ্ধির কারণে ১০টি দেশের মধ্যে আটটি উত্তর ইউরোপে হবে বলে গবেষকরা মনে করেন।
গবেষকরা বলেন গ্রীষ্মের সময় ইউরোপের বাড়ি ঘরগুলি অস্বস্তিকর গরম হয়ে উঠে এবং অবকাঠামোগত কারণে তাপমাত্রা মোকাবেলায় বিকল্প প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।
এই তাপমাত্রার মোকাবেলার জন্য শীতল কোনো ব্যবস্থা নেই তাছাড়া প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনাও নেই।
অক্সফোর্ডের স্মিথ স্কুল অফ এন্টারপ্রাইজের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রাধিকা খোসলা বলেছেন, ” এয়ার কন্ডিশনার কোনো সমাধান নয় বরং তা সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এয়ার কন্ডিশনারও একটি উপাদান।”
লেখক ডাঃ নিকোল মিরান্ডা যোগ করেছেন: “ উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলিতে অতিরিক্ত তাপমাত্রা মোকাবেলায় বড় আকারের অভিযোজনের প্রয়োজন রয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা হতে ডিহাইড্রেশন কিংবা তাপ ক্লান্তি হতে মৃত্যুও ঘটতে পারে। বিশেষত বৃদ্ধ ও শিশুরা এই তাপদাহ সহ্য করতে পারবে না। ভবিষ্যতে হিটওয়েভর প্রভাব ইউরোপে আরো বাড়বে তাই এখন হতেই গ্রীষ্মের মোকাবেলা জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি । “
এম.কে
১৪ জুলাই ২০২৩
Categories
যুক্তরাজ্য (UK) শীর্ষ খবর

যুক্তরাজ্যে শ্রমিকের মজুরি রেকর্ড বৃদ্ধি

ব্রিটেনে বোনাস ব্যতীত মজুরিতে সর্বোচ্চ  বেড়েছে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত তিন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মূল্যস্ফীতি বিষয়ক উদ্বেগ আরো ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তবে মজুরি বাড়ার পরও শ্রমবাজারে কিছুটা নেতিবাচক ছিল। বিশেষ করে বেকারত্বের হার এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে ৩ দশমিক ৪ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস জানিয়েছে, এপ্রিল পর্যন্ত তিন মাসের প্রাথমিক আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় বেশি। এমনকি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস দেয়া ৭ দশমিক ২-এর চেয়েও বেশি। তবে জরিপে অর্থনীতিবিদরা ৭ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
১৫ মাসের মধ্যে ডলারের বিপরীতে স্টার্লিং রয়েছে সর্বোচ্চ অবস্থানে, যা দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে আগের তুলনায়। মঙ্গলবার থেকে ইউরোর বিপরীতেও স্ট্যার্লিং ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ অ্যাশলে ওয়েব বলেন, ‘মে মাসে শ্রমবাজার কিছুটা কম চড়া ছিল এবং মজুরি বৃদ্ধির হারও কম লক্ষ করা গেছে। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধির হার এখনো ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধারা বজায় থাকলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সহজেই কমবে না।
এম.কে
১৩ জুলাই ২০২৩